ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি ছিলে আমারই

১১তম পর্ব

লেখক: অহনা রহমান

(১১)

ব্যাথায় মাথাটা টনটন করছে সুখের। হাসপাতাল থেকে ব্যাথার ঔষধ যদিও দিয়েছিলো, তবুও তার মাথা ব্যাথা করছে। চোখের উপর হাত রেখে বিছানায় শুয়ে আছে সুখ। কিছুই ভালো লাগছে না তার। মুনিয়ার জন্য খারাপ লাগছে ভিষন। সেই সাথে সোনিয়ার জন্য ও। সুখের মতো ওদের ও কপাল পোড়া। সুখ আনমনে সোনিয়াদের কথায় ভাবছিলো হঠাৎ তার ফোনে কল আসে। বালিশের পাশ থেকে ফোনটা হাতড়ে বের করে সুখ। মোবাইলের স্ক্রিনে ঋত্বিকের নাম্বার। সুখ অবাক হয়। দুপুরে ঋত্বিকের সাথে দেখা হওয়ার ব্যাপার টা মাথা থেকে বেরই হয়ে গিয়েছিলো। এখন ঋত্বিকের কল আসায় মনে পড়লো আবার। সে কপাল কুঁচকে তাকায় ফোনের দিকে। বিরবির করে বলল,
"ইনি আবার কল দিচ্ছেন কেন?" 
সে কলটা রিসিভ করলো না। কেটে দিয়ে নাম্বার টা ব্লকলিস্টে এ্যাড করে দিলো। এটা করতে সুখের হাত কেঁপেছে বৈকি! মনের মাঝেও তো পুড়ছে খুব? সে যে আজও ওই মানুষটাকে ভালোবাসে। তার জীবনের প্রথম পুরুষ। যাকে দেখলেই তার হৃদয়ে প্রশান্তির ঝড় উঠতো৷ কিন্তু আজ সে অনুভূতি গুলো থেকেও কেমন ফিকে হয়ে গেছে। হ্যাঁ এটা ঠিক যে সুখ তাকে স্বামী হিসেবে আজও মানে। আর সে মেনেও যাবে সারাজীবন। ২য় বার আর কখনো বিয়ে করবে না সে।
 এর কারনও আছে অবশ্য। স্বামীর পাঁজরের হাড় থেকে তৈরী স্ত্রীলোক। সে ঋত্বিকের পাঁজরের হাড় থেকে তৈরী এটা সে মেনে এসেছে। এখন যদি আরেক জনকে স্বামীর স্থানে জায়গা দেয় বা বিয়ে করে, তাহলে তো ওর দুইবার বিয়ে হলো। প্রাক্তন অথবা বর্তমান স্বামী হোক তাহলে ও কার পাঁজরের হাড় থেকে তৈরী? এ প্রশ্নের সম্মুখীন সে কখনো হতে চাই না। আর একবার ডিভোর্সি ট্যাগ লেগে গেলে তো হলোই! আমাদের সমাজ খুব ভালো কি'না! এমনিতেই তার জীবনে এতো জটিলতা। তার উপর যদি ঋত্বিক কে ডিভোর্স দিয়ে ডিভোর্সি হয়ে যায় তখন আরও ঝামেলা সৃষ্টি হবে। তার চেয়ে বরং থাকুক না সে নিজের মতো করে। কারও সৃতি নিয়েও একাকিত্বে বাঁচা যায়। ভালো থাকা যায়। যদিও সুখ এতোদিন ভালো ছিলো না কিন্তু এখন সে আর কষ্ট পাবে না। আর ভাববে না সেসব মানুষকে। পৃথিবীতে একাকিত্ব ভয়ংকর রকমের সুন্দর। যদি তা মানুষ অনুভব করতে পারে। সুখের সয়ে গেছে। সে একাকী ভালো থাকবে এবার থেকে।
 আর ঋত্বিক? সুখ যেদিন খান বাড়ি থেকে চলে আসে, ঋত্বিকের প্রতি সমস্ত দাবিদাওয়া ছেড়ে এসেছিলো। প্রথম স্ত্রী হিসেবে বুকে পাথর চেপে ঋত্বিক কে সে অনুমতি দিয়েছিলো ২য় বিয়ের জন্য। সেই থেকে ঋত্বিকের প্রতি তার কোন দাবি নেই। শুধু মাঝেমধ্যে আফসোস হয়। সে কেন ঋত্বিক কে ভালোবাসলো সে আফসোস। 
এসব ভাবতে ভাবতে সুখের চোখের কার্নিশ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো একফোঁটা নোনাজল। এরইমাঝে আবার কল আসে। এবারের নাম্বার টা চিনে না সুখ। একবার ঋত্বিকের কথা ভাবলেও পরক্ষনে মনে পড়ে সোনিয়ার কথা। ও বাসায় নেই। যদি কোনও বিপদাপদ হয়? সুখ এক মুহুর্ত ও দেরি না করে কল রিসিভ করলো। ব্যস্ত কন্ঠে বলল,
"আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন?" 
ওপাশ থেকে প্রথম দশ সেকেন্ড কিছু না শুনলেও কিছুক্ষণ পর সুখ শুনতে পায় সেই পরিচিত গম্ভীর কন্ঠস্বর। 
"আমাকে ব্লক করেছো কোন সাহসে?" 
প্রথমে সুখ দমে গেলেও পর মুহুর্তেই শান্ত করে নেয় নিজেকে। পাল্টা জবাবে বলে,
"আমার ফোন, আমার সিম, আমার যাকে ইচ্ছে তাকে ব্লক করবো তাতে আপনার কি? বাই দা রাস্তা, আপনি কে?"
সুখের কথা শুনে ঋত্বিক কপাল কুঁচকে তাকালো ফোনের দিকে। নাম্বার সে ভুল ওঠায় নি তো? নাহ। নাম্বারে তো কোন ভুল নেই। আর এই কন্ঠ-টাও তো সুখেরই। তাহলে কথা বলছে কে? সুখ কথা বলছে কি'না পরীক্ষা করা দরকার। ঋত্বিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফের বলল, 
"তুমি কে?" 
সুখের ভেতরে তখন তোলপাড়। তবুও বহুকষ্টে সে নিজেকে দমিয়ে রাখছে। ঋত্বিকের কথার জবাবে উত্তর দেয়,
"আশ্চর্য! কল করেছেন আপনি আর জিজ্ঞেস করছেন আমি কে?"
ঋত্বিক অবিশ্বাস্য নয়নে তাকায় ফোনের দিকে। না না এ সুখ হতেই পারে না। সুখ এভাবে তার সাথে কথা-ই বলতে পারে না। তার তো এক্ষণে কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু না সে দিব্যি কথা বলছে। শুধু কথা-ই বলছে না একদম ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলছে। ঋত্বিক ভেবেচিন্তে কিছু বলতে যাবে তার আগেই শুনতে পায় সুখের ঝাঁঝালো কণ্ঠ, 
"এই যে শুনুন, আপনার টাইম পাস করার জন্য অন্য কাউকে খুঁজে নিন। বেকার বেকার আমার সময় নষ্ট করবেন না। কথা যখন বলছেন না ফোন দিয়েছেন কেন? খান বংশের দাম্ভিক ছেলের এখন বুঝি কোন কাজ নেই?" 
সুখের কথা শুনে পুরো বোকা বনে গেল ঋত্বিক। সে এটা তো শিওর যে এটা সুখই। কিন্তু তবুও তার বিশ্বাস হতে চাইলো না। এসব চিন্তা করতে করতেই সুখ খঁচ করে কল কেটে দিলো। ঋত্বিককে সে ভাবার সময় পর্যন্ত দিলো না। সুখ কল কেটে দেওয়ার পর ঋত্বিক পুনরায় কল করলো সুখকে। কিন্তু সুখ আবারও তার নাম্বার ব্লাকলিস্টে রেখে দিয়েছে। সে বারান্দার গ্রিল ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলল। হয়তো তার কর্মফল পাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। এই দুই বছরে যা পেয়েছে তা ছিলো তাদের দুজনের যন্ত্রণা যা ঋত্বিক সুখ দুজনেই পেয়েছে। কিন্তু তার আগে? সে যখন সুখকে কষ্ট দিতো? সেই কষ্ট টা সুখ একাই বহন করেছে। মানসিক শারিরিক উভয় যন্ত্রণা সে সুখকে দিয়েছে। এইবার বুঝি প্রকৃতি তার কর্মফল সুদে আসলে ফেরত দিবে। হয়তো একেই বলে প্রকৃতির প্রতিশোধ! 
সুখের সমস্ত শরীর কাঁপছে। সে যে এমন একটা দুঃসাহসিক কাজ করে ফেলবে এটা তো তার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না। তবে সুখ অনুভব করলো, তার খারাপ লাগলেও বুকের মাঝে কোথাও না কোথাও একটা খালি খালি অনুভব হচ্ছে। বহুদিনের চাপানো বোঝা হালকা হওয়ার মতো একটা অনুভূতি। 
চারপাশে মাগরিবের আজান দিয়েছে। সুখ বিছানা ছেড়ে উঠলো। ওজু করে এসে নামাজে দাঁড়ালো। প্রতিটা সিজদাহ্ এর সময় তার কান্না পেল। খুব কান্না। কান্নার জন্য মেয়েটা নামাজের সু-রা কিরাআত পড়তে পারছে না ঠিকমতো। সে জানে না তার আজ কেন এতো কান্না পাঁচ্ছে। সুখ সময় নিয়ে নামাজ শেষ করলো। মোনাজাতের জন্য সিজদাহ্য়ে লুটিয়ে পড়লো সে। হেঁচকি তুলে কাঁদতে লাগলো। কান্নার কারন সে নিজেও জানে না। অনেকক্ষণ কাঁদার জন্য আর আগের মাথা ব্যাথায় মেয়েটা ক্লান্ত হলো। 
জায়নামাজ তুলে গেল রান্নাঘরের দিকে। একটু কফি না খেলে মাথাটা বোধহয় ছাড়বে না। ফোনটা নিয়ে সোনিয়া কে কল করলো। দুই তিনবার কল করার পরও সোনিয়া রিসিভ করলো না। এতে সুখের চিন্তা হলো খুব। 
--------
সোনিয়া হসপিটাল থেকে বের হলো কেবল। মুনিয়া বেগম এখনো ওঠেননি ঘুম থেকে। সোনিয়া একটু দ্রুতই হসপিটাল থেকে বের হলো। কেননা সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। 
"মিস সোনিয়া?" 
হঠাৎ ডাকে ভরকে যায় সোনিয়া। তাকা পেছনের দিকে। সদ্য পরিচিত মানুষটাকে দেখে কিঞ্চিৎ চমকে যায় সোনিয়া। নরম কন্ঠে বলল, 
"জ্বি কিছু বলবেন?"
শৈল সোনিয়ার পাশে দাঁড়ালো। সোনিয়ার কথা উত্তরে বলল,
"তেমন কিছু নয়। দেখলাম অপেক্ষা করছেন তাই এলাম।" 
এরইমধ্যে গাড়ি এসে থামলো। সোনিয়া সৌজন্য হেঁসে বলল,
"আচ্ছা আমার গাড়ি চলে এসেছে। ভালো থাকবেন।" 
সোনিয়ার সাথে সাথে সুদর্শন পুরুষটি ও হাসলো। সোনিয়া সোনিয়া যদি খেয়াল করে দেখতো নিশ্চিত মুগ্ধ হতো। কিন্তু সোনিয়া সেদিকে দেখলো না। ও ওর মতো করে গাড়িতে উঠে বসলো। গাড়ি চলতে শুরু করলো তার গতিতে। সোনিয়ার যাওয়ার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলো শৈল নামের মানুষটা। 
----- 
সুখ কফি হাতে দাঁড়িয়ে আছে জানালার কাছে। মনটা কেমন খারাপ লাগছে তার। আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো সুখ। ঋত্বিকের কথা মনে পড়লো তার। মানুষ টার সাথে কি খুব বেশিই খারাপ ব্যবহার করলো সে? তখনই মনের ভেতর থেকে কে যেন বলল, 'না তুই খারাপ করিসনি। ওটা ওর প্রাপ্য ছিলো।' সুখ আনমনেই তাচ্ছিল্য হাসলে। মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগে ঘটা সামান্য কিছু ঘটনা। 
* 
রোজিনা আর রেজাউল খান একটা ট্যুরে যাবেন। তারা যেতে চাইছিলেন না। কিন্তু তাদের স্কুল জীবনের অনেক বন্ধুরা আসবে তাই আর না করতে পারলো না। সুখকে তাদের সাথে নিতে চাইছিলেন তারা কিন্তু সুখের তখন পরীক্ষা চলে। তাই নিতে পারলেন না। তখন শীতকাল। সুখের বিয়ের বয়স তখন ৩ মাস। ঋত্বিকের মাঝে সুখের প্রতি কোন টান দেখা যায়নি। সে তার মতোই আছে। মাসখানেক আগে যখন ঘরে অন্য মেয়ে আনলো তারপর থেকে সুখ অভিমানে কথা বলে না ঋত্বিকের সাথে। আর ঋত্বিক ও বলে না। এভাবেই চলতে লাগলো সময়। রোজিনাদের ট্যুরের দিন ঘনিয়ে এলো। তারা রওনা দেওয়ার আগে ঋত্বিক কে পইপই করে বলে গেলেন সুখকে দেখার জন্য। আগেরকার যে এমন কান্ড ঘটিয়েছে ঋত্বিক তা ওনারা জানেন না৷ সুখ বলেনি ওনাদের। বলে কি লাভ? এতে আরও স্বামীর নিন্দা করা হবে। 
ওনারা চলে গেলেন। আগের বারের মতো সুখ একা হয়ে পড়লো। পুরো বাড়িতে শুধু একা সে। এরইমধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেল। জেনারেটর ও কিছুদিন ধরে বন্ধ। শীতকালে খুব একটা কারেন্ট যায় না। এই কারনে রেজাউল খান জেনারেটর ঠিক করেননি। 
একা বাড়িতে অন্ধকারে সুখে ভয় হতে থাকে। সে কোনমতে হাতরে ফোনটা খুঁজলো সে। কয়েক মিনিটের মাথায় পেয়েও গেল। সে ফোনের ফ্লাশ জালালো কিন্তু ভয় কাটলো না। বাধ্য হয়ে একপ্রকার কল করলো ঋত্বিককে। সুখের নাম্বার টা সেভ করা নেই ঋত্বিকের ফোনে। তাই সে অচেনা ভেবে কল ধরলো। ঋত্বিক কল ধরতেই সুখ নম্র ভাবে নতজানু হয়ে বলল,
"একটু বাড়িতে আসবেন? আমার ভিষন ভয় লাগছে। বাসায় কারেন্ট চলে গেছে।"
ঋত্বিক প্রথমে না বুঝলেও পরে বুঝলো সুখ কল দিয়েছে। তাই সে সুখের কথা পাত্তা না দিয়ে ব্যঙ্গ করে বলল,
"আপনি যে নাম্বারে কল করেছেন তা এই মুহুর্তে বন্ধ আছে। দয়াকরে আর কখনো ট্রায় করবেন না।" 
ঋত্বিক ফোন কেটে দিলো। সুখের তখন জড়োসড়ো অবস্থা। সে আবার কল করলো ঋত্বিককে। কিন্তু ঋত্বিক ধরলো না। শেষবার ওর নাম্বার-টাই ব্লকলিস্টে ফেলে রাখলো। সুখ তখন কি করবে বুঝ উঠতে পারছে না। সুখের মনে হলো কে যেন হেঁটে যাচ্ছে তার সামনে দিয়ে। আবার কারো পায়ের শব্দ শুনতে পেল। তো কিছুক্ষণ আবার শুনতে পেল নুপুরের শব্দ। আৎকে উঠলো মেয়েটা। ভয়ে সে রীতিমতো কাঁপতে থাকলো। ২য় সিমটা দিয়ে কল করলো ঋত্বিক কে। ঋত্বিক এবারে কল ধরলো। সাথে সাথে সুখ কেঁদে বলল,
"আমার ভিষন ভয় লাগছে। আপনি একটু বাড়িতে আসুন না। বাড়িতে কেউ নেই।" 
সুখের কন্ঠ পেয়ে ঋত্বিক কল কেটে দিলো। এ নাম্বার টাও ফেললো ব্লাকলিস্টে। সুখ এবারে কল করলো তার শশুর শাশুড়ী কে। কিন্তু তারা কল রিসিভ করলেন না। অসহায় হয়ে ছোট্ট মেয়েটা ঋত্বিকের ঘরের আলমিরার ভেতরে লুকালো। 
ঋত্বিক এসেছিলো বোধহয় ঘন্টাখানেক পর। কারেন্ট এলে। ঋত্বিক এসে সুখকে সবখানে খুঁজলো কিন্তু পেল না। এরপর ওর নাম্বারে কল করলো। দেখলো সেটা আলমারিতে বাজছে। ঋত্বিক কৌতূহল হয়ে এগিয়ে গেল সেদিকে। দরজা খুলতেই সুখ নেতিয়ে পড়লো নিচেই। ঋত্বিক ওকে প্রথমে ডাকলো। সুখ যখন উঠলো না ঋত্বিক ওর কপালে হাত ছোঁয়ালো। দেখলো মেয়েটার গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। 
সুখের সে জ্বর ছিলো তিনদিন। প্রচন্ড ভয়ে মেয়েটার জ্বর চলে এসেছিলো। 
*
চলবে?
গল্প : #তুমি_ছিলে_আমারই
#অহনা_রহমান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন