ফন্ট সাইজ:
থিম:
হারিয়ে বুঝেছি কি ছিলে তুমি আমার

১৬তম পর্ব

লেখক: আইশা নওমী

#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার 

#লেখিকা: #আইশা_নওমী
#পর্বঃ১৫
(কপিরাইট সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ⚔️⚔️)
🍁🍁🍁🍁🍁
**************
আবরাহাম রিদিকে টেনে এনে ফাহাদের রুমে এনে বললো,
~দেখুন কি হাল করেছেন আপনি আমার ভাইয়ের। দেখতে পাচ্ছেন? কেন ঠকিয়েছেন আপনি আমার ভাইকে বলুন? কেন ঠকিয়েছেন? দেখতে পাচ্ছেন আপনার দেওয়া ধোকা জন্য আমার ভাই প্রতিনিয়তোই মৃত্যুর সাথে লড়াই করে যাচ্ছে,বাচার মরার মাঝে ঝুলে আছে সে।,, 
আবরাহামের কোনো কথাই যেনো রিদির কানে যাচ্ছে না যেনো সে শুনতে পাচ্ছে না। চোখের সামনে নিজের ভালোবাসার মানুষের এই করুণ পরিনতি যেনো মেনেই নিতে পারছেনা।
সে কাঁপা কাঁপা হাতে ফাহাদের মুখের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
~ওর এই অবস্থা কেনো? আমি তো ভেবেছিলাম আমার থেকে মুক্তি পেয়ে ভালোই থাকবে হয়তো,তাইতো ওকে ছেড়েছিলাম। যাতে ও সুখে থাকে,ভালো থাকে তাহলে আজ ওর এই অবস্থা কেমন করে হলো বলো ফাহিম।
রিদির কথায় আবরাহাম একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,
~আপনার সেই প্রতারণা আমার ভাই সইতে না পেরে আমার ভাই প্রতিদিন ড্রাগ নিতো আর সেইজন্যই হয়তো আজ ওর এই অবস্থা। আমাকে দয়া করে বলবেন আপনাদের সাথে ঠিক কি হয়েছিলো যার জন্য আপনাদের এত সুন্দর সম্পর্কের আজ এই পরিনতি।কারণ আমি মিহির কাছে আপনার সম্পর্কে যতটুকু শুনেছি তাতে আপনি ওইরকম টাইপের মেয়ে না, । প্লিজ চুপ করে না থেকে আমাকে বলুন আপনাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিলো কেন ??কারন আমার কেনো মনে হচ্ছে আপনাদের সাথে ঠিক সেইম ঘটনা ঘটেছিলো যা আমার ও মিহির সাথে হয়েছিলো।,,
আবরাহাম এর কথায় রিদি নিজের সাথে হয়ে যাওয়া সকল ঘটনা ভাবতে শুরু করলো,
★★
খুব অল্প বয়সেই একটা কার এক্সিডেন্টে নিজের বাবা মাকে হারায় রিদি।বোনের তখন সবে মাএ ১০ বছর বয়স আর তার বড়োজোর ১৮ থেকে ১৯ এর মধ্যে হবে।সেই সময় মাবাবাকে হারিয়ে মেয়েটা মানসিক ভাবে একদম ভেঙে পড়েছিলো,। 
এত অল্প বয়সে সকালে সংসার ও ছোট্ট বোনকে সামলাতে মেয়েটা হিমশিম খেয়ে যেতো,নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার সময়ই পেতো না, ভার্সিটিতে গিয়ে সারাক্ষণ চুপ থাকতো। ভুলবশত একদিন পিরিয়ডের সময়ে নিজের সেফটি না নিয়ে এসে পড়েছিলো সাদা জামা থাকায় তার জামায় পিছনে দাগ লেগে যায় যা সে খেয়াল করেনি।ভার্সিটির ক্লাস শেষে সে যখন বাড়িতে ফিরছিলো ঠিক সেই সময় সকলে তার পিছনে পিরিয়ডের দাগ দেখে হাসি তামাশা করছিলো।
রিদি ভয়ে লজ্জায় তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসতেছিলো ঠিক সেই সময় একজন ছেলে তার সামনে গিয়ে দাড়ায় এবং তার গায়ের শার্ট খুলে রিদির কোমরে বেধে দেয় যাতে তাকে আর কোনো রকম অসস্থিতে পড়তে না হয় তারপর সবাই কে ধমকিয়ে ক্লাসরুমে পাঠিয়ে দেয়।
প্রথম দেখাতেই রিদি লোকটার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছিলো।তারপর ২য় দিন এসে জানতে পারে ছেলেটা তার ক্যাম্পাসের সিনিয়র আবরার ফাহাদ চৌধুরী । 
তারপর তাদের দুজনের মধ্যে একটা গভীর বন্ধুত্ব তৈরী হয় যাতে করে একপর্যায়ে তারা ভালোবাসার সম্পর্কে এ জরিয়ে পড়ে,পরস্পরকে পাগলের মতো ভালোবেসে ফেলে। দীর্ঘদিন প্রেম করার পর মিহির প্রাপ্ত বয়স হওয়ার পর তারা বিয়ে করে নেয়।
কারণ রিদি নিজের এত ছোট বোনকে ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি স্বার্থপরের মতো বিয়ে করতে সংসার করতে চায়নি।আর ফাহাদ ও তার এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন দেয়।মিহিয়ার ভার্সিটিতে উঠার পর, রিদি যখন দেখলো ও নিজের খেয়াল নিজে রাখতে পারছে। তখন সে ফাহাদ কে বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যায়। 
ভালোবেসে তারা নিজেদের সংসার গুছিয়ে নিতে থাকে।তবে ফাহাদের বাবা রিদিকে মেনে নেয়না। কারণ তাদের মতো হাই ক্লাস ফ্যামিলির সাথে উচ্চ- মধ্যবৃওের রিদিয়াকে যায় না,সে ফাহাদের সাথে তার বড় বোনের মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ফাহাদকে এব্যাপারে বললে সে নাকোচ করে রিদির কথা জানায়।
কিন্তু তার বাবা তাকে জোর করে বোনের মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে চাইলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে।এবং রিদিয়ার সাথে নতুন করে সংসার সাজায়।আলাদা ফ্ল্যাট নেয়, ছোটো খাটো একটা চাকরি করে নিজেদের সংসার চালায়।রিদি নিজের বিজনেস এর টাকা আবরার কে দিতে চাইলেও সে নেয়না,সম্পূর্ণ নিষেধ করে দেয়,দায়িত্ব নিয়েছে সে রিদির সে কেনো তার বাবার বাড়ির টাকা দিয়ে তার সংসার চালাবে,এটা তো পরোক্ষভাবে যৌতুকের মতো হয়ে গেলো।সুখে দুঃখে এইভাবেই চলছিলো তাদের ছোট্ট সংসার তবে,
  
বিয়ের একবছর পর আচমকাই কেমন যেনো বদলে যেতে শুরু করে, যখন বাসায় প্রায়শই ফাহাদ তার ক্লোজ বন্ধু কিরন তাদের বাসায় নিয়ে আসলো, সবকিছু কেমন যেনো বদলে যতে শুরু করলো।
ফাহাদের প্রায়ই রাত করে বাসায় আসতো আর তার বন্ধু কিরন ও এই সুযোগে প্রতিদিন তাদের বাসায় আসতো এটা সেটার বাহানায় ব্যাপারটা প্রথম প্রথম স্বাভাবিকভাবে নিলেও একদিন সে ফাহাদকে প্রশ্ন করলে ফাহাদ ঝামেলা শুরু করে দেয় তাকে এটা সেটা বলে পরে আবার ক্ষমা চেয়ে ঠিক করে নেয়। 
আর ফাহাদ কিরণকে তাদের বাসায় যেতে নিষেধ করে দেয়।এমনি করেই আবারও তাদের সংসারে সবকিছু ভালোই চলছিলো। তবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন কিরণ আবারো রিদিদের বাসায় যায় আর তার মুখে ক্লোরোফোম দিয়ে অজ্ঞান করে।ফাহাদ বাড়ি ফিরে নিজের বেড রুম হতে বেরিয়ে যেতে দেখে সে সেখানে গিয়ে রিদিকে অত্যন্ত এলোমেলো অবস্থায় দেখে নিজের চোখকে যেনো বিশ্বাস করতে পারে না।
তারপর তার যখন ফেরে সে দেখে ফাহাদ তার দিকে কেমন অবিশ্বাসের মতো তাকিয়ে আছে।
সে চোখে জল নিয়ে বললো,
~তুমি আমার সাথে এমনটা করতে পারলে, রিদি,আমি তো তোমাকে নিজের সবটা দিয়ে ভালোবেসেছিলাম তারপরেও তুমি কীভাবে পারলে আমাকে রেখে অন্যজনের সাথে পরকীয়ায় জোরাতে,প্রায়ই আমার ফোনে কোনো এক আননোন নাম্বারে তোমার ও কিরনের ছবি আসতো আমি বিশ্বাস করিনি কিন্তু কারন আমার তোমার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিলো।যে পুরো পৃথিবীর আমায় ঠকালেও আমার রিদি পাখি আমায় ঠকাবে না। কিন্তু আজ তুমিও প্রমাণ করলে যে অর্থের কাছে অনেক সময় ভালোবাসাও ফিকে হয়ে যায়।,,
~ তুমি আমাকে অবিশ্বাস করছো??ফাহাদ,,
~আমিতো তোমাকে অবিশ্বাস করছি না অবিশ্বাস করছি নিজেকে অক্ষমতাকে।আমি হয়তো তোমাকে ঠিকমতো সুখে রাখতে পারিনি তাই তুমি এমন পরকীয়াতে জরিয়েছো।প্লিজ আমাকে একা ছেড়ে দাও।চলে যাও তুমি আমার জীবন থেকে। যদি আমার মরা মুখ দেখতে না চাও তাহলে চলে যাও আমার জীবন থেকে তোমার মুখটাও আমি দেখতে চাইনা,,
ফাহাদের কথা শুনে রিদি আর একমুহূর্তও দাড়ায় না চলে আসে ফাহাদের বাসা থেকে।🍀🕊️🕊️
#হারিয়ে_বুঝেছি_কি_ছিলে_তুমি_আমার 
#লেখিকা: #আইশা_নওমী
#পর্বঃ১৬
(কপিরাইট সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ⚔️⚔️)
🍁🍁🍁🍁🍁
"তারপর রিদি ফাহাদের বাসা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের বোনের কাছে চলে আসে।প্রথম প্রথম সে অনেক ভেঙে পড়তো।মনও চাইতো নিজেকে শেষ করে দিতে কিন্তু পরক্ষনেই বোনের কথা ভেবে নিজেকে শান্ত করতো।বাই এনি চান্স তার যদি কিছু হয়ে যায় তার এই ছোট্ট বোনকে কে দেখবে। 
বাবা মাকে কথা দিয়েছিলো সে তাদের কিছু হলে সে মিহিকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখবে।কখনো একা ছেড়ে দিবে না। তাই প্রতিবার আত্মহত্যা করার আগে নিজেকে এই ভেবে সান্ত্বনা দিতো যে তার বোনের জন্য তাকে বাঁচতে হবে কোনো কাপুরুষের জন্য নিজেকে কেনো সে মেরে ফেলবে।
তবে বেশ কিছুদিন পর নিজের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন টের পায় যেমন ঘন ঘন বমি হওয়া,মাথা ঘোরা,শরীর প্রায়শই দূর্বল হওয়া ইত্যাদি। রোগ যেন তার পিছুই ছাড়ছে না।তারপর একদিন হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে যায়।তা দেখে মিহি রিদিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।তারপর সে ডাক্তারের কাছে জানতে পারে সে প্রেগন্যান্ট।কথাটা শোনার সাথে সাথেই সে এর্বোশন করতে চায় কিন্তু মিহির জন্য পারে।মিহিয়া তাকে নিজের কসম দেয় বাচ্চাটাকে মেরে না ফেলার জন্য। 
বোনের কথা শুনে রিদিও মেনে নেয় তার সিদ্ধান্ত কারন এই নিষ্পাপ বাচ্চাটার তো আর কোনো দোষ নেই।তাই একটা নিষ্পাপ প্রানকে মেরে ফেলে আরো পাপের বোঝা ভারী করতে চায়না।কিন্তু বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি সে নিজের বাবার ছোট্ট বিজনেসটাকেও সামলায় এবং তার একটা শক্ত অবস্থান করে নেয়। 
নিজেকে একজন সফল ওম্যান ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় করায়।এখন সে একজন সফল বিজনেস ওম্যান।তার আন্ডারে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে।এখন আর কেউ তাদেরকে দেখে মধ্যবৃও বলে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে না।সবাই সম্মান করে,তাদের স্ট্যাটাস দেখে,টাকা।নিজেকে এই জায়গায় এনেছে কতটা কষ্ট করে যে সেটা শুরু সে আর তার পরিবারই জানে। ছোট্ট বাচ্চাটাকে সামলিয়ে, বিজনেস করাটা যে কতটা লড়াইয়ের তা একমাএ বিজনেস ওম্যান রাই জানে একজন নারী ছাড়া কেউ জানেনা। যখনি সে দূর্বল হয়ে পড়তো তখনি তার ছোট্ট বোন তাকে মানসিকভাবে অনেক সাপোর্ট করতো।তাকে শক্ত হতে সাহায্য করতো।তার ছোট্ট বাচ্চাকে সামলাতো,কাঁচা হাতে রান্নাও করতো।বোনটা ছিলো বলেি সে এখনো এই পৃথিবীতে বেচে আছে।বোনটা ও তার ছেলেটাই তার বেঁচে থাকার কারন।,,
(এজন্যই সবার জীবনে রিদির মতো বড় বোন ও মিহি মতো ছোট বোন থাকা দরকার।) 
**************
মিহিয়া আবরাহাম কে তার ও ফাহাদের সম্পর্ক নিয়ে শর্টকার্ট এ যতটুকু না বললেই নয় সেটুকুই বললো।
তারপর তার উদ্দেশ্য করে বললো,
~সুস্থ করার জন্য নিশ্চয়ই তাকে উন্নত দেশে নিয়ে যাবে। ভালো কথা,সুস্থ হলে তাকে একটা প্রশ্ন করো কেমন যে আমি তাকে ঠকিয়েছি নাকি সে নিজে নিজে ঠকে গেছে।আর এই অবিশ্বাসের দিক থেকে তোমরা দুইভাই একি রকম নিজেদের ভালোবাসার মানুষের প্রতি সামান্য বিশ্বাস টুকুও নাই।তুমি যদিও তোমার ভাইয়ের মতো ভালোবাসার মানুষটাকে কষ্ট দাওনি। তাকে ও তার অনাগত সন্তানের ভালোর জন্য ওসব করেছো।কিন্তু তুমি চাইলেই ও সাথে সেয়ার করতে পারতে।যাই হোক ভালো থেকো আর নিজের ভাইয়ের খেয়াল রেখো।দোয়া করি, সে যেনো দ্রুতই সুস্থ হয়ে যায়।,,
বলেই রিদি আর একমূর্হুতোও দেরি না করে চলে গেলো।আর আবরাহাম রিদির কথায় বেশ কিছুক্ষন ভাবলো।তার পকেট থেকে ফোন বের করে একজন কে ফোন দিয়ে বললো,
~শোন আরিফ আমি একজনের ছবি পাঠাচ্ছি ওরে ধরে আমার পুরতন গোডাউন এ নিয়ে আয় কেমন।~
আরিফ ও বসের কথায় সম্মতি জানালো।
আরিফ:"আচ্ছা বস।আপনি যেভাবে বললেন ঠিক সেভাবেই ওরে তুলে আনবো। ~
আরো কিছুক্ষন আরিফের সাথে কথা বলে আবরাহাম ফোনটা কেটে দিয়ে নিজের প্যান্টের দুইপকেটে হাত ঢুকিয়ে বেশ সুন্দর ম্যানলি ক্যাজুয়ালি ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময়ী হেসে বললো,
~ফাইনালি মিস্টার ভিলেন আপনাকে ধরার কিছু ক্লু পেয়েছি। আপনার জন্য আমি আমার জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি।চেয়েও আমার নিজের সন্তানদেরকে আমি ছুঁয়ে দেখতে পারছি না।আমার অর্ধাঙ্গিনীর এই খারাপ সময়ে তার পাশে থাকতে পারছি না।নিজের সন্তানদের ছোট্ট ছোট্ট হাত পা গুলো স্পর্শ করতে পারছি না, তাদের কোলে নিতে পারছি না,তাদের গায়ের মিষ্টি গন্ধ শুকতে পারছি না,। নিজের প্রিয়তমা সেবা করতে পারছিনা। এটা যে একজন স্বামী ও পিতার জন্য কতবড় হতভাগ্য সেটা সেই পুরুষটা ছাড়া কেউ বুঝবে না।~,,
বলেই নিজের গোপাপী অধরজোরা কামড়ে ধরে নিজের কান্না লুকানোর মিছামিছি চেষ্টা করলো তবে পারলো কই দুই চোখের কোনা দিয়ে ঠিকি দুফোটা জল গড়িয়ে পড়লো। নাক টেনে নিজেকে শান্ত করে রহস্যময় একটা হাসি হেসে বললো,
~আপনি কী ভেবেছেন আমি আপনাকে আমি সারাজীবন খুঁজে পাবোনা। খুঁজে তো আমি আপনাকে বের করবোই সেই সাথে এমন শাস্তি আমি আপনাকে দিবো যে সারাজীবন তা মনে রাখবেন।আপনার জন্য অনেকগুলো সুন্দর সম্পর্কে ফাটল ধরছে। আপনার করা প্রতিটি অপরাধের হিসাব আমি কড়ায় গন্ডায় তুলবো শুধু সময়ের অপেক্ষা।,, 
(নোট: নিচের অংশে একটু অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে) 
*********
রিদিয়া ফাহাদের কেবিন থেকে বেরিয়ে মিহিয়ার কেবিনে গিয়ে দ্রুত ওয়াসরুমে চলে গেলো।তারপর নিজের ভিতরে আটকে রাখা কান্নাগুলো বের করে দিলো।ওয়ারুমের এককোনে বসে হু হু করে কেঁদে উঠলো। মিহিয়া বাচ্চাদের খাইয়ে তাদের সাথে খেলছিলো। কিন্তু বোনকে হঠাৎ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে ওয়াশরুমে ডুকে যেতে দেখে সে বাচ্চাদের একসাথে শুইয়ে দিয়ে বেডের দুপাশে বড় বড় কোলবালিশ দিলো যাতে পড়ে না যায়। 
তারপর ওয়াসরুমে ঢুকে দেখলো তার বোন কোনে বসে হাঁটুতে মাথা ঠেকিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে।যা দেখে মিহি বোনের কাছে গিয়ে তাকে জরিয়ে ধরে তাকে শান্ত করতে লাগলো।তারপর তাকে জরিয়ে ধরে ধরে বেডে নিয়ে এসে বাচ্চাদের একপাশে শুইয়ে দিলো। তারপরও রিদি হালকা হিচকি তুলে কাদছিলো।বাচ্চাগুলো পাশে মুখে আঙুল ঠুকিয়ে তা চুসছিলো কিন্তু রিদিকে কাঁদতে দেখে তারাও ভয় পেয়ে তিনজনই ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে উঠলো।
যা দেখে মিহিয়া তাদের চুপ করাতে গেলো কিন্তু একসাথে সে তিনজনকে সামলাতে হিমসিম খেতে লাগলো। কাকে ছেড়ে কাকে সামলাবে।তিনটা বাচ্চাকে কাঁদতে দেখে রিদিয়াও কান্না থামিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে আহান ও আরিদকে কোলে নিয়ে শান্ত করতে লাগলো।আর বাচ্চারাও শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেলো রিদিয়ার কোলে,রিদিয়া তাদেরকে শুইয়ে দিলো সাবধানে ।
আর আফরাকে থামাতে মিহিয়া তাকে ফিডিং করাতে লাগলো। কিন্তু আফরার কান্না থামছেই না।সে গুনগুনিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের দুধ খেতে খেতে ঘুমিয়ে গেলো। মিহিয়া তাকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে বোনের কাছে গিয়ে তাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো।
★★
আবরাহামের কথামতো আরিফ কিরনকে ধরে নিজেদের গোডাউন এ নিয়ে এসেছে। ওর মুখটা বাঁধা রুমাল দিয়ে,হাঁত-পা বাঁধা হয়েছে অনেক শক্ত করে নাইলন দড়ি দিয়ে,নড়াচড়া করার কারনে তার হাত ছিলে গেছে।কিছুক্ষণ পর আবরাহাম গোডাউনে প্রবেশ করে তার মুখটা খুলে দিলো তারপর তাকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি খাইয়ে দিয়ে বললো,
~এবার সুন্দর মতো বলে ফেলো তো বাবা, তুমি ফাহাদ ভাই ও ভাবির মাঝে ঝামেলা কেনো বাঁধিয়েছো বাবা,লক্ষী ছেলের মতো বলে ফেলো বাবু।,,
~কি বলছো ফাহিম আমি কেনো ওদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করবো।ও আমার বেস্ট ফেরেন্ড। 
কিরন নিজের হয়ে সাফাই গাইতে গাইতে বললো।তবে কিরনের এত ভালো সাজার নাটক দেখে, আবরাহাম নিজের চেয়ারটা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের কোমড়ে দুইহাত দিয়ে হো হো করে হাসতে লাগলো। হাসতে হাসতে হঠাৎ তার চোখের রঙ বদলে গেলো।সে রেগে গিয়ে নিজের বা হাত দিয়ে কিরনের শার্টের কলার ধরে ডান হাত দিয়ে ইচ্ছামতো থাপ্পড় দিতে লাগলো।তারপর ততক্ষণ পর্যন্ত মারতে লাগলো 
যতক্ষণ পর্যন্ত সে মুখ না খুলে। মারতে মারতে আধমরা বানিয়ে ফেললো তাকে।আর মার সহ্য করতে না পেরে কিরন হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
~ বলছি! বলছি! প্লিজ আর মেরো না।আর সহ্য করতে পারছিনা।আমি একজনের কথায় ওদের সাথে এইরকম করেছি।আমার বউ বাচ্চা আছে প্লিজ আর মেরোনা।তোমার ছেলে-মেয়ের বয়সী আমার ও একটা মেয়ে আছে প্লিজ আমায় ছেড়ে দিন?~
আবরাহাম:~ঠিক আছে ছেড়ে দিবো কিন্তু তার আগে বল রিদি ভাবির সাথে তুই কি করছিস আর এসবের পেছনে কে আছে।বল~
কিরণ ভয়ে ভয়ে বললো,
~আমি সেদিন রিদিকে ক্লোরোফোম দিয়ে জাস্ট অজ্ঞান করে ওর চুল, কাপড় এলোমেলো করে দিয়ে,লিপস্টিক মুছে নিজের গায়ে লাগিয়েছিলাম। তারপর ওইলোক আমাদের জরিয়ে ধরা কিছু ছবি পাঠিয়ে দেই। ওইলোক ফাহাদের ফোন পাঠিয়ে দেয় আর ফাহাদ বাড়িতে এসে আমাদের জরিয়ে ধরা অবস্থায় দেখে। তারপর সত্যি মনে করে,রিদিকে বাজে কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।তারপর রিদি চলে যাওয়ার পর আমিই লোকটার কথায় ফাহাদকে রোজ রোজ ড্রাগ নিতে বলতাম।যার ফলে রিদিয়ার কষ্ট ভুলতে সে প্রতিদিন ড্রাগ নেওয়া শুরু করে আর সেদিন আমি লোকটার সাথে কথা বলছিলাম যার পুরেটাই ফাহাদ শুনে ফেলে।
 আর আমি তাকে আটকানোর জন্য পেরালাইসড হওয়ার ইনজেকশদিয়ে ইচ্ছে করে তাকে মেরে রক্তাক্ত করে তোমাকে জানিয়ে দেই যে ও রিদিয়ার ধোঁকা খেয়ে ড্রাংক হয়ে গাড়ি চালানোর কারনে এক্সিডেন্ট হয় আর রিদিয়ার ছেলেটা ফাহাদের ছেলে।রিদিয়া কারো সাথে কোনো পরকিয়াতে জরায়নি।ওকে ওই লোক ফাঁসিয়েছিলো~
 
কিরনের কথা শুনে আবরাহাম অনেক রেগে গিয়ে আরো পেটাতে থাকে তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলে
~এই বেজন্মা কীট, মাদা*চ*, বাহাইন***দ,বল তোকে এসব বলতে কে করতে বলেছে!বল না হলে সা**উয়া ফাটাইয়া দিবো।~
আবরাহাম এর কথায় কিরন ওকে ওই লোকের নাম বলে দেয় যা দেখে আবরাহাম একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,
~পিছন থেকে ছুড়িটা তাহলে আপনজনি মারলো।
****
আবরাহাম গোডাউন থেকে বেরিয়ে এসে মিহিয়ার কেবিনে ঢুকে মিহিয়ার সাথে একজনকে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে তার হৃদয়ে প্রতিহিংসার আগুন দাউদাউ করে জ্বল করে উঠলো। সে রেগে গিয়ে মিহিয়ার দিকে তেড়ে গেলো। 🕊️🕊️🕊️
চলবে, 
(আজকে অন্যদিনের তুলনায় বিশাল বড় পর্ব দিয়েছি তাই ১'৫ কে নাহলে গল্প চাইবেন না আমি দিবো না। গত ১২ পর্ব থেকে ১৫ পর্ব পযন্ত আপনারা এতগুলো লোক পড়ে মাএ ৬০০ রিয়াক্ট করেছেন।কিচু বলার নাই আমার পাঠকদের। 🙄😔😔😔।
আগামী ১৭ পর্বে মেইন ভিলেন আসবে)
(আজকে কে জানি জ্বলছে🤣🤣🤣🤣।পোলাডা আর ভালো হইলো নাহ,রিচেক করার সময় নাই প্লিজ মানিয়ে নাও আমার বাটারফ্লাইরা, হ্যাপি রিডিং পাখিরা 🥱🥱🥱🥱🥱)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন