ভালোবাসবো বলে
জাইফা জাহান
পর্ব -১
খুবই তাড়াহুড়ো করে তৈরি হচ্ছে "সানজিদা ইসলাম স্নেহা",আজ তার ভার্সিটির প্রথম দিনে ছিল, ভাগ্য ক্রমে তারা সব বন্ধুবী রা একই ভার্সিটি তে চান্স পেয়েছে। তারা সবাই ঠিক করে রেখেছিল ১০ টার সময় সেখানে উপস্থিত থাকবে। কিন্তু, ৯:৫০ এর বেশি হয়ে গিয়েছে সানজিদার কোনো হদিস নেই। এই নিয়ে তাড়াতারি করে তৈরি হচ্ছে সানজিদা। তার পরনে একটি কালো রঙয়ের লং কুর্তি সাথে কালো begy jeans পড়েছে। ফর্সা গায়ের রং হওয়ায় কালো রংটা মানিয়েছে তাকে,কোমর পর্যন্ত weavy চুল গুলো বেনুনি করে, ঠোঁটে একটু lip bam লাগিয়েছে,এতেই যেন তাকে চোখ ধাঁধানো সুন্দর লাগছে।
তৈরি হয়ে বের হলো ভার্সিটির উদ্দেশ্য। বাড়ি থেকে বের হয়েই বাঁধলো আরেক বিপত্তি। আজ হয়তো বা গাড়ি চালক রা ধর্ম ঘট করছে। প্রায় ৫মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো গাড়ির হদিস পেলো সানজিদা। বিরক্তিতে সে বললো,
-ধুর বা*ল, আজকে কি সব গাড়ির উপর ঠা*ডা পড়ছে।
বিরক্তিতে " চ " শুচক শব্দ করলো সে।
এর ই মধ্যে একটা গাড়ির দেখা পেলো সানজিদা, তা দেখে সানজিদার চোখ চকচক করে উঠলো, সে দ্রুত গাড়ি দার করিয়ে সেটা তে উঠে পড়লো।
_____________
এই দিকে ভার্সিটির সামনে এক রাস বিরক্তি নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছে ৬ জন মেয়ে। কেউ কেউ রেগে ফুসছে। তাঁদের মধ্যে থেকে মৌ বলে উঠলো।
- এই বৃষ্টি বাজে কয়টা?
বৃষ্টি তার হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো,
-- ১০:২৫ বাজে।
মৌ এর রাগ আরো বেড়ে গেলো। সে আয়শা দিকে এগিয়ে গিয়ে কিছুটা রাগ নিয়ে বললো,
-- এই তোর বোন কই? সেই ১০ তার সময় আসার কথা ছিল এখনো ম্যাম এর কোনো হদিস নেই।
আয়শা সিদ্দিকা কিছুটা ভড়কে গেলো, সেও কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললো,
- আমি কি জানি ও কই, ও তো বলছিলো ঠিক সময় পৌঁছে যাবে কিন্তু এখনো তো আসলো না।
মৌ এখন একটু বিরক্তি নিয়ে বললো,
--তোর তো বেস্ট ফ্রেন্ড তোর তো জানার কথা।
আয়শা কিছু বলতে যাবে তখন আরাবী বললো,
--এই তোরা ঝগড়া করিস না। ওই যে সানজিদা এসে পড়েছে।
আরাবীর কথা শুনে সবাই সে দিকে তাকায়।
গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের দিকেই আসছে সানজিদা। তাকে দেখে সবাই তার দিকে এগিয়ে গেলো। মৌ বললো,
-- এই বা*ঙ্গির নাতনি এতক্ষন লাগে আসতে?
সানজিদা বললো,
--সরি সরি, আমার না ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেসে, আমার বজ্জাত ভাই আমার ফোন এর অ্যালার্ম বন্ধ করে দিসিলো।
এই শুনে বাকিরা কিছু বলতে যাবে তার আগে আনিকা বললো,
--এই ওকে পড়ে দেখে নিবো এখন চল এমনিতেই দেরি হইছে। ক্লাস এ চল।
আনিকার কথা শুনে সবাই ভার্সিটির ভিতরে যায়।
তারা সাত জন একই সাথে ভার্সিতির ভিতরে প্রবেশ করছে সানজিদা, আয়শা, মৌ, ইসরাত, আনিকা, আরবী ও বৃষ্টি সেই স্কুল থেকে খুব ভালো বন্ধু।তারা গল্প করছে এবং হাটছে । আবার কেউ আবার হাসছে। কিন্তু হটাৎ,
কথায় আছে না, "যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধে হয় " তেমন তাই ঘটলো তাঁদের সাথে। বেখেয়ালি তে হাঁটার কারণে, ভুলবশত এক সিনিয়র আপু স্মৃতি কে মাটিতে ফেলে দিলো আনিকা।
মাটিতে পড়ে জামা কাপড়ে ময়লা লেগেছে স্মৃতির ।একটু চিল্লিয়েই স্মৃতি বললো,
--এই মেয়ে, চোখ কি আকাশে তুলে হাট।
চোখে দেখতে পাও না। কা*না নাকি?
তারপর আপুটা তার গোল ফ্রেমের চশমা ঠিক করে জামা কাপড়ে লেগে থাকা ময়লা ঝাড়তে লাগলো।
আর এই দিকে ভয় জড়োসড়ো হয়ে আছে আনিকা , ভয়ে তার মুখের শব্দরা লুকোচুরি খেলছে। বের হবেই না তারা।
আর এই দিকে স্মৃতি প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বললো,
--এই মেয়ে কি সমস্যা তোমার? সামান্য মেনার্স টুকুও নেই তোমার মাঝে, ভুল করলে ক্ষমা চাইতে হয় জানা আছে? মেনার্স লেস মেয়ে কোথাকার।
এ শুনে সানজিদা কিছু বলতে যাবে কিন্তু বাকিরা তাকে থামালো। তারা চায় না ভার্সিতির প্রথম দিনে এই বড়ো দের সাথে কোনো ঝামেলায় জোড়াক।
এই দিকে আনিকা খুব কষ্ট করে বললো,
--I am sorry apu, আসলে আ.. আমি বুঝতে পারি নি। ক্ষমা করে দেন আপু আর কখনো হবে না। ছোট বোন ভেবে ক্ষমা করে দেন।
মুখে এমন তা বললেও সে মনে মনে আপু টার গু*ষ্টি উদ্ধার করেছে।
আনিকার কথা শুনে হয়তো বা স্মৃতির রাগ কিছুটা কমলো হয়তো,
সে রাগী চোখে আনিকার দিকে তাকিয়ে হন হন করে সেখান থেকে চলে গেলো।
মৌ রা বলে উঠলো,
--কি মেয়ে রে বাবা, পুরা আগুন বললেও ভুল হবে, পুরা অগ্নিহগিরি।
_____________
তাঁদের আর প্রথম ক্লাস টা করা হলে না। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চলে যাবে। কিন্তু পড়ে আর গেলো না।এসেছেই যখন পড়েছে ক্লাস করেই যাক। তারা ক্লাসে ঢুকেই শেষের দু বেন্স সামনে দুটো বেন্স নিয়ে বসে পড়লো। তাঁদের বসার কিছুক্ষন পড়েই ক্লাসের ভিতর ৩জন যুবক ঢুকলো। ক্লাসে আর কোথাও জায়গা না থাকায় তারা ঠিক গিয়ে সানজিদা দের পেছনের বেঞ্চ এ গিয়ে বসে পড়লো।
তারা হলো ফাস্ট ইয়ারের ছাত্র রেদয়ান আহমেদ,আলিফ আহমেদ এবং তাওহীদ শেখ।এর মধ্যে রেদয়ান এবং আলিফ সম্পর্কে চাচাতো ভাই। এবং তাওহীদ একটু গম্ভীর স্বভাবের। ওদের মধ্যে রেদয়ান অনেক মিশুক স্বভাবের। সে বসার পর পরই সানজিদা দের উদ্দেশ্যে বললো,
- হেয় গার্লস,আমি কি তোমাদের সাথে কথা বলতে পারি?
প্রথমে ওরা ইতস্তত অনুভব করলেও পড়ে ইসরাত বললো,
--জী ভাইয়া বলেন।
রেদয়ান বললো,
--ফার্স্ট ক্লাস এ কোন টিচার আসছে?
ইসরাত বললো,
--আসলে ভাইয়া আমরা তো প্রথম ক্লাস টা করি নি তাই বলতে পারবো না। আপনি অন্য কারো কাছ থেকে জেনে নিন।
ইসরাতের কথায় রেদয়ান মেকি হেসে বললো,
-আরে আরে সমস্যা নেই। আর শুনো আমরা তো same bach এর ই আপনি, ভাইয়া-তাইয়া বলা লাগবে না। তুমি বলতে পারো।
বলেই সে তার ৩২ পাটি দাঁত বের করে হাসি দিলো।
তা দেখে আলিফ পাশ থেকে খোঁচা পেরে, কানের কাছে গিয়ে বললো,
--সা*লা তুই আবার শুরু করলি ।
রেদয়ান ধীর কণ্ঠে বললো,
--আরে থাম না, কথা বলতে দে সা*লা। তোদের জন্য একটু প্রেম তো দূরেই থাক মেয়েদের সাথে কথাও বলতে পারি না।
সে আবার তাঁদের দিকে তাকালো।
সানজিদারা একটু ইতস্তত করলেও মেকি হাসলো, তার মধ্যই মৌ বলে উঠলো,
--তা আপনি মনে হয় থুক্কু, তুমি মনে হয় আজকে ব্রাশ করতে ভুলে গেসিলে , না মানে দাঁত একটু হলুদ হলুদ তো তাই, হাসি দিলে বুঝা যায় আরকি।
বলেই সেও তার মতো করে ৩২ পাটি বের করে হাসলো।
এই কথা শুনে রেদয়ান এর হাসি উবে গেলো।
রেদয়ান কিছুটা লজ্জা পেলো তা শুনে।
তা দেখে সানজিদারা হা হা করে হেসে উঠলো। তা দেখে রেদয়ান আরো লজ্জা পেলো। আলিফ আর তার হাসি আটকে রাখতে পারলো না। সেও শব্দ করে হেসে উঠলো। তাকে হাসতে দেখে রেদয়ান বিরক্তি নিয়ে বললো,
--সা*লা ওরা আমার মজা উড়োচ্ছে আর তুই হাসছিস।
আলিফ হাসতে হাসতেই ধীর কণ্ঠে বললো,
--হাসবো না তো কি করবো? আরো যা মেয়েদের সাথে গায় পড়ে কথা বলতে। ঠিক করেছে।
তা শুনে রেদয়ান এর রাগ উঠতে লাগলো।
তখন ইসরাত বললো,
--ওর কথায় কিছু মনে করবেন না। ও এই রকমই করে।
তারপর মৌ বললো,
--sorry, কিছু মনে কইরেন না।
রেদয়ান মেকি হাসি দিলো।
ওদের হাসা হাসি তে বিরক্ত হয়ে তাঁদের দিকে তাকালো তাওহীদ । কিন্তু ঠিক তখনই,
তার চোখ আটকে গেছে এক মায়াবতীর দিকে।
______________
তারা ভার্সিটি সব ক্লাস শেষ করে নিজেদের বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। সবাই কে বিদায় দিয়ে। সানজিদা ও আয়শা বেরিয়ে পড়ে নিজেদের বাসার উদ্দেশ্যে। তারা সম্পর্কে খালাতো বোন এবং সানজিদার খালা বাসা তাঁদের বাসার কাছেই। সে পৌঁছে
আয়শা কে বিদায় দিয়ে, সে নিজেদের বাসায় যায় ।
সে সোজা তার মা সোনিয়া বেগমের কাছে যায়। তার মাকে জামা-কাপড় গোছাতে দেখে সে বললো,
-আম্মু, কি করছো?
সোনিয়া বেগম ঠোঁটে হাসি নিয়ে বললো,
-- তোর ভাই সজীব, ওর বিয়ে ঠিক হইছে। এই তো পরশু দিনেই।
সানজিদা তা শুনে খুশিতে তার মাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
--তাই আম্মু, ফাইনালি ভাইয়া বিয়ে করছে, ইয়ে।
সজীব সম্পর্কে তার খালাতো ভাই। আর আয়শার বড় ভাই। সে তার ফোন তা হাতে নিয়ে আয়শা কে কল করলো,
-হ্যালো আয়শা। ফাইনালি ভাইয়া বিয়ে করছে, কত মজা হবে।
ওপাশ থেকে আয়শাও হেসে হেসে বললো,
--হে অনেক মজা হবে।
সানজিদা জিজ্ঞেস করলো
--আচ্ছা ভাবীর নাম কী?
আয়শা ওপাশ থেকে বললো,
--শুনছি ইনায়া।
সানজিদা মুখ গোল করে বললো,
--ও...
এ নিয়ে আরো কিছুক্ষন কথা বলে ফোন রাখলো সানজিদা।
উঠে সে ফ্রেশ হয়ে নিলো।
ফ্রেশ হয়ে বের হয়েই হোয়াটস্যাপ এর ম্যাসেজ নোটিফিকেশন এর শব্দ শুনে ফোন হাতে নিলো সানজিদা। দেখলো তার তৈরি করা হোয়াটস্যাপ গ্ৰুপে একের পর এক ম্যাসেজ দিচ্ছে তার বন্ধুরা। সেই গ্ৰুপে আরো অ্যাড করা হয়েছে রেদয়ান, আলিফ এবং তাওহীদ কে।এক দিনের পরিচয়ে তারা অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গেসে তাঁদের।
সানজিদা বিছানার উপর বসে তাঁদের দেয়া ম্যাসেজ গুলো পড়ছিলো। পড়ে সে বুঝলো। মৌ এর বড় বোন নূর এর বিয়ে ঠিক হয়েছে।
তাও আবার সেই দিনেই বিয়ে যে দিন তার ভাইয়ের বিয়ে। প্রথমে একটু অবাক হলেই পড়ে এর গুরুত্ব দেই নি সে। আয়শা বললো,
-আমার ভাইয়ের বিয়েও তো ওই দিনেই!
আয়শা চেয়েছিল তার ভাইয়ের বিয়েতে সে সবাইকে দাওয়াত দিবে কিন্তু মৌ ও তার বোনের বিয়েতে তাঁদের দাওয়াত দিবে। এ নিয়ে তর্ক শুরু হয়ে গেসে।
মৌ বললো,
--আমার বোনের বিয়েতে তোদের আসতে হবে।
আয়শা প্রতিবাদ জানিয়ে বললো,
--না আমার ভাইয়ের ভাইয়ের বিয়েতে তোমরা আসবা।
_____________
আজ বৃহস্পতিবার,কালকে মূলত সানজিদার ভাইয়ের বিয়ে।
আজ আর ভার্সিটি যায় নি সানজিদারা । আজ সকাল সকাল সোনিয়া বেগম, সানজিদা এবং তার ছোট ভাই ইফাদ নেওয়াজ রিক । সে সবে মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে।
তারা সবে পৌছালো তাঁদের ভাইদের বাড়িতে।
চলবে.....................
(ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করে দেন 🙏🙂)