ফন্ট সাইজ:
থিম:
হারিয়ে বুঝেছি কি ছিলে তুমি আমার

১৪তম পর্ব

লেখক: আইশা নওমী

#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার

#লেখিকা: #আইশা_নওমী
#পর্ব:১৪
কপিরাইট সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ⚔️⚔️)
🌿~
আবরাহাম চলে যেতেই মিহিয়াও নিজের শক্ত খোলস থেকে বেরিয়ে এলো।নিজের গলায় আটকে রাখা কান্না গুলো চোখের পানিতে পরিনত হয়ে টপটপ করে বৃষ্টির ফোটার মতো গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
হু হু করে কেঁদে উঠলো মেয়েটা।
বোনকে এভাবে কাঁদতে দেখে রিদি ছুটে গিয়ে তাকে জরিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলো,
"সবেমাত্র বাচ্চা ডেলিভারি হয়েছে তোর। এখনি কান্নাকাটি করলে সমস্যা হতে পারে তোর। প্লিজ নিজেকে শান্ত কর সোনা। তুই তো আমার স্ট্রং বাচ্চা ।এত তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়লে চলবে।,, 
বোনকে কাছে পেয়ে মিহি যেনো আরো বেশি ভেঙে পড়লো।বাচ্চাদের মতো বোনকে জরিয়ে ধরে বললো,
~ "আমি কি করবো বলো আপি,ওই লোকটা প্রতিনিয়তোই আমাকে হুমকি দিয়েই যাচ্ছে যে আমি যদি আবরাহাম এর কাছে ফেরত যাই তাহলে ও আবরাহের সাথে সাথে আমার বাচ্চাদেরকেও মেরে ফেলবে,বল কি করবো আমি একদিকে ওই অজানা লোকটার হুমকি অন্যদিকে, আবরাহামের আকুতি মিনতি। কি করা উচিত আমার বল,কোন দিকে যাবো আমি।তবে আর যাই হোক আমার সন্তানদের লাইফ রিস্ক আমি নিতে পারবো না আপু। প্লিজ তুই আমাকে আর অনুরোধ করিস না।,,~
বলেই হাসপাতালের বেডে নিজের অসুস্থ শরীরটাকে এলিয়ে দিলো আর রিদি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।মিহি কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়েও গেলো।
★★
এদিকে আবরাহাম মিহির কেবিন হতে বেরিয়ে এসে নিজের কেবিনে গিয়ে তার সামনে থাকা টেবিলের উপর থেকে সকল ফাইল ফেলে দিয়ে নিজের মনের ভিতরে থাকা দুঃখকষ্টগুলোকে কমানোর চেষ্টা করলো কিন্তু মনের উপর কি আর কারো জোর খাটে সেতো নিজের মর্জি মতোই চলতে পছন্দ করে। তেমনি আবরাহাম যতই নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে ততই যেনো তার কষ্ট বেড়ে দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে।
 হৃদপিন্ডটাও আজ তার সাথে বেইমানী করছে ক্ষণে ক্ষণে কেমন খামচে ধরছে।বুকের ভিতরটা কেমন যেনো হা হাকারে ফেটে যাচ্ছে ।আচ্ছা বুকের ভিতরটা এতো ফাঁকা ফাঁকা লাগছে কেনো।সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না আবরাহাম। চোখের পানিটা ও কেমন যেনো অবাধ্যের মতো গড়িয়ে পড়ছে।তার মতো কঠোর ব্যক্তিত্বের লোকের সাথে এমন বাচ্চাদের মতো আচরণ একদমি যাচ্ছে না। 
ছোট বেলা থেকে অনেক কষ্ট যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েই আজ সে এত বড় জায়গায় এসে পৌঁছাছে।তার সাফল্যের পিছনের কাহিনিটা যে অনেক বেদনার।অনেক ছোটো বেলায় যখন তার মা মারা যায় তখন তার বাবা তাদের ফেলে রেখে তারই আপন খালাকে বিয়ে করলো সেদিন থেকেই আবরাহাম তার বাবার সাথে দূরত্ব বাড়ালো।কেননা মায়ের জায়গা সে কাউকেই দিতে প্রস্তুত না।তাইতো বাবার বিয়ের পর সে এবং তার ২য় স্ত্রীর থেকে সবসময় দূরে দূরে থাকতো। 
ওতটুকু বয়সে নিজের যাবতীয় সকল কাজ নিজে করতো।যদিও তার বাবার ২য় স্ত্রী মানে তার খালা তার সাথে সবসময় কথা বলতে চাইতো কিন্তু সে তার কাছে তাকে ঘেঁষতে দিতো না।কারন তার সর্বদাই মনে হতো সে তার মায়ের জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করছে।তবে তার মায়ের অভাব পুরন করে দিতো তার বড় ভাই ফাহাদ।সবসময় তার খেয়াল রাখতো।কোনো দুঃখ কিংবা কষ্ট পেলে ভাইটাকে জরিয়ে ধরে নিজের সকল দুঃখ কষ্টের কথা বলতে পারতো ভাইটাও তার সকল দুঃখ কষ্টে তার সাত দিতো।
ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর আবরাহাম তার এডমিশনের জন্য বাহিরে চলে আসে আর নিজের ক্যারিয়ারের দিকে ফোকাস করে।আলহামদুলিল্লাহ সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পায়। বাবার এত এত টাকা থাকার সত্বেও তার কাছ থেকে একটাকাও না নিয়ে নিজেই নিজের খরচ বহন করতো।মেডিকেল পড়ার পাশাপাশি অনেক পরিশ্রম করে নিজের একটা বিজনেস শুরু করে।
 পড়াশোনার পাশাপাশি সেটাও চালিয়ে যায়।তারপর একদিন বাড়ি থেকে খবর এলো যে ফাহাদ নাকি গুরুতরভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছে তারপর সেখানে গিয়ে তার ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তার পুরো দুনিয়াই থমকে গিয়েছিলো।
 ছোটবেলা থেকেই এইভাই তার ভাই কম বন্ধু হিসেবে বেশি মিশেছে।একে অপরের সাথে সব সেয়ার করতো।
সেই ভাইয়ের রক্ত দেখে তার মাথায় আগুন চড়ে যায়।সে তার ভাইয়ের বেস্ট ফেরেন্ড এর কারন কিরনকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার ভাইয়ের সাথে একটা মেয়ের সম্পর্ক ছিলো তার সেই সে মেয়ে অন্য ছেলের সাথে পরকিয়ায় সম্পর্কে জরায়।
 আর একদিন ফাহাদ হাতেনাতে তাদেরকে ধরে ফেলে।তারপর তার ওয়াইফকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।আর সেদিন থেকে ফাহাদ নিজের কষ্ট কমানোর জন্য ড্রাগ এডিকটেড হয়।দিনে দুপুরে ড্রাগ নিতে থাকে। আর একদিন অতিরিক্ত নেশা করা অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে তার বড়সড় একটা কার এক্সিডেন্ট হয়।
আর পরে ডাক্তার জানায় সে কোমায় চলে যায়।এসব শুনে আবরাহাম ওই মেয়ের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে কিন্তু তারপর একদিন তার ব্যাপারে খোঁজখবর পর নেওয়ার পর জানতে পারে সে মেয়ে আর কেউ না তার ভালোবাসার মানুষ তার প্রিয়তমা স্ত্রীর বড়বোন। 
তখন থেকে সে মিহিকে কষ্ট দিয়ে তার বোনের থেকে প্রতিশোধ নিতে চাইতো। তবে তার সামনে গিয়ে তাকে কষ্ট দেওয়া তো দূর উল্টো তার কষ্ট দেখে নিজেই কষ্ট পেতো।ভীষণভাবে ভালোবাসে সে তার মিহুপাখিকে।তাকে কষ্ট কীভাবে দিবে। এইভাবেই সুখে দুঃখে ভালোই কাটছিলো তাদের সংসার। তবে আসল সমস্যা তৈরী হলো সেইদিন যেদিন থেকে ওই অচেনা লোকের কালো ছায়া পড়লো তাদের হাসিখুশি সাজানো সংসারের উপর ,একটা মুহুূর্তে সব শেষ করে দিলো। 
তবে আবরাহামের মিহির সাথে সম্পর্কে জারানোর পর থেকে তার বোনের সম্পর্কে যতটুকু শুনেছে তাতে তার বোনের মতো মেয়ে কখনোই পরকীয়াতে জরানোর মতো মেয়ে না। তাহলে কি হয়েছিলো তাদের সাথে।আবরাহামের এখন মনে হয় এদের সম্পর্ক নষ্ট করার পেছনেও কারো হাত আছে।তাকে আরো একটু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষন করতে হবে তাহলে সেই অচেনা লোককে তারা ধরতে পারবে।
নিজের কেবিনের চেয়ারে হেলানরত অবস্থায় এসবি ভাছিলো আবরাহাম তবে তার ভাবনার অবসান ঘটে মেয়েলি কারো আওয়াজে,
~স্যার আপনাকে অরুন স্যার ডেকেছে নিজের কেবিনে বোধহয় ফাহাদ স্যারের ব্যাপারে কিছু বলবে।~
 ~আচ্ছা মিস সোনালী ( একজন নার্স)আপনি যান আমি একটু পর যাচ্ছি ~
~ওকে স্যার,, 
নার্সটি চলে যেতেই আবরাহাম নিজের কেবিনের সাথে এটাস্ট ওয়াশরুমে গিয়ে হাত মুখে পানি দিয়ে নিজেকে পরিপাটি করে নিলো। কারন এটা তার প্রফেশনাল জায়গা এখানে সে নিজের ভঙ্গুর রুপ কাউকে দেখাতে চায়না। সে নিজের প্রফেশনাল জায়গায় নিজের পার্সোনাল বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আসতে চায়না।দুটো দুইজায়গায় রাখতেই সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রফেশনাল লুকে প্রস্তুত করে নিয়ে, ফাহাদের ডক্টর অরুন চক্রবর্তীর রুমে দিকে গিয়ে তার দরজায় নক করলো। তিনি তাকে ঢোকার অনুমতি দিলো।তারপর বললো,
~ দেখো আবরাহাম দীর্ঘদিন ধরেই তো আমি ফাহাদে চিকিৎসা করছি তবে ওর কোনো ইমপ্রুভমেন্ট টের পাচ্ছিনা তাই আমি বলবো কি ওকে নিয়ে তুমি সিঙ্গাপুরের *** হাসপাতালে নিয়ে যাও ওখানে আমার পরিচিত একজন ***বিষয়ক স্পেশালিষ্ট আছে।তাকে দেখাও ফাহাদ অবশ্যই ও সুস্থ হয়ে যাবে।,,
ডক্টরের কথা শুনে আবরাহাম সম্মতি সূচক মাথা নাড়ালো।এবং ফাহাদের দ্রুত সুস্থ হয়ে যাওয়ার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলো।  
সে মিহিয়ার কেবিনে আবারও গেলো তবে তার সাথে একটা কথাও না বলে,সরাসরি রিদির দিকে এগিয়ে গিয়ে নিয়ে তার হাত ধরে তাকে একটা কেবিনে নিয়ে গেলো।আর কেবিনে গিয়ে রিদি যাকে দেখলো তাতে তার পুরো দুনিয়া থমকে গেলো। 
আর মিহিয়া বাচ্চাদের ফিডিং করাচ্ছিলো। আবরাহামকে এভাবে রিদিকে টেনে নিয়ে যাওয়াতে সে বেশ অবাক হলো।🦋🦋🦋
চলবে,
(আমি প্রচন্ড অসুস্থ তাই দিতে দেরি হয়ে গেলো, আস্তে আস্তে রহস্যের জাল খুলবো ইনশাআল্লাহ। তবে আজকের পর্ব কেমন হলো অবশ্যই জানাবে কেমন।ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে, হ্যাপি রিডিং। কালকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই মিহিয়ার ছানা-পোনা স্পেশাল একটা পার্ট দিতে পারি যদি একটু সুস্থ হই।তবে অবশ্যই চেষ্টা করবো)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন