ফন্ট সাইজ:
থিম:
এদেখা শেষ না হোক

৩৪তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার সাথী

#এ_দেখা_শেষ_না_হোক #পর্ব - (৩৪)

#writer_sumaiya_akter_sathi 
--
মাহিরা অনেকক্ষণ যাবত বালুতে বসে বসে বালু দিয়ে সমুদ্রের কিনারায় একটা ছোটো ঘর বানিয়েছে। ঘরটা দেখে মাহিরা খুশি হয়ে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, খাড়ুস লোক দেখুন আমি কি সুন্দর একটা ঘর বানিয়েছি। আয়ান দাঁড়িয়ে থেকে এতোক্ষণ মাহিরার পাগলামি দেখছিলো। মাহিরা বলায় সে এবার তাকায় ঘরটির দিকে। ঘরটি দেখতে কিছুটা লম্বাটে। সমুদ্রের পাড়ে বালু দিয়ে যে ঘর গুলো বানানো হয় ঠিক তেমনটাই। 
মাহিরা খুশি হয়ে আবারো কিছুটা বালু ঘরের উপরে দিতে নিলে এমন সময় এক ঢেউ এসে মাহিরার ঘড় ভেঙ্গে চুরে লন্ডভন্ড করে দিয়ে চলে যায়। মাহিরা তা দেখে কাঁদো কাঁদো মুখ করে আয়ানকে বলে, খাড়ুস লোক আমার ঘরটা তো সমুদ্র ভেঙ্গে নিয়ে গেলো। আয়ান মুচকি হেসে মাহিরার পাশে বালুতে বসে পরে। পরপর মাহিরার ভেঙ্গে যাওয়া ঘড়ের উপরে বালু দিয়ে আবারো ঘরটা বানাতে বানাতে বলে, 
- আমার সাথে ঘর বানালে কোনোদিন ভাঙ্গবে না। 
মাহিরা খুশি হয়ে আয়ানের সাথে সাথে নিজেও ঘরের উপরে বালু দিয়ে বলে, সত্যি বলছেন? আয়ান মাহিরার সাথে বালু দিয়ে ঘর বানাতে বানাতে বলে, হুম। বিশ্বাস না হলে নিজেই দেখে নে। দুজনে এক সাথে বালু দিয়েছে বলে ঘড়টা তাড়াতাড়ি বানানো হয়ে গিয়েছে। এমন সময় আবারো এক ঢেউ আসে। মাহিরা দেখলো ঢেউটি ঘড়ের পাশ ছুয়ে আবারো চলে গিয়েছে। মাহিরা তা দেখে হা হয়ে থাকে। খুশি হয়ে আয়ানকে বলে, বাহ খাড়ুস লোক। আপনার হাতে তো জাদু আছে। আয়ান মুচকি হেসে মাহিরাকে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। পরপর মাহিরার হাত ধরে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলে, 
- জাদু আছে কিনা জানিনা। তবে ওপর ওয়ালা জুটি বানাতে কখনো ভুল করেন না।
_______________
সন্ধ্যা নেমে আসে ধরনীতে। মাহিরা আর আয়ান এখনো হাটছে সমুদ্রর পাড়ে। হাঁটতে হাঁটতে তারা কতোদুরে চলে এসেছে নিজেরাও জানেনা। মাহিরা চারপাশে অন্ধকার দেখে আয়ানকে বলে, খাড়ুস লোক বাসায় যাবেন না? আয়ান মাহিরার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে গম্ভীর গলায় বলে, নো। মাহিরা ভ্রু কুচকে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, আপনি কি এখানে থাকার প্ল্যান করছেন নাকি? আয়ান বাঁকা হেসে বলে, কিভাবে বুঝলি? মাহিরা চোখ বড়ো বড়ো করে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, আপনি কি পাগল? 
আয়ান কিছুই বলেনা। মাহিরা আবারো বলে, আমি বাড়ি যাবো। প্লিজ আমাকে বাড়ি নিয়ে চলুন। আয়ান বলে ওঠে, আজ আমরা বাড়িতে যাচ্ছি না মাহি। তোকে নিয়ে আজ এখানেই থাকবো। মাহিরা আয়ানের কথায় ফোড়ন কেঁটে বলে, না না আমি বাড়ি যাবো। সবাই কতো টেনশন করছে বাড়িতে। আপনি তো বাড়ির কারো সাথে আমাকে কথাও বলতে দেননি। প্লিজ বাড়ি নিয়ে চলুন আমায়। আয়ানের বিরক্ত হয়ে বলে, এতো বাড়ি বাড়ি করছিস কেন? আমি যেখানে থাকবো সেখানেই তোর বাড়ি। মাহিরা বলে ওঠে, এ্যাহ..? আয়ান আর কিছু না বলে মাহিরাকে নিয়ে চলে যায়। 
মাহিরা হোটেল রুমে এসে ফ্রেস হয়ে নেয়। এই ঘাড়ত্যাড়া লোকের জন্য তাদের আজ এখানেই থাকতে হচ্ছে। বিচের পাশে একটা রুমের ভেতরে দুইটা রুম। সাথে মাঝখানে বড় একটা ড্রয়িং রুমও আছে। আয়ান পাশের রুমে। মাহিরা ফ্রেশ হয়ে বেরোতে না বেরোতে তার দরজায় নক পরে। মাহিরা দরজা একটু খুলে দেখে আয়ান দাঁড়িয়ে আছে। মাহিরা আয়ানকে দেখে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকায়। ঘড়ির কাটা রাত বারোটার ঘরে। 
মাহিরা এবার আয়ানের দিকে তাকায়। তারা আসার সময় বাহির থেকে খেয়ে এসেছে। মাহিরা বুঝলো না আয়ান এতো রাতে কেনো আসলো। মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, কি চাই? আয়ান বলে ওঠে, তোকে। মাহিরা ভ্রু কুঁচকে বলে, মানে? আয়ান বাচ্চাদের মতো মুখ করে বলে, আমি ঘুমাবো তাই তোকে চাই। মাহিরা বলে ওঠে, তো যান নিজের রুমে গিয়ে ঘুমান। এখানে কি? আয়ান নরম গলায় বলে, নো আমি তোর রুমে ঘুমাবো। 
মাহিরা চোখ বড় বড় করে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, অসভ্য লোক একটা। আপনি আমার রুমে ঘুমাবেন কেনো? আয়ান বলে ওঠে, তোকে ছাড়া ঘুম আসেনা তাই। মাহিরা বলে ওঠে, ঘুম না আসলে না ঘুমিয়ে থাকেন। আয়ান এবার বলে ওঠে, 
- আর কতোদিন না ঘুমিয়ে থাকবো? সাত দিন হয়ে গেলো আমি ঘুমাই না। আমি কিভাবে বেঁচে আছি জানতে চেয়েছিস একবারও? আর কতো ভাবে শাস্তি দিবি আমাকে? বল?
মাহিরা তব্দা খেয়ে চেয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক সাতদিন ধরে ঘুমায় না? কিন্তু কেনো? মাহিরা বলে ওঠে, আপনি এই রুমে ঘুমাতে চাচ্ছেন তো? ঠিক আছে আপনি এখানে ঘুমান। আমি পাশের রুমে গিয়ে ঘুমাচ্ছি।বলেই মাহিরা রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে নিলে আয়ান খপ করে মাহিরার হাত ধরে ফেলে। বলে, 
- আমি তোর সাথে ঘুমাবো বলেছি। সেটা তুই যেখানেই ঘুমাস না কেনো। 
মাহিরা বলে ওঠে, কিন্তু আমি আপনার সাথে ঘুমাবো না। আমি অবিবাহিত হয়ে কোনো বিবাহিত পুরুষের সাথে ঘুমাতে পারবো না। আয়ান কিছু না বলে শান্ত চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে মাহিরার দিকে। পরপর কিছু না বলেই মাহিরার হাত ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। এই লোক চলে গিয়েছে দেখে মাহিরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। পরপর নিজের রুমের দরজা আটকে শুয়ে পরে। 
____________
সকাল দশটা। সূর্যের আলো চোখে এসে লাগতেই মাহিরা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। কয়েকবার চোখের পলক ফেলতেই মাহিরার চোখ ধাঁধিয়ে যায়। সামনের কাঁচ ভেদ করে মাহিরা শুয়ে শুয়ে দুরের সমুদ্র দেখছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই দৃশ্য টা দেখা যে কতোটা মনোমুগ্ধকর, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। মাহিরা খুব বেশি খুশি হয় আয়ানকে উপর। এই লোক এতো সুন্দর একটা রুম নিয়েছে যেখানে শুয়ে শুয়ে দুর থেকেই সমুদ্র দেখা যায়। 
মাহিরার আরো কাছে গিয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সমুদ্র দেখার ইচ্ছে জাগে। তাই মাহিরা খুশি হয়ে বিছানা থেকে উঠতে নিলে একটু উঠে আবারো মাহিরা ধপ করে বিছানায় শুয়ে পরে। সে তার কোমরে টান অনুভব করছে। মাহিরা এবার তাকায় তার কোমরের দিকে। কারো শক্ত হাত মাহিরার কোমড় আকড়ে ধরেছে। মাহিরা বুক ধরফরিয়ে উঠে। মাহিরা ঘাড় কাত করে পেছনে তাকায়। আয়ান নিষ্পাপ বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে আছে তাকে জড়িয়ে। 
মাহিরা তা দেখে চমকে উঠে। এই লোক তার রুমে কি করে? আর কিভাবেই বা আসলো তার রুমে? এই লোক না চলে গিয়েছিলো? মাহিরা এবার আয়ানের হাত তার কোমড় থেকে ছাড়াতে টানাটানি করে। আয়ান ঘুমের মাঝেই আরো শক্ত করে মাহিরার কোমড় আকড়ে ধরে মাহিরার দিকে আরেকটু এগিয়ে আসে। মাহিরা পিঠ আয়ানের বুকের সাথে ঠেকে যায়।
মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, বেহায়া নির্লজ্জ লোক একটা। ছাড়ুন আমায়। আয়ানের কোনো সারাশব্দ নেই। মাহিরা আবারো টানাটানি শুরু করে আয়ানের হাত। কিন্তু আয়ানের হাত উঠলো না। মাহিরা তা দেখে ঘাড় বাকিয়ে আয়ানের দিকে তাকায়। বলে, আপনি কি ছাড়বেন আমায়? আয়ান ভাঙ্গা গলায় বলে, নো। ঘুমাতে দে আমায়। অনেকদিন শান্তির ঘুম ঘুমাইনা। মাহিরা বলে ওঠে, আপনি আমার রুমে আসলেন কিভাবে? আয়ান সহসা বলে, দরজা দিয়ে। মাহিরা বিরবির করে, দরজা দিয়ে? কিন্তু তার রুমের দরজা তো দেওয়া ছিলো। তাহলে? 
মাহিরা জোরে বলে, দরজা তো দেওয়া ছিলো। দরজা খুললেন কিভাবে। আয়ান আবারো আগের ভঙ্গিতে বলে, চাবি দিয়ে। মাহিরা বলে ওঠে, রুমের চাবি তো আমার কাছে। আপনি চাবি পেলেন কই? আয়ান সহসা বলে, রিসেপশনে। মাহিরা হা হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় আয়ানের দিকে। আয়ান এখনো চোখ বন্ধ করে রেখেছে। মাহিরা কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে চোখ বন্ধ করে থাকা মানুষটির দিকে। আয়ান চোখ বন্ধ রেখেই এবার বলে ওঠে, 
- এভাবে তাকাস না, প্রেমে পড়ে যাবি।
মাহিরা থতমত খেয়ে যায়। এই লোক কি করে জানলো সে এই লোকের দিকে তাকিয়ে আছে? মাহিরা এবার আয়ানের থেকে চোখ সরিয়ে নেয়। বলে, ছাড়ুন আমায়। আমি বেলকনিতে যাবো। আয়ান ছোটো করে বলে, ছাড়া যাবে না। মাহিরা ভ্রু কুচকে বলে, কেনো কি হয়েছে? আয়ান মাহিরা চুলে নাক ঘষে বলে, আমি আরো ঘুমাবো। অনেক ঘুম চোখে। মাহিরা বলে ওঠে, তো ঘুমান আমি কি আপনাকে ধরে রেখেছি নাকি? 
আয়ান নাক ঘষতে ঘষতে বলে, নো আমি তোকে নিয়েই ঘুমাবো। মাহিরার মেজাজ খারাপ হয়। মাহিরা সব শক্তি দিয়ে আয়ানকে ধাক্কা দিয়ে বিছানা থেকে নেমে যায়। আয়ান সাথে সাথে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। চোখ মেলে মাহিরার দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বলে, ইডিয়েট বলেছি না আমি ঘুমাবো? ডিস্টার্ব করছিস কেন? মাহিরা সহসা বলে ওঠে, ওমা আমি কখন ডিস্টার্ব করলাম? আপনার ঘুমানো দরকার আপনি ঘুমান। আয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বলে, এদিকে আয় মাহি। আমার কাছে আয়। মাহিরা আয়ানের মতো ভাব দেখিয়ে বলে, নো। বলেই মাহিরা একটা মুখ ভেঙ্গচি দিয়ে সোজা বেলকনিতে চলে যায়। আয়ানের মেজাজ ধেই ধেই করে বেড়ে যায়। সেও আর এক মুহূর্তে সময় নষ্ট না করে বিছানা থেকে নেমে যায়। 
মাহিরা বেলকনিতে এসে রেলিং ধরে দাড়িয়ে সমুদ্র দেখছে। আজকের সকাল টা মাহিরার কাছে বেশ মনোমুগ্ধকর লাগছে। মাহিরা এরকম সকাল প্রতিদিন উপভোগ করতে চায়। এমন সময় আয়ান এসে পেছন থেকে মাহিরার কোমড় আকড়ে ধরে। মাহিরার সর্বাঙ্গ শিরশির করে উঠে। আয়ান পেছন থেকে মাহিরার ঘাড়ে নাক ঘষে বলে, 
- তুই কল্পনাও করতে পারছিস না তোর জন্য কতো শতো পানিশমেন্ট রেডি করে রেখেছি আমি। সব পানিশমেন্ট শুধে আসলে দিবো।
মাহিরা পানিশমেন্টর কথা শুনে ভয় পায়। আমতা আমতা করে বলে, কি..কিসের পানিশমেন্ট? আয়ান বলে ওঠে, এই যে আমাকে কষ্ট দিচ্ছিস সেটার পানিশমেন্ট। মাহিরা বলে ওঠে, আমি কখন আপনাকে কষ্ট দিলাম? আয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাহিরাকে ছেড়ে দিয়ে বলে, রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে। আমরা বের হবো। মাহিরা আর কিছু না বলে রুমে চলে যায়। আয়ান সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবতে থাকে।
আয়ান মাহিরাকে নিয়ে আবারো সমুদ্রের পাড়ে এসেছে। তারা একটু পরেই চলে যাবে এখান থেকে। তাই মাহিরার আবদারে তারা লাষ্ট বারের মতো সমুদ্রের পাড়ে এসেছে। মাহিরার কিছুতেই মন চাচ্ছে না এখান থেকে চলে যেতে। তার মন চাচ্ছে এখানে একটা বাড়ি বানিয়ে সারাজীবন এই সমুদ্রের পাড়ে থেকে যেতে। মাহিরা খুশি মনে হাঁটছে আয়ানের সাথে। এমন সময় পেছন থেকে কারো ডাক ভেসে আসে, 
- মাহিরা?
আয়ান আর মাহিরা দুজনই পেছন ঘুরে তাকায়। ইশান দাঁড়িয়ে আছে তাদের পেছনে। ইশানকে দেখা মাত্র আয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। মাহিরা ইশান কে দেখে চমকে উঠে। ইশান এগিয়ে মাহিরার কাছে এসে বলে, তুই এখানে কেনো? বাড়িতে যাসনি? মাহিরা আমতা আমতা করে বলে, না ইশান ভাই। ইশান তাকিয়ে দেখে আয়ান মাহিরার হাত ধরে আছে। ইশান তা দেখে মাহিরাকে বলে, চাচ্চু জানে তুই এখানে এসেছিস? 
মাহিরা দুপাশে মাথা নাড়িয়ে না জানায়। ইশান বলে, আমিও কাজের ব্যস্ততায় কল করে জানাতে পারেনি তোকে পাওয়া গিয়েছে। চল তোকে বাড়ি পৌঁছে দেই। মাহিরা কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। ইশানের সাথে না গেলে ইশান ভাই যদি বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে বলে দেয় সে আয়ানের সাথে এখানে এসেছে? তাই মাহিরা মিনমিনিয়ে বলে, ঠিক আছে ইশান ভাই চলো। মাহিরা ইশানের সাথে যাওয়ার জন্য একপা বাড়াতেই আয়ান ঝড়ের বেগে এসে মাহিরার গলা চেপে ধরে। কিরবির করে হুংকার দিয়ে ওঠে,
- জানোয়ারের বাচ্চা, তুই কোন সাহসে ওর সাথে যেতে চাইছিস? আমাকে চোখে পরে না তোর? কিছু বলিনা দেখে কি তোর সাহস বেশি বেড়ে গিয়েছে? বল তাহলে তোকে এখানেই পুঁতে রেখে যাচ্ছি।  
বলেই আয়ান ধাক্কা দিয়ে মাহিরাকে দুরে ফেলে দেয়। মাহিরা ছিঁচকে গিয়ে বালুর উপর পরে যায়। ইশান আশ্চর্য চোখে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। বলে ওঠে, এটা আপনি কি করলেন আয়ান? মাহিরাকে এভাবে গলা চেপে ধরলেন কেনো? আয়ান এবার ইশানের দিকে তাকিয়ে কিরবির করে বলে,
- তাতে তোর বাপের কি। আমাদের মাঝে আর একটা কথা বললে তোকে আজ এখানেই কবর দিয়ে রেখে যাবো। 
মাহিরা বালুতে বসে কাঁদতে থাকে। ইশান তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান মাহিরার সাথে এই ব্যবহার করে? ইশান তো আরো ভেবেছিলো আয়ান হয়তো মাহিরাকে ভালোবাসে। ইশান আয়ানকে আর কিছু না বলে মাহিরার কাছে চলে যায়। মাহিরার পাশে বসে বলে, চাচ্চুকে বলে আজকেই তোদেরকে আমি রাজশাহী নিয়ে যাবো। ঢাকাতে তোদের আর থাকতে হবে না। সেটাও আবার এমন মানুষের বাড়িতে যার আচরণ এরকম? 
মাহিরা একনাগাড়ে কেঁদেই যাচ্ছে। সে কিছুই বললো না ইশানকে। ইশান আবারো বলে, মাহিরা উঠ এখান থেকে। চল বাসায় চল। বলেই ইশান মাহিরার এক হাত ধরে মাহিরাকে টেনে উঠাতে যাবে তার আগেই আয়ান ঝড়ের বেগে এসে ইশানের উপর ঝাপিয়ে পরে। ইশান টাল সামলাতে না পেরে বালুর উপর পরে যায়। আয়ান একের পর এক ঘুষি দিতে থাকে ইশানকে। হিংস্র জানোয়ারের মতো কিরবির করে বলতে থাকে, 
- কুত্তার বাচ্চা তুই কোন সাহসে আমার মাহিকে ছুঁয়েছিস? তোকে তো আজ আমি এখানেই কবর দিবো।
আয়ান একের পর এক আঘাত করতে থাকে ইশানের উপর। তা দেখে মাহিরার কান্না থেমে যায়। মাহিরা আশ্চর্য চোখে চেয়ে থাকে আয়ানের দিকে। একটা মানুষ কতোটা হিংস্র হতে পারে সেটা মাহিরা আয়ানকে না দেখলে কখনোই বুঝতো না। ইশানের নাক মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে যায়। আয়ান তার পরও ইশানকে ছাড়ছে না। মাহিরা এবার তাড়াতাড়ি ছুটে আসে আয়ানের কাছে। আয়ানের হাত টেনে ধরে বলে, কি করছেন? ছেড়ে দেন ইশান ভাইকে। 
আয়ান ধাক্কা দিয়ে মাহিরাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে দেয়। মাহিরা ছিচকে গিয়ে আবারো বালুতে পরে যায়। মাহিরা উঠে এসে আবারো আয়ানকে ইশানের থেকে ছাড়াতে চেয়ে বলে, আমি আপনার পায়ে পরছি। প্লিজ ইশান ভাইকে ছেড়ে দিন। উনি মরে যাবে। মাহিরার ইশানের প্রতি এতো টান আয়ানের রাগ যেনো আরো বেশি বাড়িয়ে দেয়। আয়ান এবার ইশানকে ছেড়ে উঠে মাহিরার গাল শক্ত হাতে চেপে ধরে বলে,
- খুব পিরিত উঠলে পরছে ইশান ভাইয়ের জন্য না? ওই কুত্তার বাচ্চা তোকে কোন অধিকারে ছুঁয়েছে? এন্সার দে? বল? 
মাহিরা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে।আয়ান আবারো কিরবির করে বলে, ও যেই হাত দিয়ে তোকে ছুঁয়েছে সেই হাত আমি আস্ত রাখবো না। বলেই আয়ান মাহিরার গাল ঝাড়া মেরে ছেড়ে দেয়। ইশানের নাক মুখ দিয়ে ব্লাড বের হচ্ছে। তার গায়ে কোনো শক্তি কাজ করছে না। আয়ান আবারো ইশানের উপর বসে ইশানের হাত দুঁটো টেনে ধরে বলে, তুই কোন হাত দিয়ে আমার মাহিকে ছুয়েছিস? এই হাত দিয়ে? নাকি এই হাত দিয়ে। আয়ান ইশানের দুটো হাত নাড়িয়ে দেখাচ্ছে। মাহিরা তা দেখে আবারো ছুটে আসে আয়ানের কাছে, বলে, আল্লাহর দোহাই লাগে। প্লিজ ইশান ভাইকে ছেড়ে দিন। উনি আর কখনো আমাকে ছুঁবে না। প্লিজ উনাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনার পায়ে পরছি। 
মাহিরা আয়ানের বাহু টেনে ধরে রাখে। আয়ান বলে ওঠে, সরে যা মাহি। ওর দু'হাত আমি নিজ হাতে গুড়ো গুড়ো করবো। বলেই আয়ান মাহিরাকে ধাক্কা দিয়ে সড়িয়ে দেয়। আয়ান আর কোনো দিকে না তাকিয়ে ইশানের বাম হাত নিয়ে তার সব শক্তি দিয়ে ইশানের বাম হাত এক মোচড় দেয়। ইশানের রুহু মনে হচ্ছে বেরিয়ে যাবে। ইশান ব্যাথায় গলা ফাটিয়ে জোরে চিংকার দিয়ে উঠে। 
মাহিরা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে তার সামনে থাকা হিংস্র জানোয়ারটির দিকে। আয়ান ইশানের এক হাত মোচড় দিয়ে আবারো আরেক হাত নিয়ে মোচড় দিতে যাবে এমন সময় কেউ একজন আয়ানকে সজোরে এক ধাক্কা দেয়। আয়ান ছিটকে গিয়ে ইশানের থেকে কিছুটা দুরে বালুতে পরে যায়। মাহিরা এবার আয়ানের উপর ঝাপিয়ে পরে। আয়ানের কলার দু'হাতে চেপে ধরে কিরবির করে বলে,
- আপনি একটা হিংস্র জানোয়ার। আপনার মতো জানোয়ার পৃথিবীতে আর একটাও নেই। আপনি পশুর চেয়েও হিংস্র মানব। 
আয়ান কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে মাহিরার দিকে। মাহিরা আবারো দু হাতে আয়ানের কলার টেনে বলে, ইশান ভাই আমাকে ছুঁতে পারবে না মেনে নিলাম। কিন্তু আপনি কোন অধিকারে আমাকে ছুয়ে দেন? ইশান ভাইতো শুধু মাত্র আমার হাত ধরেছে। তাই আপনি ইশান ভাইয়ের হাত ভেঙ্গে দিয়েছেন। আর আপনার এই নোংরা হাত আমার সর্বাঙ্গ শরীর ছুঁয়েছে। এবার আপনার এই হাত দুটো আমি টুকরো টুকরো করে কেঁটে ফেলি? কি বলেন?
আয়ান আশ্চর্য চোখে চেয়ে থাকে মাহিরার দিকে। মাহিরা আবারো কিরবির করে বলে ওঠে, এই হিংস্র জানোয়ার। আপনি কোন অধিকারে আমাকে ছুয়ে দেন? আপনার কি অধিকার আছে আমাকে ছোঁয়ার? আয়ান নির্বাক, তার মাহিকে ছোঁয়ার জন্য তার অধিকার লাগবে? আয়ান এবার মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে , 
- তোকে ছোয়ার জন্য কি অধিকার চাই তোর?
মাহিরা কিরবির করে আয়ানের শার্টের কলার আরো শক্ত করে খামচে ধরে বলে, 
- স্বামীর অধিকার চাই আমার। দিবেন..? 
আয়ান চেয়ে থাকে মাহিরার দিকে। মাহিরা ঝাড়া মেরে আয়ানের কলার ছেড়ে দিয়ে আয়ানের উপর থেকে উঠে দাড়ায়। পরপর ছুটে চলে যায় ইশানের কাছে। ইশান বালুতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। মাহিরা ইশানের কাছে এসে বসতে যাবে তখনই আয়ান খপ করে মাহিরার হাত ধরে ফেলে। ছোটো করে বলে, চল..!
আর কিছু বলার প্রয়োজন মনে করলো না আয়ান। মাহিরা নিজের হাত মোচড়ায়। টেনে আয়ানের থেকে ছাড়াতে চেয়ে বলে, এই হিংস্র জানোয়ার। ছাড়ুন আমার হাত। মাহিরা কিছুতেই এই জানোয়ারের সাথে যাবেনা। আয়ান টেনে হিঁচড়ে মাহিরাকে নিয়ে যায়। মাহিরা তার দু হাতে আয়ানের হাত খামচে ধরে আয়ানকে টেনে ধরে রেখে বলে, আমাকে ছাড়ুন জানোয়ার একটা। আমি আপনার মতো হিংস্র জানোয়ারের সাথে কোথাও যাবো না। আয়ান এবার কোনো কথা ছাড়াই মাহিরাকে তার কাঁধে তুলে নেয়। মাহিরা আয়ানের পিঠে কিল ঘুষি খামচি দিতে দিতে চেচিয়ে বলে, হিংস্র জানোয়ার ছাড়ুন আমায়। আয়ান কিছু না বলে মাহিরাকে কাঁধে নিয়ে চলে যায়। 
____________
বিকেল চারটা। মাহিরা কালো রঙ্গের একটা শাড়ি পরে বসে আছে। এটা সেই কালো শাড়ি যেটা আয়ান সেদিন শপিং মলে ডলের গায়ে দেখে পছন্দ করে কিনেছিলো। মাহিরা বসে বসে নাক টানছে। আয়ান তাকে পার্লার থেকে সাজিয়ে গুজিয়ে শাড়ি পরিয়ে নিয়ে এসেছে। মাহিরা কিছুক্ষণ পরপর নাক টানছে আর নিঃশব্দে কাঁদছে। আয়ান মাহিরার পাশে চোয়াল শক্ত করে বসে আছে। 
অর্নব আর রাফসান দাঁড়িয়ে আছে আয়ানের পাশে। আয়ান তাদের দুজনকে এখানে ডেকে এনেছে। ইশান হসপিটালে ভর্তি। স্থানীয়রা ইশানকে বালুর মাঝে পরে থাকতে দেখে হসপিটালে নিয়ে গিয়েছে। অর্নবের কাছে খবর আসতেই অর্নব গিয়েছিলো হসপিটালে। সে ইশানের ট্রিট মেন্টের সব ব্যবস্তা করে দিয়ে এসেছে। অর্নব দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আয়ানের দিকে তাকিয়ে। সে এখনো জানেনা আয়ান কেনো ইশানের হাত ভেঙ্গেছে।
ফাহিম তার সাথে করে একজন কাজী'কে নিয়ে আসে। কাজি এসে চেয়ারে বসে তার সামনে তাকিয়ে দেখে একজন কাঁদছে আর একজন পাশে গম্ভীর মুখে চোয়াল শক্ত করে বসে আছে। কাজী মাহিরাকে কাঁদতে দেখে বলে ওঠে, মা তুমি কি এই বিয়েতে রাজি আছো? মাহিরা কিছু বলার আগেই আয়ান কাজীর দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে বলে ওঠে, ওর সাথে আর একটা কথা বললে আপনার এখানে ভুমিকম্প শুরু হয়ে যাবে। 
কাজী সাহেব থতমত খেয়ে যান। রাফসান পাশ থেকে বলে ওঠে, ভয় পাসনা আয়ান। কাজী সাহেব আমাদের দাদুর বয়সী। উনি মাহিরার দিকে নজর দিবেন না। আয়ান এবার কটমট দৃষ্টিতে তাকায় রাফসানের দিকে। রাফসান তা দেখে কাজী সাহেব কে তাড়াহুড়া দিয়ে বলেন, কাজী সাহেব আপনি তাড়াতাড়ি বিয়ে পরান। নাহলে আপনার এই অফিসে ভুমিকম্প হতে বেশি সময় লাগবে না।
কাজী সাহেব আর কিছু না বলে বিয়ে পরানো কাজ শুরু করেন। মাহিরার তা দেখে আরো জোরে কান্না পায়। সে একনাগারে কেঁদেই যাচ্ছে। কাজী সাহেব এবার মাহিরাকে কবুল বলতে বলেন। মাহিরা তা শুনে মরা কান্না জুড়ে দেয়। সে কিছুতেই কবুল বলবে না। সে কিছুতেই বিয়ে করবে না এই হিংস্র লোকটাকে। মাহিরার মরা কান্না দেখে আয়ানের রাগ ধেই ধেই করে বেড়ে যায়। আয়ান চোয়াল শক্ত করে অর্নবকে বলে, 
- অর্নব ওকে কবুল বলতে বল।
অর্নব দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাহিরাকে বলে, মাহিরা কবুল বলো প্লিজ। ভাইয়া রেগে যাচ্ছে। মাহিরা কেঁদে কেঁদে অর্নবকে বলে, ভাইয়া আমি ওনাকে বিয়ে করবো না। আপনারা প্লিজ কিছু করুন। উনাকে পুলিশে ধরিয়ে দিন। আয়ান নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। সে আবারো চোয়াল শক্ত করে চিবিয়ে বলে, কবুল বল মাহি। আমাকে হিংস্র হতে বাধ্য করিস না। মাহিরা এবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, না আমি আপনাকে বিয়ে করবো না। কবুলও বলবো না। আয়ান এবার তার কোমড়ে গুজে রাখা বন্দুক বের করে মাহিরার কপালে তাক করে কিরবির করে বলে, 
- জানোয়ারের বাচ্চা, স্বামীর অধিকার চেয়েছিস না? এখন কবুল বলছিস না কেনো? কবুল বল। বল কবুল।
উপস্থিত সবাই আয়ানের হাতে বন্দুক দেখে চমকে উঠে। কাজি সাহেব থতমত খেয়ে যান। এ তিনি কাদের বিয়ে পরাতে এসেছেন? মাহিরা বন্দুক দেখে আরো জোড়ে জোড়ে কেঁদে দেয়। সে তো তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে আয়ানকে কথাটা বলেছিলো। রেজওয়ানের হাতে মাহিরা সেদিন আসল বন্দুক দেখে খুব বেশি ভয় পেয়েছিলো। আজ আয়ানের হাতেও বন্দুক। মাহিরা জোর জোরে কাঁদতে থাকে তার সামনে মৃত্যু দেখে। অর্নব এবার বলে ওঠে, মাহিরা প্লিজ তাড়াতাড়ি কবুল বলো। ভাইয়া রেগে গেছে। কখন কি হয়ে যায় আমি বলতে পারছি না। মাহিরা বন্দুকের ভয়ে তাড়াতাড়ি কেঁদে কেঁদে কবুল বলে দেয়।
উপস্থিত সবাই মাহিরার কবুল শুনে সস্তির নিশ্বাস ফেলে। মাহিরা কবুল বলতেই আয়ান বন্দুক সরিয়ে আবারো তার আগের যায়গায় রেখে দেয়। পরপর নিজেও কবুল বলে বিয়ের কাজ সম্পর্ন করে। মাহিরা বসে বসে একনাগাড়ে কেঁদেই যাচ্ছে। তার কান্না যেনো আজ কিছুতেই থামছে না। বিয়ে সম্পুর্ন হতেই মাহিরা অর্নবের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, ভাইয়া আপনি প্লিজ বাড়িতে গিয়ে কাউকে কিছু বলবেন না। আমি বিয়ে করেছি এটা শুনলে আম্মু আমাকে মেরেই ফেলবে। আয়ান এবার ধমক দিয়ে বলে ওঠে,
- ইডিয়েট ও কেনো সবাইকে বলবে? আমি নিজে গিয়ে সবাইকে জানাবো আমরা বিয়ে করেছি।
মাহিরা এবার আরো জোড়ে জোড়ে ভেঁ ভেঁ করে কাঁদতে থাকে। বলতে থাকে, প্লিজ এমনটা করবেন না। আমি আপনার পায়ে পরছি। আপনি যা বলবেন আমি তাই শুনবো। তারপরও প্লিজ বাড়িতে গিয়ে কাউকে কিছু বলবেন না। বলেই মাহিরা আবারো জোরে জোরে কেঁদে দেয়। আয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে, ঠিক আছে বলবো না। কান্না থামা। মাহিরা এবার নাক টেনে বলে, সবাই বিয়ে করে লাল শাড়ি পরে। আর আমি বিয়ে করেছি কালো শাড়ি পরে। আমি লাল শাড়ি পরে বিয়ে করতে পারলাম না। বলেই মাহিরা আবারো হু হু করে কেঁদে দেয়। 
আয়ানের মেজাজ খারাপ হয়। লাল শাড়ি পরতে পারেনি বলে কান্নার কি আছে? আয়ান বলে ওঠে, তুমি সবার থেকে আলাদা মাহি। নিজেকে সবার মতো ভাবছো কেনো? মাহিরা বলে ওঠে, আপনি খুব খারাপ। আমি আপনাকে কখনোই মাফ করবো না। আয়ান সহসা বলে ওঠে, না করলে নাই। আমি কি মরে যাচ্ছি নাকি তোমার থেকে মাফ পাওয়ার জন্য। মাহিরা আয়ানের কথা শুনে আবারো কেঁদে দেয়। আয়ান তা দেখে চোয়াল শক্ত করে বলে, কান্না থামা মাহি। আমাকে সবার সামনে কিস করতে বাধ্য করিস না। 
মাহিরা এবার চোখ তুলে তাকায় আয়ানের দিকে। উপস্থিত সবাই আয়ানের কথায় মিটিমিটি হাসে। ফাহিম হাতে মিষ্টির প্যাকেট এনে সবাইকে দেয়। আয়ানের কাছে মিষ্টির প্যাকেট আনতেই আয়ান একটা মিষ্টি নিয়ে মাহিরার হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়। পরপর মাহিরার নিয়ে যেতে নিলে অর্নব বলে ওঠে, কোথায় যাচ্ছো ভাইয়া? আয়ান বেরিয়ে যেতে যেতে বলে, মিষ্টি টেষ্ট করতে। আয়ানের কথায় শুনে উপস্থিত সবাই ফিক করে হেসে দেয়। 
আয়ান মাহিরাকে নিয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে উঠে বসে। মাহিরা এখনও কেঁদেই যাচ্ছে। আয়ান বিরক্ত হয়ে মাহিরার কান্না দেখে। এই মেয়ের চোখে এতো পানি কোথা থেকে আসে? সাগর থেকে? সাগরেও মনে হয় এতো পানি নেই যতো পানি এই মেয়ের চোখ বেড়ে পরছে। আয়ান হাতের মিষ্টিটা মাহিরা মুখের সামনে ধরে বলে, হা কর। মাহিরা ভেজা চোখে তাকায় আয়ানের দিকে। পরপর কিছু না বলে আবারো তার চোখ নামিয়ে নেয়। 
আয়ান আর কিছু না বলে মাহিরার গাল আলতো হাতে চেপে ধরে হাতে থাকা মিষ্টিটা ঠেসে মাহিরার মুখে দিয়ে দেয়। কোনো কথা ছাড়াই মিষ্টি সহ মাহিরার ঠোঁট জোরা আঁকড়ে ধরে। মাহিরার ছটফট করে মারতে থাকে আয়ানকে। আয়ান মিষ্টি খেয়ে মাহিরাকে ছেড়ে দেয়। মাহিরা তার মুখে থাকা সব মিষ্টি ফেলতে নিলে আয়ান বলে ওঠে, 
- মুখ থেকে এক ফোটা মিষ্টি নিচে পরলে এখানেই তোর সাথে বাসর সেড়ে ফেলবো।
মাহিরা ভয়ার্ত চোখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে মুখের মিষ্টি সব একবারে গিলে ফেলে। মিষ্টি গিলে মাহিরা আবারো ভেঁ ভেঁ করে কেঁদে দেয়। আয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে টান দিয়ে মাহিরাকে তার বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। মাহিরা কেঁদে কেঁদে এক হাতে আয়ানের বুকে অনবরত কিল দিতে দিতে বলে, অসভ্য লোক আপনি কেন আমাকে বিয়ে করলেন? আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই না। আপনার বউ আছে। আপনি বিবাহিত। আপনি কেনো আমাকে বিয়ে করেছেন? 
আয়ান মাহিরার কথা গুলো শুনে মনে মনে হাসে। পরপর বলে, আমার জন্য চারটা বিয়ে জায়েজ আছে মাহি। আর আমি তো মাত্র দুইটা করেছি। মাহিরা আয়ানের কথা শুনে আরো জোরে জোরে কেঁদে দেয়। বলে, না না আমি আপনাকে বিয়ে করবো না। আপনি অন্য কাউকে বিয়ে করুন। আয়ান মনে মনে হেসে বলে, আমাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে মাহি। মাহিরা আরো জোরে জোরে কেঁদে দেয়। বলে, আমি এই বিয়ে মানিনা। আপনি আমার কেউ না। আয়ান মাহিরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নরম গলায় বলে, আমিই তোর সব। 
মাহিরা কেঁদে কেঁদে বলে, আমাদের এই বিয়ে বাড়ির কেউ কখনো মেনে নিবে না। আপনার বাবাও মানবে না, আমার আম্মুও মানবে না। আয়ান বলে ওঠে, কাউকে মানতে হবে না। আমি মেনে নিয়েছি এতেই চলবে। মাহিরা বলে ওঠে, আমিও মানি না এই বিয়ে। আপনি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবেন। আয়ান তার সর্বস্স শক্তি দিয়ে মাহিরাকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নেয়। মাহিরা পেছনে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে ব্যাথায় চোখ মুখ খিঁচে নেয়। আয়ান কিরবির করে বলে ওঠে,
- জানোয়ারের বাচ্চা, বিয়ে করেছি পাঁচ মিনিট যেতে পারেনি। আর তুই এক্ষনি আমার কাছে ডিভোর্স চাচ্ছিস? খোদার কসম মাহি, এই ওয়ার্ড টা তোর মুখে আর কোনোদিন দ্বিতীয় বার শুনলে? আমি তোর জিহ্বা সেদিনই টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলবো। তোর জিহ্বার কোনো দরকার নেই আমার। তুই বোবা থাক।
বলেই আয়ান আবারো মাহিরাকে টেনে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয়। মাহিরা আয়ানের বুকে মাথা ঠেকিয়ে আবারো ঝড়ঝড় করে কেঁদে দেয়। মাহিরা বুঝে গিয়েছে এই লোক তাকেও ছাড়বে না। আবার তার প্রথম বউকেও ছাড়বে না। মাহিরার কান্না যেনো আজ কিছুতেই থামছে না। সে কি করে একজন বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করে ফেললো?
আয়ান গাড়ি চালাচ্ছে ব্যাস্ত হাতে। মাহিরা এখনো তার কোলে বসে নাক টেনে যাচ্ছে। আয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে এই মেয়েকে দেখে। পরপর কিছু না বলে আবারো গাড়ি চালানোয় মনোযোগ দেয়। এই মেয়ে যতো পারে আজ কেঁদে নিক। কাল থেকে এই মেয়েকে সে শিক্ষাটা দিবে। মাহিরা নাক টেনে তার নাকের পানি আয়ানের শার্টে মুছে। আয়ান তা দেখে ধমক দিয়ে ওঠে, ইডিয়েট। আমার শার্টে নাক মুছছিস কেনো? নিজের শাড়িতে মুছতে পারিস না? মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আপনি আমাকে বিয়ে করেছেন কেনো? আমি আপনার শার্টেই নাক মুছবো। আয়ান আর কিছু না বলে চোয়াল শক্ত করে গাড়ি চালায়।
অর্নব হসপিটালের এসেছে। ইশান বেডে শুয়ে আছে। অর্নব এসে ইশানের পাশে টুল টেনে বসে। ইশানের এক হাত বেন্ডেজে মোড়ানো গলার সাথে ঝুলে আছে। অন্য হাতে সেলাইন চলছে। অর্নব ইশানের পাশে বসে বলে, সরি ইশান। আমার ভাইয়ের জন্য তোমার আজ এই অবস্থায় পরতে হলো। ইশান বলে, তুমি কেনো সরি বলছো অর্নব। আমার হাত তো তোমার ভাই ভেঙ্গেছে তুমি না। অর্নব বলে, ভাইয়ার হয়েই আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। প্লিজ মাফ করে দিয়ো। 
ইশান মুচকি হেসে বলে, সমস্যা নেই। তোমার ভাইয়ের মাথায় একটু সমস্যা আছে। ট্রিটমেন্ড করাও ঠিক হয়ে যাবে। অর্নব মুচকি হাসে ইশানের কথায়। তার সুস্থ ভাইকে মেন্টাল পেশেন্ট বানিয়ে দিলো? অর্নব আর কিছু বললো না। ইশান আবারো বলে, মাহিরা কই অর্নব? অর্নব ইশানকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইশান বলে ওঠে, ওকে তোমার ভাইয়ের থেকে দুরে দুরে রেখো প্লিজ। তোমার ভাই মাহিরার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে। আমি এতোদিন ভেবেছিলাম হয়তো তোমার ভাই মাহিরাকে ভালোবাসে। কিন্তু না, আমার সব ভাবনা ভুল ছিলো। তোমার ভাই মাহিরাকে ভালোবাসে না। আমি চাচ্চুকে বলে মাহিরাদের সবাইকে তোমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে চলে যাবো। বাবাকে আর চাচ্চুকে বলবো যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার আর মাহিরার বিয়েটা দিয়ে দিতে। কারন আমি মাহিরাকে ভালোবাসি।
অর্নব তাকিয়ে থাকে ইশানের দিকে। ইশান আবারো বলে, বাবা আর চাচ্চু ঠিক আমার কথায় রাজি হয়ে যাবে দেখো। আমার চাচ্চু খুব ভালো মানুষ। আমি মাহিরাকে আর তোমাদের বাড়িতে রাখবো না অর্নব। তোমার ভাই মাহিরাকে কষ্ট দেয়। মাহিরার কষ্ট আমি একদম দেখতে পারবো না। আমি চাই মাহিরা সবসময় ভালো থাকুক। তাই আমি এতোদিন কিছুই বলিনি। কিন্তু আজ তোমার ভাইয়ের ব্যবহার দেখে আমি শিওর হলাম তোমার ভাই মাহিরাকে ভালোবাসে না। আমি হসপিটাল থেকে যেয়ে সবার আগে মাহিরাকে বিয়ে করবো। চাচ্চু আমাকে ফেরাবেন না, আমি জানি।
ইশান একনাগাড়ে কথা গুলো বলে থামে। অর্নব এতোক্ষণ চুপ করে ইশানের সব কথা শুনেছে। বুঝেছে ইশান মাহিরাকে ভালোবাসে। অর্নব এবার ইশানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, ভাইয়া মাহিরাকে বিয়ে করে ফেলেছে ইশান। মাহিরার বিয়ের কথা শুনে ইশানের বুকটা ধুক করে উঠলো। ইশানের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পরেছে। ইশান ছটফট করে তার হাতের সেলাইন খুলে ফেলে নেমে যায় বেড থেকে। বলে, না অর্নব। মাহিরা তোমার ভাইয়ের সাথে কোনোদিন সুখে থাকবে না। আমি নিজের চোখে দেখেছি তোমার ভাই মাহিরাকে কষ্ট দেয়। অর্নব দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। ইশান এবার খপ করে অর্নবের হাত চেপে ধরে বলে, আমি তোমার পায়ে পরি অর্নব। প্লিজ তোমার ভাইকে বলো মাহিরাকে ছেড়ে দিতে। 
অর্নব চমকে তাকায় ইশানের দিকে। বলে, আর ইউ ম্যাড ইশান? কি বলছো তুমি ভেবে চিন্তে বলছো তো? আমি ভাই হয়ে আমার ভাইয়ের সংসার ভেঙ্গে দিবো? ইশান এবার হুট করে এক হাত দিয়ে অর্নবের পা জড়িয়ে ধরে বলে, আমি তোমার পায়ে পরছি অর্নব। প্লিজ তুমি বন্ধুত্বের খাতিরে আমার জন্য এটা করো। অর্নব ইশানের হাত তার পা থেকে ছাড়িয়ে দিয়ে বলে, তোমার কেনো মনে হচ্ছে ইশান আমি বললেই ভাইয়া মাহিরাকে ছেড়ে দিবে? 
ইশান তাকায় অর্নবের দিকে। অর্নব বলে ওঠে, ভাইয়া মাহিরাকে জীবনেও ছাড়বে না ইশান। আমার কথা কেন, ভাইয়া তার বাপের কথাও শোনেনা। আমি তো ভয়ে আছি বাড়িতে এটা জানাজানি হলে কি কেয়ামত টাই না হবে। ইশান আর কিছু বললো না অর্নবকে। অর্নব বলল, তুমি রেস্ট নাও ইশান আমি চলে যাচ্ছি। অর্নব যেতে নিলে ইশান বলে ওঠে, মাহিরা এখন কোথায় অর্নব? অর্নব পেছন ঘুরে তাকায় ইশানের দিকে। বলে, ওর হাসবেন্ডের সাথে আছে। 
হাসবেন্ড কথাটা শোনা মাত্র ইশানের বুকটা আবারো ধুক করে উঠলো। অর্নব আর কিছু না বলে চলে যায়। ইশান ধপ করে ফ্লোরে বসে পরে। মনে মনে আওরায়, হাসবেন্ড? সে কি মাহিরার হাসবেন্ড হতে পারতো না? এটা কি খুব বেশি কঠিন ছিলো? ইশান তার সমস্ত শক্তি দিয়ে এক চিৎকার দিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। ইশানের চিৎকার শুনে ডাক্তার ছুটে আসেন। 
ইশান পাগলের মতো হাত পা ছোটাছুটি করতে থাকে। পরপর উঠে দাঁড়িয়ে হাতের কাছের রুমের সব ভাংচুর করতে থাকে। ইশানকে এই অবস্থায় দেখে ডাক্তার বলেন, মি.ইশান আপনি শান্ত হয়। আপনার শরীর থেকে এমনিতেই অনেক ব্লাড বেরিয়েছে। আপনার হেল্থ কন্ডিশন মোটেও ভালো না। প্লিজ উত্তেজিত হবেন না। 
ইশান চিৎকার দিয়ে ডাক্তার কে বলে ওঠে, আপনারা প্লিজ মাহিরাকে এনে দিন। মাহিরা ওর হাজবেন্ডের সাথে কোনো দিন ভালো থাকবে না। আমি কিভাবে মাহিরার কষ্ট দেখবো? আমি কেনো মাহিরার হাসবেন্ড হতে পারলাম না ডক্টর? ডক্টর বুঝলেন না ইশানের কথা। তিনি নার্স ডেকে ইশানকে বেডে শুইয়ে দেন। পেশেন্টের অবস্থা এমনিতেই ভালো না। তার উপরে পেশেন্ট এমন উত্তেজিত হলে তার অবস্থা আরো বেশি ক্রিটিক্যাল হতে পারে। ইশান বেডে শুয়ে আবারো ছটফট করতে করতে বলে, ডক্টর প্লিজ আপনারা মাহিরাকে এনে দিন। ও কোনোদিন সুখে থাকবে না। আমি মাহিরার দুঃখ দেখতে পারবো না বিশ্বাস করুন। মাহিরার কষ্ট দেখার আগে আপনারা আমাকে মেরে ফেলুন প্লিজ। পেসেন্টের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে দেখে ডক্টর তাড়াতাড়ি একটা ঘুমের ইনজেকশন ইশানকে পুশ করে। ইশান আর কিছু বলতে পারে না।
আয়ান মাহিরাকে নিয়ে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে এসেছে। রাত হলেও চারপাশে মোমবাতির আলো থাকায় মাহিরা চারপাশে চোখ ঘুড়িয়ে দেখলো। এই যায়গা টা নতুন। মাহিরা জানেনা আয়ান তাকে কোথায় নিয়ে এসেছে। মাহিরা এবার তার সামনে বসে থাকা আয়ানের দিকে তাকায়। আয়ান টেবিলের উপর এক হাত গালে রেখে মাহিরার দিকে তাকিয়ে আছে। 
আয়ানের সাথে চোখাচোখি হতেই মাহিরা তার চোখ নামিয়ে নেয়। আয়ান মুচকি হেসে বলে, এই কালো শাড়িতে তোকে আজ মারাত্মক সুন্দর লাগছে মাহি। আমার কল্পনার চেয়েও বেশি সুন্দর লাগছে তোকে আজ। মাহিরা আবারো তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, এসব কবি কবি কথা আমার সাথে একদম বলবেন না। কালো শাড়ি পরে বিয়ে করেছে আবার বড় বড় কথা বলছে। বলেই মাহিরা এক মুখ ভেঙ্গচি দেয় আয়ানকে। 
মাহিরার কথা শুনে আয়ান মুচকি হাসে। পরপর মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, খাওয়া শুরু করো। মাহিরা তাকিয়ে দেখলো টেবিলের উপর নামি দামি হরেক রকমের খাবার সাজানো। মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, আমি ভাত খাবো। আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায় মাহিরার দিকে। এখানে বেশির ভাগ খাবারই মাহিরার পছন্দ। তাই আয়ান মাহিরার পছন্দ মতোই সব খাবার অর্ডার দিয়েছে। আয়ান বলে, তোমার তো এসব খাবার পছন্দ মাহি। তাহলে হঠাৎ ভাত খেতে চাচ্ছো কেনো? মাহিরা বলে, এসব খেতে ভালো লাগছে না আমার। আমি ভাত খাবো। আয়ান আর কিছু বললো না। পরপর ওয়েটারকে ডেকে ভাত দিতে বললো। 
________
রেজওয়ান বসে আছে রাজবাড়ীর ছাদে। এমন সময় তুহিন ছুটে আসে রেজওয়ানের কাছে। তুহিন এসেই হাঁটুতে ভর দিয়ে হাঁপাতে থাকে। রেজওয়ান তা দেখে বলে ওঠে, এভাবে হাঁপাচ্ছিস কেন? কে মরেছে? তুহিন শ্বাস নিয়ে বলে, সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে বস। রেজওয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে, কিসের সর্বনাস? তুহিন ঢোক গিলে বলে, বস আপনার সব গোডাউনে আর জাহাজ সব একসাথে আগুন জ্বলছে। রেজওয়ানের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে। রেজওয়ান ধপ করে নিচে বসে পরে। তুহিন বলে ওঠে, আমি লোক পাঠিয়েছি বস। ওরা খুব তাড়াতাড়ি আগুন নিভিয়ে ফেলবে। রেজওয়ান বাকরূদ্ধ। সে তুহিনকে বলে, ডনের টাকা এখনো আমি পরিশোধ করতে পারিনি তুহিন। তার ভেতরে আমার সর্বস্স ধংস হয়ে গিয়েছে। ডন কি আমাকে ছেড়ে দিবে ভাবছিস? পাতালে থাকলেও খুঁজে বের করে আনবে আমাকে। তুহিন কিছুই বলতে পারলো না। রেজওয়ানের মনে পরে যায় আয়ানের বলা সেই কথাটা। আয়ান বলেছিলো ওই মেয়ের গায়ে ফুলের টোকা পরলে সে তার সর্বস্স ধংস করে ফেলবে। তাই বলে এইভাবে? আয়ান কি সব ভুলে গিয়েছে পেছনের কথা? 
রেজওয়ান উঠে দাড়ায়। তুহিন বলে, বস আপনার কি মনে হয় আয়ান শিকদার এটা করেছে? রেজওয়ান তুহিনের কলার চেপে ধরে বলে, কুত্তার বাচ্চা আমার মনে হয় না ওই শুয়োরের বাচ্চা টাই এটা করেছে। তুহিন বলে ওঠে, বস সেটা কি করে সম্ভব? আয়ান শিকদারের তো আজ বিয়ে। রেজওয়ান তুহিনের কলার ছেড়ে দেয়। বলে, বিয়ে? কিসের বিয়ে? কার বিয়ে। তুহিন বলে, বস আয়ান শিকদার আজ ওই মেয়েকে বিয়ে করে ফেলেছে।রেজওয়ান চমকে তাকায় তুহিনের দিকে। বলে, আয়ান বিয়ে করেছে? কখন? তুহিন বলে, আজ বিকেলে বস। রেজওয়ান বলে ওঠে, আমাকে কিছু বলেনি কেনো? ওর বিয়ের সাক্ষী তো আমার থাকার কথা ছিলো। ওর বিয়ের সাক্ষী কে?
তুহিন বলে, রাফসান আর অর্নব। রেজওয়ান কিরবির করে উঠে, কুত্তার বাচ্চার আমার থেকে এখন ওরা আপন হয়ে গেলো? ও সব ভুলে যায় কিভাবে? বলেই রেজওয়ান নিজের চুল নিজে টেনে ধরে। তুহিন রেজওয়ানকে দেখে বলে ওঠে, প্লিজ বস শান্ত হন। রেজওয়ান বলে ওঠে, কুত্তার বাচ্চা আমার সর্বস্স ধংস করে বিয়ে করে বউ নিয়ে বাসর করছে? ওর বউয়ের গলা আমি নিজ হাতে কাঁটবো তুহিন। ও যেমন আমার বউকে জবাই করছে? তেমনি আমিও ওর বউকে জবাই করবো। বলেই রেজওয়ান হনহনিয়ে চলে যায় ছাদ থেকে। এমন সময় কতোগুলো বুট জুতার শব্দ ভেসে আসে ছাদে। পুলিশ এসে রেজওয়ানকে চারপাশ থেকে ঘীরে ফেলে। রেজওয়ান তব্দা খেয়ে চেয়ে থাকে পুলিশ গুলোর দিকে। প্রতিটি পুলিশের হাতের বন্ধুক যেটা রেজওয়ানের দিকে তাক করা। একজন অফিসার বলে ওঠেন, 
- ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট, মি.রেজওয়ান তালুকদার। 
তুহিন হা হয়ে চেয়ে থাকে। পুলিশ কখন আসলো? তারা কেউ কিছু টের পেলো না কেনো? রেজওয়ান কিরবির করে তাকায় তুহিনের দিকে। বলে, আরো বাঁচা ওই মেয়েকে। দেখ আয়ান আর কি কি করে আমার সাথে ওই মেয়ের জন্য। আমার সর্বস্স ধংস করে এখন আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছে। ওইদিন ওই মেয়েকে মেরে দিলে আজ আর এই দিন দেখতে হতো না। তুহিন মাথা নিচু করে বলে, সরি বস। টেনশন করবেন না আমি আপনাকে ছাড়িয়ে আনবো। রেজওয়ান কিরবির করে বলে, এইবার জেল থেকে বেরিয়ে সবার আগে ওই মেয়ের গলা কাটবো আমি। তারপর আয়ানকে বোঝাবো চোখের সামনে বউয়ের গলা কাটা লাশ দেখতে কেমন লাগে। বলেই রেজওয়ান চলে যায়। তুহিন তাকিয়ে থাকে রেজওয়ানের যাওয়ার পানে। পুলিশ রেজওয়ানকে নিয়ে চলে যায়।
মাহিরা ঘাপটি মেরে বসে আছে আয়ানের কোলে। আয়ান গাড়ি চালাচ্ছে। মাহিরা বিরক্ত হয় বসে থাকতে থাকতে। কতক্ষণ একইভাবে বসে থাকা যায়? মাহিরা এবার বলে ওঠে, আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? সেই কখন থেকে গাড়ি চালাচ্ছেন শুধু। আমার আর এভাবে বসে থাকতে ভালো লাগছে না। আয়ান বলে ওঠে, বসে থাকতে ভালো না লাগলে শুয়ে পরো। আমার কোল আর বুক সবসময় তোমার জন্য রেডি থাকে মাই সানফ্লাওয়ার। 
মাহিরা কটমট দৃষ্টিতে তাকায় আয়ানের দিকে। আয়ান বাঁকা হেসে গাড়ি চালানোয় মনোযোগ দেয়। মাহিরা এবার বলে ওঠে, আপনি কি বলবেন আমরা কোথায় যাচ্ছি? আয়ান ছোটো করে বলে, আমাদের বাড়ি যাচ্ছি। মাহিরা বলে ওঠে, আপনাদের বাড়ি যেতে এতো সময় লাগে? আয়ান বলে, আমি তোমার আর আমার কথা বলেছি। তুমি আর আমি আমরা আমাদের বাড়ি যাচ্ছি। তোমার আর আমার বাড়িতে। 
মাহিরা তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, আমাদের বাড়ি আসলো কোথথেকে? আয়ান কিছুই বললো না। মাহিরা বলে, কি হলো বলুন। আয়ান হঠাৎ গাড়ি থামায়। মাহিরা সামনের দিকে ঝুকে আবারো আয়ানের বুকের সাথে এসে বাড়ি খায়। মাহিরা আয়ানের বুকের সাথে ধাক্কা খেয়ে তার মাথা ঘষে বলে, ইশ আমার মাথা টা গেলো রে। বজ্জাত লোক আপনার বুক এতো শক্ত কেনো? আয়ান কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে মাহিরার দিকে। 
মাহিরা বলে ওঠে, কি হলো গাড়ি চালাবেন না? আয়ান দু হাতে শক্ত করে মাহিরার কোমড় আকড়ে ধরে। মাহিরার শাড়ি বেধ করে আয়ানের হাত মাহিরার কোমড়ে লাগতেই মাহিরার সর্বাঙ্গ শরীর শিরশির করে উঠে। আয়ান মাহিরার চুলে নাক ঘষে বলে, এখন নিশ্চয়ই আমার স্পর্শ তোর কাছে নোংরা মনে হবে না? মাহিরা শক্ত হয়ে বসে রইল। সে কিছুই বলতে পারলো না। 
আয়ান আবারো মাহিরার চুলে নাক ঘষে নরম গলায় ডাকে, সানফ্লাওয়ার..? মাহিরা কিছুই বলে না। আয়ান এবার কোমড় ধরে মাহিরাকে তার দিকে ঘুড়িয়ে নেয়। মাহিরা চোখ তুলে তাকায় আয়ানের দিকে। এই লোককে কেমন যেনো লাগছে। মাহিরা আয়ানকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে তার আগেই আয়ান মাহিরার ঠোঁট জোরা আকড়ে ধরে। মাহিরা হতভম্ব হয়। সে আয়ানকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে নিলে আয়ান তার এক হাত দিয়ে মাহিরার দুটো হাত চেপে ধরে রাখে। পরপর কোনো কথা ছাড়াই মাহিরার ঠোটে এক কামড় বসায়। 
মাহিরা ব্যাথায় চোখ মুখ খিঁচে আর্তনাথ কে উঠে। আয়ান সাথে সাথে মাহিরাকে ছেড়ে দেয়। মাহিরাা ব্যাথায় চোখে পানি আসে। সে টলমল চোখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, অসভ্য লোক আমাকে কামড় দিয়েছেন কেনো? আমি ব্যাথা পেয়েছি না? আয়ান বলে ওঠে, এটা তোমার পানিশমেন্ট মাহি। মাহিরা বলে, কিসের পানিশমেন্ট? আমি কি করেছি। আয়ান বলে ওঠে, তুমি আমাকে ব্যাথা দিয়েছো। মাহিরা মুখ মলিন করে ফেললো। সে বুঝলো না সে কিভাবে এই লোককে ব্যাথা দিয়েছে। 
মাহিরা মুখ ফুলায়। সে আর এই লোকের সাথে কথা বলবে না। আয়ান তা দেখে ডেকে ওঠে, মাহি? মাহিরা তাকায় না আয়ানের দিকে। আয়ান বলে ওঠে, আমাদের তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মাহিরা জোরে বলে ওঠে, তো কি হয়েছে? আয়ান দুষ্টু হেসে বলে, বিয়ের প্রথম রাত কে কি বলে জানো? মাহিরা জানা সত্ত্বেও তেড়ামি করে বলে, না জানিনা। আয়ান বাঁকা হাসে। পরপর কিছু না বলে মাহিরাকে কোলে নিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে, ওকে চলো। আমি তোমাকে সব জানিয়ে দিচ্ছি। 
মাহিরা চমকে উঠে। আয়ানের কোলে বসে বলে, ক..কি জানাবেন আপনি? আয়ান দুষ্টু হেসে বলে, যেগুলো জানো না সেগুলো সব জানাবো তোমাকে। মাহিরা বলে ওঠে, অসভ্য লোক আমার কিছু জানার দরকার নেই। নামান আমায়। আয়ান কিছুই বললো না। সে মাহিরাকে কোলে নিয়ে হাঁটতে থাকে সামনের দিকে। মাহিরা বলে ওঠে, কি হলো নামান আমায়। কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? 
আয়ান মাহিরাকে এনে একটা গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছড়ানো খাটের উপর বসিয়ে দেয়। এতোক্ষণ চারপাশ অন্ধকার থাকায় মাহিরা কিছুই দেখতে পায়নি। মাহিরা এবার মোমবাতির আলোতে চারপাশে চোখ বোলায়। আয়ান তাকে কোথায় নিয়ে এসেছে সেটাই বোঝার চেষ্টা করে সে। খাটের চারপাশ জুরে মোমবাতি জালানো। সাদা পর্দা গুলো খুব সুন্দর ভাবে সেট করা খাটের সাথে। পুরো খাটে গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো। মাহিরা চারপাশে চোখ বুলিয়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে থাকে সবটা।
মাহিরা তার খাটের চারপাশে চোখ বুলিয়ে যেইনা তার চোখ খাটের কিছুটা দুরে গেলো? ওমনি মাহিরা চমকে উঠে। হাজার হাজার ফুল খাটের চারপাশে। এগুলো যেনে তেনো ফুল না। এগুলো সব জলজ্যান্ত তাজা সানফ্লাওয়ার। মাহিরা ঘার ঘুরিয়ে অন্য পাশে তাকায়। হাজারো সানফ্লাওয়ার দাঁড়িয়ে আছে তার দিকে মুখ করে। মাহিরা তার চারপাশে এতো সানফ্লাওয়ার দেখে তার আর বুঝতে বাকি নেই সে যে কোনো সানফ্লাওয়ারের বাগানে আছে। আয়ান তাকে কোনো সানফ্লাওয়ারের বাগানে নিয়ে এসেছে।
মাহিরা চমকে তাকায় আয়ানের দিকে। আয়ান শান্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মাহিরা ভাবনায় পরে যায়। রেজওয়ানকে সে ছাদের উপর খাট বিছিয়ে থাকতে দেখেছে। কিন্তু এই লোক তো রেজওয়ানের থেকেও পাগল। এই লোক সানফ্লাওয়ারের বাগানে খাট বিছিয়েছে। মাহিরা বুঝলো না এই লোক কেনো ফুলের বাগানে খাট বিছিয়েছে? মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আপনি কি পাগল? এই ফুলের মাঝে খাট বিছিয়েছেন কেনো। আয়ন বাঁকা হেসে বলে, 
- সানফ্লাওয়ারে'র সাথে সানফ্লাওয়ারের বাগানে বাসর করতে।
মাহিরা চোখ বড় বড় করে তাকায় আয়ানের দিকে। আয়ান বাঁকা হেসে কিছু না বলে তার শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে। মাহিরার তা দেখে আরো বেশি চোখ বড় বড় হয়ে যায়। মাহিরা আমতা আমতা করে বলে, আ..আপনি শা..শার্ট খুলছেন কেনো? আয়ান তার শার্টের দুটো বোতাম খুলে বলে, তুমি কি চাইছো আমি শার্ট পরেই বাসর করি? মাহিরা আৎকে উঠে আয়ানের কথায়। তার আজ বুঝতে বাকি নেই এই লোক কেনো তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। 
মাহিরা ঝড়ের বেগে তাড়াতাড়ি বেড থেকে নেমে যেতে নেয়। তার আগেই আয়ান খপ করে এসে মাহিরার এক পা ধরে ফেলে। মাহিরা চেচিয়ে বলে ওঠে, অসভ্য লোক আমার পা ছাড়ুন। আয়ান মাহিরার পা ধরে মাহিরার পায়ে শব্দ করে একটা চুমু খায়। মাহিরার শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠে। আয়ান মাহিরার পায়ে চুমু খেয়ে মাহিরার পা তার খালি বুকের বা পাশে রেখে বলে, 
- তুই আমার এখানে থাকিস সানফ্লাওয়ার। ঠিক আমার বুকের বা পাশে। তুই কি সেটা অনুভব করতে পারিস না মাহি?
মাহিরার পা নিয়ে অনুভব করলো আয়ানের বুকের অস্বাভাবিক শ্বাস প্রশাস। মাহিরা বলে ওঠে, আমার পা ছাড়ুন বলছি। আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে, আজ আমাদের বাসর রাত। আজ তোকে কিভাবে ছেড়ে দেই মাহি? মাহিরা বলে ওঠে, আমি আপনাকে স্বামী মানি না। আয়ান অসহায় গলায় বলে ওঠে, কেন মানিস না? আমি তো তোকে কবুল বলেই বিয়ে করেছি। মাহিরা বলে ওঠে, আপনি বিবাহিত। আপনার বউ আছে। তাই আমি আপনাকে স্বামী মানি না। আয়ান আবারো অসহায় গলায় বলে ওঠে, আমার তুই ছাড়া আর কেউ নেই মাহি বিশ্বাস কর।
মাহিরা অবাক চোখে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, আপনি মিথ্যা বলছেন কেনো? আপনি না সেদিন বললেন আপনার ওয়াইফ আছে? আয়ান বাচ্চাদের মতো করে বলে, আছেই তো। মাহিরা চোখ বড়ো বড়ো করে তাকায়। বলে, তাহলে এই মাত্র মিথ্যা কেনো বললেন যে আমি ছাড়া আপনার আর কেউ নাই? আয়ান বলে ওঠে, ইউ আর মাই ওয়াইফ। 
মাহিরা থতমত খেয়ে যায়। সে ভাবনায় পরে যায়। সে কি সত্যিই এই লোকের ওয়াইফ? তখন তো বন্দুকের ভয়ে প্রাণ বাচাতে কবুল বলে ফেলেছে। মাহিরা তৃখন্ন দৃষ্টিতে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, আপনি কি সত্যি বলছেন? আপনার কি সত্যিই বউ নেই? আয়ান বলে ওঠে, আছে। মাহিরা আৎকে উঠে। বলে, কোথায় সে? আয়ান সহসা বলে, আমার চোখের সামনে। আয়ান চোখের সামনে বলায় মাহিরা আশে পাশে তাকায়। সে ছাড়া আর কেউ নেই এখানে। মাহিরা আবারো আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, আপনার চোখের সামনে তো আমি আছি। আয়ান বলে ওঠে,
- দেন ইউ আর মাই ওয়াইফ ।
আয়ানের মুখে আবারো ওয়াইফ কথাটা শুনে মাহিরার এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়। মাহিরা আবারো বলে, আপনার প্রথম বউয়ের কথা জিজ্ঞেস করেছি আমি। আয়ান আবারো শান্ত চোখে মাহিরার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলে, ইউ আর মাই ফাস্ট ওয়াইফ। মাহিরা ফটাফট বলে, তাহলে দ্বিতীয় বউ কোথায়? আয়ান আবারো বলে, ইউ আর মাই সেকেন্ড ওয়াইফ। 
মাহিরা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক কি বলছে পাগলের মতো? মাহিরা বলে ওঠে, আপনার মাথায় কি সমস্যা আছে? আমি কেনো আপনার ফাস্ট আর সেকেন্ড বউ হতে যাবো? আয়ান বলে ওঠে, শুধু ফাস্ট আর সেকেন্ড না। আমার থার্ড আর ফোর্থ বউও তুই হবি সানফ্লাওয়ার। মাহিরা ভ্রু কুচকে তাকায় আয়ানের দিকে।
আয়ান আর কিছু না বলে মাহিরার পা ধরে টেনে মাহিরাকে তার কাছে নিয়ে আসে। মাহিরা হকচকিয়ে যায়। আয়ান মাহিরাকে নিজের কাছে এনে মাহিরার গলায় মুখ গুজে দেয়। মাহিরার শরীর থরথর করে কেঁপে উঠে। আয়ান মাহিরা গলায় মুখ গুজে বাচ্চাদের মতো করে বলে,
- আজ আমার হয়ে যা না মাহি। তোকে অনেক আদর করবো। অনেক ভালোবাসবো। একটুও কষ্ট দিবো না তোকে। সারাজীবন তোকে মাথায় তুলে রাখবো। প্লিজ আজ আমার হয়ে যা। 
মাহিরা বলে ওঠে, আমার আপনাকে ভয় লাগে। আপনার কাছে বন্দুক আছে। আয়ান মাহিরা গলায় নাক ঘষে বলে, ওটা আসল বন্দুক না। মাহিরা চমকে উঠে বলে, তাহলে? আয়ান বাঁকা হেসে বলে, ওটা নকল বন্দুক ছিলো। তোকে ভয় দেখনোর জন্য নিয়ে এসেছিলাম। মাহিরা জোরে বলে ওঠে, কিইহহহহহ? 
আয়ান মনে মনে হাসে। মাহিরা এরার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলে, অসভ্য লোক। আপনি আমাকে নকল বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বিয়ে করে ফেলেছেন? আয়ান ছোট করে বলে, হুম..। মাহিরা আয়ানকে ধাক্কা দিয়ে বলে, ছাড়ুন আমায় বজ্জাত লোক একটা। আয়ান এবার মাহিরার গলায় নাক ঘষে নেশা মাখানো কন্ঠে আওড়ায়,
- তোকে ছাড়তে পারবো না। পৃথিবীর সব কিছু ছেড়ে দিবো, কিন্তু তোকে ছাড়া যাবে না।
মাহিরা নিজের ভাষা হারিয়ে ফেলে। সে কি বলবে এই লোককে ভেবে পাচ্ছে না। সে আয়ানের মুখে এমন কথা এর আগে কখনো শোনেনি। আয়ান আবারো নরম গলায় বাচ্চাদের মতো করে বলে,
- আমার কষ্ট হয় মাহি। তোকে ছাড়া থাকতে আমার খুব বেশি কষ্ট হয়। তুই কেন বুঝিস না আমায়? 
মাহিরা এবারো কিছু বলতে পারলো না। আয়ান আবারো অসহায় গলায় বলে,
- তুই যা বলবি তাই করবো। তুই যা চাইবো টাই দিবো। তুই যেভাবে বলবি সেভাবেই চলবো। প্লিজ আমার হয়ে যা আজ?
মাহিরা বাকরূদ্ধ। আয়ান মাহিরার থেকে কোনো জবাব না পেয়ে মাথা তুলে তাকায় মাহিরার দিকে। মাহিরা চোখ বন্ধ করে রেখেছে। আয়ান তা দেখে বাঁকা হাসে। পরপর সে মাহিরাকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে মাহিরার উপর ঝুঁকে পরে। মাহিরা তাকায় আয়ানের দিকে। মোমবাতির আলোয় আয়ানের মুখখানা তার কাছে খুব মায়াবি লাগছে। মাহিরার ভাবতেই অবাক লাগে এই লোক তার স্বামী। 
আয়ান মাহিরা দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে থাকে। দুজনের চোখাচোখি হচ্ছে কিন্তু কেউ আজ কারোর থেকে চোখ সরাচ্ছে না। আয়ান নরম গলায় নেশালো ভাবে ডাকে, মাহি..? মাহিরা আয়ানের চোখে চোখ রেখে ছোট করে বলে, হুম..! আয়ান বলে, আমার হবি..? মাহিরা হ্যা না কিছুই বললো না। সে তাকিয়ে থাকলো আয়ানের চোখের দিকে। এমন সময় রাতের আকাশে হঠাৎ এক বিদ্যুৎ চমকায়। মাহিরা হেঁচকি তুলে কেঁপে তাড়াতাড়ি আয়ানকে জড়িয়ে ধরে। আয়ান মাহিরার এমন কান্ড দেখে মুচকি হাসে। পরপর এক হাতে মাহিরার মাথার বুলিয়ে দিয়ে বলে, ভয় পাচ্ছিস? মাহিরা দু পাশে মাথা নাড়িয়ে না জানায়। আয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। পরপর মাহিরাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মাহিরার গালে এক হাত রেখে বলে, 
- কথা দিচ্ছি তোকে একটুও কষ্ট দিবো না। তুই তো আমার ফুল তাইনা? আমার সানফ্লাওয়ার তুই। আমি কি আমার সানফ্লাওয়ার কে কষ্ট দিতে পারি?
মাহিরা কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান এবার মাহিরার গাল থেকে হাত সরিয়ে নেয়। বিরক্ত হয়ে বলে, তুই কিছু বলছিস না কেন মাহি? তুই কি আমাকে চাস না? মাহিরা কিছু না বলেই হুট করে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে। আয়ান ভ্রু কুচকায়। এবার বিদ্যুৎ চমকায়নি। মাহিরা হঠাৎ তাকে জড়িয়ে ধরলো কেনো আয়ান প্রথমে বুঝলো না। পরক্ষণে আয়ান বুঝতে পেরে কিছু একটা ভেবে খুশি হয়। মাহিরা সম্মতি দিয়েছে ভাবতেই আয়ান বাঁকা হাসে। আয়ান এবার মাহিরা মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, 
- আই উইল বি জেন্টল, মাই সানফ্লাওয়ার।
মাহিরা কিছুই বললো না। আয়ান এবার মাহিরার টান নিয়ে নিজের থেকে ছাড়িয়ে মাহিরার সমস্ত মুখে অসংখ্য চুমু একে দিতে থাকে। মাহিরা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে এই লোকের পাগলামি দেখে। আয়ান মাহিরার সমস্ত মুখে চুমু দিয়ে মাহিরার গলায় নেমে আসে। সে প্রথম চুমুটা মাহিরার গলার তিল কৃত যায়গায় দেয়। মাহিরার শরীর আবারো কেঁপে উঠে। আয়ান তা দেখে বাঁকা হাসে। পরপর মাহিরার সমস্ত গলায় চুমু দিতে দিতে বলে, আই লাইক ইট। 
পরপর আয়ান হাত বাড়িয়ে মাহিরার কাঁধ থেকে শাড়ির আঁচল সরিয়ে নিতেই মাহিরা লজ্জায় আবারো আয়ানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। গুটিসুটি মেরে আয়ানের বুকে নিজেকে আড়াল করতে চায়। আয়ান তা দেখে বাঁকা হেসে বলে, হাসবেন্ডের কাছে এতো লজ্জা পেলে কিভাবে হবে সানফ্লাওয়ার? মাহিরা আয়ানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে, প্লিজ এখান থেকে চলুন। কেউ দেখে ফেলবে। আয়ান মাহিরার মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে, এখানে একটা কাক পক্ষিয়ো আসবে না মাহি। এটা আমার এরিয়া, সম্পুর্ন নিরাপদ। মাহিরা কিছু বললো না। আয়ান এবার খাটের পাশে থাকা সমস্ত পর্দা গুলো টেনে খুলে দেয়। পর্দা গুলো ছাড়া পেয়েই বাতাসের সাথে দুলতে শুরু করে। 
আয়ান এবার মাহিরাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে দিয়ে বলে, এবার ঠিক আছে? মাহিরা তাকিয়ে দেখলো সাদা পর্দা গুলো খাটের চারপাশে বাতাসের সাথে উড়ে বেড়াচ্ছে। মাহিরার আর কিছু বললো না। আয়ান আবারো মাহিরার গলায় মুখ গুজে দেয়। মাহিরার সমস্ত গলায় চুমু একে দিতে দিতে বলে, 
- আজ একটু বেশিই বেসামাল হবো। সামলাতে পারবি না আমায়? 
মাহিরার কাছ থেকে কোনো জবাব আসলো না। আয়ান নরম গলায় ডাকে, সানফ্লাওয়ার? মাহিরার ছোট করে জবাব দেয়, হুম। এই প্রথম মাহিরা তার সানফ্লাওয়ার ডাকে সাড়া দিয়েছে। আয়ান মাথা তুলে তাকায় মাহিরার দিকে। মাহিরা চোখ বন্ধ করে রেখেছে। আয়ান তা দেখে বাঁকা হেসে গেয়ে উঠে, 
এ দিন বেসামাল..
তোর স্বস্তি নাজেহাল..
দেখে কষ্ট হলো কাল ঝড় টাকে..
মাহিরা গান শুনে চোখ মেলে তাকায় আয়ানের দিকে। এই লোকটা যতটা খাড়ুস তার গানের গলা ততোটাই ভালো। আয়ান এবার হাত বাড়িয়ে মাহিরার কাদের ব্লাউজ খানিকটা নামাতেই তার চোখ ধাঁধিয়ে যায়। মাহিরার বা কাঁধে ঠিক মাঝবরাবর ছোটো একটা কালো কুচকুচে তিল। আয়ানের তা দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। আয়ান নেশালো চোখে মাহিরার দিকে তাকায়। এই মেয়েকে সে যতো দেখে ততো বেশি অবাক হয়। 
আয়ান এবার মাহিরার কাধে তৃল কৃত যায়গায় নিজের ঠোঁট ছোয়ায়। মাহিরার সর্বাঙ্গ শরীর কেঁপে উঠে। আয়ান মাহিরার তিল কৃত যায়গায় চুমু দিয়ে বলে, তোর আর কোথায় কোথায় তিল আছে মাহি। মাহিরা লজ্জায় পরে যায়। সে দু হাতে তার মুখ ঢেকে ফেলে। আয়ান বাঁকা হেসে বলে, আমি আজ সব উদ্ঘাটন করবো। আল্লাহ তোকে আর কতোটা সুন্দর করে বানিয়েছেন সেটাই দেখার আছে আমার। 
বলেই আয়ান আবারো মাহিরার কাঁধে মুখ ডুবিয়ে দেয়।অসংখ্য ছোটো ছোটো চুমু একে দিতে থাকে মাহিরার কাঁধে তৃল কৃত যায়গায়। মাহিরা এই লোকের পাগলামি দেখে বলে ওঠে, আপনি আসলেই একটা পাগল। আয়ান বাঁকা হাসে। তার হাত ছোটাছুটি করতে থাকে মাহিরার পুরো শরীর জুরে। সে মাহিরার পিঠে হাতরিয়ে মাহিরার ব্লাউজের চেন খুলে দেয়। পরপর তার রুক্ষ সুক্ষ হাত মাহিরার পিঠে গলিয়ে দিলে মাহিরা বরফের নেয় সেখানেই জ্বমে যায়। আয়ান মাহিরার ঠোঁটে শক্ত একটা চুমু খেয়ে আবারো নিজের পাগলামিতে মেতে উঠে অস্পষ্ট সরে গেয়ে উঠে,
তাই তো প্রেমের গান লিখেছি..
আর তাতে তোর নাম লিখেছি..
মাঝ রাতে বদনাম হয়েছে মন..
রাতের ঠান্ডা হাওয়া ছড়িয়ে পরে চারপাশে। প্রকৃতিও যেনো আজ মেতে উঠলো তাদের সাথে। রাতের আকাশ কালো মেঘের ছেয়ে গেছে। একটু পরপর বিদুৎ চমকাচ্ছে রাতের আকাশে। তাতে দুজন ব্যক্তির কোনো মাথা ব্যাথা নেই। দুটি দেহ মেতে উঠেছে তাদের পাগলামিতে। রাতের আকাশ বেয়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পরছে ধরণীতে।
চলবে..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন