লেখিকা নওশিন আদ্রিতা
পর্ব ১
বাসর ঘরে এক হাত ঘোমটা টেনে বসে আছে এক চঞ্চল কিশোরী। বয়স তার সবে সতোর বছর চারমাস। জীর্ণ শীর্ণ বদলে ভারি লেহেঙ্গা একাধিক গহনার ভারে নুয়ে আছে তার ঘাড়। ক্লান্তিতে সারা বদন যেখানে নিষ্প্রাণ সেখানে আঁখি দুইটা অশ্রুতে টুইটম্বুর। চোখ ভর্তি স্বপ্ন যা গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু রুপে। বাকী সাতটা স্বাভাবিক বিয়ে বাসর সংসার তার হবে না তা বুঝে গিয়েছিল বিয়ের আগেই। তবুও বাবা মায়ের উপর জেদ ধরেই নিজের থেকে দশ কি বারো বছর বড় লোককে বিয়ে করেছে তাও শুধুমাত্রই তাদের বংশের উত্তরসূরি জন্ম দেওয়ার জন্য। এছাড়া এই সংসারে তার ভূমিকা নেই না আছে স্বামীর প্রতি কোনো অধিকার। এ যেন বিবাহিত রক্ষিতার থেকে কোন অংশে কম নই।
হঠাৎ করেই দরজা খোলার শব্দে চমকে উঠলো কিশোরী। ঘুমে নিবু নিবু চোখ এক প্রকার জোড় করেই টেনে খুললো সে। লাল ঘোমটার আড়ালে দেখতে পেলো সুদর্শন এক যুবক তার দিকেই এগিয়ে আসছে এলোমেলো পায়ে। আবছা আলোতেই তার বুঝতে বাকি নেই লোকটা ম*দের নেশাই ঢুলে চলেছে।
লোকটিকে দেখেই ভয় পেলো কিশোরী মন। নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার সম্পূর্ণ চেষ্টা বৃথা হলো। ঘোমটা সহ শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো পুরুষালি হাত মেয়েটির থুতনি।
"সব মেয়ে এক টাকার লোভে নিজের দেহ বিক্রি করতে এদের একটুও বাঁধে না। তোদের মতো লোভী মেয়েদের জন্যে ভালোবাসা না। তোরা শুধু ঘৃণার যোগ্য। এই জীবন বাঁচাতে টাকা কি এতোই গুরুত্বপূর্ণ তোদের সম্মান নাই আত্মসম্মান বলতেও কিছু জিনিস থাকে। আমি ভেবেছিলাম তুই ব্যতিক্রম কিন্তু নাহ তুই ও ত একই নারীদের কাতারেই পরিস। সামান্য রঙিন কাগজের বিনিময়ে যারা দেহ বিক্রি করতে রাজি তাদের আবার নাকি নারী বলে থু"!
কথাটা বলেই শক্ত হাত দিয়ে টেনে খুলে ফেললো কিশোরীর ঘোমটা। সেফটি পিন দিয়ে আটকে রাখা ঘোমটা টেনে খোলার কারণে চুল গুলোও অনেকটা এলোমেলো হয়ে গেল। কিশোরী ভয়ে ভয়ে চোখ তুলে তাকাতেই দৃষ্টি আটকে গেল ভয়ংকর এক জোড়া রক্তিম চোখে। শরীরের প্রতিটি লোম খাঁড়া হলো ভয়ে। কিশোরীর মনে পড়ে গেল তাদের প্রথম সাক্ষাৎ যেদিন তার জীবনের কাল বয়ে এনেছিলো এই নীড় নামক নিষ্ঠুর পুরুষ। ব্যথায় চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো আবারো। কিন্তু সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই সে পাষাণ পুরুষের। সে ত ব্যস্ত হলো নিজের বৈধগত স্ত্রীকে বৈধ ভাবে ধর্ষণ করতে। হিংস্র সে স্পর্শ গুলো কিশোরী শরীর নিতে পারলো না আর না মেনে নিতে পারলো কমল হৃদয়। তার জীবনের গতি কোনদিকে যেতে চলেছে সে নিজেও জানলো না। কিশোরী নিতে পারলো না এত কিছুর চাপ জ্ঞান শূন্য হয়ে লুটিয়ে পড়লো সে। সেদিকে তাকিয়েই তাচ্ছিল্য হেসে তাকে সেভাবেই ফেলেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো সে পুরুষ।
ধ্বংসময়ী এক রাত পারি দিলো দুইটা মানুষ। এই রাত শেষ এ সূর্য ফুটবে ঠিক কিন্তু সে সূর্য কি রূপ নিবে এই দুই মানুষটার জীবনে?
আসুন পরিচয় জেনে নেই। আদ্রিতা আদর খান। নিম্ন বিত্ত না হলেও নিম্ন মধ্যবিত্ত আদ্রিতার পরিবার। নাহিদ খান আর নাসরিন খান দুই সন্তান এর পিতা মাতা। বড় ছেলে আদ্রিয়ান খান ছোট খাটো বেসরকারি কোম্পানিতে সামান্য পোস্টে চাকরি করে সাথে সরকারি কলেজের টিচার হওয়ার প্রিপারেশন নিচ্ছে। ছোট সন্তান আদ্রিতা সবে মাত্র ইন্টারের প্রথম বর্ষ সম্পূর্ণ করেছিলো। ছোট খাটো সুখের একটা সংসার ছিল চারজনের। কিন্তু সে ছোট সংসার ভেঙে গুঁড়িয়ে পড়েছিলো নীড় চৌধুরীর আগমনে। নীড় চৌধুরী মন্ত্রী পদের আসনে বিরাজিত।
নীড়ের বাবারা দুই ভাই। সে দুই ভাইয়ের আবার দুই ছেলে আর এক মেয়ে মানে নীড়রা মোট চার ভাই আর এক বোন। তাদের মধ্যে নীড় বড়। নীড়ের ভাই রিয়াজ আর তাদের বোন নওমি তারপর তার চাচার দুই ছেলে আয়াজ আর নেওয়াজ। নীড় আর রিয়াজ জমজ হওয়ায় দুইজনের বয়সই ৩০। আর আয়াজ এর ২৮ আর নেওয়াজ এর ২৭। আর নওমির বয়স ১৮।
ভোরের আলো ফুটেছে বেশ অনেক সময় হলো। ঢাকা শহরের কোলাহল কাক ডাকা ভোর থেকেই শুরু হয়ে যায়। যান্ত্রিক এই শহরের প্রতিটা গলি ব্যস্ততার সাক্ষী বহন করে। শীতের শেষ শরৎ এর মাঝামাঝি সময়টাতেও সকালের দিকে বেশ ভালোই শীতল এক আবহাওয়া থাকে।
হঠাৎ ফোনের তীব্র আওয়াজে চোখ মেলে তাকাই আদ্রিতা। তার মাথার কাছেই ফোনটা বেজে চলেছে অনবরতা। আদ্রিতা চোখ ডলে উঠতে নিলেই টের পায় তার সম্পূর্ণ শরীর ব্যথায় জর্জরিত। মনে পড়ে গেল কাল রাতের সে নির্মম মুহূর্ত গুলো। স্বামী সংসার নিয়ে সব সময় আদ্রিতার মনোভাব ছিল অন্যরকম। স্বামী হিসেবে সে সর্বদাই নিজের বাবার মতোই কাউকে আশা করেছে সেখানে নিষ্ঠুর এই পুরুষকে মানতে পারছেনা তার কোমল হৃদয়। ব্যথায়, ভয়ে পুনরায় কেঁদে উঠলো আদ্রিতা।
"কেন এমনটা হলো। এইসব ত হওয়ার কথা ছিল না। আপনি কেন এমন হলেন নেতা সাহেব। আপনি ত আমার কল্পনার পুরুষ ছিলেন। কিন্তু সে আপনিটা বাস্তবে এতোটা ভয়ংকর তা জানতাম না আমি নেতাসাহেব। দুই রাতের ব্যবধানে এতো তফাত কেন"?
হঠাৎ করেই দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে চুপ হয়ে গেল আদ্রিতা। মাথা ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই লজ্জাই নীচু হয়ে গেল মাথা। পুনরায় আবার আড়চোখে একবার পরখ করে নিলো সুদর্শন নীড় চৌধুরীকে। মাত্রা অধিক ফরসা না হলেও মোটামুটি ফরসা। উচ্চতা ছয় ফুট ত হবেই। জিম করা পেটানো শরীর। ত্রিশ এর ঘরে পা দেওয়া পুরুষটিকে এখনো যুবক বলে চালিয়ে দিলেও মন্দ হবে না ব্যাপারটা। আদ্রিতার এহেন চিন্তা ধারা টিকলোনা বেশিক্ষণ তার আগেই তার মুখের উপর ছুড়ে মারলো নীড় শাড়ি।
" এইভাবে জামা কাপড় বিহীন বসে থেকে নিজেকে আবার বিলিয়ে দিতে চাস। অবশ্য তোদের মতো মেয়েদের শরীরের চাহিদা বেশীই হই"!
নীড়ের কথায় স্পষ্ট তাচ্ছিল্য। আদ্রিতা হত দম্ভ হয়ে নিজের দিকে তাকাতে নিজেই হত দম্ভ হয়ে গেল। তার খেয়াল ছিল না সে এতক্ষণ কি অবস্থায় বসে ছিল। কিন্তু এইসবের জন্যে কি আদৌও সে দায়ী?
"আমার মতো মেয়েদের বলতে কি বুঝাতে চান নেতাসাহেব? আমার মতো ক'জন নারীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন? আমার বয়স কত জানেন আপনি সাঁহ জানেন না আপনি না জেনেই একজন নাবালিকা মেয়ের উপর একপ্রকার জোড় করে নিজের পুরুষত্ব দেখিয়েছেন। মদের নেশাই বুঁদ হয়ে নিজের স্ত্রীকেই ধ*র্ষণ করেছেন সেখানে আমার দোষটা কি নেতাসাহেব? ঠিক আছে মেনে নিলাম আমি টাকার জন্য আপনাকে বিয়ে করেছি আপনি কেন একজন নাবালিকা কে বিয়ে করলেন"?
নীড়ের গম্ভীর মুখটা আরও একধাপ গম্ভীর হলো। তা দেখে হাসলো আদ্রিতা। যে হাসি ছিল প্রাণ হীন। হয়তো নিজের উপরেই হাসলো সে। কোন রকম টেনে টুনে নিজেকে বিছানা থেকে দাড় করালো শরীর এর থেকেও মনের ব্যথা আজ বেশি। কিশোরীর মন এতো ভার বইতে পারলো না। ঠাস করে পড়ে গেল মেঝেতে। নীড় পড়ে যাওয়ার শব্দে সেদিকে তাকালো। মনে মনে কিছুটা অপরাধ বোধ কাজ করলেও রাগ আর ঘৃণা সেটা প্রকাশ করতে দিল না।
আদ্রিতা অশ্রুসিক্ত চোখে আরও একবার তাকালো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে সজ্জিত করতে ব্যস্ত পুরুষের দিকে। সাদা পাঞ্জাবি পায়জামার আড়ালে কুৎসিত নীড়কে ঢাকার অপ্রাণ চেষ্টার দিকে। ভুল করে অবাধ্য মন আশা খুঁজছিল লোকটার এগিয়ে আসার কিন্তু আদ্রিতার ত ভুললে চলবে না সামনে দাঁড়ানো লোকটা কংক্রিটের তৈরি। এদের মনে মেয়া দয়া থাকে না থাকে শুধু ক্ষমতা আর টাকার লোভ।
"আপনার প্রতি আমার অনুভূতিগুলো ছিল গোলাপের মতো তাই হয়তো কাটার আঘাতে জর্জরিত আজ আমি। কিশোরী মনে দাগ কাটা আপনি ছিলেন সর্বোত্তম পুরুষ। কিন্তু আজ এই কিশোরী মনের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষটাও আপনি নেতা সাহেব"l
দরজা খুলতেই অত্যাধিক সুন্দরী এক রমণী একপ্রকার আমাকে ধাক্কা দিয়েই ছুটে গেলেন আমার স্বামীর দিকে। তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো ঠোঁটের কোণে,
"অন্যের চরিত্রের দিকে আঙুল তোলা খুব সহজ নেতা সাহেব যেখানে নিজের চরিত্রই রঙিন"।
আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে নীড়ের নানি অর্থাৎ আমার নানি শাশুড়ি "নূর জাহান"। চামড়া কুঁচকে আসা বৃদ্ধার চেহারাই আলাদাাই তেজ ফুটে উঠেছে আমি অবাক চোখে তাকালাম উনার দিকে বয়স ষাট পার হবে হয়তো তবুও কেমন স্ট্রং হয়ে দাঁড়িয়ে আছে না কোন লাঠি বা অন্যকিছুতে ভর দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে উনার। ব্যাপারটা আদ্রিতার খুব পছন্দ হলো বাকিদের মতো জামদানি ভারি পোশাক না থাকলেও মুখের গাম্ভীর্যতার প্রকাশ করে দিচ্ছে উনার জমিদারি ভাব। আমি মাথাটা সামান্য নীচু করেই সালাম করে উঠলাম বৃদ্ধার উদ্দেশ্য। কেন যেন মহিলাটির মুখেই ফুটে উঠেছে আলাদা সম্মান যে কেউ এই রূপকে সম্মান দিতে বাধ্য বলেই ধারণা করে নিলাম।
" নাম কি তোমার মেয়ে"?
উনার এমন গম্ভীর গলাই প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করলাম। মহিলাটি নির্ঘাত রাগী তা অনুমান করে ফেললাম তার মুখের কাঠিন্য আর গলার স্বর শুনে।
"আমি আদ্রিতা আদর খান"।
কথাটা যে উনার পছন্দ হলো না তা তার মুখ দেখেই বুঝতে পারলাম আমি। উনি এবার আমার পিছনে বসে থাকা আমার শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়লেন,
" এই মেয়েকে নীড়ের বউ বানানোর উদ্দেশ্য কি নিহাল যে কি না নিজের নাম বলতে পারে না সে আমার সাম্রাজ্য আমার রাজ্যের রাজাকে সামলাবে কীভাবে"?
নানি শাশুড়ির প্রশ্নে আমিও তাকালাম নিহাল আঙ্কেলের দিকে। এই একটা প্রশ্নের উত্তর ত আমিও জানতে চাই কেন আমাকে বিয়ে করালেন উনি উনার ছেলের সাথে। কি এমন কথা সেদিন তিনি আমার বাবাকে বলেছিলেন যার কারণে আমার বাবা আমার এত বড় সর্বনাশ করে দিলেন।
"মা আপনার নাতিকে হাজারো মেয়ে বিয়ে করতে চাইতো হইত তার রূপ, টাকা বা ক্ষমতা দেখে। হতে পারতো সে শত্রু পক্ষের মেয়েও। কিন্তু এই এক মেয়ে যার কি না লোভ নেই সে টাকার প্রতি। আর তার বাবাও আমার অনেক বিশ্বস্ত সঙ্গী যার কারণে উনার মেয়েকে আমি নিজের পুত্রবধূ হিসেবে বেছে নিয়েছি।"
আঙ্কেলের কথায় বিশ্বাস হলো না আমার। দুই দিনের পরিচয়ে মেয়ের টাকার প্রতি টান আছে কি না জানা যায় না। আর নিহালের মতো বিচক্ষণ মানুষ এই নেইম কারণে কাউকে নিজের ছেলের বউ বানিয়ে আনবে ব্যাপারটা নিচ্ছক মজা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়াই চলে। যেখানে আমার বিশ্বাস হয়নি সেখানে যে আমার নানি শাশুড়ির বিশ্বাস হবে ব্যাপারটা হাস্যকর বটে।
"তোমার নাম বিয়ের পূর্বে ছিল আদ্রিতা আদর খান। কিন্তু বর্তমানে তুমি এই বাড়ির বউ চৌধুরী গিন্নি তোমার নাম আদ্রিতা নীড় চৌধুরী। নামটা মাথায় গেঁথে নেও আর নিজের স্বামীকে ডেকে আনো নাস্তার টেবিলে। "
আমি পিছনে ঘুরে হাঁটতে নিলে আবারো উনি আটকে দিলেন আমাকে।
"নিজের অবস্থান নিজেকেই বুঝে নিতে হয় কেউ প্লেটে সাজিয়ে দিবে না তাই। বয়স কম হলেও দায়িত্ব বড় আশা করি আমার মেয়ে জামাই এর পছন্দ খাঁটিই হবে।"
আমি উত্তর দিলাম না উনার আদেশে মাথা দুলিয়ে নীড় এর রুমের দিকে হাঁটা দিলাম। আনমনে একবার আওড়ে নিলাম,
"আদ্রিতা নীড় চৌধুরীর "
আমি উপরে উঠতে নিলেই দেখলাম তখনকার সে মেয়েটা লাজুক হেসে নিচে নামছে তা দেখে হাসলাম আমি। মেয়েটা হাসির আড়ালে নিজের গালের থাপ্পড়ের লাল দাগ আড়াল করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। আমি খুশিমনেই পা রাখলাম ঘরে।
সাথে সাথেই ধাক্কা খেলাম উনার বুকের সাথে। পড়ে যেতে নিয়েও আঁকড়ে ধরলাম তার পাঞ্জাবির কলার।
"ধরুন আমাকে ছেড়ে দিলে মাজা ভেঙে যাবে। এই অল্প বয়সে মাজা ভাঙতে চাই না আমি।"
আমার কথায় বাঁকা চোখে তাকালেন উনি। এই লোক এই মুহূর্তে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলবে তা আমি জানি। কিন্তু ঘটলো অন্য ঘটনা, হঠাৎ কোমরে পুরুষালি শক্ত খসখসে হাতের ছোঁয়া পেতেই কেঁপে উঠলাম আমি। অদ্ভুত এক শিহরণ শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো।
আদ্রিতার চোখের দিকে তাকাতেই নীড় থমকে গেল। এই একটা চোখের কারণেই ত আজ দুই টা জীবন নষ্টের দরজাই। তবুও কেন এত আকর্ষণ এই চোখে। যে চোখ তাকে অতীত ভুলতে বাধ্য করে। এই চোখের পানিই ত কাল আটকে দিয়েছিল হিংস্র নীড়কেও। সে পারেনি এই ফুলকে সম্পূর্ণ নষ্ট করতে। মাতাল নীড়ের মনেও প্রথমবার হয়তো উকি দিয়েছিল মনুষ্যত্ব। কি জানি কি ছিল তা।
আপনমনেই নীড় এর হাত নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ঘাবড়ে যায় আমি মনে পড়ে যায় কাল রাতের কথা। সাথে সাথে চোখ জোড়া বন্ধ করে ফেলি।
"প্লিজ ছোঁবেন না আমার ভয় করে ব্যথা করে আর কষ্ট দিবেন না আমি আর আসবো না আপনার কাছে আমি আমি দূরে চলে যাবো খুব দূরে"
নীড়ের কি হলো সে নিজেও জানেনা আদ্রিতার এই করুন সুর। এই ভীতু চোখ জোড়া আজ যেন নীড়কে বার বার বুঝিয়ে দিচ্ছে এই এক রমণী তার ছোঁয়া ঠিক কতটা ঘৃণা করে তার হালাল স্ত্রী তাকে ঘৃণা করো ব্যাপারটা মন্দ লাগলো না নীড়ের। উল্টা নীড়ের বাঁধন আরও দৃঢ় হলো। আঙুল গুলো ছুঁয়ে দিলো আদ্রিতার হালকা ফোলা গাল গুলো। নীড় নেশাক্ত কণ্ঠে বললো,
" পালাতে চাইলে আজকেই পালিয়ে যাও মেয়ে কারণ এই নীড় বাঁধন হারা হচ্ছে। একবার নীড় যদি নিজে বাঁধনে ফেলে মৃত্যু হবে তোমার মুক্তি। নাহলে বেঁচে থাকতে বাধ্য হবে তুমি নীড় নামক বাঁধনে অবাধ্য বাঁধনে। "
কথাটা বলেই আদ্রিতা সেখানেই দাঁড় করিয়ে চলে গেল নীড়। আদ্রিতা অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলো নীড়ের গমন পথে।
"লোকটা আসতো এক রহস্যের ভাণ্ডার। কখন কোন রং তাকে ঘিরে থাকে হয়তো সে নিজেও জানে না কখনো হিংস্র তো কখনো বরফ। এই লোককে কি আদৌও কোনোদিন আমি বুঝতে শিখবো। আপনি এমন কেন নেতাসাহেব ঠিক সে সাক্ষাতের ন্যায় পেচালো।।
আদ্রিতা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকতেই কয়েকটা ছেলেকে তার দিকে আসতে দেখেই ভয় পেয়ে যায়। সে যে সেখান থেকে সরবে সে কথাটাও তার ব্রেন থেকে একদম মুছে যায়। হঠাৎ করেই সজোরে ধাক্কা লাগায় পড়ে যেতে নিলেই এক শক্ত পোক্ত হাত এসে তার কোমোড় জড়িয়ে ধরে। নিজেকে হাওয়াই ভাসতে দেখে এবার আদ্রিতা চোখ খুলে। আর সবার আগেই তোর চোখ আটকে যায় হালকা বাদামি চোখের মণিতে। ধীরে ধীরে চোখ নামাতেই লাল ঠোঁট জোড়া যেন তার হৃদ স্পন্দন আটকে আসে।
–এই মেয়ে চোখে দেখতে পাওনা এতো গুলো ছেলে তোমার দিকে দৌড়ে আসছে। ইডিয়েট একটা।
কথাটা বলেই সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন কিন্তু এতকিছুর মাঝেও তার লোককে বলে গিয়েছিলেন যেন আমাকে আমার বাড়ি অবধি পৌঁছে দেই। সেদিন প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল নেতা নীড়ের সাথে। আর দ্বিতীয় সাক্ষাৎ হয়েছিল মন্ত্রী নীড় এর সাথে। কিন্তু আজও নীড় আদ্রিতার জন্যে নেতা সাহেব ই থেকে গেলেন।
নিচে আসতেই রাগে উঠে গেল। নাই বা হলো আর পাঁচ টা স্বাভাবিক সংসার তাদের। কিন্তু তবুও নেতা সাহেব আমার স্বামী। সেখানে অন্য রমণী তার দিকে চলে পড়বে ব্যাপারটা মেনে নিবো না একদম ই না।
জোড়ালো পায়ে নিচে নেমেই আঁকড়ে ধরলাম রমণীর হাত। টেবিলের সবাই অবাক চোখে তাকালো আমার দিকে শুধু মাত্র স্বাভাবিক দুইটা মানুষ নীড় আর তার নানি।
বাকী সবাই আমার কাজে যে ভীমড়ি খেতে বসেছে তাও বুঝলাম। কিন্তু তাদের এইসব প্রতিক্রিয়া দেখার টাইম আমার নেই। হঠাৎ,,,,,,।
চলবে....