#এ_দেখা_শেষ_না_হোক #পর্ব - (১৪)
#writer_sumaiya_akter_sathi
--
মাহিরা সবাইকে নিয়ে ছাদে এসেছে। রহমত চাচা এক ঝুঁড়ি কামরাঙ্গা দিয়ে গিয়েছেন ছাদে। তাই মাহিরা মুসকান, নুপুর, নাবিলা সবাইকে ডেকে ছাদে নিয়ে এসেছে কামরাঙ্গা মাখা খেতে। সবাই মিলে কামরাঙ্গা মাখা খাওয়ার মজাই আলাদা। নাবিলা কামরাঙ্গা মাখা করছে। মাহিরা, মুসকান, নুপুর সবাই বসে আছে কখন কামরাঙ্গা মাখা খাবে। মুসকান ছাদে আশার সময় কেয়াকে ডেকেছিলো। মাহিরা ছিলো বলে কেয়া আর তাদের সাথে আসেনি।
নাবিলা কামরাঙ্গা মাখা করে সবাইকে খেতে দেয়।মুসকান খেতে খেতে মাহিরাকে জিজ্ঞেস করে, মাহিরা আমার ভাই কি সত্যিই বাগানের সব কামরাঙ্গা পেরে ফেলেছে? মাহিরা কামরাঙ্গা মাখা খেতে খেতে বলে, হ্যা। তোমার ভাই তো আস্ত একটা পাগল। তাই তো বাগানের সব কামরাঙ্গা পেরে ফেলেছে। মুসকান মাহিরার দিকে তাকিয়ে হা হয়ে বলে, তুমি আমার ভাইকে পাগল বলেছো? এটা আমার ভাই শুনলে তোমাকে কাঁচাই চিবিয়ে খাবে। মাহিরা সহসা বলে,
- পাগল কে পাগল বললে চেতবে। এটা আর নতুন কি?
মাহিরার কথা শুনে সবাই খিলখিল করে হেসে দেয়।
শাজাহান শিকদার বিকেলে বাড়ি ফিরে শুনতে পায় আয়ানের কর্মকান্ড। তিনি সাথে সাথে ডেকে পাঠান আয়ানকে। ড্রয়িং রুমে বসে আছেন চার ভাই মোশাররফ হোসেন ও আছিয়া বেগম। আয়ান নিচে এসে একঝলক দেখে নেয় সবাইকে। পরপর আয়ান এসে দাঁড়ায় শাজাহান শিকদারের পাশে। আয়ান এসে দাঁড়াতে না দাড়াতেই শাজাহান শিকদার প্রশ্ন ছুরে দেন,
- তুমি নাকি বাগান থেকে আজ ছয় হাজার কামরাঙ্গা পেরেছো?
আয়ান কোনো দ্বিধা ছাড়াই জবাব দেয়,
- হ্যা।
শাজাহান শিকদার এবার কিছুটা রেগে গিয়ে বলেন,
- তুমি কবে থেকে বিজনেস ফেলে রেখে ফলের ব্যবসা শুরু করলে আরিয়ান?
আয়ান শান্ত গলায় বলে,
- আই ডোন্ট নো।
শাজাহান শিকদারের রাগ বেড়ে যায়। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, আমাদের সাথে বিজনেস করবে না বলে নিজের বিজনেস দার করালে। এখন আবার নিজের বিজনেস ফেলে রেখে ফলের ব্যবসায় নামছো? তোমার ভবিষ্যৎ তো দিনদিন অধপতনের দিকে যাচ্ছো যা দেখছি।
আছিয়া বেগম এবার শাজাহান শিকদার কে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আহা শাজাহান থামো তুমি। আয়ান যেটা করেছে নিশ্চয়ই ভেবে চিন্তে করেছে। শাজাহান শিকদার এবার তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন,
- আরিয়ান কোনো কিছু ভেবে চিন্তে করে না মা। ওর যখন যেটা মন চায় ও সেটাই করে এসেছে ছোটো থেকে। তোমরা সবাই ওকে লাই দিয়ে মাথায় তুলেছো। আরিয়ান যদি একবার ভেবে চিন্তে কাজ করতো? তাহলে ও আজ আমাদের বিজনেসে যোগ দিতো। আমাকে এই বয়সে এসেও আজ আর বিজনেস করতে হতো না।
আয়ান এবার মুখ খুলে। বলে,
- তোমাকে এই বয়সে বিজনেস করতে কে বলেছে?আমি বলেছি?
শাজাহান শিকদার আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন, তোমার জন্য কি এখন আমি আমার বাপ দাদার এতো বছরের বিজনেস ছেড়ে দিবো? আয়ান বলে ওঠে,
- ছাড়তে না পারলে শুধু শুধু আমার গায়ে দোষ চাপিয়ো না বাবা। তোমাদের চার ভাইকে দিয়ে কোনো কিছু না করিয়েও সারাজীবন পায়ের উপর পা তুলে খাওয়ানোর অ্যাবিলিটি আমার আছে।
শাজাহান শিকদার এবার বেশ চটে যান আয়ানের উপর। হুংকার দিয়ে বলেন, দুই দিন হতে চললো তুমি বিজনেসে নেমেছো। এক্ষনি আমাদের টাকার গরম দেখাচ্ছো? তোমার থেকে হাজার গুন বেশি রেখে গিয়েছে আমার বাপ দাদা'রা। সেটা দিয়ে আমার একশো প্রজন্ম অনায়াশে খেয়ে পরে যেতে পারবে। আয়ান এবার বলে ওঠে ,
- তাহলে আর কি? সেগুলো নিয়েই পরে থাকো তোমারা। সুখে থাকতে ভুতে কিলালে কি আর করবে বলো?
কথাটা বলেই আয়ান হনহনিয়ে বের হয়ে যায় বাড়ি থেকে। শাজাহান শিকদার কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন আয়ানের যাওয়ার পানে। আছিয়া বেগম শাজাহান শিকদার কে শান্ত রাখতে বলেন, শাজাহান মাথা ঠান্ডা করো। জানোই তো এই বয়সে ছেলেদের রক্ত একটু গরম থাকে। বাদ দেও এসব। শাজাহান শিকদার মায়ের কথা শুনে আর কিছু বললেন না।
__________
মাঝখানে কেটে গিয়েছে দুইদিন। শিকদার বাড়ির সকলে আজ সকাল সকাল বেড়িয়ে পরেছে কেনাকাটার উদ্দেশ্য। নাবিলার বিয়ের হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। সবাই ইতোমধ্যে গাড়িতে ওঠে বসেছে। মাহিরা গাড়িতে উঠার আগে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে কাউকে খুঁজলো। কাঙ্খিত মানুষটিকে দেখতে না পেয়ে মাহিরার বেশ মন খারাপ হয়। মাহিরা মন খারাপ করে গাড়িতে ওঠে বসে।
আয়ান বাদে সকলে যাচ্ছে আজ কেনাকাটার উদ্দেশ্য। সেদিনের পর থেকে আয়ানকে গভীর রাত ছাড়া দেখা যায়না। আয়ান অনেক রাত করে বাড়ি ফিরে। আবার ভোর হতে না হতেই বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। মাহিরা এই দুইদিন আয়ানের দেখা পায়নি। আয়ানের রুম তার পাশে হওয়াতেও সে লোকটিকে এই দুইদিন একবারও দেখতে পায়নি। কি করে দেখবে? লোকটি যে অনেক রাত করে বাড়ি ফিরে। মাহিরা তখন ঘুমিয়ে থাকে। আবার সকাল না হতেই চলে যায়। মাহিরা এই লোককে আসলেই বোঝেনা। বাড়ির সবাই শপিংয়ে যাচ্ছে। অথচ এই লোক সেখানে নেই।
মাহিরার মন খারাপ হয়। সে এই বাড়িতে আশার পর থেকে বাড়ি থেকে কোথাও বেরোলে আয়ান তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতো। আর আজ আয়ান তাদের সাথে নেই। আয়ান কোথায় আছে মাহিরা সেটাও জানেনা। গাড়িতে উঠার আগে মাহিরা চোখ ঘুড়িয়ে আয়ানকে খুজেঁছিলো। কিন্তু তার চোখ আয়ানকে খুঁজে পায়নি।
শপিংমলে সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত। মাহিরা নিজেও ঘুরে ফিরে কিছু ড্রেস কিনেছে। কিন্তু মাহিরার কাছে মনে হচ্ছে এই ড্রেস গুলো বিয়েতে পরার মতো সুন্দর না। শপিংমলে এতো এতো কালেকশন দেখে মাহিরা কনফিউজড। সে নিজের জন্য সুন্দর কিছু বাছাই করতে পারছে না।
মাহিরা আর মুসকান একসাথে বসে আছে। বাড়ির মহিলারা শাড়ি দেখছে। মাহিরা আশেপাশে চোখ ঘুড়িয়ে দেখে নেয় দোকানটা। দোকনটা বেশ বড়োসড়ো। মাহিরা দোকানের আশেপাশে চোখ ঘুড়িয়ে দেখতে নিলে হঠাৎই মাহিরার চোখ কিছুটা দুরে গিয়ে আটকে যায়। মাহিরা চমকে উঠে। সে আর কিছু না বলে মুসকানানের হাতে তার শপিং ব্যাগ গুলো ধরিয়ে দেয়। মুসকান কিছু না ভেবে মাহিরার ব্যাগ গুলো তার হাতে নিয়ে নেয়। মাহিরা বসা থেকে উঠে চলে যায়।
আয়ান মাত্রই শপিংমলে এসেছে। মালিহা বেগমের জোড়াজুড়িতে তাকে আসতে হয়েছে। নাহলে আয়ান কখনোই আসতো না। আয়ানের ফোন বেজে ওঠলে আয়ান ফোন কানে রেখে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। এমন সময় আয়ানের পিছন থেকে কেউ একজন এসে আয়ানের শার্টের হাতা ধরে টানছে। আয়ান বেশ বিরক্ত হয়। সে বিরক্ত চোখে পিছন ঘুরে তাকায়। পিছন ঘুরে তাকাতেই আয়ানের বিরক্ত মাখা মুখটা হাওয়ার মতো গলিয়ে যায়। আয়ান ফোন কেটে দেয়।
মাহিরা দাঁড়িয়ে আছে। মাহিরা এতোক্ষণ আয়ানের পেছন থেকে আয়ানের শার্টের হাতার কিছুটা অংশ চিমটি কেটে ধরে টানছে। আয়ান এবার মাহিরার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, হোয়াট হেপেন্ট মাহি? মাহিরা আয়ানের শার্টের অংশ ছেড়ে দিয়ে বলে,
- আপনি কখন আসলেন খাড়ুস লোক?
আয়ান মাহিরার কথায় মুচকি হেসে বলে,
- মাত্রই। কেনো মেডাম? বেশি মিস করছিলেন নাকি..?
মাহিরা বলে ওঠে, আমি কেনো মিস করবো? আয়ান বাঁকা হাসে। আর কিছু না বলে জিজ্ঞেস করে, শপিং শেষ। মাহিরা দুই পাশে মাথা নাড়িয়ে বলে, না। আয়ান সহসা বলে, ওকে তাহলে যাও শপিং করো। বলেই আয়ান ফোনে মনোযোগ দেয়। মাহিরা কি বলবে বুঝতে পারছে না। সে কিছুটা উশখুশ করে ডেকে ওঠে,
- খাড়ুস লোক..?
আয়ানের এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়। আয়ান শান্ত চোখে তাকায় মাহিরার দিকে। এই মেয়ে কিভাবে যেনো তাকে খাড়ুস লোক বলে ডাকে। এই মেয়ের পরিবর্তে আজ অন্যকেউ থাকলে আয়ান নিশ্চয়ই এতোক্ষণে দু চারটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিতো। কিন্তু মাহিরার ক্ষেত্তে তার তেমন কিছুই হলো না। কেনো হলোনা আয়ানের নিজেরও সেটা অজানা। আয়ান শান্ত চোখে মাহিরার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে ওঠে,
- আই লাইক ইট।
মাহিরা কিছুটা ভ্রু কুঁচকায়। বলে, কি..? আয়ান মুচকি হেসে বলে, নাথিং। পরপর গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করে, হোয়াট হেপেন্ট মাহি? মাহিরা এবার বলে, খাড়ুস লোক আমি একটু কনফিউজড। আয়ান শান্ত গলায় বলে, কি নিয়ে? মাহিরা এবার বলতে থাকে,
- আমি আমার জন্য সুন্দর কোনো ড্রেস পছন্দ করতে পারছি না। আপনি কি আমাকে সুন্দর একটা ড্রেস পছন্দ করে দিবেন? নাবিলা আপুর বিয়েতে পরার জন্য আমার সুন্দর একটা ড্রেস প্রয়োজন। আপনার পছন্দ তো খুব সুন্দর। আমাকে একটা ড্রেস পছন্দ করে দিবেন খাড়ুস লোক?
আয়ান শান্ত চোখে তাকিয়ে মাহিরার কথাগুলো শুনলো। পরপর মাহিরাকে ভালো ভাবে পরখ করে নিলো। দেখলো মাহিরা আজ তার দেওয়া সেই হোয়াইট ড্রেস টা পরেছে। এই ড্রেসটাতেও মাহিরাকে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। আয়ান চারপাশে চোখ বুলিয়ে কোনো কথা ছাড়াই মাহিরার হাত ধরে হাঁটা শুরু করে । মাহিরা হতভম্ব হয়। কিন্তু মুখে কিছু বলেনা। এই লোক তো এমনই। কিছু বললেও কি লাভ?
সবাই নিজেদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। এই দৃশ্য আর কারো চোখে না পরলেও কেয়া দুরে বসে এতোক্ষণ মাহিরা আর আয়ানের সমস্ত দৃশ্য দেখেছে। আয়ান যে মাহিরার হাত ধরে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে এটা আর কারো চোখে না পরলেও কেয়ার চোখে পরে যায়। কেয়া রাগে ফুঁসতে থাকে। তার মন চাচ্ছে মাহিরার গালে গুনে গুনে দশটা থাপ্পড় মারতে। তাহলে হয়তো তার মনটা একটু হলেও শান্তি পেতো। এই মেয়েকে সে নিষেধ করেছিলো তার আয়ান ভাইয়ের থেকে দূরে দূরে থাকতে। আর এই মেয়ে কিনা তার আয়ান ভাইয়ের দিকে আরো ঘেঁষে ঘেঁষে যাচ্ছে? কেয়া অজগরের মতো রাগে ফুসছে। মাহিরাকে সে দেখে নিবে।
______
কালো সুট টাই পরা এক লোক সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠছে। লোকটির সমস্ত শরীরের পোশাক কালোতে মোড়ানো। লোকটির কালো বুট জুতার ঠক ঠক শব্দ ভেসে আসছে তার হাটার গতির সাথে। কালো সুট টাই পড়া লোকটি এসে থামে ছাদে খোলা আকাশের নিচে খাট বিছানো যায়গায়।
খোলা আকাশে ছাদে খাটিয়া বিছিয়ে ঘুমিয়ে আছে একজন মানুষ। মানুষটি উল্টো হয়ে কোমড় পর্যন্ত কাঁথা টেনে ঘুমিয়ে আছে। কালো সুট টাই পরা লোকটি খাটের পাশে এসে দাড়িয়ে কিছুটা ঝুকে ঘুমন্ত মানুষটিকে ডেকে ওঠে,
- বস..?
ঘুমন্ত মানুষটির কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া গেলো না। কালো সুট টাই পরা লোকটি আবারো ঘুমন্ত মানুষটিকে বলে,
- বস গুড নিউজ আছে।
ঘুমন্ত মানুষটি এবার ঝড়ের বেগে চোখ খুলে। মানুষটি ঝড়ের বেগেই শোয়া থেকে উঠে বসে।কালো সুট টাই পরা লোকটি আর কিছু না বলে তার হাতে থাকা খামটি এগিয়ে দেয় খাটে বসা মানুষটির দিকে। বলে,
- এই নিন বস। আপনার গুড নিউজ।
খাটে বসা মানুষটি খামটা হাতে নিয়ে সেখান থেকে একটা ছবি বের করে। ছবিটি দেখা মাত্র খাটে বসা মানুষটি বিদঘুটে এক হাসি দেয়। কালো সুট টাই পরা লোকটির উদ্দেশ্য বলে,
- গুড জব তুহিন।
তুহিন এবার বাঁকা হাসে। বলে,
- বস আরিয়ান আয়ান শিকদার কে শপিংমলে কোনো মেয়ের হাত ধরে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। ছবিটি দুর থেকে তোলা হয়েছে। তাই মেয়েটি চেহারা স্পষ্ট নয়।
খাটে বসা মানুষটি এবার খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে। আরামে বসে ছবিটার দিকে তাকিয়ে তুহিনকে বলে,
- আরিয়ান আয়ান শিকদার কোনো মেয়ের হাত ধরে ঘুরছে? তাহলে বুঝে নেও ওই মেয়েটি তার বিশেষ কেউ।
তুহিন এবার বলে,
- জ্বি বস। আমি খবর নিয়েছি মেয়েটি তার ফুফুতো বোন।
খাটে হেলান দিয়ে বসা মানুষটি আবারো এক বিদ্ঘুটে হাসি দেয়। মানুষটি এক বিদ্ঘুটে হাসি দিয়ে তুহিনকে বলে, তাহলে তো খেলা আরো বেশি ভালো জমবে তুহিন। তুহিনও নিজের এবার হেসে বলে, জ্বি বস। মানুষটি এবার তুহিনের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
- এই মেয়েকে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার আস্তানায় আনার ব্যবস্তা করো তুহিন। এই মেয়ের এ টু জেট সব হিস্ট্রি আমার চাই।
তুহিন মাথা নিচু করে সম্মান জানিয়ে বলে, ওকে বস। এমন সময় এক ছেলে ট্রে হাতে খাবার নিয়ে আসে। ছেলেটি খাবার নিয়ে এসে খাটে বসা মানুষটির উদ্দেশ্য বলে,
- বস আপনার নেহারি আর পরটা রেডি।
খাটে হেলান দিয়ে বসা মানুষটি এবার নেহারির ঝোলে পরটা চুবিয়ে খেতে শুরু করে। খেতে খেতে ছেলেটিকে বলে,
- আজকের নেহারিটা বেষ্ট হয়েছে আরবিন।
আরবিন হেসে বলে, ধন্যবাদ বস। স্পেশাল মশলা দিয়ে নেহারি রান্না করলে এমনিতেই বেষ্ট হয়। কথাটা বলার সাথে সাথে সাথে ছাদে থাকা তিনজনই হো করে হেসে ওঠে। তাদের অট্টহাসিতে মেতে উঠেছে পুরো ছাদ।
আয়ান মাহিরাকে নিয়ে একটা বড় লাক্সারিয়াস শপে এসেছে। এখানে ব্রাইডাল থেকে শুরু করে সব ধরনের ড্রেস পাওয়া যায়। আয়ান মাহিরাকে একপাশে দার করিয়ে নিজে ড্রেস বাঁচছে। মাহিরাও কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে এক জায়গায়। আয়ান ঘুরে ফিরে মাহিরার জন্য ড্রেস দেখতে থাকে। হঠাৎ আয়ানের চোখ আটকে যায় একটক মেরুন কালারের ড্রেসে। ড্রেসটা সুন্দর এন্ড খুব গরজিয়াছ সাইন দিচ্ছে। ড্রেসটি মেরুন কালারের ভেতরে গোল্ডেন ওর্য়াক করা। ড্রেসটা দেখা মাত্র আয়ান ড্রেসটিকে হাতে নিয়ে নেয়। পরক্ষণে আয়ান ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকায় কিছুটা দুরে দাড়ানো মাহিরার দিকে। আয়ান মৃদু ঠোঁট বাকায়। পরপর মুচকি হেসে ড্রেসটা নিয়ে কাউন্টারের দিকে চলে যায়।
আয়ান কাউন্টারে এসে মেরুন ড্রেসটা প্যাক করতে বলে। আয়ান আগে থেকেই মাহিরার জন্য একটা গোলাপি ড্রেস সিলেক্ট করে রেখে গিয়েছিলো। আয়ান সেলসম্যান কে দুইটা ড্রেসই প্যাক করে দিতে বলে। মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, আরে আরে আমার একটা ড্রেস হলেই হবে। দুইটা ড্রেস দিয়ে আমি কি করবো? আমি তো অলরেডি অনেক গুলো ড্রেস কিনে রেখে এসেছি।
আয়ান সেলসম্যান কে তাড়া দেয় ড্রেস দুইটা তাড়াতাড়ি প্যাক করে দেওয়ার জন্য। পরপর আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে, আমার জোড়া পছন্দ মাহি। মাহিরা বুঝলো না এই লোকের কেনো জোড়া পছন্দ। মাহিরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়ান শপিং ব্যাগ দুটো হাতে নিয়ে মাহিরার হাত ধরে হাঁটা দেয়। মাহিরা হতভম্ব হয় এই লোকের কান্ড দেখে।
অর্নব সবার থেকে কিছুটা দুরে এসে তার ফোন কল রিসিভ করে। কথা বলা শেষে অর্নব ঘুরে দাঁড়াতেই দেখতে পায় আয়ান আর মাহিরা হেঁটে আসছে দূর থেকে। আয়ানের হাতে শপিং ব্যাগ দেখে অর্নব ভ্রু কুঁচকায়। অর্নব জানেনা আয়ান কখন এসেছে।
অর্নব এবার আয়ানদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে, আরে ভাইয়া তুমি কখন আসলে। আয়ান অর্নবকে দেখে সহসা জবাব দেয়, একটু আগে। অর্নব এবার আয়ানের হাতের দিকে ভালো করে খেয়াল করলে দেখে আয়ানের এক হাতে শপিং ব্যাগ। আর অন্যহাতে আয়ান মাহিরার হাত ধরে রেখেছে। অর্নব এবার মিটিমিটি হেসে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,
- ভাইয়া? আজকাল তোমার হাতটা একটু বেশিই চলছে না? না মানে এটা তো শপিংমল। আশে পাশে তো মানুষজন আছে নাকি? একটু নিজেকে কন্ট্রোলে রাখো ভাইয়া।
অর্নব কথা শেষ করার সাথে সাথে মাহিরা টান দিয়ে আয়ানের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। আয়ান তার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে মাহিরা নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়েছে। আয়ানের রাগ হলো এই মেয়ের উপর। এই মেয়ে অন্যর কথা শুনে কেনো তার হাত ছাড়িয়ে নিলো? আয়ান অর্নবের দিকে তাকিয়ে রেগে বলে ওঠে, ইডিয়েট। আর একটা ফালতু কথা বললে এখানেই থাপ্পড় খাবি।
অর্নব মিটিমিটি হাসে। সে এতোদিনে বুঝে গিয়েছে আয়ান যে মাহিরাকে পছন্দ করে। নাহলে যে ছেলে কোনো মেয়ের আশেপাশেও ঘেঁষতো না। সেই ছেলে কোনো এক মেয়ের হাত ধরে ঘুরবে? মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলে, আমি মুসকানের কাছে যাচ্ছি। বলেই মাহিরা চলে যায়। আয়ান তাকিয়ে থাকে মাহিরার যাওয়ার পানে। অর্নব তা দেখে বলে ওঠে, আহারে মাহিরা তো চলে গেলো ভাইয়া। এখন তোমার কি হবে?
আয়ান কিছু বললো না। সে তাকিয়ে থাকলো মাহিরার যাওয়ার পানে। অর্নব আয়ানের থেকে কোনো জবাব না পেয়ে আয়ানের হাতের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, এসেই নিজের জন্য শপিং করে নিয়েছো? আমাকে তো অত্যন্ত একবার ডাকতে পারতে ভাইয়া? আয়ান এবার তার হাতে থাকা শপিং ব্যাগ গুলোর দিকে চায়। মুচকি হেসে অর্নবকে বলে, এগুলো আমার জন্য কিনি'নি। অর্নব ভ্রু কুঁচকে আয়ানকে বলে, তাহলে এগুলো কার জন্য কিনোছো ভাইয়া? আয়ান শান্ত গলায় ছোট করে বলে, মাহি..।
অর্নব বিস্ময়ের চোখে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, মাহি কে ভাইয়া? আয়ান আর কিছু না বলে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় তার থেকে কিছুটা দুরে দাড়ানো মাহিরার দিকে। অর্নব আয়ানের দৃষ্টি লক্ষ করে সেদিকে তাকালে দেখতে পায় মাহিরা দাড়িয়ে আছে। অর্নব বুঝে যায় আয়ান কাকে মাহি বলেছে। অর্নব মুচকি হেসে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, মাহিরার নাম কবে থেকে মাহি হলো ভাইয়া? আয়ানের দৃষ্টি এখনো মাহিরাতে সীমাবদ্ধ। আয়ান মাহিরার দিকে দৃষ্টি রেখে বলে ওঠে,
- আই ডোন্ট নো।
________
মাঝখানে কেটে গিয়েছে আরো কিছুদিন। পুরো শিকদার বাড়ি আজ সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুল আর রংবেরঙের ঝাড়বাতি দিয়ে। আজ বিকেলে নাবিলার গায়ে হলুদ। রাতে মেহেন্দির অনুষ্ঠান। সকাল থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে কাজের তোরজোড়। পুরো শিকদার বাড়ি ফুল আর ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানোর ফলে বাড়িটা দেখতে আজ অন্য রকম সুন্দর লাগছে।
মাহিরা সকাল থেকেই বেশ এক্সাইটেড। নাবিলার বিয়ে উপলক্ষে আজ তার দাদা বাড়ি থেকে সবাই আসবে। মোশারফ হোসেন আর পরীর বিয়ে শিকদার বাড়ির কেউ না মানলেও মেনে নিয়েছিলো মোশারফ হোসেনের পরিবার। কিন্তু তারা কখনো শিকদার বাড়িতে আসেনি। আজ সবাই বিয়ে উপলক্ষে আসলেও আজই ভেঙ্গে যেতে চলেছে এতো বছরের দুই পরিবারের মান অভিমান। দুই পরিবার একত্রিত হবে আজ।
মোশাররফ হোসেন'রা দুই ভাই। মোশাররফ হোসেন ছোটো। তার বড় ভাই থাকেন তার পৈত্তিক নিবাস রাজশাহী'তে। মোশাররফ হোসেনের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। মোশাররফ হোসেনের বড় ভাইয়ের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড়ো ছেলের নাম ইশান। মেয়ের নাম ইশিতা ও ছোটো মেয়ের নাম ইরা।
মাহিরা আজ ভিষণ খুশি। ইতালি থেকে আশার পর থেকে মাহিরা এই বাড়িতেই ছিলো। দাদা বাড়ি তার যাওয়া হয়নি। মাহিরা খুব মিস করে তার চাচাতো বোনদেরকে। প্রতিবার বাংলাদেশে আসলে তাদের সাথে মাহিরা কতো মজা করতো। ঘুরেফিরে বেড়াতো তাদের সাথে। কিন্তু এবারের বাংলাদেশে আশা টা মাহিরার জন্য একটু ভিন্ন রকমের। সে চাইলেই যখন তখন বাড়ি থেকে বের হতে পারচ্ছে না। মাহিরার এই বাড়ির সবকিছু ভালো লাগলেও এই একটা জিনিসটা মাহিরার কাছে একদমই ভালো লাগে না।
মাহিরা মুসকান আর নুপুরের সাথে সকাল থেকে ড্রয়িং রুমে বসে আছে। মাহিরা অপেক্ষা করছে কখন তার চাচাতো বোনরা আসবে। মুসকান মাহিরার পাশে বসে আছে। মুসকান মাহিরার অবস্থা দেখে বলে, মাহিরা টেনশন করো না। তোমার বোনেরা এক্ষনি চলে আসবে। বাবা আর চাচ্চুরা তো গিয়েছে তাদের আনতে। মাহিরা মন খারাপ কর বলে, এখনো কেনো আসছে না মুসকান?
মুসকান আর মাহিরার কথা বলার ফাঁকে হঠাৎ একটা মেয়ের কন্ঠস্বর ভেসে আসে, এই মাহিরা..? মাহিরা দরজার দিকে তাকায়। ইশিতা আর ইরা দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। ইশিতা আর ইরাকে দেখে মাহিরা মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে ওঠে। মাহিরা দৌড়ে গিয়ে ইশিতাকে জরিয়ে ধরে। ইশিতা মাহিরা কে জড়িয়ে ধরে বলে ওঠে, এতো দিন পর বোনকে মনে পরলো তোর? মাহিরা ইশিতা কে জড়িয়ে ধরে বলে, তোমাকে আমার সবসময়ই মনে পরে আপু। ইরা এবার পাশ থেকে বলে ওঠে, আর আমাকে? মাহিরা ইশিতাকে ছেড়ে দিয়ে এবার ইরাকে জড়িয়ে ধরে বলে, তোকেও অনেক মিস করি বুড়ি। ইরা মাহিরার কথা শুনে খুশি হলো। ইরা নুপুরের সমবয়সী। পরপর মাহিরা মুসকান আর নুপুরের সাথে ইশিতা আর ইরার পরিচয় করিয়ে দেয়।
তাদের কথার মাঝেই হঠাৎ একটা ছেলের কন্ঠস্বর ভেসে আসে, কেমন আছিস মাহিরা? মাহিরা ঘার ঘুরিয়ে তাকায় দরজার দিকে। একটা ছেলে ছোটো একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাহিরা ছুটে যায় ছেলেটির কাছে। উৎফুল্ল হয়ে বলে ওঠে, আমি ভলো আছি ইশান ভাই। তুমি কেমন আছো? ইশান মাহিরার কথায় মুচকি হেসে বলে, আমিও ভালো আছি।
মাহিরা এবার ইশানের কোলে থাকা বাচ্চাটির দিকে তাকিয়ে উৎফুল্ল হয়ে বলে, এটা ইশিতা আপুর ছেলে না? ইশিতা পেছন থেকে বলে ওঠে, হ্যা গো মাহিরা। ছেলেটা সারাদিন শুধু জালায়। কান্না থামাতেই পারিনা। গাড়িতে বসে অনেক কান্না করেছিলো। তাইতো ইশান ভাই ওকে ঘুরে ফিরে ঠান্ডা করেলো। কান্নার কথা শুনা মাত্রই ইশিতার ছেলে আবারো কান্না শুরু করে দেয়। মাহিরা তা দেখে ইশানকে বলে, ইশান ভাই ওকে আমার কোলে দাও তো। আমি ওকে ঘুড়িয়ে আনি। ইশান কোনো কথা ছাড়াই ইশিতার ছেলেকে মাহিরার কোলে দিয়ে দেয়। মাহিরা বাচ্চটিকে কোলে নিয়ে ইশিতাকে বলে, আপু ওর বাবা আসেনি? ইশিতা বলে, ওর বাবা একটু ব্যস্ত।কাজের চাপে আমাদের সাথে আসতে পারেনি। মাহিরা আর কিছু বলল না।
সবাই ড্রয়িং রুমে এসে সবার সাথে পরিচিত হয়। মালিহা বেগম সবার জন্য নাস্তা নিয়ে আসলেন। ড্রয়িং রুমে সকলে বসে আছেন। মাহিরার দাদা বাড়ি থেকে আজ মাহিরার বড় চাচা, চাচি, ইশান, ইশিতা আর ইরা এসেছে। সবাই ড্রয়িংরুমে বসে পরিচিত হচ্ছে সবার সাথে।
মাহিরা ইশিতার ছেলেকে নিয়ে ছাদে এসেছে। ইশিতার ছেলে কান্না করছিলো। তাই মাহিরা ছাদে ঘুড়ে ইশিতার ছেলেকে ঠান্ডা করছে। এমন সময় মাহিরার পিছন থেকে কারো গম্ভীর কন্ঠস্বর ভেসে আসে,
- এখানে কি করছো?
মাহিরা পিছন ঘুরে তাকায়। দেখতে পায় আয়ান দাঁড়িয়ে আছে। বরাবরের মতো আয়ান হাতে ল্যাপটপ নিয়ে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আয়ান মাহিরার কোলো একটা বাচ্চাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায় মাহিরার দিকে। বলে, এটা কার বাচ্চা? মাহিরা ইশিতার ছেলের দিকে তাকিয়ে হেসে আয়ানকে বলে, আরে এটা তো আমার চা..। মাহিরার সম্পূর্ন কথা শেষ হওয়ার আগেই আয়ান হুংকার দিয়ে উঠে,
- ইডিয়েট। আমি কবে বাচ্চা জন্ম দিয়েছি?
মাহিরা ভেবাচেকা খেয়ে যায়। এই লোকের হঠাৎ হঠাৎ কি হয় মাহিরা বুঝে না। মাহিরা বলে ওঠে,
- আমি কখন বললাম আপনি বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন?
আয়ানের রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। আয়ান কিরবির করে বলে, তো এটা কার বাচ্চা? মাহিরা আয়ানকে রেগে যেতে দেখে বুঝলো না এই লোক কেনো রেগে যাচ্ছে। মাহিরা বলে ওঠে, এটা তো ইশিতা আপুর বাচ্চা। আয়ান এবার কিছুটা শান্ত হয়। মাহিরাকে ধমক দিয়ে বলে, ইডিয়েট। এটা আগে বলোনি কেনো?
মাহিরা বেশ বিরক্ত হয় এই লোকের উপর। তার কথা না শুনেই এই লোক চিল্লিয়ে উঠেছে। এখন আবার তার ঘাড়েই দোষ চাপাচ্ছে? মাহিরা বিরক্ত হয়ে বলে, আপনি তো আমার সম্পূর্ন কথাই শুনলেন না। তার আগেই তো চিল্লিয়ে উঠলেন। কিভাবে বলবো? আয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সে মাহিরার মুখে আমার কথাটা শোনা মাত্রই হুংকার দিয়ে উঠেছিলো।
আয়ান এবার শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে, ইশিতা কে? মাহিরা বলে ওঠে, আমার চাচাতো বোন। আয়ান বিরক্ত হয় মাহিরার উপর। এই মেয়ে কেনো অন্যর বাচ্চাকে কোলে নিয়েছে? আয়ান বিরক্ত হয়ে বলে,
- ইডিয়েট। তুমি অন্য কারো বাচ্চা কোলো নিয়েছো কেনো?
মাহিরা ফটাফট বলে, ওমা আমি আমার বোনের বাচ্চা কোলে নিবো না? আয়ান জোর গলায় বলে ওঠে,
- না নিবেনা। তুমি শুধু তোমার বাচ্চাকে কোলে নিবে।
মাহিরা আয়ানের কথা শুনে অবাক হয়। অবাকের সুরে বলে,
- এখানে আমার বাচ্চা আসলো কোথা থেকে?
আয়ান সহসা বলে,
- আসেনি, খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে।
- এ্যাহ..?
- হ্যা..।
মাহিরা বুঝলো না এই লোক পাগল হয়ে গিয়েছে নাকি? যা মনে আসছে তাই বকছে। মাহিরা আর কিছু না বলে ইশিতার ছেলেকে নিয়ে হাঁটা দেয়। আয়ান তা দেখে বলে ওঠে, কোথায় যাচ্ছো? মাহিরা ইশিতার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে, ওর মনে হয় খুদা পেয়েছে। দেখছেন না কেমন নিজের আঙ্গুল খাচ্ছে? আয়ান এবার শান্ত চোখে তাকায় বাচ্চাটির দিকে। নিষ্পাপ বাচ্চাটি কেমন ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে আছে আয়ানের দিকে। আয়ান বাচ্চাটিকে দেখে আনমনে বলে ওঠে,
- আমার একটা মেয়ে চাই মাহি..।
মাহিরা বুঝলো না এই লোকের কথার আগা মাথা।মাহিরা কিছু না বুঝেই বলে ফেলে,
- মেয়ে চাইলে বিয়ে করুন। বয়স তো কম হয়নি আপনার। এখনো বিয়ে করছেন না কেনো?
আয়ান বিরক্ত হয় মাহিরার কথা শুনে। এই মেয়ের মাথায় কিছু নেই নাকি? আয়ান বিরক্ত হয়ে বলে,
- ইডিয়েট। এক্ষনি ওকে ওর মায়ের কাছে দিয়ে আসবে। আর কখনো যেনো ওকে তোমার কোলে না দেখি। নাহলে এক থাপ্পড়ে তোমার দাঁত সব ফেলে দিবো।
মাহিরা নিজেও বিরক্ত হয় এই লোকের উপর। মাহিরা ছাদ থেকে যেতে যেতে বলে, নিজে তো আস্ত একটা খাড়ুস। এখন এই বাচ্চাটার সাথেও খাড়ুস গিড়ি করছে। বজ্জাত লোক একটা। আয়ান পেছন থেকে ধমক দিয়ে বলে ওঠে, কি বললে? মাহিরা আর কিছু না বলে তাড়াতাড়ি ছাদ থেকে চলে যায়। আয়ান দাঁড়িয়ে থেকে বিরবির করে,
- আরেকদিন অন্যর বাচ্চা কোলো নিতে দেখলে নিজের কোলেই একটা বাচ্চা ধরিয়ে দিবো। তখন বুঝবে কে বজ্জাত।
চলবে..
[ রোমান্টিক কিছু চাইছেন নাকি?🫣