#আমায়_দিও_একটুখানি_ছুঁয়ে 🌺
#পর্ব_৪০
#মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
তুহিন বিভ্রান্ত! বিষয়টা তার কাছে খানিকটা অদ্ভুত রকমের। নিহাম আর অন্তু একসঙ্গে বসে কিইবা কথা বলছে। এতোই কি ব্যক্তিগত কথা থাকতে পারে তাদের মধ্যে। তুহিন ভাবত তার মাধ্যমেই নিহামের সঙ্গে অন্তুর পরিচয়। অথচ আজ তাদের আচরণ দেখে অন্য কিছু সহজেই আন্দাজ করা যায়।
টেবিলের দুই মাথায় দুটো চেয়ার। ওয়েটার সবে মাত্র দুটো কফির মগ এনে রেখে গেল। নিহাম কিঞ্চিত হেসে হাত বাড়িয়ে কফির মগটা তুলে নিল অন্তুকে। অন্তু হেসে সাদরে গ্রহণ করল। তুহিনের ক্যাফেতে ঢুকতে হলো না। সে দূরে দাঁড়িয়ে ওদের দেখছিল। কথাবার্তা চলছে ভীষণ। এতো কি কথাবার্তা থাকতে পারে? মাঝেমধ্যে অন্তু তার ফোন বের করিয়ে নিহামকে কিসব দেখাচ্ছে। নিহাম ও ঝুঁকে পড়ছে ফোনের উপর। হয়তো অজান্তেই ওরা কাছাকাছি আসছে। কিন্তু তুহিনের অস*হ্য লাগছে। ওরা এতোই বা কাছাকাছি কেন আসবে? কেনই বা নিহামের সঙ্গে বসে এতো হাসাহাসি করবে? কোন কারণে?
তুহিনের গলা খুসখুস করছে। কাটা বিঁধে গেলে যেমন অনুভব হয় ঠিক তেমন। মাথায় ব্যাপক চিন্তাভাবনা ভর করল। কিলবিল করছে বহু কিছু। সবকিছুকে এক সাইডে চাপিয়ে দেবার দরকার। তাই একটা সিগারেট ধরিয়ে একটু অন্যদিকে যাবার জন্য মনস্থির করল। তখনি চোখে পড়ল, কেবল সে একা নয়। আরো একজন এসেছে অন্তুর পিছু পিছু।
অন্তুর পিছু পিছু এসেছে এতো নিশ্চিত হয়ে বলছে কি করে? কারণ সে অন্য কেউ নয়। সাক্ষাৎ রোহান। সেও ভ্রু কুঁচকে ওদের দেখে যাচ্ছে। দু জনের চোখাচোখি হতে খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল দুজনেই। সামলে নিল দ্রুতই। রোহানের ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিত হাসি। তুহিন নির্বাক। অথচ চোখের চাহনিতে জমে আছে একরাশ ক্ষো*ভ!
তুহিন আর রোহান সচরাচর একসঙ্গে বসে না। আজ বসেছে। এক বনে দুই সিংহ বাস করতে পারে না। এক রাজ্যে দুই রাজার শাসন চলে না। তাদের দিক থেকেও ব্যাপারটা ওরকম। তারা দুজনেই বনের সিংহ হতে চায়। ভার্সিটিতে এসে শুরুর কয়েকমাস ওরকম ছেলেমানুষী সবারই থাকে। রক্ত গ*রম! ধীরে ধীরে সবাই সামলে যায় কেবল ওরা দুজনেই সামলে গেল না।
তুহিনের তীব্র ক্ষো*ভ রোহান তাকে সম্মান করে না। সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও তার সঙ্গে ঠিকভাবে কথাবার্তা বলে না। কথার স্বরে একটা দ*ম্ভের ভাব যেন থেকেই যায়। রোহানের দিক থেকে বলতে গেলে, তুহিনের সব অভিযোগ সত্যি। সে অন্যের দ্বারস্থ হতে চায় না। একটু ছন্নছা*ড়া ভাব। অন্যের ভাব দেখার সময় নেই তার। ব্যাপারটা এদিক থেকেই শুরু হয়েছিল।
রোহান গাল টেনে হেসে বলল, “চা খাবেন ভাই?"
তুহিন মাথা নাড়ল। দুজনেই এসে বসল চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে। দুপুর বলে ভিড় নেই তেমন। দুজন লোক আছে তারা গোগ্রাসে কলা রুটি খাচ্ছে। হয়তো খুব ক্ষিদে পেয়েছে না হয় খুব তাড়া। কাজের মানুষের ব্যস্ততা খুব বেশি। তুহিনের আগের সিগারেট খাওয়া হয়নি। জ্বালিয়ে পায়ের তলে ফেলে দিয়েছিল। আবারো সিগারেট তৃষ্ণা পাচ্ছে তার। সে সিগারেটের প্যাকেট বের করল। নিজে একটা নিয়ে রোহানের দিকে এগিয়ে দিল। রোহান ও আগ বাড়িয়ে নিল। বাইরে থেকে দেখলে কেউ বলতে পারবে না, এদের মধ্যে চলছে ঘোর দুশমনি।
ছেলেরা এদিক থেকে এগিয়ে, ওদের কার মধ্যে ঝগ*ড়া হচ্ছে কাদের মধ্যে ভাব হচ্ছে তা বাইরে থেকে টের পাওয়া যায় না। অন্যদিকে মেয়েরা এদিক থেকে বেশ খোলামেলা। যাকে পছন্দ নয় তার মুখ দর্শন করতেও তারা অনিচ্ছুক। একসঙ্গে চা খাওয়া তো দূরে থাক।
সিগারেট অর্ধেক শেষ হবার পর চা এসে হাজির হলো। তুহিন চায়ের কাপে চুমুক দিল। ব্যাটা চিনি দিয়েছে বেশি। রোহান চুমুক দিয়ে বলল, “ফার্স্ট ক্লাস চা, কি বলেন তুহিন ভাই?"
তুহিন চায়ের কাপ নামিয়ে রাখল। সিগারেটে এক টান মে*রে বলল, “যা আমার পছন্দ তাকখনো তোমার পছন্দ না রোহান।"
“হ্যাঁ এটা তো সবসময় থেকেই।"
“তাহলে এবার ব্যতিক্রম হলো কি করে?"
“কারণ সে ব্যতিক্রমী বলে!”
তুহিন চোয়াল শক্ত করে নিল। সে মানে? সে মানে আবার কে? রোহান অন্তুকে সে বলছে। এতো কাছের আবার হলো কবে থেকে। সে তী*ক্ষ্ণ গলায় বলে উঠলো, "তোমাকে কিন্তু আমি খুব স্নেহ করি।”
"আমিও আপনাকে খুব শ্রদ্ধা করি। যদিও দেখতে পারি না তবুও…
বলেই হেসে উঠল। তুহিন আড়চোখে ফিরে তাকাল। সিগারেট ফুরিয়ে আসছে। কথাবার্তা এর আগেই শেষ করতে হবে। সিগারেট শেষ হবার পর তিক্ত আলাপ আলোচনা চলে না। সিগারেট খেতে খেতেই সেটা শেষ করা দরকার।
রোহান এবার নিজ থেকেই বলল, “আপনার পাখি তো এবার উড়ে যাচ্ছে বোধহয়, নিহাম ভাইয়ের সঙ্গে খুব ভাব। দেখুন না, শেষে না হয় বন্ধুই বন্ধুর পিঠে ছু*রি বসায়। দারুণ হবে দেখতে তাই না!"
বলেই হাসতে লাগল। তুহিনের ইচ্ছে করল গ*রম চায়ের কাপ তার মাথায় উ*ল্টে দিতে। কিন্তু না! সে রা,গ সংযত করল। গম্ভীর স্বরে বলল, “ওরা রোজই এভাবে দেখা করে।"
“বহুদিন থেকেই। সারাক্ষণ ফিসফিস করে। আমার মনে হয় তলে তলে কিছু একটা চলছে।”
বলেই পা দুটো নাচাতে লাগল। চিকন সুরে বলল,
"খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়…
তুহিন সিগারেটের ছাই ফেলে বলল, "তুমি সত্যিটা জানো না রোহান। নিহাম সেরকম কিছু কখনো করবে না।”
রোহান চায়ের কাপে চুমুক দিল। সিগারেট টেনে বলল, "তবে সত্যিটা কি?"
তুহিন সিগারেট ফেলে দিল। পায়ের তলায় মিশিয়ে দিয়ে বলল, “অন্তুকে জিজ্ঞেস করো।"
“চলছেন বুঝি?"
“কেন?"
“চায়ের দাম মিটিয়ে দিন।"
“আমি কেন দিব? সিগারেট আমি খাওয়ালাম না।"
“সিনিয়র হিসেবে এরকম দু একটা ট্রিট তো পেতেই পারি। তাই না!"
মুচকি হাসল রোহান। তুহিন মাথা দুলিয়ে বলল, “ঠিক বলেছো। সেজন্য এবারের ট্রিট তুমি দিবে। পরেরবার আমি দেবো।"
বলেই উল্টোদিকে পা বাড়াল। এদের দেখা আর কখনোই হবে না। রোহান হাসতে হাসতে মুখখানা গম্ভীর করে ফেলল। সিগারেট দূরে ফেলে দিয়ে বলল, “শা*লা খচ্চর একটা!"
—------
খুব দেরি হয়ে গেছে। নিহামের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ব্রেক টাইমই শেষ হয়ে গেছে। তুহিন ভাইয়ের সঙ্গে আর দেখাটা হলো না। অন্তু ভীষণ চিন্তিত। ফোনের কললিস্ট চেক করল। না, তুহিন ভাই একবার কলও করেনি তাকে। একটু খটকা লাগল। ডিপার্টমেন্টে যাবে একবার। নিচে তো দেখলো না।
বর্ষণা অনবরত কল করছে তাকে। ক্লাস শুরু হয়ে যাবে। পাঁচ মিনিট লেট করে এলে স্যার আর ঢুকতে দিবে না তাকে। আর তুহিন ভাইয়ের কাছে যাওয়া হলো না তার। সে নিজের ডিপার্টমেন্টেই ফিরে এলো। এই ক্লাসের পরেই তাদের ছুটি হয়ে যাবে। তখন দেখা করা যাবে ক্ষণ।
ক্লাস শেষে বর্ষণা তাড়া দেখিয়ে বেরিয়ে গেল। ভার্সিটি বাস ছেড়ে দিবে। তাকে বাসে করেই যেতে হবে। অন্তুর অবশ্য তারা নেই। সে ভেবেই এসেছে তুহিন ভাইয়ের সঙ্গে করে ফিরবে। তাই ক্লাস শেষ হবার পর থেকেই তুহিন ভাইকে কল করে যাচ্ছে। আশ্চর্য! লোকটা কল তুলছে না কেন?
অন্তু এবার তার ডিপার্টমেন্টে গেল। সেখানে কাউকে পেলো না। একটু খোঁজা খুঁজির পর পেলো ত্রিয়ানাকে। দুজন দুজনকে দেখেই খানিকটা বিব্রত বোধ করল। তবুও অন্তু খানিকটা সাহস জুগিয়ে বলল, “তুহিন ভাইকে দেখেছেন আপু?"
ত্রিয়ানা সহসা শুধাল, “কেন? ওকে কি দরকার!"
অন্তু চমকে গেল। ত্রিয়ানা নিজেও হতভম্ব। এই কথাটা বলা তার উচিত হয়নি। তবুও অন্তুকে দেখলেই মনের মধ্যে একটা অজানা ভ*য় হয় তার। মনে হয় এই মেয়েটা এসেছেই তার থেকে তুহিনকে কেড়ে নিতে।
সামলে নিয়ে বলল, “নিচে গেল। বোধহয় ক্যাম্পাসে!"
“আচ্ছা আপু!"
বলামাত্র অন্তু ছুটে বেরিয়ে গেল। কতো তাড়া যেন তার।
ক্যাম্পাস খোঁজা শেষ হলো। এদিক ওদিক খুঁজতে গিয়ে আচমকা চোখে পড়ল রোহানকে। রোহান তাকে দেখেই মুচকি হেসে উঠল। আচমকা তার হাত ধরে টেনে বলল, “আমার সঙ্গে চলো।"
অন্তু “না” করবার সুযোগটাও পেলো না। অগত্যা তার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে কোথায় এসে পড়ল সে নিজেও চিনল না। এটাও কি ভার্সিটির মধ্যেই? আসা হয়নি কখনো। আচমকা রোহান তাকে সামনের দেওয়ালের সামনে দাঁড় করিয়ে ঝুঁকে পড়ল তার উপর। ভ*য়ে অন্তু মিশে দাঁড়াল দেয়ালের সঙ্গে। একটু বেশিই যেন ভ*য় পেলো না। ইদানিং ধরে রোহানের আচরণে পরিবর্তন এসেছিল। সে আগের মতো উ*গ্র আচরণ করত না। আজ হঠাৎ কি হলো তার?
রোহান কাছে এগিয়ে আসতেই অন্তু চোখ বন্ধ করে নিল। একটু বাদে আবারো ফিরে তাকাল। রোহান তার অনেক কাছে। অনেকটাই! অন্তু শুকনো ঢোক গিলে তাকে ধা" ক্কা দিয়ে সরানোর জন্য হাতটা বাড়াতেই সেই হাত চেপে ধরল রোহান। তার ক্রু”ব্ধ নয়ন দেখেই অন্তু থতমত খেয়ে গেল। এতো রে*গে আছে কেন? পুরুষ মানুষের রা*গ সবর্দাই অন্তুকে চেপে ধরল। এবারও তাই। সে ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “কি হয়েছে?"
রোহান জবাব দিল না। বরঞ্চ আরেকটু কাছে এগিয়ে এলো। এতোটাই কাছে অন্তু দমবন্ধ করে নিল। সে ভেবেছিল এই বুঝি রোহান তার ঠোঁট ছুঁইয়ে….
রোহান নিজের মস্তিষ্ককে শান্ত করল। সত্যি সত্যিই সে অন্তুর প্রতি দুর্বল হয়ে গেছে। কখন হলো জানা নেই তবে হয়ে গেছে। অন্তর ভী*ত চোখ জোড়া বড় ছোটাছুটি করছে। রোহান সেদিকে দৃষ্টিপাত করে বলল, "আমাকে সত্যি করে বলো, তুমি কাকে ভালোবাসো? তুহিন ভাইকে?”
অন্তু চমকে উঠল। বিস্ময়ে তার চঞ্চল চোখজোড়া স্থির হয়ে উঠল। অন্তু মুখ ফস্কে বলল, "তুহিন ভাই!”
রোহান ভ্রু কুঁচকে বলল, "ভাই! তোমার আর তুহিনের মধ্যে সম্পর্ক কি আদৌও? তোমরা কি শুধুই কাজিন? শুধু ভাই-বোন। আর কোনো সম্পর্ক নেই তোমাদের?”
"নননননা মানে?”
"তবে কি?”
অন্তু আমতা আমতা করতে লাগল। তার পুরো শরীর কাঁপছে। সে ভীত চোখে সামনে তাকিয়ে আছে। তুহিন ভাই তার সামনেই দাঁড়ানো। এটা কেমন পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়াল এখন! লোকটা মিটিমিটি হেসে তাকে কেন দেখছে। ভ*য়ে জড়তায় অন্তু কথা বলতেই ভুলে গেল। সে আর রোহান কি অবস্থায় আছে এখন। তুহিন ভাই বা কি ভাবছে। অন্তু মোচড়াতে লাগল। তার মাথায় একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। পালা*তে হবে, এখান থেকে পা*লাতে হবে।
রোহান বিস্ময় কণ্ঠে শুধাল, “কি ব্যাপার? এমন কেন করছো?"
অন্তু বলে উঠলো, “হাত ছাড়ুন আমার।"
রোহান অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। হাতের কথা সে ভুলেই গেছিল। ল*জ্জায় হাত ছেড়ে দিল। পিছন ফিরে তাকাল তৎক্ষণাৎ। না! কেউ নেই তো ওখানে। তবে অন্তুকে দেখে কেন মনে হচ্ছে ও ভীষণ ভ*য় পেয়েছে। কাকে দেখে পেল। রোহানের কণ্ঠস্বর নেমে এলো। বলল, “কি হয়েছে অন্তু?"
“কিছু না! আপনি আর কখনো আমার সামনে আসবেন না। কখনো না!"
ধ*মকে গড়গড় করে কথাটা বলেই সে ছুটে বেরিয়ে গেল। রোহান হতভম্ব হয়ে পড়ল। এদিক ওদিক না তাকিয়ে সোজা ছুটে বেরিয়ে এলো অন্তু। মেইন রাস্তায় এসেই একটা সিএনজি দেখে তৎক্ষণাৎ চড়ে বসল তাতে। মনে মনে একটাই দোয়া করছে, আজ কোনোভাবে যেন তুহিন ভাইয়ের সামনে না পড়ে সে। কোনোভাবেই না!
_______
সাঁঝবেলা! আঁধারে ঢাকা মির্জা বাড়ি পুরোটাই আলোকিত হয়ে গেল। কেবল একটি ঘরে তখনো আঁধারে ডুবানো। সেটা হলো অন্তুর ঘর। বাড়ি ফিরার পর এখনো অন্তুর খোঁজ পায়নি মামা। তাই এবার দোতলা উঠে সোজা এলেন অন্তুর ঘরের সামনে। কিন্তু ঘর প্রায় অন্ধকার। কেবল জ্বলছে ল্যাম্পশেডের আলো। মামা দরজায় দাঁড়িয়ে হাঁক পাড়লেন, "কে? কে ওখানে?”
তুহিন বুকশেলফের আড়াল থেকে বেরিয়ে বলল, "আমি।”
"তুহিন?”
মামা ঘরে ঢুকলেন। তুহিন হাতে বইটা নিয়ে বলল, "হ্যাঁ আমি। কিছু বলবে?”
"তুমি এ ঘরে? অন্তু কোথায়?"
“জানি না। বাসায় ফিরেনি।"
“কি বলছো? সন্ধ্যে হয়ে গেলো তো। মেয়েটা বাসায় ফিরেনি। আছে কোথায়?"
চিন্তিত হয়ে গেল বড় মামা। ফোনটা বের করে তৎক্ষণাৎ ফোন করলেন অন্তুকে। তুহিন চমকে উঠল। বুকশেলফ থেকে দূরে টেবিলের উপর রাখা ফোনটা বাজছে। ভাগ্যিস সাইলেন্টে ছিল। এই প্রথম অন্তুর বোকামোর জোরে বেঁচে গেল সে।
তুহিন জবাবে বলল, “ভার্সিটি শেষে দেখেছিলাম বান্ধবীদের সাথে বেরিয়েছে। বলল আসতে দেরি হবে। দেখো হয়তো ঘুরছে কোথাও!"
কথাখানা বলে মিটিমিটি হেসে পাশেই তাকাল সে। অন্তু দাঁড়িয়ে বুকশেলফের আড়ালে। ভ*য়ে তার প্রাণ বুঝি এই বেরিয়ে যায়। প্রায় শ্বাসরোধ করে দাঁড়িয়ে আছে সে। নড়তে চড়তে পারছে না কারণ তুহিন ভাই শক্ত হাতে ধরে আছে তাকে। বোঝাপড়া আসে কিসব। অন্তু শুকনো ঢোক গিলল। তুহিন ভাই বুকশেলফের আড়ালে দাঁড়িয়ে বলেই তাকে দেখা যাচ্ছে না। তবুও ভ*য়ে তার বুক ধুকপুক করছে। কি হবে মামা যদি আর এক পা এগিয়ে আসেন। যদি দেখে ফেলে তাকে। এই মিথ্যের কি জবাব দিবে সে।
মামা আফসোসের সুরে বললেন, “গাড়িটাও নিয়ে গেল না আজ। কি যে করে মেয়েটা। চিন্তায় চিন্তায় আমায় অ*স্থির করে তুলে।"
বলেই উল্টোপথে পা বাড়ালেন। তুহিন বাবার যাবার পথে তাকিয়ে ক্ষীণ হাসল। শক্ত করে ধরে রাখল বাহু তার। মামা থেমে গেলেন। পিছন ফিরে বললেন, “তুমি এ ঘরে কি করছো তুহিন?"
“বই নিতে এসেছিলাম। কিছু বই নেবার ছিল।"
“ওহ আচ্ছা।"
আনমনে হেঁটে চলে গেলেন ঘরের বাইরে। ফোন করতে লাগলেন আবারো। কেবল শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ। পুরোপুরি দোতলা থেকে মামা না যাওয়া অবধি অন্তু কান খাড়া করে শুনলো। ঠিক তেমনি নিশ্চুপ হয়ে রইল তুহিনও। যখন পুরোপুরি বুঝল কেউ নেই ওদিকে তখনি অন্যহাতে অন্তুর গাল চে*পে ধরল সে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“কি ভেবেছিলি? পালি*য়ে বাঁচবি আমার থেকে? এতো সহজ তুহিন মির্জা থেকে বাঁচা?”
অন্তু ব্যাথায় কুঁক*ড়ে উঠল। তবু শব্দটুকু করল না। তার ভ*য় হচ্ছে হয়তো নির্ঘাত কেউ শুনে ফেলবে। মামা যদি শুনে ফেলে।
চোখে জল চিকচিক করতে লাগল। সত্যিই আজ সারাদিন সে পালিয়ে পালিয়ে বেঁচেছে। আচমকা কি করে যেন ধরা পড়ে গেল। এসেই ঘরেতে না ঢুকে ছাদে ঘাপটি মে*রে বসে ছিল। তুহিন ভাই এলো। ঘরবাড়ি খুঁজে আবারো বেরুল। অন্তু ঠিক দেখেছিল ছাদ থেকে। এইজন্যই তো ঘরে এলো অমনি তাকে ধরে ফেলল। কি সেয়ানা তুহিন ভাই!
তুহিন ভাই আবারো ফিসফিসিয়ে বললেন, “কি হলো? কথা বলছিস না কেন? তখন কি বললি রোহানকে? আমরা কাজিন! ভাই বোন আমরা!"
অন্তু তখনো আমতা আমতা করা শুরু করল। তুহিন দিল এক রা*ম ধমক। অন্তু চোখ থেকে গড়াগড়িয়ে অশ্রু পড়া শুরু হলো। সে বলল, "আমি সত্যিই আপনাকে তখন দেখে খুব ঘাবড়ে গেছিলাম। তাই… তাই আর বলতে পারিনি।”
"ঘাবড়ে গেছিস? ভয় পেয়েছিস আমায় দেখে? কেন আমি কি করেছিলাম।”
অন্তু মুখ উঁচু করে চেয়ে রইল তার মুখপানে। আধো আধো আলোয় কেবল চোখ দুটোই স্পষ্ট দেখা যায়। আগুন ঝড়*ছে যেন। অন্তু ঠোঁট কামড়ে ধরল। কি রে বোঝায়! তার মুখে বলার আগেই চাহনি দেখেই সে অর্ধেক জমে যায়। কি ঠান্ডা চাহনি ছিল তখন!
অন্তু চমকে উঠল। আচমকা মনে হলো সে তার হাত দুটোয় কোমরে আঁকড়ে ধরেছে। মুচরাতে লাগল কি সাপের ন্যায়। তুহিনের মেজাজ গেল চটে। পেছন থেকে চুলের মু*ঠি টেনে বলল, "আর নড়েছিস তো খবর আছে!”
"কেন? কি করবেন?”
তুহিন এগিয়ে গেল তার কানের কাছে। ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো, “বাসর করব। এখানে এখুনি!"
ল*জ্জায় নিমিয়ে গেল তার পুরো দেহ। আচমকা সেই ঠান্ডা স্পর্শে স্রোতের মতো গা বেয়ে যেতে লাগল প্রেমের জোয়ার। তুহিন ভাইয়ের গাঢ় ঘন চুম্বন তার শ্বাসরোধ করে ফেলল প্রায়। একটু ছাড়তেই সে হাঁপিয়ে উঠল। বুকভরে শ্বাস নিল। তুহিন ফ্যালফ্যাল করে তাকে দেখছে। অন্তু চোখ মেলে তাকাতেই সে শুধাল, "শ্বাস নেওয়া হয়েছে তোর?”
স্পষ্ট স্বরে সে বলল, "কেন?”
গাল বাঁকিয়ে হেসে সহসা তাকে কাছে টেনে নিল আবারো। ভাবভঙ্গি বলে দিচ্ছে কি হতে চলেছে। বেচারী অন্তু বুঝতে নিল বাকিটা…..
#চলবে..