সূর্যের প্রথম আলো টা এসে পরে সমুদ্রের ধারে । আহসান ভিলার ছোট্ট বাড়ির জানালার পর্দা ভেদ করে সূযের আলো এসে পরে রমনীর স্নিগ্ধ মুখে।রমনীর ঘুম ভাঙার কোনো নামই নেই। নিচ থেকে ডাকছে তার মা। এই রিদি ওঠ। কয়টা বাজে এখনো শুয়ে আছিস। ভার্সিটিতে যাবি না তুই। আরেকটু ঘুমাতে দেওনা মা প্লিজ। আমি আসলে কিন্তু ভালো করে ঘুমাতে দেবো। উঠেছি আার উঠেছে আর আসতে হবে না। এটা রিদির প্রতিদিন নিয়ম করা আহসান বাড়িতে।
আহসান বাড়িতে রিদি আর তার মা নাহার আহসান থাকে। রিদির বাবা কামাল আহসান কেন্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে পাচ বছর। রিদি তাদের ব্যবসা সামলায় রিদি বাংলাদেশের একজন টপ বিজনেস ম্যান
কিরে হয়েছে তোর। নিচ থেকে ডাকছে নাহার আহসান।
হ্যা মা আসছি। তাঁরাতারি আয়। শিরি দিয়ে নামতে নামতে রিদি বলল, মা আজকে ভার্সিটির থেকে সোজা অফিস চলে যাবো। তুমি নিজের খেয়াল রেখো আর বাড়ির কোনো কাজ তুমি করবে না। সার্বেন্ট রা আছে তাদের বলবে করতে। দে বোস নাস্তা করে নে আগে। এ বলে ডডাইনিং এ বসে পরল রিদি। নাস্তা শেষ করে হাটা ধরলো রিদি পার্কিং লটের দিকে। সেখান থেকে কুচকুচে কালো একটা ভিএমডাব্লিউ বের করে নিলো। রিদির কালো খুব পছন্দ । তার গায়ের ড্রেস পরে আছে কলো। গায়ে কলো শার্ট আর জিন্স। গাড়ির দরজা খুলে সিটি বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো রিদি গাড়ি নিয়ে চললো ভার্সিটির দিকে
রিদি গাড়ি নিয়ে চললো ভার্সিটির দিকে। আজকে ভার্সিটিতে যেতে দেরি হয়ে গেছে তাই গাড়ি তারাতাড়ি চালাচ্ছে । হঠাৎ করে করে কই থেকে যেনো আরেকটা গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে রিদির কপাল ফেটে যায়।
- ধূর আজকের দিনটাই খারাপ ।
~ রিদি গাড়ির সামনে দরিয়ে অনবরত গাড়ির জানালায় টোকা দিয়ে ডাকছে। গাড়ির ড্রাইভার গাড়ির কাচ নামতেই বলল।এই মিয়া আপনি দেখতে পান না নাকি দেখে গাড়ি চালাতে পারেন না। গাড়ির ড্রাইভার পিছনে তাকাতে মালিকের ইশারা পেয়েই পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে রিদির সামনে ধরে বলল,ধরেন ডক্টর দেখিয়ে নিয়েন। টাকা দেখে রিদির মেজাজ আরো খারাপ হয়ে যায় আই মিয়া এই আমাকে কি আপনার পকির মিসকিন মনে হয় যে টাকা দিচ্ছেন। পিছনের দরজা খুলে একটা লোক বের হয়, সাদা শাট পড়া আর কালো পেন্ট গলায় টাই বাধা, গায়ের রং সেমল্যা গালে চাপ দারি।
~কি সমস্যা আপনার গাড়ির সামনে দরিয়ে এরকম মিস বিহেব করছেন কেনো। টাকা নিলে নেন। না নিলে নাই ুখানে দারিয়ে দরিয়ে জগড়া করছেন কেনো। রুদ্রর কথা শুনে রিদির মেজাজ আরো বেশি খারাপ হয়ে যায়। সামস্যা আমার না সমস্যা আপনার আপনারা কি ঠিক মতো গাড়ি চালাতে পারেন না। এ কথা শুনে রুদ্র রিদির দিকে তাকিয়ে দেখে রিদির কপাল ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। রক্ত বের হচ্ছে দেখে রুদ্র গাড়ি থেকে এন্টিসেপটিক এনে রিদির কপালে লাগিয়ে দিয়ে বলল।
~ এবার হয়েছে আমি আপনার খতি করেছি আবার আমি ঠিক করে দিছি। এ বলে রুদ্র গাড়িতে ওঠে চলে যায়
এই দিকে রিদি রুদ্রের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে গালি দিচ্ছে
- একটা সরি পর্যন্ত বলেনি, বেয়াদব ছেলে একটা
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে জগিং করতে বের হয়েছে রেদোয়ান রুদ্র চৌধুরী । হাটতে হাটতে অনেক লেট হয়ে গেছে তাই তারাতাড়ি বাসায় পিরছে রুদ্র, কারণ আজ তার কলেজ জয়েনের প্রথম দিন।রুদ্র কানাডা থেকে পড়াশোনা শেষ করে এসেছে মাএ তিন দিন। রুদ্র বাসায় এসে ওয়াশরুমে চলে গেল কিছু সময় পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে চলে আসে কাবার্ড এর সামনে, এসে সেখান থেকে একটা সাদা শাট, কালো পেন্ট আর কালো একটা ব্লেজার বের করে পরে নেয়। ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য, চুল গুলো জেল দিয়ে সুন্দর করে ঠিক করে নেয়, হাতে কালো ঘরি, যেকোনো মেয়ে ক্রাশ খেতে বাদ্ধ। কারণ রুদ্র যেমন সুদর্শন তেমনি গম্ভীর, আজ পর্যন্ত কেউ তাকে হাসতে দেখেনি।নিচে থেকে অনবরত ডাকছে রুদ্রর মা নিলিমা চৌধুরী।
রুদ্র নাস্তা করে নে বাবা তাঁরাতারি আয়। আবার লেট হলে না খেয়ে চলি যাবি বাবা তারাতাড়ি আয়। রুদ্রর বাবা আকাশ চৌধুরী সোফায় বসে বসে চা খাচ্ছে আর ছেলে আর ছেলের মায়ের কথা শুনছে। রুদ্র শিরি দিয়ে নামতে নামতে নীলিমা চৌধুরী কে বলল, মা আজ সময় নেই আমি বাহির থেকে খেয়ে নেবো। এ বলে চলে যায় রুদ্র ভার্সিটির দিকে। রুদ্র ভার্সিটিতে জয়েন হয়েছে বাসায় এখনো কেউ জানে না। তাই বাসায় এখনো জানায় নি। এসব ভাবতে ভাবতে রুদ্র ভার্সিটির সামনে চলে আসে তাই নিজের ব্লেজার টা হাতে নিয়ে দ্রুত চলল অফিস রুমের দিকে। করিডোর দিয়ে যেতেই হঠাৎ করে কারো সাথে ধাক্কা লেগে দুজন মিলে পরে যায় করিডোরে। রুদ্র রেগে যেই কিছু বলতে যাবে, সামনে তাকিয়ে দেখে একটু আগে যেই মেয়ের সাথে জগড়া কটে আসছে শেই মেয়ে।
এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি, মরার জন্য আর জায়গা পাওনা। যে ঘুরে পিরে এসে আমার কাছেই মরতে হবে। রিদি ভেবলার মতো তাকিয়ে আছে, কি হলো কিছু মাথায় আসছে না তার। আমি কেনো আপনার ওপর মরতে আসবো, আপনি আসছেন মরতে আমার কাছে। রিদিকে ধাক্কা মেরে পেলে দিয়ে রুদ্র। রিদিকে ধাক্কা মারায় রিদি হাতে কনুই য়ে অনেক বেশি ব্যাথা পায় তাই রেগে কিছু বলবে তার আগেই দেখে মানব হনহন করপ হেটে চলে যাচ্ছে তাই শুধু দূর থেকে বেয়াদব বলে গালি দিচ্ছে। রুদ্র কিছু দুর যাওয়ার পরে হঠাৎ শুনতে পায়, মেয়েটা তাকে বেয়াদব বলেছে, তাই পিছনে তাকায়ে দেখে মেয়েটা চলে গেছে। তাই আর না দরিয়ে রুদ্র চলে গেলো অফিস রুমের দিকে।
কেলেজের প্রাঙ্গণে দরিয়ে কিছু ছেলে মেয়েদের ইভটিজিং করছে। রিদি আর রিদির একটা নতুন বান্ধবি হয়েছে নাম রিদিতা তাই দুজন মিলে যাচ্ছিলো কেন্টিনের দিকে হঠাৎ করে দূরে তাকিয়ে দেখে কিছু ছেলে ুএকটা মেয়েকে বাজে ভাবে স্পর্শ করছে, তা দেখে রিদি আর না দাঁড়িয়ে চলে গেলো সেই ছেলে গুলোর দিকে।
কি হচ্ছে এখানে রিদির কথা শুনে বখাটে ছেলেদের লিডার পিছনে তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে সাদা শাট, আর কালো বেগি পেন্ট, এর পকেটে হাত দিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বখাটে ছেলেদের লিডার এগিয়ে এসে বলল, কি সুন্দরী দেখতে পাচ্ছো না তুমি কি হচ্ছে। রিদি ছেলে গুলো ইভটিজিং করছে সেই মেয়ে টার হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য পা বারাতেই। সে দলের আরেকটা ছেলে মেয়েটার হাত ধরে পেলে।রিদি সেই ছেলে টাকে বলল....
হাত ছারো এর.....
যদি না ছাড়ি কি করবে....
আমি কি করবো সেটা পরে দেখিচ, আগে এর হাত ছার।
ছেলে গুলো লিডার উচ্চ স্বরে হাসতে হাসতে বলল, মামনি মনে হয় কলেজে নতুন, কি বলিস তোরা, একথা বলতে ছেলেটা যেই রিদির হাত দরতে যাবে ঠিক তখনি রিদি একটা থাপ্পড় দিয়ে দেয় ছেলে গুলোর লিডা পিন্টু, থাপ্পড় এর চোটো পিন্টু ছেলেটা কিছুটা দুরে ছিটকে পড়ে। তাদের লিডারকে থাপ্পড় মারায় বাকি ছেলে গুলো অবাক হয়ে যায় কেনো না আজ পর্যন্ত কোনে মেয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা পর্যন্ত বলেনি আজ একটা মেয়ে তাদের লিডারকে থাপ্পড় দিয়েছে। সবাই কিছু বুজে উঠার আগেই রিদি নিজের পায়ের হিল খুলে নিয়ে ছেলেটাকে মারা শুরু করলো। বাকি ছেলে গুলো যেই রিদির কাছে আসবে, মারার জন্য রিদি তখনি নিচ থেকে একটা লাঠি নিয়ে উদ্ধম আদ্ধম মেরে একজনে হাত ভেঙ্গে গেলো একজনের মাথা ফেটে গেছে ।
চলবে........... …..……