বিষাক্ত প্রেমা আলিঙ্গন
লেখিকা: সাদিয়া আক্তার
পর্ব,৪
কপি করা একদম নিষিদ্ধ 🚫🚫
এটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প
অদিতি আম্মু অদিতির কথা শুনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তার ধ্যান কেটে গেলে সে খুব খুশি হয় সাথে সাথে মিজান সাহেবকে জানায়। মিজান সাহেব খুশি হন। আজমিয়া আরিফকে এই কথা জানালো।
-" আরিফ "বলল আন্টি আমি তাহলে কালকে অদিতিকে বিয়ে করতে চাই।
আজমিয়া বলল আচ্ছা আমি অদিতির আব্বুর সাথে কথা বলে দেখি।
আরিফ সম্মতি জানিয়ে রেখে দিল ফোন।
আজমিয়া মিজান সাহেবের সাথে কথা বলে অদিতিকে ডাকার জন্য পাঠালেন।কিছুক্ষণ পর অদিতি আসলো এসে আজমিয়া আর মিজান সাহেবের সামনে বসলো অদিতি জিজ্ঞেস করল কিছু বলবে?
আজমিয়া বেগম আরিফের কথাটা অদিতিকে জানালো। অদিতি সব শুনে বলল তোমরা যা ভালো মনে করো তাই কর আমার কোন সমস্যা নেই।বলে অদিতি নিজের রুমে চলে গেল। অদিতি যাওয়ার একটু পরে আজমিয়া আরিফকে ফোন দিল। তারপর আজমিয়া আর মিজান সাহেব কথা বললেন আর কালকে শুক্রবার আরিফের কোর্ট ম্যারেজ করানো হবে তার দুদিন বা তিনদিন পর আরিফদের বাসায় নিয়ে যাবে।। আরিফ সব শুনে রাজি হয়ে গেল। আরিফের ছোট বোন( সপ্না) সে এডভোকেট তাই শুক্রবার কোর্টে কোর্ট ম্যারেজ পড়ানোর ঝামেলা হবে না। এই কারণে মিজান সাহেব শুক্রবার তাই ভালো মনের করলেন।
আরিফের সাথে কথা বলে তারা সবাই শুয়ে পড়ল
◾◾◾◾◾◾
অদিতি ফজরের নামাজ শেষ করে বারান্দায় গেল সেসময় অদিতি আব্বু আম্মুর রুম থেকে বারবার এতো ভেসে আসছে অদিতি আব্বু আম্মুর রুমে গেল দেখল মিজান সাহেবের ফোনেরশব্দ টিকলো না। ভাবলো আব্বু নামাজ পড়া শেষ করে ফোন রিসিভ করবে তাই নিজের রুমে চলে আসলো তাই নিজের রুমে চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর অদিতিকে তার আব্বু আম্মু ডাকলো সে গেল গিয়ে শুনলো আরিফের আব্বু মারা গেছে। অদিতি শুনে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল। মিজান সাহেব ঠিক করলেন দেখতে যাবে। আরিফকে ফোন করে যাবার কথা জানালে আরিফ তাড়াতাড়ি আসতে বলল। কারণ তাড়াতাড়ি আরিফের আব্বুকে মাটি দেওয়া হবে। মিজান সাহেব সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পড়ে কালো রঙের শাল শরীরের জড়িয়ে নিল এরপর অজু করে বের হয়ে গেল। ডিসেম্বরের মাসের কুয়াশার জন্য শিশির দিয়ে মাটি ভেজা। মিজান সাহেব এর মধ্যে দিয়ে ভাবছেন জাওয়াদ সাহেব খুব ভালো মানুষ ছিলেন হঠাৎ তার মৃত্যু মিজান সাহেব কে খুব ভাবাচ্ছে।মিজান সাহেব এসব ভাবতে ভাবতে লালবাগ আরিফদের বাসায় এসে পৌঁছায়। মিজান সাহেব এসে আরিফের আব্বুর লাশ দেখতে পাইনি। কারণ তখন জানাজার দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্যসবাই বের হচ্ছে। মিজান সাহেবের সাথে গেলেন। গিয়ে জানাজা শেষ করে মাটি দিয়ে আরিফের সাথে কথা বলে সান্তনা দিয়ে বাসায় উদ্দেশ্যে রওনা হন মিজান সাহেব। মিজান সাহেব ভাবছেন তার কাছে সব কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে। জাওয়াদ সাহেবের মৃত্যুতে সবাই তেমন কান্না করে নি দেখে বেশি দুঃখীও মনে হলো না কাউকে।
মিজান সাহেব এ নিয়ে আর ভাবলেন না মনে হল সে বেশি বেশি ভাবছে।
এর মধ্যে মিজান সাহেবের বাসার সামনে এসে রিকশা থামলো। মিজান সাহেব ভাড়া মিটিয়ে বাসার ভেতরে গেলেন। তাকে দেখে আজমিয়া এগিয়ে আসলেন মিজান সাহেব কে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে। মিজান সাহেব সব বললে সব ফোনে আজমিরা বলল আমার সন্দেহ হচ্ছে। সব শুনে আমি এই ঝামেলায় বাসায় আমার মেয়ে দিবোনা। এটা শুনে মিজান সাহেব আজমিয়াকে বোঝালেন। আমরা বেশি ভাবছি এরকম কিছু না?
এইসব বাদ দাও ওদের এই ঝামেলা গেলে বিয়ে নিয়ে কথা বলা যাবে। এর মধ্যে অদিতিকে দশম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়?।
আজমিয়াও আরে কিছু বললেন না। অদিতিরও মন খারাপ এমন কিছু হবে কেউ বুঝিনি। ফিহাত সকালে নাস্তা করে বেরিয়ে গিয়েছে। খেলতে এখনো বাসায় আসেনি। আজমিয়া দুপুরের রান্না করছিলেন তার আজ কিছু ভালো লাগছে না। এদিকে সবাই গোসল শেষ করেন নামাজ আদায় করতে বসেছে তখন আজমিয়া গোসলে গেলেন। আজমিয়া গোসল শেষ করে নামাজে দাঁড়ালো। সবাই আছে যার মত করে খাবার খেতে বসে পরলো। এদিকে আজমিয়া নামাজ শেষ করে বসে বসে ভাবছে এখানে তার মেয়েকে দিবে কিনা?
মিজান সাহেব খাওয়া শেষ করে শুতে এসে দেখে আজমিয়া বসে আছে। মিজান সাহেব কাশি দিয়ে তার উপস্থিতি বুঝালেন এতে আজমিয়া একটু নড়েচড়ে উঠলো। নামাজের পাটি ভাঁজ করে রেখে যাওয়ার সময় পিছন থেকে মিজান সাহেব আজমিয়াকে বললেন এত ভেবোনা যা হবে ভালো হবে তুমি কি একটু রেস্ট নাও আমার একটু পর অফিসের দিকে যেতে হবে।
আজমিরা জিজ্ঞেস করলেন কেন?
মিজান সাহেব বললো কাজ আছে নাইট করবে ছেলেরা তাই গিয়ে দেখে আসতে হবে কাজও আছে একটু আমার। আজমিরা আর কিছু বললেন না খেতে চলে গেলেন। মিজান সাহেব একটু রেস্ট নিয়ে সে চলে গেলে অদিতি গেট লাগিয়ে দিলেন । আজমিয়া ঘুমিয়ে ছিলেন তাই অদিতি গেট লাগালো।আসরের সময় আজমিয়া উঠে নামাজ আদায় করলেন।অদিতি আর আজমিয়া রাতের রান্না শেষ করে বসে কথা বলছিল এর মধ্যে মিজান সাহেব বাসায় ফিরে আসলেন বিবাহিত খেলা শেষ করে বাসায় আসলো।
মিজান সাহেব গিয়ে ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নিচ্ছিল তখন আজমিয়া আসলেন তারা কিছুক্ষণ কথা বললেন।
অদিতি নিজের রুমে ছোয়ার সাথে কথা বলছিল তখন ফি হাত এসে ছুড়ে মারল অদিতিকে তখন আবার দুজন মারামারি লেগে গেল। ছোয়া ফোনে থেকে তাদের থামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তারা থামেনা। কিছুক্ষণ পর অদিতি আর ফি হাতের মারামারি শেষ করে ছোয়ার সাথেআবার কথা বলতে আসলো। অদিতি আর ছোয়া কথা বলতে বলতে হঠাৎ ছোঁয়া বলল এই অদিতি তোদের কিসের জন্য গ্রাম বিখ্যাত?
অদিতি বলল আমি আব্বুর কাছ থেকে শুনেছি পাকিস্তানের এলিজাবেথ মানিকগঞ্জে ছিটকা বাজারে এসে হাজারী গুড় খেয়েছিলেন। এরপর থেকে মানিকগঞ্জ হাজারী গুড়ের জন্য বিখ্যাত। একদিন তোকে নিয়ে যাব। সেই দিন তোকে হাজারি গুড় খাওয়াবো। তাদের এসব কথার মধ্যে এশারের আজান দিয়ে দেয়। তারা কথা শেষ করে ওযু করে নামাজ পড়তে যায় । সবাই নামাজ শেষ করে খাবারের টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যার রুমে চলে গেল। ফিহাত আজমিয়ার ফোন দেখছিল। আজমিয়া কাজ শেষ করে ফিহাতের কাছ থেকে ফোন নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।আজমিয়াকে দেখে মিজান সাহেব বললো আরিফদের বাসায় তো আর ফোন দিলাম না একবার দেওয়া উচিত?
আজমিয়া বললো আপনার ইচ্ছে?।
মিজান সাহেব ফোন দিলেন প্রথম বায়ো রিসিভ হলো না তাই আর দিলেন না ব্যস্ত মনে করে। কিছুক্ষণ পর আরিফ ফোন দিল মিজান সাহেব রিসিভ করলেন। আরিফ সালাম জানালো। মিজান সাহেব সালাম এর উত্তর দিলেন জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছো?
এর মধ্যে আরে বলল আঙ্কেল আমি অদিতিকে এই সপ্তাহেরশুক্রবার বিয়ে করবো। মিজান সাহেব বলল কিছু দিন আগে তোমার আব্বু মৃত্যু হল। এই মুহূর্তে বিয়ে কেমন হয়ে যায় না বাবা?
আরিফ বললো না আঙ্কেল কিছু হয় না কোন সমস্যা নেই।
মিজান সাহেব বললো তোমার সমস্যা নেই কিন্তু তোমার ফ্যামিলি। মিজান সাহেবের কথা শোনার বলল সেটা আমার উপরে ছেড়ে দেন আঙ্কেল।
মিজান সাহেব আর কিছু বলল না রাজি হয়ে গেল পরে আরিফের পরিবারের সাথেও কথা বলা হয়েছে তাদেরও কোন সমস্যা নেই কারন তাদের একমাত্র ছেলে যা বলবে তাই হবে।
যারা আমার এই বই পরছেন থাদের জন্য বলি এটা আমার প্রথম বই তাই ভুল হতেই পারে বলা যায় না। কোনো ভুল হলে জানাবে সেটা ঠিক করার চেষ্টা করবো