ফন্ট সাইজ:
থিম:
হারিয়ে বুঝেছি কি ছিলে তুমি আমার

১ম পর্ব

লেখক: আইশা নওমী

#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার

#আইশা_নওমী

#সূচনা_পর্ব

🍁🍁🍁🍁🍁

হাসপাতাল হতে নিজের pregnancy রিপোর্ট নিয়ে, মিহিয়া যখন তার বর আব্রাহাম এর সামনে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে।

তার সামনে তার রিপোর্ট ধরে তখন,

তার বর তাকে নিজের থেকে সরিয়ে তাকে একটা জোরে থাপ্পড় মেরে বলল,,,

~"তোর কি মনে হয় তোর মতো একটা লো ক্লাস,

পতিতার সাথে এই আমি,আব্রাহাম ফাহিম চৌধুরী

বিয়ে করার জন্য ইন্টিমেট হয়েছি।নো ওয়ে।

তুই তো আমার রক্ষিতা হওয়ার জন্যও যোগ্য না।না জানি কার না কার পাপের ফসল নিজের পেটে ধরে, নিজের এই পাপকে আমার বলে চালিয়ে দিতে চাইছিস।~,,

মিহিয়া নিজের গালে হাত দিয়ে বলল,,

~,,আব্রাহাম , তুমি এসব কি বলছো তুমিতো

আমাকে ভালোবাসো। আমরা তো বিয়ে করেছি।

তুমি মজা করছো আমার সাথে বলো??~"

কথাটা বলে মিহিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।

মিহিয়ার এমন কথায় আব্রাহাম গাঁ দুলিয়ে হেসে দিলো ও তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,,,

~কিসের বিয়ে?? কার বিয়ে?? তোর মতো

একজন পতিতার, ভিখারী,লো ক্লাস, যার কোনো বংশ পরিচয় নেই তার সাথে আমি ডক্টর আবরাহাম ফাহিম চৌধুরী ভালোবাসব।

এটা কীভাবে সম্ভব হাউ ফানি?? আর একটা কথা তোর মতো একটা লো ক্লাস মেয়ের সাথে বেডে যাওয়া যায় কিন্তু বউ বানানো যায় না~,,

কথাটা বলে হোহো করে হেসে উঠে আব্রাহাম।

তা দেখে মিহিয়া নিজের হাতে তাকে থাপ্পড় মারতে

যাবে তার আগেই আব্রাহাম তার হাত ধরে ফেললও হাতটা মুচড়ে দিয়ে বলল,,

~তোর এই নোংরা হাত আমার গায়ে দেওয়ার সাহস হয় কি করে? ইউ ব্লাডি বিচ।।~

মিহিয়া নিজের হাতে হাত দিয়ে বুলিয়ে দিয়ে বলতে লাগল,,,

~তাহলে বিয়ে কাবিন নামা

এসব কি ছিলো??~

আব্রাহাম মুখে শয়তানির হাসি দিয়ে বলল,,

~সব ফেইক ছিল,রে.. বোকা।,,

মিহিয়া জোরে কেঁদে দিয়ে আবরাহাম শার্টের কলার টেনে বলল,

~,,এসব... কেন.. করলে কেন??উওর দাও,~

আব্রাহামের বন্ধু রাকিব মিহিয়ার কথায় হেঁসে বললো,,

~ তোমার সাথে মজা করার জন্য,...এন্ড মোস্ট অফ ফ্যাক্ট তোমার শরীরের মজা নেওয়ার জন্য।,,

মিহিয়া আরো জোরে আব্রাহামের শার্টের কলার টান করে ধরে আব্রাহামের উদ্দেশ্য করে বলল,,

~আমি এসব বিশ্বাস করিনা।। তুমি আমার সাথে এমন করতে পারোনা আব্রাহাম।

আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি বলো?।~,,

আব্রাহাম তার উদ্দেশ্যে বলল,,

~,, ক্ষতি তো তুমি করোনি??

জানপাখি করেছে তো তোমার বড়বোন।

তোমার বড় বোনের করা প্রতারণার জন্য আমার বন্ধুর সমতুল্য বড় ভাইকে আমরা চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি।

যে বর্তমানে এখন কোমায় আছে। শুরু মাএ তোর বোনের জন্য। কি এমন ক্ষতি করেছিল সে।

জাস্ট তো তোমার বড় বোনকে ভালোবাসতো বলে,

আমার বড় ভাই তার ইচ্ছেতে তাঁকে বিয়ে করে।

সে নিজের পরিবারকে ছেড়ে দিয়ে সামান্য একটা বাসা বাড়িতে থাকতে শুরু করে তোমার বড় বোনের জন্য। নিজে কষ্ট করে একটা চাকরি করে মাএ ২৫ হাজার টাকার জন্য।

যে ছেলে কষ্ট হবে বলে আমার বাবা মা তাকে অফিসে বেশি যেতে দেয়নি।

আমাদের কোম্পানির একটা পিয়নের বেতনও ৫০ হাজার টাকা।সেই কম্পানির মালিকের ছেলে মাএ ২৫ হাজার টাকার জন্য রাত দিন পরিশ্রম করতো।

সে ছেলে সামান্য ভালোবাসার জন্য সে সকাল ১০টায় অফিসে যেত ও রাত ১০ টায় ওভার টাইম করে বাসায় ফিরতো।

শুরু মাএ তোর বোনের জন্য।

কিন্তু তোমার বোনের তো আবার এসবে মন ভরেনি।বড় লোকের ছেলেকে ফাঁসিয়ে ছিল যাতে তার টাকা পয়সা কামানোর জন্য।

কিন্তু সে যখন সেটা পায়নি।

তাই আমার ভাই বাসা থেকে রের হওয়ার পর তোমার বোন আমার ভাইয়ের বন্ধুদের সাথে বেড সেয়ার করতো।।

আমার ভাই একদিন তাকে হাতে নাতে ধরেছিল।ও তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়।

একজন বিবাহিত মেয়ে হওয়ার সাথেও সে অন্য কারো অবৈধ বাচ্চা পেটে ধরে ছিল।তোর ভাগ্নে একজন জারজসন্তান।

তোর বোন তো একটা ব্যা***শা ছিল যে আমার ভাইকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল।

তাই আমার ভাই তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়।

তোর বোনের ওই জারজ সন্তানটাকে আমার ভাইয়ের বলে দাবি করেছিলো কতোটা খান**কির বাচ্চাও ব্যা**শা হলে মানুষ এতটা খারাপ হয়।

তোর ব্যা**শা বোনের এই প্রতারনার জন্যই আমার ভাই এসব নিতে না পারায় সে প্রতিনিয়তো সে ড্রাগ নিতো ও একদিন সে একটা কার এক্সিডেন্টে তার অতিরিক্ত ব্লাড লস ও ড্রাস নেওয়ার জন্য কোমায় চলে গেছে।~,,

কথা গুলো বলতে বলতে আব্রাহামের এর চোখের কার্নিশ হতে জল গড়িয়ে পড়ল।

কিন্তু সে সেটা মুছে ফেলল ও মিহিয়ার দিকে অগ্নিচোখে তাকিয়ে রইলো, ও দিকে তাকিয়ে বলল,,

~,,কিন্তু তুই ও ঠিক তোর বোনের মতো ব্যা**শা যে নিজের জারজ সন্তান কে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছিস,,,,।

কথাটা শোনার পর মিহিয়া আর নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না।

সে আব্রাহামের একটা জোরে থাপ্পড় মেরে, তার মুখে থুথু দিয়ে বলল,,,

,,তোর কোন যোগ্যতাই নাই আমার আপির সম্পর্কে এসব জঘন্য মন্তব্য করার। তুই ও তোর ভাই দুজনেই বোকাও মুর্খ। যে, যা বলে তাই তোরা বিশ্বাস করিস।আর নিজেদের রক্তকে জারজ বলিস।,,

বলে সে চলে যেতে নিয়ে আবার আব্রাহাম উদ্দেশ্যে ঘৃণার চোখে তাকিয়ে বলে,

,,,আমরা এতিম হতে পারি কিন্তু, আত্মাসম্মানহীনও চরিত্রহীন নই।,,

আবরাহাম এর ছোট ফুপির মেয়ে নেহাকে নিজের কাছে মিহিয়ার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে থেকে বলল,,

~আর একটা কথা আমি তোকে না কোনোদিন

ভালোবাসতাম না। আমি নেহাকে ভালোবাসি।,,

বলে আব্রাহাম নেহাকে নিজের আরো অতি সন্নিকটে নিয়ে আসল। তার কোমরে হাত রেখে মিহিয়ার উদ্দেশ্যে বলল,,

~নাউ মাই রিভেঞ্জ ইজ ফাইনালি কমপ্লিট??~

বলেই হো হো করে হেসে ফেললো।

আব্রাহামের এহেন কথায় মিহিয়া যেন আকাশ থেকে পড়ল।।

এটা কি সেই আব্রাহাম তাকে পাওয়ার জন্যে সুইসাইড পর্যন্ত করতে গেছিল।

যে আব্রাহাম মিহিয়াকে পাওয়ার জন্য নিজের করে পাওয়ার জন্য নিজের হাত কেটে তা রক্তাক্ত করে ফেলে ছিল।

যে, আব্রাহাম সাথে মিহিয়াকে এক মূহুর্তের জন্য না দেখে থাকতে পারতো না।এ সেই আব্রাহাম না।

মিহিয়া এসব ভেবে তাচ্ছিল্য করে হেসে বলল,,

~ঠিক বলেছেন মিস্টার আব্রাহাম ফাহিম চৌধুরী ।

আপনি সত্যিটা না জেনে আজ আমার সাথে যে নাটক ও রিভেঞ্জ টা নিলেন ও আমার মতো একজন মানুষের নরম মনটাকে যেভাবে বিষিয়ে দিলেন।

তাতে, আপনি নিজেও একদিন এটা নিয়ে আফসোস করবেন। আফসোস সেই দিন আপনি আমাকে পাবেন না।~,,

~,,ও আচ্ছা, শোন তোমাকে ও পেতে চাইবে কেন?? ও

তো আমাকে বিয়ে করবে।ইভেন আমরা খুব শীঘ্রই এনগেজমেন্ট ও করবো।। আর একটা কথা তোমাকেও আমরা দাওয়াত করব আমরা তাই না আব্রাহাম বেবি~,,,

বলেই নেহা আব্রাহামের গলা জড়িয়ে ধরলো।

এইসব দেখে মিহিয়ার বুকে মোচড় দিয়ে উঠল।

সে নিজেকে আর সামলাতে পারলো না। সে সেখান থেকে দৌঁড়ে চলে গেল।

মিহিয়া চলে যেতেই আব্রাহাম ধাক্কা দিয়ে নেহাকে সরিয়ে দিল।।

,,,,,,চলবে

(কপিরাইট করা কঠোর ভাবে নিষেধ🔪🔪🔪🔪⚔️)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন