#উপন্যাস
#সিনিয়র_আপু
#লেখক_জুঁই শাহ্
#পর্ব : ০২
রক্ত দেওয়া শেষ ৩০ মিনিট পরেই ইনারা চৌধুরীর জ্ঞান ফিরেছে। এখন মোটামুটি সুস্থ সবার সাথে কথা বলছে। ইনারা চৌধুরীর কাছে আছে ইশানী চৌধুরী ও তার হাসবেন্ড। শাহজাহান চৌধুরী গিয়েছে ঔষধ ও খাবার কিনতে। ইয়াশ মায়ের সাথে কথা বলে বাসায় চলে গিয়েছে। সারারাত জেগেছে ছেলেটা আবার সকালেও তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠেছে তার উপর এতো ঝর গেলো। ওর বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন তাই ইয়াশ বাসায় চলে গিয়েছে। নুসরাত কে হসপিটালে আনা হয়নি তাই ও বাড়িতে খাবার রান্না করেছে। মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে।ছোট বেলা থেকেই নুসরাত এখানে বড় হয়েছে ওর বাবা মা কেউ নেইন।বেঁচে আছে কি না তাও জানা নেয়।ছোট থেকে যানে এরাই ওর পরিবার। তাই এই পরিবারটার প্রতি মেয়েটার খুব মায়া। ইয়াশ বাসায় ঢোকার সাথে সাথে আম্মার কথা জিজ্ঞাসা করেছে। আম্মার জ্ঞান ফিরেছে সুস্থ আছে শুনে কান্না থামিয়েছে একটু মেয়েটা। ইয়াশ রুমে ঢুকে ফোন খুলতেই দেখলো তানিশা ৯৯+ কল মেসেজ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে ইনবক্স। ইয়াশ তানিশাকে কল বেক করলো।
"এতো কল দিয়েছিস কেনো কোনো প্রোবলেম?"
"কই থাকিস ইশু তোকে কতোবার কল করেছি তোর হিসাব আছে "
"ঘুমাইছিলাম রে কতো রাতে বাসায় ফিরেছি ঘুমের ভিতর থেকে কি কল ধরা সম্ভব বল। আচ্ছা রাগ করিস না দোস্ত আর এমন হবে না সরি"
"হয়ছে থাক আর বলতে হবে না আসল কথায় আসি! "
"হুম বলেন ম্যাম "
"তামিমের কালকে বার্থডে আজকে রাতে আমরা কিছু সারপ্রাইজ প্লান করবো তোকে আমাদের সাথে থাকতে হবে "
"সিয়র দিতে পারবো না রে মম অসুস্থ হসপিটালে ভর্তি করে রেখেছি। তাও চেষ্টা করবো এটেন্ড করার "
"কি হয়েছে আন্টির। আর তুই ছাড়া আমরা প্লান করবো কিভাবে তুই তো আমাদের মাস্টার মাইন্ড "
"আর বলিস না সকালে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছে প্রচুর ব্লিডিং হয়ছে সেন্স ছিলো না। একটু আগে সেন্স ফিরেছে কথা বলে মাত্র বাসায় এসেছি এখন ফ্রেশ হয়ে একটু খেয়ে জিমে যেতে হবে।"
"এতো কিছু হয়ে গেলো আর তুই আমাদের জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না ইশু"
"সরি বাবা ফোন রুমেই ফেলে রেখে গেছিলাম মনে ছিলো না। "
"মনে থাকবেও না তোর। কোনদিন বিপদের সময় তোর কাছে ফোন থাকে। যাই হোক আরেকটা কথা? "
"হুম বল।"
"তুবা কালকে আমেরিকা থেকে ফিরেছে। তুই নিশ্চয় শুনেছিস। আজকে রাতে ও আসবে আমাদের ক্লাবে। "
"হ্যাঁ শুনেছি। আসুক সমস্যা কি আজকে সব পুরোনো ফ্রেন্ড সার্কেল মিলে আড্ডা দিবো।"
"আচ্ছা থাক রাতে দেখা হবে ঠিক সময় উপস্থিত হবি কিন্তু। "
"ওকে আল্লাহ হাফেজ।"
বলেই ইয়াশ কল কেটে দিয়েছে। তানিশা ইয়াশের ফ্রেন্ড। ইয়াশদের একটা ৭ জনের ফ্রেন্ড গুরুপ আছে। তাদের ভিতর শুধু দুজন মেয়ে তানিশা আর তুবা। আর বাকি গুলো ছেলে। ইয়াশ ফ্রেশ হয়ে একটু নাস্তা খেয়ে হালকা ঘুম দিয়েছে। একঘুমে দুপুর বেলা উঠেছে কিছু খেয়ে তারপর চলে গিয়েছে জিমে। নুসরাত সবার জন্য খাবার রান্না করে ড্রাইভারকে নিয়ে হসপিটালে গিয়েছে। ইনারা চৌধুরী অনেকটা সুস্থ হয়েছে শাহজাহান চৌধুরী স্ত্রীকে হসপিটালে রাখবে না বাসায় নিয়ে যাবে প্রয়োজন পড়লে দুটো নার্স রাখবে তাও হসপিটালে রাখবে না। ডক্টর চাইছিলেন অন্তত একটা দিন হসপিটালে রাখতে। কিন্তু শাহজাহান চৌধুরীর জোরা জুরিতে শেষ মেষ রাজি হয়েছে রিলিজ দিতে। সন্ধায় সবাই বাসায় ফিরবে। ইয়াশ কেও ফোন করে জানিয়েছে শাহজাহান চৌধুরী। তাই ইয়াশ আর দেখতে আসে নি। দেখতে দেখতে সন্ধা হয়েছে সবাই রেডি হয়েছে বাসায় আশার জন্য। ডক্টর বার বার বলে দিয়েছে ইনারা চৌধুরীকে বেড রেস্টে থাকার জন্যা। সবাই হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরেছে ইয়াশ এখনো জিম থেকে ফেরেনি।
_____________________________________________________
সন্ধা হয়ে এসেছে প্রাই সাদে কাপর মেলা আছে। হাফিজা বেগম রান্নার কাজে ব্যস্ত। ছোট মেয়ে হুমাইরাকে ডেকে বললেন,
"হুমাইরা হিয়া কি টিউশনি থেকে ফেরেনি এখনো। "
সবে মাত্র বাসায় ঢুকেছে হিয়া। হিয়া বলল,
"হ্যাঁ আম্মু আমি এসেছি। "
"সাদ থেকে কাপড় গুলো তুলে আনো তো আমি রান্না চরাইছি যাইতে পারতিছি না। "
"আচ্ছা আম্মু "
বলেই হিয়া সাদে চলে গিয়েছে কাপড় তুলতে। সন্ধার মৃদু বাতাসের স্পর্শ পেয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে হিয়া। মৃদূ বাতাস তার হৃদয় স্পর্শ করে যাচ্ছে। হিয়া মনে মনে ভাবছে,
"আজ বাবা থাকলে হয়তো তার জীবন আরেকটু সুন্দর হতো অন্তত পক্ষে ওর কাজ করা লাগতো না অনার্স কম্পিলিট করতে পারতো। বয়স তো কম হলো না ৩০ এর কাছাকাছি চলে গিয়েছে। সমাজের লোকজন রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে দিচ্ছে না বিয়ে বিয়ে করে মাথা খাচ্ছে। ভাইটা এবার অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে ভাইয়ের ভবিষ্যৎ এখনো সাজিয়ে দেওয়া বাকি। বোন মেট্রিক পরিক্ষা দিয়েছে কলেজে ভর্তি করে দিতে হবে। সংসার খরচও চালাতে হয়। একা মানুষ এতো কিছু সামলানো বড়ই কঠিন। "
ভাবতে ভাবতে কখন যে গাল বেয়ে পানি নেমেছে হিয়ার খেয়ালই নাই। মাগরিবের আজান দিচ্ছে তাড়াতাড়ি করে সব কাপড় তুলে নিচে নেমে গিয়েছে হিয়া।
চলবে..............