ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি ছিলে আমারই

১ম পর্ব

লেখক: অহনা রহমান

গল্প : তুমি_ছিলে_আমারই 

সূচনা_পর্ব
লেখন : অহনা_রহমান
 
"এমন সেজেছিস কেন? বাসর করবি তুই? এত্তো ক্ষুধা শরীরের? ক্ষুধা মেটানোর জন্য এসেছিস? তোকে মানা করেছিলাম না বিয়েতে রাজি হতে? কেন রাজি হলি তুই? বল? জবাব দে!!" 

তার এমন গর্জনে কেঁপে উঠলাম আমি। আমার ছোট্ট শরীরটা থরথর করে কাঁপতে লাগলো ভয়ে। ওনাকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে উনি প্রচন্ড রেগে আছেন। ওনার নাকের ডগা লাল ও চোখ লাল হয়ে গিয়েছে। আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না। ওনার এমন নিম্নস্তরের কটু কথা শুনে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমিই দোষি তার গল্পে। সে নিষেধ করার পরও আমি তার সাথে বিয়ে করতে রাজি হই। এটা কি আমার দোষ না? আমি অবশ্যই দোষী। আমি মনে মনে এসব ভাবতে না ভাবতেই উনি ফের গর্জে উঠলেন। গোলাপ দিয়ে সাজানো খাটখানা এক নিমিষেই ধ্বংস করে দিলেন। চিৎকার করে বললেন, 
"এসব সাজিয়েছে কে? আমাকে দাফন করার পর ফুল দিয়ে এই খাট কে সাজিয়েছে বল? তুই কি ভেবেছিস, তোর এই সাজগোছ দেখে আমি মুগ্ধ হবো? হাহাহা, এই ঘর, এই খাট, এমনকি এই বিয়েও শুধু নামমাত্র। আমি তোর মতো নীরস কাউকে কখনো গ্রহণই করবো না।" 
তার বলা প্রতিটি শব্দ যেন আমার হৃদয়ে তীর হয়ে বিঁধছে। অথচ আমি কিছুই বলতে পারছি না। হঠাৎ সে আমার হাত ধরে টেনে খাট থেকে নিচে নামালেন। ডান হাতটা মুচড়ে দিয়ে খেঁকিয়ে বললেন, 
"তোর উদ্দেশ্য কি? কেন আমাকে এভাবে দাফন করলি তুই? কি দরকার ছিলো বল?" 
এই পর্যায়ে আমি তার চোখে পানি দেখলাম। চোখ দুটো কেমন চিকচিক করছে। ওনাকে খুব অসহায় লাগলো এ পর্যায়ে। এদিকে আমি হাতের ব্যাথায় ছটফট করতে লাগলাম। আমার চোখ দিয়েও অনবরত পানি পড়তে লাগলো। কিন্তু ওনার সামনে কথা বলার সাহস পেলাম না আমি। চুপ থাকলাম।
উনি আমার দিকে অগ্নিচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে রইলেন। এরপর হঠাৎই আমার গলা চেপে ধরলেন। আমার দম বন্ধ হয়ে এলো। চোখে সামনে সব অন্ধকার হতে শুরু করলো। ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়লো কে যেন। একের পর এক দরজা ধাক্কাতেই থাকলো.........!!
___
চোখ পিটপিট করে তাকালো সুখ। চোখ মেলেই দেখতে পেল, কয়েকটা পরিচিত মুখ ওর দিকে ঝুঁকে আছে। হঠাৎ করে দেখাতে চমকে উঠলো মেয়েটা। ধরফরিয়ে উঠে বসলো সে। সুখ উঠে বসতেই রিমা রা উঠে দাঁড়ালো। তিশা চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,
"কিরে আবার তোর সেই বাসর রাতের স্বপ্ন দেখেছিস নাকি?" 
সুখ নিজেকে ধাতস্থ করে বলল,
"হুম।"
সুখের উত্তর খুব একটা পছন্দ হলো না রিমাদের। রিমা অনেকটা বিরক্ত নিয়ে বলল,
"ভাই দুই বছর ধরে তুই এই একই স্বপ্ন দেখে যাচ্ছিস আর আমাদের সময়ে অসময়ে ভরকে দিচ্ছিস। এসব এবার বন্ধ কর বাপ আমার।" 
সুখ কিছু বললো না পাল্টা উত্তরে। এমনিতে ও মেয়েটা ভিষন নরম। তেমন একটা কথা বলে না কারো সাথে। সুখের এমন নীরাবতা আরও বিরক্ত করলো রিমা আর তিশাকে। বিরক্ত হলো না একমাত্র সোনিয়া। সে শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। সুখের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
"শপিংয়ে যাবো। চলতো আমার সাথে৷ একসপ্তাহ পরই তো নতুন ভার্সিটিতে যাবো। চল কেনাকাটা করে আসি।" 
সুখ দুদিকে মাথা নাড়লো। অর্থাৎ সে যাবে না। ঘড়িতে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। সময় বিকাল ৪ টা। রিমাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"আমি ইচ্ছে করে স্বপ্ন দেখি না। এই স্বপ্ন দেখাতে আমার হাত নেই রে। যদি থাকতো তবে শুধু স্বপ্ন নয় আরও অনেক কিছু আমার সৃতির পাতা থেকেই মুছে ফেলতাম। যেগুলো আমাকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।"
সুখের কথার সঠিক মানে টা সোনিয়া ছাড়া ধরতে পারলো না কেউই। তবুও সুখের জন্য রিমার কেমন একটা মায়া হলো। সেই দুই বছর আগে থেকে ওরা চারজন একটা ফ্লাট নিয়ে থাকে। ওরা তিনজন ঈদে, পূজায় বা অন্যান্য ছুটিতে বাসায় গেলেও মেয়েটা কোথাও যায়না। সারাদিনে হয়তো হাতেগোনা কয়েকটা কথা বলে৷ তাছাড়া কোন কথাও বলে না কারও সাথে। সবকিছু শেয়ার করা তো দুরে থাক। সারাদিন আগে যখন কলেজ ছিলো তখন শুধু কলেজেই যেতো আর কোচিংয়ে। তাছাড়া মেয়েটা ঘর থেকে বেরই হয়না। সারাদিন কি যেন ভাবে। আর যখন একটু ঘুমোতে যাবে, নিয়ম করে কিছু না কিছু স্বপ্ন দেখবে আর বিরবির করে আকুতি মিনতি করবে। এগুলো কি আদৌও শুধুমাত্র স্বপ্ন নাকি অন্য কোনো গল্প? জানে রিমা। এসব ভাবতে ভাবতেই ওর বুক চিড়ে বের হলো দীর্ঘশ্বাস। 
ও আর তিশা আর কোন কথা বললো না। চলে গেল নিজেদের রুমে। ওরা দুজন চলে যেতেই সোনিয়া দরজা আটকে দিলো। সুখের পাশে গিয়ে বসলো। ওর মাথাটা নিজের কাঁধে নিয়ে বলল,
"সেসব অনেক পুরোনো হয়ে গেছে সুখ।" 
"জানি। কিন্তু ক্ষত গুলো আজও তাজা।" 
সোনিয়া পরিস্থিতি পাল্টাতে বলল,
"চল শপিংয়ে যায়। আচ্ছা তো তো অনেক টাকা। এতো টাকা দিয়ে কি করবি তুই? অন্তত কিছু কাপর কিনে একটু টাকা কমা।" 
সুখ প্রতিত্তোরে কেমন মনমরা হয়ে বলল,
"জানিস তোর মধ্যে একটা মা মা ভাব আছে। মা মরার আগে ভাইয়ারা যখন আমাকে মারতো না? মা ও আমাকে শান্তনা দেওয়ার জন্য এরকম উল্টোপাল্টা কথা বলতো। কেন যে মা মরে গেল।" 
সুখের বলা শেষের কথা টা শুনে সোনিয়ার বুকটা দুমরে মুচড়ে উঠলো। কি করলে যে এই মেয়েটার কষ্ট কমবে তা জানে না সোনিয়া। নিজের মনের ভেতরে হওয়া তোলপাড় লুকিয়ে সোনিয়া মেকি হেঁসে বলল,
"এই খবরদার। তুই যেন আবার কান্না করিস না। শোন, ভালো মানুষ আল্লাহ তারাতাড়ি তুলে নেন তার কাছে। আর আমরা কেউই তো চিরদিন থাকবো না সুখ। দেখ তুই যদি এভাবে মরার মতো থাকিস আন্টির আরও কষ্ট হবে যে। আর শোন, আল্লাহ তোকে পরীক্ষা করছেন। ধৈর্য ধর পাখি। তোর সাথে নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে। " 
"মরার মতো থাকার কি আছে সোনিয়া। আমি তো মারা গোছি সেই কবেই। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে দাফন করা বাকি আছে। আল্লাহ আমার বাবাকে নিয়ে পরীক্ষা করলো, মাকে নিয়ে পরীক্ষা করলো, ভাইদের বেইমানি দেখিয়ে পরীক্ষা করলো, শেষের জন....!! 
কথা শেষ করার আগেই সোনিয়া জড়িয়ে ধরল সুখকে। স্নেহের সাথে বলল,
"আর এসব বলিস না প্লিজ। চল বাহিরে যায় ভালো লাগবে।" 
সুখ নিজের চোখে আসা পানি গুলো মুছে নিলো ঝটপট। কেঁদে কি লাভ? সুখ কতবার মনেমনে প্রতিজ্ঞা করেছে, সে আর কাঁদবে না। কিন্তু সে না কেঁদে পারে না। মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা মানুষ গুলোই জানে, কাঁদলে কতটা শান্তি লাগে। 
সোনিয়া আবার বলল,
"চল না প্লিজ।" 
সুখ কাতর কন্ঠে বলল,
"কেন এই জীবন্ত লাশকে তোদের সাথে নিতে চাস বল?"
"কারন তুইও আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছিস সুখ। ওঠ দ্রুত রেডি হ।" 
সুখ নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উঠলো। না উঠলে যে ছাড়বে না সোনিয়া। সে উঠে ওয়াশরুমে গেল ফ্রেশ হতে। যাওয়ার আগে সোনিয়াকে বলল, ওর কাপর গুলো দেওয়ার জন্য। সোনিয়া ও বাধ্য মেয়ের মতোই সুখের কাপর চুজ করে দিলো। সুখকে নিজের বোনের মতো ভাবে কি'না মেয়েটা!
সুখের কাপর দিয়ে সোনিয়া গেল রিমা আর তিশার কাছে। ওরা যাবে কিনা জিজ্ঞেস করতে। 
"এই রিমা, তিশা তোরা যাবি শপিংয়ে?" 
সোনিয়ার কথা শুনে লাফিয়ে উঠলো তিশা। সে েন খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেছে। উত্তেজিত হয়ে বলল,
"যাবো না মানে? এক সপ্তাহ পরেই ভার্সিটি যাচ্ছি। আর শপিং না করলে হবে? কত সিনিয়র ভাইয়া আছে সেখানে। কতো হ্যান্ডসাম স্যার আছে। ইশশ, ভাবলেই তো আমার লজ্জা লাগছে।"
তিশার এমন কান্ডে তাজ্জব হয়ে গেল সোনিয়া আর রিমা। সোনিয়া বিরক্ত হলো। আর রিমা উৎসুক হয়ে বলল,
"কেন কেন? তোর লজ্জা লাগছে কেন? সুখ স্বপ্নে বাসর রাতে মারামারি করতে দেখে। তুই কি স্বপ্ন স্যার আর সিনিয়র ভাইয়াদের সাথে ডটডটডট!!" 
চলবে? 
   

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন