ফন্ট সাইজ:
থিম:
পিচ্ছি বউয়ের সংসার

১ম পর্ব

লেখক: তামিম

অজন্তার যখন ১৩ বছর বয়স তখন আমার সাথে বিয়ে হয়। তখন ও বুঝতো না বিয়ে কি জিনিস! ওর কাছে তখন বিয়ে মানে একসাথে ঘুমানো আমাদের বাসায় থাকবে এটুকুই তাই বিয়ে করতে রাজি হয়।

অজন্তা হচ্ছে আমার রুমানা আন্টির মেয়ে। রুমানা আন্টি হচ্ছে আমার মায়ের পুতুল খেলা কালের বান্ধবী। তখন তারা পুতুল কে ছেলে মেয়ে বানিয়ে বিয়ে দিয়েছিলো আর আজ আমার আর অজন্তার বিয়ে কিন্ত বিয়েতে আমি একটুও রাজি না।
কারন পিচ্ছি একটা মেয়ে কে কি ভাবে বিয়ে করবো। আমি ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া একজন স্টুডেন্ট কি ভাবে ক্লাস এইটে পড়া মেয়ে কে বিয়ে করি। এত তারাতাড়ি বিয়ে দিচ্ছে তার কারন ইউনিভার্সিটি তে মাহির সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম মা কি জানি মনে করে কলেজে আসছিলো এসে প্রথমে আমাকে দেখে আর মাহিকে।
উনার মনে হচ্ছে আমরা প্রেম করি তাই এই বিবাহের আয়োজন। বাড়ি টা সেই সাজানো হয়েছে তাতে আমার কি? আমি তো পালাবো কিন্ত পালিয়ে যাবো কোথায়? আগে তো পালাই তারপর চিন্তা করা যাবে।
আমি কামরুল ইসলাম ইথান! অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র, যার সাথে বিয়ে হতে যাচ্ছে তার নাম অজন্তা। পালাতে যাবো এমন সময় রুমানা আন্টির কল আসলো।
কি জামাই বাবাজি কেমন আছো? ( রুমানা আন্টি )
( চুপ করে রইলাম )
তোমার সাথে অজন্তা কথা বলবে?? ( আন্টি )
( মনে মনে এই পিচ্ছি টা আবার কি বলবে )
হ্যালো ইথান ভাইয়া কেমন আছেন? ( অজন্তা )
এমন সময় আন্টি অজন্তা কে ধমক দিয়ে বলল ভাইয়া কি? আজ বিয়ে তোর সাথে ভাইয়া বলিস কেনো! ওগো শুনছো এই সব বল।
ওগো শুনছেন? ( অজন্তা )
এই সব শুনতে ভালো লাগে না! ( ইথান )
আমারও ভালো লাগে না শুনলেন তো মা কেমন করলো।
আন্টি চলে গেলে তখন ফোন দেও!
মা চলে গেছে।
হুম কি জন্য ফোন দিয়েছো??
আচ্ছা ভাইয়া আপনার ফোনে গেমস আছে? আপনার ফোন বিয়ের পর ধরতে দিবেন নাকি আব্বু আম্মুর মতো আপনিও বকা দিবেন? ( অজন্তা )
কেনো। ( ইথান )
আমার গেমস খেলতে খুব ভালো লাগে! খেলতে দিবেন তো বলেন? ( মায়া ভরা কন্ঠে বলল )
( মনে মনে, আমি তো বিয়ের করবো না! তাও বলি হ্যাঁ ) হ্যাঁ দিবো!
আর একটা কথা ছিলো। ( অজন্তা )
কি? ( ইথান )
আপনার ফোনে নেট থেকে কার্টুন ডাউনলোড দিবেন আমার খুব ভালো লাগে কার্টুন।
আল্লাহ বাঁচাও!! ( মনে মনে বললাম )
কি ব্যাপার কথা বলছেন না কেনো, আপনিও কি আব্বু আম্মুর বকা দিবেন সারা দিন কার্টুন দেখলে??
না না দেখতে পারবা।
এই তো আমার লক্ষি জামাই! ( বলে ফোন কাটে )
কয় কি লক্ষি জামাই বলে! এই মেয়ে কে কোন ভাবে বিয়ে করা যাবে না। ফোন টা কেটে পালানোর প্লান করলাম কিন্ত কোন কাজ হল না। ধরেই নিলাম বিয়ে টা করতেই হবে পালাতে তো পারলাম না। এখন ভাবছি যদি আন্টির বাড়ি থেকে পালাতে পারি।
বিয়ে করতে গেলাম, কিন্ত অজন্তাদের বাসায় তেমন আয়োজন করা হয়নি কারন অজন্তা ছোট যে কোন ঝামেলা হতে পারে তাই। ভাবলাম অজন্তার সাথে দেখা করে আসি। তাই অজন্তার রুমের দিকে গেলাম। অজন্তা কে সাজাচ্ছিল, অজন্তা ঠিক পুতুলের মতো লাগছিলো, যেনো পুতুল কে বউ সাজানো হচ্ছে।
আমাকে দরজা পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। সবাই চলে গেলো শুধু মায়া বাধে! তারপর আমি অজন্তা কে বললাম...
অজন্তা তুমি কি বিয়েতে রাজি?? নাকি ভয় দেখিয়ে রাজি করাইছে??
আমি রাজি পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না! সামনে জেএসসি পরিক্ষা। ( অজন্তা )
( মনে মনে পিচ্ছি কয় কি?? )
ভাইয়া কি ভাবছেন? ( অজন্তা )
কিছু না, আমি একটা কথা বলতে চাই? ( ইথান )
হুম বলেন!
আমি বিয়ে করতে চাই না। ( ইথান )
তাহলে আমার গেমস খেলার কি হবে আর কার্টুন দেখা??
প্লিজ আমাকে পালাতে সাহায্য করো! আমি তোমাকে আমার মোবাইল দিয়ে যাচ্ছি তোমার যা ইচ্ছে করো কিন্ত আমাকে পালাতে সাহায্য করো।
সত্যি দিবেন?? ( অজন্তা অবাক হয়ে )
হুম সত্যি!
আচ্ছা আসেন আমি পালাতে সাহায্য করব।
অজন্তা ফোন হাতে পেয়ে অনেক খুশি। এমন সময় অজন্তা বলল আসেন ভাইয়া আমার রুমের ব্যালকনি দিয়ে নামা যায়। আমি গিয়ে তাকিয়ে দেখলাম নামলেই সোজা রাস্তা তারপর আমি নাই। পাইপ বেয়ে নামতে যাবো এমন সময় কেউ একজন খফ করে ঘাড় ধরে ফেলল মাথা ঘুরিয়ে দেখি অজন্তা।
ঘাড় ধরলা কেনো? ( ইথান )
আগে উঠে আসেন তারপর বলছি! ( অজন্তা )
উঠে বললাম কি বলো?
ফোন দিলেন ফোনের চার্জার কই?? ( অজন্তা )
কেমন ডা লাগে একটা কিনে নিবা!
আমি ছোট মানুষ টাকা পাবো কই??
আমি কিছু টাকা হাতে দিয়ে বললাম...
এই যে টাকা কিনে নিয়ো,যাই আমি! ( ইথান )
এই যে শুনেন! বিয়ে করতে হবে? ( অজন্তা )
মানে কি?
মানে আমার হাতে ফোন দেখলে নিয়ে যাবে,আর বিয়ে হলে কেউ কিছু বলতে পারবে না।
না! আমি বিয়ে করব না।
আমি কি সবাই কে ডাকবো তাহলে! ( অজন্তা )
না।
তাহলে আমার আগে আগে চলেন??
শেষ পর্যন্ত পিচ্ছি একটা মেয়ে ভয় দেখিয়ে বিয়ে করলো। বিয়ে করে বউ নিয়ে বাসায় আসলাম, আমার রুম টা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। রাত ১২ টায় রুমে গেলাম দেখলাম অজন্তা মুখে খুব হাসি নিয়ে গেমস খেলছে ফোনে।
দেখে খুব রাগ হল কিন্ত কিছু বলতে পারব না তাহলে খবর আছে। বাসার রাতে মানুষ কি করে আর আমি কি করি বউ ফোনে গেমস খেলছে। কিছুক্ষন পর আবার কার্টুন দেখা শুরু করলো।
আমি বিরক্ত হয়ে বালিশ একটা নিয়ে এই শীতের মধ্যে ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ ঘুম টা ভেঙে গেলো, বিছানার দিকে তাকালাম কিন্ত অজন্তা ঘুমিয়ে পড়ছে রাত তখন ১টা বাজে, কিন্ত ফোনের স্কিনে আলো দেখা যাচ্ছে।
ফোন টা অজন্তার বুকের উপর ছিলো। আমি উঠে ফোন টা হাতে নেই! স্কিনের আলো অজন্তার মুখে পড়তেই দেখলাম অজন্তার মুখ দিয়ে কি জানি সাদা বের হচ্ছে আর হঠাৎ খিচুনি শুরু হয়ে গেলো অজন্তার।
চলবে..?
#গল্প_পিচ্চি_বউয়ের_সংসার
#সূচনা_পর্ব
নেক্সট পর্ব কামিং! সবাই সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন