ফন্ট সাইজ:
থিম:
এদেখা শেষ না হোক

২৫তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার সাথী

#এ_দেখা_শেষ_না_হোক #পর্ব - (২৫)

#writer_sumaiya_akter_sathi 
--
মাঝখানে কেঁটে গিয়েছে তিনদিন। সেদিনের পর থেকে মাহিরা আর আয়ানের সাথে কথা বলেনি। আয়ান নিজেও বেশি সময় বাড়ি থাকে না। গভীর রাতে আসে আবার সকাল হলেই চলে যায়। মাহিরার এতে বেশ ভালোই হয়েছে। তাকে আর ওই লোকের সামনে পরতে হয়না। 
মাহিরা তিনদিন ধরে পরী বেগমকে জ্বালিয়ে মারছে। পরী বেগম অতিষ্ঠ মেয়ের জালায়। মাহিরা সেই সকাল থেকে পরী বেগমের রুমে এসে বসে আসে। এখন বিকেল হতে চললো। মাহিরা আবারো বলে, 
- আম্মু প্লিজ চলো না আমরা দাদু বাড়ি থেকে ঘুরে আসি? অনেকদিন তো হলো আমরা এ বাড়িতে। আর কতোদিন থাকবে বলো? 
পরী বেগমে জামা কাপড় ভাজ করতে করতে মাহিরাকে বলেন, 
- তিনদিন ধরে তুমি একই কথা বলছো মাহিরা। কি সমস্যা তোমার এ বাড়িতে? আমার বাপের বাড়ি কি তোমার পছন্দ হয়নি? নাকি তারা তোমাকে একবেলা ভাত কম দেয়, কোনটা?
মায়ের কড়া কথায় মাহিরার মুখ কালো হয়ে যায়। পরী বেগম তা দেখে মাহিরার কাছে এসে বসেন। মেয়ের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলেন, আম্মু প্লিজ তুমি বোঝার চেষ্টা করো। তোমার নানুর শরীর বেশি ভালো না। যখন তখন অসুস্থ হয়ে পরেন। আমার এখন তোমার নানুর পাশে থাকাটা খুব জরুরি। তুমি না আমার লক্ষী মেয়ে? প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করো। আমরা তো প্রতিবারই এসে তোমার দাদু বাড়িতে থাকি। এবার না হয় এই বাড়িতে থাকলাম। 
মাহিরা কিছুই বললো না। আছিয়া বেগম পরীর রুমে আসতে আসতে শুনে ফেলেন পরীর কথা গুলো। তিনি এসে বলেন, আমার মতো সুস্থ সবল একটা মানুষটাকে তুই অসুস্থ বানিয়ে দিলি পরী? পরী বেগম তাকায় দরজার দিকে। দেখতে পায় আছিয়া বেগম দাঁড়িয়ে আছেন দরজায়। 
পরী বেগম উঠে তার মায়ের কাছে গিয়ে বলেন, মা তুমি এখন ঠিক আছো। কিন্তু মাঝে মধ্যে তোমার প্রেশার ফল করে। তখন তোমার পাশে কাউকে প্রয়োজন। আছিয়া বেগম বলে ওঠেন, আমার কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই পরী। আমি একাই একশো। তুই গিয়ে তোর শশুর বাড়িতে ঘুরে আয় যা। 
পরী বেগম বলেন, মা তুমিও মাহিরার মতো একই কথা বলছো? আছিয়া বেগম হেসে মাহিরার পাশে বসে বলেন, মাহিরা ওর দাদা বাড়িতে যেতে চাইছে যখন কয়েকদিন থেকে আয়। তাছাড়া আমি এখন সুস্থ আছি। আমাকে নিয়ে পরে না থেকে তুই একটু নিজের সংসারে মন দে। তোর শশুর বাড়ির মানুষ কি ভাববে তুই যদি ওই বাড়িতে না যাস? 
পরী বেগম মায়ের কথায় আর কিছু বললেন না।আছিয়া বেগম এবার মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলেন, তুমি গিয়ে রেডি হও নানু। তোমরা আজকেই তোমার দাদা বাড়িতে যাচ্ছো। মাহিরা খুশি হয়ে আছিয়া বেগমকে সাইড থেকে জড়িয়ে ধরে বলে, ধন্যবাদ নানু। তুমি অনেক ভালো। আছিয়া বেগম মাহিরার পাগলামি দেখে বলে ওঠেন, ওরে ছাড় আমাকে। আমার প্রেশার বেড়ে যাবে তো। মাহিরা আছিয়া বেগমকে ছেড়ে পরী বেগমের দিকে তাকিয়ে বলে, আম্মু আমি কি সত্যিই রেডি হবো? 
পরী বেগম দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলেন, হ্যা যাও রেডি হয়ে আসে। আর প্রত্যয়কেও রেডি হতে বলবে। মাহিরা খুশি হয়ে বলে, ঠিক আছে আম্মু। বলেই মাহিরা পরী বেগমের রুম থেকে চলে যায়। মাহিরা চলে যেতেই আছিয়া বেগম দীর্ঘ শ্বাস ফেলেন। সে মন থেকে চায় না পরী এ বাড়ি থেকে যাক। কিন্তু নিজের জন্য তো মেয়ের সংসারে সে বাঁধা হতে পারে না। পরীর শশুর বাড়ি আছে। সেখানে পরীকে যেতেই হবে। এটাই নিয়ম।
মাহিরা রেডি হয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামছে। মুসকান মাহিরার পিছু পিছু নামতে নামতে বলে, মাহিরা তোমরা আবার কবে আসবে? কতো দিন থাকবে ওই বাড়িতে? মাহিরা বুঝতে পারে মুসকান চায় না মাহিরা এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাক। মাহিরা মুসকানের কথায় মুচকি হেসে বলে, আমি আর আসবো না মুসকান। তুমি ভালো থেকো কেমন? মুসকানের মুখটা কালো হয়ে যায়। মুসকান অভিমানী গলায় বলে, কেনো মাহিরা? এই বাড়ি কি তোমার পছন্দ হয়নি? মাহিরা বলে ওঠে, 
- নানা বাড়িতে কি সবাই সারাজীবন থাকে মুসকান? তুমিও তো তোমার দাদা বাড়িতেই থাকো তাইনা? 
মুসকান আর কিছু বললো না। তার খুব খারাপ লাগছে মাহিরা চলে যাচ্ছে বলে। সে কিভাবে মাহিরাকে বুঝিয়ে বলবে সেটা? মাহিরা নিচে নেমে আসলে প্রত্যয় মাহিরাকে দেখে বলে ওঠে, আপু তোমার এতো দেরি লাগে রেডি হতে? আমাকে দেখো আমি কতো তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে চলে এসেছি। মাহিরা প্রত্যয়ের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙ্গচি দিয়ে বলে, 
- তুই তো বেডা জাত। তোর আর কি লাগে? একটা লুঙ্গি পরলেই হয়ে যায়। 
প্রত্যয় নাক ছিটকে বলে, ছি আপু লুঙ্গি? খুবই পঁচা। পরলেই খুলে যায়। প্রত্যয়ের কথা শুনে মাহিরা শব্দ করে হেসে দেয়। আয়ান মাত্রই বাড়িতে ঢুকেছিলো। মাহিরার হাসির শব্দ পেয়ে সে দরজায়ই থমকে যায়। তিনদিন পর সে মাহিরাকে এভাবে প্রাণ খুলে হাসতে দেখছে। মুসকান তার ভাইকে দরজায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলে ওঠে, আরে ভাইয়া তুমি কখন আসলে? 
মুসকানের কথায় মাহিরা দরজার দিকে তাকায়। আয়ানকে দেখা মাত্র মাহিরার হাসি মুখটা কালো হয়ে যায়। মাহিরা বুঝলো না এই লোক এই অসময়ে বাড়িতে এসেছে কেনো। এই লোকের তো গভীর রাতে বাড়িতে আশার কথা। মাহিরা আয়ানের থেকে চোখ নামিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে। আয়ান এসে ড্রয়িং রুমে দাড়ায়। মুসকানের পাশে কিছু সুটকেস দেখে জিঙ্গেস করে, এগুলো কার? 
মুসকান মুখ মলিন করে বলে, এগুলো মাহিরাদের সুটকেস। ওরা আজ চলে যাচ্ছে ওর দাদা বাড়িতে। আয়ান চমকে তাকায় মাহিরার দিকে। মাহিরা নতুন জামাকাপড় পরে সেজেগুজে দাঁড়িয়ে আছে। আয়ান এবার গম্ভীর গলায় বলে,
- তোকে এই বাড়ি থেকে যাওয়ার পারমিশন কে দিয়েছে? 
মাহিরা কিছু না বলে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে। প্রত্যয় বুঝলো না আয়ান কথাটা কাকে বলেছে। প্রত্যয় আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আপনি কি আমার আপুকে কিছু বলছেন? আয়ান আবারো মাহিরার দিকে তাকিয়ে জোরে বলে ওঠে, 
- আমার কথায় এন্সার দে মাহি। তোকে এ বাড়ি থেকে যাওয়ার পারমিশন কে দিয়েছে? 
মুসকান অবাক চোখে তাকায় তার ভাইয়ের দিকে।আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলছে দেখে প্রত্যয় বুঝতে পারে আয়ান মাহিরাকে ধমক দিয়েছে। প্রত্যয় তা দেখে বলে ওঠে, আপনি আমার আপুকে ধমক দিচ্ছেন কেনো? আয়ান এবার প্রত্যয়ের দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে বলে,
- আর একটা সাউন্ড করলে তোকে এখানেই গেড়ে দিবো। 
মাহিরা এবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বলে ওঠে, অসভ্য লোক। আপনি আমার ভাইকে বকছেন কেনো? আয়ান এবার দাঁতে দাঁত চেপে বলে, লাস্ট বার জিজ্ঞেস করছি মাহি। তোকে এই বাড়ি থেকে যাওয়ার পারমিশন কে দিয়েছে? মাহিরা বলে ওঠে, নানু দিয়েছে। তাতে আপনার সমস্যা কি? 
আয়ান আর কিছু না বলে চেঁচিয়ে ডাকতে থাকে আছিয়া বেগম কে। দাদী.. দাদী? কোথায় তুমি? বেরিয়ে আসো রুম থেকে, ফাস্ট। আয়ানের চেঁচামেচি শুনে যে যেখানে ছিলো সবাই বেরিয়ে আসে। আছিয়া বেগম পরীকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে আসেন রুম থেকে। মালিহা বেগমও ছুটে আসেন ছেলের চেঁচামেচিতে। অর্নব আয়ানের সাথেই এসেছে। তার ফোনে কল আসায় সে বাহিরে দাড়িয়ে কথা বলছিলো। আয়ানের চেঁচামেচি শুনে অর্নবও ছুটে আসে বাড়ির ভেতরে। 
আছিয়া বেগম এসে আয়ানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন, কি হয়েছে দাদু ভাই? এরকম চেঁচামেচি করছো কেনো? আয়ান আছিয়া বেগমের দিকে তাকিয়ে রেগে বলে, ফুপ্পিদের এই বাড়ি থেকে যাওয়ার পারমিশন কে দিয়েছো? আছিয়া বেগম আয়ানকে রেগে যেতে দেখে বলেন, আমি দিয়েছি। কেনো কি হয়েছে? আয়ান এবার হুংকার দিয়ে ওঠে, 
- দাদী তোমার সাহস কি করে হয় ফুপ্পিদের এই বাড়ি থেকে যাওয়ার পারমিশন দেওয়ার? কোন সাহসে তুমি ফুপ্পিদের এই বাড়ি থেকে যাওয়ার পারমিশন দিয়েছো? কাকে জিঙ্গেস করে দিয়েছো? 
আছিয়া বেগম হতভম্ব হন। বলেন, পরী ওর শশুর বাড়িতে যাবে। এতে আবার পারমিশন নেওয়ার কি আছে? আয়ান এবার জোর গলায় হুংকার দিয়ে ওঠে, 
- ফুপ্পি কোথাও যাবেনা দাদী। আই রিপিট, ফুপ্পি কোথাও যাবেনা। ফুপ্পি সারাজীবন এই বাড়িতে থাকবে। আর আমার এই কথা যদি তোমরা কেউ অমান্য করো? তাহলে আমি এই বাড়ি আগুন জ্বালিয়ে দিতে দু'বার ভাববো না। কথাটা মাথায় রেখো।
বলেই আয়ান হনহনিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে চলে যায়। উপস্থিত সবাই হা হয়ে চেয়ে থাকে আয়ানের যাওয়ার পানে। আর কেউ না জানলেও অর্নব জানে আয়ানের এই রাগের কারন কি। পরী বেগম ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকেন আয়ানের দিকে। আয়ানকে সে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে তিন বছর। মাঝখানে পঁচিশ বছর তার আয়ানের সাথে কোনো যোগাযোগ ছিলো না। 
আয়ান হয়তো এখন অনেক বড়ো হয়ে গিয়েছে তাই হয়তো তার কথা আয়ানের মনে নেই। কিন্তু আজ যখন আয়ান বলেছে, ফুপ্পি কোথাও যাবেনা। সারাজীবন এ বাড়িতে থাকবে। তখনই পরী বেগমের মন ভরে উঠেছে। আছিয়া বেগম নিজেও চান না পরী এ বাড়ি থেকে যাক। তাই তিনি এবার পরীকে বলেন, রুমে চলো পরী। তোমাদের কোথােও যেতে হবে না। তোমার ভাইরা এসে শুনলে আয়ানের থেকে আরো বেশি তারা এ বাড়ি মাথায় তুলবে। পরী বেগম আর কিছু না বলে চোখ মুছে চলে যান তার মায়ের সাথে। 
অর্নব এবার মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, রুমে যাও মাহিরা। তোমরা কোথাও যাচ্ছো না। মাহিরার রাগ লাগে আয়ানের উপর। কতো কষ্ট করে সে রাজি করিয়েছে। কিন্তু এই লোক এসে সবটা বিগড়ে দিলো। মাহিরা রেগে হনহনিয়ে চলে যায় তার রুমের দিকে। মুসকান খুশি হয় মাহিরা কোথাও না যাওয়ায়।
মাহিরা ফোঁস ফোঁস করতে করতে তার রুমে এসে দরজা আটকে দেয়। তার খুব রাগ লাগছে আয়ানের উপর। মাহিরা দরজা বন্ধ করে পেছন ঘোরা মাত্রই মাহিরার উপর কেউ ঝাপিয়ে পরে। হিংস মানবের মতো কেউ মাহিরার ঠোঁট জোরা আঁকড়ে ধরে শুষে নিতে থাকে। তার হাতের স্পর্শ ছুটাছুটি করতে থাকে মাহিরার পুরো শরীর জুরে। 
মাহিরা অনবরত কিল ঘুষি দিচ্ছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না। লোকটির শক্তির সাথে মাহিরা পেরে উঠছে না। লোকটি তার সমস্ত ঝাঁঝ মাহিরার ঠোঁটে মিটিয়ে মাহিরাকে ছেড়ে দেয়। ছেড়ে দুজনেই হাঁপিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নেয়। মাহিরা লোকটির দিকে তাকিয়ে রেগে বলে ওঠে, 
- আপনি একটা জানোয়ার। আপনার মতো জানোয়ার আমি আর কোথাও দেখিনি। 
আয়ান বাঁকা হেসে মাহিরার গাল দুটো আলতো হাতে ধরে মাহিরার ঠোঁটের তিল কৃত যায়গায় টুস করে এক চুমু খায়। মাহিরার চোখে তাকিয়ে বলে,
- না দেখলে দেখে নে। ভালো করে দেখে নে। তোর দেখায় যেনো কোনো অংশ বাদ না পরে, ওকে? 
মাহিরা নাক ছিটকায় আয়ানের এমন কথায়। আয়ান এবার হুট করে মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। নেশালো কন্ঠে বলে, গলার তিলটা দেখা মাহি চুমু খাবো। মাহিরা দু হাতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আয়ানকে। আয়ান দুকদম পেছনে সরে যায়। মাহিরা বলে ওঠে, 
- আমার সাথে একদম এসব নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না। আমি কিন্তু চিৎকার করবো। 
আয়ান মাহিরার দিকে একপা একপা করে এগোতে এগোতে বলে, তোর কি মনে হয়? আমি তোর চিৎকারকে ভয় পাই? দে, চিৎকার দে। মাহিরা পেছাতে পেছাতে বলে, আমার কাছে আসবেন না বলে দিচ্ছি? আয়ান এগিয়ে আসতে আসতে বলে, আসলে কি করবি? মাহিরার দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকে যায়। আয়ান এসে মাহিরাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে দাঁত কিরবির করে বলে,
- তুই কোন সাহসে আমাকে ছেড়ে এই বাড়ি থেকে যেতে চেয়েছিস? সাহস বেশি বেড়ে গিয়েছে তোর? 
মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, ছাড়ুন আমায় ব্যাথা পাচ্ছি। আয়ান মাহিরাকে আরো শক্ত করে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বলে, 
- ইউ নো? আমিও ব্যাথা পাচ্ছি। তোর থেকে হাজার গুন বেশি ব্যাথা আমি পাচ্ছি। এই তিনদিনে আমার ব্যাথার একাংশ তুই পাসনি মাহি। 
মাহিরা চেচিয়ে বলে, ছাড়ুন আমার লাগছে। আয়ান ছেড়ে দেয় মাহিরাকে। অসহায় গলায় বলে ওঠে, তুই কেন আমাকে বুঝিস না মাহি? মাহিরা রেগে বলে ওঠে, কি বুঝবো? আপনি একটা জানোয়ার সেটা? আয়ান মাহিরাকে আর কিছু না বলে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে পাশের দেয়ালে একটা পাঞ্চ মারে। আগের ক্ষতো সবে মাত্র সেড়ে উঠেছিলো। আয়ান আবারো ডান হাতে পাঞ্চ মারায় আগের ক্ষতগুলো ফেটে রক্ত গরগর করে বেড়িয়ে পরতে থাকে। 
মাহিরা তা দেখে চিৎকার দিয়ে ওঠে, আল্লাহ গো। আয়ান কিছু না বলে আরো একটা পাঞ্চ মারতে যাবে তার আগে মাহিরা এসে আয়ানের হাত ধরে ফেলে। অর্নব আয়ানের রুমে এসে আয়ানকে পায়নি। সে আয়ানের রুম থেকে চলে যেতে নিলে মাহিরার রুম থেকে চিৎকার শুনতে পায়। অর্নব ছুটে আসে মাহিরার রুমের কাছে। মাহিরা আয়ানের হাত ধরে বলে, আপনি এমন পাগলামি করছেন কেনো? আয়ান আবারো অসহায় গলায় বলে ওঠে,
- তুই কেন আমাকে বুঝিস না মাহি? বল না, বল?
মাহিরা আয়ানের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে আয়ানের হাত বেড়ে ফোটা ফোটা রক্ত ফ্লোরে গড়িয়ে পরছে। মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, বুঝবো বুঝবো। এখন থেকে বুঝবো। প্লিজ আর পাগলামি করবেন না। আয়ান কিছু না বলে শান্ত চোখে তাকিয়ে থাকে মাহিরার দিকে।
অর্নব এসে মাহিরার রুমের দরজা নক করে বলে, মাহিরা কি হয়েছে চিৎকার দিলে কেনো? মাহিরা তার দরজার দিকে তাকিয়ে আয়ানের হাত ধরে বলে, চলুন ডক্টরের কাছে। আয়ান কিছুই বললো না। মাহিরা আয়ানকে হাত ধরে দরজার সামনে নিয়ে এসে দরজা খুলে দেয়। 
অর্নব মাহিরার রুমে আয়ানকে দেখে অবাক হলো না। মাহিরা অর্নবের দিকে তাকিয়ে বলে, ভাইয়া ওনাকে তাড়াতাড়ি হসপিটালের নিয়ে যান প্লিজ। হাত থেকে রক্ত পরছে। অর্নব চমকর ওঠে তাকায় আয়ানের হাতের দিকে। দেখতে পায় আয়ানের হাত থেকে রক্ত বেয়ে বেয়ে পরছে। অর্নব তা দেখে তাড়াতাড়ি এসে আয়ানের রক্তার্ত হাত ধরে বলে, ও শিট কি করে হলো এটা? 
আয়ান কিছু না বলে শান্ত চোখে চেয়ে আছে মাহিরার দিকে। মাহিরা অর্নবকে বলে, আপনার ভাই দেয়ালে ঘুষি দিয়েছে। অর্নব আর কিছু না বলে আয়ানের হাত ধরে বলে, ভাইয়া চলো তাড়াতাড়ি হসপিটালে চলো। আয়ান বলে ওঠে, আমি কোথাও যাবোনা। মাহিরা এবার পাশ থেকে বলে ওঠে, প্লিজ আর পাগলামি করবেন না। অর্নব ভাইয়ার সাথে হসপিটালে যান। আয়ান এবার মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আমি কোথাও যাবোনা মাহি। 
অর্নব এবার বলে ওঠে, আচ্ছা হসপিটালে না গেলে তোমার রুমে চলো। আমি তোমার হাত বেন্ডেজ করে দিচ্ছি। আয়ান কিছু না বলে এখনো তাকিয়ে আছে মাহিরার দিকে। মাহিরা আয়ানের কোনো হেল দোল না দেখে বলে ওঠে, প্লিজ আপনার রুমে যান। অর্নব ভাইয়া আপনার হাতে বেন্ডেজ করে দিবে। আয়ান এবার তার অন্যহাতে দিয়ে মাহিরার হাত ধরে বলে, তুইও সাথে চল। মাহিরা আর কথা না বাড়িয়ে আয়ানের সাথে চলে যায়। অর্নব আয়ানের রক্তার্ত হাত নিয়ে হাঁটছে। এদিকে আয়ান হাঁটছে মাহিরার হাত ধরে।
অর্নব আয়ানের হাতে বেন্ডেজ করে দিচ্ছে। মাহিরা আয়ানের বিছানার পাশে বসে আছে। অর্নব বেন্ডেজ করতে করতে আয়ানকে বলে, আগের ঘা এখনো শুকায়নি। তার উপরে আবার নতুন ঘা। ভাইয়া তুমি একটু সাবধানে থাকবে কেমন? আয়ান গম্ভীর গলায় বলে, আমার রুম থেকে যা। অর্নব আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, ভাইয়া আমি তো..। সম্পুর্ন কথা শেষ করার আগেই আয়ান বলে ওঠে, রুম থেকে যেতে বলেছি তোকে। 
অর্নব দীর্ঘ শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। মাহিরাও উঠে অর্নবের পিছু পিছু যাওয়ার জন্য এক পা বাড়াতে নিলে আয়ান বলে ওঠে, তুমি কোথায় যাচ্ছো? মাহিরা আর অর্নব দুজনেই পেছন ঘুরে তাকায় খাটে হেলান দিয়ে বসে থাকা আয়ানের দিকে। মাহিরা বলে ওঠে, আমি তো রুমে যাচ্ছি। আয়ান রেগে ধমক দিয়ে বলে, 
- ইডিয়েট তোকে যেতে বলেছি আমি? 
মাহিরা কি বলবে খুজে পায়না। অর্নব এখনো দাঁড়িয়ে আছে দেখে আয়ান এবার অর্নবের দিকে তাকিয়ে বলে, তুই এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমার রুম থেকে যেতে বলেছি না? অর্নব মিটিমিটি হেসে আয়ানের রুম থেকে বেরিয়ে যায়। মাহিরা দাড়িয়ে থাকে সেখানেই। সে জানেনা আয়ান তাকে কেনো রুমে থাকতে বলেছে। আয়ান মাহিরাকে ভালো করে পরখ করে নমর গলায় ডাকে, মাহি..? 
মাহিরা চোখ তুলে তাকায়। আয়ান বলে ওঠে, কাছে এসো। মাহিরা সাই দাঁড়িয়ে থাকে। আয়ান এবার বলে ওঠে, আমি উঠলে কিন্তু তোমাকে পানিশমেন্ট দিবো। মাহিরা এবার চোখ বড়ো বড়ো করে তাকায় আয়ানের দিকে। সে তাড়াতাড়ি এসে আয়ানের পাশে দাড়ায়। মাহিরা কাছে আসতেই আয়ান এক টানে মাহিরাকে তার কোলে বসিয়ে দেয়। মাহিরা চেঁচিয়ে বলে ওঠে, অসভ্য লোক ছাড়ুন আমাকে। আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে বসে, 
- আমাকে মিস করেছো? 
মাহিরা সহসা বলে ওঠে, ওমা আমি আপনাকে মিস করতে যাবো কোন দুঃখে? আয়ান আর কিছু না বলে হুট করে মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। জামার উপর দিয়ে সে মাহিরা গলা স্পর্শ করতে না পেরে বলে, কিন্তু আমি মিস করেছি। খুব মিস করেছি তোমায়। খুব খুব খুউব..। মাহিরা আয়ানকে ঝাড়া মেরে সড়িয়ে দেয় নিজের থেকে। রেগে গিয়ে বলে, অসভ্য লোক। আবারো অসভ্যতামো করছেন কেনো? আয়ান নেশালো চোখে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, 
- অসভ্য লোক তো অসভ্যতামোই করে মাহি। আমি ভালো লোক হলে না হয় ভালো কিছু করতাম। আমি তো অসভ্য লোক, তাইনা?
মাহিরা থতমত খেয়ে যায়। সে নিজের কথায় নিজেই ফেসে গিয়েছে। এই লোকের কথার পেঁচ অনেক। আয়ান আবারো আবদার করে বসে, গলার তিলটা দেখা না মাহি। বেশি না একটা চুমু খাবো শুধু। মাহিরা চোখ বড় বড় করে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, নির্লজ্জ বেহায়া লোক। সেদিন কামড় দিয়ে শান্তি হয়নি? আয়ান বাঁকা হেসে বলে, নো। বিশ্বাস কর একটুও শান্তি হয়নি। মাহিরা বলে ওঠে, আমাকে ব্যাথা দিয়ে আপনি শান্তি পান তাই না? আয়ান এবার বলে ওঠে, 
- ওই দিন ব্যাথা দিয়েছি আজ আদর করে পুষিয়ে দিবো। 
মাহিরা কি বলবে নিজের ভাষা হারিয়ে ফেলে। এই পাগল লোককে কি বলবে খুজে পায়না। আয়ান আবারো মাহিরাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এসে মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। বাচ্চাদের মতে আবদার করে বলে, 
- একটা চুমু খেতে দে না মাহি। একটাই তো..। 
মাহিরা থমকে যায়। এই লোক এতো সুন্দর করে বাচ্চাদের মতো আবদার করেছে যে মাহিরা কিছু বলতে পারলো না। আয়ান মাহিরাকে নিরব হয়ে যেতে দেখে মৃদু ঠোঁট বাকায়। পরপর হাত বাড়িয়ে মাহিরার জামার চেন খানিকটা খুলে দেয়। 
মাহিরার শরীরে কাটা দিয়ে ওঠে। আয়ান এবার মাহিরার খালি গলায় তিল কৃত যায়গায় চুমু খায়। মাহিরার শরীর শিরশির করে উঠে। আয়ান একটা নয়, অনবরত চুমু খাচ্ছে মাহিরা গলায়। মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, আপনি না বললেন একটা চুমু খাবেন? 
মাহিরার কথায় আয়ান দুষ্টু হাসে। চুমু খেতে খেতে বলে, আমি এতো ছোটোলোক না মাহি। একটা চুমুতে আমার পোষাবে না। মাহিরা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে, ছাড়ুন আমাকে। আয়ান মাহিরাকে চাপ্টে ধরে বলে, নো। তিন দিনের চুমু জমে আছে আমার। আমাকে চুমু খেতে দে। 
মাহিরা মোচড়া মুচড়ি শুরু করে দেয়। আয়ান তা দেখে অসহায় গলায় বলে ওঠে, ডিস্টার্ব করিস না বেইবি। প্লিজ একটু চুমু খেতে দে। মাহিরা আয়ানকে নিজের থেকে সরিয়ে দিতে চেয়ে বলে, কেউ এসে পরবে প্লিজ ছাড়ুন। আয়ান চুমু দিতে দিতে বলে, আমার রুমে কেউ আসবে না। 
এমন সময় আয়ানের রুমেন দরজায় নক পরে। মাহিরা ভয়ে কেঁপে ওঠে। আয়ানের কোনো হেল দোল নেই। মাহিরা আয়ানের নিজের থেকে ছাড়াতে চেয়ে বলে, অসভ্য লোক। কেউ এসে পরেছে ছাড়ুন। আয়ান মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে রেখেই বলে, আসুক। 
মুসকান তার ভাইয়ের জন্য কফি নিয়ে এসেছে। মাহিলা বেগম ছেলের মাথা গরম দেখে কফি পাঠিয়েছে। মুসকান আয়ানের রুম থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবার ডেকে বলে, ভাইয়া রুমে আসবো? মুসকানের গলা পেয়ে মাহিরার আরো বেশি ভয় বেড়ে যায়। মাহিরা আয়ানকে বলে, মুসকান দেখে ফেলবে প্লিজ ছাড়ুন। মাহিরার নড়াচড়াতে বিরক্ত হয়ে আয়ান মুখ তুলে দরজার দিকে তাকিয়ে বলে, এখান থেকে যা মুসকান। 
বলেই আয়ান আবারো মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। মাহিরার গলায় হাজারো চুমু একে দিতে থাকে। মুসকান তার ভাইয়ের কন্ঠ পেয়ে বলে, ভাইয়া কফি এনেছি তোমার জন্য। আয়ান মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে রেখে বলে ওঠে, নো নিড। মুসকান আবারো বলে, মা তোমাকে এই কফিটা খেতে বলেছে। আয়ানের মেজাজ খারাপ হয়। আয়ান মাহিরার গলা থেকে মুখ উঠিয়ে দাঁত চিবিয়ে বলে, 
- এখান থেকে যেতে বলেছি তোকে। আমি আসলে কিন্তু তোকে ওখানেই পুঁতে ফেলবো। 
মুসকান ভাইয়ের কথা শুনে আর কিছু না বলে চলে যায়। আয়ান আবারো মাহিরার গলায় মুখ ডুবাতে নিলে মাহিরা সজোড়ে আয়ানকে এক ধাক্কা মারে। আয়ান গিয়ে পেছনে খাটের বার্ডের সাথে বাড়ি খায়। মাথায় বাড়ি খেয়ে আয়ান ব্যাথায় চোখ মুখ খিঁচে নেয়। ধমক দিয়ে বলে, 
- ইডিয়েট এটা কি করলি? 
মাহিরা নিজেও হতভম্ব হয় নিজের এমন কান্ডে। মাহিরা তাড়াতাড়ি আয়ানের দিকে এগিয়ে এসে বলে, সরি..সরি আমি বুঝতে পারিনি। বেশি ব্যাথা পেয়েছেন? আয়ান চোখ মুখ খিঁচে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, তোর আর কবে কমন সেন্স হবে বেয়াদব। 
মাহিরা অপরাধের নেয় বলে, সরি বললাম তো। দেখি আমি কোথায় লেগেছে। বেশি ব্যাথা পেয়েছেন? আয়ান মাহিরাকে কিছু না বলে বিছানা থেকে নেমে যায়। মাহিরা বলে ওঠে, কোথায় যাচ্ছেন? দেখতে দিন আমাকে। আয়ান কিছু না বলে হনহনিয়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়। মাহিরা চেয়ে থাকে আয়ানের পানে। এমনিতেই এই লোক হাতে ব্যাথা পেয়েছে। তার উপর আবার মাথায়ও লেগেছে। মাহিরার মুখ কালো হয়ে যায়।
আয়ান কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। বেডে তাকিয়ে দেখে মাহিরা পা ঝুলিয়ে বসে আছে। আয়ান এবার তার রুমের দরজার দিকে তাকায়। দরজা চাপানো। মাহিরা তার রুমে এখনো বসে আছে দেখে আয়ান ভ্রু কুঁচকায়। সে তো ভেবে ছিলো এই মেয়ে এতোক্ষণে চলে গিয়েছে। আয়ান বাঁকা হেসে এবার মাহিরার দিকে এগিয়ে যায়। মাহিরা খাটে পা ঝুলিয়ে বসে ছিলো। 
আয়ানকে তার সামনে দেখে চোখ তুলে তাকায়। দেখতে পায় আয়ানের চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছে। মাহিরা বুঝলো না এই লোক গোসল করেছে নাকি মাথা ধুয়েছে। মাহিরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়ানের ভেজা ঠোঁট দুটো মাহিরার নরম ঠোঁটে জোড়া ছুয়ে দেয়। মাহিরার পুরো শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ হয়। মাহিরা ঠান্ডা ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে নেয়। অনুভব করে আয়ানের ভেজা ঠোঁটের স্পর্শ। 
আয়ানের ভেজা চুল থেকে গড়িয়ে পরে কয়েক ফোটা পানি তার মুখের উপর। এ যেনো এক অদ্ভুত অনুভূতি হলো মাহিরার। সে বাঁধা দিলো না আজ। আয়ান মাহিরার ঠোঁটে শক্ত একটা চুমু খেয়ে মাহিরাকে ছেড়ে দেয়। বলে, ইয়োর পানিশমেন্ট। মাহিরা চোখ মেলে তাকায় আয়ানের দিকে। বিরবির করে অসভ্য। আয়ান মৃদু ঠোঁট বাকায়। বলে, তোমার মুখে অসভ্য শুনলে আরো বেশি অসভ্যতামো করতে মন চায় মাহি। আরেকটু অসভ্যতামো করবো? 
মাহিরা চোখ বড়ো বড়ো করে তাকায় আয়ানের দিকে। সে আর কিছু না বলে বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে হাটা দেয়। আয়ান তা দেখে খপ করে মাহিরার হাত ধরে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসে। মাহিরা চেঁচিয়ে বলে ওঠে, অসভ্য লোক ছাড়ুন আমাকে। আবার ধরেছেন কেনো? আয়ান কিছু না বলে মাহিরার পেছনে হাত দিয়ে জামার চেন আটকে দেয়। মাহিরা কিছুটা কেঁপে উঠে। 
আয়ান মাহিরার জামার চেন লাগিয়ে বলে ওঠে, এভাবেই চলে গেলে তোমার মানুষজন তখন দেখে ফেলতো না? মাহিরা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে। সে বুঝতে পারে আয়ান তাকে ঠেস মেরে কথাটা বলেছে। তার তো মনেই ছিলো না এটা। আয়ান দাঁড়িয়ে থেকে দেখলো মাহিরার লজ্জা মাথা মুখখানা। পরপর মাহিরার গাল ধরে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, তুই আর এই কলার দেয়া জামা পরবি না মাহি। আমার অসুবিধা হয়। 
মাহিরা বলে ওঠে, কিসের অসুবিধা? আয়ান বলে ওঠে, আমি তোর গলায় কিস করতে পারিনা। কলার বিহিন জামা পরবি এখন থেকে। যেটাতে গলা দেখা যায়। মাহি বলে ওঠে, অসভ্য লোক।আমার কলার বিহীন কোনো জামা নেই। সব জামা কলার দেয়া। 
আয়ান বলে ওঠে, তাহলে আমি তোকে অনেক গুলো কলার বিহীন জামা কিনে দিবো। তুই সেগুলো পরবি ওকে? মাহিরা হ্যা না কিছুই বললো না। আয়ান মাহিরাকে কিছু বলতে না দেখে বলে, রুমে গিয়ে রেডি হ। বলেই আয়ান মাহিরাকে ছেড়ে দুরে সরে দাঁড়ায়। মাহিরা ভ্রু কুঁচকে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, রেডি হবো কোন দুঃখে? 
আয়ান বিছানা থেকে তার ফোন নিতে নিতে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, আমরা বের হবো। ফাস্ট রেডি হয়ে আয়। মাহিরা সাথে সাথে বলে দেয়, আমি আপনার সাথে কোথাও যাবোনা। আয়ান হেঁটে আবারো মাহিরার সামনে এসে দাড়ায়। মাহিরার দিকে তাকিয়ে দাঁত চিবিয়ে বলে, 
- তো কার সাথে যাবি? তোর ওই ইশান ভাইয়ের সাথে? 
মাহিরা চমকে উঠে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, এখানে ইশান ভাই আসলো কোথ থেকে? আয়ান কিরবির করতে করতে বলে, 
- আমি আজ টাইম মতো না আসলে তুই তো এতোক্ষণে তোর দাদা বাড়ি গিয়ে ইশানের সাথে ঘুরতে বেরিয়ে যেতি। কি ভেবেছিস আমি কিছু জানিনা? 
মাহিরা আবারো চমকে তাকায় আয়ানের দিকে। মাহিরা তখন রেডি হতে উপরে এসে ইশানের সাথে ফোনে কথা বলেছিলো। ইশান তখন বলেছিলো মাহিরা আসলে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে। কিন্তু এই কথা আয়ান জানলো কিভাবে? মাহিরা অবাক চোখে তাকিয়ে আয়ানকে জিজ্ঞেস করে, 
- আপনি কি করে জানলেন? ইশান ভাই আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে? 
আয়ান মাহিরার মুখে আবারো ইশানের নাম শুনে দাঁতে দাত চেপে বলে, 
- তুই কি ভেবেছিস? তুই এই বাড়ি থেকে চলে যাবি আর আমি কিছু টের পাবো না? তোর প্রতিটা নিশ্বাস, তোর প্রতিটা পদক্ষেপ আমার জানা আছে মাহি। 
মাহিরা থতমত খেয়ে যায়। সে আয়ানকে আর কিছু বললো না। ভাবতে থাকলো আয়ান কিভাবে জানলো একথা। আয়ান আবারো বলে, রুমে গিয়ে সুন্দর মতো রেডি হবি। দ্বিতীয় বার যেনো বলতে না হয়। মাহিরা ভাবছে থাকে, আয়ান তো বাড়িতেও ছিলো না। তাহলে কিভাবে জানলো একথা? ভাবতে ভাবতে মাহিরা বেড়িয়ে যায় আয়ানের রুম থেকে।
__________
মাহিরা রেডি হয়ে নিচে নামতেই মালিহা বেগমের সাথে তার দেখা হয়। মালিহা বেগম মাহিরাকে দেখে জিজ্ঞেস করে বসেন, কোথাও যাচ্ছো নাকি মাহিরা? মাহিরা ছোট করে বলে, জ্বি মামুনি। মালিহা বেগম বলেন, একা কোথাও যেয়ো না। তোমার মামা শুনলে রাগ করবেন। মাহিরা মিনমিনিয়ে বলে, একা যাচ্ছি না তো মামুনি। 
মালিহা বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকান মাহিরার দিকে। জিজ্ঞেস করেন, তাহলে কার সাথে যাচ্ছো? মাহিরা কিছু বলার আগেই আয়ান জবাব দেয়, আমার সাথে। মালিহা বেগম ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় মাহিরার পেছনে। আয়ান সিড়ি বেয়ে নিচে নামছে। নিচে নেমে মাহিরার পাশে দাড়িয়ে বলে, চল মাহি। মাহিরা আর কিছু না বলে, আয়ানের সাথে চলে যায়। মালিহা বেগম অবাক চোখে তাকিয়ে থাকেন ছেলের দিকে। আছিয়া বেগম ড্রয়িং রুমে বসে পান খাচ্ছিলেন। আয়ানকে মাহিরার সাথে এভাবে বেরোতে দেখে তিনি ভ্রু কুঁচকান। 
আয়ান মাহিরাকে নিয়ে শপিং মলে এসেছে। মাহিরার হাত ধরে সে বেছে বেছে মাহিরার জন্য অনেকগুলো জামা কিনছে। মাহিরা কলার দেওয়া জামা পরে বলে সে এতোদিন মাহিরার জন্য তেমন জামাই কিনতো। কিন্তু আজ সে বেছে বেছে সব কলার বিহিন জামা কিনছে। 
মাহিরা আয়ানের পাশে হাটছে। আয়ান তাকে এসেই একটা কলার বিহিন জামা ধরিয়ে দিয়েছে। মাহিরার না পারতে সেই জামা ট্রায়াল রুমে গিয়ে পরতে হয়েছে। আয়ান মাহিরার হাত ধরে রেখেছে। মাহিরা এবার বলে ওঠে, প্লিজ হাতটা ছাড়ুন। আশে পাশে কতো মানুষ আছে। তারা দেখলে কি ভাববে? 
আয়ান হাটতে হাঁটতে গম্ভীর গলায় বলে, তোকে আশে পাশে তাকাতে কে বলেছে? মাহিরা বলে ওঠে, চোখ থাকলে আশেপাশে চোখ যাবেই। আমি কি অন্ধ যে চোখ বুঝে থাকবো? আয়ান বলে ওঠে, 
- বেশি আশেপাশে চোখ দিসনা। নাহলে তোর চোখ দুটো আমি অন্ধ করে ফেলতে বাধ্য হবো।
মাহিরা চমকে উঠে তাকায় আয়ানের দিকে। এই লোক তাকে অন্ধ করে দিতে চাইছে? এই লোক কি সত্যিই তার চোখ দুটো অন্ধ করে দিবে নাকি? অন্ধ করে দিলে মাহিরা কি করে তার চোখ দিয়ে দেখবে? মাহিরা বলে ওঠে, বজ্জাত লোক। আমার চোখ অন্ধ করে দিলে আমি কিভাবে দেখবো। আয়ান বলে ওঠে, 
- তোর দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। যে চোখ আমি ব্যতিত অন্য কাউকে দেখে সে চোখের কোনো প্রয়োজন নেই। 
মাহিরা বিরবির করে, খাড়ুস একটা। ঘুরে ফিরে আয়ান মাহিরার জন্য অনেক গুলো ড্রেস কিনেছে। আয়ান বিলকাউন্টারে এসে বিল দিতে গেলে হঠাৎ তার চোখে একটা ব্লাক কালারের শাড়ি আঁটকে যায়। একটা ডলের গায়ে শাড়িটা পরানো। ব্লাক শিফন শাড়িটির গায়ে স্টোন ওয়ার্ক করা। 
আয়ান ডলের গায়ে শাড়িটি দেখা মাত্র সে ঝড়ের বেগে তাকায় তার পাশে থাকা জীবন্ত ডলের দিকে। আয়ান মুচকি হেসে আর কিছু না ভেবে সেলসম্যান কে জিঙ্গেস করলো এই শাড়িটি ইনটেক হবে কিনা। সেলসম্যান সম্মতি জানায় হবে। আয়ান ব্লাক শাড়িটির সাথে আরো একটা লাল কালারের শাড়ি পছন্দ করে সেল্সম্যানকে বলে দুটো শাড়ি ইনটেক তাড়াতাড়ি প্যাক করে দিতে। 
মাহিরা হা হয়ে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক শাড়ি কার জন্য কিনছে মাহিরা বুঝলো না। মাহিরা পাশ থেকে বলে ওঠে, আপনি শাড়ি কিনছেন কার জন্য? আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে, আই ডোন্ট নো। বলেই আয়ান শাড়ির ব্যাগ দুটো হাতে নিয়ে মাহিরার হাত ধরে হাঁটা শুরু করে। মাহিরা তব্দা খেয়ে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক শাড়ি কিনলো কার জন্য?
_________
আয়ান গাড়ি চালাচ্ছে। মাহিরা হা হয়ে তাকিয়ে আছে আয়ানের দিকে। এই লোককে সে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে শাড়ির কথা। কিন্তু এই লোক এখনো বলেনি সে শাড়ি কার জন্য কিনেছে। মাহিরা আবারো প্রশ্ন করে, আপনি শাড়ি কার জন্য কিনেছেন? একই প্রশ্ন বারবার করায় আয়ান বিরক্ত হয় মাহিরার উপর। বিরক্ত হয়ে বলে, 
- আমার ওয়াইফের জন্য।
আয়ানের মুখে ওয়াইফ কথাটা শুনে মাহিরার বুকটা ধুক করে উঠে। মাহিরার চোখ দুটো আয়ানের দিকে পলক বিহীন তাকিয়ে থাকে। এই লোক বিবাহিত? মাহিরা আবারো প্রশ্ন করে বসে, আপনি বিবাহিত? আয়ান সহসা জবাব দেয়, হ্যা। মাহিরা বুক আবারো ধুক করে উঠলো।সে এবার আয়ানের থেকে চোখ সরিয়ে নেয়। বলে, গাড়ি থামান।
আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায় মাহিরার দিকে। এই মেয়ে হঠাৎ গাড়ি থামাতে বলছে কেনো আয়ান বুঝলো না। আয়ান বলে ওঠে, হোয়াট হেপেন্ট মাহি? মাহিরা আবারো বলে ওঠে, আমি গাড়ি থামাতে বলেছি। আয়ান বলে ওঠে, এই নির্জন যায়গায় গাড়ি থামানো যাবেনা। মাহিরা এবার চেঁচিয়ে বলে ওঠে, 
- আপনি গাড়ি থামাবেন নাকি আমি চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে যাবো। 
আয়ান বিস্ময়ের চোখে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, হোয়াট? মাহিরা আর কিছু না বলে সিডবেল্ড খুলে ফেলে। পরপর হাত বাড়িয়ে গাড়ির দরজাও খুলে ফেলে।আয়ান সাথে সাথে গাড়ির ব্রেক কষে। গাড়ি থামতেই মাহিরা কোনো কথা ছাড়াই গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড় দেয়। আয়ান হা হয়ে চেয়ে থাকে মাহিরার দিকে। কি থেকে কি হয়ে গেলো আয়ান যেনো কিছুই বুঝলো না। 
আয়ান আর কিছু না ভেবে নিজেও গাড়ি থেকে বেরিয়ে মাহিরার পেছু ছুটতে থাকে। মাহিরা অন্ধকারে দৌড়াচ্ছে। লেম্পপোস্টের আলো ছাড়া রাস্তায় আর কোনো আলো নেই। আয়ান মাহিরার পিছু ছুটতে ছুটতে চেঁচিয়ে বলে, মাহি দারা। মাহিরা শুনলো না আয়ানের কথা। সে ছুটছে তার মতো। আয়ান আবারো চেঁচিয়ে বলে, দারাতে বলেছি তোকে। আমি ধরতে পারলে কিন্তু কাঁচাই চিবিয়ে খাবো। 
মাহিরা এবারো থামলো না। সে ছুঁটছে যতোদূর পথ যায়। আয়ানের মাথায় এবার রক্ত উঠে যায়। আয়ান এবার আরো জোড়ে ছুটে এসে মাহিরাকে খপ করে ধরে ফেলে। মাহিরা আয়ানের থেকে নিজেকে ছাড়াতে চেয়ে বলে, অসভ্য লোক ছাড়ুন আমাকে। আয়ান ধমক দিয়ে বলে, ইডিয়েট তুই কোন সাহসে গাড়ি থেকে বের হয়ে এভাবে ছুঁটছিস? এক থাপ্পড়ে তোর সব দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব। 
মাহিরা নিজের হাত ছাড়ানোর জন্য মোচড়ামুচড়ি করে বলে, অসভ্য লোক হাত ছাড়ুন আমার। আপনি বিবাহিত হয়ে অন্য মেয়ের হাত ধরেছেন লজ্জা করে না? আয়ান হা হয়ে চেয়ে থাকে মাহিরার দিকে। বলে, বাড়াবাড়ি করিস না মাহি। গাড়িতে চল। বলেই আয়ান মাহিরার হাত ধরে হাঁটা দিলে মাহিরা থেমে যায়। আয়ানের হাত নিজের থেকে ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে দিয়ে বলে, 
- আমি কোনো বিবাহিত পুরুষের সাথে এক গাড়িতে যাবো না। 
বলেই মাহিরা উল্টো ঘুড়ে হাঁটা দেয়। আয়ান তব্দা খেয়ে চেয়ে থাকে মাহিরার দিকে। সে বিবাহিত বলেছে বলে এই মেয়ে এমন করছে? আয়ান বাঁকা হাসে। পরপর কিছু না বলে মাহিরার পিছু পিছু গিয়ে আবারো মাহিরাকে খপ করে ধরে ফেলে। মাহিরাকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। মাহিরা আয়ানকে কিল ঘুষি দিয়ে নিজের থেকে ছাড়াতে চেয়ে বলে, অসভ্য লোক। বউ রেখে অন্য মেয়ের সাথে অসভ্যতামো করতে লজ্জা করে না? আয়ান মাহিরা গলায় মুখ ডুবানো অবস্থায় বলে, নো। মাহিরা আবারো আয়ানকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে ছাড়াতে চেয়ে বলে, 
- ছাড়ুন নির্লজ্জ লোক। বিবাহিত হয়ে অন্য মেয়ের সাথে পরকীয়া করছেন কেনো? বেহায়া লোক একটা। 
মাহিরা আয়ানকে নিজের থেকে ছাড়াতে পারলো না। আয়ান মাহিরার গলায় মুখ রেখে বলে, 
- তোর সাথে এমন পরকীয়া আমি বারবার হাজারবার করতে রাজি আছি মাহি। 
মাহিরার খুব রাগ লাগলো আয়ানের উপর। সে সমস্ত শক্তি দিয়ে আয়ানকে ধাক্কা দিয়ে দুরে সরিয়ে দেয়।আয়ান সাই দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু সে দু কদম পিছিয়ে যায়। মাহিরা রেগে আয়ানকে বলে ওঠে, অসভ্য লোক। বউ রেখে বাহিরে অন্য মেয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন? কয়টা লাগে আপনার?
আয়ান নেশালো চোখে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, আমার দুইটাই লাগবে। বউও লাগবে। আর তোকেও লাগবে। বলেই আয়ান আবারো মাহিরার কাছে এসে মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। মাহিরা হাত পা ছুটাছুটি করে বলে, ছাড়ুন আমাকে আমি কিন্তু চিৎকার করবো। আয়ান নেশালো কন্ঠে বলে, ওকে চিৎকার কর। মানুষজন এসে তোকে আর আমাকে এভাবে রাস্তায় দেখলে নিশ্চয়ই বিয়ে পরিয়ে দিবে। 
মাহিরার ঘিনঘিন লাগছে। সে বলে ওঠে, 
- একটা বিয়ে করেছেন তাতে শান্তি হয়নি? আর কয়টা বিয়ে করতে চান আপনি? 
আয়ান মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে বাঁকা হেসে বলে, 
- চারটা বিয়ে করতে চাই। একটা করলে আমার পোষাবে না। 
মাহিরা কি বলবে এই নির্লজ্জ লোককে ভেবে পায়না। এমন সময় আয়ানের ফোন বেজে ওঠে। আয়ান বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে, ধুর বাল। ফোনটাও বাজার আর সময় পেলো না? পরপর সে মাহিরার গলা থেকে মুখ উঠিয়ে পকেটে থেকে ফোন বের করে কানে ধরে চিবিয়ে বলে,
- কুত্তার বাচ্চা যখন তখন কল দিবি না বলেছি না? অসময়ে কল দিলি কেন? আরেকবার কল দিলে এক থাপ্পড় দিয়ে তোর সব দাঁত ফেলে দিবো ফাহিম।
ফাহিম থতমত খেয়ে যায়। বলে, স্যার রেজওয়ান বাংলাদেশে ফিরেছে। রেজওয়ানের কথা শোনা মাত্র আয়ান মাহিরা দিকে তাকায়। মাহিরাকে বলে, 
- এখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবি মাহি। এখান থেকে এক পা নড়লে তোর পা দুটো কেটে তারপর তোকে বাসায় নিয়ে যাবো। 
মাহিরা চোখ বড় বড় করে তাকায় আয়ানের দিকে। আয়ান আর কিছু না বলে মাহিরার থেকে কিছুটা দুরে গিয়ে ফোনে কথা বলে। মাহিরা দাঁড়িয়ে থাকে সেখানেই। সে দুরে দাড়িয়ে থেকে তাকিয়ে থাকে কালো শার্ট পড়া এক সুদর্শন পুরুষের দিকে। এই লোকের সব কিছুই সুদর্শন। মানুষকে আকৃষ্ট করার মতো। 
এই যে লোকটি ল্যাম্প পোস্টের আলোয় দাঁড়িয়ে থেকে কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। রাতের হালকা আলোতে এভাবে দেখতেও লোকটিকে বেশ সুদর্শন লাগলো মাহিরার কাছে। লোকটি বিবাহিত ভাবতেই মাহিরার চোখ ঘোলাতে হয়ে আসে। মাহিরা চোখ নামিয়ে নেয় লোকটির থেকে।
এমন সময় হঠাৎ একটা কালো জিপ এসে মাহিরার সামনে দাঁড়ায়। দুজন লোক বেড়িয়ে আসে গাড়ির ভেতর থেকে। লোকগুলোর মাথা থেকে পা পর্যন্ত সব কালোতে মোড়ানো। মাহিরা হকচকিয়ে যায় লোক দুটোকে দেখে। লোকদুটো কোনো কথা ছাড়াই মাহিরার হাত ধরে টানতে টানতে মাহিরাকে গাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। মাহিরা ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে, খাড়ুস লোক..?
মাহিরার চিৎকারে আয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় মাহিরার দিকে। দেখতে পায় দুজন লোক মাহিরাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে উঠাচ্ছে। লোকদুটো মাহিরার চিৎকার শুনে তাড়াতাড়ি মাহিরার মুখে রুমাল ধরে। পরক্ষণে মাহিরার চিৎকার থেমে যায়। আয়ান নিজেও চিৎকার দিয়ে ওঠে, মাহি..?
আয়ান ছুটে আসতে থাকে মাহিরার দিকে। আয়ান আসার আগেই লোকদুটো মাহিরাকে গাড়িতে উঠিয়ে চলে যেতে থাকে। আয়ান ছুটতে থাকে গাড়ির পেছনে। চেচিয়ে উঠে, কুত্তার বাচ্চা গাড়ি থামা। কিন্তু গাড়ি থামলো না।গাড়িটি আয়ানকে পেছনে ফেলে চলে যায়। 
আয়ান বুঝলো এভাবে ছুটে সে কখনো গাড়িটি কে ধরতে পারবে না। আয়ান এবার ছুটে চলে যায় তার গাড়ির কাছে। তার গাড়ি নিয়ে আবারো ছুটতে থাকে সেই কালো জিপটি যেদিকে গিয়েছে সেদিকে। আয়ান গাড়ি নিয়ে আসতে না আসতে জিপটি অন্ধকারে তলিয়ে যায়। আয়ান দিক বেদিক হয়ে খুজতে থাকে সেই কলো জিপটিকে।
চলবে..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন