#বনফুল
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব_১০
রোকেয়ার মন মেজাজ আজকে ভালো। ভালো বলতে কিছুটা ভালো। তার মন মেজাজ ভালো থাকলে হরেক পদের রান্না আয়োজন করেন। তাই আজও তার ব্যতিক্রম হয় নি। অবশ্য এই রকম ব্যতিক্রম দিন, খুব কম সময়ই আসে। তা না হলে বেশি ভাগ দিনই, তার মেজাজ থাকে চড়া। আর চড়া থাকলে রান্না তো ভালোই, কারো সাথে কথাই বলেন না। তাই নয় আসমানি আর নয় নাবিলা। এই দুজনেই ঘাড়ে হাড়ি ঘুঁটার দায়িত্ব ঠিক এসে পড়ে ।
নাবিলার রান্না হাত ভালো। ভালো বলতে তার চেয়েও ভালো। আজকাল যুগের মেয়েরা যেখানে রান্না ঘরে পা'ই রাখতে চায় না, সেখানে এই মেয়ে শখ করে রাঁধে। ছোট বেলা থেকেই রাঁধে। তার ভাই ভাবিরা সব সময় নাবিলার হাতের রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকে। এখন অবশ্য আর শখ করে রাঁধে না। তবে যখন রাঁধে যত্ন করেই রাঁধে।
রোকেয়া ছোট্ট মাছের চচ্চড়িটা হাতে মেখে চড়ালো। আজ সে আয়োজন করেছে চার পাঁচ পদের মাছের । তার মধ্যে স্পেশাল হিসেবে করছে সর্ষে ইলিশ। এটা এই বাড়ির বলতে গেলে সবার পছন্দ। তবে নতুন সদস্য, অপূর্বর খবর বলতে পারছে না। কাট টাটার মাছ খায় কি না, কে জানে! তাই দই কাতলারও প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাতলা মাছে কাটা কম, খেতে অসুবিধে হওয়ার কথা না। তবে অসুবিধে হোক আর যাই হোক, মাছের বাইরে আজ আর কিছুই করবে না । মাংস টাংস তো আরও না! মাছ যতই প্রিয় হোক, মাংস থাকলে সবার দৌড় সেই দিকেই থাকে।
আসমানি সাইডে বসেই কেটে বেছে দিচ্ছে। রোকেয়া গ্যাসের আঁচ মিডিয়াম করে বাইরে এলো। সকালে তার বড় ভাবি ফোন দিয়েছে। ভালো একটা ছেলে পাওয়া গেছে। তার বড় ভাবির দূরসম্পর্কের ভাগ্নে। মোটামুটি একটা চাকরিতে আছে। তবে সোজা ভাবেই বলেছে, -- দেখেন আপা, আমরা সবাই নাবিলার ভালো চাই। কখনো ননদের মেয়ে হিসেবে তো চোখে দেখিনি। নিজেদের মেয়েকে যেই নজরে দেখেছি, সব সময় সেই নজরেই দেখেছি। নিজের দিকে আত্মীয় তাই মিথ্যা বলে বাড়িয়ে চড়িয়ে বলব না। ছেলে ভালো, ফ্যামিলি ভালো। তবে আগে একটা বিয়ে হয়েছিল। বছর খানেক ছিল। মেয়ে আরেক ছেলের হাত ধরে পালিয়েছে। এখানে ছেলের তো আর কোনো দোষ নেই।
তাছাড়া বিয়ে কোনো নাটক সিনেমার খেলা তো না। কবুল বলল, সুখের সমাপ্তি হয়ে গেল। বিয়ের পর যেকোনো ছেলেই বিষয়টা আঁচ করতে পারবে। তবে খুঁতওয়ালা ছেলে আরেকজনের খুঁত নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাই আমাদের এত সমাজ, মানুষের কথা না ভেবে, শুধু ভালো একটা ছেলে খোঁজা উচিত। এখন আপনি ভাবেন। মেয়ের জন্য আপনি যেরকম পাত্র চান, সেরকম পাত্রের কাছে নাবিলা ভালো থাকবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া এত কানাকানিতে সেই রকম বিয়ে হবে বলেও মনে হয় না। তার মধ্যে আবার নতুন জুটে আছে খালিদ। তাই ভেবে জানান।
রোকেয়া এখনো ভাবতে পারেনি। তবে মেয়েটার একটা গতি হলে, শান্তির একটা শ্বাস ফেলতে পারবেন। বয়সও তো আর বসে থাকছে না। আরেকটা মেয়েও তো বড় হচ্ছে। মেয়েটা পাপ করেনি, ভুল করেছে। আর সেই ভুল তার মা চাপিয়ে রাখতে গিয়ে আরেক ভুল করেছে। এখন না পারেন কাউকে বলতে, না পারেন কিছু করতে।
সে বেরিয়েই দেখল, নাবিলা টেবিলে একা বসে পানি ভাত খাচ্ছে। এই বাড়িতে রাতের খাবার ছাড়া কোনো খাবারই কেউ একসাথে খায় না। যার যখন মন চায়, খেতে থাকে। নাবিলা অবশ্য দিনের বেশিভাগ খাবারই রুমে নিজের মতো খায়। তবে আজকে পানি ভাত, তাই হয়ত রুমে আর ঝামেলা করেনি।
রোকেয়া এগিয়ে বলল, -- ওরা সবাই দুপুরের পর ঘুরতে যাবে, তুইও গেলে যা।
নাবিলা শুনে সব সময়ের মতো হাসল। রোকেয়া দেখে বলল, -- কথা বললে কথার জবাব দিবি! সব সময় ভেটকি মাছের মতো ভেটকাবি না।
-- তোমরা তো এটাই চাও, আমি শুধু হাসি।
-- আমাদের চাওয়া বড় মেনে বসে আছিস তুই?
-- তা ঠিক! তাই কথার উত্তর দেই না, মা। দিলে তোমাদের ভালো লাগবে না।
-- তা লাগবে কেন, পেটে রেখেতো পাপ করেছি।
-- উঁহুম! দূরে সরিয়ে ভুল করেছো।
-- মানুষের বিপদ থাকেনা? আনতে চায়নি?
-- সব সময় তোমার চাওয়া হবে কেন? ইচ্ছে হলে দূরে সরিয়ে দেবে, ইচ্ছে হলে কাছে টেনে নেবে।
-- আমার জায়গায় থাকলে, তুই কি করতি?
নাবিলা উত্তর দিল না। আগের মত আবার খাওয়ায় মনোযোগ দিল। এত কথা তার ভালো লাগে না। বরং ঝাল চোখে মুখে লেগেছে। নাকে পানি আসছে। সে নিজেকে সামলে কথা ঘুরিয়ে বলল, -- কেসটা তুলে নাও মা। নাবিলের বয়সের ছেলে । ভবিষ্যৎ টা নষ্ট হয়ে যাবে। অযথা পরিবারের মানুষগুলো সাফার করছে।
-- করুক, তোকে এত মায়া দেখাতে বলেছে কে?
নাবিলা এবারো উত্তর দিল না। গ্লাস নিয়ে পানি খেলো। ঝালে চোখে ঘোলা দেখছে। আসমানি খালা শুকনো মরিচ ডলেছে কতগুলো, কে জানে?
রোকেয়া নিজের মতো বলল, -- ভালো একটা সমন্ধ এসেছে। তবে ছেলের আগে একটা বিয়ে হয়েছে।
নাবিলা একটু থামলো। তারপর বড় একটা শ্বাস ফেলে বলল, -- আমরা লোকের আঙুল তোলা থেকে বাঁচতে মিথ্যা কথা বলি। এক সময় সেই মিথ্যাকে আবার নিজেরাই সত্য ভাবতে শুরু করি। তবে মা, সত্য সব সময় সত্যই থাকে।
-- জ্ঞানের কথা আমাকে শোনাবি না। থাপ্পড়ে চাপা খুলে ফেলব।
-- এটাই তোমার সমস্যা মা। তুমি সত্য শুনতে চাও না। তবে এটাই সত্য, তোমার মেয়েরও এক বিয়ে হয়ে গেছে। আর সে কোনো কুমারী সতী সাবিত্রী ভালো মেয়ে না। ভালো মেয়েরা লুকিয়ে বিয়ে করে না, পেটও বানায় না। সেই পেটের দায় সহ্য না করতে পেরে পাগলও হয় না।
-- নাবিলা...
-- চিৎকারে সত্য বদলায় না, মা।
রোকেয়া নাবিলার ওপর কখনো রাগে না। আজও যে রাগলেন, তা না। তবে আর কিছুই বললেন না। সোজা কিচেনে চলে এলেন। গ্যাসের ওপর মাছের তরকারি উল্টে সিঙ্কে ফেললেন। ফেলে রুমে চলে গেলেন।
আসমানি সাইডে বসে কাটা কুটি করছে। সে সবই দেখল, শুনল। তার মধ্যে তেমন ভাবান্তর হলো না। কাজের লোকদের চোখ কান থাকতে নেই। নাবিলার ব্যাপারে তার তো আরো নেই।
সে কাটা কুটি করতে করতে সাবলীলভাবে বলল, -- আম্মা, শুকনা মরিচ আরো লাগবো নি?
নাবিলাও তার মতো বলল, -- না, খালা। তবে আরেকটা পেঁয়াজ কেটে দাও।
রোকেয়া যেতে যেতে সবই শুনল। শুনে রুমের দরজা এমন ধরাম করে লাগালো, নাজিম ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল। উঠে বলল, -- হইছে কি?
রোকেয়া উত্তর দিল না। সে বসে রইল চুপচাপ।
নাজিম কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর ঘুমঘুম কণ্ঠে বলল, -- কাউন্সিল ফোন দিছে। ঐ ছেলেদের পরিবার নাকি তাকে খুব করে ধরেছে। দরকার পড়লে নাবিলার পা ধরে মাফ চাইবে। হাসপাতালে সব খরচ দেবে। এখন একই জায়গার মানুষ। অযথা আর ঝামেলা বাড়িয়ে লাভ কী? কেসটা তুলে নিতে বলছে।
রোকেয়ার ভ্রু কুঁচকে গেল। নাজিমের কাছে ফোন এসেছে কিছুক্ষণ আগে। অর্ধেক রাত বসে বসে হি হি হা হা করেছে। এখনো একটাও ঘুম থেকে উঠে বের হয়নি। তো নাবিলার কাছে খবর এলো কী করে?
রোকেয়া আর সময় নষ্ট করল না। উঠে নিজের ফোন হাতে নিল। নিয়ে তার ভাবিকে ফোন দিয়ে বলল, -- ওদের আসতে বলো ভাবি। আর এবার কোনো সময় নেবে না। যদি পছন্দ হয়, সেই দিনই বিয়ের ঝামেলা একেবারে শেষ করে ফেলব।
.....
অপূর্বর ঘুম ভাঙল একেবারে যোহরের আজানের সময়। গলির মাথায় মসজিদ। আজানে সুরটা একেবারে ভেতরে এসে লাগে। তার মধ্যে কাঠফাটা রোদ, ঘুমানোর আগে জানালার পর্দা টানেনি, বারান্দার দরজা, এমনকি রুমের দরজাও লক করেনি। অবশ্য এই বাড়িতে কেউ দরজা লক করে ঘুমায় বলে মনেও হয় না।
সকালে মসজিদ থেকে ফেরার সময় দেখল, নাবিলের দরজা পুরো হাট করে খোলা, সে কম্বল টম্বল পেঁচিয়ে হা করে ঘুমাচ্ছে। নোভার দরজা চাপানো, বাবা তো বাবাই তার দরজা মনে হয় এই জীবনে চাপানোও হয়নি। আর একজনের দরজা দেখল চাপানো, তবে পর্দার আড়ালে। শুধু শ্রদ্ধেও চাচির দরজাই মনে হয় হুটহাট লাগানো হয়। ঘুমের মধ্যেই সেই হুটহাটের শব্দ সে ঠিক পেল।
অপূর্ব চোখে মুখে ঘুম নিয়ে উঠে বসল। এলোমেলো চুল, গা খালি। মসজিদ থেকে এসে পাঞ্জাবি খুলে আর কিছু গায়ে দেয়নি। ওমনি শুয়ে পড়েছে। সেই খালি গায়েই খাটের পাশে রাখা গিটারটা টেনে নিল। নিয়ে একটু সুর তুলতেই দরজায় টোকা পড়ল।
অপূর্ব দরজার দিকে তাকাল। দরজা চাপানো, তবুও বুঝতে পারল কে। চাপানো দরজার কোণা দিয়ে কাপড়ের পাড় দেখা যাচ্ছে। এই বাড়িতে এমন প্রিন্টের কাপড় আসমানি খালাই পরে। তাই গিটার হাতে রেখেই বলল, -- আসুন খালা।
আসমানি ভেতরে এলো নিজের মতো। হাতে ঝাড়ু। পুরো বাড়ি ঝাড়পোছ শেষ, শুধু এইটাই বাকি। বড় ভাই বলছে, তাই আর আসেনি। এখন শব্দ পেয়ে এলো। কত কাজ তার! তাই ঝাড়ু দিতে দিতে বলল, -- নাস্তা খাইবেন, নাকি দুপুরের খাবার? যদি নাস্তা হয়, তো বলেন। আর যদি দুপুরের হয়, তাহলে আরেকটু বসেন। পাক শেষের দিকে। আয়োজন করছে দুনিয়ায়। করে আর খবর নাই। দরজায় খিল এটে বসে আছে। এদিকে মাইয়াডা একলা হাতে সব করছে। কইলাম, তুমি যাও, আমি করতাছি। শুনে না তো কথা!
অপূর্ব আগা মাথা কিছুই বুঝল না। তবে মাথার এলোমেলো চুল আরও এলোমেলো করতে করতে বলল, -- একেবারে দুপুরে খাব, খালা। এক কাপ কফি হবে?
-- চুলা তো আজাইর নাই। বড় ভাইজানের সব টাইম টু টাইম। নামাজ পড়েই তিনি দুপুরের খানা খান। নামাজ শেষ হলো বলে। কফি দু’মিনিট পরে খান।
-- আমাকে সবার মতো তুমি করেই বলেন খালা।
-- আচ্ছা, যাও বললাম।
অপূর্ব হাসলো! হেসে আগের মতোই গিটারে হাত দিল। দিতে দিতে বলল, -- রান্না কে করছে?
আসমানি ভ্রু কুঁচকে তাকালো! সে তো নোভা না। কাজের তালে তালে সব পেটের ছেড়ে দেবে। তাই ভ্রু কুঁচকেই বলল, -- কেন? তোমার খাওন দরকার খাইবা। পাক করল কে, সেইটা দিয়া কাম কি?
অপূর্ব আগের মতোই হাসল! গিটার রেখে গায়ে টিশার্ট জড়াল। জড়িয়ে ঝট করে উঠে দাঁড়ালো। আসমানি দেখে বলল, -- কই যাও? দেখ, নাবিলা আম্মা রান্নাঘরে। এখন গেলেই সব ফেলে কফি করতে বইবো। দুই মিনিটে তো তোমার জান বের হয়ে যাইব না।
অপূর্ব বেরিয়ে গেল! বেরোতে বেরোতে বলল,-- কফি ছাড়া এখন আমি এক মূহুর্তও থাকতে পারব না খালা। মাথা পুরো জ্যাম হয়ে আছে।
আসমানি যেতে দেখে বিরক্ত মাখা সুরে বলল, -- যাইবা যাও, তবে কাইশা কুইশা যাইও। বাড়িতে দুই দুইটা সিয়ানা মাইয়া। একটার দিন দুনিয়ায় হুঁশ থাকে না, আরেকটার হুঁশ আছে, তবে দিন দুনিয়ায় সেই থাকেনা ।
অপূর্ব বেরিয়েই দুষ্টুমি করে বেশ কয়েকবার কাশলো। নাবিলা সবই শুনলো। শুনে এগিয়ে উঁকি দিলো। তাদের বাড়িতে কেশে ভদ্রতা রক্ষার মানুষতো থাকার কথা না। আর উঁকি দিয়ে অপূর্বর মূখটা দেখলো।
অপূর্ব দেখে হেসে বলল, -- হ্যালো, ফেরি টেইল গার্ল।
নাবিলার তেমন পরিবর্তন হলো না। সে স্বাভাবিক ভাবেই চোখ ফিরিয়ে নিলো। নিয়ে নিজের কাজে গেলো। চুলায় তার দই কাতলা। এটা হলেই শেষ।
অপূর্ব অবশ্য চোখ ফেরালো না। তার অভ্যাস সব খুঁটিয়ে খাঁটিয়ে দেখা। আজ বাদ থাকবে কেন? তাই এক পলকেই এই যে, চুলার গরমে নেয়ে ঘেমে একাকার হয়ে যাওয়া মেয়েটাকে দেখল, যার মাথায় বড় অযত্নেন হাতখোপা, গায়ের লাল ওড়নাটা চাদরের মতো নেওয়া। এমন গরমেও কারো শীত লাগতে পারে, এই মেয়েকে না দেখলে জানা হতো না।
তাই আগের মতোই বলল, -- এক কাপ কফি হবে, নাবিলা?
নাবিলা সাথে সাথে মাথা নাড়ল। নেড়ে এক চুলার রান্না নামাতে গেল। অপূর্ব নিষেধ করল। করে বলল, -- উঁহু, রান্না বন্ধ করতে হবে না। আমাকে বলো, কোথায় কী আছে। বাকিটা আমি দেখছি।
নাবিলার এবারও কোন ভাবান্তর হলো না। ফিরেও তাকাল না। তবে সব সুন্দর মতো এগিয়ে দিল।
অপূর্ব সবই দেখল! দেখতে দেখতে দুধের পট ওভেনে দিল। কফি মগে কফি, চিনি, চামচ দিয়ে ব্লেন্ড করতে করতে বলল, -- কোন হেল্প করতে পারি ?
নাবিলা সোজা বলল,-- না।
-- ড্রয়িং রুমের পেন্টিংগুলো তোমার?
-- হ্যাঁ।
-- সেইদিনের জন্য স্যরি।
-- কোন দিন?
অপূর্ব হাসল! হেসে ওভেন থেকে গরম দুধ কফি মগে নিতে নিতে বলল, -- কিছু না।
অপূর্ব আর কিছু বলল না। কফিতে নীরবে চুমুক দিলো। নাবিলা তো আরও না। সে নিজের মতো কাজ করতে লাগল। তখনি অপূর্ব হাতে রাখা কফি মগটা আস্তে করে ছেড়ে দিলো। দিতেই নাবিলা চমকে ফিরে তাকালো। তাকাতেই চোখে চোখ পড়ল। চোখ পড়তেই নাবিলার বুকটা ধক করে উঠল, মুখটা হলো ফ্যাকাশে।
অপূর্ব সেই ফ্যাকাশে মুখটা দেখল। দেখে অতি সহজেই বুঝল। এই যে তার অতি সুন্দর মুখ। যেই মুখের দিকে একবার তাকালেই যে কোন মানুষ মুগ্ধ হয়। সেই মুখের দিকে না তাকানোর কারণ, সেই সন্ধ্যার ইন্সিডেন্ট না। বরং এই মুখটাই। উঁহুম! তার চোখ। আর বুঝেই আগের মতোই হেসে বলল, -- স্যরি।
চলবে...