#ভালোবাসবো_বলে
#জাইফা_জাহান
পর্ব ১০
রেগে তার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি...
এক পলক তাকিয়েই সে থমকে যায়। নিস্পলক তাকিয়ে থাকে এক রমণীর দিকে। মনে হয় যেন চারপাশের সব শব্দ হঠাৎ থেমে গেছে। তার চোখের মায়ায় হারিয়ে যেতে থাকে সে, বুকের ভেতর অচেনা এক অনুভূতি ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়। সে বুঝতে পারে না কেন এমন হচ্ছে, তবুও চোখ সরাতে পারে না। সানজিদার দিকেই তাকিয়ে আছে,সে গভীর কিন্তু উৎফুল্ল চাহনিতে দেখছে তাকে। তার কুঁচকে যাওয়া ভ্রু ও তেজি কণ্ঠ ই তাকে তার মায়ায় ফেলে দিয়েছে।অথচ তার কাছে মনে হয় সময় থেমে আছে ঠিক সেই জায়গাতেই।
সানজিদা কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললো,
--আরে কী ব্যাপার এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
অভ্র তার দিকেই তাকিয়েই একটু গম্ভীর্য নিয়ে বললো,
--আমার তো কোনো সমস্যা নেই? কিন্তু....?
বলেই তার হলুদের দাগে নষ্ট হয়ে যাওয়া পাঞ্জাবীর দিকে তাকায়।
এতক্ষন খেয়াল না করলেও তার দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকায় সেই দিকেই। তার হলুদের নষ্ট হয়ে যাওয়া পাঞ্জাবী টা দেখে মুখ কুচকালেও, পরক্ষনেই বুঝতে পারে যে এই কাজ তার দাঁড়ায় হয়েছে। আপনা-আপনি তার হাত মুখে চলে গিয়েছে।
সে ভীষণ অনুতপ্ততে ঘেরা কণ্ঠে বললো,
--sorry, sorry ভাইয়া। আসলে আমি খেয়াল করি নি আমি। ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে।
অভ্র একটু মজা নিতেই বললো,
--এই ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে।
টা শুনে সানজিদা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললো,
---না, না, এই রকম করবেন না। বললাম তো ভুল করে হয়ে গেসে।
এর ই মধ্যে সেখানে মৌ এসে দাঁড়ালো। সানজিদা কে দেখে সে বললো,
-- কিরে তুই এখনো এখানে? তাড়াতাড়ি চল!
তারপর সামনে দিকেই তাকিয়েই অভ্র কে দেখে বললো,
-- ভাইয়া তুমি এখানে তোমাকে তো আব্বু খুঁজছে।
তারপর তার পাঞ্জাবী তে হলুদের দাগ দেখে চিন্তিত কণ্ঠে বললো,
--আরে ভাইয়া তোমার পাঞ্জাবী তে হলুদ কিভাবে লাগলো?
অভ্র সানজিদার দিকে এক পলক তাকিয়ে তারপর তার দিকে তাকিয়েই বললো,
--আরে ও কিছু না। খাবার দিতে গিয়ে লেগে গেসে।
আয়শা ও সানজিদা তাঁদের দুই জনের দিকেই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সানজিদা তার কৌতহল দমিয়ে না রাখতে পেরে মৌ কে একটু সাইড এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
--তুই কী এই লোককে চিনিস?
মৌ বললো,
--বাহ্, চিনবো না কেন,সে তো আমার ভাই হয়।
তা শুনে সানজিদা অবাকের শেষ সীমানায় চলে যায়।
তারা এক সাথে চললেও কখনো তার ভাই কে দেখে নাই ওরা।দেখবেও বা কিভাবে মৌ এর ভাই এই তো অনেক বছর আগে কানাডা গিয়েছে পড়াশুনা পড়তে।এই বছর ই তার পড়ালেখা শেষ করে সেখানেই একটা বিজনেস শুরু করেছে।মৌ বলেছিলো ওর ভাই এসেছে কিন্তু পড়ে তার মাথা থেকে তা বের হয়ে গেসে। কিন্তু এখন.....
তার ভাবনার মধ্যেই মৌ বললো,
--চল আমার ভাই য়ের সাথে দেখা করিয়ে দেই।
তারপর তার হাত ধরে তার ভাইয়ের সামনে দার করায় তারপর আয়শাকেও আনে। তারপর তার ভাইয়ের উদ্দেশ্য বলে,
-- ভাইয়া ওরা আমার ফ্রেন্ড ওদের কথা তো আগেই বলেছিলাম তোমাকে।
তারপর সানজিদা দের উদ্দেশ্য আবার বললো,
-- আর ও আমার ভাই জাহিদুল ইসলাম অভ্র। কানাডা থাকতো পড়াশুনার জন্য এখন আপুর বিয়ে উপলক্ষে বাংলাদেশে এসেছে।
সানজিদা মেকি হাসি দিয়ে সংক্ষেপে উত্তর দিলো,
--ওহ, আচ্ছা।
মৌ তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
--ভাইয়া, আব্বু ডাকছে যেতে বলেছে।
অভ্র বললো,
-হুম, তোরা যা আমি যাচ্ছি।
তা শুনে মৌ ও মাথা মেরে সম্মতি জানিয়ে সানজিদা ও আয়শা কে নিয়ে যেতে শুরু করলো। যাওয়ার সময় সানজিদা পিছনে ফিরে অভ্র এর উদ্দেশ্যে খুব ধীর কণ্ঠে বললো,
--sorry
কিন্তু অভ্র নির্লিপ্ত তাঁদের দিকেই তাকিয়ে থাকে।
তাঁদের যাওয়ার পানে তাকিয়েই অভ্র গেয়ে উঠে,
যখনি পড়েছে নজর.....
আমি তো হয়ে গেছি তোর......
জেগে রয়েছি রাত ভোর....
আমি তো হয়ে গেসি তোর......
________________
সব নিয়ম কানুন করার পর এখন বিদায়ের পালা।
মেয়েদের বিদায় মানে শুধু একটি মানুষের চলে যাওয়া নয়,একটি ঘরের হাসি, ভালোবাসা আর ছোট ছোট অভ্যাসগুলোর দূরে সরে যাওয়া।
বাবার হাত ছেড়ে নতুন জীবনে পা রাখে মেয়েরা, হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকে হাজারো অশ্রু। মেয়েদের বিদায় হলো এমন এক মুহূর্ত, যেখানে চোখে পানি থাকে, কিন্তু মুখে হাসি রাখতে হয়একটি মেয়ে বিদায় নেয়, কিন্তু তার স্মৃতি সারাজীবন রয়ে যায় পরিবারের হৃদয়ে।
ইনায়া তার বাবা-মাকে এক সাথে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। তার বাবা মা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। পাশে থেকে নীরব কান্না করছে মৌ। দূরেই দাঁড়িয়ে আছে অভ্র, সে তার পরিবারের দিকেই তাকিয়ে আছে। সানজিদা রা ভেজা চোখে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। এর ই মাঝে সজীব তার শশুর মনির সাহেবের উদ্দেশ্যে বললো,
--বাবা, এখন তো অনেক সময় হয়ে গেসে এখন আমাদের বেরোনো উচিত।
মনির সাহেব চোখে জমে থাকা অশ্রু মুছে, সজীবের দিকে তাকিয়ে বললেন,
--হ্যা বাবা,সেটাই করো।
তারপর ফিরে তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
--মা, এখন যাও বাবা কালকে আসবে তো দেখা করতে।
ইনায়া কান্না মাখা কথা বাচ্চাদের মতো করে বললো,
--না বাবা, আমি কোথাও যাবো না। তুম.. তুমি তো আমাকে ছাড়া থাকতে পারতে না। তো এখন আমাকে যেতে বলছো কেন?
মনির সাহেব ইনায়ার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললেন,
-- কাঁদিস না মা,
তুই যেখানে থাকবি, বাবার দোয়া সবসময় তোর সাথে থাকবে।
ভালো থাকিস, এটাই বাবার সবচেয়ে বড় শান্তি।মা, আজ থেকে নতুন একটা পথ শুরু হলো তোমার।
সবসময় নিজের সম্মান আর হাসিটা ধরে রাখবে।
মনে রাখবে, এই বাবার ঘর তোমার জন্য সবসময় খোলা থাকবে।
ইনায়া কে কোনো মতে শান্ত করা গেলো। তার কান্না কিছুটা কমেছে। তার পর তার বোন মৌ কে জড়িয়ে ধরে বললো,
--এখন তো অনেক খুশি আমার সব জিনিস এখন তোর। I
ইনায়ার কথা শুনে মৌ কান্না করে দিয়েছে। কান্না করতে করতে বললো,
-- না আমি তোমার সাথেই থাকবো আপু।
তাও কোনো লাভ হলো না। শেষ প্রযন্ত তাঁদের তো যেতেই হবে।
সানজিদা রা তাঁদের নতুন ভাবি কে নিয়ে রহনা দিয়েছে তাঁদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
চলবে......
#ভালোবাসবো_বলে
#জাইফা_জাহান
পর্ব ১১
প্রায় অনেক্ষন পর তারা পৌছায় তাঁদের বাড়িতে তাঁদের নতুন ভাবীকে নিয়ে।তারা এখন অনেক ক্লান্ত।
তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিলো আয়শার মা রিপা বেগম। ছেলের বউ কে নিজ বাড়িতে সম্মান দিয়ে বরণ করার জন্য।সে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বউ বরণ করার জন্য। অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে তাঁদের বাড়ির গেট টা। দরজার সামনে দিয়ে ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে রাস্তা মতো তৈরি করা হয়েছে। তারপর সে এসে নিজেই তার ছেলের বউ কে বাড়ির ভিতরে নিয়ে জান। যেতে যেতেই বললেন,
-শুনো, এখন থেকে এই বাড়ির বউ আবার আমার আরেক মেয়ে তুমি। আমার সাথে মায়ের মতোই দেখবে বুঝেছো।
উত্তরে ইনায়া বললো,
-জী, আচ্ছা।
রিপা বেগম মেকি হাসি দিয়ে আর কোনো উত্তর না দিয়ে, ইনায়াকে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিলো সোফায়।
অনেকেই আসছে ও বউ দেখে সালামী দিচ্ছে আবার অনেকে নতুন বউ এর সাথে গল্প করছে।
কিছুক্ষন পর রিপা বেগম এসে বললেন,
-শুনো মা, অনেক ধকল গিয়েছে তোমার উপর দিয়ে, এখন তুমি গিয়ে ঘুমাও।
ইনায়া তার শাশুড়ির কোথাই শুনলো। আয়শা তার মায়ের সাথেই ছিল।
রিপা বেগম আয়শা কে উদ্দেশ্য করে বললেন,
- তোর ভাবীকে নিয়ে ওদের রুম এ।
আয়শা তাই করলো। তার ভাবি কে নিয়ে গেলো তার ভাইয়ের রুম এর দিকে।
_________________
আয়শা এর ভাই সজীবের রুম টা খুবই সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। তারা ইনায়াকে বিছানার উপর বসিয়ে দেয়। তারা সবাই রুম এর দরজার দিকে ছুটে যায়। কারণ কিছুক্ষন পর ই রুমে প্রবেশ করবে সজীব।তার আসার আগে তারা দরজায় দাঁড়িয়ে পড়লো। কোনো মতেই তাদের সেখানে ঘুকতে দেওয়া যাবে না।
কিছুক্ষন পর সজীব তার রুম এর সামনে আসলো। এসে তার রুম এর সামনে এতো ভিড় দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো,
-- কি ব্যাপার এখানে কি?
বলে সে ভিতরে ঢুলতে যাবে, কিন্তু সানজিদারা তাকে আটকে দিয়ে বললো,
-না যাওয়া যাবে না।
সজীব ভ্রু কুঁচকে বললো,
-কেন? আমার রুম এ আমি যাবো না?
সানজিদা বললো,
- যেতে পারবে। কিন্তু টাকা দিতে হবে।
সজীব একটু বিরক্তি নিয়ে বললো,
-কিসের টাকা? আমি কোনো টাকা-ফাঁকা দিতে পারবো না।
সানজিদা বললো,
-আচ্ছা ঠিক আছে টাকা দেওয়া লাগবে না।
পাশ থেকে আয়শা ও তাঁদের সব বন্ধুরা সানজিদার দিকে রাগী চোখে তাকায়। তাঁদের দিকে তাকিয়ে সানজিদা একটু হয় পায়। তার দিকে তারা খেয়ে ফেলা চোখে তাকিয়ে আছে।
সানজিদা তাঁদের এমন চাহনি দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো,
-কি ব্যাপার এই রকম ভাবে আমার দিকে তাকাইয়া আছোস কেন? আমার কথা তো শেষ করতে দে!
বলেই সে আবার সজীব এর দিকে তাকায় শয়তানি হাসি দিয়ে সজীব এর উদ্দেশ্যে বলে,
-তুমি যেহেতু টাকা দিবাই না। তাহলে আর এখানে আসা লাগবে না। তুমি এই রুম এ ঢুকতে পারবা না।
তারপর একটু ভাবুক ভঙ্গীতে বললো,
-কিন্তু বাড়ি ভর্তি মানুষ ভরা, কোনো রুম ই তো ফাঁকা নেই, তুমি ক্ষণ কোথায় ঘুমাবে?
তারপর একটু ভেবে বললো,
-ছাদ খালি আছে। খুব সুন্দর জায়গা। একদম প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুমাতে পারবে। সাথে অনেক কিছু পাবা। যেমন ধরো, মশা, মাছি, ভুত, পেত্নী, তানারা সহ আরো অনেক কিচি পাবা।
আবার আজকের আবহাওয়া অনেক ভালো, যেকোনো সময় বিষ্টি পড়তে পারে। Wow.... What a পরিবেশ।
বলেই মেকি হাসি দিলো।
আয়শা ও তাঁদের সব গুলো বন্ধু বান্ধবীরা হাসতে হাসতে একেক জনের উপরে গিয়ে পড়ছে।
সানজিদার কথার সাথে তাল মিলিয়ে আনিকা বললো,
-ভাইয়া আরেকটা সুন্দর জায়গা আছে।
'স্ট্রোর রুম 'অনেক সুন্দর জায়গা। ওখানে আপনার সাথে অনেকেই থাকবে। যেমন ধরেন,ইঁদুর,তেলাপোকা, টিকটিকি, মাকড়সা আরো কত কি।
আনিকার কথা শুনে আরো একবার হাসির রোল পড়লো।
তাঁদের কোথা শুনে সজীব একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো,
-আচ্ছা, কত টাকা লাগবে তোদের?
তার কথা শুনে পৈচাসিক হাসি দিয়ে সানজিদা বললো,
-বেশি না মাত্র ১০ হাজার টাকা।
সানজিদার কথা শুনে সজীব বড়ো বড়ো চোখ করে তাকায় সানজিদার দিকে।
তা দেখে সানজিদা চোখ ছোট ছোট করে বললো,
-কেন,কম বলে ফেলসি? আমার আবার দয়ার মন তো তাই। যাও ২০ হাজার দিলেই হবে।
বলে মেকি হাই দিলো।
তার কথা শুনে সজীব এর মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। সে মনে মনে বলছে,
আমি ফাইসা গেছি,
আমি ফাইসা গেছি, মাইনকার চিপায়।
তারপর নিজেকে ধাতস্ত করে সজীব বললো,
-কত দিলে হবে?
সানজিদারা একে ওপরের মুখ চাওয়া-চাওই করছে। কিছুক্ষন পর সানজিদা বললো,
-আচ্ছা, ঠিক আছে ১০ হাজার দিলেই হবে।
সজীব বিতক্তি তে 'চ' সূচক শব্দ করে বললো,
-আর একটু কম হলে হয় না?
সানজিদারা প্রতিবাদী কণ্ঠে বললো,
-না.... হবে না..। ১০ হাজার ই দিতে হবে।
সজীব একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে, প্যান্টের পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে সেখান থেকে ১০ হাজার টাকা বের করে সানজিদা দের হাতে দেয়।
টাকা হাতে পেয়ে সানজিদা রা এক বিজয়ী হাসি দিয়ে। রুম থেকে বের হয়ে যায়।
সজীব রুম এ ঢুকে ভিতর থেকে রুম এর দরজা আটকে দেয়।
________________________
পর দিন সকালে সানজিদা ও আয়শা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তারা ইসরাত দের থাকতে বলে ছিল। কিন্তু তারা আর থাকে নি বলেছে সকালে আসবে। সেই রাতেই তারা তাঁদের বাড়ি চলে গিয়েছে। তারা যাওয়ার পর সানজিদা মৌ কে কল করেছিল। অনেক বিষয় কথা বলে সে কল কেটে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সে এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। খুব সকালে রিপা বেগম এসে ডেকে গিয়েছিলো কিন্তু তারা বলেছে, আরো কিছুক্ষন তারা ঘুমাতে চায়।
রিপা বেগম ও তাই শুনলেন ওদের আর বিরক্ত করেন নি সে। ঘুমাতে দিয়েছিলো তাঁদের।
কিন্তু এখন প্রায় সকাল ১০ টার বেশি সময় হয়ে গিয়েছে কিন্তু সানজিদা ও আয়শার ঘুম থেকে উঠার কোনো নাম অব্দি নেই। তারা এখন উল্টে পাল্টে ঘুমোচ্ছে। এই পৃথিবীর কোনো খবর ই তাঁদের কাছে নেই। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে তারা।
কিছুক্ষন পর সোনিয়া বেগম তাঁদের রুম এ প্রবেশ করলেন। সে এখন প্রচুর বিরক্ত তাঁদের উপর। ইনায়া দের বাড়ি থেকে লোক জন আসবে আর মাত্র কিছুক্ষন পর কিন্তু এই দুই মহারানীর এখনো ঘুম ভাঙ্গে নি।
সোনিয়া বেগম প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বললো,
-এই সানজিদা....আয়শা..কিরে ঘুম থেকে উঠ। বেলা বাজে কয়টা জানিস?
সানজিদা ও আয়শার ঘুম একটু হালকা হলো। সানজিদা প্রচুন্ড বিরক্তি নিয়ে ঘুমো ঘুমো চোখে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বললো,
- কী হয়েছে মা, ডাকছো কেন?