“আমাকে ছেড়ে দিন, দয়া করে…”
কাঁপা কণ্ঠে মানুষটা অনুনয় জানালো।
“সত্যি কথা বললে অবশ্যই ছেড়ে দেবো।”
নির্দয় উত্তর ভেসে এলো সামনের অন্ধকার থেকে।
লোকটা আবার কেঁপে উঠল। চোখে অশ্রু, কণ্ঠে হাহাকার—
“আমি সত্যিই কিছু জানি না… দয়া করে ছেড়ে দিন। আমার স্ত্রী, আমার সন্তানেরা বাড়িতে বসে আমার অপেক্ষা করছে। দয়া করে…”
তার হৃদয়বিদারক কথাগুলোও যেন পাথর-গড়া এক প্রাণের কাছে পৌঁছালো না। সামনের মানুষটার মনে করুণা নেই, নেই কোনো মানবিকতা।
কোনো সাড়া না পেয়ে লোকটা আবার ভিক্ষার সুরে বলল—
“দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন। এতটা পাষাণ হবেন না।”
সে আশায় বুক বাঁধল, হয়তো এবার কিছু উত্তর মিলবে। কিন্তু অন্ধকারে ঢেকে থাকা ঘরে সামনের মানুষটা পুরুষ না নারী, তা-ও বোঝা যাচ্ছিল না। আলোহীন ঘরে সে নিজের হাত-পাও দেখতে পাচ্ছিল না।
এক অস্বাভাবিক শব্দ ঘরটা ভরে তুলল ।কান বিদীর্ণ করা এক বিভৎস অট্টহাসি, যেন ছিঁড়ে ফেলছে চারপাশের নীরবতা।
হঠাৎ....
বিকট এক শব্দ হলো লোকটার মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে গেল,গলা থেকে গরম গরম রক্ত ছিটকে পড়ে চারদিকে ছড়িয়ে গেল, ঠান্ডা মেঝেটা মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল।
মাথাটা গড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। প্রথমে ধীরে, তারপর ঢেউ খেলানো ভাবে গড়াতে গড়াতে গিয়ে থামল ঘরের এক কোণে। ঠোঁটে জমে থাকা শেষ কণ্ঠস্বর যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে।
দেহটা মেঝেতে ঢলে পড়লো। হাত-পা কিছুটা কাঁপল, যেন শেষবারের মতো বাঁচার চেষ্টা করছে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শরীরের সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল। ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল, শুধু রক্তের টপটপ শব্দ ছাড়া।
---
আজকেও জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো আরেকটা মৃতদেহ। পুলিশ অফিসাররা গভীর চিন্তায় পড়ে গেল। লাশটার অবস্থা দেখে মনে হলো অন্তত ৩-৪ দিন আগের। এর আগেও একই জায়গা থেকে ১৮টা লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
ঘটনাটা যেন এক অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে দিল চারপাশে।
এই তদন্তে নতুন দায়িত্ব পেল সদ্য চাকরি পাওয়া সাব-ইন্সপেক্টর সাদিফ। আগে কখনো এমন ভয়ংকর দৃশ্যের মুখোমুখি হয়নি সে। তাই লাশটা দেখে তার মুখটা বিবর্ণ হয়ে গেল, গলা শুকিয়ে এলো।এর আগেও অনেক লাশ দেখেছে সে কিন্তু এমন ভয়ানক লাশ দেখিনি লাশের মাথাটা নেই পুরো শরীরে ব্লেড দিয়ে কাটার চিহ্ন, হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো থেকে নখ উঠিয়ে ফেলা হয়েছে বুকের বা পাশে একটি সরু লম্বা কাটা দাগ তার ফাঁক দিয়ে ভেতরের সবকিছু স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে,ভেতরের হৃদপিণ্ডটা নেই বরং সেখানে আছে একটি বড় পাথর ,পাথরটির গায়ে রক্তমাখা।
দেখে মনে হচ্ছে কোন দক্ষ সাইকোর কাজ রাস্তা দেখেই গা টা কেমন গুলিয়ে আসছেআর সামলাতে না পেরে হালকা কাঁপা কন্ঠে সাদিফ বলে উঠলো
– স্যার… আ-আমি চলে যাই?
ইন্সপেক্টর ইজান :
– কেন?
সাদিফ:
– আসলে স্যার, আমার এগুলো দেখার অভ্যাস নেই। খুব খারাপ লাগছে… সহ্য করতে পারছি না।
সাব-ইন্সপেক্টরের কথা শুনে ইজান প্রথমে একটু রেগে উঠলো। কারণ সাদিফ পূর্ব থেকে ট্রেনিং প্রাপ্ত দক্ষ ইন্সপেক্টর নতুন হলেও তার পূর্বের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি তাই জন্যই তাকে প্রথম দিনই এমন বড় কেসে পাঠানো হয়েছিল হয়তো এত বিভৎস লাস্ট প্রথম দেখেছে তাই ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক
ইজান নিজেকে সামলে নিয়ে বলল—
–আচ্ছা, আজকে যেতে পারো। তবে মনে রেখো, এ ধরনের সুযোগ আর কোনোদিন পাবে না। আজকে নতুন বলে ছেড়ে দিলাম। কিন্তু অভ্যাস করে নাও। এর আগেই এই জঙ্গল থেকে ১৮টা লাশ পাওয়া গেছে। তুমি গিয়ে তদন্ত শুরু করো।
অনিচ্ছাসত্ত্বেও সাদিফ মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। পুলিশের জিপে ওঠার সময় তার মনে হচ্ছিল, যেন কোনো মৃত্যুকেন্দ্র থেকে ফিরছে সে। চোখে ঘুরপাক খাচ্ছে সেই বিভৎস লাশের দৃশ্য।
__________
এরিক দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায়। চারপাশে রোমের স্নিগ্ধ হাওয়া, আকাশে ম্লান সূর্যের শেষ আলো। চুলগুলো হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে গিয়েছে, তবু তার মধ্যে এক ধরনের রাজসিক আভা ফুটে উঠছিল। পেছনে কারো উপস্থিতি টের পেল ,পেছনে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিল—
“Вы нашли это?”
(“খুঁজে পেয়েছ?”)
ছেলেটি কিছুটা অবাক হল এরিক তো তাকে দেখেনি তাহলে চিনল কিভাবে? মনে থাকা সব প্রশ্নকে চাপা দিয়ে উত্তর দিল—
”Нет, но я знаю, что вы в Бангладеш.
(“না, কিন্তূ এতটুকু জানি বাংলাদেশে আছেন।” )
---
তাবাসসুম তাড়াহুড়া করে রেডি হচ্ছিল ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য। পিছন থেকে মিসেস মিলি ডাক দিলেন—
“আজ অন্তত না খেয়ে যাস না!”
তার দীর্ঘ চুল কাঁধ ছাপিয়ে কোমর পর্যন্ত নেমে এসেছে, হাওয়ার টানে চুলগুলো দুলে উঠল। ত্বক ফর্সা, প্রায় বিদেশিনীদের মতো। পড়নে ছিল আকাশি রঙা কুর্তি এবং জিন্স প্যান্ট কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ। চোখ দুটো শান্ত, ঠোঁট হালকার লাল রঙের কিছুটা গোলাপির ন্যায় যার রং ব্যক্ত করা অনেক কঠিন নেচার যেন তার জন্যই আলাদা করে রেখেছে এই রং।
মায়া হালকা বিরক্তির সুরে বলল—
“আলরেডি লেট হয়ে গেছে, মিষ্টি মা। যাই…”
এই বলে সে তড়িঘড়ি করে দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে গেল ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। তার গ্র্যাজুয়েশনের করতে তিন মাস আছে , মাথায় না-না চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।
কিন্তু, বাইরে বের হতেই একটা মেয়ে ডেকে উঠল —
“তাসফি....”
তাসফি পিছনে ফিরে বুঝলো এটা মাইরা।
( মাইরা হলো তাবাসসুম best friend। তারা কলেজ থেকেই একসাথে পড়াশুনা করে আসছে, তাদের মাঝের সম্পর্ক খুবই ভালো। যদিও তাদের অভ্যাস পুরোপুরি ভিন্ন, মাইরা খুবই মিসুক স্বভাবের , খুব inoccent , সহজে পেট থেকে সব কথা বের করে দেয়, খুব চঞ্চল স্বভাবের,একটু ভীতু তবে অনেক বেশি হাসিখুশি ও একাই যথেষ্ট সবাইকে হাসানোর জন্য, সেখানে তাবাসসুম তেমন মিসুক না ,কথা কম বলে ,তবে friend দেয় সঙ্গে কথা একটু বেশি বলে, খুবই শান্ত স্বভাবের)
তাবাসসুম: -তুই আজকেও আমার জন্য অপেক্ষা করছিস, বাসায় ঢুকতে পারিস না ,আমি তোকে কতবার বলেছি বাহিরে অপেক্ষা না করে ভেতরে ঢুকবি।
মাইরা:-আরে আমি এখন এসে দাঁড়ালাম। আর শান্ত আজকে বলেছে আমাদের সবাইকে খাওয়াবে তাই আম্মুকে বলেছি টিফিন না দিতে এটা নিয়ে আম্মুর সাথে কথা কাটাকাটি হতে হতে দেরি হয়ে গেল। আম্মু কিছুতেই মানতে চাইছে না যে আমাকে টিফিন দিবে না।
তাবাসসুম :-তো তুই নিয়ে আসতি শুধু আন্টির সাথে এত ঝগড়া করিস কেন? আন্টির মত আমার একটা মা থাকলে কখনো ঝগড়া করতাম না।
তাসফি:-বা*ল করতি
মায়া:-তোকে কতবার বলেছি....
কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই মাইরা বলল-
দেরি হয়ে যাচ্ছে মেরি জান ভার্সিটিতে গিয়ে ঝগড়া করিস।
তাবাসসুম আর কোন কথা না বাড়িয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে যাওয়া শুরু করল তারা ভার্সিটিতে পৌঁছে কোনরকম ক্লাস পেয়েছে না হয় লেট হয়ে যেত।
ক্লাসে গিয়ে বসার কিছুক্ষণ পরেই প্রিন্সিপাল আসলো এবং বলল:-“এই হলো সৌরভ, ও এতদিন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি তে পড়তো কিন্তু ওর বাবা ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ার কারণে ওর ঢাকা ভার্সিটিতে আসতে হয়েছে সৌরভ, তুমি গিয়ে বসো।”
সৌরভ তাবাসসুমদের পাশের সিটে বসে পড়ল।
শান্ত:-“তুমি চাইলে আমাদের গ্রুপে জয়েন করতে পারো”
সৌরভ একটু দ্বিধা নিয়ে বলল—
“আচ্ছা…”
শান্ত —
“যদি অন্য গ্রুপে দেখি তোকে, তাইলে তোর পা…”
কথাটা শেষ করার আগেই সে সামনে তাকিয়ে দেখল, মাইরা আর তাসফি রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। শান্ত ঢোক গিলল আর বাক্যটা বদলে দিয়ে বলল—
“তারপর দেখা যাবে… যাই হোক, এখন সবার সাথে পরিচয় হ।”
সে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল—
“এ হলো আমাদের ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট তাবাসসুম তাসফি, ক্লাসের টপার।”
তাবাসসুম মুচকি হেসে সৌরভকে বলল—
“হ্যালো, আমি তাবাসসুম।ওরা সবাই আমাকে তাসফি ডাকে তুমি আমাকে এই নামে ডাকতে পারো। আর ওর কথায় বেশি কান দিও না, একটু বাড়াবাড়ি করে।”
তারপর শান্ত পরিচয় করিয়ে দিল মাইরাকে—
“এটাও কম কিছু নয়। এও লাস্ট ওফারদের মধ্যেই।”
মাইরা হাত নেড়ে বলল—
“হ্যালো, আমি মাইরা।”
এরপর শান্ত বলল—
“ আর আমি শান্ত। এতদিন এই গ্রুপে আমি একাই ছিলাম ছেলে, এখন থেকে তুইও আছিস।”
কিছুক্ষণ পর ব্রেক টাইমে সবাই মিলে ক্যান্টিনে গেল। গল্পের ফাঁকে শান্তর চোখ হঠাৎ আটকে গেল সামনে বসে থাকা ব্যক্তিটির দিকে। সে মাইরাকে কনুই দিয়ে দেখিয়ে বলল—
“ওই দেখ!”
মাইরা তাকাতেই চিনতে পারল—ওই তার এক্স। এরপর শান্ত সৌরভের কানে কিছু বলল, হঠাৎই তাসফি গেয়ে উঠল—
“তুই আমার ফেসবুকে ও নাই,
তুই আমার এই বুকে ও নাই,
তোকে আজ পার্মানেন্ট ডিলিট করতে চাই…”
সঙ্গে সঙ্গে সৌরভ আর শান্ত গলা মেলাল—
“চাই চাই!”
মাইরার এক্স কয়েক মুহূর্ত ওদের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর গোমড়া মুখে চলে গেল। কেন যেন তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, যেন গরম তেলের উপর ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই দৃশ্য দেখে তাবাসসুম সহ সকলে হো হো করে হাসতে শুরু করল।
ওরা আবার ক্লাস রুমের দিকে কেননা এখনো একটি ক্লাস বাকি। কিন্তু এই ক্লাসের প্রফেসর কামরুল স্যার অনেকদিন ধরেই আসছেন না। আজকেও হয়তো আসবেন না।
তাবাসসুম তখন বলে উঠল—
“হয়তো কাল থেকে নতুন প্রফেসর আসবে।”
তাসফি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল—
“তুই কিভাবে জানলি?”
তাবাসসুম উত্তর দিল—
“শুনেছিলাম”
____
ইজান:-সাদিফ আমি তো শুনেছিলাম তুমি খুবই সাহসী প্রথম দিনই হাওয়া বেরিয়ে গেল?
সাদিফ:-আসলে স্যার এরকম কিছুই না আমি আমি এর আগে এরকম অনেক কেস হ্যান্ডেল করেছি কিন্তু এরকম নৃশংস মৃত্যু আগে দেখিনি। এজন্য একটু ভয় পেয়ে গেছিলাম।
তারপর সাদিফ কয়েকটা ফাইল ইজানের সামনে রাখলো, ইজান ফাইলগুলো খুলে অবাক হয়ে গেল সাদিফ কে বলল–
বাহ ! একটা কাজ তো করতে পেরেছ ইনফরমেশন গুলো ঠিক তো?এতো তারাতাড়ি কালেক্ট করেছ
সাদিফ:- আপনি কি আমাকে সন্দেহ করছেন?
ইজান:- এই কাজে থাকতে হলে সন্দেহ তো করতেই হবে।
সাদিফ:- আমি...
ইজান আর কিছু বলার আগেই সাদিফ এর ফোনে অপরিচিত নাম্বার থেকে মেসেজ আসল
" বৃথা চেষ্টা করে কোন লাভ নেই কেউ আমাকে খুজে পায়নি পাবেও না"
মেসেজ টি আসল প্রাইভেট নম্বর থেকে এবং ৫ সেকেন্ড পর ডিলিট হয়ে গেল। ইজান আর সাদিফ দুই জনই অবাক কারন এই কেসটা বেশ অনেক দিনের যারা বেশী খোজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা মারা গেছে তবে আগে কখনো এমন হুমকিভরা মেসেজ আসে নি হঠাৎ কেন সতর্ক বার্তা তবে কি এই কেস সাদিফ এর সাথে জরিত নাকি কাকতালীয় এমন অনেক প্রশ্ন ঘুরছে ইজান এর মাথায় তবে তার কাছে নেই কোন উত্তর.........
চলবে?