#মাফিয়া (The Villan)
part:03
Writer: Suvhan Årag (ছদ্মনাম)
সকাল বেলা
রাতের জ্ঞান ফিরলো
রাত চোখ খুলে আশে পাশে তাকিয়ে দেখে। পাশে কেউ নেই
রাত উঠে বসলো। ঘড়ি তে সকাল দশটা বাজে
রাত:এতো সকাল হয়ে গেছে। আমি ফজরের নামাজ ও পড়তে পারলাম না
হঠাত্ কালকের রাতের ঘটনা মনে করতে শিউরে উঠলো
রাত
রাত:আল্লাহ্ তুমি এ কোন পরীক্ষা তে ফেললে আমাকে।আমি এক মূহুর্ত ও এখানে থাকতে পারছি না।না
জানি বাবা মা কি করছে।আল্লাহ্ কোন তো উপায় খুঁজে দেও
আমাকে
এদিকে
মেয়ের খোঁজে রায়হান সাহেব পুরো পাগল। নেহাল এর কথা
মতো পুরো সিলেট ঘুরেছে সে।কিন্তু সে পুলিশ কেউ রাতের কোন খোঁজ পেলো না।আর সেদিন নেহাল এর নাম্বার ট্রাক করেও কোন লাভ হয় নি।সেখানে দুজন পুলিশ অফিসার গেছিলেন তাঁরা গিয়ে দেখে ঐ টা সিলেট যাওয়ার ই একটি অন্য রাস্তা ছিল
রাতের বাবা:কোথায় গেল আমার মেয়ে টা।ঐ মাফিয়া র বাচ্চা কি করেছে আমার সরল মেয়ে টাকে।তোকে একবার
পাই আমি ছারবো না। আমার মেয়ে কে আমার কাছ থেকে নিয়ে তুই এইভাবে আমাকে ভুল রাস্তা বললি
রায়হান সাহেব নেহাল এর সেই নাম্বার এ আরেক বার কল করলেন ।কিন্তু সেই একি উওর--সিম কার্ড টি এই মূহুর্ত
ব্যবহৃত হচ্ছে না
রাতের বাবা:আল্লাহ্ তুমি আমার মালিক। রক্ষা করো আমার মেয়ে টাকে
এদিকে আশেপাশে র মানুষ ও নানারকম কথা উঠাচ্ছে রাতকে নিয়ে। রায়হান সাহেব সইতে পারছেন না। যে মেয়ে কখনো কোন ছেলে র সামনে যেতো না আজ তার এতো অপবাদ
সুইজারল্যান্ড এর বরফ ঢাকা প্রকৃতি উপভোগ করছেন নাজমুল চৌধুরি। সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরাফ মাহমুদ
আরাফ:আচ্ছা কি মজা পাচ্ছি স বলতো। তোর এই খেলা তুই কখন থামাবি
নাজমুল:হুম। নেহাল চৌধুরি নিজেকে খুব চালাক ভাবে রে।ও মনে করে ও ই খেলছে এই গেম।কিন্তু ও সবচেয়ে বোকা রে।ও জানে না আমি ওর বাপ ও আমার না।ও যেই স্কুলে পড়ে এখন আমি সেখানকার প্রিন্সিপাল রে।শুধু দেখে যা কি হয়। রায়হান কে আমি কিভাবে না চাই
আরাফ: হুমম
আরাফ উঠে আশে পাশে হাটছে
আরাফ:আদৌ কি তুই খুব চালাক রে নাজমুল। হা হা।গেম। গেম খেলবি তাও তুই। আরে তুই তো এই আরাফ এর কাছে দুগ্ধপোষ্য শিশু রে শিশু,। হা হা
এদিকে
রাত বিছানা থেকে উঠে গেছে। এ সময় নেহাল হাজির
রাত তাড়াতাড়ি ওড়না দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে নিল
নেহাল:বৌঔঔঔ
রাত এর মেজাজ একদিক থেকে খুব খারাপ হচ্ছে। প্রথম ত সে অবিবাহিত মেয়ে। এইভাবে তাকে এখানে আটকে রাখা।তারপর নেহাল এর ঐ ঢঙের বৌ ডাক।রাত কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল
রাত:নাহ। কাল রাতে র ঐ বিষয় নিয়ে যদি মাফিয়া টা আমাকে মেরে দেয়।তখন কি হবে।নিজের ভয় এর চেয়ে বাবা মার জন্য কষ্ট হচ্ছে। এই মাফিয়া যদি ওদের কোন ক্ষতি করে দেয়। নাহ। আমাকে ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহ্ বলেছেন বিপদে র সময় ধৈর্য ধারণ করতে---মনে মনে
নেহাল:ও বৌঔঔঔ কি গো কি ভাবছো। আমার কথা ভাবছো বুঝি
রাত: দেখুন বার বার এক কথা বলবেন না।আমি আপনার বৌ নই। আর হ্যাঁ আমি কোন পরপুরুষ এর কথা ভাবি না
নেহাল:তুমি আমাকে এইভাবে বলতে পারলে বৌ।তুমি জানো তোমার এই কথাটা আমার কোথায় কতটুকু লেগেছে (করুন ভাব নিয়ে)
রাত নেহাল এর কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝছে না
নেহাল:এই যে দেখো এই খানে, এখান থেকে দুই মিটার উঁচুতে তিন ইঞ্চি ভেতরে পাঁচ ইন্চি র গভীরে ছয় কিলো পেছনে আট কেজি ডানে দশ কেজি বামে দুই লিটার উপরে তিন ফুট গভীর এ,দেখলে তো।কতোটা লেগেছে আমার (বুকের বা পাশ দেখিয়ে অসহায় ভাব নিয়ে)
নেহাল এর কথা শুনে রাতের জ্ঞান হারানোর উপক্রম ।রাতের কাছে নেহাল কে শুধু মাফিয়া না একটা হিংস্র খুনি না বরং পাবনা থেকে পলাতক পাগল বলে মনে হচ্ছে
নেহাল:আচ্ছা বৌ চলো এখন আমরা নিচে গিয়ে দুজনে রান্না করবো। চলো তো খুব খিদে পেয়েছে তোমার
বলেই নেহাল রাতের হাত ধরে হাঁটা শুরু
রাত:এই ছারুন বলছি।সমস্যা কি আপনার । সব সময় কেনো গায়ে হাত দিয়ে কথা বলেন। ছারুন
কে শোনে কার কথা। নেহাল রাতকে টেনে নিয়ে রান্না ঘরে গেল। তারপর বিভিন্ন মশলা নামাতে শুরু করলো
নেহাল:বৌ চলো আজ আমি আর তুমি গরুর গোশত খাব
বলে নেহাল কড়াই তে তেল গরম করে মশলা দিতে লাগলো
হঠাত্
নেহাল:আআআ আ
রাত:কি হয়েছে
নেহাল:বৌ আমি কিছু দেখতে পারছি না। চোখ খুব জলছে। শুকনো মরিচ এর গুঁড়া হাতে ছিল। সেটা চোখে,,,,, বৌ আমাকে বেসিনের কাছে নিয়ে চলো প্লিজ
রাত আর কোন উপায় না পেয়ে নেহাল কে বেসিনের কাছে নিয়ে গেল
নেহাল পানি ঝাপটা চোখে দিচ্ছে কোন কাজ হচ্ছে না
নেহাল:বৌ ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি এনে দেও না।আমি সইতে পারছি না। চোখ খুব জলছে।তাকাতে ও পারছি না
রাত গিয়ে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি নিয়ে একটা গামলাতে নিল।রাত নেহাল এর কাছে যেতে যাবে তার আগে থেমে গেল
রাত:না ঐ মাফিয়া ঠিকমতো তাকাতে ও পারছে না।এই সুযোগ আমাকে পালাতে হবে
রাত পানির ভেতর পুরো মরিচের সব গুঁড়া ঢেলে দিল
রাত:এবার বুঝবি মানুষ এর ক্ষতি করতে আসলে কি হয়
এদিকে
নেহাল:বৌ কোথায় তুমি।তাড়াতাড়ি আসো আমি সইতে পারছি না
রাত:এই তো চলে এসেছি। নিন ভালো করে চোখ ধুয়ে ফেলুন নেহাল পানিতে হাত দিয়ে চোখে যেই ঝাপটা দিল বেচারা চেঁচিয়ে উঠলো
নেহাল:আআআ বৌ কি এনেছো এটা তুমি। আআআআআ রাত এই ফাঁকে দৌড় দিয়ে সদর দরজা খুলে যেই বাইরে যাবে তাকিয়ে দেখে নেহাল এর সাঙ্গ পাঙ্গ সব দরজার সামনে পাহারা দিচ্ছে
সাইফ:ভাবী কোথায় যাচ্ছেন আপনি। ভাই কে ছাড়া আপনি কোথাও যেতে পারবেন না
রাত:আমি তো আপনাদের ঈ ডাকতে এসেছি। দেখুন না আপনাদের ভাই কেমন চেঁচাচ্ছে।ওনার চোখে কি গেছে
আসিফ:কিহহহ
নেহাল এর চিত্কার সবাই শুনতে পেলো
সাইফ: হ্যাঁ তাই তো এটা তো ভাই এর গলা। এই সবাই চল
বলে সবাই ভেতরে চলে গেল। রাত বাইরে একা। রাত কিছু না ভেবে বাইরে থেকে সদর দরজা টা লক করে দৌড় দিল অজানা পথে
রাত: আমাকে এখান থেকে পালাতেই হবে
সেই কখন থেকে দৌড়াচ্ছ এ রাত। দুপুর গড়াতে চললো। কিন্তু কোন পথ ই চিনছে না।রাত এর আর শক্তি নেই দৌড়ানোর। সেই কাল থেকে পেটে কিছু পড়েনি। রাস্তায় একটা লোককে দেখে রাত ডাক দিল
রাত:এই যে ভাই শুনছেন
লোক:জি বলেন
রাত:এটা কোন জায়গা ভাই
লোক: কেন কক্সবাজার
রাত:কক্সবাজার। এখানে নিয়ে এসেছে আমাকে। কিন্তু এখন বাড়ি ফিরবো কি করে।আমি তো এখানকার কিছু চিনি না--মনে মনে
লোক:আপা কোন দরকার আছেনি
রাত:এখানে বাস স্ট্যান্ড কোথায় আছে ভাই বলতে পারেন
লোক:কোথায় যাবেন আপনি
রাত:এই তো ঢাকা তে
লোক: ঐ দিক দিয়ে,,,,,,,,,,,
রাত:ধন্যবাদ আপনাকে
লোকটা রাতকে পথ দেখিয়ে দিল। কিন্তু রাত আর এগোতে পারছে না। অনেক কষ্ট এ হাঁটতে থাকলো রাত। কাছে টাকা নেই যে কোন গাড়ি নিবে।বাসের টিকিট কি দিয়ে কাটবে তাও জানা নেই। তার শুধু এখান থেকে পালাতে হবে
হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর এসে পড়েছে রাত। পা দুটো আর চলছে না।রাত না পেরে বসে পড়লো। পথের কাছে একটা গাছের নিচে
মাথার উপর সূর্য। রাতের পানির তেষ্টা পেয়েছে খুব
রাত:আআআআ পানি,,,,,
হঠাত্ রাতের সামনে কেউ পানির বোতল ধরলো
রাত কিছু না দেখেই বোতল নিয়ে ঢক ঢক করে পানি খাওয়া শুরু করলো
হঠাত্ রাতের চোখ গেল সামনে থাকা মানুষ টির দিকে
তাকে দেখে রাতের গলা আরো শুকিয়ে যাচ্ছে। হাত পা অসাড় হয়ে যাচ্ছে।আর সামনে থাকা মানুষ টি রক্ত চক্ষু দিয়ে ই যেন রাতকে গিলে খাচ্ছে
রাত এর মাথা এমনিতেই ঘুরছে। সারাদিন না খাওয়া। তার মধ্যে নেহাল আর তার দলবল হাজির
হ্যাঁ সামনে থাকা মানুষটি আর কেউ না নেহাল
রাত:আআআপপনিই,,,,,,,
নেহাল:বৌঔঔ তুমি এখানে কি করছো, তোমার না আমার সাথে গরুর গোশত রান্না করার কথা ছিল। তুমি এখানে কি করছো (শান্ত গলায়)
চলবে-------------