শাহরিয়ারের শক্ত হাতে টান খেতে খেতে প্রায় হোঁচট খেয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল আফরোজা। পুরো অডিটোরিয়াম তখনও হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। চারদিকে ফিসফিস, বিস্মিত দৃষ্টি আর চাপা গুঞ্জন। উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে একজন আরেকজনকে বলছে,
“এটা কি হলো?”
“ওদের মধ্যে কি কিছু আছে?”
চারপাশের প্রশ্নগুলো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল।আফরোজার চোখে তখন রাগের আগুন। সে কয়েকবার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। শাহরিয়ারের মুঠো এতটাই শক্ত ছিল যে তার কব্জিতে লালচে দাগ পড়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভবনের পাশের নির্জন করিডোরে পৌঁছাতেই শাহরিয়ার হঠাৎ থেমে গেল।
আফরোজা ঝটকা মেরে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলে উঠলো,
“ হেই মিষ্টার! আপনার সাহস কী করে হলো? সবার সামনে আমাকে এভাবে টেনে আনার?”
আফরোজার কথা শুনে শাহরিয়ার ধীর পায়ে তার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। তার চোখদুটো লালচে হয়ে আছে। চোয়াল শক্ত। বুকের ভেতর জমে থাকা অস্থিরতা স্পষ্ট। সে আফরোজার খুব কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো,
“সাহস? সাহসের কথা বলছো তুমি?”
তার কণ্ঠ নিচু, কিন্তু ভয়ংকর শীতল। সে ক্ষুব্ধ হয়ে আফরোজার গাল চেপে ধরে বললো,
“ ভণিতা করা কোনো কালেই আমার পচ্ছন্দ না। আমার ভালো লেগেছে তোকে। এখন তুই চাইলেও আমার না চাইলেও আমার। এই তুই কি ভাবিস নিজেকে? আমার সামনে তুই অন্য একটা ছেলের হাত ধরে নাচবি, আর আমি বসে বসে সেটা দেখবো—এটা ভেবেছিলি? শালি মাতারি, আমাকে সাধু পুরুষ মনে হয় তোর?”
শাহরিয়ারের কথা শুনে আফরোজা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো শাহরিয়ার দিকে। অতঃপর মাথা নুইয়ে বললো,
“ ছিঃ মুখের কি ভাষা? আর সে ছেলেটা আমার কাজিন হয়!”
আফরোজার কথা শুনে এক মুহূর্তের জন্য শাহরিয়ার থমকে গেল। তার চোখের দৃষ্টি বদলে গেলেও মুখের গাম্ভীর্য একটুও কমলো না। সে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“কাজিন হলেও তার তোর গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার নেই।”
শাহরিয়ারের কথা শুনে আফরোজা ক্ষোভে ফেটে পড়লো এবং তেজি কণ্ঠে বললো,
“আর আপনার আছে? কে আপনি আমার? কোন অধিকারে আমাকে সবার সামনে অপমান করলেন?”
এই প্রশ্নে শাহরিয়ার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর আশেপাশে কাউকে দেখতে না পেয়ে আফরোজাকে কাছে টেনে তার গালে স্লাইড করতে করতে গেয়ে উঠলো,
মেয়ে তোর রাগী রাগী ফেইস,
আমার দেখতে লাগে বেশ,
তোর লাল মরিচের ঝাঁঝ
আমায় করেছে মাতাল,
তাই তো আমি দিন - দুনিয়া ভুলে
এখন তোর প্রেমেই মশগুল,,,
( এই গানটা আমার নিজস্ব লিখা)
এতোটুকু গান গেয়েই শাহরিয়ার আফরোজাকে ধাক্কা দিয়ে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে বললো,
শালি, ধানি লঙ্কা! ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দিবো, আমি তোর কে? আর তোর উপর আমার কিসের অধিকার। এখানেই দেখিয়ে দিতাম,,,,, কিন্তুু, পথে - ঘাটে জনগণদের সিনারি দেখানোর লোক আমি না। আমি মানুষটা সাধু না হলেও অসাধু না।
কথাগুলো বলেই শাহরিয়ার ধুপধাপ পায়ে ঐ স্থান ত্যাগ করলো আর আফরোজা অবাক দৃষ্টিতে শাহরিয়ার যাওয়ার পানে তাকিয়ে নিজেকেই কথা শুনিয়ে বললো,
হায়রে! আফরোজা, দুনিয়ায় কি ছেলের অভাব পড়েছিলো? যে তোকে উষ্ঠা খেয়ে এমন অসভ্য লোকের প্রেমেই পড়তে হলো? আজিব...
এতোটুকু বলতে না বলতেই সেখানে হাজির হলো সায়রা। আফরোজাকে দেখে সায়রা হাসি হাসি মুখ করে বললো,
তোর কি ভাগ্যে! শাহরিয়ার শিকদার তোর সাথে নাচ করেছে,,, আমি তো পুরাই অবাক...
সায়রার কথা শুনে আফরোজা সামনের দিকে পা বাড়িয়ে বললো, তোর অবাক হওয়ার লেভেল শেষ হলে আমার সাথে আসতে পারিস।
আফরোজার কথা শুনে সায়রা আফরোজার পিছন পিছন আসতে আসতে বললো,
শাহরিয়ার শিকদারের সাথে নাচ করে, তোর অনু্ভূতি কেমন?
সায়রার কথা শুনেও আফরোজা কোনো উত্তর না দিয়ে সায়রার হাত টেনে ধরে বললো,
ফুচকা খাবি?
এই ব্যাপারে না আছে নাকি?
তাহলে চল.....
কথাখানা বলেই আফরোজা, সায়রা ভার্সিটির গেইটের দিকে এগিয়ে গেলো।
.
.
.
শাহরিয়ার আফরোজাকে রেখে তার বাইকে করে সোজা বাসায় চলে এসেছে। শাহরিয়ার বাসার সদর দরজায় পা রাখতেই মেহেরীন গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
দাঁড়াও।
মায়ের গম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনে শাহরিয়ার বাধ্য ছেলের মতো ঐ স্থানেই দাঁড়িয়ে পড়লো। মেহেরীন এগিয়ে এসে শাহরিয়ারের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো,
মেয়েটা কে ছিলো? তাকে তুমি চিনো?
মেহেরীনের কথা শুনে শাহরিয়ার এবার চারপাশে তাকিয়ে দেখতে পেলো, তার দাদাজান ও দাদীমা ড্রয়িংরুমের এক পাশে বসে আছে আর ইবনাত তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। শাহরিয়ার এবার স্বাভাবিক কণ্ঠে কোনো রকম ভণিতা ছাড়াই বললো,
মেয়েটা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে। তার নাম আফরোজা আক্তার রোদেলা তার সম্পর্কে আমি এতোটুকুই জানি, আম্মাজান।
শাহরিয়ার কথা শুনে মেহেরীন পু্ণরায় বললো,
এতোটুকু পরিচয়ে তুমি তার সাথে নাচলে কি করে? তাহলে, তুমি কি মেয়েটিকে ভালোবাসো?
আমি আমার ফিলিংস সমন্ধে অবগত নই, আম্মাজান। আজকে প্রোগ্রামে মেয়েটি একটি ছেলের সাথে নাচ করছিলো, যা আমার সহ্য হয়নি। তাই, অতিরিক্ত রাগ থেকে আমি এমন করে ফেলেছি, আম্মাজান। তবে, আমাকে কিছুদিন সময় দিন আমি নিজের ফিলিংস সমন্ধে বুঝে আপনাকে জানাবো।
শাহরিয়ারের কথা শুনে মেহেরীন শাহরিয়ারের মাথায় স্নেহ ভরা হাত রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
তোমার উপর আমার ভরসা আছে। যা ভালো মনে হয়, তাই করো। তবে, তুমি সামনে এমপি পদে ঘোষিত হতে যাচ্ছো, এটা মাথায় রেখো।
মেহেরীনের কথা শুনে, শাহরিয়ার মাথা দুলিয়ে তার রুমের দিকে রওনা হলো।
❌অনুমতি ছাড়া কপি করা, কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌
#গল্পঃদহনস্পর্শ
#কলমেঃআনিকা_রহমান
#পর্বঃ০৭
চলবে,,,,
#নোটঃ( আজকের পার্ট ছোট হয়ে গেছে, তার জন্য দুঃখিত। তবে, নেক্সট পার্ট বড় করে দিবো। গল্প পড়ে দ্রুত রেসপন্স করো, তোমাদের রেসপন্সের উপর ভিত্তি করে নেক্সট পার্ট আসবে। আর কমেন্টে জানিও আজকের পার্ট কেমন হইছে। ধন্যবাদ 💖💖)