ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন আড়ালে

২১তম পর্ব

লেখক: তানজিলা আনিম

#মন_আড়ালে

#পর্ব_২১
তানজিলা আনিম
দরজা থেকে রুম পর্যন্ত ওতটুকু জায়গা কিভাবে এসেছে জানেনা মেহু।শুধু বালিশে মুখ গুজে এতটুকুই বুঝতে পারছে যে, সে শান্তি পাচ্ছেনা। না চোখ খুলে না চোখ বন্ধ করে।এত লজ্জা সে সামাল দেবে কিভাবে?এসব নিয়ে ভাবতেই ভেতরটা শব্দহীন চিৎকার করে উঠছে তার।
- চুমু খেয়েই বেঁহুশ হয়ে যাচ্ছো!আমিতো স্বপ্নে আরও কতদূর চলে গিয়েছি আমার চাশমিশের সাথে তুমি ভাবতেই পারবেনা।
চমকে মুখ তুললো মেহু।অবনী ওর দিকে তাকিয়ে আছে! মেহু তড়াক করে করে উঠে বসলো।ওপাশে নীলা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। অবনীর একটু আগের কথার মানে বুঝতে পেরে তুতলে বললো,"তুই ঘুমাসনি?"
- ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো তোমার ফোনের শব্দে।শাফায়াত আঙ্কেল কল দিয়েছিলো।তুমি ছিলেনা তাই রিসিভ করিনি।এরপর ঘুম পাচ্ছিলোনা বলে বাইরের বারান্দায় ফুরফুরে হাওয়া খাচ্ছিলাম বসে বসে।এখন বলো,ফিলিংস কেমন?
একঝটকায় অবনীকে টেনে বারান্দায় নিয়ে এলো মেহু।অবনী সন্দিহান হেসে বললো," তোমাদের দুজনের মধ্যে কিছু যে চলছে আমি আগেই বুঝতে পারছিলাম।কিন্তু কবে থেকে এসবের শুরু বলোতো?কাব্য ভাইয়া তো এলোই মাত্র কয়েকদিন!"
অবনী ওই অবস্থায় ওদেরকে দেখে নিয়েছে ভেবে মরে যাবার যোগাঢ় হচ্ছিলো মেহুর।কিন্তু কথা অন্য দিকে ঘুরে যাওয়ায় স্বস্তির শ্বাস ফেলে নত মুখে লালিমা টেনে বললো,"আমি অনেক আগে থেকে ওনাকে পছন্দ করি।উনারটা জানিনা। হবে হয়তো কয়েক দিন!এই এতোগুলো বছর উনিতো আমার সাথে কথাই বলেন নি।"
অবনী ভ্রু নাচিয়ে হেসে ফেললো,"বাহ! এই কদিনেই একেবারে প্রেমে পড়ে চুমুও খেয়ে ফেলেছেন।হাস্যরসহীন, গম্ভীর,কঠিন ব্যাক্তিত্বের কাব্য ভাই যে এতো দ্রুত শুভারম্ভ করতে পারে ভাবতেই পারছিনা।"
মেহু লজ্জায় নুইয়ে বসে রইলো। তবে সেও বেশ অবাক হয়েছে এমন কাব্য ভাইয়ের এমন আচানক কাজে।মানুষটা তাকে ক'দিনেই এতোটা পছন্দ করে ফেলেছে!
ওর ভাবনার মাঝে অবনী বললো," কাব্য ভাই কবে প্রপোজ করলো এসব কিছুই তুমি বলোনি আমাকে।আমাদের মাঝেতো কোনো সিক্রেট থাকেনা মেহুপু।শিহাব ভাই এর কথাও আমি তোমাকে বলেছি।তাহলে কাব্য ভাইয়ার টা লুকিয়েছো কেনো?"
কাব্য ভাইয়ের ব্যাপারটা যে অন্য কারোর মতো নয় এটা কিভাবে বোঝাবে মেহু!কাব্য ভাইয়ের প্রতি নিজের অনুভূতি বোঝার পর যখন দেখলো যাকে নিয়ে ও স্বপ্ন বুনছে সেই মানুষটা তাকে পছন্দই করেনা!সেটা ভেবেই তো ভেতরে ভেতরে মরে যেতো সে!
ভাবনা রেখে মেহু আবেগী গলায় বললো," উনি আমাকে কখনোও পছন্দ করবেন সেটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। সব কেমন হুট করে হয়ে গেলো।কিন্তু উনি আমাকে প্রোপজ করেন নি এখোনো।"
অবনী জ্ঞানীর ন্যায় মাথা নাড়লো," কাব্য ভাইয়া যে এতো ফরমালিটিতে যাবেন না সেটা বুঝতেই পারছিলাম।কিন্তু তুমি বলেছো?না বললে বলে দাও।ভালোবাসায় যখন পিছিয়ে নেই তখন প্রকাশের বেলায় এতো রাখঢাক কেনো?"
মেহুর পছন্দ হলো অবনীর কথাটা।হ্যাঁ এতোদিনের চেপে রাখা কথাটা সে সত্যিই বলবে।এখনতো আর কোনো বাধা নেই বলায়।ভাবতেই খুশিতে উজ্জ্বল দেখালো মেহুর মুখখানা।
__________
সকাল সকাল আজও জেগে উঠেছে পুরো বাড়ি।নীলা গোসল করে সাফিয়ার রুমে চলে গেছে আগে আগে।পার্লার থেকে মেয়ে আসলেই সাজানো শুরু হবে।
রাত টুকু কেটে গেলেও সকালের আলো ফুটতেই আবারও লজ্জা আর সঙ্কোচে কাবু হয়ে রইলো মেহু।কাব্য ভাইয়ের সামনে পড়তে হবে ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।কিন্তু রুমে থাকলেও তো চলবেনা।তাই অনেক ইতিউতি করে, লম্বা শ্বাস টেনে বসার ঘরে এলো। আসতেই দেখলো আসাদ এর সাথে কোনো কিছু নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত কাব্য সহ অনেক গুলো ছেলে।কারোর অস্তিত্ব টের পেয়ে কাব্য মুখ ঘুরিয়ে তাকালো শুধু একবার।অথচ এতেই মরিমরি করে ছুটে আবার রুমে ঢুকে পড়লো মেহু।সাথে সাথে ভ্রু কুঁচকে এলো কাব্যের। একদণ্ড তাকিয়ে থেকে কথায় মন দিলো আবার।
দম নেয়ার জন্য দাঁড়াতেই অবনী এসে বললো," রাবেয়া আন্টি ডাকছে তোমায়।"
মেহু প্রশ্ন না করে কাব্যকে এড়িয়ে,লুকিয়ে গিয়ে দেখলো রাবেয়া কাপড় বের করছে ব্যাগ থেকে।
মেহুকে দেখেই বললেন," কিরে কখন থেকে ডাকছি শুনছিস না?কাব্য বললো ওর জন্য শার্ট বেছে রাখতে।"
মেহু বিভ্রান্ত হয়ে বললো," আমি? আমার কথা বলেছে?"
রাবেয়া দিব্যর জন্য জামা ভাঁজ করে রাখতে রাখতে বললেন," হ্যাঁ।কাব্য তো তাই বললো।"
মেহু উদগ্রীব হয়ে জানতে চায়," কি বলেছে বড় মা?"
- বলেছে এতো ঝামেলার মধ্যে কাপড়চোপড় নিয়ে ভাবার সময় ওর নেই।তুই যেহেতু লাফালাফি ছাড়া অন্য কিছু করছিস না, তাই এসবের দায়িত্ব তোকে দিয়ে দিতে।"
মেহু ভেবেছিলো কাব্য ভাই ওর ড্রেসিং সেন্স এর প্রশংসা করে বলবে যে, আজ থেকে আমার কাপড়চোপড় বাছাইয়ের দায়িত্ব মেহুকে দিয়ে দাও মা।
কিন্তু এমন কিছুই বলেনি!হতাশ মেহু ঘাটাঘাটি করে দেখতে লাগলো শার্টগুলো।মেহুর ভোঁতা মুখটা দেখে রাবেয়া হেসে বেরিয়ে গেলেন।ছেলে যে কাউকে বুঝতে না দিয়ে আলগোছে মেহুর পছন্দের জামা পড়বে বলে এই দায়িত্ব টা মেহুর কাঁধে তুলে দিয়েছে সেটা এই মেয়ে বুঝতেই পারছেনা!
_____________
দিব্য আর শিহাব দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো বরযাত্রী বসার দিকটায়।অবনীকে ওদের দিকে আসতে দেখে দিব্য বলে উঠলো, "তোমার পিচ্চুবিচ্ছু আসছে।শিওওর এসেই বলবে,শিহাব ভাই একটু শুনুন।আমাকে এটা করে দিন,নয়তো ওটা করে দিন।"
শিহাব চোখ রাঙালেও সত্যিই ওর পেছন থেকে অবনী বলে উঠলো,"শিহাব ভাই একটু শুনুন।"
দিব্য হো হো করে হেসে উঠলো।যাওয়ার আগে শিহাবের কানের কাছে বলে গেলো,"দুদিন পর সব হাঁটুর সমান ভাবি দিয়ে বাড়িঘর ভরে যাবে।ভীষণ চিন্তা হচ্ছে আমার!"
শিহাব বকে ওঠার আগেই দিব্য সড়ে গেলো দ্রুত।শিহাব ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো," সারাক্ষণ শিহাব ভাই শিহাব ভাই করা ছাড়া আর কিছু পারো না তুমি?"
অবনী উচ্ছ্বাসিত গলায় বললো, " পারি।কিন্তু করতে ইচ্ছে হয়না শিহাব ভাই।শুনুন,আমার ট্রলি ব্যাগের চেইন খুলতে পারছিনা।এসে খুলে দিয়ে যান।"
- এটার জন্য আমাকে খুঁজে আসতে হলো?আর কাউকে পাওনি?
শিহাব হাঁটা ধরলো সামনের দিকে।অবনী পিছু ছুটে বললো,"পাইনি।পেলেও বলতামনা।আমার সব দায়িত্ব যখন আপনার তখন অন্যকাউকে ডাকবো কেনো?"
শিহাব না ফিরেই ধমকে উঠলো, "যা মন চায় তাই দুম করে বলে বসবেনা অবনী।যাও এখন।আমি পারবোনা।"
অবনী সত্যি থেমে গেলো।বাড়ির দিকে পা বাড়িয়ে বলে উঠলো," মিছিমিছি 'না' বলেন।সেইতো আসবেনই। আমি কিছু বললাম আর আপনি না করে বসে থাকবেন সেটা আমি বিশ্বাসই করিনা।"
অবনী চলে গেলো।শিহাব নিজের উপরই বিরক্ত হলো।এই মেয়ের বিশ্বাস যে ঠিক সেটা সে নিজেও জানে!
____________
অনেক্ক্ষণ যাবত মেহু লক্ষ করছে প্রান্ত ওকে দেখলেই অন্যদিকে চলে যাচ্ছে।কাল গায়ে হলুদের সাময় থেকেই আর চোখে পড়েনি ওনাকে।'কি হয়েছে' প্রশ্নটা করবে করবে করেও করলোনা মেহু।
জ্বালাতে আসছেনা সেটাই শান্তি।
দিব্য ভাইকে বলে ছবি তোলার জন্য একটা ফটোবুথ বানিয়ে নিয়েছে মেহু আর অবনী।ওটা দেখার জন্য এগোতে নিতেই কাব্যকে ডাকতে শুনলো।
- এদিকে আয়।
হাতে একটা বড় বক্স নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাব্য।ওর দিকেই ইশারা করছে।কাব্যকে দেখে আবার সব গুলিয়ে গেলো মেহুর।এক ছুটে পালিয়ে যাবে ভাবলো।অথচ এতো বড় কাণ্ড ঘটিয়েও কাব্য ভাই কেমন নিরুত্তাপ!কত স্বাভাবিক ভাবে ডাকছে ওকে!
মেহু পালানোর আগেই কাব্য আবার ডাক ছুড়লো, "আসতে বলছিনা?"
মেহু আশেপাশে আর কাউকে না পেয়ে ছোট ছোট কদমে এগিয়ে গেলো।দাঁড়াতেই কাব্য বলে উঠলো, " প্যান্ট থেকে ওয়ালেট বের করে ভাড়াটা দে।"
মেহু একবারও কাব্যের দিকে না তাকিয়ে কাঁপা হাতে আস্তেধীরে ওয়ালেট বের করে রিকশা ভাড়া মিটিয়ে দিলো।তারপর ওয়ালেটটা হাতে নিয়েই উশখুশ করে মাথা নিচু করে রইলো।কাব্য সরু চোখে তাকিয়ে ওকে পরখ করলো পুরোটা সময়।সকাল থেকে মেহুর চোরা হাবভাবে বিরক্ত কাব্য এবার ধমকে উঠলো,
- স্ট্যাচু হয়েই থাকবি নাকি নড়বি চড়বিও?
কাব্যের কাছ থেকে ধমক শোনার অপেক্ষায় ছিলো এমন ভাবে মেহু ওয়ালেট বাক্সের উপর রেখেই এক ছুটে চলে গেলো সামনে থেকে। কাব্য ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো," হোপলেস!"
______________
সকাল নয়টায় শাফায়াত এসে পৌঁছালেন বিয়ে বাড়িতে।আসাদ জড়িয়ে ধরলো ভাইকে।ঘুরে ঘুরে দেখালেন মেহমানদের জন্য করা আয়োজনের সবকিছু।
বাবুর্চিদের কাজের দিকটায় যেতেই ছেলেকে দেখলেন শাফায়াত।ব্যস্ত ভঙ্গিতে তদারকি করছে।আসাদ বললেন," একা হাতে এতোকিছু সামাল দেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব হতো ভাইজান।কাব্য আমার বোঝা একদম হালকা করে দিয়েছে। সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছে।বাকি দিকগুলো শিহাব, দিব্য, বাকিরা সামলে নিচ্ছে।এমন বুঝদার ছেলেপুলে যেখানে আছে সেখানে আর চিন্তা কিসের!"
শাফায়াত গর্বের হাসি হাসলেন।নিজের সন্তানদের নিয়ে প্রশংসা শুনলে কার না ভালো লাগে!তারওপর যদি হয় বাড়ির বড় সন্তান!ছেলেটা যেখানে যায় সেখানেই নিজের আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে নিজ গুনে। শুধু মেজাজ হারিয়ে ফেললেই...
আসাদকে রেখে শাফায়াত এগিয়ে গিয়ে পাশে দাঁড়ালেন কাব্যের।ঝাল বেশি দেয়া যাবেনা বলা সত্ত্বেও কিছু একটায় ঝাল হয়ে গেছে।সেটা নিয়ে কথা বলছিলো কাব্য।গরমে মুখচোখ লাল হয়ে গেছে।ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে শাফায়াত বললেন," তুমি গিয়ে একটু বিশ্রাম নাও।এদিকটা আমি দেখছি।"
কাব্য কথা থামিয়ে একঝলক দেখলো বাবাকে।এখানে বাবাকে দেখে আশ্চর্য হলো কিছুটা।তারপর বলে উঠলো "আপনার কি ক্ষিদে পেয়েছে?"
ছেলের প্রতি দরদটুকু উবে গেলো মুহুর্তে।থতমত খেয়ে গেলেন শাফায়াত।ছেলের ফাজলামো করা বুঝতে পেরে দাঁত চেপে বললেন," বেয়াদব ছেলে।তোমার কি মনে হচ্ছে?খিদে পেয়েছে বলে এখানে এসেছি?"
কাব্য অন্যদিকে তাকিয়ে নিরুত্তাপ বললো," তো কি আমার কথা ভেবে এসেছেন?প্লিজ হ্যাঁ বলবেন না।সেটা আবার আমার বিশ্বাস হবেনা।"
ছেলের দিকে মমতা ভরে তাকালেন শাফায়াত।নিজের উপর হতাশ হলেন ভীষণ।ছেলেটাকে কোনোদিনই মন খুলে স্নেহময় দুটো কথা উনি বলেন নি।তাই ছেলের এমন কথার পাছে কোনো যুক্তিই দিতে পারলেন না।ভেতর ঘর থেকে শাফায়াত কে ডেকে পাঠালেন মনিরুজ্জামান।দীর্ঘশ্বাস টুকু চাপাই থেকে গেলো শাফায়াত সাহেবের।
____________
লাল লেহেঙ্গা জড়িয়ে মেহু বসার ঘর থেকে উঠোন পর্যন্ত দুবার ঘুরে এসেছে।কাব্য ভাইয়ের কাছে যেতে লজ্জা লাগছে তাই দূর থেকেই সাজগোজ টুকু দেখিয়ে আনবে এই ইচ্ছা নিয়েই গিয়েছিলো।কিন্তু এখন আর কাব্য ভাইয়ের দেখা নেই। ঘরে রেডি হচ্ছে সম্ভবত। বিছানায় অবনী বসে সাজছে আর ভিডিও কলে ওর মায়ের সাথে কথা বলছে। 
মেহু অনেক্ক্ষণ ভেবেচিন্তে ঠিক করলো-এভাবে পালিয়ে আর থাকবেনা।বেশিক্ষণ থাকা সম্ভবও না।এর চেয়ে ভালো ওসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে একদম স্বাভাবিক ভাবে গিয়ে কথা বলবে।
হাতে ঘড়ি পড়তে পড়তে পর্দার নিচ দিয়ে এইমাত্র এসে থামা নিটোল পা দুটো আড়চোখে দেখলো কাব্য।পর্দার ফাঁক দিয়ে আলতো করে মেহুর অবয়ব উঁকিঝুঁকি মারছে।
- লজ্জা পাওয়া শেষ?
কাব্যের কণ্ঠটা কানে যেতেই ঢোক গিললো মেহু।কিন্তু লজ্জায় জমে না গিয়ে ধুপধাপ পায়ে ভেতরে এলো।কালো ফরমাল স্যুটে কি ভীষণ ম্যানলি লাগছে মানুষটাকে!
মেহু আড়ে আড়ে দেখে নিলো যতটা পারলো।সোজা চোখে তাকানোর সাহস হচ্ছেনা তার।
-আরও কয়েকদিন পালিয়ে পালিয়ে থাকতি।ভালোই তো লাগছিলো তোর ছোটাছুটি দেখতে।
মেহু ফ্লোরের দিকে চোখ রেখে বললো," পালাবো কেনো? এইযে, নিজের পায়ে হেঁটে দেখতে এসেছি আপনি রেডি হয়েছেন কিনা।শিহাব ভাই আপনাকে খুঁজছে।"
কথা শেষ হতেই কাব্য মুখের উপর বলে বসলো," রেডি হয়েছি।দেখেছিস।যা এখন।"
কাব্য ভাই ওকে দেখবে,প্রশংসা করবে এমন কত কি ভেবে বসেছিলো মেহু।কালতো কত নরম সুরে মেহেরজান ডাকা হচ্ছিলো।আর এখন দেখো!কেমন রেগেমেগে কথা শোনাচ্ছে!
মেহু নাক ফুলিয়ে লজ্জা ভুলে এগিয়ে গেলো।দুহাতের তালু কাব্যের সামনে ধরে বললো," আপনার এখানে থাকার কোনো শখ নেই আমার। শুধু...।"
- শুধু কি?
- শুধু এটাই বলতে এসেছিলাম যে আমার হাতের মেহেদীর রঙ আগে মোটামুটি গাঢ় হতো কিন্তু আজ দেখুন কেমন টকটকে রঙ হয়েছে।নীলা আপু বলে যে..
কাব্য কথা কেড়ে নিলো।চেয়ারে বসে মেহুর দিকে ফিরে বললো," তো এই গাঢ় রঙ কালকের চুমুর জন্য হয়েছে এটা বোঝাতে চাইছিস?"
কথা থামিয়ে হতভম্বের মতো চেয়ে রইলো মেহু।চোখে সেই দৃশ্যটুকু ভেসে উঠতেই লাজে মরি মরি হলো।কি করবে ভেবে না পেয়ে এগিয়ে এসে আঙুল উঁচিয়ে তৎক্ষনাৎ কিছু বলতে নিলো," দ..দেখুন...।"
-দেখছি!
কাব্যের কথায় সব গুলিয়ে গেলো মেহুর।ওখানেই থেমে যেতে হলো তাকে।নিজের শোচনীয় অবস্থা দেখে যেভাবে এগিয়ে গিয়েছিলো সেভাবেই পিছিয়ে এসে ছুটে বেরিয়ে গেলো হুলস্থুল বাঁধিয়ে।
কাব্য তবুও চোখ সড়ায়নি।মেহু আবার আসবে জেনেই তাকিয়ে ছিলো দরজার দিকে।হলোও তাই।মেহু ঘুরে এলো আবার। দরজা থেকেই চেঁচিয়ে বললো," আপনি একটা যা তা।বুঝেছেন?"
বলেই আবার আড়াল হয়ে গেলো ওপাশে।
_______________
 রাগ, লজ্জা মিশেলে জবুথবু মেহু হাঁপাতে হাঁপাতে রুমে এলো।অবনী সেজেগুজে তৈরি। মেহুকে দেখেই কাছে এসে বসলো।পেছন থেকে একটা ক্যানভাস মেহুর সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো, " রাতে দিতে ভুলে গিয়েছিলাম।দেখোতো মেহুপু।তোমার আর কাব্য ভাইয়ের খুব সুন্দর একটা স্কেচ করেছি।একদম ইনোসেন্ট লাগছে না তোমাদের দুজনকে?"
ক্যানভাসটা দেখে মেহু আঁতকে উঠলো।পেন্সিলের আঁচড়ে স্পষ্ট ফুটে আছে দুজন কপোত-কপোতীর একান্ত মুহূর্ত!গতকাল রাতের কাব্য ভাই আর সে!
ক্যানভাসটা টেনে নিয়ে আড়াল করতে করতে অস্ফুটে মেহু বলে উঠলো, "ছিহ!তোকে ফাঁ সিতে ঝোলাবো আমিইই।"
ভোলাভালা মুখ করে অবনী গড়গড় করে বললো,"আমিতো চেয়েছিলাম বাতাসে দুলতে থাকা নারকেল গাছের স্কেচ বানাতে কিন্তু গাছের চেয়েও এই রোমান্টিক মুহুর্ত টায় আমার চোখ আটকে ছিলো বলে এটাই স্কেচ করে ফেলেছি।"
মেহু ওটা জাপটে ধরে বিছানায় শুয়ে মুখ ঢাকলো।কাঁদোকাঁদো হয়ে বললো," আমাকে কি তোরা আর বাঁচতে দিবিনা?দম বন্ধ হয়ে নিশ্চিত মরণ হবে আমার।"
চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন