ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপরিপক্ক

৩য় পর্ব

লেখক: যাজিবা_ জাবিন

#অপরিপক্ক 

#পর্ব_৩
#যাজিবা_জাবিন 
#গ্রামীন_প্লটে_লেখা_সামাজিক_রোমান্টিক_গল্প 
(⛔ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ⛔ চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)
****************************""""
সোনালী রোদে পুকুরে পানিতে পরেতেই কেমন ঝকমকিয়ে উঠছে, শীতল বাতাস চারপাশে, বাগানের নারিকেল গাছের পাতা হাওয়ায় দোলছে, বাদল মাস্টার সাইকেলে চড়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো, খালেদা খাতুন নিজের হাতে রোপন করা সবজির চারা গুলো যত্ন নিতে ব্যস্ত। আমেনা বেগম আর কলি বারান্দায় কাঁচা সুপারিশ বস্তা নিয়ে বসেছে, খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে কেটে রোদে শুকাতে দেবে,যাতে সুপারির কোষ কমে যায়, আমেনা বেগম পান খায়, কিছুটা নিজের জন্য রাখবে বাকিটা বিক্রি করবে আশে পাশের বাড়ির মুরুব্বীদের কাছে।
বাড়িতে একই রকম চারটা মাটির দালান, পূর্ব পাশে পাশাপাশি দুইটা একই রকম তারপর উত্তর- দক্ষিণের সামনাসামনি দুইটা কোনটার সাথে কোনটার সংযোগ নাই। বাদল মাস্টার দুই ছেলের জন্য উত্তর আর দক্ষিণের দালান গুলো বরাদ্দ করেছে, পূর্ব দিকের পাশাপাশি একটাতে মাস্টার তার স্ত্রী খালেদা খাতুনকে নিয়ে থাকে ।
আর পাশেরটাতে তার মা আমেনা বেগম থাকে, আমেনা বেগমের স্বামী মরে যাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গী ছিল কলি।
কলি বিয়ের পর যখনই বেড়াতে আসে তখন দাদীর সাথেই থাকে, আর এখন তো মিলনের বউ রেবেকাও তার সাথেই থাকছে। 
গ্রামের কুসংস্কার অনুযায়ী বাল্যবিবাহ অথবা শিশু বিবাহ জায়েজ, তবে নাবালিকাকে স্বামীর কাছে পাঠানো নাজায়েজ।। তাই গ্রামের নিয়ম অনুযায়ী যতদিন না পর্যন্ত রেবেকা সাবালক 
(((মা সি ক)))হচ্ছে কতদিন পর্যন্ত স্বামীর ঘরে দেওয়া যাবে না।। গ্রামের কুসংস্কার অনুযায়ী একটা মেয়ে সাবালিকা ((মা সি ক)) স্বামীর বাড়িতে গিয়ে হওয়াটাই পবিত্র বলে গণনা করা হচ্ছে। 
*******************
প্লেট বাটি ধুয়ে গুছিয়ে রেখে রেবেকা গুটিগুটি পায়ে চলে গেল মিলনের ঘরে, এমনটা না এই ঘরে রেবেকা আসে না সে প্রতিদিন আসে দু বেলা করে ঝাড়ু দেয় পরিষ্কার করে, মিলনের কাপড় খুব সুন্দর করে আলনাতে গুছিয়ে রাখে,বিছানার টানটান করে রাখে, মাটির দেয়াল মাটির -মেঝে হওয়া সত্ত্বেও একদম পারিপাঠি ঘর ছকছকে চকচকে পরিষ্কার।
রেবেকা গিয়ে দাঁড়ালো ঘরটার মধ্যখানে, মিলনের উত্তরের বড় মাটির দালানে দুইটা রুম। উত্তরের শেষের দিকে রুমটাতে সে থাকে, পাশের রুমটায় তার দোকানের যাবতীয়, নতুন আনা ,কিনবা পুরনো বাড়তি কাপড় গুলোকে বস্তা ভর্তি করে রাখা হয়,এক কথায় বলা চলে গোডাউন। 
রেবেকা লক্ষ্য করল মিলন কক্ষে নেই, সে ভাবলেও হয়তো বাহিরে আছে, তাই রেবেকা বাহিরে চলেই যাচ্ছিল, কিন্তু তখনই পাশের ঘর থেকে শব্দ আসে, রুমের মাঝখানে পার্টিশনের দরজা দিকে তাকিয়ে রেবেকা দেখে মিলন বের হয়ে আসছে হাতে একটা বড় শপিং ব্যাগ, মিলন সেটা হাতে নিয়ে এসেই বিছানায় বসে তারপর চুপচাপ রেবেকার দিকে তাকিয়ে থাকে রেবেকাকে আগা গোড়া পরোক্ষ করে।মেয়েটা ইয়া লম্বা একটা ঘোমটা দিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, ঘোমটার কারণে মিলন ঠিকভাবে রেবেকা কে দেখতে পারছে না।
মিলন::: মাথার কাপড় খোলো, বাহিরে এভাবে থাকবে অন্য ছেরা বেডাগোর সামনে,আমার সামনে খোলা থাকবে।
রেবেকা কথা শুনলো মিলনের কথা মত মাথার ঘোমটা নামিয়ে দিলো।
মিলন তাকিয়ে থাকে একটা কাপড়ে পেছানো শরীর টার দিকে। কিছু সময় চুপচাপ দেখে। তারপর ডান হাত উঁচু করে ইশারায় কাছে ডাকে মুখে বলে। 
মিলন::: আমার কাছে আও বিবি।
রেবেকা লক্ষ্মী বিবির মতো গুটিগুটি পায়ে সামনে এগিয়ে যেতেই , মিলন প্রথম বারের মত রেবেকা নরম হাত আঁকড়ে ধরে।
 মিলন বিছানায় বসা তার দু পা দুদিকে প্রসারিত ছোট রেবেকা মিলনের দু পায়ের মাঝখানের অংশটাতে শান্তভাবে দাড়ায়। মিলনের পুরোশালী দু হাতের তালুতে রেবেকার দুহাত আঁকড়ে ধরে, তার দুহাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল দ্বারা রেবেকার নরম হাতের তালু আর উল্টো পাশে আঙুল বোলায়, সুস্বাস্থ্যবান রেবেকার হাত খুব নরম। তা ছুঁয়ে দেখতে মিলনের খুব ভালো লাগছিল। মিলন একটা পুরুষ মানুষ আর সে জানে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি তার বউ, অবশ্যই তার ভেতরেও অনুভূতি কাজ করবে স্বাভাবিক। মিলনের ইচ্ছা করলো রেবেকাকে একটু ছুয়ে দেখতে, রেবেকা সুন্দর বাচ্চা যে কারোই আদর করতে মন চাইবে ,মিলনেও ইচ্ছা করছে খুব, মিলন সেটা ইচ্ছা দমিয়ে রাখলো পারলো না।ব্লাউজ বিহীন রেবেকার উদাম হাতে, মিলন ওপর নিচ তার পুরুষালী শক্ত হাত বুলিয়ে দিল, রেবেকা ভয় পাচ্ছে খুব শরীর কাঁপছে, তা দেখে মিলন হতাস হলো।
রেবেকার সুন্দর মুখটা লাল হয়ে গেছে ভয়ে হয়েছে কি!
না লজ্জায় মিলন বুঝে না।সে রেবেকার দু হাত ছেড়ে দিল, বেবেকা একটু পিছতে চাইলো মিলন এক হাতের কব্জি ধরে তাকে আটকায় বলে। 
মিলন::: চুপচাপ দাঁড়াও এখানে নড়‌রো না।
কথাটি বলেই বড় ব্যাগটার ভেতর থেকে একটা ফিতা বের করল মিলন, দর্জিরা কাপড় মাপে সেই ফিতা। 
তারপর হাত বাড়িয়ে রেবেকা কে আরো কাছে টানায়, ভয় পায়ে যান মেয়েটা। 
ভাবে; এই ফিতা দিয়ে তাকে বেঁধবে কি তখন মাথার কাপড় নামানোর জন্য। 
রেবেকা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে একথায়‌ই ভাবছিল তাকে দেখে মিলন বলে। 
মিলন:::: ডরাইতাছো নাকি
রেবেকা:::: হ
রেবেকা কথাটা বলে শুকনো ঢোক গিলে ,তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে খুব ভয় পাচ্ছে।।
 মিলন:::আমি তোমার স্বামী লাগি, আর তুমি আমার বউ, এই দুনিয়াতে একমাত্র আমি যার কাছে তোমার ডর ভয় লজ্জা কিছু থাকার কথা না। ডরাইয়ো না।
মিলন কথাটি বলতে বলতেই রেবেকার দুহাতে নিচ দিয়ে তার পুরুষালী দুহাত ঢুকিয়ে, কাপড় মাপার ফিতা টা দিয়ে, রেবেকার বুক মাপে ব্লাউজের জন্য।
রেবেকা::::কি কি‌ করতাছুন এইডা !?
মিলন::: এহন থেইকা বেলাউজ পড়বা, কত সাইজ লাগবো মাপ নিতাছি। এই পোড়া বীরপুরের মধ্যে আমার এতো বড় কাপড়ের দোকান আর আমার বউ বেলাউজ- ছায়া_ ছাড়া কাপড় পরে, এটা কেমন কতা। 
রেবেকা চুপ করে শুনলো মিলনের কথা, ঐদিন মিলনে দাদী আমেনা বেগম এই কথাই বলছিলো, যে তোর জামাইয়ের এত বড় কাপড়ের দোকান আর তোর গায়ে ব্লাউজ নাই। তখন রেবেকা ননদ কলি নিজের একটা ব্লাউজ রেবেকা কে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তখন রেবেকার দাদিশাশুড়ি আমেনা বেগম বলেছিল,
আমেনা::: ওর বেডা ওরে আইনা দিবো,কলি তুই দিবি না।আর না দিলে ওর ব‌উ এর ধলা শ‌ইলডা মাইনষে দেহুক। 
/// সে কথা মনে হলে রেবেকার মন খারাপ হয়, তখনো খারাপ হয়েছিল তবে মা বলে দিয়েছে, শ্বশুর বাড়ির কারো কথায় বিপরীতে কখনো কিছু না বলতে। ছোট্ট শান্ত রেবেকা মায়ের কথা মনে রেখেছে তাই খারাপ লাগলেও চুপ করেছিল। 
এ কথা মনে হতেই হঠাৎ করেই রেবেকার চোখের জল চিকচিক করে উঠে, হাতের ফিতা রেখে ততক্ষণে মিলন বড় শপিং ব্যাগ থেকে রেবেকার মাপের ব্লাউজ বের করেছে, রেবেকার গায়ের সবুজ রঙের শাড়ি তাই মিলন বেছে বেছে সবুজ রঙের একটা ব্লাউজ বের করে রেবেকার দিকে তাকাতেই, দেখতে পায় রেবেকার চোখে পানি। রেবেকার বড় পাপড়ি যুক্ত চোখে দুটুতে পানি দেখে, মিলন কিছুটা বিচলিত হয়ে যায় জিজ্ঞাসা করে। 
মিলন::: কান্তাসো কেন? 
সরল রেবেকা, স্বামী কি জিনিস সেটা তো বোঝেনা, কিন্তু মা আর দাদি বারবার বলে দিয়েছে মনের সব কথা শুধুমাত্র স্বামীর কাছেই প্রকাশ করতে, হোর বাড়িতে স্বামী তার সব থেকে আপন। তাই কান্নার কারন বলে দিলো সে।
রেবেকা:::: কলি আফায় আমারে তার একটা বেলাউজ দিতে চাইছিল , কিন্তু বুবু (দাদী) দিতে দেয় নাই,ক‌ইছে ওর বেডায় ওরে আইনা দিব, তুই দিবি কেন,না দেয় তাইলে ওর বউয়ের ধলা শ‌ইল মাইনষে দেহুক।
মিলন এই কথা শুনে হু হু করে হেসে উঠে, তা দেখে রেবেকা কান্না ভুলে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে মিলনের দিকে। মিলন বোঝেছে তার দাদি এ কথা কেন বলেছে, দাদি চেয়েছে মিলন যেন রেবেকার দিকে একটু লক্ষ্য রাখে, কিন্তু রেবেকার তো সেটা বোঝেনি। মিলন হাসি থামিয়ে হাতের সবুজ রঙের ব্লাউজ টা রেবেকার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে। 
মিলন::: যাও পাশের ঘর যাইয়া বেলাউজটা প‌ইরা আও।
কথাটি বলতে বলতে সবুজ রঙের একটা পেটিকোট হাতে ধরিয়ে দিল বলল। 
মিলন:::এইডা নিচে পরও, আর সুন্দর কইরা কাপড়ের কচি দাও।
রেবেকা কথা মতই চলে যায় পাশের ঘরে, মিলন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রেবেকা ব্লাউজ পরলে কেমন দেখায় সেটা দেখার জন্য।
অন্যদিকে বাহিরে আমেনা বেগম আর কলি পূর্ব দিকের তার ঘরের সামনে বারান্দায় বসে তাকিয়ে আছে মিলনের ঘরের দিকে, হঠাৎ করেই এতদিন পর আজ মিলন রেবেকাকে ঘরে যেতে বলেছে, কেন বুঝার জন্যাই আমেনা বেগমের এমন গাপটি মেরে বসে থাকা। তাছাড়া রেবেকা এখনো মিলনের সাথে থাকার জন্য উপযুক্ত হয়নি।
রেবেকা যতটুকু পেরেছে ব্লাউজ আর ছায়া দিয়ে শাড়িটা পড়লো, মিলন তাকে ভালো ভাবে দেখলো হাত নিয়ে ইশারা করে,তার পাশে বসতে বললো, রেবেকা খুব খুশি মিলন তাকে ব্লাউজ দিয়েছে,সে চুপচাপ পাশে বসলো।
রেবেকার খোপার চুল এলোমেলো হয়েছিল, মিলন চুলের খোপা টা খুলে দিল। রেবেকার চুলগুলো খুব সুন্দর বড় ঘন কালো। মিলন চুলে হাত বুলিয়ে বলল। 
মিলন:::আমার সামনে খোঁপা করার দরকার নাই,চুলে কি তেল দেও নারিকেল?
রেবেকা::: হ ঐডাই তো দেই, টিনের কোডটা উপরে নারিকেল গাছের আর নারিকেল ছবি আছে হেইডাই।
রেবেকার কথা বলার ভঙ্গি দেখে মিলন হাসে।
মিলন:::তোমারে স্কুলে পড়ায় নাই?
রেবেকা:::নাতো দাদী আর আম্মা কইছে মাইয়া মানষের স্কুলে যাইয়া কোন কাম নাই, কোরআন পড়বি, নামাজ শিখবি, বিয়ার পর স্বামীর বাড়িত যাইয়া, নামাজ পইরা স্বামীর লেইগা দোয়া করবি, কাম শেষ।
মিলন এবারও হো হো করে হেসে উঠল তার হাসির শব্দ ঘরের বাহিরে যাচ্ছে। আমেনা বেগম ভুরু কুঁচকে যাচ্ছে বারবার নাতির এমন হাসি শুনে। কি এমন হলো যে এত জোরে জোরে হাসতাছে। খুব ভাবনায় পড়ে গেল আমেনা বেগম। 
মিলন হাসি থামালো হাত বাড়িয়ে রাবেকার গলার কাছের চুলগুলো পেছনে সরিয়ে দিয়ে, ফর্সা গলায় আঙুল দিয়ে ঘষতে ঘষতে বলল। 
মিলন::: তা এই বাড়িত আইয়া নামাজ পড়ছিলাম একদিনও, দোয়া কি করছিলা আমার লাইগা?
রেবেকা মাথা নারে 
রেবেকা::::হ পড়ছি নামাজ বুবুর (মিলনের দাদির সাথে))লগে।
মিলন::: দোয়া করছিলাম ,করলে কি দোয়া করছো।?
রেবেকা:::দাদি শিখাইয়া দিল মোনাজাতে কইতে "আল্লাহ্ আমারে আমার স্বামীর জন্য পরিপক্ক তাড়াতাড়ি বানায় দাও, যাতে কইরা আমার স্বামীর একলা থাকার কষ্ট দূর হয়।
মিলন চুপচাপ তাকিয়ে দেখি নয় মাস হয়েছে তাদের বিয়ের, বারো বছর হবে তার বিবির, এখনি তো সময় পরিপক্ক হওয়ার,হয়ে যাওয়ার কথা, পরিপক্ক হয়ে গেলেই কি বিবি সে সব সহ্য করতে পারবে,যা তাদের মধ্যে হবে।পারবে হয়তো সব মেয়েরাই পারে রেবেকাও পারবে। মিলন ভাবলো (মনে মনে)
রেবেকার কথা বলার সময় ঠোঁটের নড়াচড়া। পাতলা গোলাপি ঠোঁট জোড়া, কি সুন্দর করে লড়ে কথা বলার সময়। 
মিলন রেবেকার কথা শুনে একটু গম্ভীর হলো, মিলন নিজের ইচ্ছাকে খুব প্রাধান্য দেয়, কোন কিছু ইচ্ছা হলে করে ফেলে , যেমন এখন তার রেবেকার ঠোঁট ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছা করলো তাই সহজেই তার পুরুষালী হাতটা উঠিয়ে রেবেকার নরম পাতলা নিচের ঠোঁটে আলতো করে আঙুল দিয়ে চাপ দিলো মুখে বললো। 
মিলন:::তা পরিপক্ক কবে হ‌ইবা বিবি।
রেবেকা বোঝেনা পরিপক্ক কথাটার মানে তবে সে বলে।
রেবেকা ::::আফনের কি খুব কষ্ট হয়?, আমি তো প্রতি ওয়াক্ত নামাজ পইরা দোয়া করি আল্লাহ শোনে না কেন।
মিলন এবার দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে কি বললে বুঝতে পারছে না, তার খুব ইচ্ছা করছে তার বিবিকে ছুঁয়ে দিতে আদর করতে,রেবেকার গোলাপি ঠোঁটে একটা চুমু দিতে।
কিন্তু তা সে করলো না, রেবেকার কথা ঘুরিয়ে সে বললো।
মিলন:::শোনো বিবি ঐ কামরায় অনেক কাপড় আছে , বেলাউজ আছে, ছায়াও আছে, তোমার যেটা লাগবো এই ঘরে আইসা নিবা, পড়বা কারো কাছে কিছু চাওয়ার দরকার নাই,যা লাগবো আমারে কইবা আমি সব আইনা দিমু। দোকানের কিছু খাইতে ইচ্ছা করলে কইবা আমি বাড়িত ফিরার সময় লইয়া আমু,ঠিকাছে।
রেবেকা::: আচ্ছা তাইলে একটা বেলাউজ নেই ঐ পেছনের বাড়ির ফুলির লাইগা।
মিলন::: না অন্য কারো লাইগা না,, এগুলো আমার দোকানের মাল, তুমি আমার বিবি, আমার ঘরের লক্ষ্মী, আমার সবকিছু হেফাজত রাখা তোমার কাম, শুধু তোমার যেটা লাগবো সেটা তুমি নিবা।
কথাটি বলে শেষবারের মতো রেবেকার ঠোঁট দুটো আঙ্গুল দ্বারা চেপে ধরল মিলন।
রেবেকা: উমমম
মিলন::: কি?
রেবেকা::: দুক্কু লাগে।
মিলন::: লাগুক।
মিলন রেবেকা কে ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে, মাটির 
দেয়ালে একজাস্ট করা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিরুনি চুলে চালাতে চালাতে বলে।
মিলন::: আমার ছোঁয়া সাধারণ বিবি, আমি না ছুইলে তুমি পরিপক্ক হবা না কোনদিন‌ই, নামাজে বইসা দোয়া করছো দেইখাইতো ,আল্লাহ আমারে কইছে তোমারে ছুইয়া পরিপক্ক বানাইতে, আমি ছুঁইয়ে দুক্কু লাগবোই সহ্য করতে হইবো তোমার আর এগুলো আমার আর তোমার গোপন কথা বাইরে কেউরে কইবা না।
রেবেকা মিলনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে বোঝার চেষ্টা করে, কিছুই বুঝতে পারলো না,তবে যেহেতু বলতে না করছে সে কাউকে বলবে না ভেবে নিলো।
মিলন পুনরায় এসে রেবেকার সামনে দাঁড়ায়। তারপর দুহাতে রেবেকার কোমরটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাকে উঁচু করে বলে।
মিলন::: মনে থাকবো তো বিবি।
রেবেকা::: হ থাকবো,কাওরে ক‌ইতাম না।
মিলন::: তোমার ঠোঁডে চুমা দিমু সহ্য ক‌ইরা নেও
রেবেকা::: আচ্ছা।
মিলন বিনা সংকোচে রেবেকার গোলাপী ঠোঁটে জোড়ায় চুমু খায়।
::: বিসমিল্লাহ উম্মাহ উম্মাহ উম্মাহ 
মিলন::: আমার চুমা কি তোমার খারাপ লাগছে বিবি?
রেবেকা::: না লাগে নাই।
মিলন:::এই যে তোমারে এখন চুমা দিলাম,এইডা কিছু সওয়াবের কাজ, আমি কামে যাওয়ার আগে প্রতিদিন দিমু ফিরার পরেও দিমু, এগুলি তোমার আর আমার গোপন কথা , কেউ যেন কিছু না জানে।মনে থাকবো বিবি।
রেবেকা::; হ মনে থাকবো ,কাউরে কইতাম না।
মিলন::: এই ঘরে কি করছো কেউ জিগাইলে কি কইবা। 
রেবেকা::: কি কমু।
মিলন::: বলবা বেলাউজ আর ছায়া দেওয়ার 
লাইগা ডাকছিল। 
রেবেকা::: আচ্ছা।
মিলন::: আবার চুমা দিমু একটা?
রেবেকা::: দেন।
মিলন শেষ বারের মতো রেবেকা ঠোঁটে আর একটা চুমু খায় ,তারপর তাকে কোল থেকে নামিয়ে, শাড়ি ঠিক করে দেয় আঁচল টেনে মাথায় ঘোমটা পরিয়ে দেয়। 
মিলন::: আমি বাজারে যামু দোকান খুলতে, তুমি সাবধানে থাকবা,আর কাপড় ঠিক রাখবা,ঠিকাছে।
রেবেকা::; ঠিক আছে।
বাজারে দোকান খোলার উদ্দেশ্যে মিলন বাড়ি ত্যাগ করে। 
মিলনের শিখিয়ে দেওয়া কথাগুলোই রেবেকা বলেছে তার দাদি শাশুড়িকে। তা শুনে দাদী সন্তুষ্ট হল, সে জানে তার নাতি বুজবার নাবালিকা মেয়ের সাথে কিছু করবে না উল্টাপাল্টা।
*****************
সেনপুরে রেবেকার বাড়িতে 
_________ 
মুক্তা বেগম:::: কি লো ব‌উ রেবেকা ১২ বছরের হ‌ইতে আর কয় দিন আছে
রাবেয়া:::: আম্মা ১২ দিন আছে
মুক্তা::: শ‌ইলেরডা হ‌ইলো কি না জানো নি কিছু?
রাবেয়া:::: কেমনে জানুম ওয় তো হোর বাইত এইনো থাকলে বুঝতাম জানতাম।
মুক্তা::: তয় জালাল রে ক‌ও ওরে আনবার যাইতে, আহুক কয়ডা দিন থাইহা যাক,বিহা দিছি ১২ বছর হ‌ইবো এখনো শ‌ইলেরডা হয় না কে।
রাবেয়া চুপ করে ভাবে সত্যিই তো বিয়া হ‌ইছে এখন (মা সি ক) হ‌ওয়া উচিত,বেডা মানুষ এমনেই বসাইয়া খাওয়াইবো কয়দিন,শ‌ইলেরা চাওয়া হয়েছে আছে।বেডাগো খুশি করার তো ঐ একটা জায়গাই।
**********************
আজকে দোকানদারি করার সময় মিলনকে খুব ফুরফুরা মেজাজে ছিল, কেমন যেন খুব শান্তি শান্তি অনুভব করছিল। আজকে দোকানের কাস্টমারদেরকে ১০% ডিসকাউন্টও দিয়েছে ।
এক প্রকার রেবেকার কথা ভাবতে ভাবতেই পুরোটা দিন কেটে গেল, রেবেকার ঠোঁটে চুমু দিয়েই এতো শান্তি লাগছে তার । 
সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার আগে কসমেটিকসের দোকানে গিয়ে_ শুনো, পাউডার, আলতা নেলপলিশ, লিপস্টিক, ফেয়ার এন্ড লাভলী ক্রিম, টিনের কৌটার নারিকেল তেল চার ধরনের চিরুনি রাবার, ভ্যান্ট ,কাটার, গাডার। ফলের দোকানে গিয়ে কলা-কমলা আর, কনফেকশনারির দোকানে গিয়ে নোনতা-মিষ্টি, নিমকি, বিস্কিট চানাচুর, কেক-পাউরুটি//মিষ্টির দোকানে গিয়ে মিষ্টি কিনে, বেগ ভর্তি করে নিয়ে বাড়িতে ফিরলো। 
মিলন খাবারের জিনিসগুলো ডাবল এনেছে। এক প্যাকেট মা খালেদার হাতে তুলে দিল, আর অন্য সব জিনিসপত্র সঙ্গে বাকি প্যাকেটটা তার ঘরে নিয়ে গেল।
কেউ খেয়াল করল না,তেমন কিছু বুঝতে পারল না, কারণ মিলন দোকানের জিনিসপত্র তার রুমের পাশের খোলা রুমটাতে রাখে, তেমন কিছুই ভেবে নিল সবাই।
রাতের খাবার খাওয়ার সময় মিলন,বার বার রেবেকাকে দেখছিল, দুপুরে গোসল করে মেয়েটা লাল শাড়ি পড়েছে সাথে লাল ব্লাউজও। মিলনের খুব ইচ্ছা করছে সকালের মতো রেবেকার সাথে একটু সময় কাটাতে, কিন্তু তা হবেনা এখন,দাদি নিয়ম খুব মানে,রেবেকা কে তার কাছে ঘেঁষতে দেবে না কিছুতেই।
মিলন খাবার খেয়ে নিজের ঘরে যায় না,ঘরের পেছনের পুকুর ঘাটের দাঁড়ায়র নারিকেল গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়, তারপর লুঙ্গির কোচ থেকে বিড়ির প্যাকেট বের করে একটা বিড়ি জ্বালালো বিডিতে দুইটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তেই পেছনে কারো পায়ের শব্দ শুনতে পেলো.........
   
  ~~~~বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
চলবে.............. ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন