ফন্ট সাইজ:
থিম:
বনফুল

১৪তম পর্ব

লেখক: নূপুর ইসলাম

#বনফুল 

#নূপুর_ইসলাম 
#পর্ব_১৪
নাবিলাদের ঘরোয়া ছোট্ট আয়োজনে যেন, একেবারে চাঁদের হাট বসে গেলো। মাথার উপরে রাতের নিঝুম আকাশ, মৃদু বাতাস, আর চারপাশে ঝিলমিল করা রাতের মোহনীয় শহর। সেই শহরের এক ব্যস্ত কোণে নাবিলাদের ছিমছাম বাড়ির বিশাল ছাদটা যেন, আজ সব আয়োজনটাকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুললো।
ছাদের এক পাশে খাবারের আয়োজন, আরেক পাশে বিছানো চাদর। সেখানেই সবাই পা গুটিয়ে বসা। কোনায় রাখা নাবিলের সাউন্ড বক্স থেকে একটার পর একটা মন মাতানো গান বেজে চলছে। যেই গানের সুরে পুরো পরিবেশটাই যেন সুরের অন্য রকম এক মায়াজালে ভরে উঠেছে।
এই মায়াজালের আনন্দ আয়োজনে চার চাঁদ লেগেছে অপূর্বর কিছু বন্ধুর আগমনে। না, এরা তার কলেজ, ভার্সিটির বন্ধু না। হওয়ার চান্সও নেই। তবে সবাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচিত। আর এই বন্ধুদের দেখে তো নোভার অবস্থা একেবারে মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো! কারণ এরা কেউ তার মতো খাওয়া ঘুমের সাধারণ মানুষ না, বরং একেকজন বেশ ফেমাস কনটেন্ট ক্রিয়েটর। যাদের নোভা এতদিন শুধু মোবাইলের পর্দায় দেখেছে, আজ তারাই তাদের সাথে একেবারে বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে! 
এসেই কি সুন্দর নিজেদের মতো করে পুরো আয়োজনের মিশে গেছে। কোন আলাদা ঢং নেই, গরিমা নেই, নেই অহংকার। বরং নিজেদের মতো একেক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। সেই সাথে কত গল্প, হাসি, দুষ্টুমিতে সবাইকে মাতিয়ে নিয়েছে। যেন কত দিনের পরিচয়। এই যে সবাই কি সুন্দর ছোট আপু, ছোট আপু বলে ডাকছে। নোভাকে আর পায় কে? সে তো সাত আসমানে উপরে ভেসে আছে। আর এই ভেসে যাওয়া ছবি টবি যদি একবার তার ফেজবুকে ছাড়ে, সেতো ভাই একেবারে ফেমাস। আর সেই খুশিতেই সে দু'ডানা মেলে উড়তে লাগল। 
নাবিলার অবশ্য কোনো ভাবান্তর নেই। বরং তার যতটুকু দরকার সব কিছু গুছিয়ে দিয়ে নিচে চলে এলো। ভরসন্ধ্যা থেকে মাছ মাংস নেড়েচেড়ে এভাবে থাকা আর তার পক্ষে সম্ভব হলো না। তাই এসেই সোজা গোসলে ঢুকে গেল।
অক্টোবর মাসের শেষ দিক। শীতের আগমনের আয়োজন তেমনভাবে চোখে না পড়লেও, এই যে গোসলের পর যেন ঠিক জানান দিয়ে গেল। তাইতো কাঁপা কাঁপা গায়ে ওড়না জড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো।
পুরো ফ্লোর নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ। সবাই ছাদে গিয়ে বসেছে। যে আসমানি খালা সন্ধ্যা হলে ঘুম ছাড়া ডানে বামে তাকিয়ে দেখেন না, তাকেও অপূর্ব টেনে নিয়েছে। খালা তো ভালোই মাকেও ডেকে নিয়ে গেছেন। অবশ্য আজ তার মা কোনো কারণে পুরোই ভদ্র, নম্র। কোন কিছুতেই কাউকে কিছু বলছেন না। বরং অপূর্ব একটু জোর করতেই নিজের মতো গিয়েছে, আগ বাড়িয়ে কথা না বললেও সমাজ যতটুকু রক্ষা হয়, ততটুকু ঠিক আনায়াসেই করছে।
নাবিলা আর যাবে কি না এখনো ঠিক করেনি। আগে এক কাপ কফি খেয়ে শরীর চটপটে হোক, তারপর দেখা যাবে। তাই নাবিলা কিচেনে গেল, নিজের মনমতো কফি বানাল। নিয়ে রুমে ফিরবে, তখনই কলিং বেল বাজল।
নাবিলা মনিটরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। অপূর্ব দাঁড়িয়ে আছে। ধ্যান জ্ঞান সব মোবাইলে রেখে মুখটা নিচু করে আছে। আজ তার পরনে থ্রি কোয়াটার প্যান্ট আর পাতলা কালো টি'শার্ট। গলার কাছ থেকে সেই টি'শার্টের এক কোণা বাচ্চাদের মতো টেনে মুখে দিয়ে আছে। 
নাবিলার কেন জানি হাসি পেল গেলো। এই ছেলে তার চেয়ে দু'তিন বছরের বড়। তবুও হাবভাবের মধ্যে এখনো বাচ্চামো রয়ে গেছে। নয়তো এই বয়সে সব ছেলেদের মাঝে একটু গুরুগম্ভীর, পরিণত একটা ভাব এমনিতেই ফুটে ওঠে। তবে এর মধ্যে ছিটেফোঁটাও নেই। বরং নিজের মতো, নিজের জীবনে বিন্দাস হয়ে আছে। 
একসময় নাবিলাও এমন ছিল। কে কি বলল, কে কি ভাবল তাতে কিছুই এসে যেত না। এখনও যে আসে যায় তা না, তবে আগের আনন্দটুকু নেই।
তখনই আবার কলিং বেল বাজল। দরজা খোলার কোনো তাড়া নাবিলার মধ্যে দেখা গেল না। বরং মনিটরের সামনে দাঁড়িয়েই আরাম করে কফিতে এক চুমুক দিল। ঠিক তখনই অপূর্ব সেই প্রথম দিনের মতো সোজা ক্যামেরার দিকে তাকাল। আজ নাবিলা চমকাল না। কিছু কিছু মানুষের কিছু কিছু আচরণ তাদের অচেতনেই মিলে যায়। অপূর্বের মধ্যেও সেই মিলটুকু আছে। আর আছে বলেই কফির মগ ধরা হাতটা আজও একটু কেঁপে উঠল। নাবিলা অবশ্য আজ জ্ঞান হারালো না, বরং নিজেকে সাথে সাথেই সামলে নিল। নিয়ে বড় একটা শ্বাস ফেলে এগিয়ে দরজা খুলে দিল।
খুলতেই অপূর্ব সোজা তার দিকেই তাকালো। তারপর সব সময়ের মতো বলল, -- স্যরি ফ্যারি টেইল কুইন! আপনার রুপকথার জগৎ এসে ডিস্টার্ব করার জন্য আমি মনের গভীর থেকে গভীর ভাবে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে বিশ্বাস করুন, অতি জরুরি একটা কাজ ছিল। আমি আমার প্রিয় গিটারটা নিতে এসেছি।
নাবিলা কোনো উত্তর দিল না। সে সরে দাঁড়ালো। অপূর্ব গিটার নিয়ে চলে যাবে, তাই দরজা লক করার জন্য আগের মতো আগের জায়গায়ই দাঁড়িয়ে রইল। তবে তার সব প্ল্যানে পানি ঢেলে অপূর্ব সোফায় গা এলিয়ে দিল। নাবিলা দেখল, আর এখন কি হবে, সে কেন জানি অনায়াসেই বুঝল।
-- নাবিলা?
নাবিলা আবারো বড় শ্বাস ফেলল। ঠিক মিলে গেলো তো। তাই ফেলে স্বাভাবিক ভাবেই ঘুরে তাকালো। 
অপূর্বর দৃষ্টি অবশ্য তার দিকে নেই। সে এখনো মোবাইলে ঢুকে আছে। সেখানেই তাকিয়ে বলল, -- কি যে যন্ত্রণায় পড়লাম, বলো তো! আমি বাথরুম সিঙ্গার। শখ করে গিটার টুং টাং বাজাই। এখন সবাই ঠেসে ধরেছে, গান শোনাতে হবে! তাও বাংলা গান। বাংলা গান আমি পারি ঠিকই, তবে দু'এক লাইন, সেই দু'এক লাইনই মাঝে মাঝেই আপলোড দিয়ে দিই। এখন হয়েছে জ্বালা। কি করা যায়, বলো তো? কোনো গানই তো মনমতো হচ্ছে না। আবার যেটা হচ্ছে, সেটা এত অল্প সময়ে মুখস্ত করা খুব টাফ। 
নাবিলা কি বলবে, কিছুই বুঝতে পারল না। তাকেই বা কেন বলছে, সেটাও মাথায় এলো না।
তবে অপূর্ব আগের মতোই বলল,
-- একটা সুন্দর, সহজ, চট করে মুখস্থ করা যায়, এমন একটা গানের নাম বলো তো। তুমি নাকি রাত জেগে জেগে গান শুনো। 
-- আমি জানি না। 
-- কি জানো না? 
-- কোন গান সহজে, চট করে মুখস্ত হয়। 
-- তা জানবে কেন? লবণ, মরিচের হিসাবে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছো। গান সম্পর্কে না জানাই স্বাভাবিক। আচ্ছা এদিকে এসো, দেখতো এই গানটা কেমন?
নাবিলা এগিয়ে গিয়ে কফির মগট টেবিলে রেখে বসল। তবে অপূর্বর পাশে না, বিপরীত পাশে। মাঝে টি'টেবিলের দূরত্ব। সেই দূরত্বের মাঝেই অপূর্ব মোবাইল বাড়িয়ে দিল।
নাবিলা হাত বাড়িয়ে নিল। নিয়ে স্ক্রিনে তাকাল। সেখানে শাওন আর মাহফুজের ভিডিও চলছে, সাথে " এক যে ছিল সোনার কন্যা, মেঘবরণ কেশ " গানটা চলছে। 
নাবিলা কিছু বলল না। তাদের দুটো রুম পাশাপাশি হলেও রুমের দরজা পড়েছে একেবারে ভিন্ন সাইডে। তবে বারান্দা একেবারে পাশাপাশি। অবশ্য শুধু এই বারান্দা না, উপরে নিচে এই বাড়ির প্রতিটা ফ্লোরের বারান্দা একই সাইডে, একইভাবে করা। সেই হিসেবে এই বারান্দা থেকে ঐ বারান্দার মাঝে শুধু একটা দেয়াল। তার মধ্যে মধ্যরাত, একেবারে শান্ত, নিশ্চুপ। সেই নিশ্চুপের মাঝে গিটার হাতে যতই নিজের আপন মনে গুনগুন করুক, শব্দ কানে যাবেই। তাই “বাথরুম সিঙ্গার” এর খেতাব এই ফাজিলকে দেওয়া যাচ্ছে না। বরং সুর তালের হিসেব ভালো মতোই জানা। তাহলে? গান নিয়ে যার এত নড়াচড়া, সে বুঝি বুঝবে না, কোন গানটা তার কণ্ঠে মানাবে? অথচ তার মতো আনাড়ীও ঠিক বুঝতে পারছে। 
নাবিলা আর ভাবল না, মোবাইল ফেরত দিয়ে বলল,
-- গান নিয়ে আমার তেমন ধারণা নেই। শোনার জন্য শুনি। তবে সব গানের আলাদা টোন আছে। সেই টোন সব কণ্ঠে ম্যাচ হয় না। তাই আমার মনে হয় অন্য কোনো অপশন চুজ করলে ভালো হয়।
-- ওকে! তোমার কাছে কোন অপশন আছে?
নাবিলা দু’পাশে মাথা নাড়ল। অপূর্ব সেই নাড়ানো মুখের দিকে আরেকবার তাকালো। তারপর বলল,-- তুমি কখনো কলেজ বা ভার্সিটির কোনো প্রোগ্রামে পারফরম্যান্স করেছো?
নাবিলা বিস্ময় নিয়ে তাকালো। অপূর্ব সেই বিস্ময় মাখা চোখে উপরে চোখ রেখে সাবলীল ভাবেই বলল,-- বর্তমানের এক ফেমাস ডিরেক্টর এর আন্ডারে আমার এক বন্ধু আছে। ঐ যে ছাদে, সাদা শার্ট গায়ে সে। সে কিন্তু আমার শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধু না। আমরা একই ব্যাচে, একই স্কুল থেকে এসএসসি দিয়েছি। অনেক দিন আগে, মানে তখন তুমি হয়ত, ফাস্ট ইয়ারের ছাত্রী হতে পারো আবার নাও পারো। আসলে সে শিওর না। তবে 
ভার্সিটির এক প্রোগ্রামে অসাধারণ অভিনয় করা এক মেয়েকে দেখেছিল। তার ধারণা তুমিই সেই মেয়ে?
নাবিলা উত্তর দিল না। অপূর্ব উত্তরের আশা করেও নি। বরং নিজের মতো বলেই ঝট করে উঠে দাঁড়ালো। দাঁড়িয়ে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বলল, -- বাই দ্য ওয়ে, আপনার এত ভ্যালুয়েবল সময়টুকু আমাকে দেওয়ার জন্য, থ্যাঙ্ক ইউ। 
নাবিলা আগের মতোই বসে রইল। অপূর্ব গিটার হাতে তার সামনে দিয়ে গেল। যেতে যেতে টি'টেবিল থেকে নাবিলার আধখাওয়া কফির মগও তুলে নিয়ে গেল। খুব স্বাভাবিক ভাবে। আর ঠিক তখনই নাবিলা খেয়াল করল, তার খোলা চুল, হাত কান সবই খালি। ঠিক যেন এই গানের মতো। আর এই গানটা তাকে শোনানোর জন্যই ছিল।
নাবিলা আর ছাদে গেল না। চুপচাপ বারান্দায় বসে রইল। তার জন্য খাবার নিয়ে এলো নোভা। খাবারটা রেখে খুশিতে গমগম করে বলল, -- ইশ, গেলে না কেন আপু! কত মজা যে মিস করলে, জানো? আর অপূর্ব ভাইয়ার গান! কত রিকোয়েস্ট করলাম একটা অন্তত বাংলা গানের জন্য, কিন্তু শুনলই না। তবে যেটাই গেয়েছে আপা, আমি তো পুরো ফিদা! দেখো… বলেই নোভা মোবাইলটা নাবিলার হাতে ধরিয়ে দিল।
নোভার কথায় নাবিলা হালকা হাসল। হেসে তাকাল হাতে রাখা মোবাইলের স্ক্রিনে। চাঁদের গা ভাসানো জ্যোৎস্নায়, অপূর্ব বসে আছে অপূর্বর মতোই। হাতে গিটার, চুলগুলো সবসময়কার মতো এলোমেলো। সেই এলোমেলো চুলে, নিজের ছন্দে গাইছে…
আই ইউজড টু কাউন্ট দ্য স্টারস ইন দ্য স্কাই
নাও আই কাউন্ট দা ওয়ান্‌জ ইন ইয়োর আইজ
আই ইউজড টু থিংক দ্যাট মাই প্যারাডাইস
উড সামডে কাম
নাও আই সি দ্যাট ইট্‌স অন ইয়োর লিপ্‌স
আই ইউজড টু ড্রিম অভ অ্যাডভেঞ্চার
নাও আই ড্রিম অভ ইউ
অ্যান্ড আই ডোন্‌ট নিড হেভেন
কজ আই ফাউন্ড ইউ
হেভেন ডাজ় ন্‌ট সিম ফার অ্যাওয়ে এনিমোর
হেভেন ডাজ় ন্‌ট সিম ফার অ্যাওয়ে
......
নাবিলার মোবাইল যে নেই, পুরো বাড়ির মানুষ শুনল দুপুরে। অর্ধেক রাত পর্যন্ত ছিল সবাই ছাদে। তাই ঘুম থেকে উঠেছে সবাই বেলা করে। নাবিল, অপূর্বর বন্ধুরা রাতেই চলে গেছে, তবে নোভার বান্ধবীরা ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে, নাস্তা করে বেরুতেই আসমানি খালা খবর ব্লাস্ট করল।
নাবিলা মোবাইল তো কখনো হাতে নিয়ে ঘোরে না, তার মোবাইল সবসময় থাকে বেড টেবিলের ওপর। আজ নেই। না দেখে জিজ্ঞেস করতেই নাবিলা খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলল। যেন কম দামের বাটন মোবাইল, গেছে যাক। এই আর এমন কি? 
তবে আসমানির কলিজা ধক করে উঠল। নাবিলা আম্মার মোবাইল! সে সবার জিনিস গুছিয়ে রাখে, তারই জিনিস নাকি রুম থেকে উধাও! এইডা কোন কথা? 
সে সবাইকে জানালো। তার পরিচিত এক হুজুর আছে, চাল পড়া আনবে, সেটায় না হলে দরকার পড়লে বাটি চালান দেবে। ঘর থেকে জিনিস গায়েব, আসমানি জীবন থাকতে এটা হজম করবে না।
নাবিল সোজা জানালো, তার বন্ধুরা এমন কাজ কখনো করবে না। নোভারও একই উত্তর। "তার বন্ধুরা কি ফকিন্নি, ভাতে মরা, যে সামান্য এক মোবাইল নিয়ে বেচে পেট ভরবে।
অপূর্ব অবশ্য বন্ধুদের হয়ে সাফাই গাইল না। তাছাড়া তার কোনো বন্ধু ভেতরে আসেইনি। তারা সোজা গেছে ছাদে, ছাদে থেকে সোজা আবার বাড়িতে। তবুও আগুনে ঘি ছিটানোর মতো বলল, -- সন্দেহ যেহেতু হচ্ছে, সবাইকেই তালিকায় রাখা উচিত। আমাকেও রাখবেন খালা। চাইলে ব্যাগ ট্যাগ সার্চও করা যেতে পারে। তবে খালা, আপনিও বাইরে না। বরং তালিকার প্রথম নাম আপনারই থাকা উচিত। কেননা নাবিলার রুমে সবচেয়ে বেশি আপনিই আসা যাওয়া করেন।
আসমানি এই কথা শুনেই মরা বাড়ির বিলাপ শুরু করল। সে গরিব হতে পারে, তবে নিমকহারাম না। আর নাবিলা আম্মার জিনিস! তার কোন জিনিসে যদি, সে কখনো দুষ্ট নজরে দেখেছে, আল্লাহ এই চোক্ষে এহনিই ঠাঁটা ফেলুক। 
রোকেয়ার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। নাজিম বিরক্ত মুখে দিল এক ধমক। তার ধমকে আসমানির বিলাপ কমবে দূরের কথা, আরো দু'ডিগ্রি বাড়ল।
আসাদুজ্জামান হাল ছেড়ে বললেন, -- আচ্ছা, সমস্যা নেই। দিল কাল তো আর ভালো না। নাবিলার বারান্দা দরজা, জানালা থাকে সবসময় খোলা। আজকাল চোরেরা তাকে তাকে থাকে। কাল কেউ তো আর অতো খেয়াল টেয়াল করিনি। পাইপ বেয়ে জানালা দিয়েও নিতে পারে। তাই এর পর থেকে সবাই সাবধান । আর এই কথা কাউকে জানানোর দরকার নেই, তোদের বন্ধু - বান্ধবীদের তো আরও না। সিম নতুন করে তুললেই হবে। আর মোবাইল সেটা আমার তরফ থেকে নাবিলার জন্য গিফট থাকবে। হয়েছে এবার। 
সবাই যার যার মতো ঠান্ডা হলেও আসমানি কিছুক্ষণ গজগজ করল। অপূর্বর নানির বাড়ির চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করল। তারাই তো খাইয়ে পড়িয়ে এমন ষাঁড় তৈরি করেছে। করে আল্লাহর নামে ছেড়ে দিছে। আসমানির চরিত্রে আঙুল, সে তো এই জীবনে ভুলবে না। 
নাবিলা নাবিলার মতোই রইল। আলাদা কোন ম্যথা ব্যথা তার দেখা গেলো না। তাছাড়া সে কোনো মোবাইল কেন্দ্রিক মানুষ না। সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো কিছুর সাথেই সে সংযুক্ত নেই। একটা সিম আছে, নাম্বার আছে। কখনো তো মুখ ফুটে কিছু বলে না। বাবা দুনিয়ার কাজে হেলাফেলা করলেও, তার মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড ঠিক সময়মতো করেন। তাই তার মোবাইলের ব্যবহার হয় টুকটাক ফোন আর মাঝে মাঝে শুধু গান শোনা। এর বাইরে আর কিছু নেই। 
তাই মোবাইল নিয়ে মাথা ব্যথা না থাকলেও, মায়ের হাবভাব তার চোখে বাজল। এক তো তার ওপর মাতব্বরি করে, নাবিল, নোভার বন্ধু-বান্ধবী এসেছে। তার মধ্যে আবার মোবাইল হারানো। এতক্ষণে পুরো বাড়িতে ভূমিকম্প হওয়ার কথা। তবে কাল থেকে একেবারে ঠান্ডা। সকালে নাস্তা করল চুপচাপ, চুপচাপ দুপুরের রান্নার আয়োজন করল। আর কেউ খেয়াল করছে কি না, নাবিলা বুঝতে পারল না, তবে তার কাছে একটু অন্যরকমই লাগল।
সেই অন্যরকম ঘটনা পুরো ক্লিয়ার হলো কিছু ক্ষণের মাঝেই। বড় মামা, বড় মামি, তাদের আন্ড বাচ্চা সব নিয়ে হাজির। সাথে খাবার টাবার দুনিয়ার কিছু নিয়ে। তারা এসেই জানালো, "সন্ধ্যায় তাদের এক আত্মীয় নাবিলাকে দেখতে আসবে। যাও সব কিছু গোছগাছ করো। আর হ্যাঁ এই মেয়েটাকেও একটু গোছগাছ করো। থাকে পাগলের মতো। ভালো কথা, এই আপা, আপনার না একটা সবুজ জামদানি আছে। সেটা পড়ালে কেমন হয়? "
নাবিলা চুপচাপ শুনল, শুনে মায়ের দিকে তাকালো। তার মোবাইল কোথায় গেছে, বুঝতে আর বাকি রইল না। 
চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন