ফন্ট সাইজ:
থিম:
একটি বিচ্ছেদের আত্মকাহিনী

১ম পর্ব

লেখক: নৌশিন আহমেদ রোদেলা

→একটি বিচ্ছেদের আত্মকাহিনী

→লেখনীতে- নৌশিন আহমেদ রোদেলা

রুদুবার সাথে বিচ্ছেদটা আমার হয়েই গেলো আজ। বন্ধু-বান্ধবদের মুখে বহুবার বিচ্ছেদের নাম শুনেছি। আমাদের ডিপার্টমেন্টের ওই ফর্সা, সুন্দর ছেলেটা? ওর নাম রওশন। ওরও বিচ্ছেদ হয়েছিলো বছর দুয়েক আগে। তখন আমরা তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ক্লাস শেষে ডিপার্টমেন্টের সামনের বারান্দায় আড্ডায় বসেছি। আড্ডার মাঝেই আচমকা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো ছেলেটা। এতো ইমোশন! সেদিন ভীষণ আশ্চর্য হয়েছিলাম আমি। পুরুষ মানুষ হয়ে একটা মেয়ের জন্য এমন কান্নাকাটি ভীষণ ন্যাকা মনে হয়েছিলো। তারপর একদিন হঠাৎ করে ভার্সিটির গ্রুপে পোস্ট দেখলাম, প্রেমিকা ছেড়ে যাওয়ায় ফ্যানের সাথে ঝুলে পড়েছে ছেলেটা। মানসিক অবসাদটা নিতে পারেনি। আহারে, ভীষণ ব্রাইট স্টুডেন্ট ছিলো। মেয়ে মানুষের চক্করে পড়ে অযথা গোছানো ক্যারিয়ারটা নষ্ট করলো। এসব বলেই কিয়ৎক্ষণ আফসোস করেছিলাম সেদিন। মনে মনে রওশনকে বোকা, গাধা, ইমোশনফুল বলে গালাগালও করেছিলাম। আজ আমার হাতেও গাঢ় রঙের পাসপোর্ট। ক্যারিয়ার যুদ্ধে রওশনের থেকে কয়েক পা এগিয়েই গিয়েছি বোধহয়। সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ হয়েছে। পাসপোর্ট হয়ে গিয়েছে। ভিসা হতেও খুব বেশি দেরী নেই। স্বপ্ন আমার হাতের মুঠোয়। শুধু রুদুবা নেই। কোথাও নেই। দুই মিনিট আগেও ছিলো। ঠিক এই মুহূর্ত থেকে আর রইলো না। আমার জীবনটাও এই মুহূর্ত থেকেই ভীষণ ফাঁকা-ফাঁকা, শূন্য হয়ে গেলো। হাতের মুঠোয় স্বপ্নগুলোও অযথা। কী হবে এতো স্বপ্ন পূরণ করে? কী হবে এতো ছুটাছুটি করে? আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম। শুধু আমার সাথে থেকে যাওয়ার বিপরীতে নিজেকে তার হাতে পরাধীন করেছিলাম। জীবনানন্দকে নাটোরের বনলতা সেন দু'দন্ড শান্তি দিয়েছিলো। আমি শান্তি চাইনি। আমি শুধু চেয়েছিলাম, রুদুবা আমার হোক। আমি যখন আকাশসম আবেগ নিয়ে ভালোবাসি বলবো। ও মৃদু হেসে আমার কাঁধে মাথা রাখুক। রুদুবা তার কথা রাখেনি। সপ্তাহখানেকের অসীম যুদ্ধ, মানসিক অশান্তির পর রুদুবার খুব কাছের বন্ধুটি জানালো,

' রুদুবা আমার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখতে চায় না। সে বিরক্ত। আমি যেন তাকে ছেড়ে দিই।'

তারপর আরও অনেক কথা। সত্যি বলতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। একটা মানুষের পক্ষে আর কত সহ্য হয়? আর কত জোরজবরদস্তি করা যায়? রুদুবাকে আমার পাসপোর্টের কথাটা জানানো হলো না। তার বান্ধবীকে জানিয়েছি, আমি আর তাকে বিরক্ত করবো না। আচ্ছা, সাভারে যে এই এতো এতো গাড়ি-ঘোড়া চলে? কত মানুষ চাকার তলায় পিষে যায়। আমি তাদের একজন হলে কী হয়? একটা গাড়ি আমার উপরও আসুক না! গল্পটা শেষ হয়ে যাক এখানেই। রুদুবা স্বস্তি পাক, আমার স্বস্তি হোক। ব্যস, সমাপ্ত! বাসা থেকে মা ফোন দিচ্ছেন। বড়ো আপা ফোন দিয়ে চলেছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। আজ আমার বাড়ি যাওয়ার কথা। আপা আসবেন ডিসেম্বরে। বাড়িতে খুব উৎসব উৎসব মহল। আমার এই বিবর্ণ মন নিয়ে জমকালো উৎসবের অংশ হতে ইচ্ছে করছে না। আমার আর কাউকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে না, 'কেন? কেন রুদুবা আমায় ভালোবাসলো না?' সকল প্রশ্ন-উত্তরের উর্ধে গিয়ে আমি ক্লান্ত। সাভারের ব্যস্ত রাস্তায় উল্কার মতো ছুটছে রাক্ষুসে বাস। আমাকে বাসের ওই চাকাগুলো টানছে। রাস্তার মাঝ বরাবর শুয়ে পড়লে কেমন হয়? এই হৃদয় পোড়া যন্ত্রণা থেকে কী মুক্তি পাওয়া যায়?

আমি মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান। বেপরোয়া, জেদী। রুদুবাকে নিজের সাথে জড়িয়ে ছিলাম অনেকটা জেদ করেই। বড়ো আপার মাধ্যমে ফেসবুকেই প্রথম দেখি তাকে। লেখালেখি করে। ভীষণ চঞ্চল। নিজের কোনো বোন নেই বলে বড়ো আপা তাকে ছোট বোনের মতো ভালোবাসে। কতটা ভালোবাসে? হয়তো আমার থেকেও বেশি! এই সম্ভবনার উপর ভিত্তি করেই নজরে আসে সে। তারপর সটান প্রপোজ করে বসি তার ফেসবুক ওয়ালে। রুদুবা আমাকে দু'আনা পাত্তাও দেয়নি। আমি জানতাম দিবে না। রুদুবা অন্যরকম। ওর সাথে আমার প্রথম কথা হয়েছিলো শাড়ি নিয়ে। ইনবক্সে ভীষণ তাড়াহুড়ো নিয়ে বলেছিলাম,

' এই তোমার জন্য কী রঙের শাড়ি কিনবো? কেমন শাড়ি তোমার পছন্দ? পার্পেল চলবে?'

রুদুবা তখন বাচ্চা একটা মেয়ে। অথচ ভীষণ আত্মাভিমানী। আমি জানতাম ও আমাকে খেয়াল করে। এইযে ওকে ছাড়া ওর আশেপাশের বাকিদের কাছে কেবল ওরই কথা বলি? ওসব ওর কানে যায়। আমার ম্যাসেজে আগ্রহ দেখাবেই। হলেও তাই। এক মিনিটের মাথায় উত্তর এলো,

' সরি?'

আমি বললাম,

' সরি বলে কোনো শাড়ি হয়? জানতাম না তো? দাঁড়াও, আম্মুর থেকে জেনে আসি।'

রুদুবা আশ্চর্য হয়েছিলো। রুদুবা অন্যরকম মেয়ে। সে সকল কথাতেই আশ্চর্য হয়। চোখভরা বিস্ময় নিয়ে তাকায়। আবার কখনো পৃথিবীশুদ্ধ বিস্মিত ঘটনা ঘটে গেলেও বিন্দুমাত্র আশ্চর্য হয় না৷ দুপুর করে ঘুম থেকে উঠে। কখনো শাড়ি পড়ে বিনোদিনী সাজে। চোখ ভরে কাজল দেয়। পায়ে ঘন করে আলতা পড়ে। খিলখিল করে হাসে কখনো অন্যকে হাসায়। মাঝরাতে চা খায়। অন্ধকার বারান্দায় ভূতের মতো ঘুরে বেড়ায়। সবার মন খারাপগুলোকে পেঁজা মেঘের মতো হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসিয়ে দেয়। রুদুবা সবাইকে ভালোবাসে, সবার প্রিয়মুখ। রুদুবা শুধু আমায় ভালোবাসে না। কেন বাসে না, সে প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না।

রুদুবার জন্য বহু পাগলামো করেছি আমি। থিসিস লিখতে লিখতে মাঝরাত, হঠাৎ রুদুবার কথা মনে পড়লো, আর হঠাৎ-ই বাস ধরে ছুটে গিয়েছি রুদুবার শহরে। রুদুবা ঘুমু ঘুমু চোখে বারান্দায় এসেছে। ভীষণ বকাঝকা করেছে। বাচ্চা একটা মেয়ের বকাঝকাগুলো আমি মুগ্ধ হয়ে শুনেছি। রুদুবার চোখ দুটো এতো সুন্দর!

একবার বাইক এক্সিডেন্ট করলাম। হাতে-পায়ে বিভিন্ন জায়গায় ছিঁলে একাকার। আমি বাবা-মা-বড়ো আপার আদুরে, একমাত্র। ব্যথা সহ্য করতে পারি না। কিন্তু আপনজনহীন শহরে বন্ধুর টেলিফোনে রুদুবা যখন একমাত্র পরিচিত হয়ে উদভ্রান্তের মতো ছুটে এলো। উল্কার বেগে বকাঝকা করে আচমকা কেঁদে ফেললো। আমার মনে হলো, এই ব্যথা পাওয়াটা কত সুখের! আচ্ছা? এমন ব্যথা আমি প্রতিদিন পেলে কী হয়? হয়তো আমি এমন ব্যথা আরও পাবো। বারবার পাবো। কিন্তু রুদুবা আসবে না। আচ্ছা? রুদুবা কী আমার স্কলারশিপটা নিয়ে অখুশি? ও চায় না আমি যাই? কিন্তু ও তো বলেছিলো, স্বপ্ন ছাড়া বেঁচে থাকা বৃথা। স্বপ্নের পিছু ছুটে স্বপ্নকে ধরতে না পারলে জীবন বৃথা। আমি স্বপ্নের পিছু ছুটেছি। রুদুবাও জানে আমি ভীষণ পরিশ্রম করেছি। রুদুবা আমার স্বপ্ন ছিলো। ওকে পাওয়ার জন্য আমি আকাশের সাথে বাজি রাখতেও রাজি আছি। রুদুবা সব জানে কিন্তু ভালোবাসে না।

রুদুবা আমার প্রথম প্রেম নয়। এর আগেও তিন তিনবার প্রেমে পড়েছিলাম আমি। কিন্তু রুদুবাই একমাত্র যার প্রেমে না পড়ে আচমকা ভালোবেসে ফেলেছি। রুদুবা অসুস্থ হলে অস্থির হয়েছি। ছুটে গিয়েছি ওর কাছে; সকাল, দুপুর অথবা মাঝরাত তাতে কী যায় আসে? রুদুবাকে হারিয়ে ফেলার ব্যথা মুঠোয় থাকা স্বপ্নকে বড়ো ফিকে করে দিচ্ছে। রুদুবার বন্ধু আমায় নিজের খেয়াল রাখতে বলেছে। আমি বলেছি, রুদুবার খেয়াল রাখতে। রুদুবা নিজের খেয়াল রাখতে জানে না। আবার কীভাবে যেন সব পারে৷ শুধুমাত্র আমায় ভালোবাসতে পারে না। রুদুবার বন্ধু বললো, আমি খুব ইমোশনাল। যেমনটা আমি একদিন বলেছিলাম রওশনকে। রওশন আর নেই। কিন্তু সেই মেয়েটি আছে। হয়তো আমিও থাকবো না, রুদুবা থাকবে। রুদুবার দোষ নেই। রুদুবা কখনো আমায় দুর্বল হতে বলেনি। রুদুবা কখনো কিছু বলে না। আমার অজস্রবার 'ভালোবাসি' বলার পরিবর্তে রুদুবা কখনো ভালোবাসি বলেনি। আমাকে ভালো থাকার কথা বলেনি। নিজের স্বপ্নের কথা বলেনি। নিজের কষ্টের কথা বলেনি। আমি রুদুবাকে এক টুকরো জানি। সে জানে আমায় আদ্যোপান্ত!

_________________

হিমি আমার সাথে কথা বলছে না। তার ধারণা আমি মাহবুবকে বড়ো ব্যথা দিয়েছি। আমার মাথায় সমস্যা আছে। আমি অযথা সিনক্রিয়েট করছি। আমি হিমিকে বুঝানোর চেষ্টা করিনি। মাহবুবকে অবশ্য বুঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। মাহবুবটা ভীষণ অবুঝ। এতো বড়ো পুরুষ মানুষ হয়েও বাচ্চাদের মতো জেদী। এইযে আমার এতো সমস্যা, এতো দায়িত্ব ওসব ছাপিয়ে কেবল ওর আমায় চাওয়া। কী পেয়েছে ও আমার মাঝে? আমি বুঝে পাই না। আমি রিজেকশন ভয় পাই। কেউ আমায় ছেড়ে চলে যাবে, অপমান করবে ভাবতেই আমার গায়ে কাঁটা দেয়। অথচ মাহবুবের হাতে কত অজস্র পন্থা। সে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ব্রাইট স্টুডেন্ট। বিলেত যাচ্ছে গবেষণা করতে। আমি নিজের শহরে ছা-পোষা এক কলেজে স্নাতক করছি। ওর সাথে আমার যায়? এইযে 'ওর সাথে আমার যায় না' এই চিন্তাটা আমায় ক্রমাগত অপমানিত করছে। আমি ভীষণ অপমানিত, লাঞ্চিত হচ্ছি প্রতিটি দিন। নিজের কাছে নিজের অপমান যে কত ভয়ঙ্কর অপমান তা কী পৃথিবী জানে? পৃথিবী জানে। সবাই জানে। কেবল মাহবুব জানে না। ও বুঝতে চেষ্টা করে না। ওর কেবল আমাকে চায়! আমাকে চায়! বাবার রিটায়ার্ড হয়েছে মাস কয়েক হলো। পরিবারের আর্থিক দুর্গতি দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটা টিউশন দরকার। একটা চাকরি দরকার। একটা ভালো সিজিপিএ দরকার। বাবা-মার এক্সপেকটেশন, তাদের শুকিয়ে যাওয়া মুখে একটু আলো দরকার। আজ সকালে দেখি পার্সটা ফাঁকা। দশ টাকা পড়ে আছে মাত্র। অথচ কাল দুপুর থেকে আমি না-খাওয়া। ক্ষুধা মিইয়ে গিয়েছে অবহেলায়। বাসায় টেলিফোন করলেই বাবা টাকা পাঠাবেন। যত কষ্টই হোক টাকা পাঠাবেন। কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা আমার পক্ষে সে টাকায় খাবার খাওয়া বিষ খাওয়ার মতোই জ্বালাধরানো। আমার সব বন্ধুরা ভালো ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে। বাবার ইচ্ছে ছিলো আমিও পড়ি। বাবার আমাকে নিয়ে ভীষণ বড়ো বড়ো ইচ্ছেগুলোর একটিও পূরণ করতে পারিনি। প্রতিটি দিন, প্রতিটিক্ষণ নিজের কাছে ছোট হতে হতে ভেঙে গুড়িয়ে যাচ্ছি। মাহবুব সেসব বুঝে না। মাহবুবের কেবল আমাকে চায়। সকাল, দুপুর, রাত মাহবুবের কেবল রুদুবা! রুদুবা! রুদুবা! ও জানে না নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ভাঙতে ভাঙতে গুড়িয়ে যাওয়া মেয়েটির বুকের হাহাকার। ছত্রিশ ঝামেলা মাথায় নিয়ে যে প্রেমের গল্পে প্রাণ জুড়ায় না তা তাকে কে বুঝাবে?

হিমিকে সে এক বুক হাহাকার নিয়ে শুধায়, রুদুবা আমায় কেন ভালোবাসে না? হিমি আমায় বিরক্ত হয়ে শুধায়, কেন ভালোবাসিস না? একজন পার্ফেক্ট পার্টনার জীবনে বারবার আসে না। আমি জানি, হিমি মনে মনে আমায় গালমন্দ করে। মাহবুব আমাকে কী করে সহ্য করছে এই ভেবে আশ্চর্য হয়। হিমি জানে না, বাবা-মায়ের ব্যর্থ সন্তানদের পার্ফেক্ট পার্টনারের চিন্তায় বিভোর থাকা শোভা পায় না। প্রতি মুহূর্তে সূচের মতো বিঁধতে থাকা আত্মসম্মানবোধের জ্বালাপোড়নের সামনে পার্ফেক্ট পুরুষের মুখও বিষাক্ত। বিরক্তি। বাড়তি ঝামেলা। আমি মাহবুবকে ঝামেলার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলেছি। তাকে ছেঁটে ফেলতে আমার মন খারাপ হয়নি। দিন-রাত একশো একটা ঝামেলা নিয়ে চিন্তা করা মস্তিষ্কের প্রেম বিরহে বিরহী হওয়ার ফুরসত হবে না। বড়োজোর হিমি আমার সাথে কথা বলবে না। না বললেই বা ক্ষতি কী? মিথ্যা হাসি হাসতে হাসতে ক্লান্ত ঠোঁটের আরও একটি মানুষের সামনে ক্লান্ত হাসতে হবে না, সেই তো বড়ো লাভ।

বিরক্ত হিমি বার বার শুধায়, তুই কী চাস? আমি মৃদু হাসি। আমার চাওয়ায় কোনো বাহুল্য নেই। আমি চাই, এই পৃথিবীর সকলে এক মুহূর্তের জন্য আমায় ভুলে যাক। আমি ভেঙে গুড়িয়ে যাওয়া হৃদয় নিয়ে রাস্তা ধরে হেঁটে যাবো কেউ আমার দিকে তাকাবে না। মাঝরাতে কেউ পাগলামো করে চেঁচাবে না, 'রুদুবা! রুদুবা! আমার খুব বুক ব্যথা। আমার কেবল তোমাকে চাই।' বুকের ভেতর নিজের কাছেই বারবার প্রতিবার লাঞ্চিত হবো না। আমার প্রিয় আত্মসম্মান মাথা উঁচু করে বাঁচবে। কেউ ছেড়ে যাওয়ার ভয় তারা করবে না। এই কঠিন পৃথিবীতে কাউকে ভালোবাসার মতো ভুল আমি করতে পারি না। না, না, না৷ মাহবুব, এই পৃথিবী তুমি চেনো না। তোমার পৃথিবীর সাথে আমার পৃথিবী মেলে না। মিলবে না। তোমরা আমায় ছেড়ে দাও। হে পৃথিবী, তুমি আমায় ভুলে যাও। প্রিয় মাহবুব, আমায় মুক্তি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন