ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমায় দিও একটু খানি ছুয়ে

১৫তম পর্ব

লেখক: মিমি মুসকান

আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺

পর্ব_১৫
মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
সাদা শার্টটা খুলে মেঝেতে ছুড়ে ফেলল সে। তার বুকের পাশে লাল হতে শুরু করেছে। পুড়*ছে, জ্বল*ছে! গ*রম চায়ের ঝাঝ কি এতো সহজেই চলে যাবে। না কখনো না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটু আগে পুড়ে যাওয়া ক্ষ”ত জায়গা দেখছে। কি করবে বুঝতে না পেরে তোয়ালে নিয়ে সোজা ঢুকে গেল বাথরুমে। ঝর্ণার কল ছেড়ে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল সময়ের পর সময়। কতোক্ষণ? অনেকক্ষণ! ততোক্ষণে অন্তু দরজার কাছে এসে দরজা ধাক্কাল। ডাকল! কেউ সাড়া দিল না। হাতে তার মলম। সেও বুঝতে পেরেছে কতো বড় বোকামি করে ফেলেছে। অতঃপর নিশ্চুপে দাঁড়িয়ে রইল দরজার সামনে। আড়ি পাতল দরজায়। 
ওদিকে এতোক্ষণ বাথরুমে থাকা তুহিন মির্জা এসব থেকে তখনো পুরোপুরি অগত্যা। জ্বা*লা কমছে। শরীরের জ্বা”লা না হয় কমলো। কিন্তু হৃদয়ের? দরজা খুলে বেরিয়ে আসতেই বাইরে দরজা ধাক্কানোর শব্দ। সাথে অন্তুর আওয়াজ। তুহিন মির্জা সরাসরি নিয়ে দরজা খুলে ফেলল। মুখোমুখি হলো দুজনের, সাথে চোখাচোখি! অন্তু দ্রুত ঘরের ভেতর ঢুকে গেল। তার ছোটাছুটি দেখে তুহিন চমকে গেল। অন্তুর নজর গেল উদাম বুকের দিকে। বা দিকটা! ইশ, লাল হয়ে গেছে একদম। সে এগিয়ে এসে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে উঠলো, 
“আমি দেখতে পাইনি তুহিন ভাই। বিশ্বাস করুন। সরি! খুব সরি। আমি…
বলতে গিয়ে নিচে নজর পড়ল। সাথে সাথে চুপসে গেল। হাতের মলমের কোটা চেপে ধরল। এবার তুহিন ভাইকে পুরোপুরিভাবে পর্যবেক্ষণ করল। বাথরুমের খোলা দরজা দেখতে পেয়ে হা হয়ে রইল। সবেই গোসল সেরে বের হয়েছে। পুরোপুরি গোসল ও বলা যায় না আসলে। কেবল ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে ছিল যাতে করে বুকের জ্বা*লা কমে। কিন্তু একি? অন্তু যে তার বুকের ব্যাথা বাড়িয়ে দিল। মোটা চশমার আড়ালে তার অশ্রুসিক্ত আঁখি দুটো আড়াল হয়নি তার থেকে। 
পরনে কেবল একটা তোয়ালে। কোমর থেকে নিচ অবধি ঢেকে গেল। উদাম দেহে পোড়া জায়গা ছাড়াও অন্যদিকে অন্তুর নজর যেন অবিচরণ। কোথাও তাকিয়ে শান্তি পাচ্ছে না সে। মনে অস্বস্তি। সামনে তাকাই তুহিন ভাইয়ের মুখোমুখি। চুলগুলো ভিজে, টিপ টিপ করে পানি পড়ছে। সেই পানি তার চিবুক বেয়ে বুকের সামনে গড়িয়ে পড়ছে। প্রসস্থ বুকের দুই পাশে বাদ দিয়ে মাঝে যেই সরু লম্বা খাদ হয়েছে সেখানে গিয়ে মিশছে। ওহ সাথে আরেকটা জিনিস। পেনডেন্ট। একদম মাঝ বলাবর ঝুলছে পেনডেন্টটা। অন্তু শুকনো ঢোক গিল। তুহিন ভাই এগিয়ে আসছে তার দিকেই। অন্তু পিছিয়ে যাচ্ছে। অতঃপর দেওয়ালের সাথে গিয়ে মিশল। তুহিন দেওয়ালে হাত রেখে ভর দিয়ে দাঁড়াল। ঝুঁকে পড়ল অন্তুর দিকে। বেচারা অন্তু এবার সংকুচিত হয়ে গেল। উপরে তাকাতে পারছে না। নিচে তাকাতে পারছে না। যেখানেই তাকাবে সেখানেই তুহিন ভাইয়ের লোভাতুর শরীর যেন তাকে টানছে বলে মনে হচ্ছে। অন্তুর ইচ্ছে করল চশমা খুলে ফেলতে।
“কি জন্য এসেছিস?" 
অন্ধকার রুমে আলো জ্বলছে আধো আধো। লাইট গুলোও বোধহয় এরকম। আলোগুলোও শুভ্র নয়। সোনালী আভার মতো। সাথে অন্ধকার যেমন মিশে গেছে। এরমধ্যে তুহিন ভাইয়ের গলার স্বরে তার লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেল। অন্তু এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে জবাব দিল, 
“মলম নিয়ে এসেছিলাম। ওই পো*ড়া জায়গায়….
তুহিন মির্জা হেসে উঠল। তার হাসির ধরণে শরীর কাঁপছে। সাথে কাঁপছে সেই পেনডেন্টও। সেটা থেকে আওয়াজ ও আসছে। টুং টুং একটা শব্দ বোধহয়। 
“মলম লাগিয়ে দিবি পোড়া জায়গায়? এতো ভালোবাসা কবে থেকে শুরু হলো অন্তু?" 
অন্তু এবার মাথা উঁচু করল। চোখাচোখি হলো। তুহিন সরে দাঁড়াল। বলল, 
“চলে যা। কিছু লাগবে না।" 
অন্তুর কান্না পেল। কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, 
"চলুন তাহলে ডাক্তারের কাছে যাই।
“বললাম তো লাগবে না।
"অনেকখানি তো পু*ড়ে গেছে।
“তুই তো সেটাই চাইতি। 
না অন্তু আর পারছে না। ভেতর থেকে কান্নাটা বার বার বেরিয়ে আসছে। চেপে রাখা যাচ্ছে না। সে আবারো বলল। স্বর কম্পিত, 
"আমি চাইতাম?”
"কেন ভুল বলেছি। তোরা মা আর বেটি মিলে তো আমাকে মেরে*ই ফেলতে চাস। হয়তো আগু*নে পুড়িয়ে মার*বি নাহলে ফাঁ*স দিয়ে মার*বি। আল্টিমেটলি আমায় মে*রেই তোরা শান্ত হবি।
“বললাম তো ভুলে হয়েছে। আমি ইচ্ছে করে..
তুহিন ফের কাছে আসতেই দেওয়ালে ঠেসে দাঁড়াল অন্তু। কথা বলতে ভুলে গেল। তুহিন কিছু বলছে না দেখে চোখ উপুড় করে তাকাল। চোখাচোখি হলো। অন্তুর অশ্রুসিক্ত আঁখি জোড়া এবার লাল হয়ে উঠেছে। কার্ণিশ বেয়ে দু ফোঁটা জল ও গড়িয়ে পড়ল। ঠোঁট দুটো কাঁপছে। হয়তো কান্না চেপে রাখতে চাইছে। তুহিনের বুকে ধক করে লাগল। একবার ইচ্ছে করল টেনে বুকে নিয়ে নিক। একদম মিশিয়ে নিক তার সঙ্গে। আরেকবার! আরেকবার মনে চাইল ওই ওষ্ঠজোড়া! ছুঁয়ে দেখুক! না না, চোখ বন্ধ করে নিল।‌ এই মেয়ে একদিন তাকে মেরে*ই ছাড়বে। তার চোখে নিজের সর্ব*নাশ দেখতে পাচ্ছে সে। একদম! তুহিন সরে দাঁড়াল। বলল, 
“যাবি না!”
"না যাবো না। আমি এখান থেকে কোথাও যাব না। আপনি সামনে বসুন। আমি একটু মলম লাগিয়ে দেই। ব্যা*থা কমবে। 
জবাব আসছিলো না। অন্তু ভেবেছিল তুহিন ভাই এবার তাকে আবারো ঝা*রি দিবে। সেই ভাবেই মনঃস্থির ছিল। আচমকা সে মলিন কণ্ঠে বলে উঠলো, “আচ্ছা দে!" 
অন্তু মূহুর্তে চমকে উঠল। তার ব্রেইন কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। সে প্রথমে কৌটা খুলে একটু মলম বের করল। আঙুল ছুঁইয়ে একটু লাগিয়ে দিল সেই পো*ড়া জায়গায়। তুহিন চোখ বন্ধ করে নিল। অন্তু তার দিকেই ঝুঁকে আছে। দুটো মানব মানবী ছাড়া ঘরে আর কারো অস্তিত্ব নেই। কেবল তাদের দুজনের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ। অন্তুর গরম নিঃশ্বাস এসে পড়ছে তুহিনের উদাম বুকে। তুহিন শান্ত, নিশ্চুপ হয়ে গেল। আচমকা হাসি পেল তার। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। মনে মনে আওড়ালো, “এটা কেমন ভালোবাসা অন্তু। আমার ভালোবাসা কেন এমন হলো। তোকে কাছে পেলে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে, য*ন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়। তুই আমার সেই য*ন্ত্রণা কমিয়ে দিয়ে নতুন যন্ত্র*ণা শুরু করে দিয়ে যাস। কি চাস তুই? আমায় মে*রে ফেলতে। সত্যিই কি মে*রে ফেলবি? তাহলে যে এতো? এতো অধিকার দেখাচ্ছিস, ভালোবাসা দিচ্ছিস। এসব কেন?”
প্রশ্নগুলো মনে মনেই ছিল। আচমকা অন্তু মাথা তুলে তার দিকে ফিরে বলল, "কিছু বললেন?” 
তুহিন চমকে উঠল। তার মনের কথা অন্তু কিভাবে টের পেলো? এতোই জোরে বলছিলো নাকি। সে মুখ ঘুরিয়ে বলল, "হয়েছে তোর?” 
"এই‌ পেনডেন্ট খুলে ফেলুন। ওদিকে মলম দিতে সমস্যা হচ্ছে। মাখামাখি হয়ে যাবে তো।”
তুহিন মাথা নিচু করল। তার মাথায় একটা কথাই আসল, "আচ্ছা অন্তু কি ভালোবাসে তাকে? আদৌ কিছু কি আছে তার মনে। ভালোবাসা কি জয় করে নিতে হবে? কিভাবে নিবে? কি করতে হবে তার? 
তুহিন আবারো এগিয়ে আসছে দেখে সে পিছিয়ে গিয়ে দেওয়ালের সাথে মিশে দাঁড়াল। এখনো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে তারা। অন্তু তটস্থ। কারণ তুহিন ভাইয়ের মুখ হাসিহাসি। এটা কোনো শুভলক্ষণ নয়। শুকনো ঢোক গিলল সে। তুহিন কিঞ্চিত হেসে রুপালি রঙের পেনডেন্ট এর ক্রস কাটা চিহ্ন টা দুই ঠোঁটের মাঝে নিল। এগিয়ে আসলো অন্তুর কাছে। খুব কাছে! যত কাছে একবার এলে আর ফিরে আসা সম্ভব না। অন্তু হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছে কেবল। তার মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। তুহিন ভাইয়ের গা থেকে আসা ঘ্রাণে তার মাথা খারাপ হয়ে গেছে আসলেই। আচমকা তুহিন ভাইয়ের কাছে পেল। খুব কাছে। ঠোঁটের কাছে সেই পেনডেন্ট। অন্তু কিছু বুঝতে পারল না। তাদের চোখাচোখি হলো। চোখে চোখে কথা বলছে তারা। কি চাইছে? এটা নিক অন্তু! কিভাবে? এক হাতের মলমের কৌটা অন্যহাতে মলম। তবে কিভাবে? ঠোঁটের আরো কাছে ক্রমশ এগিয়ে এলো তুহিন। অজান্তেই তার হাতটা চলে গেলো অন্তুর সরু ঢেউখেলানো কোমরের কাছে। অন্তু কেঁপে উঠল। ঘোরে চলে গেল। কিভাবে যে তার ঠোঁট থেকে নিজের ঠোঁটে পেনডেন্টটা আদান প্রদান করল তার মনে পড়ে না। যখন তার দুই ঠোঁটের মাঝে পেনডেন্ট চলে এলো তখন তার হুঁশ ফিরল। সে হতভম্ব! তুহিন ভাই কিঞ্চিত হাসল। কোমরের হাত সরিয়ে নুইয়ে পড়ল। সাথে সাথে চেইন ছুটে গেল। সেটা এখন অন্তুর কাছে। অন্তু আর ভাবল না। মলমের কোটা হাত থেকে পড়ে গেল মেঝেতে। কারণ তার শরীর কাঁপছে। পুরো দেহ কাঁপছে! ছুটে বেরিয়ে গেল সে। দরজা ধাক্কা খেলো বাতাসে। শব্দ হলো কেবল। তুহিন এখনো হাসছে। অন্তু পালিয়ে গেল সাথে নিয়ে গেল তার হৃদয়। তবে, হৃদয় যে দিয়ে গেল না। কেবল নিলেই হবে নাকি? তুহিন মিটিমিটি হেসে বলল, “তুই আমার অন্তু, কেবলই আমার! আমি তোকে আমার করেই ছাড়ব। তুহিন মির্জার নজর পড়েছে তোর উপর। এতো সহজে কি রেহা*ই আছে!”
#চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন