#"পাতার বাঁশরি"
#" শ্যামোলতা"
#"(৩)"
.......১২বছর পর.......
"পরিইইইইইই! এই পরিইইইইই! দাঁড়ায়। আর পারছিনা তোর সাথে দৌঁড়াতে। এবার তো থাম।"
" এতে থামলে চলবে না। আয়! আমায় ধরে দেখা। ধর, ধর। আমায় ধর। "
দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে সামান্য ঘার ঘুরিয়ে কথাটা বললো পরি। মেয়ে টা দেখতে মাশাআল্লাহ! হাঁটু অবদি কালো ঘন লম্বা চুল। চোখের মনি হালকা নীলচে। দুধে- আলতা গায়ের রঙ। টানা টানা মায়াবি তার আঁখি। পুরো সাদা পোশাক এর উপর লম্বা চুল গুলো বার বার বারি খাচ্ছে দৌড়ানোর জন্য। পেছনে তার সই মিঠি। মিঠির পরনে গাঢ় নীল কামিচ। আর হলুদ পাইজামা আর ওড়না। ফর্সা চেহারা। হালকা বাদামি চোখের মনি। কোমর ছাপানো কালো চুল। পরির পাল্লায় পরে তাকেও দৌঁড়াতে হচ্ছে।
চার পাশে সরিষা ক্ষেত্র। হদুলে যেন লেপে রাখা পুরো মাঠ। আর মাঠের মাঝের সরু পথ দিয়ে দুই জন পাগলের মত দৌড়াচ্ছে। এটা সময় তারা গ্ৰামে সেই বড় দিঘির পারে বট গাছটার নিচে চলে আসে। আসতেই পরির চলন্ত পা জোড়া থমকে যায় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ টির দিকে তাকিয়ে। পরির থেকে কয়েক হাত দূরে বুকে হাত জোড়া ভাজ করে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ মিয়া। নিজের বাবাকে এসময় এখানে দেখে বোকা হেসে আমতা আমতা করে
" আব্বা তুমি এখন এখানে কী করো? "
সবুজ মিয়া মেয়ের কথার উত্তর না দিয়ে উল্টে প্রশ্ন করলো
" এভাবে দৌড়াচ্ছো কেন? মানা করেছি না আমি!"
সবুজ মিয়াকে দেখে মিঠিও দাঁড়িয়ে পরে। মিঠিকে দেখে সবুজ মিয়া বোঝার সুরে বলে
" ও তাই তো বলি। এই ভাবে দৌড়ানোর কারণ কী? "
একটু থেমে গলার স্বর নরম করে
" বেশিক্ষন এখানে থেকো না। তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যেও দুজন। আমি যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি এসো। "
কথাটা বলেই সবুজ মিয়া চলে গেলো। মিঠি পরির কাছে এসে কাঁধে হাত দিয়ে বলল
" একটুর জন্য বেঁচে গেছিরে সই। আমি তো ভাবছি আজ হয়তো ধুমধাম বকা খাবো। "
" আহ! থামতো। আমার আব্বা আমায় বকে না। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে হাপিয়ে গেছি চল বটগাছের নিচে বসে একটু জিরিয়ে নেই!"
কথটা বলেই উত্তরের আশায় না থেকে সোজা গিয়ে বসে পরলো বটগাছের শিকরের উপর। মিঠিও বসলো তার কাছে। কিছুক্ষন নিরবতা কাটলো তাদের মাঝে। তারপর মিঠি বলল
" চল দিঘির পাড়ে যাই। "
পরি লাফ দিয়ে নেমে "চল, চল!" বলে মিঠির হাত ধরে নামালো। দুজনে মিলে দিঘির পাড়ে হাঁটতে লাখলো। কিছু টা যেতেই দেখা হলো সুরুজ এর সাথে। সুরুজ কে দেখেই পরি রাগে ফেটে পরতে লাগলো। পরিকে রাগতে দেখে মিঠি আলতো করে ওর হাত ধরলো। মিঠির আলতো ধরা হাতটা পরি শক্ত করে ধরে উল্টো হাঁটা দিলো। পেছন থেকে উচ্চুস্বরে সুরুজ ডেকে বলে উঠলো
" ও পরিইইই! কই যাও? "
পরি না তাকিয়ে মিঠির হাত ধরে যেতে লাগলো। সুরুজ দৌড়ে এসে পরি সামনে দাঁড়িয়ে বলল
" এখনো মলে সমায় আছে। ভাইবা দেখো। আমি পুলা কিন্তু খারাপ না। তোমারে কিন্তু আমার লগে মানাই বো। ভাইবা দেখো। রানি কইরা রাখুম সারাজীবন। "
এতক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে কথা গুলো শুনে রাগে আর বিরক্তে দাঁতে দাঁত চেপে ঝাযালো গলায় বললো পরি
" জীবন দিয়া দিমু তবুও আপনার মত মানুষরে বিয়া করুম না। "
কথাটা বলেই মিঠিকে নিয়ে চলে গেলো পরি। সুরুজ পরির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিরবির করতে লাগলো
" তোমার! মাইয়া এত তেজ! মরবা তাও আমারে কবুল করবা না? ঔ তেজ আমি ভাঙমু। যদি না পারি তো আমি জমিদার বাড়ির পুলা না!"
কথাটা বলেই সুরুজ উল্টো পথে হাঁটা দিলো। সুরুজ হলো এই মেঘডুবি গ্রামের জমিদার সিদ্দিক এর একমাত্র ছেলে। তার মা তোফা। সুরুজ দেখতে, লম্বা- ফর্সা। মুখে ছাপ দারি। যা ছোট ছোট করে কাটা। চুল গুলো সামনের দিকে একটু বড় আর চারপাশে ছোট।সুরুজ দেখতে যতটা সুন্দর। তার থেকে কয়েক শ গুন কালো তার হৃদয়। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তাকে দিয়ে হয়নি। নেশা জগতে যত নেশা আছে সব তার সেবন করা। তাছাড়া প্রতিরাতে মেয়ে নিয়ে থাকা তার বহু কাল আগের অভ্যাস।সাথে তো গ্রামের সাধারণ মানুষের উপর র্নিযাতন আছেই। সুরুজের বাবার কথায় গ্রামের সবাই চলে। লোকটার অনেক ক্ষমতা। কারণ তার টাকা আছে। আর তার কারণেই গ্রামের কেউ তাকে কিছু বলতে পারে না।
চলবে.........