ফন্ট সাইজ:
থিম:
এদেখা শেষ না হোক

২য় পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার সাথী

#এ_দেখা_শেষ_না_হোক #পর্ব - ( ০২ ) 

#writer_sumaiya_akter_sathi 
--
মাহিরা আজ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছে। লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয় মাহিরা। বের হয়ে দেখে প্ৰত্যয় তার বিছানার উপর মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। মাহিরা ভ্ৰু কুচকায়। বুঝতে পারে প্রত্যয়ের মন খারাপ। বিরবির করে, এর আবার কি হলো সকাল বেলা? 
মাহিরা ভেজা চুল মুছতে মুছতে কয়েকবার আরচোখে প্ৰত্যয়ের দিকে তাকায় ।প্ৰত্যয়ের কোনো হেল দোল নেই। একই ভাবে বসে আছে মাথা নিচু করে। মাহিরা এবার কাশি দেয়। প্ৰত্যয় এর দৃষ্টি আকৰ্ষণ করতে চাইছে সে। 
প্ৰত্যয় কাশি শুনে মাথা তুলে তাকায়। দেখে মাহিয়া আয়নার সামনে দাড়িয়ে তার দিকেই চেয়ে আছে। মাহিরা ঘুরে পত্যয় এর কাছে এসে বলে, 
- কি হয়েছে রে তোর? মুখটা এমন পেচার মতো করে রেখেছিস কেনো ?
মাহিরার কথা শুনে প্রত্যয়ের মুখ আরো কালো হয়ে যায়।পত্যয় মাথা নিচু করে বলে,
- আপু আমরা তো আজকেই বাংলাদেশে চলে যাচ্ছি। তাইনা?
মাহিরা জানালার পর্দা টেনে দিয়ে বলে, 
- হ্যা । তো কি হয়েছে? আর কিছুক্ষণ পরেই তো বের হবো আমরা।
 প্ৰত্যয় এবার মুখ ঘোমরা করে বলে,
- বাবা বলেছে,বাংলাদেশ গেলেও সাথে করে আমার সব বই খাতা নিয়ে যেতে। বই না নিলে নাকি আমাকে বাংলাদেশে নিবে না। আচ্ছা আপু, তুমিই বলো। আমরা বাংলাদেশে বেড়াতে যাচ্ছি? নাকি পরতে যাচ্ছি ?
পত্যয় এর কথা শুনে মাহিরা ফিক করে হেসে দেয়। প্ৰত্যয় হতভম্ব হয়। বোনকে নিজের দুঃখের কথা শোনাতে এসেছে। আর বোন তার মজা নিচ্ছে?
মাহিরার দিকে অসহায় চোখ চেয়ে থাকে সে। মাহিরা হাসি থামিয়ে প্ৰত্যয় এর কাছে এগিয়ে আসে। প্ৰত্যয় এর কপালে আস্তে টোকা মেরে বলে,
- তুই যে আস্ত একটা গরু। আব্বু সেটা খুব ভালো করেই জানে। বাংলাদেশ থেকে ফিরলেই তোর এক্সাম। ভুলে গিয়েছিস? তোর পড়াশোনায় কোনো মনোযোগ নেই প্রত্যয়। তাই তো আব্বু এই কথা বলেছে। তুই এক কাজ করতে পারিস। সব বই নেওয়ার প্ৰয়োজন নেই। কিছু বই নিয়ে নে সাথে করে। সময় পেলে একটু আকটু পড়বি আরকি। এখন যা। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হ।বের হবো আমরা।
প্ৰত্যয় দীৰ্ঘ শ্বাস ফেলে। বলে, ঠিক আছে আপু। রুম থেকে বের হয়ে যেতে যেতে আবারো বলে, 
- এই পড়ালেখা টা যে কে আবিষ্কার করেছে। দূর, এটা না থাকলেই বোধহয় শান্তিতে থাকতাম।
প্ৰত্যয় এর এমন কথা শুনে মাহিরা মিটিমিটি হাসে।এই ছেলে পড়াশোনায় এতো ফাঁকিবাজ কেনো? সে তো এরোকম ছিলো না।
প্রত্যয় চলে গেলে মাহিরা রেডি হতে যায়। এক সাথে রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হবে সে। আলমারির সামনে দাড়িয়ে আছে মাহিরা। কি পরবে সেটাই ডিসাইট করতে পারছেন না এখনো।
যেহেতু লং জাৰ্নি করবে। সেই অনুযায়ী একটা কমফোর্টাবল কিছু পরতে হবে তাকে। মাহিরা আলমারি খুজে খুজে একটা পিংক কালারের জামা বের করে। জামাটা বেশ সুন্দর। 
পিংক কালালের ভেতরে গোল্ডেন ওয়াৰ্ক করা। মাহিরা হাতে নিয়ে দেখে জামাটা বেশ আরামদায়ক। মাহিরা ডিসাইট করে নিলো সে এই জামাটাই পরবে। জামার সাথে মেচিং করে হিজাবও বের করে রাখলো সে।
আজ শুক্রবার। আকাশটা আজ সকাল থেকেই মেঘলা। আকাশের বুকে কালো মেঘের ছড়াছড়ি।সূর্যি মামা বোধহয় আজ রাগ করেছেন। তার দেখা আজ মিলবে না বোধহয়। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তা।
সকাল থেকে রান্না ঘরে হাত লাগাচ্ছেন চার গিন্নি। প্রতিদিন এর তুলনায় আজ যেনো কাজের চাপ একটু বেশিই পরেছে তাদের উপর। 
ড্রয়িং রুমে বসে আছেন আছিয়া বেগম। হাতে তার পানের বাটা। ইতোমধ্যে এক টুকরো পান তার মুখেও রয়েছে। সেটাই চিবুচ্ছেন তিনি। তার পাশেই বসে আছে এ বাড়ির ছোট্ট বিছ্রু গুলো। অভি,আদি,নুপুর,আর মুসকান। দাদির পাশে বসে গল্প করছে এটা সেটা নিয়ে।
মাত্রই বাসায় ফিরেছেন শাজাহান শিকদার ও আয়ান। ঘড়ির কাটায় তখন বারোটা ছুইছুই। দুইজনই এসে চলে গিয়েছে যার যার রুমে। আয়ান এসেই প্রথমে গোসলে ঢুকলো। নামাযে যেতে হবে। তাই আগে গোসলটা সেরে নিতে চায় সে। প্রতি শুক্রবারই বাড়ির সকল ছেলেরা, ছোট থেকে বড় সবাই একসাথে নামাজ পরতে যায়। এটাই যেনো শিকদার বাড়ির ঐতিহ্য । 
সেই সকাল আটটায় বেরিয়েছিলো আয়ান তার বাবার সাথে। হাতে সময় কম থাকায় না খেয়েই বেরুতে হয়েছিলো তাদের। যদিও বাহিরে নাস্তা করে নিয়েছিলো দুজনেই। কিন্তু আয়ান সকালে ভারী খাবার খেয়ে অভ্যস্ত। তার নাস্তায় কাজ হয় না। তাই এখন তার পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। 
আয়ান পাঞ্জাবি পরে রেডি হয়ে নিচে নেমেছে। মালিহা বেগম তখন ড্ৰয়িং রুমেই ছিলেন। আয়ানকে দেখে তিনি বলেন, খিচুড়ি রান্না করছি সকালে। গরম করে দিবো তোকে? আয়ান ছোটো করে বলে, দাও..।
মালিহা বেগম সময় নষ্ট না করে চলে গেলেন রান্না ঘরে।ছেলের জন্য খাবার রেডি করতে ব্যস্ত হয়ে পরলেন তিনি। সকালে আবহাওয়া খারাপ দেখে তিনি খিচুড়ি রান্না করেছিলেন। শাজাহান শিকদার আর আয়ান বাদে সবাই খেয়েছে খিচুড়ি। মালিহা বেগম জানেন তার ছেলে ক্ষুধার্ত। সকালে খেয়ে যায়নি। এখন তো বারোটার বেশি বাজে। নিশ্চই ক্ষুধা লেগেছে ছেলের।ছেলের চোখ মুখ দেখেই তিনি বলে দিতে পারেন ছেলের মনের খবর। মায়েরা বুঝি এমনই হয়?
গরম গরম ধোয়া উঠা খিচুড়ি।সাথে মায়ের হাতের গরুর মাংস। কি যে সুস্বাদু। তা বলে বোঝানোর মতো না। আয়ান তৃপ্তি সহকারে খায়। খেয়ে প্রশংসা করতে যেনো ভুললো না সে।
- খিচুড়িটা মজা হয়েছে।
ছেলের কথা শুনে মালিহা বেগম একগাল হাসলেন। ছেলে তার বরাবর এমন। মালিহা বেগম এর হাতের রান্নার প্ৰশংসা সবসময় করে আয়ান। তার হাতের রান্না নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে বেষ্ট রান্না। একথাও অনেক বার বলেছে আয়ান।
শিকদার বাড়ির সকল ছেলেরা নামাজ পরে মাত্রই বাসায় ফিরেছে। সকলে খাবার টেবিলে বসেছে।টেবিল ভৰ্তি হরেক রকমের খাবার দাবারের আয়োজন রয়েছে। অনেক ধরনের আইটেম রান্না করা হয়েছে আজ। মালিহা বেগম ও আয়েশা বেগম সকলকে খাবার বেড়ে দিচ্ছেন। বাকি দুজন রান্না ঘর থেকে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে আসছেন।সকলে নিজ নিজ মনে খাচ্ছে।
খাওয়ার ফাকে ফাকে দুষ্টোমি করছে মুসকান, নুপুর, অভি, আদি। চার শয়তান একসাথে বসলে যা হয় আরকি। একটু পরপর একজন আরেক জনকে খোচা দিচ্ছে। আয়ান নিজ মনে খাচ্ছে। আর একটু পরপর মুসকান কে ধমক দিয়ে প্লেটের খাবার শেষ করতে বলছে। মুসকান ভাইয়ের ধমক খেয়ে চুপচাপ খাওয়ায় মনোযোগ দিলো।
বিকাল তিনটা ছুইছুই। ঢাকা শাহাজালাল বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছেন এক দম্পতি। দম্পতিটির এক জনের হাত আরেক জনের হাতে আবদ্ধ। দ্ৰুত পায়ে হাটছেন তারা। পাশেই হাটচ্ছে তাদের দুই ছেলে মেয়ে। পাশে থাকা ছোট ছেলেটির এক হাতে বাবল টি। ছেলেটি একটু পরপর সেটাতে চুমুক দিচ্ছে আর হাটছে। তার অন্য হাত ধরে রেখেছে তার পাশে হাটা মেয়েটি।
আছরের নামাজ শেষ করে ড্রয়িং রুমের দিকে হেঁটে আসছিলেন আছিয়া বেগম। শাজাহান শিকদার ও জয়নাল শিকদার আগে থেকেই বসা ছিলো ড্রয়িং রুমে। এই মাসের আঠারো তারিখ নাবিলার বিয়ে। হাতে সময় আছে মাত্র পনেরো দিন। 
ছেলে দেশের বাহিরে থাকে। তাই ছেলের পরিবার চাচ্ছে বিয়েটা যেনো তাড়াতাড়ি হয়। এই পনেরো দিনের ভেতরেই সকল বিয়ের আয়োজন করতে হবে তাদের। এ বাড়ির বড় মেয়ের বিয়ে বলে কথা।সেটা নিয়েই জয়নাল শিকদার তার বড় ভাই শাজাহান শিকদার এর সাথে কথা বলছিলেন।
আছিয়া বেগম কে আসতে দেখে শাজাহান শিকদার উঠে এগিয়ে যান। আছিয়া বেগমের হাত ধরে আস্তে ধীরে বসিয়ে দেন সোফায়। শাজাহান শিকদার নিজেও মায়ের পাশে বসেন।
আছিয়া বেগম পানের বাটা বের করে পান বানাতে বানাতে বলল, জয়নাল তোমার ছোট ভাই হয়েও মেয়ে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। তোমার খবর কি শাজাহান? 
শাজাহান শিকদার থতমত খেয়ে চেয়ে আছে মায়ের দিকে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, 
- আমায় মেয়ে তো এখনো অনেক ছোটো মা। ওকে এখন কিভাবে বিয়ে দেই?
আছিয়া বেগম এক টুকরো পান মুখে নিয়ে কিছুটা বিরক্ত স্বরে বলেন, 
-তোমার কি আক্কেল জ্ঞান কখনো হবে না শাজাহান? 
শাজাহান শিকদার অবুঝের মতো মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে, আমি আবার কি করলাম মা?
আছিয়া বেগম এবার সত্যিই বিরক্ত হলো। তিনি উচ্চ স্বরে বলেন, 
- আমি তোমার মেয়ের কথা বলিনি শাজাহান।তোমার বড় ছেলের কথা বলেছি। তোমার ছেলের বয়স তো কম হলো না। বিয়ে দিচ্ছোনা কেনো ছেলের?
শাজাহান শিকদার দীৰ্ঘ শ্বাস ফেলে কিছুটা অসহায় গলায় বলেন, আমি তো বিয়ে দিতেই চাই। লাস্ট দুই বছর ধরে চেষ্টা করছি ওকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওর একই কথা। ও এখন বিয়ে করবে না। বিজনেস করছে তাই বিজনেস টাই করবে আপাদত। ওর মা তো প্ৰতিদিন বলে বিয়ের কথা। কিন্তু ও গায়ে লাগায় না। আমি কি করবো বলো মা? একনাগারে কথা গুলো বলে থামলো শাজাহান শিকদার। 
আছিয়া বেগম মনোযোগ দিয়ে শুনলো ছেলের কথা। ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখলো ছেলের অসহায় মুখখানা। আছিয়া বেগম কিছুক্ষণ ভেবে তারপর বলেন, 
- ছেলের কোনো পছন্দের মেয়ে আছে কিনা জানতে চেয়েছ?
শাজাহান শিকদার অবাক চোখে তার মায়ের দিকে তাকায়। কি বলছে তার মা ? শাজাহান শিকদার কাঠখাট উত্তর দিলো, না।
আছিয়া বেগম এবার বলেন, তাহলে জেনে নিয়ো।ছেলেরও তো কোনো নিজের পছন্দ থাকতে পারে।তাই হয়তো বারবার না বলছে তোমাদের। জেনে তারপর সিধান্ত নিয়ো তোমরা। আর হ্যা এখন সেই আগের যুগ নেই শাজাহান। যে নিজেদের পছন্দ ছেলে মেয়েদের উপর চাপিয়ে দিবে। এখন ছেলে মেয়েরা দুজন দুজনকে পছন্দ করে বিয়ে করে। যদিও আয়ান তেমন ছেলে না। তারপরও জিজ্ঞেস করে দেখো ।
শাজাহান শিকদার মায়ের কথা শুনে আর কিছু বললো না। হয়তোবা কিছু বলতেও চাইলো না। হঠাৎ তার মনে পরে গেলো পচিঁশ বছর আগের সেই ঘটনার কথা..!
ইয়ারপোৰ্ট থেকে বের হয়ে দাড়িয়ে আছে মাহিরা'রা। বাংলাদেশ এর মাটিতে পা রেখে তার বেশ ভালো লাগছে। তার মন উড়ো উড়ো করছে। তার এখন পাখি হয়ে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করছে। নিজের দেশের শান্তিই আলাদা। 
অনেকক্ষণ যাবত দাড়িয়ে আছে তারা। তাদের গাড়ি আসতে লেট করছে। ঢাকা শহরের জ্যামে আটকে পরেছে গাড়ি। এতো লং জাৰ্নি করে এখন আবার ওয়েট করতে হচ্ছে। এতে মাহিরা বেশ বিরক্ত হলো। মনে মনে আচ্ছা মতো ধুয়ে দিলো ঢাকা শহরের জ্যাম কারীদের।
আরো মিনিট দশেক অপেক্ষা করার পর গাড়ি আসলো তাদের। গাড়ি আসার সাথে সাথে সবাই গাড়ীতে উঠে পরলো। সবার মুখেই ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। 
মাহিরা গাড়ীতে উঠে বেশ অবাক হলো । প্ৰতিবার বাংলাদেশে আসলে তাদের কাজিনরা বা চাচারা নিতে আসে। কিন্তু আজকে কেউ আসলো না। মাহিরা মনে মনে কিছু ভেবে তার বাবাকে বলল, আব্বু আমাদের নিতে কেউ আসলো না কেনো? প্ৰতিবারই তো আমাদের নিতে চাচ্চু, ভাইয়া, আপুরা আসে। আজ কেনো আসলো না?
মাহিরার কথা শুনে মোশাররফ হোসেন হেসে বলেন, 
- কারন আমরা আজ তোমার দাদু বাড়ি যাচ্ছি না আম্মু । 
মাহিরা ভ্ৰু কুচকে বলে,
- তাহলে কোথায় যাচ্ছি আমরা? 
মোশাররফ হোসেন বলেন, 
- সেটা তুমি একটু পরেই দেখতে পাবে আম্মু। এখন একটু রেস্ট নাও তুমি। অনেক জাৰ্নি করেছো। দেখো একটু ঘুমোতে পারো কিনা। প্ৰত্যয়ও ঘুমিয়েছে। তুমিও একটু ঘুমাও আম্মু।
মাহিরা আর কোনো প্ৰশ্ন করলো না তার বাবাকে। বলল,ঠিক আছে আব্বু। চোখ বন্ধ করে নেয় মাহিরা। সে সত্যিই ক্লান্ত। একটু পর সত্যিই সে ঘুমিয়ে পরলো ।
এদিকে মোশাররফ হোসেন বেশ চিন্তিত হয়ে পরলেন। কিভাবে সবটা সামলাবেন তিনি? বুঝে উঠতে পারছে না কিছু । কতোকাল আর এভাবে থাকবেন তিনি? সত্যর মুখোমুখি তাকে হতেই হবে। হয়তো আজ,না হয় কাল।
 
চলবে..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন