ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমায় দিও একটু খানি ছুয়ে

৮ম পর্ব

লেখক: মিমি মুসকান

আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺

মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
পর্ব_৮
সকাল সকাল অন্তুর ঘরের দরজার সামনে ঝুলছে বিরাট এক তালা। জামাল উদ্দিন মির্জা বেশ কিছুক্ষণ তালার দিকে তাকিয়ে রইলেন। হঠাৎ ঘরের দরজায় এমন তালা দেবার কারণ তিনি খুঁজে পেলেন না। তালা দেবার কারণ কি হতে পারে? ভাবতে ভাবতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলেন। তুহিন ও ভার্সিটিতে যাবার জন্য সবে তৈরি হয়ে ঘর ছেড়ে বেরুলে। পরনে কালো রঙের শার্ট। ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে সাদা রঙের টি শার্টটি। কাঁধে ব্যাগ আর হাতে হেলমেট নিয়ে বেরিয়ে এলো সে। ঘর থেকে বেরিয়েই পাশের দরজায় নজর দিল। বড় সাইজের এক তালা ঝুলতে দেখে ভ্রু কুঁচকে নিল সামান্য। রহস্য ভেদ করতে সময় লাগল না। দরজা খোলা থাকলে সে নির্ঘাত ভেতরে গিয়ে ওই সাউন্ডবক্স দোতলার বেলকনি থেকে নিচে ছুঁ*ড়ে ফে*লে দিত। অন্তু নামের বাঁদরটা বাগরা দিতে এলে তাকেও ছুঁ*ড়ে ফে”লে দিত। কোনো সমস্যাই ছিলো না। কানি কে যতটা গাধা ভাবে ওতোটাও গাধা সে নয়। তালা দেখেই সেটা বোঝা যাচ্ছে। তুহিন আড়চোখে তালার দিকে ফিরে নিচে নেমে এলো। 
সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে দেখল অন্তু টেবিলে বসে নাস্তা করছে। বাবার কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞেস করছেন, 
“অন্তু, তোমার ঘরে তালা কেন ঝুলছে?" 
অন্তু পাউরুটি কামড়ে বলল, “চো*র যদি আসে মামা, তাই! 
"চোর? মির্জা বাড়িতে চোর আসবে অন্তু? কি বলো এসব? 
অন্তু পা দুলিয়ে দুধের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলল, এসেছিল তো কাল।
জামাল সাহেব আঁতকে উঠে বলেন, কখন?
“গভীর রাতে। আমার স্বপ্নে। দেখলাম এসেই আমার জামাকাপড় সব লু*ট করে নিয়ে যাচ্ছে। সাথে তোমার সাউন্ডবক্স ও। তাই তালা মেরে রেখে এসেছি।" 
জামাল সাহেব কিছুটা চমকে গেলেন। অন্তুর কথার আগামাথা তিনি বুঝতে পারছেন না। অন্তু আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তুহিনকে দেখে থেমে গেল। মাথা নিচু করে খাওয়ায় মনোযোগ দিল। জামাল সাহেব তালা রেখে এবার ছেলের দিকে নজর দিলেন। সোফায় বসে তুহিন জুতোর ফিতে বাঁধছে। অন্তুর খাওয়ায় প্রায় শেষের দিকে। তিনি বলে উঠলেন, 
“নাস্তা করবে না? 
তুহিন জবাব দিল না। অন্তু ব্যাগ নিয়ে তৈরি বের হবার জন্য। তিনি ফের বললেন, অন্তুকে সাথে করে নিয়ে যাও।
তুহিন জুতোর ফিতে বেঁধে সবে বাইকের হেলমেট হাতে নিল। ভ্রু কুঁচকে বলল, “কেন? তোমার গাড়ির কি হয়েছে?
"দুদিন পর পর গাড়িটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাই সার্ভিসে পাঠিয়েছে। আসতে দু'দিন লাগবে। অন্তুকে সাথে করে নিয়ে যাও। ও তো শহরের কোনো রাস্তাঘাট চিনে না।
অন্তু চোখের চশমা ঠিক করে ভাবছে, এই হিটলা*রের সাথে একসঙ্গে বাইকে যাবে সে! কোনমতে না? যদি তাকে মাঝরাস্তায় ফে*লে চলে যায় তখন? যদি বাইক সমে*ত নদীর পানিতে ছেঁড়ে দেয়, কিংবা পা*চার করে দেয়? অন্তু আড়চোখে তাকাল। তুহিন চোখে মুখে বি*রক্ত এনে বলল, আমি পারব না। 
অন্তুও সাথে সাথে বলল, আমি একা যেতে পারব মামা। বাইকে আমি যাবো না।
জামাল সাহেব একবার ছেলেকে দেখছেন একবার অন্তুকে। বলে উঠলেন, “কেন? ওকে নিয়ে যেতে কি সমস্যা?
তুহিন হেলমেট পরে বলল, আমার বাইকে আমি যাতে তাকে উঠাই না।
অন্তু মুখ ভেংচি কেটে মিনমিনিয়ে বলল, ইশ, মনে হয় আমি যাবার জন্য ম*রে যাচ্ছি। আমিও যেতে চাই না আপনার সাথেওই ভাঙা*চোরা বাইকে
“কি আশ্চর্য! ও কিভাবে যাবে?
জামাল সাহেবের প্রশ্নের জবাবে তুহিন বলল, “উবার বুক করে দাও। এখুনি চলে আসবে তোমার দুলারি কে নিয়েও যাবে। 
“একা একা আমি ওকে….
তুহিন আর কিছু শোনার জন্য দাঁড়ালো না। হনহন করে বেরিয়ে গেল। অন্তু বলল, মামা রাখ। আমি একাই যেতে পারব। এভাবেও তার সাথে আমি যাব না। যেই রা*গ তার! 
জামাল সাহেব আর কথা বাড়ালেন না ।তিনি উবার বুক করার ভাবনায় মগ্ন হলেন। 
—-----
তুহিন ভার্সিটিতে পৌঁছে গেছে অনেকক্ষণ। এখনো দাঁড়িয়ে গেটের সামনেই। নিহাম আর আরমান তার কাছে এসে বলল, 
“দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আয় ক্যান্টিনে যাব।
আরমান বলল, হ্যাঁ চা খাব। মাথা ধরেছে।
তুহিন বাইকের উপর বসে বলল, সিগারেট দে তো একটা।
নিহাম বলল,‌এখানেই খাবি।
"দে না।
নিহাম সিগারেট বের করল। আরমান ম্যাচলাইট দিল। তুহিন সেখানে বসেই সিগারেট ধরাল। সিগারেটের ধোঁয়া পু*ড়ে অর্ধেক হবার আগেই আরেকটা বাইক এসে থামল গেটের সামনে। তুহিন ভ্রু কুঁচকে ফিরে তাকাল। অন্তু বাইক থেকে নামছে। কাঁধের উড়না নিচে গড়িয়ে পড়ার আগে আগেই আবারো কাঁধে তুলে নিল। তুহিন পিটপিট চোখের পাতা ফেলে দেখছে। নিহাম ঘাড় বাঁকিয়ে বলল,‌ এটা আমাদের সামির না? 
আরমান তুহিনের কাঁধে হাত রেখে বলল,‌ হ্যাঁ সামিরই তো। 
তুহিন চো*য়াল শক্ত করল। সামির মাথার হেলমেট খুলে হেসে হেসে অন্তুর সাথে কথা বলছে। অন্তু খোলা চুলগুলো কানে গুঁজে বলল, 
“আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ সামির ভাই। আপনি না আসলে সত্যি সত্যি বিপদে পড়ে যেতাম। বুঝতে পারি না আমি যেই গাড়িতে চড়ি সেই গাড়িই কেন হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়। 
সামির দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল, কি জানি। তোমার শনির সাথে নির্ঘাত গাড়ির সঙ্গে দু*শমনি আছে। দেখি তোমার ফোনটা দাও।
অন্তু ফোন হাতে নিয়ে বলল, ফোন?
সামির তার হাত থেকে ফোন নিয়ে নাম্বার সেভ করে বলল, নাম্বারটা সেভ করে দিলাম। যদি আবার বিপদে পড়ো তাহলে অবশ্যই স্মরণ করবে।
“এমনভাবে বলছেন যেন তখনি সুপারম্যানের মতো এসে হাজির হবেন। 
"হতেও পারে। নাও ধরো।
অন্তু ফোনটা হাতে নিয়ে বলল, আবারো ধন্যবাদ।
"শুকনো মুখে এতো ধন্যবাদ দিলে হবে?
“আচ্ছা ক্লাস শেষে আপনাকে চা খাওয়াবো।
"শুধু চা?
"চা‌‌ সিঙ্গাড়া!
সামির মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ চলবে! 
অন্তু হেসে উঠে। যাক তুহিন ভাইয়ের মতো তার সব বন্ধু গুলো হিট*লার নয়। কিছু কিছু ভালো মানুষ ও আছে। 
এদিকে তুহিন ঠোঁট দিয়ে জিভ ভিজালো। হাতের আর্ধেক সিগারেট ছুঁ*ড়ে দূরে ফেলে‌ চলে গেল। আরমান বলে উঠলো, “ফেলে কেন দিলি? না খেলে আমাকেই দিতে পারতি।
নিহাম হেসে বলল, তুহিনের মাথা হ*ট হয়ে গেছে।
"হট হয়ে গেছে মানে?
নিহাম হাসল জবাব দিল না। 
ক্যান্টিনে গোল হয়ে বসেছে তারা ৫ জন। নিহাম, আরমান, সামির, ত্রিয়ানা আর তাহিয়া। ত্রিয়ানা গরম গরম সিঙ্গাড়া হাতে নিয়ে বলল, 
“কিরে সামির খাচ্ছিস না কেন? 
" খাবো পরে।
“পরে খাবি মানে?
আরমান এসে খোঁচা মেরে বলল, 
"তোর আর অন্তুর মাঝে কি চলে সামির? 
" আজব কি আবার চলবে? 
“দেখলাম বাইকে করে নিয়ে এলি।
"অন্তু মানে কে? অন্তিকা! তুহিনের বোনটা? 
বলে উঠে ত্রিয়ানা। তাহিয়া সিঙ্গারা কামড়ে নিহামের কানে ফিসফিসিয়ে বলে, কেসটা কি?
"পুরো গণ্ডগোল! জগাখিচুড়ী বলতে পারিস।
"রান্না করছে কে?
“আমাদের তুহিন ভাই।
তাহিয়া চোখ দুটো বড় বড় করে বলল, " সত্যি? 
নিহাম চোখ বুজে মাথা দোলায়। সামির পানির গ্লাস হাতে নিয়ে অন্তুকে নিয়ে আসার গল্প বলছিলো। তৎক্ষণাৎ আগমণ ঘটে তুহিনের। ঝড়ে*র বেগে এমন ভাবে আসলো যে সামিরের গায়ে ধা*ক্কা লাগল। পানির গ্লাস উলটে শরীরে পড়ল সবটা। সে থমতম খেয়ে বলল, কিরে? 
তুহিন পিছন ফিরল। বলল,‌ কি হয়েছে? 
‘কি করলি?
“কি করলাম? 
তুহিন যেন কিছুই বুঝতে পারছে না। আকাশ থেকে পড়ল। সামির তুহিনের বেপ*রোয়া ভঙ্গি দেখে চুপসে গেল। সে জানে তুহিন একটা আধ*পাগল। কখন কি করে কিছু ঠিক থাকে না। দাঁড়িয়ে জামা ঝারতে ঝারতে ওয়াশরুমে চলে গেল সে। তুহিন এখনো সেখানে দাঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে দেখছে তাকে। 
#চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন