ফন্ট সাইজ:
থিম:
আলগোছে ভালোবাসি সিজন 1

৩য় পর্ব

লেখক: আজরিনা জ্যামি

আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1 

#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
আয়াত ক্যান্টিনের দরজা দিয়ে ঢুকবে তখনি আফিয়া "আউচ" বলে চিৎকার করে নিচে পরে গেল। তা দেখে সকলে একবার আফিয়ার দিকে আবার আয়াতের দিকে তাকাচ্ছে। আফিয়া কিভাবে পরে গেল ও নিজেই বুঝতে পারছে না আর বাকিরা কি বুঝবে। তখন আয়াত আফিয়া কে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
"আয়াত কে নিচে ফালানো এতো সহজ নয় মিস। আসলে আয়াত কে যারা ফেলতে আসে তারা নিজেরাই পরে যায়। আমাকে ফালানোর জন্য আপনাকে আরো ট্রেনিং নিতে হবে।"
বলেই আয়াত রোজাকে নিয়ে একটা টেবিলে বসল। রোজা এক দৃষ্টিতে আয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। এই মেয়েটার সাথে যে এখন কি হবে সেটা ভেবেই ওর টেনশন হচ্ছে। ততক্ষনে আফিয়াকে ওর একটা ফ্রেন্ড উঠালো। 
আসলে আয়াত কে আসতে দেখে আফিয়া ওর বা পা টা এগিয়ে দিয়েছিল। আয়াত এটা দেখতে পেয়ে আফিয়ার পায়ের ওপর পারা মারে আর আফিয়া ব্যালেন্স রাখতে না পেরে নিচে পরে যায়। আয়াত টেবিলে বসে রোজার পছন্দ মতো খাবার অর্ডার করে। আর নিজের জন্য নুডুলস অর্ডার করলো। আফিয়া খোড়াতে খোড়াতে আয়াজদের টেবিলে এসে বসলো তখন সজীব বলল,,,
"অন্যের জন্য গর্ত খুড়লে নিজেকেই সেই গর্তে পরতে হয়। আজ নিজের চোখেই দেখে নিলাম। এবার বুঝতে পেরেছিস তো আফিয়া। তুই গিয়েছিলি আয়াতকে ফেলতে কিন্তু তুই নিজেই পরে গেলি বিষয়টা কি হলো বলতো।"
আফিয়া সজীবের দিকে রেগে কটমট করে তাকালো। তখন ফারহান বলল,,
"সজীব তুই থামবি দেখতেই পারছিস বেচারি টা পরে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে তারওপর আবার তুই বাজে বকছিস।"
আফিয়া বলল,,
"আমি দেখে নেব ওকে। আমি ছাড়বো না ওকে। এই আয়াজ তুই কিছু বলবি।"
আয়াজ বলল,,,
"আহ্ হা এতো অধৈর্য হচ্ছিস কেন। তুই দেখতে থাক এরপর কি হয়। আগে তো ওর খাবার টা আসুক তারপর দেখি ও কিভাবে খায়।"
আয়াত এতোক্ষন রোজার সাথে কথা বলছিল। তখন আয়াজ ওদের টেবিলে গিয়ে বসলো আর রোজাকে বলল,,,
"রোজা কেমন আছো তুমি।"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আয়াজ ভাইয়া আপনি কেমন আছেন।"
"আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি । তা এ কে হয় তোমার।" আয়াতের দিকে উদ্দেশ্য করে।
"ও আমার ফ্রেন্ড। মানে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আয়াত। এতো দিন আমার থেকে আলাদা ছিল আবার আমার সাথে এখানে ভর্তি হলো।"
"ওহ আচ্ছা" তা তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড আলাদা হয়ে গেছিল কেন?
তখন আয়াত কঠোর স্বরে বলল,,,
"আমার পার্সোনাল বিষয়ে কারো ইন্টাফেয়ার আমার পছন্দ নয়।"
আয়াতের কথা শুনে আয়াজ একটু থমকালো। আসলেই কারো পার্সোনাল বিষয়ে কথা বলা যুক্তিসঙ্গত নয়। তখনি আয়াত আর রোজার খাবার চলে এলো। তখন আয়াজ বলল,,
"আচ্ছা ঠিক আছে মিস। আপনার যেহেতু পছন্দ নয় তাহলে আর বলছি না।"
তখন আয়াত বলল,,
"ধন্যবাদ। রোজ তুই বসে আছিস কেন খাওয়া শুরু কর এতোক্ষণ না বলেছিলি খুব খিদে পেয়েছে।"
"হ্যা রোজা তুমি খাবার খাওয়া শুরু করো।"
"তা মিস্টার আপনিও কি আমাদের সাথে খাবেন নাকি।"
"না আমি তো এমনি কথা বলতে এসেছিলাম।"
"ও আচ্ছা" তো আমরা এখন খাওয়া শুরু করতে পারি "
"অবশ্যই "
আয়াত এক চামচ নুডুলস উঠালো মুখে দেবে তখন আয়াজ বলল,,,
"এক মিনিট মিস আয়াত"
আয়াত খাওয়া থামিয়ে আয়াজের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"কি হয়েছে?"
আয়াজ এক বোতল চিলি সস ওর নুডুলসসে ঢেলে বলল,,,
"আপনি তো আসার পর থেকে আমাদের আপনার ঝাল দেখিয়েই যাচ্ছেন!"
"এসবের মানে কি?"
"তেমন কিছুই না এখন এগুলো সব আপনি খাবেন!"
"আসলে কি বলুন তো আমার তো চিলি সস দিয়ে এখন নুডুলস খাওয়ার ইচ্ছে ছিল না। আমার মনে হয় আপনার খুব খাওয়ার ইচ্ছে ছিল তাই মনে হয় আপনি আমার খাবারে সসটা মেশালেন। "
"না মিস এটা আমার জন্যে নয় আপনার জন্যই মিশিয়েছি। সকাল থেকে যা সব দেখছি তাতে আমার মনে হলো আপনার এইটুকু ঝালে কিছুই হতো না। তাই আমি আরেকটু ঝাল দিলাম আরকি। যতোই হোক আপনি আমাদের ভার্সিটি তে নতুন এসেছেন। আপনি আমাদের কাছে অতিথির মতো এইটুকু আপ্যায়ন তো করতেই হয়।"
"বাহ ভালোই তো করছেন অতিথি আপ্যায়ন। ওকে আমি খেতে পারি তবে আপনাকেও খেতে হবে কিন্তু। আসলে কি বলুন অতিথি যদি এভাবে একা একা খায় তাহলে ব্যাপারটা ভালো দেখায় না। বলুন রাজি যদি আপনি খান তবে আমিও খাবো।"
আয়াজ বুঝতে পারল ও ফেঁসে গেছে। ও ভাবলো পুরোটা খেতে বলবে কারন যে ঝাল ও পুরোটা খেতে পারবে না। তাই বুদ্ধি করে বলল,,
"আমি রাজি তবে আপনি যদি পুরো টা না খেতে পারেন তাহলে আমিও খাবো আর যদি না পারেন তবে আমি তো খাবোই না উল্টো সকালে আর এখন যেটা করলেন তার জন্য আপনাকে আমাদের কাছে মাফ চাইতে হবে।"
"ওকে ফাইন আর রোজ তুই খাওয়া বাদ দিয়ে বসে আছিস কেন খাওয়া শুরু কর!"
তখন রোজা বলল,,
"তুই এই ঝাল খাবি"
"হ্যা, তুই চুপচাপ খাঁ।"
আয়াত আর রোজা চুপচাপ খাওয়া শুরু করলো। ক্যান্টিনে সবাই এখন আয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। আফিয়া তো খুব খুশি এই ভেবে যে এই ঝাল দিয়ে আয়াত কে জব্দ করতে পারবে। আয়াজ ও মুচকি হাসি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আয়াত তো খেয়েই যাচ্ছে । মুখটা একটু লাল হয়েছে বটে কিন্তু ও মুখ দিয়ে একটু টু শব্দ ও করছে না। একটু পর আয়াত সবটুকু নুডুলস শেষ করে ফেলল। তারপর ও এক প্লেট নুডুলস এনে আর এক বোতল চিলি সস ঢেলে সুন্দর করে মাখিয়ে আয়াজের সামনে ধরে বলল,,
"নিন এখন এগুলো খেয়ে নিন।"
তখনি আয়াতের একটা কল এলো ও ফোন ধরে কিছু একটা শুনে বলল ও এখনি যাচ্ছে। তারপর আয়াজের কাছে গিয়ে বলল,,,
"সরি আপনার খাওয়াটা এখন দেখতে পারবো না। আমাকে এখন যেতে হবে। আপনি কিন্তু নুডুলসটা খেয়ে নেবেন আসি। আর রোজ আমাকে এখন যেতে হবে। আল্লাহ হাফেজ!
বলেই কারো দিকে না তাকিয়ে বিল পে করে ওখান থেকে চলে গেল। ততক্ষনে রোজার ও খাওয়া হয়ে গেছে তাই ও ও ওখান থেকে চলে গেল। আয়াজ রেগে গিয়ে হাত দিয়েই অনেক খানি নুডুলস মুখে পুরে নিয়ে চিবোতে লাগলো ও চোখ দিয়ে মনে হচ্ছে আগুন ঝড়ছে। ফারহান আর সজীব তাড়াতাড়ি ওকে বসিয়ে পানি খাওয়ালো। ও রেগে গিয়ে বলল,,,
"আমি ভেবেছিলাম ওকে আজকেই ছেড়ে দেব। কিন্তু ও যেটা করলো তারপর ওকে আমি ছাড়বো না। আমাকে ঝাল খাওয়ানো আমি ওকে ছাড়বো না।" 
_________________
আয়াত কাজ সেরে বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের সালাত আদায় করে নিল। তারপর খেয়ে দেয়ে ওর পরিবারের সাথে কথা বলতে লাগলো। তখন রোজা ফোন করলো। ও পরিবারের সাথে কথা বলে রোজা কে ফোন দিল। রোজা বলল,,,
"তোর একা থাকার কি দরকার আমাদের সাথেই তো থাকতে পারিস।"
"আমার অনেক কাজ আছে। আর তাছাড়া তোদের বাড়িতে থাকলে এসব কিছুই করা যাবে না। তাছাড়া আমি চাইনা কেউ কিছু জানুক।"
"ওকে বাবা বুঝতে পেরেছি। আজ কোথাও বেরোবি নাকি!"
"বেরোতেও পারি আবার না ও পারি। আর বেরুলেই কি আমাকে তো কেউ চিনতে পারবে না।"
"তা অবশ্য ঠিক তোর তো একটা রুপ না! তবে আজকে ক্যান্টিনে যা করলি আমার তো হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তুই তো এতো ঝাল খেতে পারছিস না। ঝাল তো তোর কাছে বিরক্তিকর আর অসহ্যকর একটা জিনিস ছিল।
"সময়ের সাথে সাথে অনেক রিরক্তিকর জিনিস ও সহ্য হয়ে যায় আমাদের।"
"তুই অনেক টা বদলে গেছিস!"
"না বদলালেও যে বাঁচতে পারতাম না।" আচ্ছা বাদ দে এখন রাখছি!"
"কথা ঘুরাচ্ছিস!"
"হয়তো বা, রাখছি !আল্লাহ হাফেজ"
"আল্লাহ হাফেজ"
আয়াত ফোনটা রাখলো । ওর চোখ ভিজে ওঠেছে। ওর অনেক পূরোনো স্মৃতি মনে পরছে। কিন্তু ও কাঁদবে না। ও রেডি হয়ে বের হলো কারন ওর মনটাকে এখন শান্ত করতে হবে। সেটা শুধু এখন প্রকৃতির মাঝেই সম্ভব। 
_______________________
আয়াজ, আফিয়া, ইশরাত, সজীব, ফারহান বিকেল বেলা বাইক নিয়ে বেড়িয়েছে। আয়াজের মুডটা অফ ছিল তাই ওরা আয়াজ নিয়ে বের হয়েছে। আয়াজের পেছনে ইশরাত, সজীবের পেছনে আফিয়া আর সজীব একা। অবশ্য ইশরাত অহনাকে বলেছিল আসতে কিন্তু ও মানা করে দিয়েছে। আয়াজের এখন বাইক রাইড করে ভালো লাগছে। আফিয়া একটা বাইকার কে দেখলো সেটা ছেলে না মেয়ে বোঝা যাচ্ছে না। সে একদম প্রফেশনাল বাইক রাইডারদের মতো ড্রেস আপ করেছে। কিন্তু সে খুব আস্তে আস্তে বাইক চালাচ্ছে আর বাইকটাও একদম লেটেস্ট মডেলের। তা দেখে আফিয়া আয়াজদের বলল,,,
"দেখছিস ঐ বাইকার টা কতো আস্তে আস্তে বাইক চালাচ্ছে। চল ওর সাথে মজা নেই ।"
তখন আয়াজ বলল,,
"কি দরকার ও ওর মতো বাইক চালাক না। আমরা আমাদের মতো যাই।"
তখন শুনে ফারহান বলল,,
"তুই চুপ থাক তো এমনিতেও তো আমরা নিরামিষ ভাবে কোন কথা না বলে বাইক চালাচ্ছি। ওর সাথে একটা বাইক রেস ধরি। দেখতেও তো প্রফেশনাল বাইক রাইডার মনে হচ্ছে কিন্তু যেভাবে চালাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে নতুন বাইক চালাচ্ছে।"
আফিয়া বলল,,
"একদম ঠিক বলেছিস চল"
ওরা বাইক টার কাছে গেল আর আফিয়া জোরে বলতে লাগল,,,
"দামি বাইক আর রাইডারদের মতো ড্রেস আপ করলেই বাইক রাইডার হওয়া যায়না। তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি নতুন বাইক চালাচ্ছো কিন্তু ভাব ধরছো তুমি সব পারো। তা হবে নাকি একটা রেস।"
বলেই আফিয়া হাসতে লাগলো ওর সাথে আয়াজ বাদে সকলে তার মেলালো। বাইকার টা ওদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। কিন্তু কিছু বলল না। ওরা খুব স্পিডে ওকে পাছ করে চলে গেল। আফিয়া পেছনে তাকিয়ে দেখলো বাইক টাকে দেখা যাচ্ছে না।তাই হেসে বলল,,
"আমার কথা শুনে মনে হয় বেচারা টা ভয় পেয়েছে।এখন তো দেখায় যাচ্ছে না।"
কথা শেষ করতে না করতে সেই বাইকটা কে দেখা গেল খুব স্পিডে চালাচ্ছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে। বাইকটা কে দেখে আফিয়া ওদের সবাইকে জোরে চালাতে বলল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাইকটা ওদের বাইকের কাছে এসে পরলো বাইকটা ওদের পাঁছ করে চলে গেল সাথে হাত দিয়ে টাটা ও জানিয়ে গেল। সেকেন্ডের মধ্যে ওদের চোখের আড়ালে চলে গেল। ওরা সবাই বাইক থামালো তখন ইশরাত বলল,,,
"আরিব্বাস কি জোরে বাইক চালায়। আর আমরা কিনা তাকেই আন্ডারেস্টিমেট করেছিলাম।"
"সে জন্যই তো বলে কারো সম্পর্কে না জেনে কমেন্ট করতে নেই। সে হয়তো প্রকৃতি অনুভব করার জন্য বাইক টা আস্তে আস্তে চালাচ্ছিল। বুঝতে পেরেছিস।"
"হ্যা ভাইয়া বুঝেছি "
তখন ফারহান আফিয়া কে বলল,,,
"আজকে দিনটাই খারাপ তাই না আফিয়া।আমরা যাকে যা ভাবি সে তা হয় না সবসময় ভুল ই হয়।"
এটা শুনে আফিয়া ফারহানের পিঠে একটা কিল বসালো। তখন সজীব বলল,,,
"আমাদের আগেই বোঝা উচিত ছিল যে প্রফেশনাল বাইক রাইডারদের ড্রেস পরেছে সে অন্তত পাতি বাইক রাইডার হবে না।"
তখন আয়াজ বলল,,
"এই তোরা একটা বাইরের বাইকার কে নিয়ে এতো কথা বলছিস কেন যা হয়েছে হয়েছে সন্ধ্যা হয়ে আসছে এবার বাড়ি চল।"
সবাই ওর কথা শুনে বাড়ির দিকে রওনা দিল।
_____________________
পরের দিন,,
আজানের ধ্বনি কানে আসতেই চোখ খুললো আয়াত। তারপর নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ বসে তজবি পরতে লাগলো। ভোরের আলো ফুটতেই দৌড়ে বাগানে চলে গেল। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে রান্না বসালো। সাথে কারো সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে লাগল। রান্না হয়ে গেলে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেয়ে স্কুটি নিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বের হলো। ভার্সিটি যেতেই দেখতে পেল রোজা ওর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ও রোজাকে সাথে নিয়ে ভার্সিটি ঢুকে পরলো। মাঠের মাঝখানে আসতেই তখন একটা লেটেস্ট মডেলের গাড়ি ঢুকলো গেট দিয়ে সবাই উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে গাড়িটার দিকে। সেই গাড়ি থেকে বিজনেস ম্যান আরাভ চৌধুরী বের হলো। নামকরা বিজনেস ম্যান হওয়ায় সকলেই ওকে চেনে মেয়েদের সকলের ক্রাস বয়। ফর্সা লম্বা গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। সব মিলিয়ে দেখতে মাশাআল্লাহ তার সাথে ফর্মাল লুক চোখে সানগ্লাস দেখে সবাই ফিদা। সবাই ভাবলো ইনি কেন এখানে এসেছে। তারপর সব ভাবনাকে সাইডে রেখে সব মেয়েরা ছুটলো আরাভ চৌধুরীর কাছে সেলফি নিতে। সবাই যেতেই আরাভের সিকিউরিটি গার্ড দুটো সবাইকে আটকে দিল। সব কিছু ভালোভাবেই পর্যবেক্ষন করছিল আয়াত। পাশে তাকাতেই দেখতে পেল রোজা ওর পাশে নেই। ও আরাভ চৌধুরীর কাছে গেছে। রোজা আরামের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল,,,
"মিস্টার আরাভ চৌধুরী আই এম ইওর বিগ ফ্যান"
চিৎকার টা এতোই জোরে ছিল যে আশেপাশের সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সবাই অবাক চোখে ওর দিকে তাকালো। আয়াজরাও ওখানে ছিল। আফিয়া আর ইশরাত ও আরাভের কাছে এসেছে ওদের ও ক্রাশবয় আরাভ। আরাভ মুচকি হেসে রোজের দিকে একবার তাকিয়ে সবাইকে উপেক্ষা করে আয়াতের দিকে এগিয়ে গেল। তা দেখে সবাই অবাক হলো। আরাভ আয়াতের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"আসসালামু আলাইকুম মিস!"
"ওয়ালাইকুমুস সালাম "
"মিস প্রিন্সিপালের রুমটা কোন দিকে।"
আয়াতের চোখে রাগ আর বিরক্তি দুটোই ফুটে উঠল ও দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"আপনার কাছে কতো মেয়ে গিয়েছিল তাদের ছেড়ে আপনি আমাকে কেন জিজ্ঞেস করতে এলেন যে প্রিন্সিপালের রুম কোন দিকে।"
"সব মেয়েরা আমার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল দেখেই তো আপনার কাছে এলাম মিস। সবাই আর আপনাকে দেখে এক মনে হচ্ছে না। আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি সবার থেকে একটু ডিফারেন্ট । আর সবাই তো শুধু তাদের কথাই বলতো আমার কথা শুনতে চাই তো না। আর আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি আমাকে দেখে খুবই বিরক্ত।"
"আপনার কথা শেষ"
আরাভ মুচকি হাসলো।আর বলল ,,
"প্রিন্সিপালের রুমটা কোন দিকে যদি বলতেন তাহলে একটু উপকার হতো।"
"দু তলায় গিয়ে লেফ্ট এর রুমটাই প্রিন্সিপাল স্যারের রুম!"
"ধন্যবাদ মিস"
বলেই আরাভ মুচকি হেসে ওখান থেকে চলে গেল। বাকি সবাই অবাক চোখে ওদের দুজনকে দেখছিল। আর সব মেয়েরা ভাবছিল সবাই আরাভের সাথে কথা বলার জন্য কতো কিছু করে কিন্তু এই মেয়েটা কিভাবে ওর সাথে কথা বলছিল। ইচ্ছে করছিল মাথা ফাটিয়ে দিতে।
-চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন