আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1
#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
আয়াত আজ সকাল সকাল ওর ভালোবাবার ফোন পেয়ে তাড়াতাড়ি ভার্সিটি চলে এসেছে। ও এসেই আগে প্রিন্সিপালের রুমে ঢুকলো। আর বলল,,,
"আসসালামু আলাইকুম ভালোবাবা!"
"ওয়ালাইকুমুস সালাম মামনি "
"এতো সকাল সকাল ফোন দিলে যে, কোন কিছুর খবর পেয়েছো কি।"
"হ্যা তাতো পেয়েছি ই কালকেও ভার্সিটি থেকে আরো একটা মেয়ে গায়েব হয়ে গেছে।"
"সেটা তো আমি জানি অন্য খবর থাকলে বলো।"
"তার মানে তুই আগে থেকেই সব জানিস!"
"হ্যা জানি তো আমি এখানে এসেছি কিসের জন্য বলো তো এই যে তোমার ভার্সিটি থেকে মেয়ে গায়েব হচ্ছে কে বা কারা করছে এটাই বের করতে তাই তো। এখানে আমার কতো লোক আছে তুমি জানো না।"
"যদি তুই জানতি গায়েব হয়েছে তাহলে তাকে খুজিস নি কেন। কাল ই ছাত্রীর বাবা মা আমাকে কল করে বলল।"
"মেয়েটা সেফ আছে"
"মানে মেয়েটা সেফ আছে তাহলে বাড়ি কেন পাঠাস নি।"
"আরে কালই বাড়িতে পাঠালে তো বুঝে যেত আমি ঐ মেয়েটার পরিবর্তে অন্য কাউকে ওদের কাছে পাঠিয়েছি।"
"কি বলছিস কি এতো সব কিছু করলি আর আমি জানিনা।"
"তোমাকে টেনশনে ফেলতে চাই নি।" আমি প্রথম দিন এসেই বুঝতে পেরেছিলাম এই ভার্সিটি থেকেই কয়েকজন মেয়েদের উঠিয়ে নিতে সাহায্য করছে। আমি এসেই সব জায়গায় আমার লোক লাগিয়ে দেই। কয়েক জন কে সন্দেহ হয়। তাই তাদের কল রেকর্ড অনলাইন এক্টিভিটি সবকিছু নিজের আন্ডারে নিয়ে আসি। মানে তারা যদি কারো সাথে ফোনে বা অনলাইনের মাধ্যমে কারো সাথে যোগাযোগ করে তাহলে সবকিছু আমি জানতে পারবো।
"তার মানে সেদিন রাতে ফোন দিয়ে সকলের ইনফরমেশন চাইলি সে জন্যই।"
হ্যা সে জন্যই। তারপর বুঝতে পারি আমার নিশানা লেগে গেছে। আমি যে কয়েকজন কে সন্দেহ করি সেইখান থেকে দুজন এই মেয়ে পাচার কারির সাথে সংযুক্ত। ওদের মাধ্যমেই জানতে পারি ওরা এর পরে কাকে টার্গেট করেছে। তাই ও মেয়েটাকে আমি আগেই উঠিয়ে নেই। আর ঐ মেয়ের মতোন ড্রেসাপ করিয়ে আমার একটা মেয়েকে পাঠাই। আমার মেয়েটার মাধ্যমে জানতে পারি ওদের লোকেশন আর ওদের সাথে আরো কয়েকজন যুক্ত থাকা ব্যক্তিকে। কাল রাতেই আমরা অপারেশন টা করেছি। কিন্তু মেন কালপ্রিট কে ধরতে পারিনি। আর সবগুলো কে ধরেছি। ওর সাথে আরো দশজন মেয়ে ছিল। ওদের কেউ রেসকিউ করেছি। তবে মেন কালপ্রিট কে ধরতে না পারলেও তার নাম জানতে পেরেছি। আর এরপর সে কি করতে চায় সেটাও কিছুটা জানতে পেরেছি।
"কি নাম?"
"মিস্টার জে.কে!"
"জে. কে নামটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। "
"ড্রাগ পাচারকারী!"
"হ্যা কয়েকদিন আগে পেপারে পরেছিলাম কিন্তু পুলিশ ওদের খুঁজছে হাতের নাগালে পাচ্ছে না।"
"আমরাও ট্রেস করতে পারছি না। জে.কে হচ্ছে গভীর জলের মাছ।ওকে এতো সহজে ধরা যাবে না।"
"তার মানে ঐ জে কেই সব করেছে। আর আজকে খবরের কাগজে দেখলাম দশজন মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। সেগুলো কি তুই আর তোর গ্যাং করেছে।"
"হ্যা আমরাই করেছি।"
"তুই এমন কেমন কেন বলতো!'
"কেমন ?"
"এই যে এতো কিছু করিস। কিন্তু কোনদিন কারো সামনে আছিস না এমন কি নামটাও সামনে আসতে দিস না।"
"দাদুভাই কি বলতো ভুলে গেলে নাকি তুমি।"
"কাকুর সব কথাই আমার মনে আছে।"
"তাহলে!"
"তুই কি বাড়ি ফিরবি না।"
"ফিরতেও পারি আবার নাও পারি তবে তাদের জন্যই তো এখানে আসা এখন শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা। "
"সঠিক সময় টা কখন আসবে আ**। তোর পরিবারও তো কষ্ট পাচ্ছে।"
"এই কষ্ট টা তাদের প্রাপ্য তাই পাচ্ছে। আচ্ছা ভালোবাবা আমি হাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে কি তাদের কোনো হাত ছিলো না। পুরোটা না হলেও একটু তো ছিলই।"
রেজওয়ান আহমেদ (প্রিন্সিপাল) এখন আর কিছু বললো না।চুপ করে আয়াতের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ওর চোখে স্পষ্ট পানি সেটা বোঝা যাচ্ছে। রেজওয়ান আহমেদ আয়াতের মাথায়, হাত রেখে বললেন,,,
"তাদের বাঁচানোর জন্যই তো তুই হাড়িয়ে গেছিস সবার থেকে। তাদের কে প্রটেক্ট করার জন্যই তো তোর এতো ত্যাগ। কিন্তু তুই মানতে নারাজ।"
আয়াত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল,,,
"ভালোবাবা প্লিজ আমরা এখানেই এই টপিক রাখি।"
রেজওয়ান আহমেদ কথা পাল্টানোর জন্য বলল,,
"আচ্ছা তুই নাকি আরাভ কে বাড়িতে ঢুকতে দিস নি। তার ওপর কাল নাকি ঝাল খায়িয়ে নাকের পানি চোখের পানি এক করে ছেড়েছিস।"
"বাহ মশাই তোমাকেও বলেছে। বেশ করেছি ঢুকতে দেয় নি। সে আমাকে না বলে এখানে কেন এলো। ওর ভাগ্য ভালো তাই শুধু ঝাল খায়িয়েছি।"
"তাই বলে ছেলেটার সাথে এমন করবি।"
"বেশ করেছি তোমার এতো দরদ উথলে পরছে কেন শুনি।"
রেজুয়ান আহমেদ আরো কিছু বলবে তার আগেই একজন রুমে ঢুকে পরলো সে আর কেউ না সেটা হলো রোজা। রোজাকে আসতে দেখে ওরা দুজনে চুপ হয়ে গেল। কারন রোজা অনেক কিছুই জানে না। আর ওরা তাকে জানাতেও চায় না এখন। রোজা ওর বাবার টিফিন দিতে এসেছিল। আয়াত যে এখানে আছে ও সেটা জানতো না। রোজা ভাবলো এমনি হয়তো আয়াত ওর বাবার সাথে কথা বলতে এসেছে। তাই আর কিছু বললো না। আয়াত কে নিয়ে ক্লাসে চলে গেল। সেদিনটাও ভালোভাবে কেটে গেল।
__________________
এদিকে জে.কে সকালের পেপার দেখে রেগে গিয়ে ঘরের সকল জিনিস ভেঙে ফেলছে। ও চিৎকার করে বলল,,,
"কে আমার শিকার আমার থেকে কেরে নিল। কার এতো সাহস আমার শিকারে হাত মারে। কে ,কে, আমার পেছনে আঠার মতো এক এক করে আমার সব কিছু শেষ করে ফেলছে। প্রথমে আমার ড্রাগ এখন আবার এটা আমি কিছু বুঝতে পারছি না। খুব তাড়াতাড়ি বের করতে হবে।কে বা কারা এটা করেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমি খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবো। আমাকে কিছু একটা করতেই হবে।
________________
আজানের ধ্বনি কানে আসতেই চোখ খুললো আয়াত। উঠে উত্তম ভাবে ওযু করে নামাজ আদায় করে নিল। কিছুক্ষণ তজবি পরলো। ভোরের আলো ফুটতেই ও বাগানে চলে গেল সেখানে হাঁটাহাঁটি করে হালকা ব্রেকফাস্ট সেরে বোরকা পরে ভালোভাবে হিজাব পরলো চোখে চশমা লাগিয়ে স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পরলো।
______________
চৌধুরী বাড়িতে,,,
চৌধুরী বাড়ির সকলে মিলে ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে নাস্তা করছিল। তখন আদিয়ান চৌধুরীর ছেলে আশিয়ান চৌধুরী বলল,,,
"বাবা আমাদের কি আর কিছুই করার নেই আমরা কি আহিকে কোনদিন খুঁজে পাবোনা। তোমরা কি সবাই হাল ছেড়ে দিলে।"
আশিয়ানের কথা শুনে সকলের খাওয়া থেমে গেল। সকলে একটা চেয়ারের দিকে তাকালো ও চেয়ার টা এ বাড়ির আদরের মেয়ে আহিয়ানা চৌধুরীর আর আহিয়ানার দাদু আহনাফ চৌধুরীর। আগে ঐ চেয়ারটাতে আহিয়ানার দাদু আহনাফ চৌধুরী বসতেন। আর আহিয়ানাকে সেখানে বসেই খাবার খাওয়াতেন। আহনাফ চৌধুরী বলতেন উনি মারা গেলে এই চেয়ারটাতে শুধু আহিয়ানায় বসবে। আহনাফ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর আহিয়ানা আর কোনদিন ঐ চেয়ারটাতে বসে খায়নি এমন কি এই ড্রাইনিং টেবিলে বসেই খায় নি। হঠাৎ আশিয়ানের এই কথার মানে কেউ বুঝতে পারলো না। আসলে আশিয়ানের একমাত্র আদরের বোনের কথা আজ খুব মনে পড়ছিলো। তখন আয়েশা চৌধুরী বললেন,,
"হঠাৎ আহিকে নিয়ে কথা বললি। "
"আজকে বোনুর কথা খুব মনে পড়ছিল তাই, অবশ্য তোমাদের তো দেখে মনে হয়না আহিকে তোমাদের কারো মনে পরে তোমরা তো বিন্দাস আছো।"
তখন আদিয়ান চৌধুরী আশিয়ান কে ধমকে বলল,,,
"এটা কি রকম কথা আশিয়ান। তোমার কি মনে হয় আমরা আহিকে ভুলে গেছি। আহিকে আমরা আগেও খুঁজেছি আর এখন ও খুঁজছি। নয়টা বছর কি তোমার কাছে কম মনে হয়। তুমি ই বলো আমরা কি আহি কে খুঁজি নি। তোমার মাকে দেখেছো এখনো তোমার মা আহিকে ভেবে কাঁদে। তারপরও তুমি এগুলো কিভাবে বলতে পারো।"
আশিয়ান এ কথা শুনে আর কিছু বলতে পারলো না।কারন এ বাড়িটা আগের মতো নেই সবাই যেনো ইসিকে হাড়িয়ে পাথর হয়ে গেছে। এ বাড়ির কেউ এখন মন খুলে হাসে না। তখন অহনা বলল,,
"বড়বাবা আহি আপু কেন চলে গেল আমাদের ছেড়ে। আচ্ছা সেদিন যে আহি আপু আমাকে বাচালো। আমি হসপিটালে ছিলাম বাড়িতে এসে আহি আপুকে আর পাই নি। আচ্ছা বড় মা সেদিন কি তোমরা আহি আপুকে কিছু বলেছিলে। আহি আপু কেন চলে গেল আমাদের ছেড়ে।"
বলেই অহনা কেঁদে উঠলো। আয়েশা চৌধুরী ও মুখ চেপে কাঁদতে লাগলো। কারন তিনি মনে করেন তার জন্যই মেয়েটা এ বাড়ি থেকে চলে গেছে। সত্যিই কি তাই। নাকি অন্য কোন কারন আছে যেটা একমাত্র সেই আহি ছাড়া আর কেউ জানে না। কি এমন হয়েছিল সেদিন তার জন্য সবার আদরের আহিয়ানা এ বাড়ি থেকে চলে গেছে। মুহুর্তের মধ্যে চৌধুরী বাড়ি নিস্তব্ধতায় চেয়ে গেল। বাড়ির বড়রা সকলে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
(আদিয়ান চৌধুরীরা পাঁচ ভাই-বোন ছিলেন। সকলের জানা মতে আদিয়ান চৌধুরীর বাবা আর বড় বোন একটা এক্সিডেন্ট আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে আগুন লেগে মারা যায়। আদিয়ান চৌধুরীর মা অনেক আগেই মারা। এখন আদিয়ান চৌধুরী রা চারজন আছে। বড় ছেলে আদিয়ান চৌধুরী তার স্ত্রী আয়েশা চৌধুরী তাদের দুজন ছেলে মেয়ে আশিয়ান চৌধুরী আর আহিয়ানা চৌধুরী। আশিয়ান চৌধুরী বাইরে থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন বাবার সাথে বিজনেস সামলায়। আশিয়ান চৌধুরী বিয়ে করেছে আর স্ত্রী নাফিজা চৌধুরী তাদের ছোট নয় মাসের বাচ্চা আছে।তারপর মেজো ভাই জুনায়েদ চৌধুরী তার স্ত্রী মোনা চৌধুরী তাদের এক মেয়ে অহনা চৌধুরী। তারপর একবোন আলেয়া চৌধুরী মানে আয়াজ খানের মা। তারপর ভাই রেদওয়ান চৌধুরী তার স্ত্রী রাখি চৌধুরী। তার কোন ছেলে মেয়ে নেই।)
____________________
আয়াত ভার্সিটি ঢুকলো স্কুটি পার্ক করে আসতেই দেখলো রোজা ওর জন্য দাঁড়িয়ে আছে । ও রোজার সাথে হাঁটা ধরলো তখনি নিজের একটা পরিচিত ডাক শুনে আয়াত থেমে গেল। একটা দশ বছরের বাচ্চা ছেলে ওকে" কুইন" বলে ডাকছে আর দৌড়াচ্ছে। পরনে হাফ হাতা শার্ট আর একটা নরমাল প্যান্ট দেখে পথশিশু মনে হচ্ছে আবার মনে হচ্ছে মধ্যে বিত্ত ঘরের ছেলে। আয়াত ছেলেটাকে দেখে থেমে গেল। বাকি সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা ওর কাছে এসেই বলল,,,
"কুইন তোমার ব্যাগ! এটা তুমি ফেলে এসেছিলে। এখানে তোমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নাকি আছে। আর ভাইয়া বলেছে ইম্পোর্টেন্ট জিনিস আছে এটা।"
"আচ্ছা ঠিক আছে"
বলেই আয়াত ব্যাগটা নিল। বুঝতে পারল এখানে ল্যাপটপ আছে। আর একটা ফোন তা দেখে ও ছেলেটাকে বলল,,
"আর কিছু বলেনি তোকে"
"না কুইন আর কিছু বলে নি। আর দেখো তো আজকে আমার একটা কথাও ভুল হয়নি ।"
"তাই তো দেখছি."
"আচ্ছা আমি আসি তাহলে!"
"আরে দাঁড়া"। বলে আয়াত একশো টাকা বের করে ছেলেটার হাতে দিল।আর বলল,,
"সবাইকে নিয়ে চকলেট কিনে খাস।"
"আচ্ছা বলেই ছেলে টা টাকা নিয়ে চলে গেল।"
আয়াজ রা এতোক্ষণ আয়াতের দিকে তাকিয়ে ছিল। আজকে আয়াতের জব্দ করার জন্য ওরা কিছু ভেবেছে। কিন্তু সেই পিচ্ছিটা আয়াত কে কি দিয়ে গেল সেটা কেউ বুঝতে পারলো না। আয়াত ব্যাগ নিয়ে ক্লাসের দিকে গেল।রোজা অবশ্য জিজ্ঞেস করেছিল এখানে কি আছে কিন্তু আয়াত কোন উত্তর দেয় নি।
রোজা একটা ক্লাস করেই বাড়ি চলে গেল ওর শরীর টা খুব একটা ভালো লাগছিল না। তাই আয়াত ই জোর করে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। আয়াত আর একটা ক্লাস শেষ করে বের হলো। কারন ওর একা একা ক্লাস করতে ভালো লাগছিল না। ও বের হতেই ও দেখলো আয়াজরা চারজন দাঁড়িয়ে আছে। ও আসতে নিল তখন আফিয়া বলল,,
"আয়াত শুনো তোমার সাথে একটু কথা ছিল।"
"কি বলবেন বলেন"
"চলো হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি।"
"কেন দাঁড়িয়ে কথা বললে কি সমস্যা।"
"সমস্যা নেই কিন্তু আমার ভিশন হাঁটতে ইচ্ছে করছে।"
"তো দাঁড়িয়ে আছেন কেন হাঁটুন না। আমি আপনার সাথে কাল দেখা করে নেব।"
"এই না"
ও একটু উত্তেজিত হয়েই বললো।তা দেখে আয়াতের মনে একটু সন্দেহ হলো। তখন আয়াজ বলল,,,
"আয়াত আমি তোমার সাথে যা করেছি তার জন্য আই এম এক্সটেমলি সরি। আসলে মাথা গরম ছিল তাই তোমার ওপর রেগে ছিলাম তাই উল্টাপাল্টা বলে ফেলেছি।"
"তা হুট করে এমন ভালো হলেন কি করে।"
"আহ্ হা আজ বুঝতে পারলাম তোমার সাথে যা করেছি ভুল করেছি তাই সরি চাইতে এসেছি।"
"নিজের ভুল যখন বুঝতে পেরেছেন আমিও ক্ষমা করে দিলাম। এখন আপনারা আসতে পারেন ।"
তখন আফিয়া বলল,,
"আমিও সরি আয়াত।"
"ইটস্ ওকে আমি তাহলে আসি।"
তখন আয়াজ বলল,,,
"তুমি বোধহয় আমাদের এখনো ক্ষমা করো নি।"
"আপনার এমন মনে হওয়ায় কারন। আমি সত্যিই আপনাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।"
"উঁহু তুমি করো নি"
"বিশ্বাস করলে করেন না করলে নাই"
"তুমি যদি এখন আমাদের সাথে একটা জায়গায় যাও তাহলে বুঝবো তুমি আমাদের ক্ষমা করে দিয়েছো।"
"কোথায় যেতে হবে শুনি।"
"বেশি দূর না। চলোই না গেলেই দেখতে পাবে"
"ওকে"
"তাহলে চলো" বলেই আয়াজরা হাঁটা ধরে আয়াত ও পেছনে মেতে থাকে। নিচতলায় স্টোর রুম পার হয়ে বাগানে যেতে হয়। স্টোর রুমের কাছে আসতেই আয়াজ রা থেমে যায়। আয়াত ও ওদের সাথে থামে। আয়াত দেখতে পায় এদিকে ওরা ছাড়া আর কেউ নেই। আয়াজ হুট করেই বলে,,
"আই এম সরি মিস আয়াত "
এই কথা বলেই আয়াতের হাত ধরে স্টোর রুমে ধাক্কা মেরে।দরজা বাইরে থেকে আটকে দিল। সাথে তালাও মেরে দিল। বেশি না তিন ঘণ্টা রেখেই ওকে ছেড়ে দেবে। ভেতরে খুব অন্ধকার এই তিন ঘন্টায় ই অন্ধকারে আয়াতের তেজ একদম শেষ হবে। ওদের সাথে লাগা এবার আয়াত বুজবে। আয়াত নিচে পরে গেল। ও উঠেই দরজা ধাক্কাতে লাগল আর বলতে লাগলো,,,
"কি করছেন আপনারা দরজা খুলুন প্লিজ এখানে অনেক অন্ধকার "
তখন আয়াজ বলল,,,
"তিন ঘণ্টা এই অন্ধকারেই তোমাকে থাকতে হবে। আমাদের সাথে লাগা তাই না। এবার তুমি এই অন্ধকারে থেকে বুঝতে পারবে তুমি কাদের সাথে লাগতে এসেছো।"
"তারমানে একটু আগে"
"একটু আগে যা হয়েছে সব আমাদের নাটক ছিল।"
"আমি বলছি দরজা খুলুন।"
"সরি তোমার কথা রাখতে পারলাম না।এই চল তোরা এখন।"
বলেই আয়াজরা ওখানে থেকে চলে গেল।আয়াত দরজা ধাক্কা তে লাগল আর ওদের কে দরজা খুলতে বলল।আয়াজ দের কোন সারা শব্দ না পেয়ে ও বুঝতে পারল ওরা চলে গেছে। তাই ও থেমে গেল। ও ওখানে বসে পরলো। তখনি একটা লাইট ওর মুখে পরলো তা দেখে ও হকচকিয়ে গেল আর বলল,,,
"কে এখানে?"
"আমি "
বলেই লোকটা আয়াতের দিকে এগিয়ে এলো। আয়াত মুখটা দেখে চমকে উঠে বললো,,,
"তুমি এখানে কিভাবে!",,,,,
~চলবে,,