আমি নূর,
ছোট থেকেই সপ্ন ছিল লেখক হবো। ছোট থাকতে সবাই বলতো, "তোমার লেখার ধরন টা সুন্দর। তুমি ভালো লেখক হবে।" তখন এই কথা গুলো শোনলে কি যে আনন্দ হতো। বোঝানোর মতো না।
সপ্ন পূর্ণ করতেও তো ভাগ্য লাগে। ভাগ্য ছাড়া কি কোনো কিছু হয়? আমার সেই ভাগ্য ছিল না। বাবার ইচ্ছা ছিল নিজে ডক্টর হবেন। কিন্তু পারেন নাই উনার বাবা মার জন্য। পড়ালেখাতে ভালো ছিলেন না বাবা। তাই আরো পারেন নাই। নিজের ইচ্ছে পূর্ণ করতে পারেন নাই বলে উনার ইচ্ছে আমাকে ডক্টর বানানো। কিন্তু আমিতো চাই নাই। তাও বাবার ইচ্ছা পূর্ণ করতে নিজের সপ্ন কে বিসর্জন দিয়েছি। মেডিকেল এ চান্স পাই নাই। তখন আত্মীয়-স্বজনদের হতাশা ভরা মুখ দেখেছিলাম। তখন কি যে খারাপ লাগছিল। তারপর মায়ের ইচ্ছায় অন্য একটা বিষয় নিয়ে পড়লাম। বাবা রাজি হননি। মা অনেক বুঝিয়েছেন। বাবা আমার উপর বিরক্ত ছিলেন এর পর থেকে। আমি আর কি করব কোনো রকম পড়তে থাকি। আত্মীয়-স্বজনদের কত বাজে কথা যে শোনতে হয়েছে আমায় আর আমার পরিবারের। বাবা তো এর জন্য মা কে একদিন মেরেছিলেন। আমি কিছুই করতে পারিনি। তাও পড়ারাটা চালিয়ে গিয়েছি। ভাগ্য আমার আবারও পাশে থাকেনি। গ্র্যাজুয়েট হওয়ার আগেই আমায় বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর সংসারের কাজ, দায়িত্ব সব কিছুর মধ্যে নিজের সুখে থাকা, সপ্ন আবার বিসর্জন দিলাম। কেউ কখন আমায় আর জিজ্ঞেস করেনি "তোমার কি ভালো লাগে?"
হঠাৎ একদিন মধ্য রাতে নিজের সব সপ্ন এর কথা মনে পরলো। আয়নার সামনে গিয়ে নিজের দিকে তাকালাম। আমার সেই মায়াবী মুখ নেই। কালো হয়ে গিয়েছে। কেমন জানি শুঁকিয়ে গিয়েছি। চোখের নিচে কালো দাগ পরেছে। হাতের অনেক জায়গায় পুরার, কাঁটার দাগ। কেমন জানি মানিয়ে নিতে শিখে গিয়েছি। "আমি তো এমন ছিলাম না। কেন এমন হলাম?" কথা গুলো মাথায় ঘুরতে থাকে। এরপর একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। সীমিত সময়ের জন্য সব কিছু ছেড়ে চলে যাব। পরের দিন সকালে চলে গেলাম।
বাসে বসে জানালা দিয়ে পরিবেশটা দেখছিলাম। অনেক বছর পর আবার মনে হলো নতুন করে নিজেকে পেলাম। জানি না কোথায় যাবো এখন। দুচোখ যেদিকে যায় সে দিকে যাবো। মনের মধ্যে অন্য রকম আনন্দ লাগছে আজ। আমি নিজেকে ফিরে পেয়েছি।
সব শেষে একটাই কথা বলবো,
-"সব দায়িত্ব, কাজ এর মধ্যেও দিনশেষে নিজেকে কিছুটা সময় দেয়া উচিত। নিজের সপ্ন কে বিসর্জন না দিয়ে ওই সপ্নের পিছনে ছোটা উচিত। হ্যাঁ! এই গুলো পূর্ণ করা কঠিন। তাও চেষ্টা ছাড়া যাবে না। বাবা মায়ের ইচ্ছা পূর্ণ করতে গিয়ে দেখবে কোনো দিন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছো। সমাজ কি বলল ওইটা নিয়ে ভাবে না। সমাজ বলতেই থাকবে। তুমি ভালো কাজ করেও বলবে, খারাপ কাজ করলেও বলবে। তাদের কাজই অন্যের জিনিসের ভিতর নাক গোলানো, মানে ঢোকা। ওইসবে কান না দিয়ে নিজের স্বপ্নের পিছনে যাও। নিজের মনোবলই পারবে তোমার সাফল্য এনে দিতে। কেউই তোমার পাশে থাকবে না। নিজেকেই নিজের পাশে থাকতে হবে।"
[সমাপ্ত]
[কেমন লাগলো জানাবেন। বাস্তবতাকে একটু তুলে ধরতে চেয়েছি। জানি না কতটুকু পেরেছি। বলে যাবেন কেমন লাগো। ধন্যবাদ☺️🌷🕊️]