রাজশাহীর কাটুয়াখালী থানার একটি গ্রাম—মুসলিমপুর। জায়গাটা পুরোপুরি শহরও নয়, আবার একেবারে সাদামাটা গ্রামও নয়। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া চলে, দু-একটা আধুনিক বাড়ি-বিল্ডিংও চোখে পড়ে, তবুও চারপাশে কোথাও যেন গ্রামের সেই চেনা গন্ধটা লেগেই আছে। তবে মানুষের চলাফেরা আর কথাবার্তায় শহুরে ভাবটা বেশ স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
মুসলিমপুরের বাজারে রাজশাহী সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়। দুপুর ঠিক একটা। টিফিনের সময় হওয়ায় স্কুলের সামনে ছাত্রছাত্রীদের ছোটাছুটি, হাসাহাসি আর কোলাহলে পুরো পরিবেশ যেন একটা মাছের বাজারে পরিণত হয়েছে।
সেই ভিড়ের এক পাশে ঘেমে একাকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিমি আর নুসাইবা। দুজনেরই মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, স্কুল থেকে বেরিয়ে তাদের গন্তব্য —পুরি আর ঝালমুড়ি।
স্কুলের গেটের সামনে প্রচন্ড ভিড় ভিড়ের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে দুজনে।
ভিড়টা একটু হালকা হলে নুসাইবা আর রিমি হাঁটতে হাঁটতে স্কুলগেট থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত একটা ছোট দোকানের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
যেতে যেতে রিমি ঠাট্টার সুরে বলল,
— সূর্য মামা, তোমার ভালোবাসায় তোমার ভাগ্নিরা সেদ্ধ আলু ভর্তা হয়ে যাচ্ছে! এবার অন্তত তোমার ভালোবাসা থেকে আমাদের মুক্ত কর।
রিমির কথা শুনে নুসাইবা হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই বলল,
— বান্ধবী, এটা সূর্য মামার ভালোবাসা নারে! আমার এক্সের রূপের আগুন।
তারপর দুজনেই একসঙ্গে হু হু করে হেসে উঠল।
এরই মধ্যে তারা দোকানের সামনে এসে পৌঁছাল। নুসাইবা দোকানদার মামাকে বলল,
— মামা, দুইটা পুরি, দুইটা সিঙ্গারা আর দুইটা পিয়াজু দেন তো।
তারপর রিমিকে বলল,
— আর দিনি, বেকারি দোকানের কাছ থেকে একটা স্প্রাইট আন।
রিমি ঘুরে দোকানের দিকে যেতে নেবে, ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল বেকারি দোকানের ভেতরে মাহির এর দিকে দোকানে ঢুকে কার সঙ্গে যেন কথা বলছে।
মাহিরকে দেখেই রিমি বিরক্ত নিয়ে বলে উঠল,
— দোস্ত! এই আবালের নাতি দোকানে কী করে? এই শালার থোবড়া দেখলে আমার ওর মাথা ফাটাইতে মন চায়!
নুসাইবা চারদিকে তাকিয়ে বলল,
— কার কথা বলছিস?
রিমি নুসাইবাকে টোকা দিয়ে বলল,
— ওই যে দেখ! দোকানের মধ্যে মাহিরের বাচ্চা দাঁড়িয়ে।
নুসাইবা একবার মাহিরের দিকে তাকাল। তারপর ঠোঁটের কোণে কুটিল হাসি ফুটিয়ে বলল,
— ওরে শালা! পুরাই মাখন! যা বান্ধবী, একটু বড় মানের লাড্ডু ফুটিয়ে দিয়ে আয়। আর কত অবহেলা করবি বল? বেচারা তোর জন্য কতই না পাগল! যা, তুই স্প্রাইট নিয়ে আয়। আমি এগুলা নিচ্ছি।
সাথে সাথে রিমি রাগী গলায় বলল,
— ওই বালডার কাছে আমি যাব না। তুই গিয়ে স্প্রাইট নিয়ে আয়। আমি এগুলো নিচ্ছি।
— আরে, ও তোকে কিছু বলে না, কিছু বলবেও না। তুই যা গিয়ে নিয়ে আয়।
রিমি এবার আরও বিরক্ত হয়ে বলল,
— দেখ নুসাইবা, আমাকে বিরক্ত করবি না। আমি তোকে বলেছি, তুই যা। আর না হলে স্পিড খাওয়া লাগবে না তোর!
রাগে গজগজ করতে করতে রিমি কথাগুলো, বলল
— ধুর! শালার এক একটার পিছে একেকটা সমন্ধির নাতি ঘুরে, আর আমার কাজ করতে হয় সব ।এখানে গেলে এর নাং এসে দাঁড়ায়, ওইখানে গেলে ওর নাং এসে দাঁড়ায়। আজকে একটা নাং নাই বলে!
তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
— কি কেরামতি দেখাইলা মাওলা! যেগুলোর পিছে নাং দাও, ভরপুর দিয়ে দাও। আর যাদের নাই, শালা তাদের পাত্তা দেওয়ারও কেউ নাই!
রিমি রাগ দেখিয়ে বলল,
— শালী, তুই যাবি না? তোরে লাথি দিয়া উগান্ডা পাঠিয়ে দিব!
নুসাইবা তাড়াতাড়ি বলল,
— আরে ভাই, দাঁড়া! যাইতাছি।
রিমি আবার বলল,
— আর শোন, আইসক্রিমও নিবি। তোর এক্সের রূপের আগুন আর নেওয়া যাচ্ছে না। আইসক্রিম খেয়ে একটু ঠান্ডা হতে হবে।
নুসাইবা সঙ্গে সঙ্গে কান্নার ভান করে বলল,
— ওগো! তোমার রূপের আগুন দেখো! কেউ সহ্য করতে পারে না!
কথাটা বলতে বলতে সে দোকানের দিকে হাঁটা ধরল। পেছনে দাঁড়িয়ে রিমি হেসেই চলল।
নুসাইবাকে দোকানের মধ্যে ঢুকতেই দেখে মাহির হেসে বলল,
— আরে আপু, তুমি একা? তোমার বান্ধবী কোথায়?
নুসাইবা আশেপাশে তাকিয়ে দেখল, তারপর ঠাট্টার সুরে বলল,
— কেন? আমি কি একা থাকতে পারি না? সারাক্ষণ কি আমার বান্ধবীকে নিয়ে ঘোরা লাগবে নাকি?
মাহির একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
— আরে না আপু, আমি ওইভাবে বলিনি। সব সময় দুজনকে একসাথে দেখি তো, তাই বললাম আরকি। ও, ভালো...
নুসাইবা আর কথা না বাড়িয়ে দোকানদারকে বলল,
— মামা, একটা স্প্রাইট দেন তো।
কিছুক্ষণ পর মাহির আবার সাহস করে বলল,
— নুসাইবা আপু, রিমির সাথে কি আমাকে একটু কথা বলিয়ে দিতে পারবে?
নুসাইবা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— কেন, বলতে হবে?
মাহির নিচু গলায় বলল,
— তুমি তো জানো, এমনকি সবাই জানে আমি রিমিকে কতটা ভালোবাসি।
__আমি বুঝেছি তোমার কথা, কিন্তু কী করব বলো? রিমি তো আর আমাকে পছন্দ করে না।
__তোমরা একটু ওকে বোঝাও না, যেন ও আমার সাথে একটু কথা বলে। আমি ওর সাথে শুধু ফ্রেন্ড হয়ে থাকব, প্রমিস। একটুও জ্বালাব না।
নুসাইবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
—রিমি কোন ছেলেদের সাথে কথা বলে না—এটা তুমি জানো। তাই এসব বলে কোন লাভ নেই, ও তোমার সাথে কথা বলবে না।
একটু থেমে বলল,
— ওর পিছে ঘুরার কী দরকার আছে, ভাই? দুনিয়াতে আরও অনেক মেয়ে আছে, ওদের পিছে ঘুরো।
মাহির মাথা নেড়ে বলল,
— দুনিয়াতে অনেক মেয়ে থাকলেও আমার রিমিকেই চাই।
নুসাইবা বিরক্ত হয়ে বলল,
— আবার ওই একই কথা!
মাহির তাড়াতাড়ি বলল,
— সরি আপু, সরি। ওকে শুধু আমার বন্ধু হয়ে থাকতে বলো। তাহলেই হবে।
নুসাইবা এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল,
— দেখো মাহির ভাইয়া, তুমি আমাদের সিনিয়র, তাই রিমি তোমাকে সম্মান করে কিছু বলে না। শুধু বলে দিয়েছে, তুমি শুধু শুধু ওর পিছে পিছে ঘুরো না।
মাহির আর কিছু বলার আগেই নুসাইবা দোকানদারের কাছ থেকে স্প্রাইটটা নিয়ে হাঁটা ধরল।
মাহির চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
তার দিকে তাকিয়ে ঈশান ঠাট্টা করে বলল,
— আরে মাহির! রিমি ভাবি খুব তাড়াতাড়ি তোর হয়ে যাবে। তুই চালিয়ে যা!
মাহির বলল,
— বলিস না! আর কতদিন যে পিছে ঘুরতে হবে!
ঈশান আবার বলল,
— আরে, মেয়েমানুষ না! মেয়েমানুষের ভাব একটু বেশি। এদের মনে এক থাকে আর বাইরে আরেক থাকে। চেষ্টা কর, ঘোরাঘুরি করতে থাক। কিছুদিনের মধ্যেই একসেপ্ট করে নিবে।
মাহির হতাশ মুখে বলল,
— একবার একসেপ্ট করুক না। তারপর দেখ, পিছে ঘুরিয়ে নেওয়ার মজা বোঝাবো। কত ধানে কত চাল, ভালো করে বোঝাবো।
এদিকে নুসাইবা রিমির কাছে এসে ওর হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
— শালার মাহির কিরে ভাই! এতবার তুই না বলিস, তারপরেও তোর পিছে পিছে ঘুরে। মনে হয় অনেক ভালোবাসে তোকে।
রিমি বিরক্ত মুখে বলল,
— ভালোবাসে না ছাই! আমার ওর মতো ছেলে একদম পছন্দ না।
নুসাইবা অবাক হয়ে বলল,
— কেন পছন্দ না? মাহির তো দেখতে খারাপ না। হ্যান্ডসামও আছে, আবার কথাবার্তায় ভদ্রতা বোঝা যায়। তাহলে সমস্যা কী?
রিমি বিরক্ত হয়ে বলল,
— তুই থামবি, মামুর বেটি? ওই আবালের নাতিরে আমার একটুও সহ্য হয় না। ওরে দেখলে আমার রাগ উঠে। আর ওর সাথে করব আমি প্রেম? কোনোভাবেই সম্ভব না।
নুসাইবা চুপ করে শুনছিল।
রিমি আবার বলল,
— তুই জানিস, ও বন্ধুদের নিয়ে সারাদিন ঘুরাঘুরি করে, সিগারেট খেয়ে বেড়ায়। ফালতু ব্যাডা একটা! ওই যদি ফেরেশতা হয়ে যায়, তারপরেও আমি ওরে ভালোবাসতে পারব না। এমনিতেই ওকে আমার ভালো লাগে না।
নুসাইবা হেসে বলল,
— থাক, থাক! তোকে আর বলা লাগবে না ভাই। আমি বুঝতে পারছি।
টুকিটাকি কথা বলতে বলতে দুজন ক্লাসরুমের ভেতরে ঢুকল।
ভেতরে ঢুকেই দেখল, আলসার দুই নাম্বার আম্মা ব্যাগের ওপর মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে আছে।
রিমি ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
— দেখ, দেখ! এই আলসারে নিয়ে কী করব বল তো? ২ মিনিট ব্রেক পেতে না পেতে ঘুমে তলায় গেছে!
সাথে সাথে দুজন ওর কাছে গিয়ে মাথায় হালকা থাপ্পড় দিল।
নুসাইবা বলল,
— এই এলসার দুই নাম্বার আম্মা! শালী, তুই রাতে কী করতে যাস? চুরি করতে যাস তুই?
রিমি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— আরে শালী যদি রাতে চুরি করতে যেত, তাহলে এত ফকিন্নি হইল কেমনে? এতদিনে তো বড়লোক হয়ে যেত!
__তাও এক কথা—শালি এক ফকিন্নি, আর ফকিন্নির সাথে সাথে আমরাও মিসকিন হয়ে যাচ্ছি!
মেয়েটার ঘুম জড়ানো কণ্ঠে গজগজ করে উঠল,
— আবে সর, মামুর বেটিরা! তোদের তাপে ঘুমিয়েও শান্তি নাই!
নুসাইবা হেসে বলল,
— এই আলসার ঘরের এলসা, তোর মাথায় কী আছে? এখন টিফিন টাইম। এখন যদি না খাস, তাহলে সারাদিন পেটের মধ্যে ইঁদুরের বাচ্চাগুলো দৌড়াদৌড়ি করবে। আগে কিছু খেয়ে নে।
মেয়েটা চোখ মেলতে মেলতে বলল,
— এই খাওয়া-দাওয়া আর পড়াশোনা কী করতে হয়েছিল ভাই? জঙ্গলের মধ্যে থাকতাম, আর জিঙ্গালালা হু হু করে দিন পার করে দিতাম। না আছে পড়াশোনা করার প্যারা, না আছে এসব খাওয়া-দাওয়া! শুধু চিল আর চিল!
সাথে সাথে তিনজন হেসে উঠল।
তারপর তিন বান্ধবী মিলে তিনজনের খাবার ভাগ করে খেতে লাগল।
খেতে খেতেই হঠাৎ রিমি বলল,
— দোস্ত, আমার না ইংরেজিতে খুব ভেজাল লাগে। তোদের মধ্যে কেউ যদি দ্বিতীয় অধ্যায়টা ভালো করে বুঝে থাকিস, তাহলে আমাকে বুঝিয়ে দিস।
সাথে সাথে নুসাইবা পাশের মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল,
— জুহি, তুই তো ইংরেজি ভালো পড়স। তুই কি দ্বিতীয় অধ্যায় বুঝতে পারছিস?
জুহি মাথা নেড়ে বলল,
— হ্যাঁ, আমি দ্বিতীয় অধ্যায় বুঝতে পেরেছি। কিন্তু স্যার যেভাবে বুঝিয়েছে, ওইভাবে বোঝাতে পারব না।
রিমি সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— শালী, নাটক করবি না! আজকে যদি স্যারের কাছে মার খাই, তাহলে তুইও মার খাবি।
জুহি বিরক্ত হয়ে বলল,
— ছাগলের দলগুলোর সাথে থেকে নিজেরে পাগল বানাচ্ছি আমি! আমি কতবার বলব, আমি বুঝতে পারলেও আমি বুঝাতে পারি না।
নুসাইবা বলল,
— তুই কেন পারবি না ভাই? পারতে হবে। আর না হয় লেখার সময় আমাদেরকে দেখাতে হবে।
জুহি বিরক্ত মুখে বলল,
— আবে মাদানাচোদার নাতিরা, আগের বার কী করছিলি মনে আছে? শালার ওইখানে আমি আমার বাপের নাম দিছি, তোরাও নিজের বাপের নামের জায়গায় আমার বাপের নাম বসাইছোস! যেখানে মায়ের নাম হবে, সেখানে আমি আমার মায়ের নাম লিখছি, আবালের ঘরের আবাল, তোরাও আমার মায়ের নাম লিখছোস!
একটু থেমে জুহি আবার বলল,
— তারপরে কী হইল? আমি পড়ছি ঠিকই, কিন্তু আমার দেখা দেখি তোরা লিখছিস দেখে তিনজনেরই মার খাওয়া লাগছে। তোদেরকে এতটুকু সেন্সও হয়নি যে বাপ-মায়ের জায়গায় নিজের বাপ-মায়ের নাম লিখতে হয়?
রিমি আর নুসাইবা চুপচাপ ওর কথা শুনছিল।
জুহি আঙুল তুলে বলল,
— মদনাচোদাগুলা! এবার যদি এরকম কিছু করছস, তাহলে আমি আর দেখাই লিখব না।
রিমি একটু লজ্জা পেয়ে বলল,
— ঐবার তারাতাড়ি যে খেয়ালই করিনি যে ভুল হয়ে গেছে। এবার পাক্কা খেয়াল করে লিখব।
জুহি বলল,
— আচ্ছা, ঠিক আছে।
তিনজন খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ক্লাসরুমের বাইরে বেরিয়ে এল।
স্কুলটা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। মাঝখানে বিশাল একটা মাঠ। মাঠের দুই পাশে দুটি বিল্ডিং—প্রথম বিল্ডিংটা দুইতলা, দ্বিতীয় বিল্ডিংটাও দুইতলা। জুহিদের ক্লাসরুম দ্বিতীয় বিল্ডিংয়ের একেবারে কোণার দিকের দোতলায়।
ক্লাসরুমের বারান্দা থেকে বিশাল মাঠটা স্পষ্ট দেখা যায়। এটাই স্কুলের পেছনের মূল মাঠ। আশপাশের এলাকার সবচেয়ে বড় মাঠগুলোর একটি। স্কুলের ছেলেদের ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, উৎসব আর খেলাধুলা—প্রায় সবকিছুরই আয়োজন হয় এই মাঠে।
তিন বান্ধবী বারান্দায় ইট দিয়ে তৈরি বাউন্ডারির ওপর বসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে গল্পে মগ্ন। আশেপাশেও আরও কয়েকটা গ্রুপ নিজেদের মতো করে আড্ডা দিচ্ছে।
নুসাইবা জুহিকে জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধের ওপর মুখ রেখে বলল,
— বান্ধবী, আজকে না ক্লাস করতে ভালো লাগছে না।
জুহি সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— সে তো কোনোদিনই ভালো লাগে না।
রিমি বলল,
— ক্লাস না করে কি আর উপায় আছে? স্কুলে আসছিলি ক্লাস করতেই হবে।
নুসাইবা আবার জুহির দিকে তাকিয়ে বলল,
— এই জুহি দোস্ত, একটা গান শোনাতো!
এটা মূলত তাদের প্রত্যেক দিনের রুটিন। টিফিন টাইমে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তিনজন একসাথে গানের আসর নিয়ে বসে থাকে, ম্যাম না আসা পর্যন্ত। শুধু ওরাই নয়, আশেপাশে যারা যে যার গ্রুপে থাকে, তারাও নিজেদের বান্ধবীদের নিয়ে গল্প করে, গান গায়।
গান আর গল্পে সবাই যখন মেতে আছে, তখন হঠাৎ ওপর থেকে দেখা গেল ম্যামকে আসতে ।
মুহূর্তের মধ্যেই সবাই ছুটে যার যার বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়ল।
একটা বেঞ্চে সাধারণত চারজন করে বসতে হয়। সেই সুবাদে প্রথমে নুসাইবা, তারপরে জুহি, তারপরে রিমি, আর সবশেষে জেসমিন বসে পড়ল।
ক্লাসরুমে ম্যাম ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই সবাই দাঁড়িয়ে ম্যামকে সালাম জানাল।
ম্যাম হাতের ইশারায় সবাইকে বসতে বললেন। সবাই বসে পড়তেই ম্যাম গিয়ে নিজের চেয়ারে বসলেন।
ম্যামের বিষয় ছিল চারুকলা। তবে এই বইটাকে ক্লাসের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই খুব একটা গুরুত্ব দিত না। বইটা ঠিকঠাক খুলে পড়ে—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই কঠিন।
ম্যাম সামনের বেঞ্চ থেকে একজনের কাছ থেকে বই নিয়ে বললেন,
— যেটা পড়া আছে, সেটা একবার রিভিশন করো। আমি পড়া ধরব।
সবাইকে পড়তে বলে ম্যাম সামনের বেঞ্চে বসা একটা মেয়ের সঙ্গে মেকআপ, মেহেদি আর সাজগোজ নিয়ে গল্প শুরু করে দিলেন।
কে আজ হাতে মেহেদি দিয়েছে, কে কী ফ্যাশন করে এসেছে—এসব নিয়েই যেন ম্যামের বেশি আগ্রহ।
ম্যাম নিজেও বেশ ফ্যাশনপ্রিয়। ঠোঁটে লিপস্টিক, স্টাইলিশ পোশাক, চুল রিবন্ডিং করা, কালারিং করা—সব মিলিয়ে নিজের সাজগোজ নিয়েও তিনি বেশ সচেতন।
ক্লাসে বই সবার সামনে খোলা থাকলেও কেউ আসলে বই নিয়ে পড়ছে বলে মনে হলো না। যে যার মতো গল্প করছে। ম্যামও সামনের মেয়েটার সঙ্গে গল্প করছেন। মাঝে মাঝে অবশ্য হঠাৎ চিৎকার করে বলছেন,
— সবাই চুপ করো! আস্তে আস্তে পড়ো!
এভাবেই কিছুক্ষণ চলার পর হঠাৎ ম্যাম বিরক্ত হয়ে বললেন,
— এবার সবাই চুপ করো। আমি পড়া ধরব।
ম্যাম মাঝখান থেকে একটা ছেলেকে দাঁড় করালেন।
— তুমি বলো তো, চারুকলার প্রাথমিক রঙ কয়টি এবং কী কী?
ছেলেটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। কোনো উত্তর বের হলো না।
ম্যাম ঠাস করে তার হাতের ওপর বেতের বাড়ি বসিয়ে দিলেন।
এরপর আরও দুই-তিনজনকে দাঁড় করিয়ে পড়া ধরলেন। কেউ ঠিকমতো উত্তর দিতে পারলনা । দু-একজনের হাতেও বেতের বাড়ি পড়ল।
হঠাৎ ম্যামের চোখ গিয়ে পড়ল জুহির ওপর।
— এই, এবার তুমি বলো।
জুহি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
ম্যাম আবার প্রশ্ন করলেন,
— বলো তো, চারুকলায় রেখা কাকে বলে?
জুহি কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। মাথার ভেতর উত্তরটা যেন আসছে, আবার আসছে না। শেষ পর্যন্ত সে কোনো উত্তর দিতে পারল না।
ম্যাম বিরক্ত হয়ে বললেন,
— পড়া না পড়ে শুধু গল্প করলেই হবে?
জুহি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
পরক্ষণেই ম্যাম তার হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিতে বললেন। জুহি অনিচ্ছায় হাত বাড়িয়ে দিল।
ঠাস!
হাতের ওপর বেতের বাড়ি পড়তেই জুহি দাঁতে দাঁত চেপে রইল।
পাশ থেকে রিমি আর নুসাইবা একে অপরের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ হাসি চাপতে লাগল।
জুহি মুখ কুঁচকে বসে বলল,
— বাল! এই ডিজিটাল নানিরে কে ধরে আনছে ভাই? এই ম্যামরে আমার দেখতেই ইচ্ছা করে না।
পাশ থেকে রিমি বলল,
— ঠিক কইছিস। এসব পাগলি-ছাগলি যে কই থেকে ধরে আনে, কে জানে! এইডা আসে ঠিকমতো পড়ায়ও না, আবার এসে এর ওর সাথে গল্প নিয়ে বসে থাকবে। আর শেষে বালের পড়া ধরে আর মার দিয়ে জায়গা বাল, বিরক্ত লাগে!
ওদের কথার মাঝেই স্কুলের কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়া ক্লাসরুমের দরজায় এসে দাঁড়িয়ে বলল,
— ম্যাম, আসতে পারি?
ম্যাম অনুমতি দিয়ে বললেন,
— আসো।
সাথে সাথে তিনজন ছেলে ক্লাসরুমে ঢুকল। তাদের মধ্যে একজন ছিল ভীষণ সুদর্শন।
চুলগুলো পরিপাটি করে আঁচড়ানো, চোখ দুটো যেন তীরের ফলার মতো টানটান, শরীর ছিপছিপে ও মেদহীন। স্কুলের শার্ট-প্যান্ট সুন্দর করে ইন করে পরা, পায়ে স্কুলের জুতো। পকেটে এক হাত ঢুকিয়ে ছেলেটা ক্লাসরুমে ঢুকতেই জুহি হা করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
ছেলেটা রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই রিমি আর নুসাইবা জুহিকে ধাক্কা দিয়ে বলল,
— দোস্ত, তোর ক্রাশ!
নুসাইবা তাকিয়ে দেখল, জুহি একেবারে বিমোহিত হয়ে নাহিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।
এটা দেখে রিমি আর নুসাইবা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে দিল।
রিমি ফিসফিস করে বলল,
—এবার মনে হয় অজ্ঞ হয়ে যাবে জুহি!
জুহি তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল,
— থামবি, শালীরা? উনি বুঝতে পারবে। চুপ কর!
রিমি মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— ওমা গো! টুরু লাভ!
নুসাইবা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— তাই তো! ভালুবাসা!
জুহি লজ্জা পেয়ে বলল,
— চুপ কর তোরা! ম্যাম দেখে ফেলবে।
নাহিয়ানকে দেখামাত্রই জুহির বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে দিয়েছে। নাহিয়ানকে দেখলেই তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন অস্থির হয়ে ওঠে। আর কোনো কারণে নাহিয়ান যদি তার কাছে বা আশেপাশে এসে দাঁড়ায়, তাহলে তো কোনো কথাই নেই—সেই জায়গাতেই জুহি যেন স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
দুই বছর আগে, যখন জুহি প্রথম এই স্কুলে আসে, তখন সে ক্লাস সিক্সে পড়ে। সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া জুহি তখন ভীষণ চঞ্চল ছিল। তবে ছোটবেলা থেকেই সে সবার থেকে একটু আলাদা—মূলত তার চোখ আর চুলের জন্য।
ছোটবেলা থেকেই জুহির চুল ছিল ভীষণ লম্বা, ঘন আর কালো। এই চুলের জন্যই ক্লাসরুমে জুহি ছিল বেশ জনপ্রিয়। হরিণের মতো টানা টানা চোখে হালকা কাজলে—তাকে দেখলে মনে হতো যেন কোনো শিল্পীর আঁকা নিখুঁত, কাল্পনিক এক কন্যা।
স্কুলে প্রথম যেদিন এসেছিল, সেদিন অবশ্য খুব বেশি ক্লাস হয়নি। কয়েকটা ক্লাস করেই ছুটি হয়ে গিয়েছিল। সেদিন স্যাররা নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন, পাশাপাশি স্কুলের নিয়মকানুন আর কিছু নির্দেশনা দেখিয়েছিলেন।
রিমি, নুসাইবা আর জুহি ক্লাস ওয়ান থেকেই একসঙ্গে ছিল। রিমি মূলত জুহির সমবয়সী ও জুহিদের বাড়ির কাছেই রিমিদের বাড়ি সেই সুবাদে তারা অনেক তারা অনেক ঘনিষ্ঠ, তাই সবসময় জুহির সাথেই থাকত। আর নুসাইবা থাকত জুহিদের এলাকার পরের এলাকায়।
সেদিন ক্লাস শেষ করে তিনজন স্কুলের পেছনের বড় মাঠের এক কোণে একটা গাছের নিচে বসেছিল।
জুহির পরনে ছিল হালকা গোলাপি রঙের একটা গাউন। লম্বা চুলগুলো সামনে থেকে সুন্দর করে সেতি করে দুই পাশে কিছু চুল বেণি করে কানের পেছনে ক্লিপ দিয়ে আটকে রেখেছিল। সেই বেণির দুই পাশে কিছু ছোট ছোট চুল বের করে রাখা ছিল। আর বাকি ঘন, কালো, লম্বা চুলগুলো পিঠের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। ছেড়ে রাখার কারণে চুলগুলো হাওয়ায় দুলে দুলে যেন ঢেউ খেলছিল।
জুহি পেছন থেকে চুলগুলো যত্ন করে টেনে এনে কোলে রাখল। তারপর তিনজন মিলে বসে গল্প করতে লাগল।
প্রথম দিন স্কুল কেমন লাগল, কোন স্যারকে কেমন লাগল এসব নিয়েই তাদের গল্প চলছিল।
এর মধ্যেই কোথা থেকে কয়েকজন ছেলে এসে জুহিদের কিছুটা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে টিস করতে লাগল।
একজন বলল,
— আরে মামা, দেখ! নতুন নতুন মাইয়াগুলা তো সেই! দেখতে পুরাই আগুন!
পাশ থেকে আরেকজন জুহির দিকে তাকিয়ে বলল,
— উফ মামা! একেকজনের চুলের বাহার দেখেই তো মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!
জুহি কথাটা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে চুলগুলো হাত খোপা করে বেঁধে নিল।
ঠিক তখনই কোথা থেকে একটা ছেলে এসে ওইসব বখাটে ছেলেদের উদ্দেশ্যে বলল,
— ভাইয়া, স্যার মনে হয় আপনাদের ডাকছে।
সাথে সাথে একটা ছেলে বলল,
— কোন স্যার ডাকছে?
ছেলেটা বলল,
— হাকিম স্যার।
আরেকজন বলল,
— হাকিম বস কেন ডাকছে?
— আমি জানি না ভাইয়া।
সাথে সাথে ছেলেগুলো চলে গেল।
তাদের এই কথোপকথনের মধ্যেই জুহি সেখান থেকে উঠে চলে গিয়েছে।
ছেলেটাও চলে যাওয়ার সময় জুহিদের দিকে একবার তাকাল। তারপর তার চোখ পড়ল জুহিরা যেখানে বসেছিল, সেই জায়গার দিকে।
সেখানে একটা পায়েল পড়ে থাকতে দেখে ছেলেটা কাছে গিয়ে পায়েলটা তুলে নিল। তারপর সঙ্গে সঙ্গে জুহিদের দিকে ফিরে বলল,
— আপুরা, একটু দাঁড়ান।
রিমি তাকিয়ে বলল,
— আমাদের বলছেন?
ছেলেটা পায়েলটা হাতে তুলে বলল,
— জি আপু। আপনারা যেখানে বসেছিলেন, ওইখানে এটা পড়ে ছিল। মনে হয় সোনার হতে পারে .. মানে, আপনাদের কারও পায়েল।
রিমি জোরে বলল,
—এই সোনার পায়েলটা জুহির!
সাথে সাথে জুহি বলে উঠল,
— হুম, এটা আমার পায়েল।
ছেলেটা পায়েলটা জুহির হাতে দিয়ে বলল,
— এর পর থেকে এইসব জিনিস সাবধানে রাখবেন।
একটু থেমে ছেলেটা আবার বলল,
— আর একটা কথা বলি?
জুহি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল,
— কী?
ছেলেটা একটু ইতস্তত করে বলল,
— আপনি এমনিতেই সুন্দর। আপনার কালো চুলে আপনাকে যে কোনো ছেলে দেখলেই হয়তো আপনার দিকে একটু বেশি তাকাবে। তাই চুলগুলো একটু বেঁধে আসবেন। না হলে এই স্কুলের যতটা সুনাম, এই মাঠের ততটাই বদনামও আছে। আশেপাশে বিভিন্ন রুমের মানুষ থাকে। সবার মানসিকতা তো আর এক রকম না। আপনি অনেক সুন্দর, যে কেউ আপনাকে দেখে টিস করতে পারে।
জুহি ছেলেটার কথা শুনে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,
— আচ্ছা, মনে থাকবে ভাইয়া।
ছেলেটা মাথা নেড়ে বলল,
— আচ্ছা, আল্লাহ হাফেজ।
— আল্লাহ হাফেজ।
ছেলেটা চলে যেতেই জুহি ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
— ছেলেটা ভালো, তাই বল।
রিমি সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— আরে শালী! দেখ, কোনো মতলবে পিছু নিয়েছে হয়তো!
জুহি মাথা নেড়ে বলল,
— আরে না! উনি চাইলে কিন্তু সোনার পায়েলটা নিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু কী সুন্দর আমাকে দিয়ে দিল। আর আমি খেয়াল করেছি, ওই ছেলেগুলোকে এই ছেলেটাই ওইখান থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। ছেলেটা আসলেই অনেক ভালো রে।
নুসাইবা বলল,
— ঠিক বলছিস। আর ওই ছেলেগুলো তোকে টিস করে কথা বলছিল, তাই ওদের সরিয়ে দিয়ে তোকে এসব বলল।
রিমি মাথা নেড়ে বলল,
— হুম, ভালো ভালো।
জুহি আর ওরা দুজন হাসতে হাসতে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করল।
স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে জুহি তার আম্মু আয়শা বেগমকে সালাম দিল।
— আসসালামু আলাইকুম, আম্মু।
আয়শা বেগম মেয়ের সালামের জবাব দিয়েই জিজ্ঞেস করলেন,
— প্রথম দিন স্কুল কেমন লাগল? বই দিয়েছে?
জুহি ছোট করে বলল,
— হুম, আম্মু।
তারপর জুতো খুলে রেখে নিজের রুমে চলে গেল। টেবিলের ওপর ব্যাগটা রেখে জামাকাপড় ছেড়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।
কিছুক্ষণ পর জুহির আম্মু চিৎকার করে বললেন,
— একদম এখনই শুয়ে থাকবি না! যা, গোসল কর!
তারপর আবার বললেন,
— এত বড় ধাড়ি মেয়ে হয়েছিস, তাও কোনো কিছু শিখলি না স্কুল থেকে! মানুষ এসে পরিষ্কার হয়, গোসল করে, খাওয়া-দাওয়া করে। আর এই মেয়ে স্কুল থেকে এসেই শুয়ে থাকে!
আয়শা বেগম চেঁচিয়ে আবার ডাকলেন,
— এই জুহি! জুহি, উঠ! গোসল কর। তারপর খেতে আয়। এই জুহি, জুহি, জুহি রে!
জুহি বিরক্ত স্বরে আওড়াল,
— আসি মা! দাঁড়াও, আমি এখন ক্লান্ত, বাল!
আয়শা বেগম রেগে বললেন,
— তাই বলে এখন গোসল না করে, না খেয়ে শুয়ে থাকবি? আমার রাগ উঠাস না। তাড়াতাড়ি গোসল করে খেতে আয়, জুহি!
কিন্তু জুহি তবুও শুয়েই রইল।
শুয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করেই সেই ছেলেটার কথা মনে পড়ল।
চট করে ব্যাগ থেকে পায়েলটা বের করল জুহি।
তারপর আবার বিছানায় শুয়ে পায়েলটা হাতে নিয়ে দেখতে লাগল।
কিছুক্ষণ চুপচাপ পায়েলটার দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে ভাবল,
‘আসলেই ছেলেটা খুব ভালো।’
চলবে.........