দীর্ঘ ২০ বছর একসাথে সংসার করার পর অবশেষে বিরতি নিয়ে নিলেন শামিমা মির্জা আর আজিজ কবীর। বেশ কিছু বছর ধরেই সমস্যা পেরিয়ে আসছিলেন তার বৈবাহিক জীবনে। সমস্যা সমাধানের সকল চেষ্টা যেন বার বারই বৃথা হতে থাকে। তাদের এক মাত্র কন্যা অন্তিকা কবীরের মুখের দিকে তাকিয়ে দুজনেই বার বার সিদ্ধান্ত নিত সমাধান করে ফেলবে। কিন্তু সমাধানের চাইতে আবারো সবকিছু গোলমাল পাকিয়ে যেত। নিজেদের ইগো, ঝগ*ড়া ঝামেলা, একে অন্যকে অপমা*ন এসব কোনো কিছুই মেনে নিতে পারছিলেন না তারা। এক পর্যায়ে অন্তিকা নিজেও অ*তিষ্ট হয়ে গেল। আর কতো? এক ছাদের নিচে বসবাস করা দুজন মানুষ দুজনকে আর কিভাবে অপমা*ন করতে পারে! কিসের অভাব তাদের? টাকা পয়সা কোনো কিছুর অভাব নেই। বাবা ভালো একটা কর্পোরেট অফিসে জব করে, মাসে বেতন ও পায় ভালো। তারা থাকেও নিজের বাড়িতে। অন্তিকা বুঝতে পারল, টাকা পয়সা দিয়ে সব কেনা গেলেও শান্তি কেনা যায় না। সম্পর্কের পিছনে কেবল অঢেল পয়সা ঢাললেই হয় না। যত্ন,ভালোবাসা, সময়, সম্মান এসব কিছুও দিতে হয়। যার ঘাটতি রয়েছে তার মা আবার বাবার সম্পর্কে। ঘাটতির পরিমাণ এতোটাই আকাশচুম্বী হয়ে গেল যে এখন তাদের সম্পর্ক বিলীনের পথে।
অবশেষে মা বাবার ডিভো*র্সে সে নিজেও যেন নিস্তার পেলো। নিজেকে কেমন সুখি সুখি মনে হতে লাগল। বিপত্তি লাগল এই নিয়ে, সে থাকবে কোথায়? কার কাছে? অন্তিকার বয়স ১৮ বছর ৭ মাস। সে এডাল্ট! নিজের সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার তার আছে। মা কিংবা বাবা কারো কাছেই সে যাবে না। মায়ের কাছে যাবে না, কারণ মা এখানে থাকবেন না। তিনি যাবেন নানু বাড়িতে। সেখানে গেলে তাকে ব*ন্দি জীবন কাটাতে হবে। অন্যদিকে বাবাকে রেহাই দিতে চায় সে। মায়ের সাথে এতোদিন লড়া*ই করে তার বাবা ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। বরাবরই বাবার প্রতি ভালোবাসা যেন বেশি তার। কিন্তু একজনের কাছে গিয়ে আরেকজনকে কষ্ট দিতে প্রস্তুত নয় সে।
সমস্যাটা সহজ করে দিল তার বড় মামা জামাল উদ্দিন মির্জা। অন্তিকা কবীর এবার খুলনা ছেঁড়ে ঢাকায় যাবে। খুলনায় তাদের নিজস্ব বাড়িটার নাম ছিলো কবীর ভবন। সেই বাড়িটা বিক্রি করে ফেলা হয়েছে। দুতলা এই বাড়ির সাথে অন্তিকার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে ছিল। ছোটবেলা থেকেই এখানে মানুষ হয়েছে সে। অথচ আজ, আজ এসব থেকে দূরে পালি*য়ে যেতে হবে তাকে। ভাগ্য যেন সেখানেই টেনে নিয়ে যেতে চায় তাকে।
ভার্সিটি পরিক্ষায় ঢাকাতেই চান্স পেয়েছে সে। ঢাকায় যাবে অথচ বড় মামার কাছে থাকবে না এটা হতেই পারে না। বড় মামা হোস্টেলে থাকার অনুমতি কখনো দিবে না তাকে। মির্জা বাড়ির একমাত্র মেয়ে সে। তার তিন মামা আর বড় খালার কারোরই কোনো মেয়ে নেই। সবার আদরের আর একমাত্র ছোট মেয়ে হওয়ায় মির্জা বাড়ির সকলে মাথায় তুলে রাখে তাকে। ওদিক থেকে বাবার দিকে কেউই নেই তার। বাবা একা মানুষ ছিলেন, যতদিন দাদা দাদী ছিলেন সব ছিলো। বছরের ব্যবধানে দু'জনেই মা*রা যাওয়ায় এখন বাবা ভীষণ একা। তাই বোধহয় বাবার প্রতি মায়াটা বেশি তার।
কিন্তু অন্তু এবার ঢাকায় যাবে। অন্তিকা কবীরকে আদর করে সবাই অন্তু বলে ডাকে। সবার মুখে অন্তু নামটা শুনতে ভালোই লাগে তার। কিন্তু? কিন্তু একজনের মুখে নামটা শুনলেই বুকটা কেঁপে উঠে। অন্তিকা এখন ঢাকায় যাবে, মির্জা বাড়িতে থাকবে। সেখানে থেকে পড়াশোনা করবে। মেনে নিতে পারবে সেই মানুষটি। মনে হয় না পারবে? মেনে নেওয়ার মানসিকতা সেই কবেই শেষ হয়েছে। সম্পর্ক চু*কে গেছে তার সাথে কিন্তু মামার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার সাহস নেই তার। এই জীবনেও বোধহয় পারবে না। কখনো পারবে না।
অন্তিকা ক্লান্ত, ভীষণ রকম ক্লান্ত। তার নাটকীয় জীবনের ১৮ টি বছর পার করল কিভাবে? ভালো কোনো স্মৃতির কথা মনে পড়ে না। ওই যখন মামাদের সাথে থাকত কিংবা মা বাবার যখন সম্পর্ক ভালো ছিল তখনকার অনেক কথাই আবছা আবছা মনে পড়ে। ওগুলোই তার জীবনের সুখের তালিকায়। আর.. আর হচ্ছে ওই মানুষটা। যখন ওই মানুষটার সাথে সব ঠিক ছিলো তখনকার কথা মনে পড়ে। তবুও আবছা আবছা। ছোট ছিলো তো, খুব ছোট্ট। এরপর, এরপর তারা বড় হলো, একদিন কি না হলো সে এসে খুব জোরে তার গালে চ*ড় মে*রে বসল। ধম*কে উঠে বলল, “আর কখনো আমার সামনে আসবি না তুই অন্তু! কখনো আসবি না! আসলে তোকে মে*রে ফেলব। একদম মে*রে ফেলব!”
ছোট্ট অন্তু তখন বুঝেনি কিসের এতো রাগ, কেন এসব? সব তো ঠিকই ছিল তাহলে? হঠাৎ কি এমন হলো, তুহিন ভাই! তুহিন ভাই কেন এতো রে*গে গেলো? সেই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছিল সে। আর পাবার পরেই নিজেকে গুটিয়ে নিলো তুহিন ভাইয়ের থেকে।
আজকের রাতটা, এই রাতটাই খুলনা শহরে তার শেষ রাত। আগামীকাল সে চলে যাবে, একাই যাবে। মা মামাদের সাথে যাবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আর বাবা… বাবা যাবেন গন্তব্যহীন কোনো পথে। ঘোরাঘুরির অনেক শখ ছিলো বাবার। তিনি কি তাহলে ঘুরতে যাবেন কোথাও?
শেষবারের মতো ব্যাগপত্রের সবকিছু ঠিকঠাক করে নিয়ে নিল। ইশ কতো গুলো ব্যাগ, কতোখানি স্মৃতি, আকাশচুম্বী রা*গ অভিমান নিয়ে এই শহর থেকে বিদায় নিচ্ছে সে। শুকনো ঢোক গিলে কম্পিত চিত্তে ব্যাগের চেইন আটকাতে গেল অমনি দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে মনোযোগ ছুটে গেল। বাবা এসেছেন! এই শব্দ চিনে সে। অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠলো,
“বাবা!”
দরজা খুলে আজিজ কবীর উঁকি দিলেন। অন্তু চোখ নামিয়ে নিল। এখন বাবার মুখের দিকে তাকালেই কষ্ট হবে তার। কান্না আসবে। অন্তু আর কাঁদতে চায় না। বাবা ভিতরে প্রবেশ করে বললেন,
“সব গুছিয়ে নিয়েছিস অন্তু?”
অন্তু মাথা নাড়ল। তিনি এগিয়ে এলেন। ব্যাগের উপর নীল রঙের চশমার বাক্স রেখে বললেন, “এটা নিতে ভুলে গেলি তো।”
অন্তু ঠোঁট কামড়ে চশমার বাক্সের দিকে তাকিয়ে রইল। বাবা কখনো কিছু ভুলেন না। কখনো না। কাঁপা কাঁপা হাতে চশমার বাক্স নিয়ে ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখল সে। চোখের চশমা ঠিক করে নিল। বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। বোধহয় ভাবছেন কি বলবেন? কি বলা যায়? ইশ, কতো দ্রুতই না তাদের কথা ফুরিয়ে গেল।
বেশ অনেকক্ষণ পর বাবা একটু নড়েচড়ে উঠলেন। অন্তুর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “শোন মা, ওখানে ভালো ভাবে থাকবি। মামাকে জ্বালাত*ন করবি না একদম। মন দিয়ে পড়াশোনা করবি!”
অন্তু মাথা দুলাল। বাবা এসে বসলেন বিছানার উপর। পরনে তার সাদা লুঙ্গি আর সাদা সেন্টু গেঞ্জি। কতোটা ক্লান্ত লাগছে থাকে। দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন বিছানায় বসে। অন্তু একবার বাবার দিকে ফিরে তাকাল। এই বুঝি বাবাকে শেষ দেখা তার। তিনি নিজেই বললেন,
“হ্যাঁ রে অন্তু, তোর মামা বাড়ি থেকে তো ভার্সিটি অনেক দূরে। কষ্ট হবে না তোর?”
“ভার্সিটি বাস আছে বাবা।”
“যাক ভালো হলো। কষ্ট কম হবে। ভার্সিটি বাসগুলো কোথায় দাঁড়াবে না। আরামে যেতে পারবি তাই না।”
তার দিকে ফিরে স্মিত হেসে কথাগুলো বললেন বাবা। অন্তু হাসার চেষ্টা করল। ব্যাগপত্র বিছানা থেকে নামিয়ে বাবার পাশে বসে বলল,
“তুমি কি করবে বাবা? আমি আর মা তো চলে যাবো। তুমি কোথায় যাবে?”
বাবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে জবাব দিলেন, “এখানেই থাকব কিছুদিন। যারা আসবে বাড়িটা তাদের বুঝিয়ে দিব। এরপর ব্যাগ পত্র নিয়ে বেরিয়ে যাব কোথাও। আমার আর কি একা মানুষ!”
হুঁ হুঁ করে বুকটা কেঁপে উঠল অন্তুর। একা মানুষ! আহ কি স্বার্থপ*র তারা। মা আর মেয়ে মিলে বাবাকে একা করে দিল। একদম একা! অন্তু পরিস্থিতি সামলাতে বলল,
“তুমি ঘুরতে যাবে বাবা? তোমার না ঘুরার অনেক শখ। আগে তো পারতে না এখন ঘুরতে যাবে। দেশ বিদেশ ঘুরবে, জঙ্গল ঘুরবে, পাহাড় দেখবে সমুদ্র দেখবে। ভালো হবে না বাবা!”
আজিজ কবীর মেয়ের দিকে ফিরে মলিনভাবে হাসলেন। বললেন, “হ্যাঁ ভালোই হবে!”
অন্তু হেসে বাবার কাঁধে মাথা রাখল। আর কেউ কথা বলল না তারা। চুপটি করে সে পড়ে রইল বাবার কাঁধের কাছে। বাবার গায়ের ঘ্রাণ। ঘ্রাণটা কি সুন্দর। প্রায় বেলী ফুলের মতো। স্নিগ্ধ, মিষ্টি!
মায়ের ঘরের কাছে এসে কড়া নাড়ল অন্তু। ঘরে ঢুকেই দুই মামাকে পেলো। মায়ের সব জিনিসপত্র ব্যাগপত্রে ঢুকিয়ে সবে কাজ সারলেন। এই দুই মামা হচ্ছেন ফয়জুল মামা আর আসগর মামা। দুজনেই অন্তুকে অসম্ভব ভালোবাসে। মা ডেকে বললেন,
“তোমার সব গোছানো শেষ অন্তু?”
অন্তু মাথা নাড়ল। বাবার জন্য তার মন যতই কাদুক না কেন? মা কে ভীষণ রকম ভ*য় পায় অন্তু। মায়ের অবাধ্য হবার মতো মেয়ে নয় সে। মায়ের এক ডাকে সে সোজা হয়ে দাঁড়াল। ফয়জুল মামা বললেন, “অন্তু তুই আমাদের সাথে চল। কয়েকদিন ঘুরে এরপর ঢাকায় চলে যাস।”
আসগর মামা বললেন, হ্যাঁ আমি তোকে ঢাকায় পৌঁছে দিব। দুদিন গ্রামে ঘুরে তারপর যাস।
অন্তু মাথা দুলিয়ে না করল। শামিমা মির্জা বললেন, না ভাইজান। ওর ভার্সিটির ক্লাস শুরু হয়ে যাবে। প্রথম প্রথম তো ক্লাসে যেতে হবে।”
দুই মামাই মাথা দুলিয়ে বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো। ছোট অন্তু কতো বড় হয়ে গেল আমাদের। এখন ভার্সিটিতে পড়ছে। হ্যাঁ সেই ছোট অন্তু আমাদের।”
বলেই আসগর মামা এসে মাথায় হাত বুলালেন। অন্তু মলিন হাসল।
শামিমা মির্জা বললেন, আচ্ছা ভাইজান আপনারা গিয়ে খেতে বসে পড়ুন। অন্তু তুমি খেয়েছো?”
অন্তু আবারো মাথা নাড়ল। শামিমা মির্জা ভ্রু কুঁচকে বললেন, “বাবার সাথে?”
অন্তু মাথা নিচু করে নিল অপরাধি*র মতো। শামিমা মির্জার চোখ মুখ শ*ক্ত করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষে*প করল তার উপর। ফয়জুল মামা বলে উঠলেন, যাক ভালোই হয়েছে। অনেক রাত হয়ে গেছে অন্তু। ভালোই করেছিস।”
আসগর মামা বললেন, “আচ্ছা যা এখন ঘুমাতে যা।”
অন্তু মাথা দুলাল কিন্তু পা বাড়াল না। কারণ মায়ের অনুমতি না পেয়ে এই ঘর থেকে সে বেরুতে পারবে না। মামা দুজন বেরিয়ে যেতেই মা এগিয়ে এলেন। ভ*য়ে অন্তুর হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল। সে চোখের চশমা ঠিক করল। শামিমা মির্জার নজর আরো তী*ক্ষ্ন হলো। মেয়েটার সাথে বাবার মিল ভীষণ। এরা দুজনেই চশমা পড়ে। চশমা ছাড়া দু'জনেই অন্ধ।
শামিমা মির্জা ঠান্ডা স্বরে বললেন, তোমার বাবা কি বললেন?
“কোন ব্যাপারে?”
“এখন কি করবে সেই ব্যাপারে? বিয়ে করবে তো আবার? কচি কচি মেয়ে দেখে বিয়ে করবে। এইজন্যই তো ছেড়েছে আমায়। নতুন মা পাবে তুমি। ভালোই তো হলো, এই মা কে তো পছন্দ হয় না। ভালো না এই মা। এবার পছন্দমত একটা মা দেখে বাবার বিয়েটা দিয়ে দিও।”
অন্তু কিছু কঠিন কঠিন কথা মনে মনে ঠিক করল। ভাবল বলবে, বাবার ব্যাপারে একটা আজেবা*জে কথা বলবে না তুমি। কিন্তু মায়ের মুখের দিকে তাকাতেই তার গলার স্বর নিচে নেমে গেল। মুখ দিয়ে কোনো শব্দই বের করতে পারলেন না।
রেগে হন হন করে বিছানার কাছে গিয়ে বসলেন তিনি। গ্লাসের পানি ঠকঠক করে শেষ করে বললেন, মামার বাড়িতে ভালো ভাবে থাকবে অন্তু। একদম জ্বালা*বে না তাকে। আমি যেন না শুনি তোমার জন্য ওখানে কোনো সমস্যা হয়েছে।”
“আচ্ছা!”
“আর হ্যাঁ তুহিনের থেকে দূরে দূরে থাকবে। কখনো ওর সামনে যাবে না। ওর সাথেও কোথাও যাবে না। একা একা তো কখনোই না বুঝলে।”
অন্তু বিড় বিড় করে বলল, “যদি মামা যেতে বলে তবুও যাবো না!” ও কথা শামিমা মির্জার কানে পৌঁছাল না। তিনি আচমকা উঠে দাঁড়াতেই ভ*য়ে অন্তু কেঁপে উঠল। হনহন করে সামনে এসে বলল, “তুহিনের থেকে দূরে দূরে থাকবে। বেদ্দ্যব একটা ছেলে। আদব কায়দা কিছু শিখেনি। পুরো হয়েছে তার মায়ের মতো। একদম ওর সাথে মিশবে না।”
অন্তু মাথা দুলিয়ে বলল, “আচ্ছা।”
“হ্যাঁ আর তোমায় কিছু বললে আমায় বলবে। থাকো কিছুদিন মামার বাড়ি। আমি তো তোমাকে সেখানে পাঠাতামই না। নেহাত বড় ভাইজান নিজে যেচে বললেন তাই না করতে পারিনি। ব্যাপার না কিছুদিন থাকো সেখানে। এরপর আমি দেখছি কি করা যায়। বুঝলে তো?”
অন্তু উত্তর আগের মতোই। শামিমা মির্জা ফোঁ*স ফোঁ*স করছেন। রাগ*টা বাবার উপর, ঝার*ছে অন্তুর উপর। বললেন, “ওখানে থাকবে বলে ভেবো না একা ছেঁড়ে দিয়েছি। মির্জা বাড়ির মেয়ে কিন্তু তুমি। নামের সাথে কবীর থাকুক আর যাই হোক। সেসব এখন আর কোনো কাজের না। মির্জা বাড়ির মান সম্মান নিয়ে খেলো না। আমার নজর কিন্তু সবসময় তোমার উপর থাকবে। তাই সাবধানে। বাবার মতো বেশি তিড়িং বিড়িং করো না। বুঝলে!”
অন্তু শুকনো ঢোক গিলে অপরাধি*র মতো মাথা নাড়ল। মায়ের শাস^ন শেষ হলে এবার ঘর থেকে বের হয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সিঁড়ির কাছেই পেয়ে গেল আসগর মামা কে। অন্তুকে দেখেই হাতের দুটো কোণ আইসক্রিম বাড়িয়ে দিলেন তিনি। হেসে উঠল অন্তু। এতোক্ষণের ধক*ল যেন এবার শেষ হলো।
ছাদে দাঁড়িয়ে মামা আর ভাগ্নি। অন্তু মনোযোগ দিয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে। এটা শেষ হলে ওটাও খাবে। আসগর মামা কিছুক্ষণ তার দিকে চেয়ে থেকে আকাশের দিকে তাকাল। খেতে খেতে অন্তু গালে ঠোঁটে মাখিয়ে নিল। চোখের চশমা ঠিক করে মামার দিকে তাকিয়ে ফট করে হেসে উঠল। ছোট মামা পাঞ্জাবির পকেট থেকে রুমাল বের করে তার মুখটা মুছিয়ে বললেন, মা খুব বকে*ছে না।”
“তোমার বোন তো সবসময় আমাকে বকাঝকা করে। সাথে বাবাকেও করে।”
“ও হয়েছে আমার মায়ের মতো।”
“একদম ঠিক বলেছো। সারাক্ষণ ধম*ক দেয়। তুমি তাদের সহ্য করো কিভাবে? আমি তো একজনকে নিয়েই পারি না।
মামা হেসে উঠলেন। তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, এরকম করে বলে না অন্তু। মায়ের মেজাজ ঠিক নেই, মনটা খারাপ তাই বকেছে। তুই সব কথা মনে নিস না।”
“হ্যাঁ, মাথাতেও নিই না।”
“বজ্জা*ত মেয়ে। আস্তে খা। আইসক্রিম কি পালিয়ে যাচ্ছে।”
“না না ওটা গলে যাবে।”
“আহা, মা কে বলিস না আবার।”
অন্তু প্রথম আইসক্রিম শেষ করে দ্বিতীয় টা ধরল। বলল, পাগল নাকি। কে যায় বাঘে*র সামনে।
“ভাইজানের ওখানে সাবধানে থাকবি। কোনো সমস্যা হলেই আমায় বলবি। ফোন নাম্বার আছে না।”
“মুখস্ত আছে। এই তো ঠোঁটের আগায়।”
“ব্যস হলো তো। দরকার পড়লেই বলবি। ঠিক আছে।”
অন্তু বাচ্চাদের মতো আইসক্রিম খেতে খেতে মাথা নাড়ল। মামা দেখছেন, ইশ ছোট্ট অন্তুটা কখন এতো বড় হয়ে গেল!
#চলবে…..
#আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌸
#মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
#সূচনা_পর্ব
[ আসসালামুয়ালাইকুম! নতুন করে আবারো সাজালাম। এবার কিছু চরিত্রে ভিন্নতা আসবে। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে। রেসপন্স ভালো হলেই ২য় পর্ব দিব! ধন্যবাদ 💗]