ফন্ট সাইজ:
থিম:
এদেখা শেষ না হোক

৪৪তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার সাথী

#এ_দেখা_শেষ_না_হোক #পর্ব - (৪৪)

#writer_sumaiya_akter_sathi 
--
মাহিরার কেক বানানো শেষ। প্রথম বার অনুযায়ী কেকটা বেশ ভালোই হয়েছে। মুসকান হা হয়ে চেয়ে আছে মাহিরার দিকে। বলে, 
- তুমি কিভাবে কি করলে মাহিরা? আমি তো আরো ভেবেছিলাম তুমি হয়তো কেকটা নষ্ট করে ফেলবে। 
মাহিরা মুচকি হেসে কেকের ডেকোরেশন করতে করতে মুসকানকে বলে, আমি তো আগেই বলেছিলাম আমি এক দেখায় সব পেরে যাই। মুসকান বলে ওঠে, আমার তো এখনই তোমার কেকটা দেখে খেতে মন চাচ্ছে। মাহিরা মুচকি হেসে বলে, খেতে পারবে ধৈর্য ধরো একটু। তোমার ভাই কেক কাটার পর আমরা সবাই মিলে কেক খাবো কেমন? মুসকান আর কিছু না বলে দেখলো মাহিরা দক্ষ হাতে কেক ডেকোরেশন করেছে।
অর্নব মাত্র বাড়ি ফিরেছে। সে রান্না ঘরের পাশ দিয়ে যেতে নিলে মুসকান কে রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে ওঠে, তুই এখানে কি করছিস মুসকান? মুসকান দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে অর্নব দাঁড়িয়ে আছে। মুসকান অর্নবকে দেখে বলে ওঠে, 
- মাহিরা ভাইয়ার জন্য কেক বানাচ্ছে। আর আমি সেটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি। 
অর্নব অবাকের সুরে বলে, কি বলিস? মাহিরা কেক বানিয়েছে? কই দেখি তো, সর সামনে থেকে। বলেই অর্নব মুসকানকে ঠেলে মাহিরার কাছে এসে দেখে মাহিরা সত্যিই কেক ডেকোরেশন করছে। অর্নব তা দেখে বলে ওঠে, ও মাই গট মাহিরা? তুমি এতো সুন্দর কেকও বানাতে পারো?
মাহিরার কেক ডেকোরেশন করা শেষ। শুধু উপরের নাম লেখা বাকি। মাহিরা অর্নবের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আজকেই প্রথম বানালাম ভাইয়া। কেমন হয়েছে দেখে বলুন তো। অর্নব মাহিরার বানানো কেকটা দেখে বলে ওঠে, এটা সত্যিই তুমি বানিয়েছো মাহিরা? মাহিরা বলে, হ্যা ভাইয়া।
অর্নব বলে ওঠে, আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না তুমি এতো সুন্দর কেক বানিয়েছো মাহিরা। খুব সুন্দর হয়েছে কেকটা। মুসকান এবার পাশ থেকে বলে ওঠে, সকাল থেকে একটা কেকের পেছনে পরে আছে। সুন্দর না হয়ে যাবে কোথায়? মাহিরা অর্নবকে আবারো জিজ্ঞেস করে, আপনি কি সত্যি বলছেন ভাইয়া? কেকটা কি আসলেই সুন্দর হয়েছে?
অর্নব তার পকেট থেকে ফোন বের করে মাহিরার বানানো কেকের কয়েকটা ছবি তুলে বলে ওঠে, শুধু সুন্দর না। অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে কেকটা। দাড়াও আমি এক্ষনি ভাইয়াকে তোমার বানানো কেকের ছবি পাঠাচ্ছি। ভাইয়া তোমার এই কেকের ছবি দেখলে এক্ষনি উড়ে বাসায় চলে আসবে। বলেই অর্নব আয়ানকে ছবি পাঠাতে নিলে মাহিরা জোরে বলে ওঠে, নায়াআআআ।অর্নব ভ্রু কুঁচকে তাকায় মাহিরার দিকে। বলে ওঠে, কি হয়েছে মাহিরা। মাহিরা বলে ওঠে, 
- প্লিজ ভাইয়া উনাকে ছবি পাঠাবেন না। আমি উনাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছি। 
অর্নব মাহিরার কথায় মুচকি হাসলো। বলল, ঠিক আছে পাঠাবো না। কিন্তু তোমাকে কথা দিতে হবে এই কেক থেকে তুমি আমাকে ভাগ দিবে। বলো দিবে? মুসকান এবার পাশ থেকে বলে ওঠে,
- যাহ বাবা, এ তো দেখছি উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। সকাল থেকে মাহিরার পিছু পিছু ঘুরলাম আমি। মাহিরাকে এটা ওটা এগিয়ে দিলাম আমি। আর সে এসেছে কেক খেতে? হুহ..? 
বলেই মুসকান অর্নবকে একটা মুখ ভেঙ্গচি দেয়। অর্নব এবার মুসকানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, তোর এতো জ্বলছে কেনো? মাহিরা আমাকে কেক দিলে তোর সমস্যা কি? মুসকান বলে ওঠে, আমার ভাগে কেক কম পরবে। এটাই আমার সমস্যা। অর্নব এবার মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, মাহিরা তুমি কি আমাকে কেক দিবে না? নাকি আমি এক্ষনি ভাইয়াকে ছবি পাঠিয়ে দিবো। দিলাম কিন্তু। বলেই অর্নব আবারো মোবাইল হাতে নিলে মাহিরা বলে ওঠে, আমি আপনাদের দুইজন কেই খাওয়াবো ভাইয়া। 
অর্নব খুশি হয় মাহিরার কথায়। কিন্তু মুসকান খুশি হতে পারলো না। সে মুখ কালো করে বলল, না অর্নব ভাই। আমার ভাবি শুধু আমাকে কেক দিবে। আর কাউকে দিবে না। এমন সময় দরজা থেকে কারো কন্ঠ স্বর ভেসে আসে, কে কার ভাবি? উপস্থিত সবাই চমকে উঠে মালিহা বেগমের কন্ঠস্বর পেয়ে। সবাই তাকায় রান্নাঘরের দরজার দিকে। মালিহা বেগম দাড়িয়ে আছেন রান্না ঘরের দরজায়।
মালিহা বেগম কে দেখে মাহিরা আমতা আমতা করে বলে, আসলে মামুনি রাহা আপু কথা বলছিলাম আমরা। উনি তো আর কিছুদিন পরে আমাদের ভাবিই হবে। মালিহা বেগম আর কিছু না বলে মাহিরার কাছে এসে বলেন, কেক বানানো হয়েছে তোমাদের? মাহিরা হেসে বলে, জ্বি মামুনি। মালিহা বেগম বলেন, ঠিক আছে এখন যাও সব আমার রান্না ঘর থেকে।
মাহিরা বলে ওঠে, যাচ্ছি মামুনি। কিন্তু তার আগে তোমার রান্না ঘরটা পরিষ্কার করে দিয়ে যাই। মালিহা বেগম বলে ওঠেন, তোমাদের রান্না ঘর পরিস্কার করতে হবে না। আমি রহিমাকে দিয়ে রান্না ঘর পরিস্কার করিয়ে নিবো। মাহিরা আর কিছু না বলে তার বানানো কেকটা ফ্রিজে রেখে সবাইকে নিয়ে চলে যায়।
রাত এগারোটা। মাহিরা, অর্নব, মুসকান সবাই বসে আছে আয়ানের অপেক্ষায়। আয়ানের বাড়িতে আসার কোনো নাম গন্ধও নেই। এদিকে গড়ির কাটা প্রায় বারোটা ছুইছুই। বারোটা পেরুলেই নতুন দিন শুরু হয়ে যাবে। মাহিরা ভেবেছিলো আয়ান সন্ধ্যার পর বাড়িতে ফিরলে সবাই মিলে কেক কাঁটবে। কিন্তু আয়ান এখনো বাড়িতে ফেরেনি কেনো মাহিরার জানা নেই। সেদিন মাহিরা আয়ানকে পরকীয়ার কথা বলায় একটা লাভ হয়েছিলো। আয়ান সেদিনের পর থেকে সন্ধ্যার পরই বাড়িতে ফিরে আসতো। কিন্তু আজ সন্ধ্যা পেরিয়ে গভীর রাত হতে চললো। আয়ান এখনো বাড়িতে আসছে না।
অর্নব মুসকান মাহিরা তিনজনই আয়ানের রুম অন্ধকার করে লুকিয়ে বসে আছে আয়ানের রুমে। রুম অন্ধকার থাকলেও মোমবাতির আলোয় দেখা যাচ্ছে চারপাশ কিছুটা। তারা তিন জন খুব সুন্দর করে আয়ানের রুম সাজিয়েছে। ভেবেছে আয়ান রুমে আসলেই তারা রাত বারোটার আগে আয়ানকে সারপ্রাইজ দিবে। কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো। মাহিরার মন খারাপ হলো। আয়ানকে সে বার বার কল দিয়েও ফোনে পাচ্ছে না। আয়ানের ফোন বারবার বন্ধ বলছে। এই লোক কেনো নিজের ফোন বন্ধ করে রেখেছে মাহিরার জানা নেই। মাহিরা মন খারাপ করে মুসকানকে বলে ওঠে, 
- তোমার ভাই কখন আসবে মুসকান? বারোটা তো বাজতে চলল। 
মুসকান মাহিরাকে কিছু বলার আগেই অর্নব পাশ থেকে বলে ওঠলো, মন খারাপ করো না মাহিরা। ভাইয়া বারোটার আগেই চলে আসবে দেখো। মাহিরা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে ওঠে, এখনো তো আসছে না ভাইয়া। সেই সন্ধ্যা থেকে ওয়েট করছি, এখন তো বারোটা বেজে যাচ্ছে। বারোটার পর আসলে তো নতুন দিন শুরু হয়ে যাবে ভাইয়া। তখন তো আমাদের সব কিছুই বৃথা হয়ে। অর্নব মাহিরাকে আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়ানের রুমের দরজা খুলে যায়। সবাই দরজা খোলার শব্দে সাবধান হয়ে যায়। বুঝতে পারে আয়ান এসেছে।
আয়ান তার রুমের দরজা খুলে ভেতরে চোখ রাখতেই পুরো রুমে মোমবাতির আলো দেখে ভ্রু কুচকায়। পরপর রুমে একপা রাখতেই সঙ্গে সঙ্গে রুমের লাইট জলে উঠে। সাথে পার্টি পেপার ফুটে উঠে। আয়ান থমকে যায়। মাহিরা অর্নব মুসকান তিনজন হইহই করে পার্টি পেপার ফুটিয়ে একসাথে বলতে থাকে, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। 
আয়ান তব্দা খেয়ে চেয়ে থাকে। সবাই পার্টি পেপার উড়িয়ে একসাথে হৈহৈ করে একই কথা বারবার বলছে, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। আয়ান তাকিয়ে দেখে তিন বাধর একসাথে হাতে পার্টি পেপার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আয়ান নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে সে মেখে গিয়েছে পার্টি পেপারের ঝিকিমিকিতে। 
মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, হ্যাপি বার্থডে খাড়ুস লোক। পরপর অর্নব আর মুসকানও বলে ওঠে, হ্যাপি বার্থডে ভাইয়া। আয়ান কাউকে কিছু না বলে তার রুমের দিকে তাকায়। পুরো রুম ডেকোরেশন করা সাথে মোমবাতি দিয়ে সাজানো। আয়ানের তা দেখে মেজাজ খারাপ হয়। আয়ান তিনজনকেই ধমক দিয়ে বলে ওঠে,
- ইডিয়েট, এগুলো কি করেছিস আমার রুমে? 
মাহিরা এবার বলে ওঠে, আজ আপনার বার্থডে। তাই আমরা তিনজন মিলে আপনার রুমটাকে খুব সুন্দর করে সাজিয়েছি। আয়ান চোয়াল শক্ত করে বলে ওঠে, এসব বার্থডে ফার্থডে আমি পালন করি না জানিস না তোরা? এক্ষনি আমার রুম থেকে সব খুলে আমার রুম আগের মতো করে দে। অর্নব এবার পাশ থেকে বলে ওঠে, কতো কষ্ট করে সাজালাম আমরা। এক্ষনি সব খুলে ফেলতে বলোনা ভাইয়া। সকাল হলে তুমি না হয় সব খুলে ফেলো। 
আয়ান চোয়াল শক্ত করে বলে ওঠে, আমি আমার রুমে এসব দেখতে চাই না। থাপ্পড় খেতে না চাইলে তাড়াতাড়ি এসব নিয়ে বেড়িয়ে যা আমার রুম থেকে। মাহিরা আয়ানের দিকে এগিয়ে এসে বলে, ঠিক আছে সব খুলে আপনার রুম আবার আগের মতো করে দিবো। তার আগে আসুন আমরা সবাই মিলে কেক কাটি। বলেই মাহিরা আয়ানের এক হাত ধরতেই আয়ান সঙ্গে সঙ্গে মাহিরার হাত ঝাড়া মেরে ফেলে দিয়ে বলে ওঠে, আমার রুম থেকে যা সব। তোদের একটাকেও আমার রুমে দেখতে চাই না। 
মাহিরা বুঝলো আয়ান হয়তো রাগ করেছে তারা জন্মদিন পালন করায়। মুসকান তো তাকে আগেই বলেছিলো আয়ান এসব পছন্দ করে না। মাহিরা বলে ওঠে, শুধু কেকটা কেঁটেই আমরা চলে যাবো। প্লিজ রাগ করবেন না। আসুন আমরা কেকটা কাটি। বলেই মাহিরা আবারো আয়ানের হাত ধরলে আয়ান আবারো মাহিরার হাত ঝাড়া মেরে ফেলে দিয়ে বলে ওঠে, 
- ডোন্ট টাচ মি।
মাহিরা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। অর্নব আর মুসকানও কিছু বুঝলো না আয়ান এমন করছে কেনো। আয়ান এবার মুসকান আর অর্নবের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, তোদের আমার রুম থেকে যেতে বলেছি না? এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? বের হ আমার রুম থেকে। আয়ানকে রেগে যেতে দেখে অর্নব আর মুসকান কিছু না বলে বেরিয়ে যায় আয়ানের রুম থেকে। মাহিরা সাই দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে।
মাহিরাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আয়ানের আরো বেশি রাগ হয়। আয়ান বলে ওঠে, আমার রুম থেকে যেতে বলেছি মাহি। মাহিরা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। বলে ওঠে, আপনি এমন বিহেভিয়ার করছেন কেনো? কি হয়েছে আপনার? আয়ান এরার মাহিরার কাধে হালকা ধাক্কা দিয়ে মাহিরাকে পেছন ঠেলে দিয়ে বলে ওঠে, 
- তোর সাথে আর কেমন বিহেভিয়ার করবে? তুই আমার কোন কথাটা শুনিস? বল না? বল? 
আয়ানের ধাক্কায় মাহিরার কয়েক পা পিছিয়ে যায়।অবাক চোখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? আয়ান চোয়ান শক্ত করে মাহিরাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে, তোর কাছে তো আমাকে পাগলই মনে হয়। আমি ছাড়া এই পৃথিবীর সবাই তোর কাছে ফেরেস্তা। বলেই আয়ান মাহিরাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দুরে সরিয়ে দেয়। মাহিরা পরে যেতে নিলেও নিজেকে কোনো রকম সামলে ঘুরে তাকায় আয়ানের দিকে। আয়ান এক মুহুর্ত রুমে না দাঁড়িয়ে হনহনিয়ে বেলকনির দিকে চলে যায়।বেলকনিতে যেয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের করে সেটাতে আগুন ধরায়।
মাহিরা বুঝলো না আয়ান হঠাৎ এমন কেনো করছে। সে আয়ানের পিছু পিছু বেলকনিতে চলে যায়। বলে, কি হয়েছে বলবেন প্লিজ? আপনি কি কোনো কারনে আমার উপর রেগে আছেন? আয়ান কিছু না বলে একটার পর একটক সিগারেট ফুঁকছে। মাহিরা আয়ানকে সিগারেট খেতে দেখে বলে ওঠে, আপনি সিগারেট খাচ্ছেন কেনো? আপনাকে না বলেছি আর কখনো সিগারেট খাবেন না?
আয়ান সিগারেটে টান দিয়ে গম্ভীর গলায় বলে ওঠে, এখান থেকে যা মাহি। মাহিরা তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান একটার পর একটা সিগারেট শেষ করছে। মাহিরা আয়ানের কাছে এগিয়ে এসে আবারো আয়ানের হাত ধরে নরম গলায় বলে, আমি চলে যাবো সত্যি বলছি। আগে আসুন আমরা কেকটা কাটি? সেই সকাল থেকে আপনার জন্য আমি..। এতোটুকু বলতেই আয়ান ঝাড়া মেরে মাহিরার হাত ফেলে দিয়ে কিরবির করে বলে ওঠে, 
- আই সে, ডোন্ট টাচ মি।
বলেই আয়ান আবারো হনহনিয়ে রুমের ভেতর চলে যায়। মাহিরার এবার মেজাজ খারাপ হয়। একই কথা বারবার বলায় মাহিরা রুমের ভেতর যেয়ে আয়ানের ওপর চেচিয়ে বলে ওঠে, এতো রাগ দেখাচ্ছেন কেনো আপনি? কি এমন করেছি আমরা? সামান্য তো একটু সেলিব্রেট করতেই চেয়েছি। এটাও আপনার সয্য হচ্ছে না? এখানেও আপনার রাগ দেখাতে হবে? মাহিরা আয়ানের উপর চেচিয়ে কথা বলায় আয়ানের রাগ যেনো আরো ধেই ধেই করে বেড়ে যায়। আয়ান চোয়াল শক্ত করে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, 
- গলার আওয়াজ নিচে নামিয়ে কথা বল। তোর গলার রগ ছিড়তে আমার দুই মিনিটও লাগবে না।
মাহিরা আয়ানের দিকে তেড়ে এসে বলে ওঠে, নিন ছিড়ুন। ছিড়ে দেখান গলার রগ। আয়ান দাঁতে দাত চেপে বলে ওঠে, 
- আমাকে বাধ্য করিস না মাহি তোর গায়ে হাত তুলতে। আজ কিন্তু সত্যিই আমার হাত উঠে যাবে।
মাহিরা থামলো না। বলল, হাত উঠে গেলে উঠান। আমিও দেখতে চাই আপনি ঠিক কতোটা হাত উঠাতে পারেন। মাহিরার কথায় আয়ানের রাগ যেনো আরো বেশি বেড়ে যায়। সে নিজের ধৈর্য হারিয়ে কিরবির করতে করতে হাতের কাছে থাকা কেকটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলে ওঠে, জানোয়ারের বাচ্চা বেড়িয়ে যা আমার রুম থেকে। আর কোনোদিন যেনো তোকে আমার রুমে না দেখি। বের হ আমার রুম থেকে।
মাহিরা কিছু না বলে চেয়ে থাকে ফ্লোরে পরে থাকা কেকটার দিকে। তার পরিশ্রম আশা আকাঙ্খা সব এভাবে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো? মাহিরার চোখ ঘোলাটে হয়ে আসে। সে আর কিছু না বলে কোনো কথা ছাড়াই বেরিয়ে যায় আয়ানের রুম থেকে। অর্নব আর মুসকান বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিলো। মাহিরাকে আয়ানের রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে দেখে মুসকান বলে ওঠে, কি হয়েছে মাহিরা? ঠিক আছো তুমি? মাহিরা কাউকে কিছু না বলে নিজের রুমের দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। 
অর্নব বুঝলো কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে। সে এবার আয়ানের রুম ঢুকতেই দেখে মাহিরার বানানো কেক নিচে পরে আছে। অর্নব তা দেখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, এটা তুমি কি করলে ভাইয়া? আয়ান অর্নব কে আবারো তার রুমে দেখে বলে উঠে, কুত্তার বাচ্চা আমার চোখের সামনে থেকে যা। তোদের একটাকেও আমি আমার চোখের সামনে দেখতে চাইনা। অর্নব বলে ওঠে, দেখতে না চাইলে দেখতে হবেনা। কিন্তু তুমি আজ মাহিরার সাথে কাজটা একদমই ঠিক করোনি ভাইয়া।
আয়ান এবার অর্নবের কাধে ধাক্কা দিয়ে বলে ওঠে, তোর কাছ থেকে এখন আমার ঠিক বেঠিক শিখতে হবে? খুব বেশি ঠিক বেঠিক চেনা শিখে গিয়েছিস? আয়ানের ধাক্কায় অর্নব কয়েক পা পিছিয়ে যায়। আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, ঠিক বেঠিক শিখেছি কিনা জানিনা। কিন্তু যেই মেয়েটা সকাল থেকে এতো পরিশ্রম করে তোমার জন্য কেক বানিয়েছে? শুধু তুমি বাহিরের খাবার পছন্দ করোনা বলে। তার সাথে তোমার এই ব্যবহারটা করা একদমই ঠিক হয়নি।
আয়ান চমকে তাকায় অর্নবের দিকে। অর্নব আবারো বলে ওঠে, মেয়েটা সকাল থেকে এতো কষ্ট করে তোমার জন্য কেক বানালো? আর তুমি এক ঝটকায় সেই কেক ফেলে দিলে? তুমি তো এতো নির্দয় ছিলেনা ভাইয়া? কিভাবে পারলে এমনটা করতে? আয়ান অবাকের সুরে ফ্লোরে পরে থাকা কেকের দিকে ইশারা করে বলে, এই কেক মাহি বানিয়েছে?
অর্নব কিছু বলার আগেই মুসকান পাশ থেকে বলে ওঠে, হ্যা ভাইয়া এটা মাহিরা বানিয়েছে। তুমি বাহিরের খাবার পছন্দ করোনা বলে মাহিরা ঘরেই তোমার জন্য কেক বানিয়েছে। আমি বারবার নিষেধ করেছিলাম এসব না করতে। কিন্তু মাহিরা আমার কোনো কথাই শোনেনি। অর্নব এবার পাশ থেকে বলে ওঠে, চল মুসকান। তোর ভাই আসলো মাহিরার ভালোবাসা ডিজার্ভই করে না। বলেই অর্নব আর মুসকান চলে যায় আয়ানের রুম থেকে। আয়ান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ফ্লোরে পরে থাকা কেকের দিকে।
মাহিরা নিস্তব্ধ হয়ে তার রুমে এসে দরজা আঁটকে দরজার সাথে পিঠ ঠেকিয়ে ফ্লোরে বসে পরে। আয়ানের ব্যবহার আজ তাকে ভেতর থেকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছ। তার মনে হচ্ছে সে হয়তো অনেক বড়ো ভুল করে ফেলেছে ওই লোককে বিয়ে করে। মাহিরা হাঁটুতে মুখ গুজে দুকরে কেঁদে উঠে। তার আজ চিৎকার দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। এটা সে কি করে ফেললো? সে নিজের হাতে নিজের জীবন টা এভাবে ধংস করে দিলো? সে ওই লোকের দিকে এক পা বাড়াতে নিলে দুই পা পিছিয়ে যায়। সে কিভাবে করবে ওই লোকের সাথে সংসার? মাহিরার কান্না বাড়ে। সে নিজেকে নিজে ক্ষমা করতে পারছে না। সে কেনো বিয়ে করলো ওই লোককে? মরে গেলে না হয় মরে যেতো। তারপরও কখনো ওই লোককে বিয়ে করা তার ঠিক হয়নি।
আয়ান অপরাধের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে মাহিরার রুমের দরজার সামনে। সে দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে থেকে মাহিরার কান্নার শব্দ পাচ্ছে। আয়ান এবার অপরাধী ন্যায় নরম গলায় ডাকে, মাহি? কান্নার শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ আসলো না ভেতর থেকে। আয়ান নিজেও এবার দরজার সাথে পিঠ ঠেকিয়ে ফ্লোরে বসে পরে। মাহিরার কান্না বেড়েই যাচ্ছে। আয়ান চোখ বন্ধ করে শুনতে পাচ্ছে মাহিরার কান্না। মাহিরার কান্নার শব্দে তার বুকে ঝড় বইয়ে দিচ্ছে। আয়ান আবারো বলে ওঠে, 
- আই'ম সরি মাহি। প্লিজ এভাবে আর কাঁদিস না, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।  
ভেতর থেকে এবারো কোনো জবাব আসলো না। কান্না দ্বিগুণ বাড়লো। আয়ান এবার সময় নষ্ট করে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায়। কোনো কথা ছাড়াই হনহনিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়। আয়ান নিজের রুমে এসে সোজা বেলকনিতে আসে। পরপর কোনো কথা ছাড়াই সে বেলকনির রেলিংয়ের উপর উঠে পরে। সাবধানে রেলিং পেড়িয়ে সে লাফ দিয়ে মাহিরার রুমের বেলকনিতে চলে যায়। পরপর বেলকনির দরজা ঠেলে হুড়মুড়িয়ে মাহিরার রুমে ঢুকে পরে। সামনে তাকিয়ে দেখে মাহিরাকে অন্ধকারে দরজার সাথে পিঠ ঠেকিয়ে মুখ গুজে ফুপিয়ে কাঁদছে।
আয়ান কিছু না বলে এগিয়ে যায় মাহিরার দিকে। মাহিরা সামনে হাঁটু গেড়ে বসে মাহিরার মাথায় এক হাত রেখে বলে ওঠে, আই'ম সরি মাহি। প্লিজ আমাকে মাফ করে দে? মাহিরা ঝাড়া মেরে আয়ানের হাত ফেলে দেয়। আয়ান মুচকি হেসে মাহিরাকে টেনে তার কাছে নিয়ে আসতে চায়। কিন্তু মাহিরা আয়ানকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দুরে সরিয়ে দেয়। পরপর আবারো হাঁটুতে মুখ গুজে কাঁদতে থাকে। 
আয়ান এবার দু'হাতে শক্ত করে মাহিরাকে টেনে এনে তার বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। মাহিরা কিছুতেই এই লোকের কাছে আসবে না। সে তার হাত পা ছোটাছুটি করতে শুরু থাকে। আয়ান দু'হাতে শক্ত করে মাহিরাকে চাপ্টে ধরে রাখে নিজের সাথে। বলে ওঠে, শান্ত হ বেইবি। আর এমনটা হবেনা, ট্রাস্ট মি। মাহিরা শান্ত হলো না। সে কেঁদে কেঁদে আরো জোরে নিজের হাত পা ছোঁড়া ছুড়ি করতে শুরু করে। নিজেকে আয়ানের বাঁধন থেকে ছাড়াতে চায়। কিন্তু আয়ানের সাথে সে পেরে উঠে না। আয়ানের হাতের বাঁধন শক্ত থাকায় সে নিজেকে ছাড়াতে পারে না আয়ানের থেকে। 
মাহিরা এবার তার হাতের পাঁচ আঙ্গুলের নখ বসিয়ে দেয় আয়ানের গায়ে। আয়ান মাহিরার এমন কান্ড দেখে মুচকি হাসে, কিন্তু কিছু বলেনা। মাহিরা বেশ অনেকক্ষণ খামছে ধরে রাখে আয়ানের পিঠ। নখ বসে গিয়েছে আয়ানের পিছে। আয়ান এবার বলে ওঠে, ব্যাথা পাচ্ছি মাহি। আয়ানের কথায় মাহিরা আরো জোরে শক্ত করে খামছে ধরে রাখলো আয়ানের পিঠ। আয়ান তা দেখে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাহিরারকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে মাহিরার কাঁপা কাঁপা ঠোঁট জোরা আঁকড়ে ধরে। মাহিরা আবারো আয়ানের পিঠ সজোরে খামছে ধরে রেখে। একই জায়গায় আবারো নিজের হাতের নখ বসিয়ে দেয়। আয়ান সাথে সাথে মাহিরাকে ছেড়ে দেয়। নাক মুখ খিঁচে বলে ওঠে, 
- ইডিয়েট, এভাবে বিড়ালের মতো খামচি দিচ্ছিস কেন? আমি ব্যাথা পাচ্ছি না? আমার শরীরকে কি তোর শরীর মনে হয় না?
মাহিরা কিছু না বলে নাক টেনে ভেজা চোখে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান আবারো মাহিরার চুলে হাত গলিয়ে মাহিরার ঠোঁট জোরা আঁকড়ে ধরে। মাহিরা এবারও তার নখ গুলো বসিয়ে দেয় আয়ানের পিঠে। কিন্তু এবার আয়ান আর ছাড়লো না তাকে। মাহিরা যতোক্ষণ খামছে ধরে রেখেছে। সেও ততোক্ষণ মাহিরার ঠোঁট শুষে নিয়েছে। মাহিরা এক পর্যায় কেঁদে দিলে আয়ান সাথে সাথে মাহিরাকে ছেড়ে দেয়। বলে ওঠে, ব্যাথা লেগেছে? মাহিরা এবার হুট করে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে আরো জোরে জোরে কাঁদতে থাকে। আয়ান বুঝলো না এই মেয়ে আবারো এভাবে কাঁদছে কেনো। আয়ান মাহিরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে, হোয়াট হেপেন্ট মাহি? এভাবে কাঁদছো কেনো? মাহিরা আয়ানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলে, 
- আপনি স্বামী নামের কলঙ্ক। আপনার মতো স্বামীর কোনো প্রয়োজন নেই আমার।
আয়ান কিছুই বললো না। মাহিরা কেঁদে কেঁদে আবারো বলল, আপনি আজকের পর থেকে আর কখনো আমার কাছে আসবেন না। আপনি আমার কেউ না, আমি আপনাকে চিনি না। আয়ান এবার বলে ওঠে, না চিনলে এই অচেনা পুরুষের বুক কেঁদে ভাসাচ্ছিস কেনো?আয়ানের কথায় মাহিরা আরো শক্ত করে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে কেঁদে দেয়। আয়ান তা দেখে মনে মনে হাসে। মাহিরা কেঁদে কেঁদে আবারো বলে, আপনি আর কখনো আমার চোখের সামনে আসবেন না। আপনার সাথে আমার আর কখনো দেখা হবে না। আমি সকাল হলেই ইতালির চলে যাবো। আয়ান চোয়াল শক্ত করে বলে ওঠে,
- আর আমি সকাল হওয়ার আগেই তোকে দাফন করে দিবো।
মাহিরা এবার আয়ানকে ছেড়ে দেয়। আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, ঠিক আছে তাহলে এক্ষনি আমাকে দাফন করে দিন। আয়ান কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে মাহিরার দিকে। মাহিরা নিজের দু'হাতে চোখ মুছে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, হয়তো আপনি আজ আমাকে দাফন করবেন? নয়তো আমিই আজ নিজেকে নিজে দাফন করবো। আপনার মতো পুরুষের সাথে সংসার করার কোনো ইচ্ছে নেই আমার। এটাই আপনার সাথে আমার শেষ দেখা। বলেই মাহিরা উঠে দাড়ায়। আয়ান ঝড়ের বেগে উঠে এসে মাহিরাকে ধাক্কা দিয়ে দরজার সাথে চেপে ধরে কিরবির করে বলে ওঠে,
- তোর সাথে আমার প্রতি জন্মে দেখা হবে মাহি। সেটা তুই চাইলেও হবে, আর তুই না চাইলেও হবে। তোর সাথে আমার এ দেখা কোনো জন্মেই ফুরাবে না। এই জন্মে তো না-ই'ই। যদি পরের জন্ম বলে কিছু থেকে থাকে? সেই জন্মেও তোর সাথে আমার আবারো দেখা হবে। আমার কাছ থেকে তুই কোনো জন্মের মুক্তি পাবি না। এটা তুই গেরান্টি দিয়ে লিখে রাখ।
মাহিরা আয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, খোদার কাছে আমার ফরিয়াদ থাকবে। আপনার মতো পুরুষের সাথে আমার আর কোনো জন্মেই দেখা না হোক। আয়ান এবার মাহিরার গলা সজোরে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে, আমার সাথে দেখা না হলে মেনে নিবো। কিন্তু আমি ব্যতিত এই চোখ যদি কখনো অন্য পুরুষকে দেখে? তাহলে ওই খোদার কাছে আমারও ফরিয়াদ থাকবে। তোর এই চোখ সহ তোর পুরো জন্মটাকেই বৃথা করার শক্তি যেনো ওই খোদা আমাকে দেয়।
বলেই আয়ান মাহিরার গলা ছেড়ে দিয়ে মাহিরার গলায় উদ্মাদের মতো মুখ ডুবিয়ে দেয়। মাহিরা আবারো কেঁদে উঠে। সে কি পাপ করেছিলো যার জন্য তার এই লোকের সাথে দেখা হতে হলো? আয়ান কিছু না বলে মাহিরার গলায় মুখ ডুবিয়ে রেখে বলে ওঠে, কান্না থামা মাহি। মাহিরার কান্না থামলো না। আয়ান এবার মুখ তুলে তাকায় মাহিরার দিকে। মাহিরা অনবরত হেঁচকি দিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। আয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে টান দিয়ে মাহিরাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয়। মাহিরা আয়ানের বুকে মাথা ঠেকিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে ওঠে, আপনার মতো পুরুষ আমি আমার লাইফে কখনো চাইনি। আপনি কেন নিজের সাথে আমায় জড়ালেন? আয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাহিরার মাথায় এক হাত বুলিয়ে বলে, 
- তোকে ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব ছিলো না মাহি। তাই তোকে সারা জীবনের জন্য নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়েছি। 
মাহিরা এবার আরো জোরে জোরে কেঁদে দেয়। বলে ওঠে, আপনি একটু ভালো হলে কি এমন ক্ষতি হতো? আপনি কেনো একটু ভালো হতে পারলেন না ? আল্লাহ আপনাকে আরেকটু ভালো বানালে কি এমন হতো?আয়ান মাহিরার কথা শুনে মনে মনে হাসে। বলে ওঠে, সেটা তোর আল্লাহকে জিজ্ঞেস কর। মাহিরা নাক টেনে বলে ওঠে, 
- হে আল্লাহ তুমি এই খাড়ুস লোক টাকে কেনো এমন খাড়ুস বানালে? এই খাড়ুস লোকটাকে পরিবর্তন করে তুমি একে ভালো লোক বানিয়ে দাও। 
মাহিরার কথায় আয়ান এবার শব্দ করে হেসে দেয়। মাহিরা শুনতে পায় আয়ানের গা দোলানো হাসি। বিরবির করে ওঠে, আমাকে কষ্ট দিয়ে নিজে এখন হাসছে। বজ্জাত লোক একটা। আয়ান এবার মাহিরাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে মাহিরার হাত ধরে বলে, চলো আমার সাথে। বলেই আয়ান মাহিরার রুমের দরজা খুলে হাটা দিলে মাহিরা থেমে যায়। আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায় মাহিরার দিকে। বলে ওঠে, হোয়াট হেপেন্ট? 
মাহিরা বলে ওঠে, কোথায় যাচ্ছেন? আয়ান সহসা বলে, আমার রুমে। মাহিরা ঝাড়া মেরে আয়ানের হাত ছেড়ে দিয়ে বলে, আপনি যান আপনার রুমে। আমি আর জিবনেও আপনার রুমে যাবোনা। আয়ান বলে ওঠে, মেজাজ খারাপ করবে না মাহি। আমার সাথে চলো। বলেই আয়ান মাহিরার হাত ধরলে মাহিরা আবারো আয়ানের হাত ঝাড়া মেরে ফেলে দিয়ে বলে ওঠে, 
- ডোন্ট টাচ মি। 
আয়ান তাকিয়ে থাকে মাহিরার দিকে। এই মেয়ে তাকে রিপিট করছে? আয়ান বলে ওঠে, ভালো ভাবে বলছি মাহি। আমার সাথে চলো। মাহিরা বলে ওঠে, আমি কোথাও যাবোনা। আপনি বেড়িয়ে যান আমার রুম থেকে। বলেই মাহিরা নিজের রুমের দরজা লাগাতে নিলে আয়ান হুট করে মাহিরাকে কাঁধে তুলে নেয়। নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বলে ওঠে, 
- তুই যাবি তোর বাপও যাবে। 
মাহিরা আয়ানের পিঠে কিল ঘুষি মারতে মারতে বলে ওঠে, অসভ্য লোক ছাড়ুন আমায়। আমি যাবো না আপনার রুমে। আমার বাপ গেলে আমার বাপকে নিয়ে যান আপনার সাথে। আয়ান ছাড়লো না মাহিরাকে। মাহিরাকে নিয়ে নিজের রুমে এসে দরজা আঁটকে মাহিরাকে তার কাঁধ থেকে নামিয়ে দেয়। পরপর মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, 
- তোর বাপের প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই আমার। যা ইন্টারেস্ট সব তোর বাপের মেয়ের উপর। 
বলেই আয়ান মাহিরার গলায় মুখ গুজে দিলে মাহিরা সজোরে ধাক্কা দিয়ে আয়ানকে নিজের থেকে সরিয়ে দেয়। আয়ান ধমক দিয়ে বলে ওঠে, ইডিয়েট বাঁধা দিচ্ছিস কেন? মাহিরা বলে ওঠে, আপনাকে বলেছি না আমাকে ছুঁবেন না? কাছে আসছেন কেনো বারবার? আয়ান বলে ওঠে, একশো বার ছুঁবো হাজার বার ছুঁবো। কি করবি ছুঁলে? মাহিরা বলে ওঠে, আমি আপনার নামে মামলা করবো। আয়ান বলে ওঠে,
- কি বলে মামলা করবি তুই? কি বলবি যেয়ে? আমার স্বামী আমাকে ছুঁয়েছে সেটা বলবি? 
আয়ানের কথায় মাহিরা থতমত খেয়ে যায়। আয়ান আবারো বলে ওঠে, পৃথিবীর প্রতিটা স্বামী তার বউকে ছোঁয়। এটা অপরাধ হলে তুই আমি কেউ এই পৃথিবীতে জন্মাতাম না। মাহিরা বলে ওঠে, আমি আপনাকে স্বামী মানি না। আয়ান বলে ওঠে, মানতে হবেনা। আমি মানলেই চলবে। বলেই সে মাহিরার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। পরপর কোনো কথা ছাড়াই মাহিরার হাত ধরে ফ্লোরে বসে পরে। মাহিরাকে টেনে তার কোলে বসিয়ে দিলে মাহিরা তাকিয়ে থাকে তার পরে থাকা কেকের দিকে। কেকটা কাত হয়ে ফ্লোরে পরে আছে। 
মাহিরা নিজের কেকের এই করুন দশা দেখে এবার ভে ভে করে কেঁদে দেয়। আয়ান হতভম্ব হয় মাহিরার এমন কান্না দেখে। বলে ওঠে, হোয়াট হেপেন্ট? এভাবে গাধার মতো কাঁদছিস কেনো? মাহিরা কেঁদে কেঁদে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আমার এতো সুন্দর কেকটা আপনি ভস্কে দিয়েছেন। বলেই মাহিরা আয়ানের কোলে বসে হাত পা ছুঁড়ে কাঁদতে থাকে। আয়ান তা দেখে মিটিমিটি হাসে। পরপর পাশের টেবিল থেকে একটা চামচ হাতে তুলে নিয়ে বলে, 
- আমার জন্য কেক বানিয়েছিস এটা আগে বলিসনি কেনো? 
মাহিরা কেঁদে কেঁদে বলে ওঠে, আমি তো আপনাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আপনি এসে যে আমাদের সবাইকে সারপ্রাইজ করে দিবেন। বলে মাহিরার আয়ানের বুকের সাথে মাথা ঠেকিয়ে কাঁদতে থাকে। আয়ান মুচকি হেসে আর কিছু না বলে হাতের চামচ দিয়ে ফ্লোরে পরে থাকা কেকের উপরের অংশ থেকে কিছুটা কেক নিয়ে খেতে শুরু করে। এক চামচ কেক মুখে দিতেই আয়ান হতভম্ব হয়। তাড়াতাড়ি আরেক চামচ কেক মুখে তুলে বলে ওঠে, 
- সো ইয়াম্মি। ইট'স রিয়েলি গুড। 
বলেই আয়ান আরো এক চামচ কেক নিয়ে খেতে শুরু করে। মাহিরা বুঝলো না আয়ান কিসের কথা বলছে। সে আয়ানের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে আয়ান ফ্লোরে পরে থাকা কেক খাচ্ছে। মাহিরা তা দেখে চেঁচিয়ে বলে ওঠে, অসভ্য লোক। আপনি ফ্লোরে পরে থাকা কেক খাচ্ছেন কেনো? আয়ান বলে ওঠে, উপর দিয়ে খাচ্ছি সমস্যা নেই। বলেই সে আরো এক চামচ কেক তুলে মুখে দিতে নিলে মাহিয়া আয়ানের হাত ধরে ফেলে। বলে ওঠে, ফেলুন এটা। আর একটুও খাবেন না।
আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আমার বউ কেক বানিয়েছে। তাই এই সম্পুর্ন কেক আমি খাবো। বলেই আয়ান মাহিরার হাত ছাড়িয়ে দিয়ে আবারো কেক খেতে থাকে। মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, এখন কেক খেয়ে কি হবে? বারোটা তো বেজে গিয়েছে? আয়ান কেক খেতে খেতে বলে, নো বারোটা বাজেনি। মাহিরা আয়ানের কথায় দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকায়। বারোটা বাজতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। মাহিরা আর কিছু বললো না। দেখলো আয়ান মজা করে কেক খাচ্ছে। তা দেখে মাহিরা বলে ওঠে, ভালো থাকতে তো আর খাননি। কতো করো বললাম আসুন কেকটা কাটি। তখন তো শুনলেন না আমার কথা। কেক ফেলে দিয়ে এখন সেই কেক খেতে হবে না। ফেলুন এসব। আয়ান কেক খেতে খেতে বলে ওঠে, 
- আমি কি জানতাম নাকি এই কেক তুই বানিয়েছিস? জানলে তো এসেই হামলে পরতাম তুই আর তোর কেকের উপর।
মাহিরা চোখ বড় বড় করে তাকায় আয়ানের দিকে। আয়ান বাঁকা হেসে আবারো কেক খেতে শুরু করে। মাহিরা বলে ওঠে, কতো আশা করেছিলাম সবাই মিলে কেক কাটবো সেলিব্রেট করবো। মুসকান আর অর্নব ভাইয়াকে কথা দিয়েছিলাম তাদের আমার বানানো কেক টেষ্ট করাবো। কিন্তু আপনি এসে আমার আশা ভরসা সব নষ্ট করে দিলেন। আয়ান কেক খেতে খেতে দুপাশে মাথা নাড়িয়ে বলে ওঠে, 
- উহুম, আমার কেক ওরা কেনো খাবে? আমার বউ আমার জন্য কেক বানিয়েছে, এটা শুধু আমি খাবো। বাকি নিচের টুকু পিঁপড়া খেয়ে আমাদের জন্য দোয়া করবে। 
পরপর আয়ান মাহিরার দিকে এক চামচ কেক বাড়িয়ে দিয়ে বলে ওঠে, তুই চাইলে একটু টেষ্ট করতে পারিস। এক চামচ ভাগে পাবি শুধু। মাহিরা কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান বলে ওঠে, থাক তোর খেতে হবে না। আমিই খাচ্ছি। বলেই আয়ান মাহিরার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া কেক নিজেই খেয়ে নেয়। মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, কেক মজার হয়েছে? আয়ান খেতে খেতে বলে,
- বেস্ট হয়েছে। আমার লাইফের খাওয়া সবচেয়ে বেস্ট কেক এটা। বেস্ট ফর এভার। 
মাহিরা বিশ্বাস করলো না আয়ানের কথা। বলল, আপনি কি সত্যি বলছেন? নাকি আমাকে খুশি করতে চাইছেন কোনটা? আয়ান আবারো মাহিরার দিকে এক চামচ কেক বাড়িয়ে দিয়ে বলে ওঠে, একবার খেয়েই দেখ। তাহলেই বুঝবি। মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, অসভ্য লোক আমি এই ফ্লোরে পরে থাকা কেক খাবো? আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, বাঁচি পঁচা খাবার খেতে পারলে এটা আর এমন কি?
মাহিরা থমকে যায় আয়ানের কথায়। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক কিভাবে জানলো সে যে বাসি পঁচা খাবার খেয়েছে? সে তো আয়ানকে কিছুই বলেনি। মাহিরা বলে ওঠে, আপনি কিভাবে জানলেন আমি বাসি পঁচা খাবার খেয়েছি? আয়ান কিছু না বলে বলল, হা করো। এটায় কোনো ময়লা নেই। আমি উপর থেকে তুলেছি এটা। মাহিরা আর কিছু না বলে হা করলে আয়ান মাহিরা মুখে এক চামচ কেক তুলে দেয়। 
মাহিরা নিজের বানানো কেক খেয়ে নিজেই কিছুটা অবাক হয়। কেক টা আসলেই মজার হয়েছে। সে এতো সুন্দর কেক বানিয়েছে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আয়ান বলে ওঠে, এখন তুমি বলো কেকের টেষ্ট কেমন? মাহিরা ছোট করে বলে, হ্যা ভালো। আয়ান মুচকি হেসে বলে, দেখতে হবে না কেকটা কে বানিয়েছে? মাহিরা ভ্রু কুচকে বলে, কে বানিয়েছে? আয়ান বলে ওঠে, আমার বউ বানিয়েছে। বলেই আয়ান আরেক চামচ কেক নিয়ে নিজে খেতে শুরু করে। মাহিরা এই পাগল লোকের কান্ড দেখে মুচকি হাসে। 
____________
রেজওয়ান ও তুহিন এসেছে পরিত্যক্ত পুলিশ স্টেশনে। এখান থেকে কিছু ডকুমেন্টস রেজওয়ানের খুব বেশি প্রয়োজন। তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি কোথায় কি আছে সেটাই এক এক করে চেক করছে রেজওয়ান। তার বাবা মা মারা যাওযার পর সে কখনো এসব কিছু দেখতে আসেনি। আজ প্রথম এসেছে সে। এর কারন সে এখন নিঃশ। তাই সে তার বাবার কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে চাইছে। কিন্তু তার জানা নেই তার বাবা কোথায় কি রেখে গিয়েছেন। এক্সিডেন্টের পর পুলিশ সেগুলো তদন্ত করেছে। সেগুলোই দেখতে এসেছে রেজওয়ান।
রেজওয়ানের বাবা ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। সমাজে তার নাম ডাকও বেশ ছিলো। রাজনীতিবিদ হওয়ায় তার শত্রু সংখ্যাও ছিলো বেশি। এই শত্রুতার কারণেই তাকে মরতে হয়েছে। শত্রুতার জন্য তার পুরো পরিবার টাকে ধংস করে দিয়েছে এক নিমিষেই। রেজওয়ানের বাবা মার নরমাল এক্সিডেন্ট হয়নি। খুব প্ল্যান মাফিক এক্সিডেন্ট করিয়ে তাদের মেরে ফেলা হয়েছে। ভাগ্য ক্রমে রেজওয়ান সেদিন বেঁচে গিয়েছিলো। কারণ রেজওয়ান সেদিন সেই গাড়িতে ছিলো না। কিন্তু রেজওয়ান তার বাবা, মা, বোনের খুনিকে ছেড়ে দেয়নি। খুজে বের করে এক এক টাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
তুহিন রেজওয়ানের সাথে ফাইল চেক করতে করতে বলে ওঠে, বস আপনার বাবা, মা, আর বোনের নাম কি ছিলো? রেজওয়ান নিজেও ফাইল চেক করতে করতে বলে ওঠে, তা জেনে তোর কাজ কি? তুহিন বলে ওঠে, বলুন না বস। আমি না হয় আপনার সম্পর্কে একটু কিছু জানলাম। আমি তো আপনার সম্পর্কে তেমন কিছুই জানিনা। আপনি তো কিছুই বলেননি নিজের সম্পর্কে কখনো।
রেজওয়ান বলে ওঠে, যা জানিস না তা জানাই ভালো। চুপচাপ নিজের কাজ কর। বলেই রেজওয়ান আবারো নিজের কাজে মনোযোগ দিলে তুহিন বলে ওঠে, বস একবার বলুন না প্লিজ। আমার খুব জানার ইচ্ছে আপনার পরিবার সম্পর্কে। রেজওয়ান এবার তার হাতে থাকা ফাইলটা তুহিনের দিকে ছুড়ে দিয়ে বলে ওঠে, এই ফাইলে সবার নাম ও ডিটেইলস লেখা আছে পরে নে। 
তুহিন খুশি হয়ে রেজওয়ানের থেকে ফাইল নিয়ে বলে ওঠে, থ্যাংক ইউ বস। পরপর তুহিন রেজওয়ানের দেওয়া ফাইটি খুলে পরতে শুরু করে। তুহিন খুশি মনে ফাইলটি খুলে পরতে থাকলেও ফাইলে থাকা একটা নাম দেখে তুহিনের বারবার খটকা লাগে। তুহিন ভ্রু কুঁচকায় নামটির দিকে তাকায়। তার মনে কিছু একটা খটকা লাগছে।
তুহিন কৌতুহল বসত একটার পর একটা কাগজ পরতে শুরু করে। পরপর সে রেজওয়ানের দিকে অবাক চোখে তাকায়। রেজওয়ান ফাইল থেকে কিছু ডকুমেন্টস বের করে পাশে রাখছে। তুহিন এবার রেজওয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, বস আপনার পুরো পরিবারের কোনো ছবি নেই? মানে ফ্যামিলি ফটো আরকি, নেই আপনার কাছে? রেজওয়ান বলে ওঠে, রাজবাড়ীতে যে বড় করে আমার পুরো পরিবারের ফ্যামিলি ফটো টানানো ছিলো। দেখিসনি সেটা? 
তুহিন বলে ওঠে, না বস ওটা তো ধুলো পরে মাকড়সাড়া বাসা বেঁধে ফেলেছে। তাই কখনো ধুলো সরিয়ে ভালো করে দেখা হয়নি। রেজওয়ান বলে ওঠে, তাহলে এখন গিয়ে ধুলো সরিয়ে দেখে নে। তুহিন বলে ওঠে, ওটা তো সেদিন রাজবাড়ী পরিষ্কার করতে যেয়ে আরবিন ছবিটা ঠিক করতে দিয়েছে। অনেক পুরনো ছবি প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে বস। রেজওয়ান আর কিছু বলল না। তুহিন আবারো বলল, বস আপনার ফোনে কোনো পিক নেই? রেজওয়ান বলে ওঠে, থাকলে তোর কি? 
তুহিন এবার রেজওয়ানের কাছে এগিয়ে এসে বলে, বস একবার আপনার পুরো পরিবারের ফ্যামিলি ফটো টা দেখান আমায়। রেজওয়ান বিরক্ত হয় তুহিনের উপর। সে এসেছে নিজের কাজে, আর তুহিন এসব বলছে? রেজওয়ান তার পকেট থেকে ফোন বের করে তুহিনের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে ওঠে, ফোনের লক স্ক্রিনে আমার ফ্যামিলি পিক দেওয়া আছে দেখে নে। আর হ্যা আমার ফোনের লক একদম খুলবি না। হোম স্ক্রিনে আমার বউয়ের পিক দেওয়া আছে।  
তুহিন মুচকি হেসে রেজওয়ানের থেকে ফোন নিয়ে ফোনের লক স্ক্রিন দেখার জন্য ফোন অন করতেই রেজওয়ানের ফ্যামিলি ফটো স্ক্রিনের উপর ভেসে ওঠে। পিকটা দেখা মাত্র তুহিন থমকে যায়। তার কৌতুহল সত্যিতে পরিনত হয়েছে। পিকটা দেখে তুহিন নিজেকেই নিজে বিশ্বাস করতে পারছে না।
তুহিন এবার অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে রেজওয়ানের দিকে। রেজওয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, বস আমার আপনাকে কিছু বলার আছে। রেজওয়ান তার প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে তুহিনের হাত থেকে নিজের ফোন কেড়ে নিয়ে বলে ওঠে, এখন সময় নেই আমাকে যেতে হবে। বলেই রেজওয়ান পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে যায়। তুহিন পেছন থেকে বলে ওঠে, বস আমার কথা গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্লিজ একটু শুনুন। রেজওয়ান যেতে যেতে বলে ওঠে, তোর গুরুত্বপূর্ণ কথা শোনার টাইম নেই আমার কাছে। 
তুহিন এবার উঠে রেজওয়ানের পিছু পিছু যেতে যেতে বলে ওঠে, একবার আমার কথা শুনুন বস। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। আপনি..। এতোটুকু বলতেই রেজওয়ান পেছন ঘুরে সজোরে তুহিনের নাক বরাবর এক ঘুষি মারে। বলে ওঠে, কুত্তার বাচ্চা আমাকে ভুল শেখাতে এসেছিস তুই? তোর থেকে কম জানি বুঝি আমি? তুহিন নিজেকে সামলে নিয়ে বলে ওঠে, একবার মাথা ঠান্ডা করে আমার কথাটা শুনুন বস। রেজওয়ান ধাক্কা মেরে তুহিন কে দুরে ফেলে দিয়ে বলে ওঠে, আমার কাজে বাঁধা দিবি না তুহিন। একদম তোকে প্রানে মেরে ফেলবো। বলেই রেজওয়ান গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। তুহিন তাকিয়ে থাকে রেজওয়ানের যাওয়ার পানে। সে এই সত্যি কথা গুলো কিভাবে জানাবে রেজওয়ানকে?
আয়ানের কেক খাওয়া প্রায় শেষের দিকে। মাহিরা তাকিয়ে দেখে এই লোক সত্যি সত্যিই সম্পুর্ন কেক খেয়ে ফেলেছে। শুধু মাত্র নিচের অংশ টুকু ছাড়া। আয়ান আরো এক চামচ কেক নিতে গেলে মাহিরা তা বলে ওঠে, থামুন এবার হয়েছে তো। এখন কি ফ্লোরে লেগে থাকা কেকও চেটে চেটে খাবেন নাকি? আয়ান লাস্ট এক বাইট কেক খেয়ে মাহিরাকে বলে ওঠে, 
- পিপড়াদের উপর আমার খুব হিংসা হচ্ছে মাহি। 
মাহিরা ভ্রু কুচকায় আয়ানের কথায়। বলে ওঠে, কেনো পিঁপড়ারা আপনার কি ক্ষতি করেছে? আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, ওরা তোর হাতে বানানো কেক খাবে। এটা আমার সয্য হচ্ছে না। তাই আমার খুব হিংসে হচ্ছে পিঁপড়াদের উপর। মাহিরা বলে ওঠে, আপনি কি পাগল? পরে থাকা জিনিস পিঁপড়া'রা খাবে। এসে হিংসা করার কি আছে? আয়ান কিছু না বলে মাহিরার হাত টেনে এনে মাহিরার হাতে চুমু খায়। মাহিরার দিকে তাকিয়ে আবারো বলে ওঠে,
- তোর সব কিছু শুধু আমার মাহি। তোর কোনো কিছুর ভাগ আমি কখনো কাউকে দিতে রাজি নই। তোর বেলায় আমি বড্ড হিংসুটে মাহি।
মাহিরা কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক আসলেই অদ্ভুত। আয়ান এবার মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, ঘুরতে যাবি? মাহিরা চমকে উঠে এতো রাতে ঘোড়ার কথা শুনে। বলে ওঠে, এতো রাতে ঘুরতে যাবো? আয়ান বলে ওঠে, সো হোয়াট? মাহিরা ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখে ঘড়ির কাটা রাত একটা ছুঁইছুঁই। মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, এতো রাতে বেরোনো ঠিক হবে না। আয়ান এবার মাহিরাকে নিয়ে ওঠে দাঁড়ায়। বলে, ঠিক বেঠিক আমি দেখি না মাহি। আমার মন যেটা বলে আমি সেটাই করি। বলেই মাহিরার হাত ধরে আয়ান রুম থেকে বেরিয়ে যায়। মাহিরা তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক কখন কি করে বোঝা মুশকিল। 
আয়ান মাহিরাকে নিয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামছে। মাহিরা পা টিপে টিপে নামলেও সে সহসা নিচে নামছে। মাহিরা আয়ানের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে নিচে নামতে নামতে বলে ওঠে, এতো রাতে কেউ আমাদের একসাথে দেখে ফেললে কি ভাববে বলুন তো? আয়ান বলে ওঠে, এতো রাতে ভুত প্রেত ছাড়া আর কেউ জেগে আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। মাহিরা ভুতের কথা শুনে আৎকে উঠে তাড়াতাড়ি এসে খপ করে আয়ানের এক বাহু আকড়ে ধরে। পরপর মনে মনে আয়াতুল কুরসি পরে বুকে ফু দিয়ে আয়ানকে বলে ওঠে, আমি ভুত খুব ভয় পাই। প্লিজ এসব কথা বলবেন না। 
আয়ান কিছু না বলে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে মাহিরাকে নিয়ে দরজার দিকে যেতে নিলে মাহিরা আয়ানের হাত টেনে ধরে বলে ওঠে, এতো রাতে না গেলে হয়না? আমরা না হয় সকালে কোথাও যেতাম? আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, তুই আমার বউ। তোর সাথে আমি দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা ঘুরতে পারি। মাহিরা বলে ওঠে, প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন। এতো রাতে কেউ দেখে ফেললে সত্যিই সমস্যা হয়ে যাবে। 
আয়ান বলে ওঠে, আমি তো সেটাই চাই কেউ আমাদের দেখে ফেলুক। এই বাড়ির সবাই জানুক তুই আমার বউ। আমরা বিবাহিত, হাসবেন্ড ওয়াইফ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের দেখছে না কেনো মাহি। এই বাড়ির মানুষদের কি চোখ নেই? আয়ানের গা ছাড়া ভাব দেখে মাহিরা রাগী চোখে তাকায় মাহিরার দিকে। আয়ান আবারো বলে ওঠে, তোর সাথে মাঝরাতে বদনাম হতে চাচ্ছি। এতো কট খেতে চাচ্ছি তোর সাথে, কিন্তু কেউ কট দিচ্ছে না আমাদের। এই বাড়ির মানুষদের চোখ কি অন্ধ মাহি? মাহিরা এবার আয়ানের কথা শুনে রেগে বলে ওঠে, অসভ্য লোক আমি চাইছি কেউ যেনো আমাদের না দেখে। আর আপনি তার উল্টো টা চাচ্ছেন? আপনি আমার সাথে কট খেয়ে বদনাম রটাতে চাচ্ছেন? আয়ান বলে ওঠে, 
- সবাই কট খেয়ে বিয়ে করে। আর আমি বিয়ের পর কট খেতে চাচ্ছি। এতে মন্দ কি? 
মাহিরা বলে ওঠে, আপনি আসলেই একটা অসভ্য? আয়ান মাহিরার হাত ধরে দরজার দিকে যেতে যেতে বলে, এই অসভ্য লোকের সাথে তোর সারাজীবন কাটাতে হবে। মরে গেলেও এই অসভ্য লোক ভুত হয়ে তোর পিছু নিবে। মাহিরা যেতে যেতে বলে ওঠে, আমার ঘুম পেয়েছে। প্লিজ রুমে চলুন। আয়ান মাহিরাকে নিয়ে গাড়ির কাছে যেতে যেতে বলে ওঠে, আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমাবি। মাহিরা আর কিছু বললো না।
আয়ান মাহিরাকে নিয়ে তার বাইকের কাছে এসেছে। অনেকদিন হলো তার বাইক চালানো হয় না। আয়ান বাইকের কাছে এসে বাইকে উঠে মাহিরার দিকে একটা হেলমেট বাড়িয়ে দিয়ে নিজেও আরেকটা হেলমেট পরে নেয়। মাহিরা তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক বাইকও চালাতে পারে? মাহিরা যতোবার দেখেছে আয়ানকে শুধু গাড়ি চালাতেই দেখেছে। আয়ানের যে বাইক আছে মাহিরা সেটাও জানেনা। আজকেই প্রথম দেখছে সে। মাহিরা বলে ওঠে, আপনি বাইকও চালাতে পারেন। 
আয়ান নিজের হেলমেট পরে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, কোনো সন্দেহ আছে? মাহিরা দু পাশে মাথা নাড়িয়ে না জানায়। আয়ান এবার মাহিরার হাতে হেলমেট দেখে বলে ওঠে, হেলমেট পরতে পারিস না? মাহিরা দু'পাশে মাথা নাড়িয়ে আবারো না জানায়। আয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাহিরাকে নিজের কাছে টেনে আনে। পরপর মাহিরার মাথায় হেলমেট পরিয়ে দিতে দিতে বলে ওঠে, তোকে যে আমার আর কতো কি শেখাতে হবে আল্লাহই ভালো জানে। বলেই সে মাহিরাকে হেলমেট পরিয়ে দিয়ে বলে ওঠে, বাইকে উঠে বস। মাহিরা আয়ানকে প্রশ্ন করে বসে, কিভাবে বসবো? আয়ান ভ্রু কুচকে তাকায় মাহিরার দিকে। বলে ওঠে, এর আগে কখনো বাইকে উঠিস নি? মাহিরা বলে ওঠে, না বাইকে উঠার সুযোক হয়নি কখনো। ইতালিতে তো আব্বুর গাড়ি আছে, বাইক নেই।
আয়ান হেলমেটের আড়ালে মুচকি হাসলো। বলল, আমার মতো করে উঠে বোস। মাহিরা বলে ওঠে, কিন্তু মেয়েরা তো এভাবে বাইকে বসে না। আমি দেখেছি এক সাইড করে মেয়েরা বাইকে বসে। কিন্তু কোন সাইড করে বসে? ডান সাইড নাকি বাম সাইড সেটাই বুঝতে পারছি না। আয়ান বলে ওঠে, স্বামী স্ত্রী দুজনে বাইকে উঠলে আমার মতো করেই বসে। তুই কখনো বাইকে উঠিস নি তাই জানিস না। মাহিরা বলে ওঠে, আপনি কি সত্যি বলছেন? আয়ান বলে ওঠে,
- হান্ড্রেড পারসেন্ট সত্যি। বিশ্বাস না হলে গুগলে সার্চ দে। হাউ ডু কাপলস রাইড অ্যা বাইক?
মাহিরা আর বেশি কথা বাড়াতে চাইলো না। এখানে তাদের কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে। মাহিরা আয়ানের কথা মতো বাইকে উঠে বসলো। আযান তা দেখে মনে মনে হাসলো। মুখে বলল, আমাকে শক্ত করে ধরে বোস মাহি। নাহলে কিন্তু পেছনে থেকে পরে যাবি। মাহিরা এবার পেছন থেকে আয়ানের শার্ট টেনে ধরে রাখে। আয়ান তা দেখে বলে ওঠে, আমাকে ধরতে বলেছি আমার শার্ট না। মাহিরা এবার আয়ানকে ধরে বসে বলে, আপনি কি সত্যি বাইক চালাতে পারেন? নাকি আমাকে ফেলে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন কোনটা? 
আয়ান বাইক স্ট্যার্ট দিয়ে বলে ওঠে, মরলে একসাথে মরবো আর বাঁচলেও একসাথে বাঁচবো। বলেই আয়ান বাইক টান দেয়। মাহিরা হুড়মুড়িয়ে এসে আয়ানের পিঠের সাথে ধাক্কা খায়। আয়ানের বাইকটি শিকদার বাড়ির গেট পেড়িয়ে বেড়িয়ে যায়। এদিকে বাড়ির ভেতর থেকে একজন ব্যক্তি কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আয়ানের বাইকের দিকে। 
আয়ানের বাইকটি শাই শাই করে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঢাকা শহরের অলি গলি রাস্তা ঘাট। গভীর রাত হওয়ায় রাস্তায় জ্যামঝট নেই বললেই চলে। আয়ান এই সুযোকে ফুল স্পিডে বাইক চালাচ্ছে। মাহিরা তার সমস্ত শক্তি দিয়ে আয়ানকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। এই লোক যেভাবে বাইক চালাচ্ছে, কখন যানি দুজনে উপরের টিকিট কেটে পরপারে চলে যায় বলা মুসকাল। আয়ান এবার বাইক চালাতে চালাতে মাহিরাকে বলে ওঠে, তুই কি জানিস মাহি? তুই'ই একমাত্র নারী যে আমার বাইকে প্রথম উঠেছিস। মাহিরা বলে ওঠে, আর আপনি কি জানেন? আপনি একমাত্র পুরুষ, যার বাইকে আমি প্রথম উঠেছি। 
আয়ান মাহিরার কথা শুনে বাঁকা হাসে। বলে ওঠে, বেইবি এটার জন্য হলেও তোকে খুব চুমু খেতে ইচ্ছে করছে। মাহিরা চমকে উঠে আয়ানের কথায়। একে তো এই লোক জোরে বাইক চালাচ্ছে। তার উপরে আবার এসব বলছে? মাহিরা বলে ওঠে, অসভ্য লোক চুপচাপ গাড়ি চালান। আয়ান সাথে সাথে গাড়ির ব্রেক কষে। হঠাৎ ব্রেক কষায় মাহিরা আবারো বারি খায় আয়ানের সাথে। আয়ান বাইক থামিয়ে গম্ভীর গলায় বলে, বাইক থেকে নাম। মাহিরা বুঝলো না আয়ান তাকে কেনো হঠাৎ বাইক থেকে নামতে বললো। মাহিরা বলে ওঠে, কিছু হয়েছে কি? আয়ান নিজের হেলমেট খুলে বলে ওঠে, হ্যা গাড়ির তেল শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন আমাদের হেঁটে হেটে বাড়ি যেতে হবে।
মাহিরা এবার বাইক থেকে নেমে যায়। চিন্তিত কন্ঠে বলে, কি বলছেন? আমাদের এতো পথ হেঁটে হেঁটে যেতে হবে? আয়ান ছোট করে বলে, হুম। পরপর সে মাহিরাকে নিজের কাছে টেনে এনে মাহিরার মাথার হেলমেট খুলতে শুরু করে। মাহিরা বলে ওঠে, আমি তো বেশি হাঁটতে পারি না খাড়ুস লোক। একটু হাঁটলেই আমার পা ব্যাথা করে। আমি কিভাবে বাড়ি যাবো? আয়ান মাহিরার হেলমেট খুলে দিয়ে বলে, কোলে করে নিয়ে যাবো। মাহিরা আয়ানের কথায় আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়ান হঠাৎ আক্রমণে মাহিরার ঠোঁট জোরা আঁকড়ে ধরে। 
হঠাৎ ঘটনায় মাহিরা ভেবাচেকা খেয়ে যায়। সে অনবরত থাপ্পড় দিতে থাকে আয়ানকে। আয়ান বেশি সময় না নিয়ে মাহিরাকে ছেড়ে দেয়। আয়ান নেশালো কন্ঠে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, আই লাইক ইট বেইবি। মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝিয়ে বলে ওঠে, অসভ্য লোক এই মাঝ রাস্তার কি শুরু করেছেন আপনি? আয়ান বলে ওঠে, ক্রেভিং হচ্ছিলো তাই। মাহিরা রাগী চোখে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান আবারো মাহিরার মাথায় হেলমেট পরিয়ে দিয়ে বলে ওঠে, বাইকে উঠ। সামনে বসবি আমাকে জড়িয়ে ধরে। মাহিরা ভ্রু কুচকে বলে ওঠে, আপনি না বললেন বাইকের তেল শেষ? 
আয়ান বাঁকা হেসে বলে ওঠে, তোকে বাইক থেকে নামানোর জন্য বলছি। মাহিরা কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান তা দেখে বলে ওঠে, সামনে আয় বেইবি। বলেই আয়ান মাহিরার হাত ধরতে নিলে মাহিরা ঝাড়া মেরে আয়ানের হাত ফেলে দিয়ে বলে ওঠে, কক্ষনো না। বলেই মাহিরা আবারো আয়ানের বাইকের পেছনে উঠে বসে। কিন্তু এবার সে আর আয়ানকে ধরে বসলো না। আয়ান তা দেখে বলে ওঠে, ইডিয়েট পেছনে বসেছিস আমাকে ধরে বসছিস না কেনো?
মাহিরা বলে ওঠে, সমস্যা নেই ঠিক আছি আমি। আয়ান আর কিছু না বলে বাইক টান দিতেই মাহিরা হুড়মুড়িয়ে এসে আয়ানের পিঠের উপর আছড়ে পরে। দু'হাতে আয়ানের কোমড়ের অংশ খামচে ধরে বলে ওঠে, আল্লাহ এই লোককে একটু হেদায়েত দাও। আয়ান বাঁকা হেসে বলে ওঠে, আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট হেদায়েত দিয়েছে মাহি। এখন শুধু আমাকে বোঝার জন্য আল্লাহর তোকে হেদায়েত দেওয়াটা বাকি আছে। মাহিরা আর কিছু বললো না।
হঠাৎ রাতের আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে মাহিরা তাড়াতাড়ি আরো শক্ত করে পেছন থেকে আয়ানকে চাপ্টে ধরে। বৃষ্টি শুরু হতেই মাহিরা বলে ওঠে, প্লিজ বাড়ি চলুন। আপনি যেভাবে বাইক চালাচ্ছেন? এই বৃষ্টির বাস্তায় আমরা নির্ঘাত এক্সিডেন্ট করবো। আমার খুব ভয় লাগছে, বাড়ি চলুন প্লিজ। আয়ান এবার তার কোমড়ে থাকা মাহিরার হাত দুটো টেনে তার বুকের সাথে মিশিয়ে দিয়ে বাইক আরো ফুল স্পিডে দিয়ে গেয়ে ওঠলো..
"এসেছি তোকে নিয়ে ফিরবো বলে"
"মনেরই পথ চিনে আয়না চলে"
"ধরছেরে জ্বর বুকে, ছাড়েনা"..
"পারছে তোকে ছাড়া, না রে না".. 
চলবে..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন