ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবাধ্য ভালোবাসা

৩য় পর্ব

লেখক: আহানা ইয়াসমিন

#অবাধ্য_ভালোবাসা

#লেখিকা_নওশিন_আদ্রিতা
#পর্ব_৩ 
হঠাৎ কিছু পেড়ে যাওয়ার আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল আমার। তড়াক করে উঠে বসলাম ঘেমে নেয়্যে জবুধবু অবস্থা হয়েছে ইতিমধ্যে। আজ আবারও একই স্বপ্ন দেখেছি। আজ আবারও সে নিষ্ঠুর দৃশ্য চোখের সামনে ভাসছে। কোনোরকম বিছানা থেকে নেমে আলমারির ড্রয়ার
দরজা
খুলতেই মাথায় এলো এটা আমার বাড়ি না। এখানে আমার কোন ওষুধ নেয়। কিন্তু ব্যথা আমাকে শান্তি দিচ্ছে না। বার বার সে চিৎকার কান্না আহাজারি ওই নিষ্ঠুর পুরুষের কালো ছায়া স্মৃতিতে ভেসে বেড়াচ্ছে। আর থাকতে না পেরে এলোমেলো ভাবে হেঁটে চলে গেলাম ওয়াশরুমে। আমি নিজের ভাবনাতে এতোটাই মস্ত ছিলাম আমি টের ও পেলাম না ওয়াশরুমে অন্য কেউ আছে। আমি শাওয়ার ছেড়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড়াতেই পানি এসে ভিজিয়ে দিল।
নীড় তখন সবেমাত্র অফিস থেকে ফিরেছে। অফিসের ওয়ার্কারদের মাঝে কিছু ঝামেলা থাকাই নীড়কেই যেতে হয়। সব মিটিয়ে পার্টি অফিস হয়ে বাড়িতে ফিরতে ফিরতে
বারোটা বেজে যায় খেয়াল করেনি। ঘেমে যাওয়ার কারণে সোজা ঢুকে যায় ওয়াশরুমে গোসলের উদ্দেশ্য তার ধারণা ছিল আদ্রিয়তা হইতো চলে গেছে। সবে মাত্র গায়ের পাঞ্জাবি খুলতেই আদ্রিয়তাকে ওয়াশরুমে ঢুকতে দেখে কপাল কুঁচকে ফেলে এতো রাতে আদ্রিয়তাকে শাওয়ারের নিচে দাঁড়াতে দেখে ভ্রূ কুঁচকে তাকাই।
"এই ইডিয়েটের কি রাত বিরাতে ভূতে ধরলো নাকি"?
নীড় কপাল কুঁচকে এগিয়ে আসে শাওয়ার বন্ধ করতে নিলেই শাওয়ারের পানি নীড়ের শরীর ছুঁয়ে আদ্রিয়তার মাথাতে পরতে শুরু করে । হঠাৎ নিজের হাতের উপরে বলিষ্ঠ হাত দেখে শিউরে উঠে আদ্রিয়া। পিছনে তাকাতেই চোখ জোড়া নীড়েই আবদ্ধ হয়ে যায় তার হালকা লাল বর্ণের ঠোঁট জোড়ায় পানির ফোটা দারুণ নেশালো লাগছে। আদ্রি কেমন মোহ গ্রস্ত হয়ে গেল অতীতের তিক্ত স্মৃতি ভুলে আটকে গেল নীড়ের নেশালো চোখের দিকে ধীরে ধীরে চোখ নেমে এলো নীড়ের সিগারেট পোড়া লালচে ঠোঁটের দিকে। হঠাৎ করেই নিষিদ্ধ বাসনা জাগলো আদ্রি র মনে। সে কালচে লাল বর্ণে ঠোঁট জোড়া ছুঁয়ে দেওয়ার।
নীড় নিজেও যেন বেসামাল হয়ে যাচ্ছে। পানিতে ভিজে যাওয়াই আদ্রিয়তার পরনে শাড়ি অনেকটাই তার শরীরের সাথে লেপ্টে গেছে। যার কারণে আদ্রিয়তার শরীরের সমস্ত ভাজ সে টের পাচ্ছে। ত্রিশ বছরের যুবক চেয়েও পারছে না নিজেকে শান্ত করতে।
" কি করছিস কি নীড়। যেখানে এত বড় বড় মডেল তোকে তার রূপের জালে ফাঁসাতে পারেনি সেখানে তুই এই বাচ্চা মেয়ের সামনে কন্ট্রোল লেস কীভাবে হয়ে যাচ্ছিস। এর
আগেও ত বহু নারীকে দেখেছিস এর থেকেও আবেদনময়ী রূপে কই তাদের দিকে তো ফিরে তাকাতেও তোর রুচিতে আসেনি তাহলে এই মেয়ের নেশা কীভাবে তোকে করছে। নাহ নীড় এটা ঠিক না। আমি চাইনা আরও একটা নীড় পৃথিবীর বুকে আসুক। সব মেয়ে এক নীড় সব মেয়ে এক। সুযোগ পেলে ওই ও যদি একই কাজ করে নাহ নীড় তোর দুর্বল হলে চলবে না। এখনো অনেক কিছু আছে অজানা ওইসব না জেনে তুই এই পথে যেতে পারিস না। "
নিজের মনেই কিছুক্ষণ দ্বন্দ্ব করলো নীড়। চোখ বন্ধ করে জোড়ে জোড়ে দুইটা বিশ্বাস নিয়ে আদ্রিয়তার হাত ধরে বেরিয়ে এলো। কাবার্ড থেকে তাওয়াল বের করে নিজেই আদ্রিয়তার শরীরে জড়িয়ে দিলো আরেকটা দিয়ে অতি যত্নে চুল গুলো মুছে দিল,
"মাঝরাতে এইভাবে শাওয়ার নিয়ে কি প্রমাণ করতে চাও ওয়াইফি স্বামী তোমার রোমান্স জানে না তাই নিজেই চলে গেছো স্বামীর সাথে রোমান্স করতে উঁহুম এতো ডেসপারেট হওয়া ঠিক না ওয়াইফি। আমার বুঝি শরম করে না"!
নীড়ের লজ্জা পাওয়া অভিনয় দেখে আদ্রিয়তা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
" নেতা সাহেব আপনি আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন নেতারা ড্রামা করতে পারদর্শী"!
আদ্রিয়তার কথা শুনে হে হে করে হেসে উঠলো নীড়। নীড়ের প্রাণচ্ছ্বল হাসির দিকে মুগ্ধ নয়নে চেয়ে রইলো আদ্রিয়তা। মনে মনে বলে উঠলো,
"আপনি এত সুন্দর না হলেও পারতেন নেতা সাহেব। আপনার হাসির জালে ফেসেই বুঝি এতোগুলো ভোট
দিয়েছে জনগণ? এতো সুদর্শন একটা স্বামী না দিলেও হতো আল্লাহ্ মেয়ে হলে নির্ঘাত ঘর বন্দি করে রাখতাম কিন্তু এতো বড় পুরুষকে কই বন্দি করে রাখবো"?
হঠাৎ করেই কানে উত্তপ্ত শ্বাস পেয়ে জমে গেল আদ্রিয়তা। নীড় আদ্রিয়তার আরও কাছে এসে কানে স্লো ভয়েজে বলে উঠলো,
" তোমার মনে"!
আদ্রিয়তা নীড়ের কথায় চমকে উঠলো। "মনের কথাও বুঝি এই লোক শুনতে পারে কী সাংঘাতিক"?
সাত সকাল বেলা মুখে ঠান্ডা পানির বর্ষণ হতেই লাফিয়ে উঠলো আদ্রিয়তা। তার আগেই মুখে এসে পড়লো এক বালতি পানি। মুহূর্তে ঠান্ডায় কেঁপে উঠলো তার সারা শরীর। সময়টা ছিল ডিসেম্বর এর পাঁচ তারিখ কনকনে শীতে এইভাবে হেনস্তা হতে হবে সে ভাবেনি। চোখ মেলতেই চোখের সামনে ভেসে এল নীড়ের রাগী দুই চোখ জোড়া।
সাথে সাথে আদ্রিয়তার মাথাতেও রাগ চড়ে বসে। নীড়ের উদ্দেশ্য চিল্লিয়ে উঠে
-এটা কোন ধরণের অসভ্যতামি।
-তুমি আমার উপর চিল্লানোর সাহস পাও কই থেকে হ্যাঁ? (ভ্রূ কুঁচকে)
-আপনি কোন সাহসে আমার উপরে পানি মারার সাহস পান?(রাগে চিল্লিয়ে উঠলো)
-তোমাকে না কাল বলেছিলাম চলে যেতে তাহলে তুমি যাও নি কেন? (গম্ভীর স্বরে)
-কাল তিন কবুল বলে বিয়ে করলেন সে কবুলের মর্যাদা রাখতে যায়নি আমি। (আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা বাকি নেতা সাহেব সে সব প্রশ্নের উত্তর না জেনে আমি যাবো না।)
-ভুলে যাও সে বিয়ে সে তারিখ সে দিন সে লগ্ন।
-বিয়ে আপনার কাছে ছেলেখেলা হতে পারে আমার কাছে না।
-গলা নিচে নামাও। (রাগী চোখে)
-নামাবো না কী করবেন?
-গলা ভেঙে দিবো। ( গলার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়)
সাথে সাথে আদ্রিয়তা পিছনে সরে যায় মনে মনে ভয় পায় ঠিকই কিন্তু চেহারায় সেটা ফুটিয়ে তুলে না তার বাবা তাকে শিখিয়েছে "সামনের মানুষ টা একবার যদি বুঝে যায় তুই তাকে ভয় পাচ্ছিস তাহলে সে তোকে আরও ভয় দেখাবে। কিন্তু তুই যদি ভয় না পাস তাহলে সে তোকে ভয় দেখাতেই ভয় পাবে"। আদ্রিয়তাও একই কাজ করলো মনের ভয় মনে দাবিয়ে পুনরায় নীড় এর উদ্দেশ্য বলে উঠে।
-এতো ইচ্ছা কেন মেয়েদের শরীরে হাত দেওয়ার হ্যাঁ মানুষ ঠিক ই বলে নেতারা আসলেই একেক টা লুচু পরোটা হয়। একদম আমার আশেপাশে আসবেন না বলে দিলান নাহলে।
কথাটা বলে আর এক মুহূর্তে সেখানে থামলোনা আদ্রিয়তা দৌড়ে ঢুকে পড়লো ওয়াশরুমে।
নীড় হতভম্ব হয়ে গেলো সে তো ওকে মারতে গিয়েছিল আর এই মেয়েটা তাকেই নাকানি চুবানি খাইয়ে দিলো। তাকেই শাসিয়ে দিয়ে চলে গেলো কত বড় সাহস ভাবতেই রেগে ফেটে পড়লো নীড়। পরক্ষণেই আবার ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেললো। এদিকে আদ্রিয়তা তাড়াহুড়ো করে জামা কাপড় না নিয়েই ঢুকে পড়েছে এখন গোসল করাও দরকার কতক্ষণ ভিজা কাপড়ে থাকবে আবার বাহিরে সিংহ রাজা দাঁড়িয়ে আছে।
-ইয়া আল্লাহ কোন মুসিবতে আমাকে ফেললে বলো ত। কি সুন্দর কিউট একটা মেয়েকে কি না শেষ মেশ এমন করলা মার্কা জামাই দিলা। আজব আমি কি এমন দোষ করেছি যে সিংহের মুখে ছুড়ে মারলা আমাকে। কাল রাতেই ত ভালো ছিল হুট করে সকালে আবার কোন ভূত মাথায় বসলো কে জানে। ধুরু ভাল্লাগে না এখন বিনা জামা কাপড়ে গোসল করবো কীভাবে আমি আল্লাহ এই কোন মুসিবতে ফেললে। ( উপরের দিকে হাত তুলে)
দরজার ওপর পাশ থেকে দাঁড়িয়েই সবটা শুনতে পেলো নীড়। ঠোঁটে তার বিশ্ব জয় করে ফেলার হাসি।
"প্রথম পরীক্ষাই পাশ ওয়াইফি এবার ধীরে ধীরে বাকি দুইটা। এতো সহজে নীড়ের মন নরম করলেই ত হবে না এতো তাড়াতাড়ি ত নীড় নিজের ছায়ার উপরেও ষোলো আনা বিশ্বাস করে না। "
আদ্রিয়তা দরজাই উঁকি দিয়ে দেখে নিলো পরিস্থিতি আশেপাশে কাউকে না দেখে বের হতেই চোখ বড় হয়ে যায় তার,,,,,,।
বের হতেই দেখে নীড় দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে সাথেই পুনরায় ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দেয় আদ্রিয়তা। তা দেখে নীড় বাহির থেকেই চেচিয়ে উঠে,
"আর একটা বাজে কথা যদি আমি শুনি আই সোয়ার ওয়াইফি জান বের করে নিবো"?
আদ্রিয়তা তা শুনে ভেংচি কেটে বিড়বিড় করে বলে উঠলো,
" এসেছে আমার আজরাইল"।
আদ্রিয়তা সেভাবেই চুপচাপ গোসল সেরে তাওয়াল পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে কখন থেকে। না পারছে এই অবস্থায় বের হতে না পারছে এই ঠান্ডায় কাপড় ছাড়া থাকতে। পুনরায় দরজাই নক হতেই আদ্রিয়তা ভাবলো নীড় হবে কিন্তু দরজার অপর পাশ থেকে নীড়ের বোনের আওয়াজ পেতেই যেন স্বস্তি পেলো।
-ভাবিই তোমার হয়েছে।
-নওমি বোন আমার ভালো হয়েছে তুমি এসেচ্ছো । আমার জামা একটু ব্যাগ থেকে দেও তো।
-জামা না ভাবি মা তোমার জন্য শাড়ি পাঠিয়েছে। এলাকার কিছু আান্টি তোমাকে দেখতে আসবে।
আদ্রিয়তা শাড়িটা দেখে অবাক হই। কারণ শাড়িটা অসম্ভব সুন্দর হালকা গোলাপি শাড়ির ওপর পাথরের হালকা কাজ। যা শাড়ির সৌন্দর্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আদ্রিয়তা হাসিমুখে শাড়িটা পড়ে নিলো।
অপরদিকে,,,,,
-ভাইয়া শাড়িটা তো তুমিও দিতে পারতা আর শাড়িটা তো তুমিই কিনেছ তাহলে মামনির নাম দিলা কেন?
-বেশি বকবি তো তোর ফোনের চিন্তা মাথা থেকে বের করে দে। অনার্স শেষ করা না অবধি তাহলে ফোন পাবি না।
-আরে আমার ভালো ভাইয়া। আমি তো এমনিই বলছিলাম কিউরিওসিটি আরকি হে-হে ফোনের কথা ভুলনা আচ্ছা।
-যাহ মাথা খাস না। আর এক কাপ কড়া কফি পাঠাতে বল।
নওমি মাথা নাড়িয়ে চলে যায়। নীড় চোয়াল শক্ত করে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কারো সাথে মনোযোগ দিয়ে কথা বলতে শুরু করে। কিছু সময়ের ব্যবধানে দরজা খোলার আওয়াজ পেতেই নীড় কি মনে করে পিছনে ঘুরে আর তাতেই তার হাত থেকে ফোন পড়ে যেতে নেয়। কোন মতে ফোন ধরে পুনরায় কানে নিয়ে পিছনে ঘুরে দাঁড়ায়।
এদিকে শাড়ি পড়ার অভ্যাস না থাকায় বার বার কুচি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ফেলে। আয়নায় স্পষ্ট নীড় দেখতে পাচ্ছে আদ্রিয়তার বিরক্তি।
-এই যে শুনছেন?
সাথে সাথে নীড়ের হাত তার বুকে চলে যায়। ফোন কেটে কঠোর দৃষ্টিতে আদ্রিয়তার দিকে তাকায়
-খবরদার এর পর থেকে এইভাবে ডাকবেনা।
-তো কি নাম ধরে ডাকবো?
-নাহ।
-তো কি ভাইয়া বলা লাগবে
-জানে মেরে ফেলবো।
-আজব ত তাহলে ডাকবো কি নেতা মানুষ রা কথা এতো প্যাঁচায় কেন বুঝি না। এই যে নেতা সাহেব একটু কুচিটা ধরে দিবেন প্লিজ।
-পারবো না।
নীড়ের এমন সহজ উক্তি পছন্দ হলো না আদ্রিয়তার ও মাথায় জেদ চেপে বসলো।
-তাহলে এমন ই থাক বাহিরে আপনার বাবা চাচা ভাই বলতে গেলে পুরা পরিবার আছে সবার সামনে কুচি খুলে পড়ে যাবে ভালো লাগবে তখন আপনার ঠিক আছে আমি যায়।
আদ্রিয়তা ভেংচি কেটে উলটা ঘুরে যেতে নিলেই নীড় হ্যাঁচকা টানে তাকে নিজের দিকে ফিরায়।
-আমার সাথে ত্যাড়ামো করার সাহস আজ দেখালে নেক্সট টাইম দেখাবে না খবরদার।
-দেখা যাবে হু এখন কুচিকে দেখেন।
নীড়ে দাঁত কিড়মিড় করে আদ্রিয়তার কুচি ঠিক করে দিতে লাগে। আদ্রিয়তা অবাক হয় কি সুন্দর আর পারদর্শী হাতে শাড়ির কুচি ঠিক করছে যেন কতদিনের এক্সপেরিয়েন্স।
হতেও পারে বলার জো নাই নেতা মানুষ স্বভাব চরিত্র ঠিক থাকবে কি না তা কি আদৌ বলা যায়।
-এতো জোরে জোরে ভাবার কিছু নাই মামনীকে অনেক সময় কুচি করার সময় ধরে রাখতাম সেখান থেকে শিখেও গেছি।
.
আদ্রিয়তা ত শকড।
এই লোকটা দেখি মন ও পড়তে পারে আরে বাহ। কিন্তু মামনি উনি কাকে বললেন উনি ত নিলিমা আন্টিকে মিসেস চৌধুরী বলেন তাহলে নিজের মায়ের কথা বলছে? (মনে মনে)
-একটা কথা জিজ্ঞেস করি নেতা সাহেব ( আনমনেই)
-নাহ।
-আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন ছ্যাঁকা খেয়েছিলেন আর তাই জন্যই কি নারীদের ঘৃণা করেন?
-নাহ।
-তাহলে?
-বলার প্রয়োজন মনে করছি না। ধরো গুঁজে নেও ( কুচি গুলো ধরিয়ে দিয়ে)
আদ্রিয়তা একহাত দিয়ে কুচি ধরে আরেক হাত দিয়ে নীড়ের হাত ধরে ফেলে।
-এড়িয়ে যাচ্ছেন?
-হাত ছাড়ো।
-না ছাড়লে?
সাথে সাথেই আদ্রিয়তার হাত মুচড়ে পিঠে ঠেকায়। ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে
-আমার জেদ করা পছন্দ না।
-আর আমার আপনাকে পছন্দ না (ছলছল চোখে)
-গুড সেম এণ্ড ফর্ম মি!
-এতো যখন সমস্যা আমাকে নিয়ে তাহলে বিয়ে করেছিলেন কেন।
-বাবার কথায়।
-আপনি কারো কথা শুনতে বাধ্য হবেন সেটাও বিশ্বাস করা লাগবে? (তাচ্ছিল্যের হেসে)
-বিশ্বাস করা বা না করা একান্তই তোমার বিষয় তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।
আদ্রিয়তার হাত ছাড়িয়ে সেখান থেকে চলে যায়। আদ্রিয়তাও শাড়ি ঠিক করে মাথায় ঘোমটা দিয়ে সেখান থেকে যেতে নিলেই চোখ যায় গলার দিকে। গলায় স্পষ্ট লাল দাগ গুলো দেখে মনে পড়ে যায় পরশু রাতের কথা। বিয়ের রাতে এতো সুন্দর গিফট হয়ত এর আগে কোন বউ পায়নি। আদ্রিয়তার চোখ বেয়ে দুই ফোটা পানি গড়িয়ে পড়তে নিলেই সাথে সাথে মাথা উপরে উঠায়।
-উঁহুঁ কান্না করে নিজেকে দুর্বল প্রমাণ করবি না খবরদার। সের খান এর মেয়ে তুই সেরনী। আর সেরণী গর্জন করে কান্না করে না।
আদ্রিয়তা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফাউন্ডেশন নিয়ে লাল হয়ে থাকা জায়গা টা লুকিয়ে ফেলে। ধীরে সুস্থে বেরিয়ে যায় নিচে,
আদ্রিয়তাকে সবাইকে উঠে যেতে দেখে মনে মনে কিছুটা লজ্জিত হয় বাড়ির সবাই যেখানে ঘুম থেকে উঠে বসে আছে সেখানে সে বাড়ির বউ হয়ে এতো দেরিতে নিচে আসলো। সব দোষ নীড়ের উপর চাপিয়ে দিয়ে মনে মনে নীড়কে গালি দিতে শুরু করে। এদিকে আদ্রিয়তার মুখ নড়তে দেখে নীড় ভ্রূ কুঁচকে তাকায়। তার বুঝতে বাকি থাকেনা আদ্রিয়তা বিড়বিড় করে তাকেই বকা দিচ্ছে মাঝে মধ্যে ওর সাহস দেখে অবাক হই নীড়।
আদ্রিয়তাকে আসতে দেখেই নেওয়াজ সোফা থেকে উঠে এসে হাত বাড়িয়ে দেয়।
-গুড মর্নিং মহারাণি আদ্রিয়তা চৌধুরী।
নেওয়াজ এর পিছে পিছে রিয়াজ আর আয়াজ ও হাত বাড়িয়ে দেয়। একসাথে তিনজনের হাত দেখে আদ্রিয়তা হচকচিয়ে উঠে।
-বুঝলা ভাবি এটা তোমার এক্সাম। এখন তুমি যে দেবরের হাত ধরবা সেটা তোমার অতি প্রিয় দেবর।
আদ্রিয়তা এবার সত্যি সত্যি বিপাকে পড়ে যায়। কার হাত ধরবে দুইজনার হাত ধরলে আরেকজন আপসেট হবে। এই বিপত্তির মাঝেই নীড়ের দাদাজান এসে আদ্রিয়তার মাথায় হাত রাখে।
-কি দিদিমনি আমার নাতিরা বুঝি বিপদে ফেলে দিয়েছে।
-হিহি তারা বিপদে ফেলেছে আর তুমি উদ্ধার করতে চলে এসেছো।
আদ্রিয়তা কথাটা বলেই দাদাজানের হাত ধরে।
-এই যে আমার ফেবারিট।
সাথে সাথেই নেওয়াজ আয়াজ রিয়াজের মুখ কালো হয়ে যায়।
-এটা কিন্তু চিটিং ভাবি।
-আপনারা আমার সাথেও চিটিং করছিলেন।
-আসলেই এবার কোন ডাউট নাই তুমি নীড় ভাইয়ের জন্য কেন পারফেক্ট বলেছিল বড় আব্বু।
নেওয়াজের কথায় হাসে আদ্রিয়তা। হঠাৎ করে তার চোখ জোড়া আটকে যায় নীড়ের গভীর নয়নের দিকে। আদ্রিয়তার কেন যেন মনে হয় এই চোখের মালিককে এর আগেও দেখেছে। তাও এক দুইবার না অনেক কয়েক বার দেখেছো কিন্তু কোথায় কখন কীভাবে এইটার উত্তর তার কাছে নেই।
"আপনি ঠিক গোলকধাঁধার মতো নেতা সাহেব এই গোলকধাঁধার শেষ আমি দেখবো নেতা সাহেব। হ্যাঁ আপনাকে আমি ঘৃণা করতে পারি না এটা সত্যি কিন্তু তার থেকে বড় সত্যি সে রাতের করা একেকটা আঘাতের শান্তি আমি দিবো"!
চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন