আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺
পর্ব_২৩
মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
অন্তুকে হাঁপাতে দেখে বর্ষণা হকচকিয়ে উঠল। কপালের এলোমেলো চুলগুলো কানে গুঁজে দিয়ে বলল, “কি হয়েছে হাপাচ্ছিস কেন?"
"পানি খাবো। পানি এনেছিস?”
"হ্যাঁ আছে তো।”
ব্যাগ থেকে তড়িঘড়ি করে পানির বোতল বের করল বর্ষণা। অন্তু ঠকঠক করে পানি গেল। সামনের বেঞ্চে দু দণ্ড বসে বলল, "ক্লাসে যাস নি আজ?”
"গেছিলাম। তুই ছিলি না তাই ভালো লাগছিলো না। চলে এসেছি।”
"ক্লাস বাঙ্ক দিলি?”
"দিলাম একদিন। কি হলো? তুই ওসব ছাড়। বল কি হয়েছে? এতো ছোটাছুটি করছিলি কেন?"
অন্তু কপালের ঘাম মুছতে গিয়ে হাতের মুঠোয় থাকা পেনডেন্টের দিকে নজর গেল। ইশ, হাতে করে নিয়েই এলো এটা। বর্ষণা আবারো শুধাচ্ছে। এই মেয়ের একই স্বভাব। ধৈর্য নেই বিন্দুমাত্র। যা জানতে চায় এখুনি জানতে হবে। হবে মানে হবেই!
অন্তু দম নিয়ে বলল, “কিছু না। ক্লাসে দেরি হয়ে যাচ্ছিল দেখে ছুটছিলাম। তোকে দেখতে পেয়ে থেমে গেলাম।” কৌশলে পেনডেন্ট রেখে দিল ব্যাগের মধ্যে। নাহলে দেখতে দেখতে পেলে আবারো হাজারটা প্রশ্ন উঠবে।
“ওহ তাই বল। আমি তো ভাবলাম কুকুর *তাড়া করেছে।"
“কি বাজে কথা।"
“যেভাবে দৌড়ে এলি।"
বলেই মুখ টিপে হেসে উঠল। অন্তু ভ্রু জোড়া কুঁচকে নিল। কিছু বলার পূর্বেই ফোনটা বেজে উঠল। ব্যাগ হাতড়ে ফোন বের করে দেখল অদিতির কল। কতোদিন কথা হয় না মেয়েটার সাথে। আচমকা বর্ষণার হাত টেনে বলল, “চল। আজ আর ক্লাস করা লাগবে না। ঘুরে আসি গিয়ে।"
“কোথায় যাবি ঘুরতে?"
“একাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট!"
__________
সুরের তালে তালে নৃত্য করছে সে। পরনে গোল জামা দুলে উঠছে তার ঘুরার সাথে সাথে। বেনুনী করা লম্বা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে যেন। মুখশ্রীতে একরাশ অভিমান জমা। সুর উঠতেই যেন আপনাআপনি পা চলতে শুরু করল।
“যাও বলো তারে মেঘের ওপারে
বৃষ্টির বন্ধনা জুড়ে ধরণী-তল..”
কি স্নিগ্ধ গানটা! গানের সাথে সাথে মুগ্ধতর হয়ে উঠছে ত্রিয়ানার নৃত্য। নাচটা ভালোই রপ্ত করেছে সে। মনোযোগ সহকারে নৃত্য করতে গিয়ে বিঘ্ন ঘটে গেল তুহিনের আগমনে। তাল ছেড়েই দিচ্ছিলি। আবারো ধরে নিল। নিহাম আর তাহিয়া সেসব দেখে চোখাচোখি করল। আরমান মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে ত্রিয়ানার নাচ দেখছে। সামনের ফেস্টিভ্যালে ত্রিয়ানা এই গানেই নাচবে। তাই এখন থেকেই প্র্যাকটিস চলছে। তুহিন আসতেই সামির তাকে চেয়ার টেনে দিল। তুহিন বসে পড়ল একদম সামনাসামনি। দৃষ্টি ভিড়ে দেখতে লাগল ত্রিয়ানাকে। হারানো সঙ্গম যেন ফিরে পেলো মেয়েটা। দ্বিগুণ উৎসাহে নৃত্য করতে লাগল। আরমান আড়চোখে বার বার ফিরছে তুহিনের দিকে। তখনকার চোখ *রাঙানি এতো সহজে ভুলে যায়নি সে।
তুহিন বেপরোয়া ভঙ্গিতে নৃত্য উপভোগ করল। অথচ নৃত্য শেষ হতেই সবার আগের হাততালি দিলো সে। চেঁচিয়ে বলে উঠলো, “বাহ বাহ! কি সুন্দর নাচ। তোর এক্সপ্রেশন গুলো মারাত্মক ছিল ত্রিয়ানা। তুই তো দেখছি এবার ফেস্টিভ্যালে জুনিয়রদের মাথা খারা*প করে দিবি!"
ত্রিয়ানা হাসতে হাসতে জবাবে বলল, “তাদের মাথা খারাপ দিয়ে আমি কি করব? তোর মাথা খারাপ হলে বল।"
জবাবে তুহিন হাসল দাঁত কেলিয়ে। যেন কথা শুনে মজা পেয়েছে ভীষণ। সামির বলল, " ব্যাপার কি? আজ তো মন ভীষণ ফুরফুরে।”
আরমান বলে উঠলো, "হ্যাঁ পুরনো তুহিন মির্জাকে আমরা ফিরে পাচ্ছি যেন।”
নিহাম বলল, নিশ্চয়ই ভালো কিছু ঘটেছে।
জবাবে তুহিন হাসল আবারো। ভালো ঘটেছে না খারাপ ঘটেছে সে নিজেও আসলে জানে না। সে কেবল জানে কিছু একটা ঘটেছে। হয়তো ভালো কিছুই। আচমকা মারামারি লেগে গেলো সামিরের সাথে। শুধু শুধু কোনো কারণ ছাড়াই। একটা হইহুল্লোড় ব্যাপার ঘটে গেল তখন।
ত্রিয়ানা এসে তাহিয়ার কানে কানে বলল, “দেখলি? বললাম না ওই মেয়েটা চলে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন বিশ্বাস করলি তো আমায়। তুহিন বদলে গেছে পুরোপুরি!"
জবাবে তাহিয়া কেবল হাসল। তার মনটা যে বড় উসখুশ করছে।
_________
আরমান চোখ পাকাল। সামির বলল, তোর খেতে ইচ্ছে না করলে খাবি না। এমন লুক দিচ্ছিস কেন?
দেবো না? একটা বাচ্চা মেয়ের থেকে তোরা এভাবে ট্রিট চাইছিস?
অন্তু বলল, আমি বাচ্চা মেয়ে না। যথেষ্ট বড়। আপনি ট্রিট নিবেন কি না বলুন।
নিহাম চেয়ারে বসে বলল, শুধু এক কাপ চা।
শুধু চা! এটা কি হয় নিহাম ভাই?
অন্তুর কথার পিঠে নিহাম হাসল। অন্তুর দুই পাশে বসা আরো দু'জন। অদিতি আর বর্ষণা। অন্তু তাদের দুজনকে বলল, তোরা কি খাবি অর্ডার দিচ্ছিস না কেন? বললাম তো আজকের ট্রিট আমার পক্ষ থেকে।
সামির আরমানের ঘাড় ধরে বসাল। অদিতি চাপতে চাপতে কোণায় এসে ঠেকল। রেস্টুরেন্টের টেবিলের পাশের চেয়ারগুলোও গোল করে বাঁধানো। সরতে গিয়ে তার গায়ে যেন হাত লেগে গেলো। অদিতি সংকোচিত হয়ে পড়ল। নিহাম মাথা দুলিয়ে বলল, “ইটস্ ওকে।"
বলামাত্র খাবার হাজির। নিহাম বলল, অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট ছেড়ে তুমি এতো খুশি যে আমাদেরকেই ট্রিট দিচ্ছ অন্তিকা।
অন্তু চোখ গুলো বড় বড় করে বলল, শুধু অ্যাকাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট। বলুন যমের হাত থেকে বেঁচে গেছি।
আরমান কোল্ড কফিতে চুমুক দিয়ে বলল, যম কি আমাদের তুহিন।
অন্তু মাথা দুলিয়ে বলল, সাক্ষাৎ *যমরাজ। আপনারা চিনেন তাকে?
সামির বলল, এখানে না হয় বেঁচে গেলে। কিন্তু বাড়িতে? তুহিন তো তখন তোমাকে পেয়েই যায়।
অন্তু দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলল, তা আর বলতে। বিশ্বাস করবেন না ওই হিটলা*র লোকটা বাসায় আমার সঙ্গে কি কি করে। জানেন, বাসায় ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড বদলে দেয়। বলে তার অ্যাসাইনমেন্ট করে না দিলে পাসওয়ার্ড দিবে না।
অন্তুর কথা শুনে বর্ষণা আর অদিতি হা হয়ে গেল। নিহাম বলে উঠলো, ওহ এই কারণেই তো বলি তুহিন হঠাৎ এতো রেগুলার হলো কি রে?
সামির সিরিয়াস কণ্ঠে বলে উঠলো, আর শা লা আমাদের বলে পড়াশোনা করে। ঘোড়ার ডিম করে। অন্য মেয়েকে এভাবে জ্বালিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট কমপ্লিট করায় আর আমাদের সামনে কি বাহাদুরি।
অন্তিকা চেয়ারে ধপ করে বসে বলল, “সে কি আর বলতে। তুহিন ভাইয়ের সাথে চলা কি সহজ কাজ।
আরমান ঘাড় ফিরিয়ে বলল, একদম না। আমায় জিজ্ঞেস করো। এতো গুলো বছর আছি ওর সাথে তবুও কথাবার্তা বলতে গেলে সামলে বলতে হয়। শা লা কখন মাথা গর*ম করে ফেলে কে জানে?
অন্ত বলল, সেটাই তো।জান হাতে নিয়ে কথা বলতে হয়।
তো জান হাতে রাখতে কষ্ট হলে আমার হাতে দিয়ে দিতে পারিস অন্তু!
গম্ভীর আর চেনা কণ্ঠস্বর পেয়ে অন্তিকা আর আরমান দুজনেই চুপসে গেল। তাদের মুখের রং উড়ে গেছে। নিহাম পিছনে তুহিনকে দেখে মুখ টিপে হাসল। তুহিন একটা চেয়ার টেনে আরমান আর অন্তিকার মাঝে বসে পড়ল। অদিতি তো আগে ভাগেই চুপ করে গেছে কিন্তু বর্ষণার সাথে এটা প্রথম আলাপ। তাই সে এখনো পরিস্থিতি বোঝার ট্রাই করছে। তুহিন অন্তিকার চেয়ারের উপর হাত রেখে ঝুঁকে গিয়ে বলল, বাব্বাহ! আমি তো জানতাম না তুই আমায় এতো *ভয় পাস অন্তু।
কেন জানলে কি করতেন?
আরেকটু বেশি *ভয় দেখাতাম। যাতে আমার বন্ধুবান্ধবের সাথে এভাবে বসে আমার নামে বদনাম করতে না পারিস।
আমি বদনাম করছি।
পিছনের চুল টেনে ধরল তুহিন। চেঁচিয়ে উঠল অন্তু। সামির ভ্রু উঁচিয়ে বলল, এই ছাড় মারামা^রি করিস না।
তুহিন ছেড়ে দিল। অন্তু চোখ পাকিয়ে আছে। তুহিন ফিসফিসিয়ে বলল, তোকে তো বাসায় দেখছি।
মুখ ভেংচি কাটলো অন্তু। তুহিন বলল, তা আমার জন্য কি এসেছিস।
কি আবার আনব? আপনাকেও আমি ট্রিট দিবো নাকি?
কেন? ওদের ট্রিট দিতে পারলে আমায় দিতে কি সমস্যা। তোরা কি এখানে বসে আমার নামে ষ*ড়যন্ত্র করছিস?
বলতে বলতে অন্তুর খাওয়া কোল্ড কফি হাতে তুলে নিল। তাতে চুমুক দিতেই অন্তিকা বলে উঠলো, কি করছেন?
কি করেছি।
অন্তিকা এদিক ওদিক তাকালো। নিচু স্বরে বলল, এটা তো আমার।
তুহিন উঠে দাঁড়াল। গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল, তাতে কি হয়েছে। আর এই যে আপনারা। আপনাদের ট্রিট নেওয়া শেষ হলে ক্যাম্পাসে এসে দেখা করুন। সবার সঙ্গে হিসাব আছে আমার।
আরমান আর সামির ঢোক গিলল। নিহাম মুখ টিপে হাসার চেষ্টা করল। অদিতি সেই যে মাথা নিচু করে বসে আছে। এখনো আছে। বর্ষণা মিলানোর চেষ্টা করছে। সবার থেকে তুহিনের নামে যা যা শুনল তাই মিলানোর চেষ্টা করছে সে। তুহিন বেরিয়ে গেল। অন্তিকা মুখ ভেংচি কেটে বলল, হিটলা*র একটা!
আরমান তাল মিলিয়ে বলল, ঠিক বলেছো!
রেস্টুরেন্টের বাইরে তাদেরকে দেখছিলো রোহান। অন্তিকা মেয়েটার সাথে তুহিনের হাবভাব তো খুব ভালো। শুধু তুহিন না, তাদের সবার সঙ্গেই। মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন চিন্তা। ছক কষছে মস্তিষ্কে। কিছু তো একটা মাথায় চলছে। আচমকা কি মনে হলো ফিরে তাকাল পিছনে। চমকে গেলো না। যেন সে আগেই বুঝতে পেরেছিল। তুহিন কফি মগে চুমুক দিয়ে ফিরল রোহানের দিকে। তার মুচকি হাসি বলে দিচ্ছিল অনেক কিছু!
_________
ক্লাস না করলেও ক্লাসের পড়াগুলো সব ছবি তুলে নিচ্ছিল অন্তু। বর্ষণাও তো তার সঙ্গেই ক্লাস ফাঁকি দিয়েছে। এই কারণে অন্যের থেকে নোটের ছবিগুলো তুলে নিচ্ছিল। বর্ষণা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, ইশ অনেক দেরি হয়ে গেছে।
তুই চলে যা না। আমি ছবি তুলে নিচ্ছি তোকে পাঠিয়ে দিব।
মাথা নাড়ল বর্ষণা। সে চলে গেল। পুরো ক্লাসরুম খালি। সবেই ছুটি হয়েছে। মেয়েটা খাতা উল্টেপাল্টে বলল, একটু জলদি করো।
হ্যাঁ এই তো শেষ। হয়েছে! ধন্যবাদ তোমায়।
আচ্ছা আচ্ছা!
বলে ব্যস্ত ভঙ্গিতে মেয়েটা বেরিয়ে গেল। এবার পুরোপুরি খালি ক্লাসরুমে অন্তিকা একা দাঁড়িয়ে। ফোনের ছবিগুলো আরেকবার দেখে নিল। না সব ঠিক আছে। ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে এবার বেরিয়ে যাচ্ছিল সেও। দরজা খুলে বেরুতে গিয়ে আচমকা দুই হাত তার বাহু টেনে ধরে আবারো ফিরে আনল ক্লাসে। আকস্মিক ঘটনায় অন্তু রীতিমতো স্তম্ভিত! বাহুতে দেওয়া হাত গুলো পরখ করে মুখের দিকে তাকাতেই ৪২০ বোল্টের ঝটকা খেলো সে। রোহান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে দেখছে তাকেই। অন্তু কম্পিত স্বরে বলে উঠলো,
আপনি!
প্রথমবার। এমনভাবে রোহানের সঙ্গে তার আলাপ প্রথমবার। এতো কাছাকাছি দাঁড়িয়ে তারা কখনোই কথা বলেনি। অন্তু দাঁড়িয়ে দরজার পিছনে। রোহান ততোক্ষণে তাকে ছেড়ে দিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দুই হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে বেপরোয়া ভঙ্গিতে দেখছে তাকেই। অন্তু ঠোঁট কামড়ে শুকনো ঢোক গিলছে। সে কি করল আবার? রোহান হেলছে দুলছে। দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা ভিন্ন। হাসছে মিটিমিটি। হঠাৎ কাছে আসতেই অন্তু দরজার সঙ্গে মিশে দাঁড়াল। রোহান তার উপর ঝুঁকে গিয়ে বলল, “তুহিন তোমার কাজিন হয় তাই না?"
অন্তু মাথা নাড়ল। রোহান মৃদু হেসে বলল, তোমার তুহিন ভাই আমায় কি বলেছে জানো?
অন্তু মাথা দুলিয়ে না বলল। রোহান বলল, বলেছে তোমার থেকে দূরে থাকতে।
জবাব শুনে ঢোক গিলল অন্তু। রোহান ফের হাসে। একটু বাদে বাদে তার হাসি দেখে অন্তুর আত্মা* বুঝি বেরিয়ে যায়। রোহান বলল, কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি। তোমার থেকে ঠিক কতোটা দূরে থাকব?
চোখ বড় বড় করে ফেলল অন্তু। রোহান তার কাছে এগিয়ে এসে বলল, এতোটা দূরে? নাকি এতোটা! বলেই আরো কাছে এগিয়ে এলো। শেষে একদম কাছাকাছি এসে বলল, নাকি ঠিক এতোটা দূরে!
শ্বাসরোধ করে দাঁড়িয়ে পড়ল অন্তু। রোহান তার খুব কাছে দাঁড়ানো। একদম কাছাকাছি। তার নিঃশ্বাসের শব্দ টের পাচ্ছে সে। চেয়ে আছে তার চোখের দিকেই। অন্তু হতভম্ব হয়ে চেয়ে আছে সেই দৃষ্টির পানেই। তাদের দূরত্ব কেবল ইঞ্চি মাত্র।
#চলবে….