ফন্ট সাইজ:
থিম:
আকাশপ্রিয়া

৩৫তম পর্ব

লেখক: দুর এ দিলশাদ দুআ

#আকাশপ্রিয়া

#পর্ব_৩৫ (প্রথম অংশ)

#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ ]

বসন্তের শেষ ভাগ।পাতাঝরা মৌসুমের সমাপ্তি ঘটে গাছে গাছে নতুন সবুজের সমাহার এখন।প্রিয়াদের কটেজের আশপাশ টা এখন অন্য রকম লাগে।আশেপাশে বনবাদাড় একপ্রকার। তার মাঝে সাজসজ্জা সম্মত কয়েকটি উন্নত মানের কটেজ।এতদিন বেশিরভাগ গাছেরই পাতা ঝড়ে গিয়েছিলে,এখন নিয়মমাফিক নতুন পাতা গজাচ্ছে।

এলোমেলো বাতাসে এক নিমিষেই হৃদয় শীতল করে।

কটেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়া।এই মূহুর্তে কটেজে সে বাদে আর কেউ নেই।কক্সবাজার থেকে ফিরেছে তারা প্রায় পনেরো দিন হয়েছে।ঘোরাঘুরি শেষে ফিরেই সবাই পুনরায় ব্যাস্ততায়।সামনে মাসে প্রিয়ার ভর্তি পরীক্ষার ডেট।মোটামুটি তাকেও ব্যাস্ততার ওপরেই থাকতে হয়।নিয়ম করে রিমির কাছ থেকে নোট সংগ্রহ, পড়াশোনা এই করেই তার দিন কাটছে।আকাশের দেখা মেলে একমাত্র রাতেই।ডিনার টেবিলে।তাও সেটাও কালেভদ্রে। বেশিরভাগ সময়ই বেশ রাতে ফেরে সবাই।প্রজেক্ট এর কাজ এখন পিক পয়েন্টে।সবার ব্যাস্ততা তুঙ্গে।সবাই একসাথেই ফেরে বেশির ভাগ দিন।ততক্ষণ অবশ্য প্রিয়ার একা একাই সময় কাটে।প্রিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে।আকাশের ওপরে ভয়াবহ রেগে সে।কক্সবাজার থেকে আসার পর থেকে লোকটার সাথে একটু দশ মিনিট সময়ও কাটাতে পারে না সে,আর না তো দু দন্ড শান্তিতে মানুষ টাকে দেখতে পারে।এতো কিসের ব্যাস্ততা মাথায় ঢোকে না তার।

তবে অসভ্য মানুষটা যে নিয়ম করে তাকে দেখে সে সেটা টের পায়।রোজ রাতে তার ঘরে আসে।খোলা জানালা আটকানো পায় রোজ সকালে।কখনো মশারি টাঙানো থাকে,এসির পাওয়ার কমবেশি করা থাকে,গায়ে সুন্দর মতো কাঁথা ঢাকা থাকে।শিয়া কে জিজ্ঞেস করেছে সে।শিয়া করেনি এসব।অবশ্য জবাবে তাকে হেসে এড়িয়ে যাওয়া দেখেই সবটা আন্দাজ করে নিয়েছে সে।প্রতি রাতে অপেক্ষা করে মানুষ টার জন্য। একনজর দেখতে,অথচ অপেক্ষা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে যায় টেরই পায়না।

গাল ফুললাো প্রিয়া,গাছের আগায় কি সুন্দর একজোড়া পাখি বসে আছে।পাশেই পাখিদের বাসাটা।কি সুন্দর সংসার।শিয়া তাও অয়ন ভাইয়ের সাথে সারাক্ষণ থাকে।অফিসে একসাথেই কাজকারবার। তাদের সর্বক্ষণ দেখা সাক্ষাৎ হয়,একে অপরকে মিস করার সময়ই বোধহয় পায়না।অন্তত শত কাজের পর ভালোবাসার মানুষ টাকে চোখের সামনে দেখতে তো পায়।তার সে কপালও নেই।দুদিন হলো দরজা লক করে ঘুমায় সে।বিধায় আকাশের সাথে দুদিিন হলো জ্ঞানে অজ্ঞানে কোনো ভাবেই তার সাক্ষাৎ হচ্ছে না।বুকটা যন্ত্রণা করে মানুষ টাকে না দেখতে পেলে,রাগ করে সে থাকতে পারে না।প্রিয়া ঠিক করেছে আজ যে করেই হোক,রাত জাগবে,দেখবে আকাশ সত্যি তার রুমে আসে কিনা,আসলে সে মোটেই আহ্লাদ করবে না আজ।উচিত শিক্ষা দেবে একদম।

____

“আসবো?”

অফিসের দরজায় চিরপরিচিত কণ্ঠস্বরে মৃদু হাসলো অয়ন।গম্ভীর গলায় বললো,”আসুন।”

শিয়া একগাল হাসি হাসি মুখ নিয়ে দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো।হাতে একটা ফাইল।এগিয়ে এসে ডেস্কের ওপর ঠেলে দিলো অয়নের দিকে।অয়ন ল্যাপটেপের দিকে তাকিয়েই ফাইল হাতে নিলো।খুলে চেক করতে লাগলো একে একে সব পাতা।শিয়া ভ্রু জোড়া কোচকালো।কি ব্যাপার! অয়ন একবারও তাকালো না তার দিকে।অয়ন একেরপর এক দেখেই যাচ্ছে,ভুলেও শিয়ার দিকে তাকাচ্ছে না।শিয়া শব্দ করে চেয়ার টেনে মুখোমুখি বসলো।উহু তাও তাকাচ্ছে না।দু চার বার টেবিলের ওপর টকটক শব্দ করলো আঙুলের উল্টো পিঠ দিয়ে।এবারেরও না।বিরক্ত হলো শিয়া।এতো কি ইম্পরট্যান্ট ফাইল এটা!যে সে এসেছে তাও একবার মুখ তুলে তাকানো যাচ্ছে না।শিয়া আবার একই ভাবে দ্বিগুণ জোরে শব্দ করলো।অয়ন মনে মনে খুব হাসছে,ম্যাডাম ইগনোর নিতে পারছে না।শিয়ার এহেন কান্ডে গলায় আওয়াজ ভারি করলো,মুখ তুললো বস বস ভঙ্গিতে, মুখে কপট একরাশ বিরক্তি এনে বললো,”সমস্যা কি মিস ইনশিয়া! “

এ লোক বলে কি! শিয়া আকাশ থেকে পরলো এবার।তার সমস্যা! সমস্যা কি সে সেটা টের পাচ্ছে না?শিয়া রুমে এসেছে সেই কখন,ফাইল তো অযুহাত মাত্র,ওই ফাইল টা যে একদম ইম্পরট্যান্ট নয় এই মূহুর্তে, এটা এখন আনার কথা ছিলো না অ্য়ন কি সেটা টের পাচ্ছে না?এত মন দিয়ে দেখছে তাও সেটাই।সে এখানে নির্লজ্জের মতো কাজ বাদ দিয়ে এসেছে কার জন্য? তার জন্যই তো।শিয়ার মুখ ফোলালো,কপট রাগী গলায় বললো,”কিছু না স্যার।দয়া করে ফাইল টা দেখে দিন।আমি যাই।”

বলেই দাড়িয়ে পরে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হতেই অয়ন শব্দ করে হেসে কবজি টেনে ধরে।নিজে উঠে আসে চেয়ার থেকে পাশ ঘুরে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে শিয়াকে।শিয়া নিঃশব্দ হাসে,তবে প্রকাশ করে না।

“অফিসে এমপ্লয়ির সাথে এটা কি ধরনের ব্যাবহার স্যার।”

“অসভ্যতা?”

“নয়?”

“বউকে ভালোবাসা অসভ্যতা লাগে আপনার ম্যাডাম?”

“কে বউ কার বউ?”

“আমার বউ।অয়ন মেহনাজ চৌধুরির ওয়াইফ মিসেস ইনশিয়া মেহনাজ চৌধুরি।”

পরিচয় টা শিয়ার বুকে গিয়ে লেগেছে।একরাশ প্রশান্তি এসে ভর করেছে তার মধ্যে। হাসলো। তবে উল্টো থাকায় অয়নের চোখের আড়ালেই রইলো সেটা।শিয়া নড়াচড়া থামালো।অয়নেরএক হাত তার ডান হাত চেপে ধরে রাখা বুকের ওপর।অন্য হাত বা হাত চেপে পেটের ওপর।অয়ন চিবুক ঠেকালো শিয়ার উন্মুক্ত কাঁধে। চাপ দাড়ির খোঁচা লাগছে শিয়ার কাধে।শরীর শিরিশির করছে।বুকটা ধরফর করছে।এতগুলো বছর পার হয়ে গেছে তাদের।তার কিশোরি বয়সের প্রেম থেকে এখন দুজনেই ভয়াবহ ম্যাচুয়র।তবুও অয়ন যতবার কাছে আসে সেই প্রথম দিনের অনূভুতিতে ছেয়ে যায় মনটন।শিয়া চোখ বন্ধ করে রাখে।

“কখন হলায় মিস থেকে মিসেস?হুম?আমি চিরকুমারী। অযথা দুর্নাম করবেন না বললাম।”

“কুমারি? উমমম তা আছো।তবে তোমার এই কুমারি থাকার গৌরব আর হাতে গোনা কয়েকদিন ম্যাডাম।তারপর আয়োজন করে সে তকমা গা থেকে সরিয়ে হালাল কলঙ্ক লেপটে দেবো। “

“সে অধিকার আপনাকে দিলে তবে তো!ছাড়ুন। না হলে কেউ দেখে ফেললে কালকের খবরের হেডলাইন হবে চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিস এর বড় মালিক অয়ন মেহনাজ চৌধুরি এক এমপ্লয়ির সাথে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে অফিস কক্ষে ধরা।ছিহ্।আপনার মানসম্মান না থাকলেও আমার আছে।সরুন সরুন।”

অয়ন বাকা হাসলো।সরলো না একদমই,উল্টো আলতো চুমু আকলো কাঁধে। শিওড়ে উঠে শক্ত করে মুঠো করে নিলো নিজের হাত।অয়ন অনূভব করলো সবটাই।আরও গভীরে মিশিয়ে নিলো নিজের সাথে।

“ভালোবাসি শিয়া।খুব ভালোবাসি কিন্তু। “

শিয়া কিচ্ছু বললো না।বলতে পারলোই না।অয়নের স্পর্শে সে কাবু।

____

সুইজারল্যান্ড এর আকাশ আজ রোদ ঝলমলে।বাংলাদেশের মতো সময় অসময় বৃষ্টি এখানে হয় না। আনিসুল রহমান ব্যাস্ত পায়তারা করছে।আজ তার ইউনিভার্সিটি বন্ধ। সাপ্তাহিক ছুটির দিন আরকি।আনিসুল রহমানে স্ত্রী রেনুকা রহমান বসে আছেন সোফায়।অসহায় দৃষ্টিতে স্বামীর পায়চারি দেখছেন।বেশ কয়েকবার ডেকেছেনও একটু স্থির হয়ে বসতে,স্বামী তার কথা কানেই নিচ্ছেন না।একপর্যায়ে উঠে গিয়ে হাত ধরলেন আনিসুল সাহেবের।তিনি হতাশ নয়নে তাকালেন স্ত্রীর দিকে। টেনে এনে বসালেন স্বামী কে।হাতের ওপর হাত রাখলেন।নরম গলায় বললেন,”এতো অস্থির হওয়ার কারণ জানতে পারি?সেই সকাল থেকে এমন করছো।”

আনিসুল সাহেব তাকালেন না স্ত্রীর দিকে।মাথা নুয়িয়ে রাখলেন।ধীর গলায় বললেন,”মেয়ে দুটোর সঙ্গে কথা হয়েছে?”

রেনুকা মাথা নাড়লেন।”রাতেও তো হলো।মেয়েদের জন্য মন খারাপ করছে?”

আনিসুল সাহেব মলিন হাসলেন।”সে তো সবসময়ই করে।ওদের ছাড়া ভালো লাগে কখনো?”

রেনুকা রহমান নিজেও হাসালেন।সত্যিই তাই।প্রায় ছয় মাস হলো এসেছে। এতগুলো দিন মেয়েদের দেখেনি।মাথা হাতড়ে আদর করেনি।এ জীবনে কখনো এতদিন মেয়েদের ছাড়া থাকেন নি তারা।সাতকুলে নিজেদের আত্মীয় সজন কেউ নেই।বছর ত্রিশ আগে আনিসুল সাহেব কে ভালোবেসে বিয়ে করার অপরাধে তাদের পরিবার এর সাথে সম্পর্ক শেষ করতে হয়েছিলো। দুজনের কেউ অযোগ্য ছিলো না,আর নাতো একে অপরের পরিবার এর থেকে কেউ কারোর থেকে কম জৌলুশ এর ছিলো।কিন্তু সমস্যা টা বোধহয় সেটাই ছিলো।বেশি জৌলুশ। অতি রক্ষনশীল মুসলমান পরিবার।প্রেম ভালোবাসা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। তবে প্রেম ভালোবাসা কি বাধা মানে!দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেসময়।একই ব্যাচের।বন্ধুত্ব পরিনত হয় প্রনয়ে।পরিবার কে সাহস করে জানায় দুজনেই।মানতে পারেনি কোনো পরিবারই।আনিসুল সাহেবের পরিবার শেষমেশ মানতে চাইলেও প্রিয়ার মা রেনুকা রহমানের পরিবার কঠোর ভাবে নাকচ করে দেয়।অগত্যা আত্মমর্যাদায় আঘাত পান আনিসুল সাহেবের পরিবারও।একপ্রকার আটকে ফেলে দুজনকে।বিয়ে ঠিক করেন যার যার মতো।তবে সেসবের তোয়াক্কা করেননি দুজনের কেউই।তাদের ভালোবাসা না মানার মতো কিচ্ছু ছিলো না।অথচ পরিবার এর মিথ্যে অংকার,জেদের বসে সেই ভালোবাসা জলান্জলি দিতে দুজনের কেউই রাজি ছিলো না।এক কাপড়ে বাড়ি ছাড়েন একে অপরকে আকড়ে ধরে।সেই থেকে এতগুলো বছর পেরিয়ে গেছে,কেউই ফিরতে চায়নি নিজের পরিবারে।আর না তো তাদের পরিবার ও তাদের খোঁজ কখনো করেছে।

রেনুকা রহমান স্বামীর দিকে অনিমেষ তাকিয়ে থাকেন।এক পৃথিবী সুখ এনে দিয়েছে এই মানুষ টা তাকে।দু দুটো কন্যা সন্তাতের বাবা মা তার।পরিপূর্ণ সংসার তাদের।এক জীবনে কোনো আক্ষেপ করার সুযোগ দেয়নি।এই ত্রিশ বছরের একটা বারের জন্যও মনে হতে দেয়নি আনিসুল সাহেবের হাত ধরে বাড়ি ছাড়া তার ভুল ছিলো।একে অপরের সাথে ছায়ার মতো লেগে থেকেছে দুজন।এখন মুখে না বললেও দুজনই বুঝে যায় অপরজনের অস্থিরতা।

“বললে না কি হয়েছে?”

আনিসুল সাহেব দু হাতে মুখ ডলে।

“...আমি আমার মেয়ে দুটোকে সবসময় ওদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চেয়েছি।”

“দিয়েছোও তো।”

“দিয়েছি।আজীবন দেবো এই অঙ্গিকারও করেছি।ওরাও তাদের বাবার কথা সবসময় ভেবে এসেছে।”

রেনুকা রহমান চুপ করে শোনেন স্বামীর কথাগুলো।বোঝার চেষ্টা করেন।

“প্রিয়া টা ছোট।কিন্তু শিয়া বড় হয়েছে।যথেষ্ট বড় হয়েছে। তবুও আমি সেই মেন্টালির বাবা মোটেই নই যার এই সাতাশ বছরেই মেয়েকে বোঝা লাগবে,বিয়ে দিতে উঠেপড়ে লাগবো।”

“জানি তো সেটা।”

“ওদের যখন মনে হবে ওরা বিয়ে করতে চায়,জীবনসঙ্গী চায়,আমি আটকাবো না।চাই নি কখনো। কিন্তু…

“কিন্তু.?”

“আজগরের মা গতকাল রাতে ব্রেইন স্ট্রোক করেছে।আজগরের স্ত্রীরও তো ক্যান্সার।”

এতটকু বলে থামলেন তিনি।স্ত্রীর এবার বুঝতে বাকি রইলো না স্বামীর অস্থিরতার কারণ।কাঁধে হাত রাখলেন।

“ওরা কি এখনি শিয়া আর নিলয়ের বিয়ের কথা বলছে?”

আনিসুল রহমান মাথা নাড়লেন।রেনুকার মলিন মুখ আরও মলিন হলো।

“শিয়া বারবার না করছিলো। এখনই..

“ জানি।তার জন্যই আমি চিন্তিত।মেয়েটা চায়না এখন বিয়ে করতে।সবে ওর চাকরিটায় জয়েন করেছে।আরও সময় চেয়েছে আমার থেকে।তাছাড়া…

থামলেন খানিকক্ষণ। দম নিলেন।

“তাছাড়া আমর কেউই দেশে নেই।আমার মেয়েদের বিয়ে আমি দশ এলাকা জানিয়ে দেবো।ধুমধামে দেবো।সেখানে এভাবে আমার মেয়ের বিয়ে।আমার বড়মায়ের বিয়ে…"

চোখ ছলছল করে রাহমানে।

“শিয়া কি নিলয় কে পছন্দ করে না?”

রেনুকা চুপ করে থাকেন।মাথা নামিয়ে ফেলেন।মেয়ে কে চেনে।নিলয় ছেলেটাকে আলাদা করে পছন্দ অপছন্দের কথা শিয়া কখনোই স্বীকার করেনি।তবে ভালো যে বাসে না এখনো সেটা সে টের পেয়েছে।

আনিসুল সাহেব স্ত্রীর দিকে এতক্ষণে তাকালো।

“মেয়েটাকে জোর করছি আমরা?”

রেনুকা রহমান ব্যাস্ত হলেন।”না না সেটা কিন্তু বলেনি।তুমি কেনো চিন্তা করছো এ নিয়ে। “

স্বামী কে কথাটা বলে নিজেই ধুম ধরে যায়।আনিসুল সাহেবের কয়েক বছর আগে বর সড় হার্ট সার্জারী হয়েছে।কোনো ধরনের চিন্তা,প্রেশার কিচ্ছু নিতে কঠোর ভাবে নিষেধ করেছেন ডাক্তার।

“তাহলে আমরা দেশে যাবো?”

“তোমার ছুটি? “

“এক মাসের জন্য নিতে পারবো হয়তো।”

“শিয়া কে জানাবে না? “

“দেশে যাবো সেটা জানাও।বিয়ের বিষয় সামনাসামনি বলা ভালো হবে।”

“ঠিক আছে।”

“ওরা বোধহয় শিয়ার অফিস কেটেজে থাকে।আমরা সোমবারে দেশে যাবো।ওদের তাহলে কাল পরশুর মধ্যে বাড়ি ফিরতে বলো।আমরা যে কয়দিন আছি সে কয়দিন বাড়ি থেকেই অফিস করুক।”

“আমি রাতে জানাবো ওদের।”

_____

ঘড়ির কাটায় সময় রাত সাড়ে আটটা।অফিসে নিদারুণ ব্যাস্ততা সবার।মাঝখানে কয়েকদিনের ছুটি দেওয়ায় কাজ জমে একপ্রকার পাহাড় হয়ে আছে।নাকেমুখে গুজে সেসবই ম্যানেজ করতে ব্যাস্ত সবাই।আকাশদের হোটেল এর কাজ সম্পূর্ণ হতে আরও বছর খানেক ভালোমতো লাগবে।ওপেন প্রজেক্ট সাইটে কাজ দেখছিলো আকাশ।সাথে অয়ন,শিয়া রাতুল,রেদোয়ান সকলেই আছে।রাকিব, রিয়ান কিছু ক্লায়েন্ট দের সি অফ করতে গিয়েছে এয়ারপোর্টে।এতক্ষণে অবশ্য ফিরে আসার কথা।আকাশ ব্যাস্ত হয়ে পায়চারি করছে।এখন কটেজে ফেরা দরকার। গত দুদিন হলো প্রিয়াকে দেখে না।মেয়েটা দারুণ অভিমান করে আছে বোঝা যাচ্ছে।কোনোভাবে রাতে তার রুমে গিয়ে প্রিয়াকে দেখার সিক্রেট টা মেয়েটা জেনে গেছে।মুচকি মুচকি হাসে আকাশ,ওইটুকু বাচ্চা একটা মেয়ে,তার ভয়ে নাকি আজকাল তটস্থ থাকে আকাশ এহনাজ।

“হাসছিস কেনো!”

আকাশ স্বাভাবিক চোখে পাশ ফিরে তাকায়।গোল গোল চোখ করে রাতুল দাড়ানো।আকাশ লেভারদের কাজের ওদিকে দৃষ্টি বুলায়।

“কই হাসছি।”

রাতুল ততক্ষণে এসে দাড়িয়েছে আকাশের গা ঘেষে।

“আমাকে অন্ধ লাগে তোর?”

“তুই তো তাই-ই।”

রাতুল নাক সিটকায়,আঙ্ঙুল তোলে আকাশের দিকে।ফিচেল গলায় বলে,”আগে অয়ন ভাইয়ের মতো জেন্ট্যালম্যান ছিলিস,এখন রাকিব,রেদোয়ান দের তাল ধরেছিস।আমাকে হেনস্তা করিস উঠতে বসতে।”

আকাশের মুখের কোনো ভাবান্তর হয়না।

“হেনস্তা তো তুই করিস আমাকে!”

“আমি?”

“নয়?”

“কোনটাকে হেনস্তা বলিস তুই?প্রিয়ার কথা টা জানিয়ে দেয়া?”

আকাশ জবাব দেয় না।গভীর মনোযোগ তার কাজের দিকে।রাতুল খানিকক্ষণ জবাবের আশায় হা করে তাকিয়ে থাকে।জবাব না পেয়ে একই উৎসাহে পুনরায় বলে,”প্রিয়ার কথা তো?ওটা সবাইকে না জানালে তুই জীবনে স্বীকার করতি?এ জীবনে করতি না।তখন আমি কি তোর বাচ্চাকাচ্চার চাচা হওয়ার সপ্ন ওপরে জান্নাতে বসে দেখতাম?”

আকাশ মুখ বাকায়।গম্ভীর অথচ টিটকারির সুরে বলে,”আর ইউ সিওর?”

“কি?”

“তুই জান্নাতেই যাবি?”

“আমি বড্ড ভালো মানুষ আকাশ।তুই শুধু…না সরি..তোরা শুধু চিনলি না,কদর করলি না।”

আকাশ এবার হাসে।বন্ধুর কাধে হাত রাখে।

“মহা ভালো মানুষ তুই।মানবো।একটা কাজ কর তাহলে।”

রাতুলের খুশিতে দাঁত বেড়িয়ে পরেছে।

“বলে ফেল।”

“এখানকার সাইটের কাজ শেষ হতে রাত হবে।সব হিসেব নিকেশ বুঝে বাড়ি আসিস কেমন?আমি বাড়ি গেলাম।”

রাতুলের হাসিহাসি মুখ এক নিমিষে শুকনো পাতার মতো মুচড়ে উঠলো।প্রতিবাদ করে উঠলো,”অসম্ভব বাডি।আমাকে এভাবে ফাসাতে পারিস না।তোর আন্দাজ আছে কাজ কখন শেষ হবে!কাজ করতে তো সমস্যা নেই আমার।কটেজে একসাথে ফিরি চল,তোর সব কাজ করে দেবো,তুই রাতভর প্রেম করিস তোর বেবিগার্ল এর সাথে।কিন্তু এখানে একা…ততক্ষণ… আমি একা পারবো না।অতো রাতে……”

রাতুল থেমে যায়।সর্বনাশের মাথায় বাড়ি।মুখ ফসকে কি বলে ফেলছিলো।মানসম্মান এর ফালুদা তৈরি হতো আজকে।ঘাড় বাকিয়ে খেয়াল করলো আকাশকে।তার বাকি কথা টা আন্দাজ করে নিয়েছে কি না খেয়াল করার চেষ্টা করলো। আকাশের মুখ দেখে সহজে অবশ্য ধরতে পারা গেলো না।যে অতি সিরিয়াস মুখ সেরকম অতি সিরিয়াস হয়েই আছে।দৃষ্টি ও কাজের দিকে।হাফ ছাড়লো রাতুল।ভাগ্যিস মন এদিকে ছিলো না আকাশের।

“অতো রাতে কি?”

রাতুল চুপসে যাওয়া মুখ নিয়ে ধীরেসুস্থে তাকালো আকাশের দিকে।ছেলেটা তার মানে শুনছিলো তার কথা।রাতুল ঝটপট বলে উঠলো, “তুই একা একা ফিরবি।রাত হয়েছে। ওরকম জঙ্গলের রাস্তা আমাদের। রাকিব,রিয়ান এয়ারপোর্ট থেকে সোজা রাতে কটেজ ফিরবে,রেদোয়ান যাবে একবার শহরে,ওরও ফিরতে রাত,আর রইলো বাকি অয়ন ভাই আর শিয়া।কাপলের মধ্যে কিভাবে ঢুকি বল…”

“আমার আর প্রিয়ার মধ্যে তো ঠিকই নেচে-কুঁদে ঢুকে পরিস।”

রাতুলের মুখখানা কপট হতাশায় ভরে উঠলো।চোখমুখ বাচ্চাদের মতো কাঁদো কাঁদো করে ফেললো।একদিন একটু ঢুকে পরেছিলো দুজনের মাঝে।সে কি শখ করে ঢুকেছিলো নাকি!কক্সবাজার থেকে শেষরাতে রওনা দেয় বান্দরবান এর জন্য।ওখানে পৌছুনোর পর তার পেয়েছে হিশু। এদিকে বাসে সবাই ঘুমায়। ফাঁকা রাস্তা দেখে বাস থামতে বললো।সে একটু আধটু ওই আরকি..মানে ভয়টয় পায় আরকি।ওইসময় বাসে শব্দই পাওয়া যাচ্ছিলো প্রিয়ার কন্ঠের।সারা রাস্তা মেয়েটা রাজ্যের গল্প জুড়েছে।কথাই বলছিলো যখন সে তো স্বাভাবিকই ভাববে তাইনা?ভুল হয়েছে তার অবশ্য একটু।বাসের সিটের পর্দাটা টানার আগে একটু আধটু উহুম উহুম টাইপের শব্দ করতে হতো।তার এদিকে ইমারজেন্সি, তাছাড়া ওরাও জেগেই আছে।না জিজ্ঞেস করেই পর্দা টা একটু টান দিয়ে ফেলেছিলো।সে কি জানতো একজন রেডিওর মতো বকবক করছে,আরেক জন গলায় মুখ ডুবিয়ে রোমান্স এ ব্যাস্ত।ওই পরিস্থিতিতে দুইজনই ভূত দেখার মতো চমকে ওঠে।তিনজন বলার কারণ সে আর প্রিয়া।আকাশের মধ্যে চমক টমকের বিষয়আশয় খুব একটা জাগে না।যেটা জাগে সেটা হলো বিরক্তি। বেচারা সে কি আর করতো।প্রিয়াটা লজ্জায় বসে রইলো।আকাশ তার সাথে বাইরে বের হলো।বিশেষ মূহুর্তে বিরক্ত করার শাস্তি সরুপ আকাশ এহনাজ চৌধুরী তাকে কি করতে পারে ভাবতেই তার সব শুকিয়ে এলো।আর এক নাম্বার কর্ম টা করতে যেতে হলো না।মাঝখান থেকে কিছু হলেই সেই খোটা আকাশ দেয়।রাতুল মুখ বাকায়।আকাশ টা এতো বেহায়া সে একদম জানতো না।একে তো মেয়েটা বাচ্চা,তার ওপর এতো অত্যাচার করে।আর সে তো আজীবনের বন্ধু, হয়েছে না হয় একটু আধটু ভুল।দিয়েছে না হয় বন্ধুর রোমান্সে ব্যাগড়া।দেবেই তো।বন্ধু হয়ে জন্মেছে আর এতটকু অধিকার থাকবে না!কি আশ্চর্য! বন্ধু কাকে বলে!বন্ধুর কাজই তো এটা।অন্য বন্ধুর রোমান্সে ঝামেলা করে।কিন্তু সে কি সবসময় করে নাকি!সবসময় ওদের আরো স্পেস করে দিতো আলাদা সময় কাটানোর।একদিনের একটু মিসটেকে সব ভুলে গেছে ছেলেটা।প্রেমে পরলে যা হয় আরকি।এসব অবশ্য মনের কথা মনেই রেখে বুকে আড়াআড়ি হাত গুজে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললো,”ওটা তো ইচ্ছে করেই করেছি।”

“ইচ্ছে করে!”

আড়চোখে আকাশের বাঁকা দৃষ্টি দেখে ঢোক গিললো রাতুল।মাথা ঝাকালো।

“ইচ্ছে করে না তো কি!নাএতটুকু বাঁধা না দিলে বিয়ের আগেই বাসর সেরে ফেলবি তুই।এটা তো আমি হতে দিতে পারি না বল।ধর্ম কর্ম বলে তো একটা বিষয় আছে নাকি।বন্ধু হয়ে বন্ধুর পাশে এভাবেই থাকতে হয়।"

“তাই নাকি!ভালো কথা।তবুও আজ তুই থাকবি এখানে।কেমন?বন্ধু হয়ে বন্ধুই তো পাশে দাড়ায় তাইনা?”

তার কথাতেই তাকে ফাঁসানো হচ্ছে! রাতুল হুড়মুড় করে হাত টেনে ধরলো আকাশের। আকাশ বিরক্ত মুখে তাকালো।

“মেয়ে মানুষের মতো এসে গা ডলছিস কেনো!”

“সে যাই বল।এখন মাইন্ড করবো না।আজকে অন্তত একা রেখে যাসনা কেমন?সাথে যাই চল।না হলে একটু অপেক্ষা কর।বসেই থাক।সব কাজ আমিই করে দেই।”

আকাশ নিঃশব্দে অদেখা হাসে।

“আই হ্যাভ টু গো রাতুল।তাছাড়া তোর সমস্যা কোথায়।এর বদলে যা কাল তোর ছুটি। “

রাতুল ব্যাস্ত হয়ে দুদিকে মাথা নাড়ে।

“আমার সাথে আজ থাক,কাল পরশু তুই বরং আসিস না।আমি সামলে নেবো।তাও আজ যাস না।”

আকাশ ভ্রু জোড়া ওপরে তোলে।জিজ্ঞাসু চোখে তাকায়।

“তুই কি এক ফিরতে বাই এনি চান্স ভয় পাচ্ছিস রাতুল?”

গেলরে গেলো।সব গেলো।আকাশটা ঠিক ধরে ফেলেছে।পুরুষ মানুষ হয়ে একা চলাফেরা করতে ভয় পায় রাতে।এটা প্রকাশ যোগ্য!

“সেটা একবারও বলেছি আমি?”

“তাহলে আমি তো সমস্যা দেখি না কোনো।”

“অবশ্যই সমস্যা আছে।”

“শুনি একটু।”

রাতুল খানিকক্ষণ চুপ করে কথা সাজায়।

“তুই অতি সুদর্শন পুরুষ।আমরা সকলেই জীবনে একটা ছোটখাটো… না না বিশাল আফসোস নিয়ে আছি যে আমরা কেনো নারী হলাম না।তোর মতো পুরুষ প্রত্যেক টা নারীর ড্রিম।”

“আসল কথা বল..”

“তো যেটা বলছিলাম।আগেই কথা বলবি না।আমি কথা এলোমেলো করে ফেলি।”

“বানিয়ে বানিয়ে বললে এলোমেলো হওয়া স্বাভাবিক। “

“তুই সুদর্শন এটা বানানো কথা?”

“সেটা কখন বললাম।”

“এইতো বললি।”

“এটা বানানো নয়।পরের তেল মালিশ টা বানানো হবে।ডেট এক্সপায়ার্ড তেল।ইউ কনটিনিউ। শুনছি।”

রাতুলের ভ্রু জোড়ার সরু ভাজ সোজা হয়।এখন কোনো জ্বালাময়ী কথায় কান দিয়ে নিজের কথাগুলো গুলিয়ে ফেলা যাবে না।

“তো যেটা বলছিলাম।তুই অতি সুদর্শন পুরুষ।হাজার হাজার নারীর রাতের ঘুম হরনকারী।চৌধুরী বংশের ছেলে।চৌধুরী গ্রুপ অফ ইনডাসট্রিস এর মালিক।তোকে একা একা এরকম প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তায় একা ছাড়তে তোর মা আমাকে পই পই করে বারণ করেছে।এতো টাকার মালিক তুই,এতো দায়িত্ব। তাছাড়া এখন তো আমার বোনটাকেও ফাসিয়ে ফেলেছিস।ওর জন্যেও আমাকে ভাবতে হয়।তোকে দেখেশুনে রাখতে হয়।চোখের সামনে রাখলে তাও বেড়াল কিছুতে মুখ দিতে পারেনা,আড়াল হলে কি না কি করে…”

আকাশের চোখ রাঙানিতে নিজের চোখ সরিয়ে নিলো রাতুল।গলার আওয়াজ দৃঢ় থেকে মিনমিনে হলো তবে থামলো না।

“তাই আরকি।তোকে একা রেখে যাবো না।তোর মা আর বউয়ের কড়া নিষেধ আছে তোকে একা ছাড়া নিয়ে।”

আকাশ সজোরে আঘাত করলো রাতুলের পেটে।আকাশের জিম করা শক্তপোক্ত হাতের গুষিতে পেট বাকিয়ে গেলো বেচারার।চোখমুখ কুচকে নিলো ব্যাথা।

“শালা ভুলভাল না বকে সত্যি স্বীকার কর।তাহলে ব্যাবস্থা করবো একটা।”

রাতুলের কোচকানো মুখ শত চেষ্টাতেও স্বাভাবিক হলো না।ব্যাথা টা জোরেশোরে লেগেছে।তবে আকাশের শেষ কথায় চোখমুখ খানিকটা উজ্জল হলো।

“নিয়ে চল দোস্ত।প্লিজ।”

“কি সমস্যা বল আগে।”

রাতুল এদিক ওদিক তাকালো।যেনো খেয়াল করলো কেউ আছে কিনা,শুনে ফেরার ভয় নেই যখন টের পেলো আকাশের দিকে মুখ এগিয়ে নিচু গলায় ফিসফিস করে বললো,”আ.।আমার না একটু আধটু ভয় টয় লাগে আরকি। “

আকাশ শব্দ করে হেসে ফেললো।রাতুলের এটা একটা সমস্যা। সাথে কেউ থাকলে সে বীরপুরুষ, অথচ একা একা রাতে ট্রাভেল করতে বাচ্চাদের মতো ভয় পায়।ভূতে নাকি কিসে সেটা অবশ্য স্বীকার করে না কখনো।কিন্তু ভয় পায়।এ যাবৎকাল কখনো স্বীকার করেনি।রাকিব,রেদোয়ান রা থাকলে এখনো করতো কি না সন্দেহ, বেশি সম্ভব করতোই না,তবে আকাশের সামনে সে প্রাণ খুলে মনের সব প্রকাশ করে ফেলে।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼🍂

[লেখা ছিলো,তবে এতটুকুই এডিট করা ছিলো।পর্বটা বিশাল ছিলো,পুরো টা দিতে পারলাম না।বাকিটা দিয়ে দিবোনি দ্রুতই।#সাঁঝের_মায়া যতটুকু লেখা আছে কাল দেবোনি।মন ভালো করতে লিখি,আপনাদের রেসপন্স, কমেন্ট সত্যি বলতে আমার মন ভালো রাখার ওষুধ... পাশে থাকবেন হ্যা?🌼]

#আকাশপ্রিয়া

#পর্ব_৩৫(শেষ অংশ)

#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ। রোমান্টিক পর্ব,সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত ]

আকাশ বাড়িতে ঢুকতেই থমকালো। পুরো বাড়ি ঘোর অন্ধকার। আলো জ্বালা হয়নি কেনো এখনো!ওপরে প্রিয়ার ঘরও অন্ধকার দেখাচ্ছে।এখনই ঘুমানোর মেয়ে সে নয়।বাড়িতে নেই!তা কি করে হয়।এতো রাতে যাবে কোথায়।সদর দরজা আটকে দ্রুত পায়ে উঠে আসে ওপরে।প্রিয়ার রুমের দরজা খোলাই।তবে অন্ধকার ঘরের ভিতর।আকাশ দরজা ঠেলে ভিতরে ঢোকে।

অদূরে খোলা বারান্দায় দাড়িয়ে প্রিয়া। ঘরময় আঁধার হলেও দূরের ল্যামপোস্ট এর সোনালি আলোয় স্পষ্ট নারীদেহের বাক ধরা পরছে চোখে।বাতাসে খোলা চুলগুলো অবাধ্যের মতো উড়ছে।আকাশ শব্দহীন এগিয়ে গেলো সেদিকে।প্রিয়া নিশ্চুপ দাড়িয়ে আছে।আকাশ এসেছে সে জানে।আকাশের শরীরের ঘ্রান টা তার ভীষন চেনা।তাছাড়া আকাশ আশেপাশে থাকলে তার বুকের ভিতর টা কেমন জানি আগে থেকেই জানান দেয়।প্রিয়া ঘুরলো না মোটেই।রেগে আছে সে তো।মোটেই আহ্লাদে সারা দেবে না আজকে।অসহ্য লোক একটা।যেই সে ভালোবাসি স্বীকার করেছে ওমনি বাড়ি এসে দূরে দূরে করে রেখেছে।থাকুক কাজ নিয়ে।

আকাশ প্রিয়ার পিঠ ঘেষে প্রিয়ার দু পাশে হাত রাখলো।হাত ভর দিলো রেলিঙ এ।মেয়েটার চুলের গন্ধে মাতোয়ারা হচ্ছে সে। এই চুলের ঘ্রানটা তার কাছে এক ধরনের নেশা।মুখ নিচু করে টেনে নিলো সে ঘ্রান।প্রিয়া খুব কাছে টের পাচ্ছে আকাশের অস্তিত্ব। পিঠের সাথে স্পর্শ পাচ্ছে একটা শক্তপোক্ত বুকের।এই স্পর্শে বরাবরের মতোই নিজের হুশ হারিয়ে বসে সে।চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে রইলো।আকাশ মুখ তোলে।চোয়াল ঠেকায় প্রিয়ার ঘাড়ে।রেলিঙে রাখা প্রিয়ার দু হাত ততক্ষণে শক্ত করে চেপে ধরেছে।

আকাশ শব্দ করে চুমু খেলো উন্মুক্ত ঘাড়ে।প্রিয়া এতক্ষণ ঠোঁট কামড়ে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকলেও এখন পারছে না।আকাশ নাক ঘষলো কাঁধে। হাস্কিস্বরে বললো,

___”ওড়না কই?”

প্রিয়া চমকে তাকালো নিজের বুকের দিকে।দু হাতে ঢাকতে গেলে চেপে ধরলো সে হাত আকাশ।

___“এখন থাকুক।”

___“আ..আমি ওড়না টা নিয়ে আসি।সরুন দেখি।”

___“ওড়না ছাড়া দাড়িয়ে ছিলে কেনো?”

___“আমার ঘর আমি যেমন ইচ্ছে তেমন হয়ে থাকবো।”

___“উমমম তাই?”

আকাশের নেশাক্ত কন্ঠে শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে যাচ্ছে প্রিয়ার।মিনমিন গলায় বললো,

___”তা নয়তো কি!”

আকাশ আবার শব্দ করে চুমু খেয়ে নাক ঘষতে থাকলো।

___“এখন তাহলে আমার যা ইচ্ছা হচ্ছে করে ফেলি?”

প্রিয়া চমকায়,ভয়ে শরীর কাপে।

___“ক..কি ইচ্ছে হচ্ছে। “

___“করে দেখাই।”

প্রিয়া আর্তনাদ করে ওঠে।সরে যেতে চায়।

___“না প্লিজ সরুন।”

আকাশ শব্দ করে হাসে।মেয়েটা তার সামান্য স্পর্শেই এমন লজ্জাবতী লতার মতো মিয়িয়ে যায়।

___“এতটুকু তেই এমন করলে চলবে?এখনো তো আদর করিইনি।যখন আদর করবো তখন কি করবে পাখি?হু?”

প্রিয়া কান ঝনঝন করে ওঠে।হৃদয়ে হাতুড়ি পেটাচ্ছে।

___“অসভ্য লোক।”

___“কি পরিমাণ যে অসভ্যতামি করতে ইচ্ছে হয়।যদি বুঝতে।”

___“সরুন তো।”

___“কাছে টেনে সরিয়ে দিয়ে এতো যন্ত্রণা কেনো দাও।জবাব দাও।”

প্রিয়ার অভিমান হয়।মনে পরে এতদিন আকাশের তাকে করা ইগনোরের কথা।গাল ফুলায়।

___“আমি দূরে সরিয়ে দেই?”

___“দাও না?”

___“আপনি কাছে আসেন না আজকাল।”

___“আসি।”

___“মিথ্যুক।”

___“আপনি তো দুদিন হলো দরজা টরজা আটকে আমার আসা যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছেন।”

প্রিয়া জোরেশোরে ধাক্কা দিয়ে পিছন ঘুরে দারায়।আকাশ মোটেই তার দুপাশ থেকে হাত সরায় না।অপলক তাকিয়ে থাকে অভিমানী প্রেয়সীর দিকে।মনে হচ্ছে কতদিন পর মুখখানা দেখছে।

প্রিয়া নড়তে চড়তে পারছে না।আকাশের প্রশস্ত শরীরের আড়ালে বিড়ালছানার মতো হাত গুটিয়ে দাড়িয়ে আছে।মুখ তুললো না।দৃষ্টি আকাশের শার্টের আস্তিন এর দিকে।ওপরের দুটো বোতাম খোলা।চিকচিক করা বুকের খানিকটা অংশ দৃশ্যমান।শুকনো ঢোক গিলে অন্য দিকে চোখ সরায়।

___“আপনি আমাকে ভালোবাসেন না।”

___“তা অবশ্য ঠিক।”

___“বাসেন না?”

___“কি জানি…”

আকাশের এসব হেয়ালিপনা কথায় রাগ হচ্ছে প্রিয়ার।কোথায় সে রাগ করে আছে, তার অভিমান ভাঙাবে তা না করে ভালোবাসিনা,ভালোবাসিনা বলে মুখে ফেনা তুলছে।প্রিয়া দু হাতে বুকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চায়।আকাশ উল্টো ঝুকে আসে প্রিয়ার দিকে।রেলিং ছেড়ে কোমড়ের ওপরের অংশ বাইরে হেলে পরে। প্রিয়া চমকে আকড়ে ধরে আকাশের শার্টের কলার।

___“ইশশশ আপনি একটা অসহ্য লোক।পরে যাবো তো।ভয় লাগে।সরুন।”

___“অসহ্য আমি?”

___“খুব।”

___“আমারও অসহ্য লাগে সবসময়। “

প্রিয়া চোখ বড় বড় করে তাকায়।তাকে অসহ্য লাগে আকাশের!কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে বলে,

___“কি?”

___“অসহ্য লাগে আমারও।”

___“আমাকে?”

আকাশ চোখ দুটো বাকিয়ে নিচ দিকে তাকায়।প্রিয়া আড়চোখে আকাশের সে দৃষ্টি অনুসরন করে নিচে তাকাতেই লজ্জায় লাল হয়ে যায়।আকাশের দৃষ্টি তার ওড়নাবিহীন বক্ষভাজের ওপর।আকাশ দু হাত এমন করে চেপে ধরেছে,হাত আড়াআড়ি করে ঢাকতেও পারছে না।লজ্জায় রাঙা মুখখানা আকাশ চোখ ভরে দেখলো।হাস্কিস্বরে বললো,

___“এইযে সময় অসময় এমন অবস্থায় সামনে আসো,অথচ ছুঁতে পারিনা,আদরে ভরিয়ে দিতে পারিনা,আর খে…

___“চুউউউপ প্লিজ।”

আকাশের লাগামছাড়া কথায় মাটি খুড়ে নিচে ঢুকে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে প্রিয়ার।

___“আর কি কি অসহ্য লাগে বলতে দিলে না!”

___“শুনবো না থামুন।”

আকাশ ঠোঁটে ঠোঁট টিপে হাসে।প্রিয়া ঠাটিয়ে চোখবুজে আছে।কোমর টেনে সোজা করলো প্রিয়াকে।

___“আমার শশুর শাশুড়ী আসছে জানাও নি কেনো?”

প্রিয়া হা হয়ে গেলো।আকাশের শশুড় শাশুড়ি কারা!

___“কে আসছে?”

___“আমার শশুর শাশুড়ী। “

___“কোথায় আসছে?”

___“দেশে।”

___“আপনি বিয়ে করলেন কবে?”

___“ জানো না?”

আকাশের গম্ভীর, সিরিয়াস মুখ দেখে বুকটা ধকধক করে উঠছে প্রিয়ার।

___“বিয়ে কবে করলেন আপনি হ্যা?”

___“মাস ছয়েক।”

___“আমি কে তাহলে?”

___“কে আবার!কেউ না।”

___“সরুন তো,সরুন।আপনার সাথে একদম কথা বলতে ইচ্ছে করছে না আমার।খালি বাজে বকেন।”

আকাশ হেসে ফেললো।মেয়েটা এত্তো অভিমানী। অবশ্য অভিমান করে যখন গাল দু খানা ফোলায় সে রুপের বর্ণনা আকাশ দিতে পারবে না। সম্ভবই না।

___“আমার একার শশুড় নয় বুঝলে,অয়ন ভাইয়েরও কিন্তু। “

প্রিয়ার মাথায় ঢুকছে না কিছু।আকাশ সরু চোখে তাকিয়ে থাকে।প্রিয়া তারমানে জানেনা এখনো ওর বাবা মা আসার কথা।জানার কথা না।মেয়েটা তার ওপর রাগ করে ফোনটোন বন্ধ করে বসে আছে।এদিকে তার বাবা মা ফোনে পাচ্ছে না তাকে।শিয়াকে জানিয়েছে পরে। ।দু দিন পর দেশে ফিরছেন তারা।সম্ভবত কাল পরশু শিয়া প্রিয়াকে নিয়ে তাদের বাড়িতে ফিরবে।এবং বাবা মা যে কয়েকদিন দেশে আছে তারা তাদের বাড়িতেই থাকবে।আকাশের মুখে সব শুনে প্রিয়া খুশি হবে নাকি অবাক টের পাচ্ছে না।কারণ তার বাবা মার এইসময়ে মোটেই আসার কথা নয়।তার মা আসতে চেয়েছিলো আর দু মাস আগেই,কিন্তু বাবার শরীর প্রায়সই খারাপ থাকায় সিদ্ধান্ত হয়েছে তার বাবা যতদিন সেখানে থাকবেন তার মাও সাথেই থাকবেন।প্রিয়াকে এখনে দেখে রাখার জন্য শিয়া তো আছেই।

আকাশ গভীর চিন্তায় মগ্ন প্রেয়সী কে দেখলো।

___“কি ম্যাডাম খুব খুশি? “

প্রিয়া এবার একগাল হাসলো।মুক্তো ঝরা হাসি যাকে বলে আরকি।সত্যি খুশি সে।কি যে ভালো লাগছে।

___“,তো খুশি হবো না।কতদিন পর বাবা মা কে দেখবো বলুন।”

___“আর আমাকে মিস করবেন না বুঝি বাড়ি গেলে?

প্রিয়া ঠোঁট উল্টায়।মুখ বাঁকিয়ে এদিক সেদিক তাকায়।ফিচেল গলায় বলে,

___”মিস করার কি আছে। যে আমাকে ভালোই বাসে না তাকে মিস করতে যাবো কোন দুঃখে!”

___”এটা ভারি কঠিন শাস্তি কিন্তু। “

___”শাস্তি কোথায় আবার।বাড়ি গিয়ে বাবা কে বলবো আপু তো সময় দেয়ই না কাজে ব্যাস্ত থাকে,কটেজে একা একা ভূতপ্রেত দের সাথে আমি আর থাকতে পারবো না।আপুর না হয় ভালোবাসার মানুষ আছে।আমার তো আর নেই।আমাকে বিয়েশাদি দিয়ে তারপর যেখানে যাওয়ার যাও।”

___”এক কাজ করা যেতে পারে কিন্তু। তাহলে আর একা লাগবে না।”

প্রিয়া তাকায় না আকাশের দিকে।শোনার আগ্রহও দেখায় না।উদাস গলায় বলে,

___”কি শুনি সেটা।”

আকাশ বাঁকা হাসে।মাথা নিচু করে ঠোঁটজোড়া নিয়ে আসে প্রিয়ার কানের কাছে।আলতো ঠোঁট ছোয়ায় নরম কানের লতি তে।ঠান্ডা ওষ্ঠের ছোয়ায় থরথর করে কেঁপে ওঠে মেয়েটা।আকাশ নিজের বুকের ঢাকঢোল পেটানোর শব্দ উপেক্ষা করে নাক ঘষে প্রিয়ার ডান গালটায়।হাস্কিস্বরে বলে,

___”একটা বাচ্চা দেই হ্যা?আমার বাচ্চাকে নিয়ে তোমার সময় কেটে যাবে,পুতুল খেলার মতো।আর দুই বাচ্চা একসাথে বড় করবো আমি।”

প্রিয়ার শরীরে চারশ ভোল্টের কারেন্ট শক দেয় বুঝি।আকাশের লাগামছাড়া কথায় লজ্জায় কান দিয়ে গরম বাতাস বের হচ্ছে। দু হাতে লজ্জারুণ মুখখানা লুকাতে পারলে তাও এক কাজ হতো।কিন্তু সেটাও পারছে না।তার দুটো হাতই আকাশের শক্তপোক্ত হাতের মধ্যে বন্দি।

আকাশ ঘোরচোখে তাকিয়ে আছে লাজে রাঙা প্রেয়সীর দিকে।পুরো রক্তিম মুখ জুড়ে টুকরো টুকরো চুমু তে ভরিয়ে দিতে মন চাচ্ছে।শব্দ করে ডান গালে চুমু খেয়েও ফেললো।তারপর কপালে কপাল ঠেকিয়ে একই স্বরে জিজ্ঞেস করলো,

___”দেবো বাচ্চা?হু?আমি রেডি কিন্তু। “.

প্রিয়া কোনোমতে শব্দ করে আওড়ালো,

___” আপনি একটা যা তা।চুপ করবেন দয়া করে।”

আকাশের মুখে কৃত্রিম হতাশা ফুটে উঠলো।এক হাতে প্রিয়ার বুক ঠেকানো চোয়াল ওপরে তুললো।প্রিয়া মোটেই দৃষ্টি মেলাচ্ছে না।

___”চাইনা বাচ্চা?”

প্রিয়ার ইচ্ছে হচ্ছে ঠোঁটকাটা লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে।বিয়ে করার নাম নেই বাচ্চা দেওয়ার জন্য যুদ্ধ ঘোষনা করছে।লজ্জা শরমের বালাই নেই।নিজেকে কোনোমতে সামলে যতটা সম্ভব কঠিন গলায় বললো,

___”যে আমাকে ভালোবাসে না তাকে বিয়ে করতে যাবো কোন দুঃখে। আর বিয়েই যখন করবো না তার বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘোরার প্রশ্নই আসেনা।”

আকাশের শব্দ করে হেসে ফেলতে ইচ্ছে হলো।প্রিয়া ভয়াবহ রকমের মুখ ফুলিয়ে আছে।তার দিকে তাকচ্ছে না।এলোমেলো দৃষ্টি বুলিয়ে যাচ্ছে তার বোতাম খোলা উন্মুক্ত বুকে।

___”পেটে নিয়ে ঘুরতে বললাম কখন।সময় মতো পেট থেকে বের করে আমাকে দিয়ে দেবে।আমি আমার বউকে দেবো।তারপর বাচ্চা নিয়ে সংসার করবো।”

প্রিয়া তেতে উঠলো এবারে।

___”আমার বাচ্চা আমি আপনার বউকে দেবো কেনো হু?”

___”কারণ তুমি তো নাকি আমার বউ হবে না।তাহলে বাচ্চাটার বাপ পরিচয় দিবো কিভাবে!বউ কে দিলে আমরা দুজন বাপ মা পরিচয়ে মানুষ করবো।ঝামেলা শেষ।”

___”আমার বাচ্চা আমি কাউকে দেবো না।আর আপনার বউ মানে?আমার পেটে বাচ্চা ধরিয়ে দিয়ে আপনি অন্য মহিলা নিয়ে ঘর করবেন?সাহস তো কম না।মার্ডার করে ফেলবো।”

এবার আকাশ আর থাকতে পারলো না।শব্দ করে হেসে ফেললো প্রেয়সীর এহেন ছেলেমানুষী আচরনে।আকাশের হাসিতে আরও দ্বিগুণ হারে ক্ষেপে গেলো প্রিয়া।ঝটকা টানে আকাশের হাতের বাধন মুক্ত করে দু হাতে কলার চেপে ধরলো আকাশের।

___”হাসবেন না খবরদার।হাসছেন কেনো হুম?”

আকাশ কোনোমতে হাসি থামায় যেনো।এক হাতে কপাল ডলে।হাসতে হাসতেই বলে,

___”বিয়ে করে ফেলি চলো।তার পর আজ রাতেই বাচ্চা দেবো।এসো।ঘরও করবো তোমাকে নিয়েই।”

ইশশশ শুরুতে ছিলো কোথায় কথাবার্তা।আর এই বেহায়া লোকটা টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এসেছে কোথায়।প্রিয়া মুখ বাকালো।

___”আপনি দয়া করে আপানর লাগামছাড়া কথা বন্ধ করবেন?”

___”তুমি কিন্তু বেশ বোকা।জানো?”

___”কি করলাম?”

___”এর আগে মুখ বন্ধ করার একটা টেকনিক শিখিয়েছিলাম কিন্তু। ওটা ট্রাই করলে ট্রাস্ট মি সারাদিন এর মনে চুপ হয়ে যাবো।”

প্রিয়ার সেদিনের কথা মনে পরতেই হতভম্ব হয়।দুজনের সেই বিশেষ মূহুর্তের এক এক ছবি ভেসে ওঠে।আবার মূর্ছা যাওয়ার দশা তার লজ্জায়।কলারের বাঁধন হালকা করে,বোতাম নিয়ে নাড়াচাড়া করছে এখন, কামড়ে ধরে আছে নিচের ঠোঁট। আকাশ ঢোক গেলে,মেয়েটাকে এর আগে হাজার বার সতর্ক করেছে তার সামনে ঠোঁট না কামড়াতে।মেয়েটা তার একটা কথাও মাথায় রাখে না।কি করা উচিত এখন!ইচ্ছে তো হচ্ছে ঠোঁটজোড়া কামড়ে খেয়ে ফেলতে।সেটা করলে ম্যাডাম এর আবার অভিমান হবে,আবার দিনকয়েক এর জন্য নরম সরম চুমোও খেতে দেবে না।

___”ডোন্ট বাইট ইউও লিপস।”

হঠাৎ আকাশের গমগমে কন্ঠে চট করে তাকায় প্রিয়া। আকাশের দৃষ্টি তার ঠোঁট জোড়ার দিকে।নিজের অজান্তেই এখনো কামড়ে ধরেই আছে ওষ্টখানা।

___”আই সেইড ডোন্ট বাইট ইওর লিপস।না হলে আই উইল বাইট ইউ সো রাফলি।”

প্রিয়া নিজের অস্থির হৃদয় খানা কে মনেমনে ধমক দিয়ে ঠোঁট কামড়ানো বন্ধ করে।আকাশ মুখে বিরক্ত সূচক শব্দ করে।তার এতটুকু কথাতেই মেয়েটার শ্বাস আটকে আসছে,স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।কেমন হাঁপাচ্ছে। নজর লুকাচ্ছে বারংবার।জোরে শ্বাস চলার নিমিত্তে সুডৌল বক্ষজোড়ার ওঠানাম ভ্য়ংকর টানছে তাকে।আকাশ নজর বোলায় সেখানটায়।বুকের বা পাশটা লালচে তিলখানা জলজল করছে।ডাকছে তাকে।ভেজা আদরে দিতে বলছে।

আকাশ চোখ বুজে শ্বাস নেয়। ধাতস্থ করে নিজেকে।একে তো বাড়িতে কেউ নেই,তার ওপর দুজন অন্ধকার বেডরুমে।এমন সিচুয়েশনে সে নিজেকে একফোটাও ভরসা করতে পারেনা।সামান্য চুমু খাওয়ার রিস্ক টাও সে নিতে ভয় পায়।চায়না সে রিস্ক নিতে।এ মেয়ে জলন্ত আগুন,তাকে অনবরত পোড়ায়,পুড়িয়ে অঙ্গার করে দিচ্ছে।সে আগুনে ঠোঁট ছোঁয়ানো মানে বাকি যা আছে তাও পুড়িয়ে ফেলা।ওই পাতলা,গোলাপি অধরের স্বাদ একবার নিতো গেলে সে এই দুনিয়াতেই থাকেনা,উন্মাদ হয়ে বসে।প্রতিবারই যে নিজের ওপর লাগাম টানতে পারবে সেই নিশ্চয়তা কি!একবার ভুলে ভুল হয়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

আকাশ আচমকা প্রিয়া কে ছেড়ে সরে দাড়ায়।চোখ বোজা অবস্থাতেই ভাড়ি আওয়াজে বলে,

___”ওড়না টা গায়ে জড়াও।আই কান্ট টেক ইউ।”

প্রিয়া গোলগোল চোখে চেয়ে থাকে।আকাশ ঘামছে।এই অবস্থার সাথে সে দারুণ পরিচিত। এমন অবস্থার সাক্ষী হয়েছে এর আগে বেশ কয়েকবার।আকাশ তার কাছে আসলে হুট করেই এমন হয়ে যায়।প্রিয়া নিজের বুকের বা পাশের গগনচুম্বী শব্দ আড়াল করার পথ খোঁজে।সে নিজেও ঘামছে।আকাশের মতো একই অবস্থা তার নিজেরও হয় মানুষ টার কাছে আসলে।শ্বাস নিতে পারেনা,বুকে চিনচিন করে,শরীর অবশ হয়ে আসে,অস্থির লেগে ঘেমে-নেয়ে একাকার। কথা বাড়ায় না প্রিয়া।আকাশ কে পাশ কাটিয়ে গুটিগুটি পায়ে গিয়ে বিছানা থেকে ওড়না খানা নিয়ে গায়ে জড়ায়।আকাশ উল্টো হয়ে দাড়িয়ে আছে বারান্দায়। প্যান্টের পকেটে দু হাত গোঁজা। শান্ত করতে চাচ্ছে সম্ভবত নিজেকে।প্রিয়ার হতাশ লাগে।এটা আরেক সমস্যা। আকাশকে এমন অবস্থায় দেখলে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনা।শরীর আন্দোলন শুরু করে,নারীসত্তা জেগে ওঠে কঠিন ভাবে।আকাশের থেকেও বুঝি সে বেশি অস্থির হয়,ঠিকভুলের হিসেব ভুলে কাছে চায় আকাশকে।এই যেমন এখন চাচ্ছে।মাথা খানা দপদপ করছে তার।হেঁটে ওই অবধি যাওয়ার শক্তিও পাচ্ছে না।আকাশের ওই পাতলা ঠোঁটের কঠিন দহনে ছিন্নভিন্ন হতে চাইছে তার ঠোঁটজোড়া।প্রিয়া এগোনোর সাহস সত্যিই করেনা।ঠায় দাড়িয়ে রয় সেখানটায়।প্রিয়ার সাড়াশব্দ না পেয়ে পিছন ফেরে আকাশ।আলো আধারির মোহমায়ায় ঘরের মাঝখানটায় দাড়িয়ে আছে তার অপ্সরী।চোখমুখ দিয়ে ঠিকরে পরছে তাকে কাছে টানার আবেদন।হরিনীর মতো টানাটানা চোখের ভাষা বুঝতে এক সেকেন্ড সময় লাগে না আকাশের।

এবার নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে।ঝড়ের গতিতে এসে দাড়ায় প্রিয়ার সামনে।হেচকা টানে লতানো কোমড় খানা নিজের হাতের ভাজে নিয়ে নেয়।কপালে কপাল ঠেকায়।শ্বাস ঘোড়ার গতিতে চলছে দুজনের।গরম নিঃশ্বাস ঠিকরে পরছে একে অপরের ওপর।দুজনের চোখই বন্ধ। আকাশই মুখ খোলে,

___”ঘরে যেতে দাও কেমন?আমি ঠিক নেই কিন্তু। তছনছ করে ফেলতে মন চাচ্ছে তোমাকে।কঠিন যন্ত্রণা দিতে ইচ্ছে হচ্ছে। শরীরটা টানছে।”

প্রিয়ার আকুল গলা শুনতে পাওয়া যায় এবার।

___”বিয়ে করি চলুন।আজকেই।এখনি।”

___”প্রিয়া…!”

___”আমি তছনছ হতে চাই।খুব করে চাই।চলুন না বিয়ে করি।আজ রাতটা আমাদের হোক।”

আকাশ চোখ খোলে।প্রিয়ার চোখজোড়া বন্ধ করা।জামাকাপড় ভেদ করে কোমড়ে রাখা তার হাতটা মেয়েটার ঘামে ভিজে যাচ্ছে।

___”আমি কিন্তু জেন্টল হবো না।তবুও রাজি?”

শুকনো ঢোক গিললো প্রিয়া।কোনোমতে মাথা দোললাো।আকাশ।অন্য হাতে গলিয়ে দিলো মেয়েটার খোলা চুলের নিচ দিয়ে,শক্ত করে আকড়ে ধরলো ঘর্মাক্ত ঘাড়।

___”মুখে বলো।”

প্রিয়া তোতলায়।অস্ফুটে বলে,

___”রা..রা..রাজি। “

___”আমার আদরে মরে যেতে মন চাইবে কিন্তু। “

___”রা..জি।”

___”প্রিয়া..!”

আকাশের একরাশ মাদকতায় ভরা কন্ঠে শরীর শিহরনে ভরে ওঠে।

___”হু…”

___”আই ওয়ান্ট টু ইট ইওর লিপস।রাইট নাও।ক্যান আই?”

প্রিয়া কি বলবে!কি বলা উচিত। একই জিনিস সেও চাচ্ছিলো।এটা বলবে!লজ্জায় শরীরের ভার ছেরে দেয় আকাশের ওপর।আকাশ নিরবতাকে সম্মতি ধরে ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়ায়।

___”প্রিয়ু,তুই ঘরে?”

আচমকা দরজায় খটখট শব্দে ছিটকে সরে আসে আকাশের থেকে।আকাশের মুখে বিরক্তি ফুটে ওঠে।ভাজ পরে দু চোখের মাঝে।সবে ঠোঁটে ঠোঁট খানা ছুয়েছিলো।ভিতরে যে ঝড় উঠেছে,সারারাত ধরে ওই মধু খেলেও মন ভরবে না,সেখানে শুধুমাত্র ওইটুকু স্পর্শে কি মন ভরে!উল্টো যেটুকু ঝড় থামিয়ে রাখা গেছিলো সেটাও একশ গুন মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।ভারি গলায় কাছে আসার আদেশ করে প্রিয়াকে।

___”আই কান্ট স্টপ নাও।কাম,লেট মি ইট।”

প্রিয়া লজ্জায় আড়ষ্ট মুখখানা দুদিকে নাড়ে।আকাশ মহাবিরক্ত এবার।নিজেই টানলো কাছে,আবার সামন্য কারণে এখন যন্ত্রণা দিচ্ছে।মেয়েমানুষ গুলো বড্ড অবুঝ।

___”আমার গোটা শরীর জ্বলছে প্রিয়া। কাছে এসো।যেটা শুরু করেছিলাম শেষ করতে পারলে আজ রাতে জ্বলে পুরে শেষ হয়ে যাবে।

প্রিয়া হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে এলো আকাশের দিকে।মুখজুড়ে ভয়ের রেশ।ব্যাস্ত হয়ে বললো,

___”ওরা বোধহয় এসে গেছে।এখন কি হবে?”

আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে।মেজাজ খারাপ হলো তার।মেয়েটা অন্য সব দিকে ভয়ে অস্থির।সে থাকতে এতো ভয়ের কি আছে!আর বাইরে এখন অয়ন,শিয়া,রাতুলরা সম্ভবত। ওরা খুব ভালো করে জানে লিমিট তারা ক্রশ করবে না।যা করবে লিমিটে থেকে।তাহলে তাদের ভয়ে এমন যন্ত্রণা দেওয়ার মানে হয়।হাতের উল্টোপিঠে কপালের ঘামটুকু মুছে শার্টের বোতাম আটকে ফেলে।

___”নাথিং।দরজা খোলো।”

___”ওরা যদি উল্টেপাল্টা ভাবে।

___”কি ভাববে!কিছু তো করতেই দিলেনা।”

প্রিয়া কিছু বলার আগেই গটগট করে গিয়ে দরজা খোলে আকাশ।দরজার সামনে এখন কেউ নেই।ডেকে সাড়া না পাওয়ায় সম্ভবত যার যার রুমে গেছে ফ্রেশ হতে।আকাশ ফিরে তাকায় প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া আকাশের এহেন দৃষ্টিতে চমকায়।লোকটা কি রেগে গেছে তার ওপর।কিছু বলার আগেই শোনা যায় আকাশের কাটকাট কন্ঠ,

___”আমার সাথে কাল দেখা হবেনা হয়তো।সাবধানে যেয়ো।”

প্রিয়া কাঁদো কাঁদো মুখে ছুটে আসে।ততক্ষণে আকাশ দ্রুত পায়ে প্রস্থান করেছে সেখানটা।নিজের ওপর বেশ অভিমান হলো এবার।নিজে শুরুতে রাগ করে থাকতে চাইলো,পারলো না।নিজেই লোকটাকে কাছে টানলো,আবার নিজেই ঠেলে সরিয়ে দিলো।মানুষ টার রাগ করা তো স্বাভাবিকই।

________

আধো আধো ভোর এখন।ভোরের আলো এখনো ভালোমতো ফুটে বের হয়নি।পাখির কিচিরমিচিরে আশপাশ মুখরিত।শিয়া ব্যাস্ত হাতে কাজ করছে রান্নাঘরে।ছোটাছুটি করছে এদিকওদিক। কাল রাতেই অয়ন জানিয়েছে সে আর আকাশও আজ বাড়ি ফিরছে।এবং সকাল সকাল রওনা দেবে।সম্ভবত বাড়িতে ওদের বোনের বিয়ে বা এজাতীয় কিছু একটা।অয়ন বা আকাশ নিজেরাও জানেনা এখনো।তবে আকাশের খুব ধারনা তাদের মা তাদের দুই ভাইকে বাড়ি নিতে এসব ছুতো দিচ্ছেন আরকি।বড়সড় একটা টিফিন প্যাক করে ফেললো দুই ভাইয়ের জন্য। সকালে দুজনকে কফি দিয়ে এসেছে,আর ব্রেকফাস্ট করবে না জানালো।এতো দূরের রাস্তা।দুজনেই স্বাস্থ্য সচেতন। বাড়ির খাবারই বেশি প্রেফার করে।তাই ভোরে সবার আগে উঠে কিচেনে এসেছে শিয়া।এদিকটা সব গোছগাছ করে রেখে ছুটলো অয়নের ঘরের দিকে।অয়ন ফিরবে কয়েকদিন এর মধ্যেই,তবুও মনটা বেশ খচখচ করছে।তারাও আজকে বাড়ি যাবে।রাতের ফ্লাইটে বাবা মা রওনা দেবে দেশের উদ্দেশ্যে।গোটা একটা মাস জাস্ট অফিস টাইমে দেখা হবে।যদিও তারা বেশিরভাগ সময় অফিসেই কাটায়,তবুও কেমন যেনো অভ্যােস এ পরিনত হয়েছে মানুষ টা।পাশাপাশি ঘরে থেকে মনে হয় সবসময় সাথেই আছে।

দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো অয়নের।একদম রেডিটেডি হয়ে পায়ে মোজা পরছে।শিয়া ধীর পায়ে এগিয়ে বিছানা থেকে টাইখানা হাতে নিলো।নিঃশব্দে বেধে দিলো অয়নের গলায়।অয়ন বুঝতে পারছে শিয়ার মন খারাপের কারণ।টেনে এনে বসালো পাশে।

___”মন খারাপ?”

___”কবে ফিরবে?”

___”দুই চারের ভিতরই।”

___”ফিক্সড একটা ডেট বলতে কি হচ্ছে? “

___”গেলামই না।বাড়ি যাচ্ছি কতদিন পর বলোতো!মা ধরেবেধে রেখে না দেয় সেই চিন্তায় আছি।”

শিয়া চুপ করে থাকে।গতকাল রাত থেকেই তার মনটা কেমন একটা অস্থির লাগছে।কি যেনো খচখচ করছে বুকের ভিতর।কারণ হাতড়ে পাচ্ছে না।অয়নের হাত টা ধরলো।ধীর গলায় বললো,

___”দ্রুত ফিরো কেমন?”

___”খুব দ্রুত ফিরবো ম্যাডাম।ফিরে একদম আপনার বাবার পায়ের কাছে বসে পরবো।যতক্ষণ না আপনাকে আমার হাতে দান করে ততক্ষণ কোনো ওঠাউঠি নেই।সত্যি… “

শিয়া অয়নের কথাগুলে বলার ভঙ্গিতে হেসে ফেলে।

___”ব্রেকফাস্ট সত্যি করে যাবে না?”

___”এতো সকালে অভ্যেস নেই।প্যাক করে দিলে তো।রাস্তায় খেয়ে নেবো।”

শিয়া মাথা নাড়ে।অয়ন উঠে গিয়ে ল্যাপটপ খানা ব্যাগে তুলে ফেলে।ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকায়।

___”আকাশ উঠেছে?”

___”তখন তো ওঠেনি দেখেছিলাম।ডেকে টেবিলে কফি দিয়ে এসেছিলাম।এখন হয়তো উঠেছে।”

অয়ন দু দিকে মাথা নাড়ে।ব্যাস্ত হয়ে তাড়া দেয় শিয়াকে।

___”একটু গিয়ে দেখো।ছেলেটা বড্ড ঘুমকাতুরে। গিয়ে দেখবে এখনো ঘুমুচ্ছে হয়তো।”

শিয়া একগাল হেসে উঠে চলে যায় আকাশের রুমের দিকে।দরজা নক করার আগেই হাট করে খোলা পায় দরজা।ভ্রু কুচকে উঁকি দিতেই শূন্য রুম চোখে পরে।ব্যাগট্যাগ সব রেডি করে বিছানার পাশে রাখা।আকাশ কে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।বাথরুমে থাকতে পারে এই সম্ভাবনা দার করিয়ে এগিয়ে যায় প্রিয়ার রুমের দিকে।আকাশরা চলে যাচ্ছে বিদায় জানাতে উঠবে না মেয়েটা!না ডাকলে তো জীবনেও উঠতে পারবে না,পরে রাগারাগি করবে তার ওপর।দ্রুত পায়ে প্রিয়ার রুমের সামনে যেতেই থমকায় সে।এ রুমটাও হাট করে খোলা।বিছানায় বেঘোরে ঘুমুচ্ছে প্রিয়া।মাথার কাছে আকাশ বসা।শিয়া একবার ভিতরে যেতে গিয়ে থামে।বাঁকা হেসে ফিরে আসে আবার অয়নের রুমে।

___”উঠেছে?”

___”প্রিয়ার রুমে।”

অয়ন হাসে।আকাশটা যে এমন কঠিনভাবে একটা হাটুর বয়সী মেয়ের প্রেমে পরবে তা ভেবেছিলো সে কখনো!

_______

___”রাগ করে আছেন ম্যাডাম?হু?আমি চলে যাবো তারপরও বিদায় জানাতে উঠবেন না?”

ঘুমে কাঁদা প্রিয়ার কানে সেসব গেলো না।সে তো তার ফুলেল বিছানায় এলোমেলো হয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।আকাশ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে ঘুমন্ত মুখখানার দিকে।আকাশের চোখ সরু হলো।মেয়েটা কে কেঁদেছিলো রাতে!মুখখানা এমন ফোলা ফোলা লাগছে কেনো!আলতো ঠোঁট ছোয়ালো কপালে।

___”দ্রুত ফিরবো।কেমন?অপেক্ষা করবেন ঠিকাছে?রাগ,অভিমান ফেলে আমাকে কল না করলে আমিও রেগে থাকবো কিন্তু। কাল কষ্ট কার বেশি হয়েছে খবর রাখেন?সারারাত ঘুমুতে পারলাম না কার জন্য! কার দোষ হ্যা?কাছে টেনে আদর করতে না দিয়ে জ্বালিয়ে মারছেন ম্যাডাম।একবার আপনার ভাই আর বোনটার বিয়ে হতে দেন।এক সেকেন্ড অপেক্ষা করবো না আর।তখন বোঝাবো কত ধানে কত চাল।এতদিন দূরে দূরে রাখার শাস্তি তখন শুধে আসলে ফেরত দেবো।”

আবার ছোট্ট করে চুমু খায় কপালটায়।আর বসে না।বেলা হয়ে যাচ্ছে অনেকটা।অয়ন নিশ্চয় রেডি হয়ে অপেক্ষা করছে তার জন্য। ঝটপট উঠে রুম থেকে বেড়িয়েই সামনে পরলো শিয়া।দরজার পাশে বুকে হাত গুজে বাঁকা হাসছে।অপ্রস্তুত হলো আকাশ।ধীরেসুস্থে শব্দহীন দরজা টা চাপিয়ে এগিয়ে এলো এদিকটায়।

শিয়া দুই ভ্রু নাচালো।

___”আমার বোনের রুমে কি কাজ ছিলো হু?”

___”ভুলে ঢুকে পরেছিলাম।”

শিয়া শব্দ করে হাসছে।এমন সময় বিষয়টাকে আরও রঙচঙে করতে ঘর থেকে একএক করে রাতুল,অয়ন, রাকিব বেড়িয়ে এলো।অয়ন একেবারে তার জিনিসপত্র নিয়ে রওনা হওয়ার উদ্দেশ্য বেরিয়েছে।রাকিব আর রাতুল বন্ধুকে সি অফ করতে।রিয়ান আর রেদোয়ান কাল রাতে ফেরেনি।ক্লাইন্টদের নিয়ে এয়ারপোর্টে গিয়েছিলো।ফিরতে বেশ রাত হওয়ায় ওদিকেই কোনো এক হোটেলে স্টে করছে দুজনে।রাতুল দাত বের করে অসহ্য হাসলো।বন্ধুর ঘাড় জাপটে ধরলো।

___”কাকে বলদ মনে হয় তোর?”

আকাশ ঘার বাকিয়ে রাতুলের হাত সরিয়ে নেয়।গম্ভীর গলায় বলে,

___”তোকে।”

___”বল বল।পারিসই তো এক আমাকে পিন মারতে।বল।তোরই সময়।তা তোর বেবিগার্ল উঠলো না?ডেকেছিস বলে কান্না জুড়ে দিয়েছে নাকি?”

আকাশ কপালে ভাজ ফেলে তাকায় রাতুলের দিকে।

___”তোকে না বলেছি ওকে ওসব নামে ডাকবিনা।নাম ধরে ডাকবি।”

সবাই আড়ালে হাসে।রাতুল মুখ বাকায়।

___”আকাশ এহনাজ চৌধুরী তার বেবিগার্ল কে নিয়ে জেলাস?”

___”শাট আপ।”

আকাশ দ্রুত পায়ে পাশ কাটিয়ে নিজের রুম থেকে স্যুটকেস নিয়ে বের হয়।শিয়ার দিকে তাকায়।

___”তোমার বোনকে বলার দরকার নেই আমি গিয়েছিলাম।ম্যাডাম আবার রেগে যাবে।”

শিয়া কিছু বলার আগেই রাতুল লাফিয়ে আবার পাশে চলে এলো আকাশের।

___”বাচ্চাটার সাথে ঝগড়া করেছিস?বাচ্চাকাচ্চার সাথে প্রেম করলে এরম হয় বাডি।মানিয়ে নিস হ্যা?”

___”আর একট বাজেকথা বললে গুলি করবো। রাবিশ।”

______

সকাল সকাল সব গোছানো হয়ে গেছে দু বোনের।প্রয়োজনীয় যা যা লাগবে সব তুলে ফেলেছে ব্যাগে।মোটামোটি সবই নিতে হচ্ছে। কাল বাবা মা আসবেন।প্রায় মাসখানেক থাকবেন।তারমানে এই মাসখানেক তারা বাড়িতেই থাকবে।প্রিয়া গোমরা মুখে নিজের বইখাতা গুলো ব্যাগে তুললো।ঘড়ি দেখলো।সবে আটটা বাজে।অথচ আরও ঘন্টা খানেক আগে গিয়েও আকাশকে রুমে পায়নি সে।অয়ন, আকাশ দুজনেই বাড়ি গিয়েছে।আকাশের ওপর অভিমান হলে তার।হয়েছে না হয় সামান্য একটু ভুল,তার জন্য সত্যি সত্যিই দেখা না করে চলে যাবে!মানে হয় কোনো।প্রিয়ার এতক্ষণেও একটি শব্দও উচ্চারন করেনি।শিয়া বোনের জামাকাপড় ভাজ করে তুললে তুলতে তাকালো সেদিকে।

___”হয়েছে টা কি আমার বাচালপাখির।”

সে বাচাল!মুখ বাকায়।গম্ভীর গলায় বলে,

___”কিচ্ছু না।”

___”কিছু একটা তো হয়েছেই।এমন থ মেরে যাওয়ার মেয়ে তো আপনি নয় বেহেন জি।ঘটনা কি!আপনার তো খুশি হওয়ার কথা।বাবা মা আসছে।”

___”খুশিই তো।”

___”ওওওও তাহলে বুঝি আমার ভাইয়ের জন্য মনটা খারাপ হু?আর পাশাপাশি রুমে থেকে চুপিচুপি রোমান্স করা হবে না গোটা মাস তাই?”

প্রিয়া লজ্জা পায়।এর আগে অনেকদিন অবধি তার ধারনা ছিলো শিয়া টের পায়না কিছু।পরে বুঝতে পারলো তার বোন তার থেকে বেশি আকাশকে সাহায্য করে।এই যেমন সে যখন মাঝেমধ্যে দরজা আটকে ঘুমাতো আকাশ শিয়ার রুম দিয়ে ঢুকে তার রুমে আসতো।ভাবা যায়!

___”মোটেই না।তোমার ভাইয়ের জন্য মন খারাপ হবে কেনো!কে সে!”

শব্দ করে হেসে ফেললো শিয়া।দুজনের মানঅভিমান এর পালা চলছে।ঠিকই ধরেছে।সকালে আকাশকে দেখেই টের পেয়েছে।লুকিয়ে লুকিয়ে তার বোনটাকে চুমু খেয়ে বিদায় জানাতে এসেছিলো।কপাল দোষে ধরা পরে যায় শিয়ার কাছে।মোটেই ডাকতে দিলো না,বারবার নিষেধ করে গেলো সে যে এ ঘরে এসেছিলো যাওয়ার আগে সেটা প্রিয়াকে বলতে।একহাতে টেনে আনলো বোনের হাত।কাছে এনে বসালো বিছানায়।

___”তোর ভাইয়া বাবা মা কে এবারই বলবে আমাদের কথা।একসাথে তোদের কথাটাও বলবো।কেমন?”

প্রিয়া চমকায়।বড় বড় চোখ করে ফেলে।

___”আমার ভয় করে আপু।”

___”ভয় পেলে প্রেম পূর্ণতা দিবি কি করে?হু?দুনিয়া উল্টে গেলেও ভালোবাসা অস্বীকার করবি না কখনো।যাই হয়ে যাক।তোর দিক থেকে তুই সৎ থাকবি সম্পর্কটায়।তারপর যা হওয়ার হবে।বুঝলি?”

প্রিয়া মাথা নাড়ে বুঝেছে সে।সে কখনো অস্বীকার করতে পারবে না আকাশকে।ওই মানুষ টা রক্তে মিশে গেছে তার।এক মূহুর্ত চোখের আড়াল করতে মন সায় দেয় না।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼🍂

[পর্বটা আরো বড় ছিলো।এডিট করতে মন চাইলো না।তাই এতটুকুই দিলাম।বানান চেক করিনি।ভুল থাকলে জানাবেন।আর দয়া করিয়া রিঅ্যাক্ট,রেসপন্স করবেন ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন