ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার শুধু তোকে লাগবে

১২তম পর্ব

লেখক: রুদ্র রায়

🚫ডার্ক রোমান্স🚫

#আমার_শুধু_তোকেই_লাগবে

লেখা: #রুদ্র_রায়_রূপায়ন

পর্ব সংখ্যা - ১২

.

⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️

হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে শাওন । আর তার চারিপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চৌধুরী ম্যানশনের পুরো পরিবার ।

তখন ইরফান চৌধুরী ফোন দিয়ে শাওনের এক্সি’ডেন্টের কথা জানালে, পুরো পরিবার হন্তদন্ত হয়ে চলে আসে হাসপাতালে । এমনকি ছোট্ট আয়াত পর্যন্ত বাসায় থাকতে নারাজ ।

একটু আগেই শাওনকে ইমারজেন্সি রুম থেকে কেভিনে শিফট করা হয়েছে । এখন অপেক্ষা শুধু জ্ঞান ফেরার ।

মাথায় বেশ আঘাত পেয়েছে শাওন । সাথে হাতে-পায়ে আর শরীরের কিছু কিছু জায়গাতেও বেশ গভীর ক্ষতর সৃষ্টি হয়েছে । বিশেষ করে ডানহাতে আর বা-পায়ে ।

মাথায়, হাতে পায়ে আর শরীরের ক্ষত জায়গা গুলো বেন্ডেজ করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ।

তখন শাওন চিত্রাদের বাসা থেকে উন্মাদের মতো বেড়িয়ে গেলে, পাগলের মতো বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাতে থাকে । কোথায় যাচ্ছে কি করতেছে কিছুই তার মাথায় কাজ করে নাহ । তার মস্তিষ্ক সবরকম কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে অনেক আগেই ৷ অনুভূতিহীন রোবটের মতো সে শুধু গাড়ির গ্লাস ভেদ করে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকে ৷ কোনোদিকে তার কোনো খেয়াল বা মনোযোগ কিচ্ছু নেই । গাড়ির স্টিয়ারিং ও তার হাত থেকে আলগা হয়ে পড়ে । যার দরুন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যম্পপোস্টের পিলারের সাথে সজোরে ধাক্কা লেগে গাড়িটা উল্টে যায় ৷

মধ্যরাত হওয়ার কারণে আশেপাশে তখন তেমন কোনো মানুষও ছিল নাহ । থেকে থেকে কালো পিচ-ধালা রাস্তার মাঝখান দিয়ে শুধু কিছু গাড়ি সাঁই-সাঁই শব্দ করে যাচ্ছিল । আর তাদের মধ্যে থেকেই একটা দুটো করে বেশ কয়েকটা গাড়ি থেমে যায় । উল্টে থাকা গাড়ি থেকে শাওনকে র’ক্তা’ক্ত অবস্থায় বের করে।

আর ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! সেই একই রাস্তা ধরে ইরফান চৌধুরী, ইশতিয়াক আর ইমরান শাওনকে খুঁজার উদ্দেশ্য গাড়িতে করে আসতেছিল । রাস্তার পাশে কিছু মানুষের সমাগম দেখলে কৌতুহল বসতই তারা এগিয়ে আসে দেখার জন্যে । আর আসা মাত্রই দেখতে পায় শাওনের র’ক্তা’ক্ত নিথর দেহটা । এমন কিছু হবে তারা সেটা কখনো কল্পনাও করেনি ।

তবে মানুষ যেটা কল্পনা করে না, বা নিজের চিন্তা ভাবনাতে নিয়ে আসে নাহ, সেটাই মানুষের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বেশি ঘটে ।

শাওনকে দেখে ইরফান চৌধুরী ভেঙ্গে পড়লেও ইশতিয়াক আর ইমরান ছিল কঠোর ৷ তারা দুজন আর শাওনদের বাসার গার্ডরা মিলে শাওনকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন ।

শাহনাজ চৌধুরী, ইনায়া, জান্নাত হাসপাতালে আসার পর থেকেই লাগাতার কান্না করে চলেছেন ৷ শুরুর দিকে আয়াত শাওকে ওই অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে দেখে অনেক কান্না শুরু করলে, ফাহমিদা চৌধুরী অনেক কষ্টে ছেলেকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ঘুম পারিয়ে দেন । ফাহমিদা চৌধুরীর চোখ থেকেও নীরবে জল ঝড়তে থাকে ৷

ইকবাল চৌধুরী শাওনের মাথার পাশে বসে কপালে হাত রেখে চোখ জোড়া বুজে আছেন ।

ইরফান চৌধুরী কেভিন থেকে বাইরে বেরিয়ে যান। আর কেভিনের বাইরে চিন্তিত মুখে বসে থাকা ইশতিয়াক আর ইমরানকে বাসায় চলে যেতে বলেন । ছেলে দুটো শুরু থেকেই বন্ধুর জন্য অনেক ছোটাছুটি করেছে । তাদের চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা অনেক বেশি ক্লান্ত ৷ তাদের পরনের জামাতে এখনো শাওনের শরীরের র’ক্ত গুলো ছোপ ছোপ আকার ধারণ করে আছে ৷ ইশতিয়াক আর ইমরান বাসায় যেতে না চাইলে, ইরফান চৌধুরী তাদেরকে বুঝিয়ে সুজিয়ে একপ্রকার জোর করেই বাসায় পাঠিয়ে দেয় । আর শাওনের জ্ঞান ফিরলে কালকে আসে দেখে যেতে বলে । ইশতিয়াক আর ইমরান অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাসায় চলে যায় ।

আমজাদ আহমেদ আর কবির তখনি এসে দেখে চলে গেছেন । কবির থাকতে চাইলে ইকবাল চৌধুরী আর ইরফান চৌধুরী তাকে থাকতে না দিয়ে, জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দেয় ৷ যত যাই হোক, ছেলেটার বিয়ে হলো মাত্র কিছু সময় হলো ! নিজের বিয়ের দিনে সে হাসপাতালে এসে থাকবে বিষয়টা একটু অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে । তাও যদি হাসপাতালে তেমন মানুষ জন না থাকতো তাহলে একটা কথা ছিল । এখানে যেহেতু চৌধুরী ম্যানশনের সবাই আছে তাই কবিরের না থাকলেও চলবে । আর তাদের বাসার পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নাহ । চিত্রার ওমন বেহাল অবস্থা তার উপর আবার শাওনের এক্সিডেন্টের খবর পেয়ে জাহানারা বেগম ভেতর থেকে বেশ ভেঙ্গে পরেছেন ৷ জাহানারা বেগমের, শাওনকে দেখতে আসার অনেক ইচ্ছে হলেও, আদরের মেয়েকে ওই অবস্থায় ফেলে রেখে কিছুতেই আসতে পারতেছিলেন নাহ ৷ তিনি শুধু মেয়ের শিয়রের পাশে বসে লাগাতার নিজের অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছেন ।

.

শাওনের জ্ঞান ফিরে প্রায় ৮-ঘন্টা পর । তখন চারিপাশে ভোরের আলো ফুটে সূর্যি মামা উদয় হয়েছে মাত্র ।

শাওনের জ্ঞান ফিরলে সবার আগে নজরে পরে শাহনাজ চৌধুরীর ৷ কেননা রুমে জুড়ে সবাই তখন ঘুমে ঝিমাচ্ছিলেন। একমাত্র তিনি ছাড়া ৷ মায়ের মন বলে কথা! চোখের সামনে ছেলের এমন নিথর দেহ পরে থাকলে কোনো মায়ের চোখেই কি সহজে ঘুম আসে? তেমনি শাহনাজ চৌধুরীও একমুহূর্তের জন্য নিজের দু-চোখের পাতা এক করেননি । তিনি সারাটা রাত ছেলের মাথার পাশে বসে থেকে, একটু পরপরই অজ্ঞান হয়ে পরে থাকা ছেলের মাথায় পরম যত্নের সাথে হাত বুলিয়ে দিয়েছেন । অসংখ্যবার চু'মুতে ভরিয়ে দিয়েছেন ছেলের মুখ । কখনো আবার শাড়ির আঁচলে মুখ গুঁজে অসহায়ের মতো হু-হু করে কেঁদেছেন ।

হঠাৎ শাওনের মুখে থেকে মৃদুস্বরে আম্মু আম্মু আওয়াজ শুনলে শাহনাজ চৌধুরীর চোখে মুখে খুশির ঝলক বয়ে যায় ৷ মন জুড়ে প্রশান্তির হাওয়া বয়ে যায় । তিনি আলতোভাবে ছেলের এক গালে নিজের হাত রাখেন। আর কোমল স্বরে ছেলেকে ডেকে উঠেন,

- শাওন ! এই তো আমি সোনা । তোর কাছেই আছি । ”

শাওন আস্তে আস্তে তার চোখ জোড়া খুলে শাহনাজ চৌধুরীর দিকে তাঁকায় । শুরুতে সবকিছু ঝাপসা লাগলেও আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়।

শাওন মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে,

-আম্মু চিত্রা কোথায়? কেমন আছে ওহ ? ”

শাহনাজ চৌধুরীর চোখে মুখে এবার কিছুটা বিষাদের ছাঁয়া নেমে আসে । তবুও তিনি শাওনের সামনে নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক রেখে বলে উঠেন,

-চিত্রা মামুনি বাসায় আছে আব্বু । ভালো আছে ওহ ৷ ”

শাওন শাহনাজ চৌধুরীর কথায় কিছুটা স্বস্তি অনুভব করলেও, মনের ভেতরে চলা ঝড়গুলোকে কিছুতেই থামাতে পারে নাহ ।

শাওন আবারও চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয় ।

শাহনাজ চৌধুরী ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ধীরে-সুস্থে বেশ সময় নিয়েই জিজ্ঞেস করেন,

-কাল হঠাৎ করে তোদের মধ্যে কি হয়েছিল আব্বু? কে ওমন পাগলামি করছিলি দু'জনে?”

শাহনাজ চৌধুরীর করা প্রশ্নে শাওন একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ৷ সে চোখ জোড়া বন্ধ রেখেই বেশ সময় নিয়ে কালকের ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা তার মাকে বলে । সবকিছু শুনে শাহনাজ চৌধুরী নিজেও একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ৷

এদের মা ছেলের সম্পর্কটা একেবারে বন্ধুর মতো । ছোটবেলা থেকেই শাওন তার মায়ের কাছ থেকে কোনো কিছু লুকায় না । যতো ব্যক্তিগত কথাই হোক না কেন, সবকিছুই সে নিজের মায়ের সাথে নির্দিধায় শেয়ার করে ।

শাওন তার মায়ের একহাত নিজের বাম হাত দিয়ে আলতো ভাবে আঁকড়ে ধরে । তার দুই-চোখের কোণা দিয়ে দু-ফোটা নোনা জল গড়িয়ে পড়ে ৷

কান্না জড়ানো গলায় বলে উঠে,

-চিত্রা আমার মুখ দেখতে চায় না আম্মু । ও আমাকে ওর সামনে যেতে মানা করেছে। আমার মুখ দেখাতে মানা করছে । ঘৃণা করে ও আমাকে আম্মু । কাল আমি ওর চোখে আমার জন্য ঘৃণা ছাড়া আর কিচ্ছু দেখতে পাইনি আম্মু ৷”

শাহনাজ চৌধুরী আহত চোখে ছেলের দিকে তাঁকায় ৷ শাওনের হাত নিজের দু'হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয় । শাওন আবারও কাতর স্বরে বলে,

-আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আম্মু । আমার বুকের ভিতরে ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে । দম নিতে কষ্ট হচ্ছে ৷ এই যন্ত্রণা আমি আর নিতে পারছি নাহ আম্মু । সহ্য হচ্ছে না আর । চোখ বুঝলেই শুধু ওর ঘৃণা ভরা চাহনি আর তাচ্ছিল্যের হাঁসিটা আমার সামনে ভেসে উঠতেছে । যা আমাকে ভেতর থেকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে । ওর অবিশ্বাস নিয়ে আমি বাঁচতে পারবো না আম্মু ! ওর অবিশ্বাস, ঘৃণা আর তাচ্ছিল্য নিয়ে বেঁচে থাকার থেকে আমার ম’রাই ভালো । কেন ম’রে গেলাম না আমি? কেন ? ” বলতে বলতে শাওন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ।

শাহনাজ চৌধুরী ছেলের মুখে এমন কথা শুনে ছেলের মুখ বন্ধ করে ধরে । আর্তনাদ করে উঠে,

-এমন কথা বলিস না বাবা । সব ঠিক হয়ে যাবে ৷ চিত্রা মামুনিকে আমি সবটা বুঝিয়ে বলবো । কাল ও রাগের মাথায় হয়তো ওভাবে বলছে, দেখিস রাগ কমে গেলে ও ঠিক তোর কাছে চলে আসবে । ”

শাহনাজ চৌধুরীর কথায় শাওনের মন কিছুতেই শান্ত হয় নাহ । তার দুইচোখ দিয়ে অবাধ পানিরা অঝোরে ঝড়ে পড়তে থাকে । বুকের ভিতরে যন্ত্রণারা জেগে উঠতে শুরু করে ।

এদিকে শাহনাজ চৌধুরীর করা আর্তনাদ পুরো রুম জুড়ে প্রতিধ্বনিত হতেই, সকলের ঘুম আলগা হয়ে যায় । চোখ খুলে তাঁকায় সকলে । শাওনের জ্ঞান ফিরেছে দেখে সকলেই শাওনের কাছে এগিয়ে আসে ।

ইকবাল চৌধুরী ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেন,

-এখন কেমন লাগতেছে বাবা ?”

শাওন ইকবাল চৌধুরীর দিকে তাঁকায় । মুখে একটু হাঁসি ফুটানোর চেষ্টা করে বলে উঠে,

-ভালো লাগতেছে আব্বু ।”

পাশেই দাঁড়ানো ফাহমিদা চৌধুরী, ইনায়া, আর জান্নাত । ইরফান চৌধুরী শেষ রাতের দিকে আয়াতকে নিয়ে বাসায় চলে গেছেন ।

জান্নাত আর ইনায়া তো আবারও রীতিমতো কান্না শুরু করে দিয়েছে ।

শাওন তাদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেঁসে মজা করে বলে উঠে,

-দুই পাগলি মিলে কান্না শুরু করছিস কেন বল তো? তোরা কি জানিস এই সকাল সকাল তোদের কান্নারত মুখ দুটো দেখতে একেবারে বাঁশ বাগানের পেতনির মতো লাগতেছে ! ”

শাওনের কথায় ইনায়া আর জান্নাত কান্না থামিয়ে একে অপরের মুখের দিকে চাওয়া-চাওয়ি করে, অসহায় মুখে শাওনের দিকে তাকায় । তাদের দু’জনের কান্ড দেখে সবাই হেঁসে দেয় ৷

এরপর রুমের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে শাওনের মামা আনোয়ার হোসেন, মামি রাবেয়া বেগম আর মাহি । সকলে তাদের দিকে তাঁকায় । আনোয়ার হোসেন আর রাবেয়া বেগম শাওনকে ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে । কিন্তু মাহি কোনো কথা বলে নাহ। সে রুমের এক কোণায় দাঁড়িয়ে নিরবে শাওনের দিকে তাঁকিয়ে থাকে । মাহির চোখে মুখে অনুশোচনার ছাপ । এই সবকিছুর জন্য বারবার তার নিজেকেই দায়ী মনে হয় । অপরাধী মনে হয় ।

তাদের সকলের কথার মাঝেই- একজন নার্স আর একজন ডক্টর ভিতরে প্রবেশ করে ৷ ডক্টর মহিলাটি রুমে প্রবেশ করতে করতেই মুচকি হেঁসে বলে উঠে,

-রেগীর জ্ঞান ফিরেছে তাহলে । ” বলে শাওনের হাতের কব্জি ধরে পালস চেক করে । আর নার্সকে একটা স্যালাইন দিতে বলে, নিজে ইনজেকশন দিতে দিতে বলে উঠে,

-রোগীর এখন রেস্টের দরকার । সবেমাত্র জ্ঞান ফিরেছে । এখনি রোগীর সাথে বেশি কথা বলা একদম ঠিক নাহ । ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হলো । ঘুম থেকে জেগে উঠলে কিছু খাইয়ে দেবেন । ততক্ষণে রেস্ট নিক ! ”

ডক্টর মহিলাটি শাওনকে ভালো মন্দ কিছু জিজ্ঞেস করে রুম থেকে বেরিয়ে যায় ।

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শাওনের চোখেমুখে রাজ্যের ঘুম ভর করে । শাওন ঘুমিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ইশতিয়াক আর ইমরান আসে ।

জানতে পারে শাওনের জ্ঞান ফিরেছে । আর এখন ঘুমের ইনজেকশন দেওয়ার কারণে সে ঘুমাচ্ছে । তারা দুজনে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে ৷

এরপর তারা ইকবাল চৌধুরী, শাহনাজ চৌধুরী সহ সবার মুখের দিকে খেয়াল করে । সবারই চোখ মুখ গুলো কেমন শুকিয়ে গেছে । আর চেহারার মধ্যে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ।

ইশতিয়াক আর ইমরান এবার সবাইকে বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে কিছু খাওয়া করে আসতে বলে । আর ততক্ষণে শাওনের কাছে তারা দুজনে থাকবে । সকলে রাজি হলেও শাহনাজ চৌধুরী রাজি হয় না । তিনি শাওনকে রেখে কিছুতেই বাসায় যেতে চান নাহ । ইশতিয়াক শাহনাজ চৌধুরীকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলে,

-আন্টি আপনারা সবাই এখন বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে কিছু খাওয়া করে আসুন। আর ততক্ষণে শাওনের কাছে আমরা থাকতেছি । আর কাল রাত থেকে আপনারা এভাবে একটুও না ঘুমিয়ে জেগে আছেন । এরপর তো নাহলে আপনাদেরই শরীর খারাপ করবে । আর এমনিতেও শাওন এখন ঘুমাচ্ছে । শাওনের ঘুম ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আপনারা বাসায় গিয়ে নিশ্চিতে ফ্রেস হয়ে কিছু খাওয়া করে আসতে পারবেন ।”

পাশ থেকে ইমরানও ইশতিয়াকের কথার সুর টেনে বলে উঠে,

-হে আন্টি, আপনারা সবাই বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে কিছু খাওয়া করে আসুন। আর আসার সময় বাসা থেকে শাওনের জন্য কিছু খাবারও নিয়ে আসবেন । ততক্ষণে আমরা আছি এখানে । আপনাদেরকে কোনো চিন্তা করতে হবে নাহ । ”

অবশেষে শাহনাজ চৌধুরীকে ইশতিয়াক আর ইমরান বোঝাতে সক্ষম হয় ।

আর তিনি রাজি হলে, সকলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় ।

.

তখন বাজে সকাল সাড়ে দশটা ।

সকাল বেলার চোখ ধাঁধানো প্রখর রোদের রশ্মি জানালার ফাঁক দিয়ে চিত্রার চোখে মুখে আছড়ে পড়লে, চিত্রা আস্তে আস্তে পিটপিট করে নিজের চোখ জোড়া খুলে তাঁকায় । কাল রাতে ঘুমানোর পর এখন এইমাত্র ঘুম থেকে উঠে সে ৷ মাঝখানে যে এতোকিছু হয়ে গেছে তা তার পুরোপুরি অজানা । জাহানারা বেগম কিছুক্ষণ আগে চিত্রার রুম থেকে বেরিয়ে গেলে, তিনি ময়নামতিকে চিত্রার পাশে থাকতে বলেন । ময়নামতি চিত্রার রুমের অগোছালো জিনিস গুলো গুছাচ্ছিল ৷ কাজের ফাঁকে তার চোখ জোড়া চিত্রার দিকে যেতেই দেখে চিত্রার ঘুম ভেঙ্গে গেছে ৷ ময়নামতি কাজ ফেলে তরিঘরি করে চিত্রার কাছে এগিয়ে আসে ৷ জিজ্ঞেস করে,

-আপামুনি তোমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে ! দাঁড়াও আমি আম্মাকে ডেকে আনি । ” বলে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে যায় ৷ ময়ানামতি জাহানারা বেগমকে চিত্রার ঘুর ভাঙ্গার কথা জানালে, জাহানারা বেগম দ্রুত পায়ে চিত্রার কাছে চলে আসে । চিত্রা ততক্ষণে উঠে বেডে মধ্যে হেলান দিয়ে বসে আছে । অনেকটা সময় ঘুমানোর কারণে তার মাথাটা এখানো ঝিম ধরে আছে । শরীর জুড়ে কেমন একটা ক্লান্তি ক্লান্তি ভাব । মনে হচ্ছে বেশ লম্বা একটা শাওয়ার নিলে হয়তো ভালো লাগবে ।

জাহানারা বেগম গিয়ে চিত্রার পাশে বসে । মেয়ের একগালে হাত রেখে আদুরে গলায় বলে,

-ঘুম থেকে উঠে গেছিস আম্মু ! এখন শরীর কেমন লাগছে? ”

চিত্রা নিষ্প্রভ চাহনিতে মায়ের দিকে তাঁকায়। ঘুম জড়ানো আঁতকে উঠা গলায় বলে উঠে,

-ভালো লাগছে আম্মু ৷ ”

ময়নামতি ততক্ষণে চিত্রার জন্য এককাপ কফি নিয়ে রুমে আসে । আর চিত্রার সামনে কফির কাপটা এগিয়ে দিয়ে মুচকি হেঁসে বলে,

-আপুমনি তোমার কফি । এটা খাও দেখবে ভালো লাগবে । ”

চিত্রা নীরবে ময়নামতির হাত থেকে কফির কাপটা নিয়ে নেয় ৷ ময়নামতি রুম থেকে বেরিয়ে যায়। জাহানারা বেগম অপলক মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন। চিত্রা কফির কাপে কয়েকটা চুমুক বসিয়ে সেটা রাখে দেয় ৷ বিছানা থেকে নেমে নিরবে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায় । জাহানারা বেগম জিজ্ঞেস করে উঠে,

-এই শরীর নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস? ”

চিত্রা জাহানারা বেগমের দিকে ফিরে তাঁকায় । নরম স্বরেই বলে,

-শাওয়ার নিতে আম্মু ! শরীরটা কেমন ভারি-ভারি আর ঘিন-ঘিনে লাগতেছে । ”

জাহানারা বেগম দ্রুত পায়ে মেয়ের দিকে এগিয়ে আসে । অস্থির গলায় বলে,

-তোর হাতে ব্যান্ডেজ করা আছে আম্মু । হাত ভিজে গেলে তো সমস্যা হবে পরে ৷ ”

চিত্রা নিজের ব্যান্ডেজ করা বা হাতের দিকে তাঁকায়। আর জাহানারা বেগমের উদ্দেশ্যে আশ্বাসের স্বরে বলে,

-কিছু হবে না আম্মু । আমি ব্যান্ডেজ করা অংশটুকু ভিজতে দিব নাহ ৷ তুমি চিন্তা করো নাহ। ”

চিত্রা ওয়াশরুমে চলে গেলে জাহানারা বেগম কিছুক্ষণ ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাঁকিয়ে থেকে রুম থেকে বেরিয়ে যায় ৷

বাসা ভর্তি মেহমান ৷ যারা যারা কালকে আসেনি তারা ইতিমধ্যে আজকে আসা শুরু করছে ৷

পরপর চিত্রা আর শাওনের এমন দূর্ঘটনার জন্য আমজাদ আহমেদ আজকের রিসেপশনের অনুষ্ঠানটা স্থগিত করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু ইকবাল চৌধুরী আর ইরফান চৌধুরী এই ব্যাপারে কিছুতেই রাজি হয়নি এবং কি আমজাদ আহমেদকেও এবিষয়ে সায় দেননি ৷ কারণ বাসা ভর্তি আত্নীয় স্বজনে ভরপুর । চারিপাশে এতো এতো আয়োজন । এগুলো ক্যান্সেল করার কোনো মানেই হয়না। আর চিত্রা আর শাওন তো এখন মোটামুটি সুস্থই আছে ৷ তাই বেকার শুধু শুধু এতো আয়োজন নষ্ট করার কোনো মানেই হয়না ৷

চিত্রা বেশ অনেকটা সময় নিয়ে শাওয়ার নেওয়ার পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে । আর দেখতে পায় তার বেডের উপর ছোঁয়া আর পূজা বসে আছে । চিত্রা চুল মুছতে মুছতে তাদের দিকে এগিয়ে আসে ৷ ছোঁয়া চিন্তিত মুখে জিজ্ঞেস করে উঠে,

-চিত্রা বে’বি, এখন কেমন আছিস তুই ? শরীর কেমন আছে তোর ?”

পূজাও কপালে চিন্তার ভাজ ফেলে চিত্রার মুখের দিকে তাঁকিয়ে আছে। চিত্রা তাদের দুজনের দিকে তাঁকিয়ে মুচকি হেঁসে বলে উঠে,

-ভালো আছি আমি । সব ঠিকঠাক । এতো চিন্তা করতে হবে না তোদেরকে । ”

চিত্রার স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা দেখে। ছোঁয়া আর পূজা দুজনের মুখেই হাঁসি ফুটে ৷ তারা নিজেদের মতো কথায় মজে যায়। কথার এক পর্যায়ে পূজা চিত্রাকে জিজ্ঞেস করে উঠে,

-কাল কি এমন হয়েছিল চিত্রা? যার কারণে তুই নিজের সাথে এমন নিষ্ঠুরতম আচরণ করতে একটুও ভাবলি নাহ? আবার ওদিকে শাওন ভাইয়াও…. ”

ছোঁয়া পূজাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে চোখের ইশারায় শাওনের কথা বলতে মানা করে । পূজাও চুপ হয়ে যায় ৷ কালকের তিক্ততার কথা গুলো চিত্রার মাথায় আসতেই তার মুখ কালো আধারে ছেয়ে যায় ৷ বুকের মধ্যে যন্ত্রণারা আবারও মাথাচারা দিয়ে উঠতে শুরু করে । ঘৃণা, রাগ আর ক্ষোভে চোখ জোড়া ছলছল করে উঠে ।

চিত্রা হঠাৎ নিরব হয়ে যাওয়াতে ছোঁয়া আর পূজাও এই ব্যাপারে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করে নাহ । পরিস্থিতি হালকা করতে তারা মজার মজার কিছু কথা বলা শুরু করে ৷ বেশ কিছুক্ষণ গল্প করার পর ছোঁয়া আর পূজা বাইরে চলে যায়।

আর তার কিছুক্ষণের মধ্যে রুমে আসে ইনায়া, জান্নাত, আর মাহি । চিত্রা মাহিকে দেখে ভীষণ অবাক হয়, সাথে তার মনের ভেতরে রাগ আর ক্রোধরা দাউদাউ করে জেগে উঠে ।

সকালে হাসপাতাল থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইকবাল চৌধুরী ইনায়া, জান্নাত আর মাহিকে কবিরদের বাসায় পাঠিয়ে দেয় ৷ ফাহমিদা চৌধুরীকে যেতে বললে, তিনি জানান বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে একেবারে আয়াতকে নিয়েই যাবেন । আর আনোয়ার হোসেন এবং রাবেয়া বেগম নিজেদের বাসায় চলে যান । তবে মাহিকে সদ্য বিয়ে হওয়া মেয়ের বাসায় পাঠাতে দ্বিধাবোধ করেন তারা, কিন্তু ইনায়া আর জান্নাতের জোরাজোরিতে শেষে হার মানেন । আর মাহিরও ইচ্ছা ছিল চিত্রাদের বাসায় যাওয়ার। চিত্রার সাথে কথা বলার ।

জান্নাত আর ইনায়া চিত্রার কাছে এগিয়ে যায় । ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে ৷ কালকে কি হয়েছিল সেটা জিজ্ঞেস করলে চিত্রা কোনো কিছুই বলে নাহ । কিছুক্ষণ পর তারা রুম থেকে বেরিয়ে যায় ৷ কিন্তু মাহি বেরোয় নাহ । চিত্রা কিছুটা অবাক হয়েই মাহির দিকে তাকিয়ে থাকে ৷

মাহি ইতস্তত বোধ করতে করতে চিত্রার কিছুটা কাছে এগিয়ে যায় । চিত্রার দিকে তাঁকিয়ে আবারও চোখ নামিয়ে নেয় ৷ আর অপরাধী গলায় বলে উঠে,

-চিত্রা কালকের বিষয়টার জন্য আমাকে মাপ করে দে প্লিজ ৷ আমি জানতাম না আমার করা একটা ভুলের জন্য এতোকিছু হয়ে যাবে । ”

চিত্রার অবাকের মাত্রা দ্বিগুণ হয় । মাহি ক্ষমা চাচ্ছে, তাও আবার চিত্রার কাছে! আবার এতো বিনয়ের সাথে কথা বলতেছে! বিষয়টা অবাক হওয়ার মতোই ।

চিত্রা মাহির দিকে প্রশ্নাত্নক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকে৷ মাহির চোখ থেকে এবার নিরবে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পরে ৷

অনুতাপের স্বরে বলে উঠে আবারও,

-কালকে তুই যা দেখছিলি তাতে শাওন ভাইয়ার কোনো দোষ ছিল নাহ চিত্রা ৷ ওটা আমার করা একটা প্ল্যান ছিল। কাল আমিই আমার বান্ধবীদের সাথে প্ল্যান করে, ইঁদুর দেখে ভয় পাওয়ার নাম করে শাওন ভাইয়াকে গিয়ে জরিয়ে ধরি । আর তখনি তুই চলে আসিস ৷”

একটু থেমে চিত্রার মুখের দিকে তাঁকায়। আর নরম স্বরে বলে,

-শাওন ভাইয়াকে আমার ভালো লাগে এটা ঠিক । কিন্তু বিশ্বাস কর আমি এটা জানতাম না যে তোমরা একে অপরকে পচ্ছন্দ করো, ভালোবাসো! ছোটবেলায় তোমাদের বিয়েও হয়ে গেছে ৷ এসবের কিচ্ছু জানতাম নাহ আমি । জানলে আমি কখনোই এমন করতাম নাহ ৷ আজ তোর আর শাওন ভাইয়ার এই অবস্থার জন্য একমাত্র আমি দায়ী । বিশ্বাস কর, শাওন ভাইয়াকে ওই অবস্থাতে দেখার পর অপরাধ বোধে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো । আমি নিজেই নিজেকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারতেছিলাম নাহ। তুই আমাকে মাপ করে দে চিত্রা ! ”

মাহি চিত্রার দু'হাত ধরে একপ্রকার শব্দ করেই কান্না করে দে । চিত্রা মাহির বলা প্রতিটা কথা খুব মনোযোগের সহিত শুনতেছিল । মাহির বলা কথাগুলো চিত্রার মস্তিষ্ক অবজারভ করতেই তার বুকটা কেঁপে উঠে ৷

চিত্রা বুঝতে পারে, কাল সে কতবড় ভুল করে ফেলেছে ৷ রাগের মাথায় শাওনকে কি না কি বলে ফেলেছে সে ৷ কতই না অপমানজনক বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলেছে । মানুষটা কাল কত করে আকুতি মিনতি করতেছিল, তার কথা গুলো শুনার! তাকে একটু কথা বলার সুযোগ দেওয়ার । কিন্তু চিত্রা তার কোনো কথা শুনেনি । তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়নি । যা ভাবতেই তার চোখ জোড়া দিয়ে দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরে । হঠাৎ তার নিজেকে খুব বেশি অপরাধী মনে হয়। অসহায় বোধ করে খুব । বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠে । মস্তিষ্কে এসে বাড়ি খায়, মাহির বলা শেষের কথাটা, শাওনকে ওই অবস্থাতে দেখে? কোন অবস্থাতে দেখে? কি হয়েছে শাওনের? ”এসব প্রশ্ন মনের মধ্যে জেগে উঠতেই ভয়ে তার বুক পুরো শরীর কেঁপে উঠে । সে বড়বড় চোখ করে তাঁকায় মাহির দিকে । ধরে আসা গলায় জিজ্ঞেস করে,

-কি হয়েছে শাওন ভাইয়ার ?”

মাহি কান্নার মাঝেই অবাক চোখে চিত্রার দিকে তাঁকায় ৷ তার মস্তিষ্ক জুড়ে একটা কথাই খেলে যায়, তারমানে কি শাওনের এক্সি’ডেন্টের কথা চিত্রাকে এখনো কেউ জানায়নি? ’

মাহির চুপ করে থাকা দেখে চিত্রা আবারও অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করে,

-আপু বলো কি হয়েছে শাওন ভাইয়ার? ”

মাহি মুখটা নিচু করে কান্নারত অসহায় গলাতে বলে উঠে,

-কাল রাতে শাওন ভাইয়ার এক্সি’ডেন্ট হয়েছিল চিত্রা ।”

মাহির বলা কথা শুনে চিত্রার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে । সে ধপ করে ফ্লোরের মধ্যে বসে পরে । চোখ দিয়ে ঝড়ঝড় করে জল গড়িয়ে পরে ৷ সে কথা বলতে ভুলে যায় ৷ তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোয় নাহ । সে শুধু অপলক চোখে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে থাকে । আর দুই চোখের পানি গুলো টপটপ করে ফ্লোরের উপর ঝরে পড়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয় ৷

হঠাৎ চিত্রার এমন অবস্থা দেখে মাহি ভয়ে কিছুটা ঘাবড়ে যায় । সে কিছুটা ঝুঁকে চিত্রার কাঁধে হাত রেখে তাকে ডাকতেই, চিত্রা উঠে দাঁড়ায় । দৌঁড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় ।

চিত্রা ড্রয়িংরুমের সামনে নিজের ভাইকে দেখলে তার বুকে গিয়ে আছড়ে পরে । বেগ সামলাতে না পেরে কবির দুপা পিছিয়ে যায় ৷ আর অবাক চোখে চিত্রার দিকে তাঁকায় । চিত্রা ভাইয়ের বুকে মাথা রেখে পাগলের মতো কান্না করে । আর বলে উঠে,

-ভাইয়া আমাকে শাওন ভাইয়ার কাছে নিয়ে চলো প্লিজ । ”

বোনের কান্নার কারণ কবির বুঝতে পারে । কবির চিত্রার দুগালে হাত রেখে তার বুক থেকে চিত্রার মাথাটা সরিয়ে মুখের সামনে ধরে । সুন্দর করে বলে,

-শাওন একেবারে ঠিক আছে বনু। কিচ্ছু হয়নি ওর । তুই একদম চিন্তা করিস নাহ।” বলে বোনের দু’চোখের জল গুলো মুছে দেয় ।

চিত্রা কান্না জরানো গলাতেই বলে উঠে,

-আমি শাওন ভাইয়ার কাছে যাবো ভাইয়া ৷ ”

জাহানারা বেগম চিত্রার কাছে এগিয়ে আসলেই, চিত্রা গিয়ে এবার তাকে জড়িয়ে ধরে । আর কান্না করতে করতেই অভিযোগের স্বরে বলে,

-শাওন ভাইয়ার এক্সিডেন্টের কথা তুমি আমাকে কেন জানালে না আম্মু? তোমরা কেউ কেন একবারের জন্যও আমাকে জানালে নাহ ৷ বলো কেন ? ”

চিত্রার এমন পাগলের মতো আহাজারি দেখে জাহানারা বেগমের চোখেও পানি চলে আসে। কিন্তু তিনি মেয়ের প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর দিতে পারেন নাহ ৷ চিত্রার শরীর খারাপ থাকার কারনেই তারা শাওনের বিষয়ে কেউ তাকে কিচ্ছু জানায়নি । ভেবেছিল পরে ধীরেসুস্থে জানাবে । কিন্তু চিত্রা তার আগেই জেনে যায় ।

চিত্রা কান্নার মাঝেই অনুনয় করে আবারও বলে উঠে,

-আমি শাওন ভাইয়ার কাছে যাবো আম্মু। আমাকে শাওন ভাইয়ার কাছে নিয়ে চলো । এখনি নিয়ে চলো না আম্মু ! প্লিজ… ”

বোনের এমনি আহাজারি দেখে কবিরের নিজেকে খুব অসহায় মনে হয় । যেই বোনের চোখ থেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পরলে,তার পিলে চমকে উঠে । সেই বোন কাল থেকে পাগলের মতো কান্না করে যাচ্ছে , নিজেকে আঘাত করতেছে । কিন্তু সে বোনের জন্য কিচ্ছু করতে পারতেছে নাহ৷ বোনের কষ্টটা হালকা করতে পারতেছে নাহ! বোনের কষ্টের ভাগ নিতে পারতেছে নাহ! যার কারনে কবিরের নিজেরই বড্ড কষ্ট হয় । থেকে থেকে দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকারে ভরে উঠে বুক ৷

কবির এগিয়ে এসে চিত্রার বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরায়। আর কাতর গলায় বলে,

-কান্না থামা না সোনা । একদম কান্না করিস নাহ। আমরা এখনি শাওনের কাছে যাবো। আমি তোকে শাওনের কাছে নিয়ে যাবো । তুই প্লিজ কান্নাটা থামা, আর তারাতাড়ি করে কিছু খেয়ে নেয় ৷ তোর খাওয়া শেষ হলেই আমার শাওনের কাছে যাবো । ”

চিত্রা কান্না করতে করতেই বলে উঠে,

-আমি কিছু খাবো না ভাইয়া ৷ তুমি প্লিজ আমাকে শাওন ভাইয়ার কাছে নিয়ে চলো ।”

কবির চিন্তিত গলায় বলে,

-কাল থেকে তুই কিচ্ছু খাসনি । একটু খেয়ে নে শুধু। নাহলে তো তোর শরীর আরও খারাপ করবে! ”

চিত্রা কবিরের কোনো কথাই কানে তুলে নাহ ৷

কবির বুঝতে পারে তার পাগল আর জেদি বোনকে এইমুহূর্তে কোনো কিছু বলেই বুঝানো যাবে নাহ ৷ তাই সে আর কিছু না বলে- চিত্রাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বের হয়। আর সঙ্গে জাহানারা বেগমও আসে । কারণ কাল থেকে তিনিও শাওনকে একটাবার নিজের চোখে দেখার জন্য শুধু ছটফট করতেছিলেন ।

.

চলবে…

⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️

🚫🚫 গল্পটা শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক আর মুক্তমানদের জন্য উন্মুক্ত । গল্পে ধীরে ধীরে রোমান্টিকতার বিষয়টা একটু বেশি আর গভীর হবে । তাই যাদের এসব পচ্ছন্দ নয়, তারা দয়াকরে এড়িয়ে চলবেন। 🚫🚫

“রি-চেইক দেওয়া হয়নি ! ভুল গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ”

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন