ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষাক্ত প্রেম আলিঙ্গন

২য় পর্ব

লেখক: সাদিয়া আক্তার

বিষাক্ত প্রেমা আলিঙ্গন

লেখিকা: সাদিয়া আক্তার
পর্ব, ২
কপি করা একদম নিষিদ্ধ 🚫🚫
অদিতির রেজাল্ট নিয়ে বাসায় ফিরলেন মিজান সাহেব আর ছোঁয়াকে তার বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসেছে। বাসায় আসার পর আজমিয়া রেজাল্ট দেখে বকতে শুরু করলেন অদিতিকে।
অদিতি সাইকেল নিয়ে বের হয়ে গেলো কে কার কথা শুনে অদিতি কি কথা শুনার মেয়ে?
ফিহাত এদিকে আজমিয়া বেগমকে আরো অদিতির নামে উল্টাপাল্টা কথা বলে তার মাথা গরম করে দিলে। তারপর মনের আনন্দে বের হলো। অদিতি বাসায় খুব ওই যে কিছুটা উড়নচণ্ডী মেয়ে।
অদিতি সন্ধ্যায় বাসায় ফিরল তারপর আম্মুর কাছে কাল নাকি তাকে বিয়ের জন্য দেখতে আসবে। প্রথমে মন খারাপ হয়েছিল কথাটি শুনে তারপর ভাবল থাক বিয়ে করলে পড়া লাগবে না আর। এটা ভাবতে অদিতির মন ভালো হয়ে গেল। অদ্বিতীয় রাতের খাবার খেয়ে এশারের নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে গেল। এখন খাবারের রুমে বসে থাকলেই এখন কথা শুনতে হবে তাই এখানে থাকলো না।
◾◾◾◾◾◾
সকাল বেলা ফজরের নামাজ আদায় করে অদিতি তার আব্বুর রুমে আসলো দেখল মিজান সাহেবের এখনো নামাজ শেষ হয়নি। অদিতি বসে রইল কখন শেষ হবে এই ভেবে,তার একটু পরই নামাজ শেষ হলো। মিজান সাহেব জিজ্ঞেস করলেন মেয়েকে কিছু বলবি মা?
অদিতির সাথে সাথে আব্বুর উরুতে মাথা রেখে বলতে লাগলো আব্বু আম্মু শুধু আমাকে বকে কেন? মারে কেন?
তুমি তো মারো না, বকনা।
মিজান একটু মলিন হাসলেন অদিতির কথা শুনে তারপর বললেন অদিতি মা জানো তোমার আম্মু তোমাদের যত বকে যত মার তার থেকেও বেশি ভালোবাসে।তোমাদের তো শুধু উপরে ওপরে শাসন করে কিন্তু এই শাসনের আড়ালে অসীম ভালোবাসার লুকিয়ে আছে মা।
তাও আব্বু তুমি বেস্ট তোমার মত আপু কারো দেখিনি। এই যে তুমি আমাকে কত বুঝ। আম্মু তো কথাও শোনে না একটু ভালো আছে।
অদিতির এই কথা শুনে বাবা মেয়ে দুজনই হাসলো।
◾◾◾◾◾◾◾
সকালের নাস্তা তৈরি করলেন আজমিয়া বেগম।সকলে একসাথে নাস্তা করলেন। মিজান সাহেব আজ আর অফিসে গেলেন না পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে অদিতিকে তাই।
পাত্রপক্ষের জন্য রান্না জিনিসপত্র একা হাতে বুঝাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন আজমিয়া তাই পাশের বাসার এক প্রতিবেশী সাহায্য করলেন এসব করতে।
অদিতিরা মধ্যবিত্ত পরিবার তাদের একটা বাড়ি আছে বড়িটা একতলা প্রথমে মেনগেট দিয়ে ঢুকলে বড় ডাইনিং রুম সেখানে খাবারের টেবিল এবং সোফা বসানো আছে একটা দেওয়াল টিভি আছে।জয়নিং রুমের সাথে রান্নাঘর আরেকটা ওয়াশরুম আছে। তিনটা বেডরুম, অদিতি রুমে একটি ওয়াশরুম আছে, বারান্দা আছে । আরিফের রুমে একটি বারান্দা আছে। মিজান সাহেবদের রুমে একটু ওয়াশরুম, বারান্দা রয়েছে। মিজান সাহেবদের বাড়ির আশেপাশে ঘরবাড়ি খুব কম তাই বারান্দা দিয়ে বাতাস আসে খুব ভালো। অদিতিদের বাড়ি বিল্ডিং নয়, তবে অদিতির আব্বু মিজান সাহেব সন্তানদের যা চেয়েছে তাই দিয়েছে কিছুতেই অভাব রাখে না সব দেয়।
অদিতি গোসল করে নামাজ পড়ে রেডি হয়ে বসেছিল এর মধ্যেই কলিং বেলের শব্দ কানে আসে।অদিতির শব্দ পেল মিজান সাহেব কথা বলছেন একটু উকি দিয়ে দেখলো কুশল বিনিময় করে বসতে বললেন পাত্রপক্ষ দের আজ দুপুরে এখানেই খাবার কথা।
অদিতির নার্ভাস লাগছে কারণ এটাই তার প্রথম পাত্রপক্ষ দেখতে আসে। এর আগে অনেক বিয়ের প্রস্তাব এসেছে কিন্তু মিজান সাহেব না করে দিয়েছেন এটাও না করতো কিন্তু আজমিয়ার খুব পছন্দ হয়েছে মেয়েও পড়তে চায় না তাই রাজি হয়ে গেছে। অদিতি কে যেন ভাবছিল এমন টাইমে গেটের নক পরল।অদিতি ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসেছে। দেখল ছোঁয়া এসেছে। ছোঁয়ায় এসে অদিতিকে বলল অদিতি তাড়াতাড়ি কর আমাকে নিয়ে যেতে বলেছে।
অদিতি বললো আমার তো ভয় লাগছে রে ছোঁয়া।
ছোঁয়া বললো তাড়াতাড়ি কর ভয়ের কিছু নেই আমি আছি বলে দেখা যাবে, এখন আয়।
ছোঁয়া অদিতিকে পাত্রপক্ষের সামনে নিয়ে বসালো।
আরিফ তো অদিতিকে দেখে হা করে তাকিয়ে আছে। আরিফ ঐদিন শুধু চোখ দেখেছিলে বোরকা, মাক্স পড়া ছিল তাই। চোখ ছাড়া কিছু দেখতে পাইনি। অদিতির ফর্সা যেটাকে মানুষ বলে গোলাপি ফর্সা,নেভি ব্লু কালার ড্রেস পড়েছে,পায়ে নুপুর, গলায় স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, চুল কোমর পড়েছে,দেখতে হুরপরীর মত লাগছে আরিফের কাছে। পাশ থেকে আরিফের বন্ধু তূর্য বলে। কিরে মামা এভাবে কি দেখছিস! সুখ দিয়ে খেয়ে ফেলবি নাকি?
আরিফ ভাবনা থেকে বের হয়ে নিজ দিকে আরিফ বলে এটাই বিয়ে করবো মামা ফাইনাল।
তূর্য আরিফের কথা শুনে মুচকি হাসলো। আর বলল মামা সবার কারণে মন মত হাসতেও পারছিনা। তুই মামা এক দেখায় ফাইনাল করে ফেললি?
অদিতি এখনো আরিফ কে এখনো দেখেনি। ছোঁয়া হঠাৎ পাশ থেকে বলল অদিতি এটা ওই ছেলেটা না?
যেটার সাথে রাস্তায় দেখা হয়েছিল। যাই হোক হ্যান্ডসাম আছে। ছোয়ার কথা শুনে অদিতি এবার আড় চোখে দেখল। অদিতি দেখেই যেন আকাশ থেকে পরল। ছোয়া ডাকলো অদিতি, এই অদিতি শুয়ার ডাকে অদিতি ধ্যান ভাঙলো।
ছোয়া বলল ডাকছি শুনছিস না?
চল, রুমে চল।
অদিতি যেতে যেতে পিছে তাকিয়ে আরেকবার আবার দেখে নিল। অদিতি কে দেখতে পাত্রপক্ষের আরিফের আম্মু (সোফিয়া বেগম),আব্বু (জাওয়াদ ভূইয়া), এসেছে।
অদিতি রুমি এসে ভাবল এই ছেলে বাসাএটা জেনে এসেছে নাকি না জেনে?
ছোয়া বললো কিরে অদিতি ছেলেটা কেমন দেখলি মনে হয় পছন্দ হয়েছে তোর?
যেভাবে দেখছিলি ব্বাহ্!। অদিতি একটু নরম সুরে বলল নারে আমি অন্য কিছু ভাবছি। আর এই ছেলেকে তো বিয়ে করবোই না।
ছোঁয়া বললো কেন করবে না?
আমার ইচ্ছা তাই ছেলেটাকে দেখতে শয়তানের মত। ছোয়া অদিতির কথা শুনে হাসলো আর বলল তুই পারিসও ভাই!। দেখিস শেষে এই ছেলের সাথেই বিয়ে হবে।
ছোঁয়া দেখেছিস আমাকে দেখতে আসলো দেখলো কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করল না ব্যাপারটা কেমন না?
ছোয়া বললো এত কিছু তোর ভাবতে হবেনা। যা ভাবার কি আঙ্কেল ভেবে দেখে দিবে।
◾◾◾◾
মিজান সাহেব তাদেরকে খাবার টেবিলে বসতে বললেন অনেক রকম আইটেম করেছেন আজমিয়াঁ। সবাই খাবারের পার্ট শেষ করে একটু সোফায় বসে রেস্ট নিচ্ছিলেন। এরপর মিজান সাহেব কে বললেন জাওয়াদ সাহেব ভাইজান কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতাম?
মিজান সাহেব বললেন অবশ্যই ভাই সাহেব বলেন। আপনাদের কি আমাদের ছেলে পছন্দ হয়েছে?।
মিজান সাহেব আসলেন আপনার ছেলে পছন্দ হওয়ার মত ছেলে। তাহলে পছন্দ হবে না কেন?
আমাদেরও পছন্দ হয়েছে। আরিফের আব্বু বলল আমাদেরও মেয়ে পছন্দ হয়েছে আমরা চাচ্ছিলাম আজকেই কাবিনটা করতে।
মিজান সাহেব বললেন না ভাই আজকে কিভাবে হয়?। আরিফের আব্বু বললেন আপনি শুধু পছন্দ হয়েছে কিনা সবাইকে জিজ্ঞেস করেন আর যা যা দরকার সব করে দিব।মিজান সাহেব বলল একটু কথা বলে আপনাদের জানাচ্ছি তাহলে?।
আরিফের আব্বু এতে সম্মতি জানালো।
মিজান সাহেব অদিতি রুমে আসলো। অদিতিকো জিজ্ঞেস করলো আরিফকে কেমন গেলেছে মা?
অদিতি বললো ভালো লাগেনি আব্বু কেন?
অদিতির আব্বু বলল ছেলেটা দেখতে সুন্দর বিজনেসম্যান অনেক হাসিখুশি ভদ্র তাহলে তোমার কেনো পছন্দ না মা?
অদিতি বললো আমি এতকিছু জানি না আব্বু আমার শুধু পছন্দ না তাই জানি। মিজান সাহেব আর কথা বললেন না জোর করে বিয়ে দিতে চান না। আজমিয়ার কাছে গেলেন তাকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার কেমন লেগেছে আরিফকে?।
আজমিয়া বললেন অনেক ভালো আমার মেয়েকে এই ছেলে ভালো রাখতে পারবে।কি সুন্দর করে কথা বলে এই ছেলের সাথে আমার মেয়ে ভালো থাকবে তাই এই জায়গায় মেয়েকে বিয়ে দিব। মিজান সাহেব বললেন তার স্ত্রীকে তারা বলছিল আজ কাবিন করার কথা তুমি কি বলো?।
আজনিয়া বেগম বললো আপনার মেয়ে আপনার যেটা ভালো লাগে করেন। মিজান সাহেব স্ত্রী কে বললেন অদিতি তো বিয়ে করতে রাজি না।সে এই ছেলেকে বিয়ে করবে না। আজমিরা বেগম বলেন আপনার কেমন লেগেছে ছেলেকে?
মিজান সাহেব বললেন ভালোই খারাপ না খবর নিয়েছিলাম কিছু পায়নি এই ছেলের নামে বা পরিবারের নামে। তাহলে আপনি কিছুদিন সময় নিন দেখবেন এই ছেলে আপনার মেয়েকে রাজি করাতে পারবে। মিজান সাহেব কিছু ভেবে স্ত্রীকে সম্মতি জানিয়ে চলে গেলেন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন