#অপরিপক্ক
#পর্ব_৭
#যাজিবা_জাবিন
#গ্রামীন_প্লটে_লেখা_সামাজিক_রোমান্টিক_গল্প
(⛔ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ⛔ চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)
**********************
গরমকালের শান্ত ভোর। দূরের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে এসে পুরো গ্রামটাকে এক অন্যরকম প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিচ্ছে। পুকুরের জলে হালকা বাতাস লাগছে, জলের উপর ছোট ছোট ঢেউ উঠছে। আকাশে লালচে আলো ফুটতে শুরু করেছে।
মিলন রেবেকা কে নিয়ে দাঁড়ায় আছে পুকুরে ঘাঁটের উপরে । ভোরের ঠান্ডা বাতাসে একটু স্বস্তি লাগে তার। পাশে দাঁড়িয়ে আছে রেবেকা,তারা দুইজন এক প্রকার আটকা পড়ে গেছে এই পুকুর ঘাঁটে,কারন রুহুল আর কলি বাড়ির প্রবেশ পথের পাশের পুকুরে,তারা দুইজন যদি এখন ঘরে ঢুকে তাহলে ওরা দেখে নেবে, শুধু কলি থাকলে চলে যেতো কিন্তু ছোট বোন জামাইয়ের সামনে রেবেকাকে নিয়ে ঘরে ঢুকে লজ্জা পেতে চায়না মিলন তাই রেবেকা কে আঁটকে রেখেছে এক প্রকার, ঘুমজড়ানো চোখে রেবেকা এদিক ওদিক তাকায়, বলে
রেবেকা::::::: আমার বহুত ঘুমে ধরছে চুমা তো খাইছেন এহন ছাড়ুইন আমি যাই গা।
মিলন:::::::: না টিক মাইরা (চুপ করে)খাড়াই থাহ
রেবেকা::::::: উহু উহু কেল্লাইগা আমার ঠেঙ্গে(পা) দুক্কু পাইতাছি,একটু বাদেই চারপাশে সকাল হইয়া গেলে ঘুমাইবার পারতাম না বুবু ডাইকা উডাইবো।
রেবেকা নাক মুখ কুঁচকে বিরক্ত নিয়ে কথাটা বললো,তা দেখে মিলন রেবেকা কে এক ঝটকায় কোলে তুলে নেয়।
মিলন::::::: আমার কুলে ঘুমাও বিবি
রেবেকা::::: আরে আরে কি করতাছুইন,কুলে ঘুমান যায় না ঘরে বিছনাত ঘুমাই গা।
কথাটা বলেই রেবেকা কোল থেকে নামতে চায়, মিলন তাকে আরো শক্ত করে বুকে চেপে ধরে বলে।
মিলন:::::: শান্ত থাহ বিবি এতো তিড়িং বিড়িং করলে পুশকুনিত পরমু,পরে ফরজ কাম ছাড়াই ফরজ গোসল করা লাগবো।
রেবেকা শান্ত হয়ে যায়, তার সত্যিই খুব ঘুম পাচ্ছে,ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে।
রেবেকা:::::ফরজ কাম কি আবার ?
মিলন:::::যা আমি করতে চাই কিন্তু তুমি পরিপক্ক হইলে।
রেবেকা::::: তয় একলাই করুইন।
মিলন::::: ছিঃ ছিঃ বিবি নিজের হক জলে ভাসাইতে চাও
রেবেকা না বুঝেই বলে
রেবেকা::::: তাইলে আমার হক আমারে দিয়া দেন
মিলনের গা শিউরে ওঠে রেবেকার কথা শুনে, সে মাথা নামিয়ে রেবেকার কাঁধের কাছের ব্লাউজের নাকটা গষে নেশা জড়ানো কণ্ঠে বলে।
মিলন::::::: আমি ওয়াদা করতাছি বিবি তোমার হক, মাটিরে_পানিরে কোউরেই দিমু না তোমার হক তোমারে বুঝাইয়া দিমু সোনা শুধু একবার সুযোগটা পাই বুঝছো।
রেবেকা:::::: আচ্ছা,এহন ঘরে যাই
মিলন::::::: কলিরা আগে যাক।
রেবেকা:::::: কলি আপা এতো কিয়ের নাওয়া নায় এই বিয়াইন্নাকালে (ভোরে)
মিলন রেবেকার নাকে নাক ঘষে বলে
মিলন::::: তা তুমি তোমার ননদেরে জামাইরে জিগাইয়ো।
রেবেকা:::::: আচ্ছা।
মিলন হাসলো সে যানে রেবেকা সত্যিই জিগ্গেস করবে,তাই সে ইচ্ছা করেই বলেছে, ওদের একটা শিক্ষা পাওয়া উচিত, শশুর বাড়িতে এতো কিসের মাখামাখি,আর করলে গোপনে কর, কেন অন্যদের সমস্যা ফেলে এতো ঘষাঘষি করবে, তারা কি যানে না মিলন বউ থাকতে উপোস জীবন যাপন করে। এসব মাথায় ঢুকলে তার ভেতরে আগুন জ্বলে,সে আগুন নেভানোর মানুষ যে এখনো অপরিপক্ক।
***************
কলিরা ঘরের দরজা বন্ধ করতেই, মিলন রেবেকা কে কোলে নিয়েই বাড়ির উঠানে আসে, রেবেকা ছোট ছোট চোখ করে ভোরের আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে।
রেবেকা::;;;ভোরটা কত সুনদর না?”
মিলন মুচকি হেসে তার দিকে তাকায়। হালকা বাতাসে রেবেকার চুলগুলো একটু এলোমেলো হয়ে যায়। মিলন মজা করে বলে,
মিলন::::::: ভোর সুনদর নাকি তুমি বিবি বুঝবার পারতাছি না, আমার চোহে (চোখে) আমার বিবি বেশি সুনদর।
রেবেকা হালকা করে হাসে। তাকে কেউ সুন্দর বললে তার খুব ভালো লাগে। তবে রেবেকার একটা ভালো অভ্যাস আছে, তার প্রশংসা কেউ করলে সেও বিপরীতে প্রশংসা করে দেয়
রেবেকা:::::: অন্নেও অনেক সুনদর (সুন্দর) আছুইন।
তা শুনে মিলনের বুকে প্রশান্তি লাগে।বলে
মিলন:::::: আলহামদুলিল্লাহ তোমার কাছে সুনদর হইবার পাড়া তো ভাগ্যের বিবি,আজ শহরে যামু নতুন নতুন কাপুর আনবার দোকানের লাইগা, তোমার লাইগা কি আনতাম কও।
রেবেকা:::::::: হাছা (সত্যি) তয় আমার লাইগা শাবানা লজেন্স আনুন যে।
মিলন::::::: আর কিছু না।
রেবেকা:::::: হ আর বাংলা সাবান আনবার,কাইল নাওয়ার কালে আমি চুলে সাবান মাখছি দেইহা,বু(দাদি) কয়,এতো সাবান মাহছ কে চুলে,এক শাবান তো তোরই লাগে মাসে,এতো শাবান মাখবার ইচ্ছা করলে তোর ল্যাং রে কবি আইনা দিবার।
মিলন বিরক্ত হলো,বললো
মিলন:::::: তুমি কইবার পারলানা,সাবান তো আমার ল্যাং ঐ আনছে,এহন এক মাসে একটা লাগাই না একদিন তাতে আন্নের কি।
রেবেকা:::::: আরে না না আম্মা কইছে মুরুব্বীগর লগে তর্ক ঠিক না।
রেবেকার এই রুপ ব্যবহারে মিলন বরাবরই মুগ্ধ হয়, তার বিবি খুব লক্ষ্মী স্বভাবের, আর এই স্বভাব টাই রেবেকার প্রতি মিলনকে বেশি টানে।
************
রোজার মাসে সকালে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া রান্না বান্নার কোন ঝামেলা নেই, তাই বাড়ির প্রত্যেককেই যার তার মতো এখানে ওখানে বসে আড্ডা দিচ্ছে বিশ্রাম করছে। রেবেকা তখন মিলনের কারণে ঘুমাতে পারিনি, প্রতি দিনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে ,মিলন যখন দোকানে কিংবা কাজে কোথাও যায়, তখন যত সময় সে তৈরি হয় ততসময় রেবেকা তার কাছেই থাকে, এটা ওটা এগিয়ে দেয় দুজনে নানান ব্যাপারে কথা বলে। রোজার মধ্যে দিনে মিলন বেশি চুমা দিতে পারেনা তবে, আদুরী স্পর্শে রেবেকার গালে ,ঠোঁটে ,মাথায় ,হাতে হাত বুলিয়ে দেয়।
মিলন চলে যেতেই,সকাল আটটায় রেবেকা ঘুমিয়ে পড়েছিল সেই ঘুম ভাঙলো দুপুর ১২ টায়, চোখ ঢলতে ঢলতে সে ঘর থেকে বের হয়ে পুকুর ঘাঁটে যায়, গিয়ে দেখে পুকুরের পাশের মাচায়, রুহুল বসে বসে পা দোলাচ্ছে।
তাকে দেখেই মিলনের শিখিয়ে দেওয়া কথাটা রেবেকার মনে পড়ে গেল, রুহুলের পাশেই কলি দাড়িয়ে ছিল, রেবেকা গিয়ে সামনে দাঁড়ালো এবং সরাসরি প্রশ্ন করে বসলো
রেবেকা:::::: বাইসাব ফত্তাখাইয়া(সেহেরি খাইয়া) বিয়াইন্নাকালে অন্ধাইর থাকতে আন্নেরা নাওয়া নাইলেন এতো অক্ত ধইরা।
রুহুল আকাশ থেকে পরে রেবেকার কথা শুনে,সে এক লাফে বাঁশের মাচা থেকে নেমে হাঁটা ধরে বাড়ির উত্তর দিকে,কলির তো লজ্জা পাওয়ার কথা,অন্য কেউ হলে ঠিক লজ্জা পেত,তবে রেবেকা বলেই পেলোনা।কারন কলি যানে রেবেকা স্বামী স্ত্রীর স হ বা সে র (স) ও বোঝেনা ,তাই কলি রুহুল কে পালাতে দেখে হাসলো। রেবেকা কলিকে হাসতে দেখে চোখ মুখ কুঁচকে বলল
রেবেকা:::::: আমি কি হাসির কতা কইছি কলি আফা,হাসেন কা আর ভাইসাব গেলোগা যে।
কলি:::::: না হাসির কতা না লজ্জা কথা,তাই আন্নের ভাইসাব লজ্জায় পালাইছে।
রেবেকা:::::: আন্নে কিতা কন বুজিনা তো। নাওয়ার কতায় কে লজ্জা পায়।
রেবেকা জোরে কথাগুলো বলছিলো,কলি দ্রুত রেবেকার হাত ধরে বলে।
কলি::::: ভাউজ (বড় ভাবি) আস্তে আস্তে কতা কন। আম্মা, আব্বা,বুবু হুনবো তো।
রেবেকা::::: হুনলে কি ?
কলি::::: লজ্জার ব্যাপার তো এঢি।
রেবেকা::::: কেন ?
কলি এদিক ওদিক তাকিয়ে ফিস ফিস করে বলে
কলি::::: স্বামী স্ত্রীর গোপন কতা, গুরুজন হুনলে লজ্জা তো।
রেবেকা মনে পরে মিলন ও বলে তাদের স্বামী স্ত্রীর কথা কাউকে না বলতে, কিন্তু তারা গোসল করে না ভোরে। রেবেকাও ফিস ফিস করে বলে।
রেবেকা:::::আইছা তয় আস্তেই কন, বিয়াইন্নাকালে নাওয়ার কি ছিল।
কলি:::::ভাউজ তহন ফরজ নাওয়া নিছি ।
রেবেকা::::: কেন ?
কলি::::: ফরজ কাম করছি তাই।
রেবেকা::::: ফরজ কাম কি ?
কলি:::: স্বামী স্ত্রীর গোপন কাম।
রেবেকা বুঝতে পারে না স্বামী স্ত্রীর গোপন কাম তারাও করে, মিলন চুমা দেয় গোপনে, কাউরে বলতে নাও করে, কই তারা তো ফরজ গোসল করে না। রেবেকা কিছু চিন্তা করে বলে
রেবেকা::::: ভাইসাব আন্নেরে ওমন মারলো কেন রাইতে।
কলি:::::: কহন ?
রেবেকা::::: মাঝরাইতে আন্নে কেমন আহ্ আহ্ উহ্ উহ্ কইয়া শব্দ করতাছিলাইন।
কলি::::: হায় হায় ভাউজ আন্নে মেলা পাজি আছুইন,এইতা ও হুইন্না লাইছুইন। আচ্ছা তয় ভালাই করছুইন,আন্নেরো তো জানুন লাগবই বিয়া যহন হইছে ,লন আন্নেরে সব বুঝাই।
তারপর শুরু হয়ে গেলো কলির রেবেকা কে স্বামী স্ত্রীর স হ বা স সম্পর্কে বলা। আলোচনার পুরোটা সময় রেবেকা শুধু পলকহীন চোখে কলির ঠোঁটের দিকেই তাকিয়ে শুনলো। প্রথম দিকটা রেবেকার কিছুটা বুঝতে পারল, যেটা মিলন তার সাথে প্র্যাকটিক্যালি করে, কিন্তু আলোচনার গভীর পর্যায়ে যেতেই বুক কাঁপতে শুরু করলো রেবেকার, রোজার মধ্যে এমনিতেই সে মিলনের কথায়, লুকিয়ে লুকিয়ে শুকনো খাবার খায়,তাও যখন সে মিলনের ঘর পরিষ্কার করতে ঢুকে তখন, সেহেরির পরে ঘুমের অভাবে আজ আর তাও খায়নি,এতো সময় মরার মতো ঘুমিয়েছে, পিপাসায় গলাটা শুকিয়ে আছে, ভেবেছিল পুকুর থেকে হাতমুখ ধুয়ে,ঘরে গিয়ে লুকিয়ে পানি পান করবে,তবে এখন কলির এমন ভয়ংকর বর্ণনা শুনে চোখে সমস্ত কিছু ঝাপসা দেখছে, শরীরটা ক্রমশই গরম হয়ে উঠছে।কলি রেবেকার ঘোলা চোখের দিকে তাকিয়ে রেবেকা কে জাপটে ধরে, রেবেকার মাথা চক্কর দিয়ে উঠে, দাঁড়াতেও পারছে না ,কলি দ্রুত তাকে ধরে, বাঁশের মাচার উপর বসিয়ে দেয় চাপা কন্ঠে হাজারী করে বলে:
কলি:::::: ও আল্লাহ আল্লাহ গো ভাউজ অন্নের কি হইছে, ও ভাউজ কতা কন। আল্লাহ কছম লাগে ভাউজ আমি আন্নেরে কিছুই কই নাই,আন্নেই ফাল পারছুইন হুনার লাইগা,ও ভাউজ আল্লাহ দোহাই লাগে ভাইসাব রে কিছুই কইনা যেন।
***************
ঐ ঘটনার পরে বিকালে মধ্যেই রেবেকার গা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর উঠে, বাড়ির সবাই প্রচুর অবাক হয় এমন হঠাৎ সুস্থ রেবেকার অসুস্থ হওয়ার ব্যাপারটা কারোই হজম হচ্ছে না দাদি আমেনা বেগম তো ভেবেই নিয়েছে, ভর দুপুরে পায়খানায় যাওয়াতে রেবেকা কে নিশ্চয়ই, তাদের সামনের বাড়ির শুকুর আলীদের জঙ্গলের বাঁশের ঝাড়ে থাকা ইব্রাহিম জিনের বাতাস লেগেছে। আমেনা বেগম বাদল মাস্টারকে ,কবিরাজ আনতে বলতেই চাচ্ছিল,তবে কলি তা বুঝতে পারে দাদিকে আটকায়,এবং সব ঘটনা খুলে বলে,তা শুনে আমেনা বেগম রেবেকার উপর বেজায় বিরক্ত হয়ে যায়, বিরক্ত হয়ে বিছানায় কাঁথা জড়িয়ে শুয়ে থাকা রেবিকাকে, হাঁটার লাঠির আগা দিয়ে খোঁচা মেরে বলে:
আমেনা:::::: ও মায়া মায়া গো,ও ছিনালরে ছিনালরে ল্যাং এর সোহাগের কথা হুইন্নাই, মাংঙ্গের মদ্ধে জর বাইয্যা গেলো, ল্যাং গের লগে হুতরে কি করবি।
রেবেকা জ্বরের ঘরে অস্পষ্ট সুরে আওড়ায়
রেবেকা::::: আমি পারতাম না আমি পারতাম না কাপুর ছাড়া হুতবার না না না হইবো না.......
এইকথা শুনেই আমেনা বেগম রাগি চোখে তাকায় কলির দিকে,কলির ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ, তার তো দাদীকে দেখে ভয় করছে আর যদি তার ভাই এ কথা শোনে তখন। আমেনা বেগম দাঁত কটমট করে কলিকে পেটে লাঠির আগা দিয়ে গুতা মেরে বলে:
আমেনা::::::ঐ ঐ_ পে শা গা র_ন ডি ঘরের
ন ডি তুই তোর লাঙ্গের নিচে কাপুর খুইল্লা হুতছ না লাঙ্গের উপরে কাপুর খুইল্লা বহছ তা তোর এই ঢংগি ছিনালরে কইবার দরকার আছিল?
কলি ভয়ে কান্না করে দেয়,কলি বলে
কলি: বু বু গো আমার অনেক বড় ভুল হইয়া গেছে, আমি বুঝিনাই বু।
আমেনা::::: মা গি ভুল না এইডা পাপ ,জামাই বউ এর গোপন কতা অন্যের কাছে কওয়া পাপ।
কলি::::: ভাউজ জানবার চাইলো তাই।
আমেনা::::: তাইলেই তুই তোর গোপন কতা কইয়া দিবি, তুই কইবার পারতি তোর ভাইসাব রে জিগাইতে।
......ও আল্লাহ আল্লাহ গো আমি একলা আমেননননননা বেগম কয়ডা ছিনাল মানননননুষ করমু গগগগগগগগগগো......
দুই হাত উপরে তোলে আহাজারি করে আমেনা বেগম কথাটি বলল।
আমেনা বেগম আবারো রেবেকা কে লাঠির আগা দিয়ে গুতা দিল,রেবেকা নড়াচড়া করে না তা দেখে আরো বিরক্ত হয়ে আমেনা বেগম বলে।
আমেনা::::::মা গি চৌদ্দ বছর হইবার লাগছে এহনো শইলেরডা হয় না কেন, আমার নাতি উপোস থাকতে থাকতে হুগাইয়া যাইতাছে সেই খবর নাই হেয় জরে কাঁপে।
কথাটি বলেই লাঠিতে খট খট আওয়াজ তুলে আমেনা বেগম কক্ষ থেকে বারান্দায় চলে আসে আর মনে মনে ভাবতে লাগে, রমজান শেষ হোক ঈদের পর সে একটা পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করবে এই বিষয়ের।
রেবেকার জ্বর উঠায় ভয়ে বাড়ির সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে, কলি তার স্বামী রুহুলকে নিয়ে সন্ধ্যার আগেই শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়, বাদল মাস্টার, খালেদা খাতুন, আমেনা বেগম সবাই অনেক থাকতে বললো রুহুলের সম্মতি থাকলেও কলি যাওয়ার জন্য উতলা হয়েই সন্ধ্যায় মিলন ফেরার আগেই চলে গেল। আমেনা বেগম কারনটা বুঝলো তবে কলির বাবা-মা কিচ্ছু বুঝলো না।
****************
সন্ধ্যায় এক কৌটো শাবান লজেন্স আর এক ডজন বাংলা সাবান, এক ছরি পাকা কলা, দুইটা সিদ্ধ ডিম,নতুন লাল লিপস্টিক, নেলপালিশ আলতা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন মিলন তবে রেবেকা উঠানে নাই আশেপাশের কোথাও নাই। মিলনের কিছু জিগ্গেস করতে হলোনা,সে ঘরে ঢুকার আগেই,সাইকেলের শব্দ পেয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পড়ে, পেছনে তাকিয়ে দেখে তার বাবা বাদল মাস্টার আসছে, মিলন বাবার সাথে তেমন দরকার ছাড়া নিজে থেকে কথা বলেনা, খালেদা খাতুন তখন বারান্দায় ছিল তিনি ইচ্ছা করেই মিলনকে শুনিয়ে বলে।
খালেদা:::::: জরের বরি (ঔষধ) আনছেন বৌয়ের তো জর কমে না।
মিলন কপালে ভাজ পড়ে মায়ের কথা শুনে, রেবেকার জ্বর আসছে কিভাবে কখন, সকালে তো ঠিক দেখে গেল তাহলে হঠাৎ, মাস্টার ততক্ষণ ঘরে চলে গেছে, খালেদা দাঁড়িয়েই ছিল হয়তো ছেলে কিছু বললে তা ভেবে।তার ভাবনা সঠিক করে মিলন বলে
মিলন:::::: আম্মা কি হইছে
খালেদা:::::: বৌয়ের খুব জর বিকাল থাইকা,চোখ খুলে না, মাথায় পানি ঢালছি তাও কমেনা তাই তোর বাপে বরি আনলো দেহি খাওয়াইয়া কমে নাকি।
মিলন::::::আমারে একটা খাবর পাঠাইবেন না!লগে ডাক্তর লইয়া আইতায়।
খালেদা:::::: বরি খাইয়া ভালা না হইলে আনিছ।এহন যা গোসল কইরা আয়, আমি বৌয়েরে বরি খাওয়াইয়া ভাত বারি।
কিসের ভাত খাওয়া মিলনের ইচ্ছা করতাছে, রেবেকার কাছে যেতে,তবে তার দাদি যে রাতে রেবেকার কামরায় ঢুকতে দেবে না, ভাবতেই বিরক্ত হলো মিলন, তার মাঝে মাঝে ও ব্যক্তিকে দেখতে খুব ইচ্ছা করে যে এই সমস্ত ফালতু নিয়ম বানিয়েছে, রাতে অপরিপক্ক বউ এর কাছে না যেতে পারলে অপরিপক্ক মেয়ের সাথে কিসের বিয়ে,যে বানিয়েছে এই নিয়ম তাকে পেলে মিলন তার ঠ্যাং (পা)দুটো আগে ভাঙতো।
রাতে খাওয়া খেতে বসে রেবেকার সাথে দেখা হলো মিলনের, কেমন আপাত মুস্তক কাঁথা দিয়ে ঢেকে গুটিসুটি মেরে বসে আছে,মাথাটা নিচু তার থুতনিটা বুকের সাথে লাগিয়ে, মিলন লক্ষ্য করছে একটাবারের জন্যও রেবেকা তার দিকে তাকায় নি,ভাত ও খাচ্ছে না নাড়ছে ,শুধু শশুরের আদেশ মেনে ভাতের থালা নিয়ে বসেছে।
আমেনা বেগম লক্ষ্য করছে সবটা নাতিকেও নাত বৌকেও। আমেনা বেগম ইচ্ছা করেই মিলন কে শুনিয়ে শুনিয়ে রেবেকা কে বলল
আমেনা:::::: কি লো নাত বৌ হুট কইরা তোমার জর আইলো আবার কলি হুট কইরা চইলা গেল কেন,তোগোর ভিতরে কি কিছু হইছে ! কোন কিছু লইয়া কতা, নাকি ঝগড়া করছো ননদের লগে?
এই কথা শুনেই রেবেকা ভয় কেঁপে উঠলো, সরাসরি মুখ তুলে তাকাল মিলনের দিকে, মিলন আগে থেকেই তাকে দেখছিল। রেবেকার চোখে কিছুটা লজ্জা,ভয়ের মিশ্রণ , বিচক্ষণ মিলন রেবেকা কিছু না বললেও বুঝে নিল কি কি হয়েছে, বুঝে নিলো অপরিপক্ক রেবেকা পরিপক্ক কিছু শুনতে পাওয়ার এই জ্বর, মিলন তাকায় আমেনা বেগমের দিকে, আমেনা বেগম সঙ্গে সঙ্গেই মুখ ভেংচি কাটে। মিলন মাথা নামিয়ে ভাতের প্লেটে মনোযোগ দিল, ঠোঁট বাঁকিয়ে একটু হাসে মনে মনে আউড়ালো
মিলন:::::: অন্যের মুখে হুনছো তাতেই জ্বর বাধাইছো বিবি, যখন করমু তখন কি হাল যানি হয় তোমার।
চলবে....................
⚠️বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, খুব তাড়াহুড়া করে গল্পের পার্টটা লিখেছে অনেক রাতে। তাই পুনরায় চেক করতে পারিনি,,, আর অনেক শব্দে ভাষা আঞ্চলিক আছে....বুঝে নিয়েন।