একটা ফাঁকা নির্জন রাস্তা,, রাস্তার দুই পাশে ল্যাম্পপোস্টের আলো জ্বলছে,,। কিছুক্ষণ পরে ভোরের আলো ফুটবে। রাস্তার সাথে একটি তিন তলা বাড়ি যেন আপন মনে দাঁড়িয়ে আছে । বাড়ির মেন গেটের উপরে বড় বড় অক্ষরে লেখা "মির্জা বাড়ি"। বাড়িতে দুইজন মানব মানবী ছাড়া কেউ উপস্থিত নেই। সকলে আরিশা বেগম এর ছেলের বিয়েতে সেখানে গিয়েছেন।
আদ্রিতার সামনেই পরিক্ষা,"তাই তাকে সবাই বাড়িতেই রেখে গিয়েছে"। কান্নাকাটি করেও কোন বিশেষ লাভ হয়নি, আরিফ মির্জা মেয়ে কে কোনো মতেই নিজের সাথে নিয়ে যাননি।"এমনিতেই মেয়ের পড়াশোনায় কোন মন নেই, বিয়ে বাড়িতে গেলে পড়াশোনা চাঙ্গে তুলবে।
কখন থেকে ঘুমানোর চেষ্টা করছে আদ্রিতা"কিন্তু দুটি চোখে তার ঘুমের লেস মাএ নেই"। কিছু একটা ভেবে বেড থেকে নেমে সাউন্ড বক্সের সামনে এসে দাঁড়ায় সে....
অন্যদিকে,,
এদ্রিক নিজের পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফিরেছে কিছুদিন হলো। দেশে ফিরেই নিজেদের কোম্পানি তে জয়েন করেছে ।কাজ বুঝে নিতে হিমশিম খাচ্ছে সে,কাজ শেষ করে বিছানার গা এলিয়ে দিলো এদ্রিক। হঠাৎ, সাউন্ড বক্সের তীব্র আওয়াজে কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে গেল তার ।বিরক্তি নিয়ে দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে পা বাড়ায়,"পাশের রুমের দিকে"
--আদ্রিতা নিজের ওড়না দিয়ে লুঙ্গির মতো পরে নাচছে ।
লুঙ্গি ড্যান্স ~"
লুঙ্গি ড্যান্স ~"
হঠাৎ পিছন থেকে কিছু ভাঙ্গার আওয়াজে পিছন দিকে তাকায় সে।
"এদ্রিক পা দিয়ে লাথি মেরে সাউন্ড বক্স ভাঙ্গছে।শেষে একটা লাথি মেরে সাউন্ড বক্স দুই খন্ড করে ফেলেছে "।
"র-রি-রিক ভাইয়া আমি ভেবেছিলাম তুমি আজও কাজের জন্য অফিসে থেকে গেছো ।
"এদ্রিক কিছু না বলে বেরিয়ে যায় রুম থেকে গ্যারেজ রুম থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে এদ্রিক ।
বেলকনি থেকে সেই দৃশ্য দেখে আদ্রিতা বলে ওঠে "শালা*হ কাকতাড়ুয়া মির্জা আমিও যদি তোর কিছু না ভাঙ্গি তো আমার নাম আদ্রিতা না"।"রানু মন্ডল"
_____
সকালে ব্রেকফাস্ট করে আদ্রিতা বেরিয়ে পড়েছে,, উদ্দেশ্যে,"কলেজে যাওয়া নয়"। কলেজ ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়ানো। কিছুদূর যেতেই সামনে দেখতে পায় মেহের কে। দুজন একসাথে থাকলে কখন যে সময় পার হয়ে যায় তা বোঝা বড় দায়।
""আদ্রি তারাতাড়ি চল এখন দাড়োয়ান আংকেল নেই ।
কিছুদূর যেতেই দুজন দাঁড়িয়ে পড়ে"সামনেই একটা বাড়ির প্রাচীরের সাথে একটা লিচু গাছ, লিচুগুলো প্রাচীরের এপাশে ঝুলে আছে। দুজন এগিয়ে গেল, হাত ভর্তি লিচু নিয়ে সামনে ঘুরে তাকাতেই"চোখাচোখি হয় বাড়ির দাড়োয়ান এর সাথে।প্রান বাঁচাতে দৌড় লাগায় দুজন ।দাড়োয়ান পিছন পিছন উঠে দৌড়াবে এমন সময়........
"সামান্য লিচু নিয়েছে তাই দৌড় করাচ্ছো আংকেল"?
""ছোট সাহেব একবার নিয়েছে আবার আসবে ।
""এরপরে আসলে ছিঁড়তে দিবে , দরকার পড়লে নিজে ছিঁড়ে দিবে।
দাড়োয়ান হাবলার মতো তাকিয়ে থেকে বলে উঠলো ....
"ঠিক আছে ছোট সাহেব"
দুজন দৌড়ে একটা ফাঁকা নির্জন রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। তারপর,, দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে হেসে ওঠে।
""কাজ শেষ এবার বাড়ি চল।
দুজন মিলে হাঁটছে,আপন মনে বকবক করছে কিছুক্ষণ পরে একে অন্যের গায়ে ঢলে পড়ছে । বাড়ির সামনে আসতেই "আদ্রিতা মেহের কে বিদায় দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকে"....
দাঁড়া.......
""আদ্রিতা পিছন ঘুরে বলে ওঠে "কিছু বলবে রিক ভাইয়া"।
""কোথায় ছিলি এতক্ষণ ?
""কলেজ ছিলাম ভাইয়া ।
এদ্রিক ঝড়ের বেগে ছুটে এসে আদ্রিতার গালে থাপ্পড় বসায়। আদ্রিতা তাল সামলাতে না পেরে মেঝেতে পরে যায়। গালে পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ পড়ে গিয়েছে।
""জা*নো*য়া*র আমাকে মিথ্যা বলার সাহস হয় কি করে তোর? রুমে যা নাহলে জানে মেরে দেবো।
আদ্রিতা উঠে এক দৌড়ে রুমে চলে যায়। রুমের দরজা লাগিয়ে বালিশে মুখ গুজে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরে । সন্ধ্যা হয়ে গেছে তাও তার উঠার নাম নেই। হঠাৎ,, দরজার ঠক ঠক আওয়াজে ঘুম থেকে উঠে সে।উঠে এসে দরজা খুলে দেয়।
""এদ্রিক এক ব্যাগ লিচু নিয়ে সামনে এগিয়ে দেয়।
""আমি নিচু খাবো না। তোমার লিচু তুমি খাও।
""খাবি না তো আয়ান দের বাড়ি থেকে লিচু চুরি করেছিস কেন?এখন আবার মিথ্যা বলিস না তুই করিস নি।নিচে আসবি এখনই নাহলে আরও থাপ্পড় খাবি।
"আদ্রিতা ভয়ে আর কিছু না বলে নিচে নেমে আসে"
""বস ওখানে "".....
আদ্রিতা চুপ করে সোফায় বসে পরে। এদ্রিক বরফ নিয়ে মুখে লাগায় আদ্রিতার।বরফ লাগতেই কেঁপে ওঠে আদ্রিতা।
""কাঁপা কাঁপি অফ কর এক্ষুনি "।
""জুতো মেরে গুরুদান করতে এসেছে""।
""কিছু বললি?
""কিছু না। আমি রুমে যাব"।
""যা.........।
_________
আদ্রিতা রুমে যেয়ে কল করে মায়ের নাম্বারে। দুবারই কল কেটে যায়।
""কেউ ভালোবেসে না আমার,, আমাকে রেখে সবাই বিয়ে বাড়িতে মজা করছে,,। কিছুক্ষণ পর আদ্রিতার ফোনে কল আসে। ফোন রিসিভ করে আদ্রিতা কেঁদে ওঠে.....
""আম্মু তোমরা আমাকে রেখে চলে গেল তোমাদের একটু মায়া হলো না?
""কি হয়েছে কাঁদছিস কেন?
""রিক ভাইয়া আমাকে মেরেছে আম্মু।আমাকে এসে নিয়ে যাও।
""তুই কিছু না করলে মেরেছে নাকি। ভালো করেছে মেরেছে। ফোন কাট ফালতু কথা শোনার সময় নেই আমার।
ফোন কাটতেই আদ্রিতা আবার ফুঁপিয়ে ওঠে ।
""কেউ আমাকে বিলিভ করে না ।ওতো চিন্তা তো নিয়ে গেলো না কেন সাথে করে? শা*লাহ চামচিকে টাকে রেখে গেছে।কেন আমি কি একা থাকতে পারি না ? ও তো ওই অফিসে আবর্জনার মধ্যেই মানাই।বড় আব্বুর সাথে একদম মিল নেই ""ডি এন এ টেস্ট করাবো আমি""।
~~চলবে~~