ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন আড়ালে

১ম পর্ব

লেখক: তানজিলা আনিম

#মন_আড়ালে (কাজিন রিলেটেড) 

সূচনা পর্ব
তানজিলা আনিম
চট্টগ্রাম মূল শহরের কোলাহল থেকে দূরে উঁচুনিচু সবুজ উপত্যকার কোল ঘেঁষে মসৃণ পীচ রাস্তায় সর্বোচ্চ গতিতে চলছে কালো রঙা আধুনিক বাইকটা।ফুরফুরে শীতল হাওয়াটুকু শেষ বারের মতো অস্থিমজ্জায় গেঁছে নিচ্ছে বাইকে বসা মানুষটা।প্রসস্ত রাস্তার অন্তিমে গভীর খাঁদ। রোদের আমেজ থাকলেও কুয়াশা কাটেনি এখনো নাকি সমতল থেকে উপরে সব আসলে ভেজা মেঘ!
রাস্তার শেষ মাথায়, খাদের বিপরীতে ছোট্ট টিনের চালা দেয়া চায়ের দোকানটার সামনে বাইক থামে।বাইকের মালিককে বসতে দেখেই নাসু রংদি নামের ছেলেটা তার স্পেশাল উপকরণ দিয়ে বানানো গাঢ় লালচে খয়েরি চা ভর্তি কাপ এগিয়ে দিয়ে ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললো,"কাব্য ভাই তাহলে আসলেই চলে যাচ্ছেন আমাদের ছেড়ে।"
জবাবে হেসে মাথা নাড়ে কাব্য।কুয়াশার দিকে চোখ রেখে উপভোগ করে চোখ জুড়িয়ে যাওয়া সজীব প্রকৃতি। চায়ে চুমুক বসাতেই ফোন বেজে ওঠে।না দেখেই তা কেটে দেয় কাব্য।তবে সেকেন্ড পরিমাণও অপেক্ষা না করে আবারও একের পর কলের তোপে কাঁপতে থাকে ফোনটা।কাব্য উদ্যোগহীন,স্থির চিত্তে চায়ের কাপ শেষ করে। বাইকের দিকে এগোতে এগোতে ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখে।কল তখনও বেজে চলেছে। "বাবা" দিয়ে সেইভড নাম্বারটা দেখে ঠোঁটের কোণ তুলে হাসলো কাব্য।ফোন আসার বহর দেখেই বুঝেছিলো কে হতে পারে!মীর শাফায়াত ওয়াহিদ,তার বাবা।কাব্যকে সারাক্ষণ ধীরস্থির হওয়ার উপদেশ দিলেও কাব্য জানে তার থেকেও কয়েক হাজার গুন বেশি অস্থিরমনা তার বাবা স্বয়ং।তবে সেটা শুধু কাব্যের বেলায়,কাব্যের সামনে।বাকি দুনিয়ার কাছে তিনি 'ওয়াহিদ ইন্ডাস্ট্রির ' চেয়ারম্যান, গম্ভীর,সুবিবেচক এক ব্যাক্তিত্ব।
হ্যালমেট টা বাইকের ওপর রেখে ঠেস দিয়ে দাঁড়ায় কাব্য।বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ফোন কানে ঠেকাতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো গমগমে স্বর।এই সকাল বেলাতেই উত্তপ্ত মেজাজের ফোয়ারা ছুটিয়ে দিয়ে সেই স্বর বলে উঠলো, " বারবার কল কাটছো কেনো,বেয়াদব ছেলে?তোমার কি মনে হয়,তোমার সাথে খোশগল্প করার জন্য ফোন দিয়েছি আমি.?ফোন দিয়ে তোমার মতো অসভ্যের সাথে হাহা হিহি করার কোনো শখ আমার নেই।ইনফ্যাক্ট তোমার সাথে কথা বলারই কোনো শখ নেই আমার।"
- ফোন কিন্তু তুমিই দিয়েছো।
বাবার একরাশ জ্বলন্ত কথা শেষে একেবারে নির্লিপ্ত, ঠাণ্ডা গলায় জবাব দেয় কাব্য।শাফায়াত ওয়াহিদ খানিক থতমত খেলেও তেঁতো স্বরে বললেন,
- হ্যাঁ করেছি, তো?
সেই আগের মতোই নির্বিকার কাব্য," তো নিজে ফোন দিয়ে এতো লম্বা লম্বা বক্তৃতা আমাকে শোনাবে না।এগুলো তোমার অফিসের স্টাফদের জন্য তুলে রাখো।"
 দাঁতে দাঁত চেপে শাফায়াত হুংকার ছুঁড়লেন আগের চেয়েও জোরে,"আমাকে জ্ঞান দিচ্ছো কোন যোগ্যতায়?নিজে কি করে বেড়াচ্ছো সেটা দেখো আগে।ডক্টর উপাধি লাগিয়ে ঘুরছো অথচ কাজকর্ম সব গুন্ডা-বদমায়েশদের মতো।মারা মারি-ঝগ ড়াঝাটি ছাড়া কি দুটোদিন শান্ত থাকতে পারোনা তুমি?মাসে এই নিয়ে তিনবার তোমার সিনিয়র সার্জন নালিশ পাঠিয়েছে আমার কাছে।।আগেই ওয়ার্নিং দেয়া হয়েছিলো।তারপরেও আবার কিভাবে এসবে জড়াও?জুনিয়র ইন্টার্ণ কে মেরেছো কেনো? আমার মানসম্মান রাখার ইচ্ছে হয়না তোমার?"
কাব্য এবার একটু খোঁচা দেয়ার ছলেই বলে ওঠে," বাবা-ছেলের সম্পর্ক যেহেতু আছে আমাদের মধ্যে তাই না চাইতেও আমার কাজের প্রভাব আপনার উপর পড়ে যায়।কিন্তু আপনিতো আমার ব্যাপারে সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করতে পারেন। এবারেও করছেন না কেনো?"
- ওই যে,বাবা হয়েছি যে!সব সময় মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারিনা।
কাব্যকে চুপ থাকতে দেখে শাফায়াত সাহেব নিজেই বললেন," আমার ছেলে হয়ে এতো রাগ কোত্থেকে পেলে বলোতো?আমার চৌদ্দ পুরুষে এমন মেজাজি কেউ নেই।বাসায় আমাদের জ্বালিয়ে মেরে শান্তি পাওনি এখন কাজের জায়গায়ও নিজের তেজ দেখিয়ে বেড়াচ্ছো।শোনো,রাগ কমাও,মাথা ঠান্ডা রেখে চলো।এই রাগের জন্যই ... 
বাক্য শেষ না করেই থেমে গেলেন শাফায়াত।কি বলে ফেলছিলেন বুঝতে পেরেই শব্দ করে কেশে উঠে গলা পরিষ্কার করে বললেন," মাথা ঠাণ্ডা রেখে না চললে আবার ট্রান্সফার করে দিতে পারে,বুঝেছো?"
- করে দেবেনা,দিয়েছে।অলরেডি ট্রান্সফার লেটার হাতে পেয়ে সেটা টেবিলে ভাঁজ করে রেখে এসেছি।
 আরেকদফা মাথা চাপড়ানোর মতো করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শাফায়াত বললেন," এ্যজ এক্সপেক্টেড! যা করে বেড়াচ্ছো ট্রান্সফার আর এমন কি!কক্সবাজার,চট্টগ্রাম তো ঘোরা হলো।তা এবার কোথায় করলো?খুলনা,বরিশাল নাকি সিলেট?"
- ঢাকায়।
- ঢাকায়?
চমকে উঠার মতো প্রশ্ন ছুড়লেন শাফায়াত।বাবার মুখের অবস্থা কল্পনা করে বাঁকা হাসলো কাব্য।আয়েশি ভঙিতে বললো,"এতোদিন পর বাড়িতে ফিরবো,পরিবারের সাথে থাকবো, ভেবেই এক্সাইটেড।"
শাফায়াত সাহেব হুট করেই বুকে ভার অনুভব করলেন।বাঁ পাশটা চেপে ধরলেন হাত দিয়ে।অশান্ত গলায় বললেন," তুমি সত্যিই ঢাকায় ফিরছো?"
কাব্য জবাব দেয়ার আগেই রাবেয়া জামান ছিনিয়ে নিয়ে নিলেন ফোনটা।বিস্ময় ভরা গলায় কাব্যকে বললেন,"আব্বা তুই সত্যিই বাড়িতে ফিরছিস?আমার কলিজা,এতদিনে মায়ের কোলে ফিরতে মন চাইলো?"
শাফায়াত সাহেব বিরক্ত হয়ে বললেন," আহা!কথা শেষ করতে দেবে তো।তোমার ছেলে কোনো রাজকার্য করে বেড়ায় না যে এমন উদগ্রীব হয়ে থাকো।"
ইতোমধ্যে চোখ ভিজে উঠেছে রাবেয়ার।স্বামীর কথায় কান না দিয়ে কাঁদতে কাঁদতেই বললেন," তোকে দেখতে পাচ্ছিনা আব্বা।"
কাব্য পুনোরায় ভিডিও কল দিয়ে ভিডিও অন করলো।মায়ের কান্নাভেজা মুখের দিকে তাকিয়ে স্বচ্ছ হাসতেই উজ্জ্বল হলো রাবেয়ার মুখখানাও," কবে আসছিস বাবা?"
শাফায়াত সাহেব বুকে হাত রেখেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে রেখেছেন মা- ছেলের কথোপকথনে।এরইমধ্যে যে হাজার চিন্তার ডামাডোল চলছে তার মাথায় তা মুখ দেখেই যে কেউ বলে দেবে। ক্যামেরার ফাঁক দিয়ে বাবার তটস্থ হয়ে থাকা চোখের দিকে তাকিয়ে হুট করে বেপরোয়া হতে গিয়েও নিজেকে দমিয়ে নিলো কাব্য। মুখে গম্ভীর ছাপ ফেলে বললো," ঢাকায় আসছি কিন্তু বাসায় থাকবোনা।ফ্ল্যাট রেন্ট নেয়া হয়ে গেছে।ওখানেই উঠছি আমি।"
খানিকের জন্য চিন্তিত হলেও এবার স্বস্তি দেখা দিলো শাফায়াত সাহেবের চোখে মুখে। নিজের ইগো বিসর্জন দিয়ে এই ছেলে কখনই এ বাড়িতে ফিরবেনা তা শাফায়াত ভালো করেই জানেন।।তবে এতোক্ষনের হাস্যোজ্জ্বল মুখটা মলিণ হয়ে উঠলো রাবেয়ার।ব্যাকুল গলায় বললেন," আর রাগ,অভিমান রাখিস না, বাবা।তিনটা বছর হয়ে যাচ্ছে বাড়ি ছেড়েছিস।ইদে-উৎসবে কাছে পাইনা আমার বুকের মানিককে।কাজের অযুহাত দিয়ে দিয়ে দূরে থাকিস।এবারতো কাজেই ফিরছিস তাহলে আর মায়ের থেকে দূরে কেনো থাকবি? "
পুনরায় বেপরোয়া ভাবটা ফিরে এলো কাব্যের মাঝে।শক্ত চোয়ালে তাচ্ছিল্য করে বলে উঠলো," তুমি কিসব অভিমান, রাগের কথা বলছো আমি বুঝতে পারছিনা,আম্মু।আর বাকি রইলো তিন বছর আগে কি হয়েছে,জেনে রাখো,সেসবের কোনো অস্তিত্ব মীর কাব্য ওয়াহিদ এর মধ্যে অবশিষ্ট নেই।"
ছেলের মাত্রাতিরিক্ত রাগের কথা অজানা নয় রাবেয়ার।বরং ছোট থেকেই কাব্যের জেদি, ছন্নছাড়া আর তেজি মনোভাব সামলাতে হিমশিম খেয়েছে পুরো পরিবার।এখোনো ওর জেদের কাছে হার মানতে হচ্ছে তাদের।মায়ের অভিমানী মুখটা থেকে দৃষ্টি সড়িয়ে নিলো কাব্য।মুখ ঘুরিয়ে রেখেই স্বাভাবিক হয়ে বললো,"তুমি এসে থাকবে আমার সাথে।তাহলেই হবে।এমনিতেও তোমাদের বাড়ির সিনিয়র সিটিজেনরা আমার না যাওয়াতেই খুশি।"
কাব্যের কথায় চোখ পাকিয়ে চাইলেন শাফায়াত।তোতলে বললেন," কি..কিসব বলছো?"
স্বামীর দিকে তাকিয়ে রাবেয়া এবার বলে উঠলেন,"তুমি এখনো কিছু বলবেনা?"
 অসহায় নজরে শাফায়াত তাকালেন স্ত্রীর দিকে।ছেলে কাছে থাকুক তা কি তিনি চাননা?রাবেয়া মুখে ছেলেকে স্নেহের কথা বলে ফেলতে পারলেও তিনি পারেন না,বাড়িতে ফেরার কথা বলতে পারেন না।কেনো পারেন না তা সবাই জেনেও তাকেই সবাই ভিলেন বানিয়ে ফেলে। স্ত্রীর মন রাখতে বললেন," আলাদা ফ্ল্যাটে উঠার দরকার নেই।বাসায় আসো।"
থমথমে মুখে আগের মতোই অনমনীয় জবাব দিলো কাব্য," আমি আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।"
রাবেয়া কিছু বলবেন তার আগেই কান ফাঁটা শব্দে কেঁপে উঠলো সকলে।কাব্য তটস্থ সোজা হলো।ক্যামেরায় তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো কি হয়েছে।ওপাশে ইতোমধ্যে ছুটতে শুরু করেছেন শাফায়াত আর রাবেয়া।শব্দটা রান্নাঘর থেকে আসছে।ডাইনিং টেবিলের উপর ফোনটা খাড়া করে রেখে রান্নাঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন রাবেয়া।ছুটে এসেছে বাড়িতে থাকা অন্য সদস্যরাও।
ইলেক্ট্রিক ব্লেন্ডারটা ফেটে, ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো ফ্লোর জুড়ে।আতঙ্কে কাঁপতে থাকা মেহুকে টেনে বাইরে নিয়ে এলেন রাবেয়া।ভীত চোখ মুখে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন," একা একা এখানে কি করছিস?লাগেনিতো কোথাও?"
হাতদুটো বুকের কাছে ভীত বেড়াল ছানার মতো করে গুটিয়ে রেখে কাঁপছে মেহু।কারোর প্রশ্নের জবাব দেয়ার মতো শক্তিও পাচ্ছেনা।মাকে চোখ পাকিয়ে এগিয়ে আসতে দেখে জলদি মুখ গুজে জড়িয়ে ধরলো রাবেয়াকে।
নাফিসা বেগম এগিয়ে এসেই হাত টেনে ছুটিয়ে নিতে চাইলেন মেহুকে। মেহু শক্ত করে ধরে রাখলো রাবেয়াকে।হুংকার ছুড়লেন নাফিসা," বাড়িতে ফিরেই তান্ডব শুরু করে দিয়েছে,ফাজিল মেয়ে।যেখানে যাবে সেখানেই তুফান ছুটিয়ে দেবে।একটুও শান্তিতে থাকতে দেবেনা।সকাল বেলা পড়া বাদ দিয়ে রান্না ঘরে কি তোর?"
শাফায়াত উৎকণ্ঠা নিয়ে বললেন,"আগেই বকতে শুরু করে দিয়েছো।দেখো আঘাত পেয়েছে কিনা।"
নীলা ভার্সিটির জন্য মাত্রই রেডি হয়ে বের হবে হবে করছিলো।শব্দের চোটে দৌড়ে এসেছে সে নিজেও।এবার হাসতে হাসতে নাফিসাকে উদ্দেশ্য করে বললো," মেহুর খুব রান্নার শখ হয়েছে ছোট মামি।কাল সারা রাত ধরে রেসিপি শিখেছে। "
বলেই এগিয়ে গিয়ে ব্ল্যান্ডার হাতে নিয়ে বললো," এই যে দেখো, সরষে ব্ল্যান্ড করতে চাইছিলো,সরষে ইলিশ রাঁধবে তাই।"
মেহু অসহায় চোখে চাইলো নীলার দিকে।বেশ কয়েকদিন ধরেই সরষে ইলিশের অথেনটিক রেসিপিটা শিখছে সে। টুকে রেখেছে সব গোপন টিপস আর ট্রিক্স।অনলাইনে ওর্ডার করে মাছ আনিয়েছে লুকিয়ে।কাল রাতে আরও কয়েকবার,কয়েক ঘণ্টা ধরে রেসিপিটা দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বানানোর।সকালের নাস্তা খাওয়ার পর অনেকক্ষণ আর কেউ আসেনা রান্নাঘরে।সেই সুযোগে আজ সে এসেছিলো রান্নার জন্য।কিন্তু পড়া বাদ দিয়ে রান্নার ভিডিও দেখার জন্য এবার নিশ্চই মা তাকে আরও একচোট কথা শোনাবে। নীলা আপুটা যে কি!তাকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।
হলোও তাই। নাফিসা ধমকে বললেন," বাঁদর মেয়ে।পড়া রেখে এইসব করে বেড়ানো হচ্ছে।নিজ থেকে তো পানিটাও নিয়ে খাসনা।আজ একেবারে ইলিশ রাঁধতে চলে এসেছিস কোন খুশিতে?"
মেহু জানতো এমন প্রশ্নের মুখে তাকে পড়তে হবেই।তবে সব ঝামেলা থেকে বাঁচার উপায়ও সে জানে।তার বড় বাবা,বড় মা।এদের সামনে তার সব দোষ মাফ।ঠোঁট উলটে সে রাবেয়ার দিকে তাকাতেই রাবেয়া ধমক দিলেন নাফিসাকে,"আহ ছোট!থাম তুই।"
বলেই আবার মেহুর দিকে তাকালেন।বললেন,"কিন্তু আমরা তো কেউ ইলিশ খাইনা এলার্জির জন্য।তোর তো আরও বেশি গা চুলকায়।গন্ধও নিতে পারিসনা।তাহলে হঠাৎ?"
নীলা হইহই করে উঠলো," আসলেইতো।কাব্য ভাই ছাড়া আমরা কেউ ই তো ইলিশ খেতে পারিনা।এ বাড়িতে কাব্য ভাইয়ের জন্যই একমাত্র ইলিশ রান্না হতো। তুই কার জন্য রাঁধছিলি?"
কাচুমাচু হয়ে মাথা নামিয়ে রাখলো মেহু।মুখে বলার সাহস না পেলেও বিড়বিড়ালো," আমিও আমার কাব্য ভাইয়ের জন্যই শিখছিলাম।"
শাফায়াত এগিয়ে এলেন।কথা বাড়াতে না দিয়ে ডাকলেন," মেহের এদিকে এসো।"
বড় চাচ্চুকে ভালোবেসে বড় বাবা ডাকে মেহু।এ বাড়িতে সবচেয়ে বেশি আদর সে তার বড় বাবার কাছ থেকেই পায়।গুটিগুটি পায়ে শাফায়াত সাহেবের পাশ ঘেঁষে দাঁড়ালো মেহু।শাফায়াত তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন," এতো জেরা করার কি আছে?ইচ্ছে হয়েছে, রেঁধেছে।ওর যা মন চায় তাই রাঁধবে।এতোদিন পর বাড়ি ফিরেছে।ওকে এ নিয়ে আর একটা কথাও শোনাবেনা কেউ।মনে থাকে যেনো।"
মেহু স্বস্থির শ্বাস ফেললো।বড় ভাইজান,ভাবির সামনে মেয়েকে কখনই কিচ্ছু বলতে পারেন না নাফিসা।এই মেয়েকে সকলে আদরে বাঁদর বানাচ্ছে।কলেজে উঠতেই সকলের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে নাফিসা একপ্রকার নিজ উদ্যোগেই হোস্টেলে পাঠিয়েছিলো মেয়েকে।আশা ছিলো একটু ম্যাচিউর হয়ে উঠবে,ভালোমন্দ বুঝতে শিখবে। তবে ছয়মাস যেতে না যেতেই সেখান থেকেও নিয়ে আসতে হয়েছে গত সপ্তাহে।আগেও অভিযোগ আসতো মেহুর চঞ্চলতার জন্য।কিন্তু এবার রুম ম্যাটের সাথে কথা কাটাকাটি করে ওই মেয়েকে কামড় বসিয়ে দিয়েছে।তাই আর না পেরে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। মেয়ের বাপও হয়েছে তেমন।সেনাবাহিনীর মেজর, মীর শাহিন ওয়াহিদ। দূর দেশে মিশনে আছেন এখন। মেয়ের উচ্ছনে যাওয়ার অভিযোগ করলে তাকেই উল্টো কথা শোনায়।দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়ায় নাফিসা।এ মেয়েকে নিয়ে যে কি করবেন উনি!
এদিকে টেবিলের ওপর ফোনটা দেখতে পেয়েই সেটা হাতে নিলো নীলা,জোরে বলে উঠলো, " আরে ভাইয়া তুমি!দেখেছো তুমি যে কলে আছো, সেটা বড় মামি ভুলেই গিয়েছে।"
হাসতে হাসতে আরও বললো,"জানো ভাইয়া,মেহুকে ঝগড়া করার অভিযোগে হোস্টেল থেকে বের করে দিয়েছে।বাড়িতে ফিরেই ও তোমার রুম দখল করে নিয়েছে।"
রুনা খানম মেয়েকে ধমক দিয়ে চুপ করতে বললেন।নীলা ভোতা মুখে রাবেয়ার হাতে ফোন দিতেই উনি আগের কথার রেশ ধরে বললেন,"আব্বা, তুই সত্যিই আসবিনা?"
স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে একটু রাগ নিয়েই শাফায়াত সাহেব বললেন," বলেছে তো আসবেনা।এতো জোরাজোরি করছো কেনো ?"
মেহু ভেবাচেকা খেয়ে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিলো কাব্যের দিকে।কাব্য এরমধ্যে একটা কথাও বলেনি।অবশেষে মৌনতা ভেঙে তার দৃঢ় কণ্ঠটা বলে উঠলো," আসবো।আমার রুম যেনো আগের মতোই নিট এন্ড ক্লিন থাকে।"
বলার পুরোটা সময়ে কাব্যের সরু চাউনি লাল রঙা স্কার্ট, সাদা ফতুয়া পড়া মেহুর
কাজলকালো চোখ দুটোতেই নিবদ্ধ ছিলো। 
চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন