ফন্ট সাইজ:
থিম:
পুনর্জন্ম

৩য় পর্ব

লেখক: Nivara Sheikh
#পুনর্জন্ম
#লেখিকা_নিভাযরা_শেখ
#পর্বঃ৩

সময় নদীর স্রোতের মতো বহমান। সময় কারো জন্যে থেমে থাকে না। দেখতে দেখতে আদ্রিতার পরিক্ষার দিন চলে এসেছে।সারা রাত জেগে পড়াশোনা করে গেছে সে,যে করেই হোক এবারে ভালো মার্ক পেতেই হবে তার। হালিমা বেগম এর সাথে চ্যালেঞ্জ করেছে সে, এবারে পরিক্ষার পাস করলেই বড়োলোক সুগার ড্যাডি দেখে বিয়ে দিবে তার।আহ কি শান্তি একটা সুগার ড্যাডি বিয়ে করে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াবে।

নিজের ভাবনা থেকে বের হয় আদ্রিতা রেডি হয়ে নিচ নামে।একে একে সকলের কাছ থেকে দোয়া নেওয়া শেষ। এখন বাকি শুধু আরিশ ভাইয়া আর রিক ভাই। কিন্তু, আরিশ ভাইয়া তো চট্টগ্রাম আছে তাহলে বাকি আছে রিক ভাই। আদ্রিতা ভাবনা অনুযায়ী চলে যায় এদ্রিকের রুমের দিকে।
এদ্রিক শাওয়ার নিয়ে একটা টাওয়াল পেঁচিয়ে রুমে এসেছে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হাতের সাহায্যে চুলের পানি সরাচ্ছে।
আদ্রিতা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হা করে সামনের দৃশ্য দেখছে।বার বার টেনে হিচরেও নিজের চোখে সরাতে পারছে না।
""ওখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস?
আদ্রিতা এবার রুমের ভিতরে প্রবেশ করে।রিক বেডের ওপর থেকে নিজের শার্ট গায়ে জড়ায়।
""রুমের বাইরে উঁকি ঝুঁকি মারছিস কেন?
""রিক ভাই দোয়া নিতে আসছি দোয়া করেন।
""হুম দোয়া করেছি যা রুম থেকে।
""মানে কি কোই দোয়া করলেন। এরপরে নিজের হাত থেকে সাত হাজার টাকা দেখিয়ে বলে...
"এই দেখুন বড় আব্বু দিল তিন হাজার,বড় আম্মু দিল এক হাজার, আব্বু দিলো দুই হাজার, আমার কিপটা আম্মাও দিয়েছে পাঁচশ,আর আরিয়ান আদিবা দিল পাঁচশ।ছে ছে আপনি এতো বড়োলোক হয়েও আমার কিছু দিলেন না।
""কিসের টাকা দিয়েছে?
""এমা আপনি জানেন না বুঝি। দোয়া করলে টাকা দেয়।
এদ্রিক ড্রয়ার থেকে একটা চেক বইয়ের পাতা এগিয়ে দেয় আদ্রিতার দিকে।
আদ্রিতা চেক বইয়ের পাতা উল্টে পাল্টে দেখে আবার এদ্রিকের হাতে গুজে দেয়।
""আপনার পেজ আপনার কাছে রাখুন। আমার কাছে অনেক পেজ আছে।তারপর নিজের টাকা থেকে পাঁচশ টাকা এদ্রিকের হাতে দিয়ে বলে --নিন রিক ভাই আপনার এতো অভাব আমি জানতাম না,এই টাকা দিয়ে আকিজ বিড়ি কিনে খেয়েন। আমাকে ডাক দিয়েন আমিও দুই টান মেরে যাবো।
এদ্রিক নিজের দুই হাতের দিকে তাকিয়ে আছে।এক হাতে চেক বইয়ের পাতা অন্যহাতে আদ্রিতার দেওয়া টাকা। এদ্রিক সামনে তাকিয়ে কিছু বলতেই যাবে কিন্তু, রুমে কেউ নেই।
আদ্রিতা,, এদ্রিকের রুম থেকে পালিয়ে নিচে চলে এসেছে।এরপর আশিক মির্জার সাথে বেড়িয়ে পরেছে। আদ্রিতা হল এর সামনে এসে পৌঁছেছে,, আশিক মির্জা বেসিক জিনিস গুলো বলছে আদ্রিতাকে। আদ্রিতার সেদিকে মন নেই তার চোখ দুটি মেহের কে খুঁজে চলেছে। কিছুক্ষণ পর কাঙ্খিত মানুষ টাকে পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে আদ্রিতার।
আদ্রিতা,, আশিক মির্জাকে বিদায় জানিয়ে মেহেরের হাত ধরে হলের ভিতরে ঢুকে যায়। আদ্রিতা আর মেহেরর সিট পরেছে প্রায় কাছাকাছি। আদ্রিতার পাশে একটা ছেলে পিছনেও একটা ছেলে পরেছে। তাদের পাশে বসে পরিক্ষা দিতে বেশ বিরক্ত লাগছে আদ্রিতার। মাঝে মাঝে ছেলেটার হাতের সাথে পিঠে স্পর্শ লাগছে। বিরক্তির মধ্যে দিয়েই আদ্রিতা পরিক্ষা দিয়ে বের হয়ে আছে।
___
দেখতে দেখতে আদ্রিতার প্রায় সব বিষয়ে পরিক্ষা দেওয়া শেষ। শুধু বাকি আছে ইতিহাস,এই বিষয় একদম পছন্দ না আদ্রিতার। সাল তার একদম মনে থাকে না।তাই খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে জোর কদমে পড়াশোনা করছে। দুপুর বেলা আর সহ্য হচ্ছে না তার পেটের ভিতরে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। আদ্রিতা বই বন্ধ করে নিচে নেমে এসেছে। রান্নাঘর থেকে খাবার নিয়ে এসে দুই পা চেয়ারের উপরে তুলে খাচ্ছে।একে একে বাড়ির সবাই নিচে নেমে এসেছে। আদ্রিতাকে ওইভাবে খেতে দেখে আরিয়ান বলে ওঠে....
""এই আপি তুমি এভাবে খাচ্ছো কেন?যেন কত বছর খাও নি।
পাশ থেকে আকলিমা বেগম বলে ওঠে --"আহহ আরিয়ান খাওয়া নিয়ে এভাবে বলতে নেই। এদ্রিক একবার আদ্রিতার খাওয়ার দিকে তাকিয়ে আবার নিজের খাওয়ায় মন দেয়।
""আরে বড় আম্মু ওর কি দোষ, আমি সত্যিই ডাইনির মতো গিলছি। আমি সকাল থেকে কিছু খাইনি পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে।
আদ্রিতার কথা শুনে রান্নাঘর থেকে তেতে উঠল হালিমা বেগম।---সকাল থেকে কি এমন কাজ করেছেন আপনি যে খাওয়ার সময় পাননি।
""আমি এক রাজকার্য সম্পুর্ন করছিলাম আম্মাজান। পড়ছিলাম তাই খাওয়ার টাইম পায় নি।
আদ্রিতার কথায়, আরিয়ান পানি খেতে খেতে বেসম খায়।আদিবার ও এক অবস্থা গলায় খাবার আটকে গেছে।একে একে বাড়ির সকল সদস্যরা আদ্রিতার দিকে তাকিয়ে আছে।
""এভাবে তাকিয়ে আছো কেন তোমারা আমার দিকে। আমি সত্যিই পড়ছিলাম, আমি আম্মার সাথে বাজি ধরেছিলাম মাম্মা বলেছে পরিক্ষায় ভালো মার্ক পেলে আমাকে বিয়ে দিবে তাই তো পড়ছি আমি ভালো করে।
আদ্রিতার লাগাম ছাড়া কথায় আশিক মির্জা আর আসিফ মির্জা দুজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে খাবারের প্লেটের দিকে নজর দেয়। হালিমা বেগম মেয়ের এহেন কথায় রান্নাঘর থেকে জুতো ছুড়ে মারে।
আদ্রিতা জুতো ধরে আবার রান্না ঘরের দিকে ছুড়ে মারে।---না না তুমি এখন জুতো ছুড়ে মারলে কেন? কথা দিয়ে কথা না রাখা মহা পাপ। আমি কিছু জানি না আমার বিয়ে করা লাগবে দেশ-বিদেশ টুর দিয়া লাগবে।আর তোমরাও বুড়ো হচ্ছো তোমাদের নাতি নাতনির মুখ দেখানো আমার কর্তব্য।
মেয়ের কথাই কাশি উঠে যায় আসিফ মির্জার। এদ্রিক রক্ত লাল চোখে তাকিয়ে আছে আদ্রিতার দিকে।
""ওমা রিক ভাই রাগ করলেন আপনার কথা বলি নি তাই।রাগ করেন না আমি আপনাকে খুব তাড়াতাড়ি মামা বানাবো। আচ্ছা আমার আরো পড়া বাকি যাই সবাই থাকেন।
আদ্রিতার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আশিক মির্জা বলে উঠে,,---"পরিক্ষার পরে আদ্রিতার বিয়ে টা সেরে ফেলা ভালো হবে। হালিমা বেগমও তালে তাল দেয়।
""আর ইউ ম্যাড বাবা?ও কেবল HSC দিলো,আর তোমরা ওর পাগলামিতে সাঁই দিচ্ছো।
""আমরা এমন পরিবার না যে বাড়ির মেয়েদের জোড় করে বিয়ে দিবো। কিন্তু আদ্রিতা যেহেতু চাই তাহলে তার সিদ্ধান্তকে আমাদের মেনে নেওয়া উচিৎ।
""রিয়েলি! ওকে তোমার সিরিয়ার মনে হচ্ছে ও জাস্ট পাগলামো করছে।
""আমি ওতো কথা শুনতে চাচ্ছি না।ও আমার ভাইয়ের মেয়ে না আমি ওকে সেইভাবে বড়ো করিনি, আমি তোমার থেকে ভালো চিনি আমার মেয়েকে। আমি তোমার আর আরিশের বিয়ে দিয়ে আমার আম্মুকে বিয়ে দিবো।কি বলিস আসিফ তোর অমত আছে?
""তুমি যা ভালো বুঝবে তাতে আমার কোনো অমত নেই।
""এদ্রিক নিজের প্লেট ফ্লোরে ছুড়ে মেরে গটগট পায়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়।
সবাই তাকিয়ে আছে এদ্রিকের যাওয়ার দিকে। এদ্রিকের এমন রিয়াক্ট করা সবাই বেশ স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে হয়ত বোনকে সে ছোট বয়সে বিয়ে দিতে চাচ্ছে না । সবাই এ বিষয়ে রাতে পরামর্শ করার কথা ভাবে।
_____
এদ্রিক বাড়ি থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেড়িয়েছে।ফুল স্পীডে বাইক রাইড করছে, কিছুতেই রাগ কমছে না তার।---ওই বেয়াদব মেয়ের ছেলেমানুষীতে সবাই তাল মিলাচ্ছে। আমিও দেখি কিভাবে বিয়ে দাও তোমরা।আমার জিনিস আমি ভালো মতো আদায় করতে জানি।আমার জিনিস আমি কাউকে দেই না ,,আর না এবারেও দেবো। নিজের মনের কথা ভাবতে ভাবতে এদ্রিক একটা নির্জন রাস্তায় এসে পৌঁছায়। বাইক থেকে নেমে বসে পরে সবুজ ঘাসের ওপর। পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে মুখে তোলে। পকেট থেকে নিজের ফোন বের করে ফোন লাগায় আরিশের নাম্বারে। একবার রিং হতেই ফোন তোলে আরিশ।
""হ্যালো! ভাইয়া বলো।
""মেহের কে চাই তোর?
"অপর প্রান্তে আরিশ চুপ করে আছে.....
""উওর দে চাই তোর?
""চাই। কিন্তু.....
""কোনো কিন্তু না চাইলে বাড়ি আয় কথা আছে।
""আজকেই। এখানের কাজ শেষ হয়নি।
""কোনটা ইম্পর্ট্যান্ট।
"আচ্ছা আমি আজকেই আসছি ভাইয়া।
~~চলবে~~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন