ফন্ট সাইজ:
থিম:
আলগোছে ভালোবাসি সিজন 1

১৬তম পর্ব

লেখক: আজরিনা জ্যামি

আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1 

#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
"আমি আমার ছোট্ট জীবনে আমি অনেক হেড়েছি, জিতেছি ব্যর্থ হয়েছি কেঁদেছি কিন্তু অনেক কিছু শিখেছি। 
হ্যা আমি মানুষ চিনতে শিখেছি!!সেটা আমার পরিবার থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব এমনকি দূরের হয়েও জীবনের অনেক কাছের মনে করা মানুষ পর্যন্ত। "বুঝলে আমি মিথ্যেটাকে সবসময় ই অপছন্দ করি। কিন্তু পরিবারের সকলের ভালোর জন্যই মিথ্যা কথা বলতে হচ্ছে। মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে কবিরা গুনাহ। তবে কারো ভালোর জন্য যদি মিথ্যা কথা বলতে হয়। তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক আমাকে ক্ষমা করবে ইনশাআল্লাহ।"
ওপাশ থেকে বলল,,
"তুমি কেমন সেটা আমি ভালো করেই জানি । আমাকে এর ব্যাখা দিতে হবে না। "
"তুমি ঠিক মতো পৌছেছো?"
"হুম আল্লাহর রহমতে ঠিক ভাবেই পৌঁছেছি। তোমার দেওয়া সবগুলো গিফ্টস তোমার জানকে দিয়েছি সে খুব খুশি কিন্তু কোথাও একটা সে তোমাকে ছাড়া ভালো নেই। তাকে দেখলেই বোঝা যায় সে তোমাকে ছাড়া একদম ভালো নেই। সে তোমার কথা রাখতে সব করে কিন্তু তোমার জানের মুখে আগের সেই হাসিটা দেখতে পাই না আমি। "
"আমি কি করবো বলো তো আমিও তো নিরুপায়। তবে এমন কোনও ব্যবস্থা করবো যাতে খুব তাড়াতাড়ি জানকে নিজের কাছে এনে রাখতে পারি। আমিও ভিশন মিস করছি তাকে। কবে সব শেষ হবে আর কবে আমরা ভালো মতো সবাই একসাথে আনন্দ করবো। আই রেইলি মিস ইউ গাইস।'
"উই আর মিস ইউ টু।"
"ওকে আল্লাহ হাফেজ। পরে কথা হবে।"
"ওকে আল্লাহ হাফেজ।"
বলেই লোকটি ফোন কেটে দিল। ও এখন নিজের ফোন বের করে গ্যালারি ঢুকলো আর কিছু ছবি দেখতে লাগলো। আয়াত কখনো কাউকে দেখানোর জন্য বা সোস্যাল মিডিয়ার জন্য ছবি তোলেনা। ও যাস্ট স্মৃতি রাখার জন্য ছবি তোলে। এখন শুয়ে শুয়ে সেগুলোই দেখতে লাগলো। আর মুচকি হাসতে লাগল। ছবি দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে টের ই পায় নি আয়াত। 
________________
আয়াজরা দুপুরের খাবার খেয়ে চলে গেছে।সবাই থাকতে বলেছিল। কিন্তু তারা থাকবে না বলে চলে গিয়েছে। আয়াতের জন্য সবাই ওয়েট করছিল। কিন্তু ও ঘুমিয়ে গেছে দেখে কেউ আর ওকে ডিস্টার্ব করে নি। আদিয়ান চৌধুরী ই মূলত ডিস্টার্ব করতে বারন করেছে। কারন আয়াতের কাঁচা ঘুম ভেঙে গেলে মাথা ব্যথা করে। আর তিনিই সকলকে খাবার খেতে বলেছে আয়াত কে ছাড়া। 
আয়েশা চৌধুরী আয়াতের ছোটবেলার একটা ছবি হাতে নিয়ে নিরবে কেদে যাচ্ছেন। তখন পেছন থেকে আদিয়ান চৌধুরী উনার কাঁধে হাত রাখলেন। উনি হঠাৎ হাত রাখায় একটু ভরকে গেলেন। পেছন ফিরে নিজের কাছের মানুষ কে দেখে তিনি বললেন,,
"বিশ্বাস করো আদি আমি সেদিন ওমনটা করতে চাইনি। আমি আহিকে কষ্ট দিতে চাইনি। আর ওকে হারাতেও চাইনি। আমি ওকে আমার সামনে থেকে তখন যেতে বলেছিলাম যাতে ওকে আর আমি উল্টা পাল্টা কিছু না বলে ফেলি। কারন ও ওখানে থাকলে মাথা গরম করে না জানি কি করে ফেলতাম। তুমি তো জানোই আমার রাগ । রাগ হলে আমি কি করি না করি আমি নিজেও জানি না। আমি ওকে খুব ভালোবাসি আমি ওকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখতে চাই নি আদি। আমার মেয়েটা তিন বছর কোমায় ছিল। অথচ আমি জানতেই পারিনি।কতো স্টাগল করে আমার মেয়েটা বড় হয়েছে। যেখানে কি না ওর বাবা এতো বড় বিজনেস ম্যান। ও জব করে নিজের খরচ চালিয়েছে। আমি এগুলো মানতে পারছি না আদি। দেখো না মেয়েটা আমার সাথে কথা বলে না। তুমি আশিয়ান কেউ আমার সাথে কথা বলছো না। তোমাদের ইগ্নোরেন্স আমাকে ভেতরে ভেতরে মেরে ফেলছে আদি আমি সহ্য করতে পারছি না। "
বলেই আয়েশা চৌধুরী কাঁদতে কাঁদতে নিচে বসে পরলেন। তখন আদিয়ান চৌধুরী ও নিচে বসে তার প্রানপ্রিয় স্ত্রী কে জরিয়ে ধরে বলল,,
"কেঁদো না আয়েশা যা হয়েছে সেটায় আমাদের কারো হাত ছিলো না। সব তকদিরে লেখা ছিল । আমি সেদিন সব শোনে খুব রেগে গিয়েছিলাম তাই তোমার ওপর হাত উঠিয়েছিলাম। আমার রাগ হচ্ছিল তুমি তোমার মেয়েকে ভালোভাবে জেনেও তার সাথে সেরকম ব্যাবহার কিভাবে করতে পারলে। আমি সেদিন ভুলেই গিয়েছিলাম তুমি ওকে কতো ভালোবাসো। আমাকে মাফ করো আয়েশা আমি তোমার সাথে অন্যায় করেছি। আমার আগে বোঝা উচিৎ ছিল। যে ভুল তুমি আমি করেছিলাম আহির সাথে বাবা মারা যাওয়ার পর। আমিও তোমার সাথে সে ভুলটাই করতে যাচ্ছিলাম।"
"তুমি কেন মাফ চাইছো সেটা তো আমার চাওয়ার কথা।"
"যা হয়েছে সব ভুলে যাও। আমরা আবার নতুন ভাবে শুরু করবো। আহির মন জয় করতে আমি তোমাকে সাহায্য করবো।"
"আর আমরাও"
এ কথা শুনে আদিয়ান চৌধুরী আর আয়েশা চৌধুরী দুজনে পেছনে ঘুরে আশিয়ান নাফিজা আর অহনাকে দেখতে পেল। আয়েশা চৌধুরী ওদের দেখে চোখের পানি মুছে ফেললেন। আর দুজনে তাড়াতাড়ি নিচে থেকে উঠলেন। তারপর আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"তোরা এখানে কি করছিস?"
আশিয়ান আমতা আমতা করে বলল,,
"কিছু না এমনিই। ও মায়ের কাছে এসেছিলাম একটু তখন বাইরে থেকে আমরা সব শুনলাম।"
আদিয়ান চৌধুরী ছেলের কান ধরে বললেন,,
"লুকিয়ে লুকিয়ে বাবা মায়ের কথা শোনা হচ্ছিল। বেয়াদব কোথাকার।"
"আহ বাবা ছাড়ো আমার লাগছে। আমরা শুনতে চাইনি। আমাদের কান জোর কথা করে শুনেছে। "
আশিয়ানের কথা শুনে আদিয়ান চৌধুরী ওর কান ছেড়ে দিয়ে বলল,,
"কান আবার জোর করে কথা শোনে কিভাবে?"
"ওহ তুমি বুঝবে না। এটা ইয়াংস্টার রা বুঝবে। তোমাদের মতো এনালগ মানুষ এগুলো বুঝবে না।"
"কি এতোবড় কথা তুই আমাদের এনালগ বলছিস। তুই জানিস আমরা কলেজ থাকতে বেস্ট কাঁপল ছিলাম। তখন কার সময়ই সবাই আমাদের ডিজিটাল বলতো আর তুই কিনা আমাদের এনালগ বলিস। তোর থেকে এখনো আমি জোয়ান আছি বুঝলি। এখনো যদি বিয়ের প্রস্তাব দেই মেয়েরা হুরহুর করে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবে।"
তখন আয়েশা চৌধুরী বললেন,,
"কি বললে তুমি, আরেকবার বলো শুধু !তোমার বিয়ের শখ আমি মিটিয়ে দেব। বুড়া বাম আসছে আবার বিয়ে করতে।"
"আয়েশা এটা কিন্তু ঠিক না তুমি আমাকে ওদের সামনে ইনসাল্ট করছো।
"বেশ করেছি ইনসাল্ট করেছি হাজার বার করবো।"
উনাদের কথা শুনে আশিয়ান নাফিজা অহনা তিন জন মিটিমিটি হাসছে। ওদের হাসি দেখে আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,
"ঝগড়া লাগিয়ে এখন হাসা হচ্ছে।"
তখন অহনা বলল,,
"তোমাদের ঝগড়া দেখতে দারুন লাগছে। এক বাটি পপকর্ন হলে মন্দ হতো না তাই না ভাইয়া।"
"একদম ঠিক বলেছিস।"
তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,
"নাফিজা এটা কিন্তু তুমি ঠিক করছো না। তুমি ও ওদের সাথে মিলে আমাদের সাথে মজা করছো।"
তখন নাফিজা বলল,,
"বাবা আমি কিন্তু কিছুই বলি নি। আমি যাস্ট দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আপনাদের দেখছি।"
তখন আশিয়ান বলল,
"এগুলো ব্যাড ম্যানার নাফিজা বড়দের কে সম্মান করতে শিখো।"
তখন আয়েশা বলল,,
"এই তুই চুপ কর। নিজে সব দোষ করে এখন আবার নাফিজা কে শিখাচ্ছে নাফিজা এগুলো ব্যাড ম্যানার।"
"ও হো মা আমি কি করলাম না করলাম সেগুলো বাদ। কিন্তু আমি কি আর কাকে ভালো কথা শিখাচ্ছি সেটা হচ্ছে মূল বিষয়।"
দীর্ঘ একমাস পর আশিয়ান ওর মায়ের সাথে কথা বলল। আয়েশা চৌধুরী খুব আনন্দিত আজ। আয়েশা চৌধুরী আশিয়ান এর দিকে তাকিয়ে আছে দেখে আশিয়ান ওর মায়ের দুটো হাত ধরে বলল,,
"আই এম সরি মা । এতো দিন তোমার সাথে যতো খারাপ ব্যবহার করেছি তার সবকিছুর জন্য তোমার থেকে মাফ চাইছি। আমাকে প্লিজ মাফ করে দাও। প্লিজ আমার ওপর রাগ করে থেকো না।কথা দিচ্ছি এই অবুঝ বালক আর তোমার সাথে এরকম কিছু করবে না। আই এম রেইলি রেইলি ভেরি সরি। এন্ড আই লাভ ইউ সো মাচ।"
আয়েশা চৌধুরী একটা হাত ছেলের গালে রেখে বলল,,
"দুর পাগল মায়েরা কি কখনো তার সন্তানের ওপর রাগ করতে পারে। মায়েরা সবসময় তার ছেলেমেয়েদের আগলে রাখতে চায়। কিন্তু আমি হয়তো আহির বেলায় পারিনি। আর আমার বড় ছেলের বেলায় পারি নি। তুই আমাকে মা ডেকে অনেক বড় প্রাপ্তি দিয়েছিস। তোর মা শোনার পর আমি প্রথমবার অদ্ভুত অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়েছি। তোর ওপর আমি কখনো রেগেই ছিলাম না আর তোকে মাফ করবো কি। এন্ড আই লাভ ইউ সো মাচ আশিয়ান। আই লাভ ইউ লট! "
বলতে বলতে আয়েশা চৌধুরীর চোখ দিয়ে পানি পরতে লাগলো। আয়েশা চৌধুরী দ্রুত সেটা মুছে ফেলল।তখন আশিয়ান বলল,,
"তুমি আমাদের খুব ভালোবাসো তাই না।"
আয়েশা চৌধুরী একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল,,
"আমি তোকে আর আহিকে ভিশন ভালোবাসি তোদের জন্য আমি সব করতে পারি।"
"তুমি ভাইয়াকেও খুব ভালোবাসতে তাই না মা।"
একথা শুনে আয়েশা চৌধুরীর পুরোনো স্মৃতি মনে পরলো। তিনি বললেন,,
"সে পৃথিবীতে ভুমিষ্ট হলেও পৃথিবীর আলো দেখতে পায় নি। তার আগেই সে আল্লাহর কাছে ফিরে গেছে। হ্যা তাকে ভালোবাসতাম। কারন সে আমার প্রথম সন্তান। আমার মাতৃত্বের প্রথম অনুভূতির সাথে পরিচয় সে করিয়ে দিয়েছিল। তাকে হাড়িয়ে আমি যখন মা হলাম দ্বিতীয় বারের মতো তখন আমি খুব ভয়ে থাকতাম তুই ও তার মতো আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না তো। তারপর তুই স্বাভাবিক সুস্থ ভাবে দুনিয়ায় এলি। কিন্তু আহিয়ানার বেলায় ডাক্তার বলল অনেক কম্পিলেকেশন আছে। আহিকে এবোর্ট করার কথা বললেন কিন্তু আমরা করলাম না। তারপর তো আমি পরেই গিয়েছিলাম আট মাসের সময় তখন ডাক্তার বলেছিল। আমাকে বাচানো গেলেও আহিকে বোধহয় বাঁচানো যাবে না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আহি ও ভালোভাবে পৃথিবীতে আসে। সেই জন্য ই তো সবাই আহিয়ানাকে সব থেকে বেশি ভালোবাসে। তারপর দেখা যায় আহির মধ্যে বাবার অনেককিছুই মিল আছে। যেমন ওর চোখের মনি। তেমন ওর আচরনও বাবার মতো হয়। "
"আরেকটা কারনে আহিকে সবাই বেশি ভালোবাসে।কারন ভাইয়ার সময় ও তো তুমি পরে গিয়েছিলে দেখে ভাইয়া পৃথিবীতে আসতে পারে নি। এলেও মৃত অবস্থায় এসেছে। আহি হওয়ার সময় তুমি তেমন ভাবেই পরেছো তবুও আহি বেঁচে গেছে। তাই তোমরা আহি কে ভাইয়ার জায়গায় দেখো। ঠিক বললাম তো।"
তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,
"একদম ঠিক বলেছিস তুই।"
"আচ্ছা বাবা এখন আহির রুমে যাই দেখি ও ঘুম থেকে উঠেছে কি না দুপুরের খাবারটা ও তো খায়নি। এখন তো বিকাল হয়ে গেছে। কাকিমনি কে বিড়িয়ানি রান্না করতে বলল অথচ নিজেই খেলো না। "
"আচ্ছা ঠিক আছে দেখে আয়।"
আশিয়ান অহনা নাফিজা রুম থেকে বের হয়ে গেল। তখন আয়েশা চৌধুরী আদিয়ান চৌধুরী কে বলল,,,
"আচ্ছা আদি দুটো ঘটনা কাকতালীয় নাকি কেউ ইচ্ছে করে করেছে বলতো। নাহলে দেখো আমার প্রথম পেগনেন্সির সময় আমি পরে গেলাম। সেই যখন আমার নয় মাস চলছিল। আমরা জানতে পারলাম ছেলে হবে।তার জন্য দ্বিতীয় বার যখন পেগনেন্ট হলাম আমরা বেশি করে সতর্ক ভাবে চলা ফেরা করতে লাগলাম। আলতা করে জানতে পারলাম আমাদের ছেলে হবে। আগের বারের মতো যেনো না হয় তাই বাবা কাউকে কিছু না বলে আমাদের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন। এমন কি আমাদের ও বলতে নিষেধ করলেন যাতে আমরা কাউকে না বলি। আমরা কোথায় আছি।বাবা কি কোন কিছু আঁচ করতে পেরেছিলেন। আল্লাহর রহমতে আশিয়ান ভালোভাবেই দুনিয়ার আসলো। তারপর আমরা বাড়িতে ফিরলাম। আহির সময় আমরা তখন জানতে পারলাম আমাদের মেয়ে হবে। আগের বার আশিয়ানের বেলায় কিছু হয় নি দেখে আমরা আর কোথাও গেলাম না। কিন্তু আহির বেলায় ও আমি আট মাসে পরে গেলাম ‌।এটা কি সত্যি কাকতালীয় না ইচ্ছে করে কেউ কি আমাদের বাচ্চাদের মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আদি কেউ কি সত্যি আমার বাচ্চাকে ইচ্ছে করে মেরে ফেলেছে। আমাদের পেছনে কি কোন ষড়যন্ত্র করেছে।"
আয়েশা চৌধুরীর কথায় আদিয়ান চৌধুরী ভাবনায় পরে গেলেন। সত্যি তো এটা কেউ ভেবেই দেখেনি। উনি নিজেকে বুঝিয়ে নিলেন। তারপর আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"কি বলছো এসব কেউ ইচ্ছে করে আমাদের বাচ্চাদের কেন মারতে চাইবে। আহির পরে তো অহনাও হলো ওর তো কিছুই হয় নি।"
"কিন্তু আঁখির বাচ্চা তো মরে গেছে তাইনা। আর আঁখি বলেছিল ও সিঁড়ি থেকে পরে গেছিল। আদি কেউ চায়না আমাদের বাড়ির কোন সন্তান বেঁচে থাকুক। কেউ আমাদের ক্ষতি চায় আদি। আমি এতদিন এটা ভেবেই দেখি নি।"
আদিয়ান চৌধুরী আয়েশা চৌধুরীর এ কথায় আরো বেশি ভাবনায় পরে গেলেন। উনি কিছু বললেন না। উনি এবার আয়েশা চৌধুরীর কথাই ভাবলেন সত্যি এটা কাকতালীয় নাকি ইচ্ছে করে করেছে কেউ।
____________________
আয়াত ঘুম থেকে উঠে ঘড়ি দেখলো। দেখলো বিকাল চারটা বেজে গেছে। কিন্তু ওর এখন উঠতে ইচ্ছে করছে না। ও উঠবে কি উঠবে না এটা ভেবেই বিছানায় শুয়ে আছে। এমনিতেও দুপুরের সালাত আদায় করা হয়নি কাযা হয়ে গেছে । এটা ভেবে ঝটপট উঠে পরলো। ও উঠতেই আশিয়ান ওর রুমে ঢুকে বলল,,
"তাহলে ঘুম ভাঙল মহারানির!"
"হুম অনেক দিন পর এভাবে ঘুমালাম।"
"কেন এতদিন ঘুমাস নি তুই।"
"না ঘুমাই নি। এখন কথা অফ করে নিচে গিয়ে আমার জন্য খাবার বাড়তে বলো। খুব খিদে পেয়েছে। আর আমি ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পরে আসছি। ঘুমের চক্করে নামাজটা কাযা হয়ে গেল।"
"আচ্ছা ঠিক আছে।"
বলেই আশিয়ান চলে গেল। আয়াত ওয়াশরুম থেকে উযু করে সালাত আদায় করে নিল। সালাত কাযা হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলো। নামাজ শেষ করে মাথায় কাপড় দিয়ে নিচে নেমে আসলো। ওর খুব খিদে পেয়েছে সেই কোন সকালে খেয়েছে। এখন চারটা বাজে খিদে তো পাবেই। ও নিচে গিয়ে দেখলো ওর মা আর কাকিমনি ওর খাবার বেড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আশিয়ান নাফিজা অহনা নিশান কে নিয়ে সোফায় বসে আছে সাথে বড়রাও । ও গিয়ে ড্রাইনিং টেবিলে বসে পরলো। তখন বলল,,,
"তোমরা সবাই খেয়েছো?"
তখন ওর কাকিমনি বলল,,
"হ্যা আমরা সবাই খেয়েছি।" 
"ফুপিরা কখন গেছে?"
"তুই ঘুমানোর পরপরই।"
"ওহ আচ্ছা আর কাকিমনি তুমি ভালো করেই জানো আমি মিথ্যে কথা পছন্দ করি না তাহলে কেন বললে।"
"আমি আবার কি মিথ্যে বললাম।"
"এই যে বললে তোমরা সবাই খেয়েছো।"
আয়াতের কথায় মোনা চৌধুরী একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। আশিয়ানরা সকলে বোঝার চেষ্টা করলো আসলে মোনা চৌধুরী কি মিথ্যা বলেছে। তখন মোনা চৌধুরী আমতা আমতা করে বলল,,
"আহি মা আম ্মরা সবাই খেয়েছি।"
"হইছে তোমাকে আর মিথ্যা বলতে হবেনা। যে এখনো খায়নি সে যেন এখন আমার সাথে বসে খেয়ে নেয়। আমি কিছু মনে করবো না। আশা করি বুঝতে পেরেছো আমি কার কথা বলছি। এখন যদি ঢং দেখিয়ে কেউ না খায় তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে।"
আয়াতের কথায় আয়েশা চৌধুরী খুব অবাক হলেন। কারন ও কিভাবে জানালো উনি খায় নি। আসলে ছোটবেলা থেকেই আয়েশা চৌধুরী আয়াতদের না খায়িয়ে খেতেন না‌। আয়াতের এটা মনে আছে তাই তো ও এই কথাটি বলল। আয়েশা চৌধুরী বসছে না দেখে আয়াত আবারো বলল,,
"কি হলো কথা কানে যাচ্ছে না। আমি কি বলেছি।"
তখন আয়েশা চৌধুরী একটা চেয়ারে বসে পরলেন। এটা দেখে আয়াত মুচকি হাসলো কিন্তু সবার আড়ালে। আশিয়ানরা সকলে অবাক। ওরা জানতোই না যে আয়েশা চৌধুরী এখনো খায়নি। উনি সবসময় ই সবার পরে খায়। আঁখি চৌধুরী সবসময় ঘরে খায়। মোনা চৌধুরী আর আয়েশা চৌধুরী সবসময় সবার পরে খায়। আজকেও তাই খেয়েছে মনে হয় এটা ভেবেই কেউ কিছু বুঝতে পারে নি। তবে আয়াত কিভাবে জানলো। আয়াতের ব্যবহারে আয়েশা চৌধুরী সহ সকলেই খুশি হলেন। সরাসরি তাকে না বললেও তার খেয়াল রাখছে আয়াত।তখন আয়াত বলল,,
"কাকিমনি এরপর থেকে যেনো তোমাকে মিথ্যে বলতে না শুনি।"
"আমি কি করবো বল তোর মা~ ই তো আমাকে বারন করেছিল তাই!"
"আর বলতে হবে না। আমি বুঝতে পেরেছি। আসলে ছোটবেলা থেকেই আয়েশা চৌধুরী তার ছেলেমেয়েদের না খায়িয়ে নিজে খেতেন না। তাই আমি ভাবলাম হয়তো উনি খায়নি তাই বললাম এটা আবার কেউ যেনো মনে না ধরে আমি যাস্ট এমনিই বললাম।"
এ কথা শুনে সকলেই মিটি মিটি হাসছে লাগলো। আয়াতের কথায় আয়েশা চৌধুরীর চোখ পানিতে ভরে উঠলো। মোনা চৌধুরী আয়েশা চৌধুরীর খাবার বেড়ে দিল। তারপর আয়াত বিসমিল্লাহ বলে খাবার খাওয়া শুরু করলো। খাবার খাওয়া শেষে আয়াত বলল,,
"কাকিমনি মাশাআল্লাহ অনেক মজা হয়েছিল বিড়িয়ানি টা।"
"থ্যাঙ্ক ইউ আহি!" 
"মোস্ট ওয়েল কাম কাকিমনি।"
আয়াত উঠে ওর বাবার কাছে গিয়ে বসলো। ওরা সবাই মিলে আড্ডা দিতে লাগলো। তখন আঁখি চৌধুরী আয়াতের ফোন নিয়ে নিচে এলেন। উনি সিঁড়ি থেকে বলল,,
"আহিয়ানা তোমার ফোন বাজছে। আমি তোমার রুমের ওখান দিয়ে আসছিলাম তখন দেখলাম তোমার ফোন বাজছে।"
আয়াত বলল,,
"কে ফোন দিয়েছে কাকিমনি?"
"জান দিয়ে সেভ করা।"
এ কথা শুনে আয়াত তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে কাকিমনির কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে মুচকি হেসে ফোনটা ধরল। ওপাশ থেকে আওয়াজ আসলো,,
"আসসালামু আলাইকুম জান!"
"ওয়ালাইকুমুস সালাম জান! কেমন আছো তুমি?"
"সেসব কথা বাদ দাও আগে বলো তুমি ফোন ধরছিলে না কেন? তুমি জানো আমি কখন থেকে তোমাকে ফোন দিচ্ছিলাম। কিন্তু তুমি আমার ফোন ধরছিলে না। ওখানে গিয়ে তুমি একদম আমাকে ভুলে গেছো।"
"আমার জান কি আমার ওপর রাগ করেছে?"
"হ্যা রাগ তো করেছিই!"
"আই এম সরি জান আসলে আমি ফোনের কাছে ছিলাম না তাই ধরতে পারি নি। প্লিজ জান রাগ করো না।"
"আমি অনেকখানি রাগ করেছি তোমার উপর। আজ তুমি একবারো আমাকে কল দাওনি।"
"সরি জান আমি একটু ঘুমিয়ে পরেছিলাম। তাই তোমাকে কল করা হয় নি। এবারের মতো মাফ করে দাও।এরপর থেকে এরকম আর হবে না প্রমিস।"
"পাক্কা তো"
"হ্যা একদম পাক্কা প্রমিস।"
"ওকে এরপর থেকে এরকম হলে আমি কিন্তু তোমার সাথে আর কথা বলব না।"
"আচ্ছা ঠিক আছে। তা আমার জান কি আমার ওপর অনেক রাগ করেছিল।"
"হুম অনেকখানি রাগ করেছিলাম।"
"তা কতো খানি শুনি?"
"আমার নীল বেডরুমের সমান রাগ করেছিলাম।"
"ওরে বাবা তা তো অনেক খানি। "
"হুম। তুমি খেয়েছো জান!"
"হুম খেয়েছি !তুমি খেয়েছো?
"হুম খেয়েছি। "
"বাড়ির সকলে খেয়েছে।"
"হ্যা সকলেই খেয়েছে।" কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলল,,,,,," জান!" 
এইটুকু বলেই ওপাশে থেকে চুপ হয়ে গেল। আয়াত বুঝতে পারলো ওপাশের থাকা ব্যক্তিটির মনের অবস্থা। আয়াত বলল,,
"হুম "
"তুমি কবে আমার কাছে আসবে জান।"
একথাটায় কি ছিল সেটা আয়াত জানে না। তবে এটুকু বুঝতে পেরেছে ওপাশের ব্যক্তিটা খুব আবেগ আর কষ্ট নিয়ে এই কথাটা জিজ্ঞেস করেছে। আয়াতের চোখের কোনে পানি জমা হলো। আয়াত নিজেকে সামলিয়ে বলল,,,
"খুব তাড়াতাড়ি আমি তোমার সাথে থাকবো ইনশাআল্লাহ। তুমি আর আমি যেনো একসাথে থাকতে পারি তার ব্যবস্থাও করবো।"
"আমি তোমায় ছাড়া ভালো নেই জান। আমি তো তোমাকে ছাড়া কোনদিন থাকি নি। আমি তো তোমায় ছাড়া থাকতে বা বাঁচতে শিখিনি। তুমি তো আমার পাশে সবসময় ছিলে আমার ছায়া হয়ে। এই চারটা মাস ধরে তুমি আমার কাছে নেই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জান।"
ওপাশের ব্যক্তিটির কথা শুনে আয়াতের চোখের পানিটুকু গড়িয়ে পরল। হয়তো ওপাশের ব্যাক্তিটাও কাঁদছে। আয়াত কি বলবে বুঝতে পারছে না। এদিকে বাড়ির সকলে আয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। একটু আগেই খুশি ছিল কিন্তু এখন আয়াত কাঁদছে কিসের জন্য কেউ বুঝতে পারলো না। কারন ওরা কেউ ওপাশের ব্যক্তিটির কথা শুনতে পাচ্ছে না।আয়াত একটা ঢুক গিলে বলল,,,
"আর মাত্র কয়েকটা মাস। তারপর থেকে আমরা সবাই আবার একসাথে থাকবো। আচ্ছা সেসব বাদ দাও। তুমি বলো আমি যে তোমাকে ওখানে রেখে এসেছি সবাইকে দেখে রাখার জন্য আমাদের মিস্টিবাবু কি আরো মিস্টি খেয়েছে।"
"একটাও খেতে দেয় নি আমি। ফ্রিজে তালা মেরে দিয়েছি।"
"সত্যি এরকম বুদ্ধি তোমাকে কে দিয়েছে।"
"কে দেবে আবার জান ভাইয়া দিয়েছে। তুমি জানো জান ভাইয়া আমার জন্য কতো কি নিয়ে এসেছে। আমি আর জান ভাইয়া মিলে এখন আমাদের বাড়িতে রাজত্ব করছি।"
"এরকম বুদ্ধি শুধু তার মাথাতেই আসতে পারে। অনেকদিন পর দুটোই মিলে একসাথে হয়েছো।না জানি বাড়ির কি হাল করো তোমরা আল্লাহ মালুম। তবে সাবধানে ফুপিমা কিন্তু আছে দুটোকে মেরে একদম সাইজ করে দেবে।"
"আরে ফুপিমা কিচ্ছু করতে পারবে না। আর আমি কি ফুপি মাকে দেখে ভয় পাই নাকি।"
"তাই না ভয় পাও না। অথচ ফুপিমা তোমাকে ধরতে এলেই তুমি আমার পেছনে এসে লোকাও।"
"আরে ওটা তো আমি এমনিই করি। নাহলে আহিয়ানা আয়াত চৌধুরীর জান ওরফে জামাই আনাফ আজান চৌধুরী কাউকে দেখে ভয় পায় না বুজলে।" 
আয়াত হেসে বলল,,
"হুম বুঝতে পেরেছি জাহাপনা।আপনি কি এখন একা না সাথে আরো কেউ আছে।"
"আমি একাই রুমে আছি। তোমার কথা মনে হলো তাই তোমাকে কল দিলাম ।"
"ওহ আচ্ছা।"
"আচ্ছা তাহলে আমি এখন রাখি। লিওনদের সাথে খেলতে যাবো।"
"ওকে আল্লাহ হাফেজ।"
"আল্লাহ হাফেজ "বলে ফোনটা কেটে দিলো। আয়াত এতক্ষন নিজের মনে কথা বলছিল। এতো গুলো লোক যে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল ও এখন সেটা উপলব্ধি করতে পারলো। ও ফোন রাখতেই আশিয়ান বলল,,
"কে ছিল ফোনে!"
তা শুনে আয়াত বলল,,
"আমার জামাই।"
এ কথা শুনে মনে হলো ওদের ড্রয়িংরুমে ছোটখাটো বোমা ফুটলো। আশিয়ান অবাক হয়ে বলল,,,
"কি! তুই বিয়ে করেছিস? আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়েই।"
"তোমার বিয়ের সময় আমাকে জানিয়েছিলে যে আমি জানাবো।"
সকলে অবাক চোখে আয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে আয়াত বলল,,
"রিল্যাক্স সকলে আমি এখনো বিয়ে করেনি। আমি তো মজা করছিলাম। আমি এখনো বিয়ে করি নি। আর তোমাদের ছাড়া বিয়েও করবোনা।"
একথা শুনে সকলে হাফ ছেড়ে বাঁচলো। তখন আশিয়ান বলল,,
"আমি যদি ভুল না হই এর সাথেই তুই হসপিটালে কথা বলেছিলি।"
"হুম এর সাথেই।"
"তুই কথার মাঝে কাদছিলি কেন?
"কিছুনা এমনিই।" আমি এখন ওপরে যাই। আমার অফিসের কিছু কাজ আছে। "
বলেই আয়াত উপরে চলে গেল।আসলে সে এখন কাউকে কিছু বলতে চায় না। তাই কথা কাটাতেই এখন উপরে গেল। বাকি সবাই ভাবতে লাগলো আয়াতের কি কারো সাথে প্রেমের সম্পর্ক আছে। এতবছরে হয়তো কেউ ওর সাথে যুক্ত হয়ে গেছে। আশিয়ান বলল,,
"বাবা ও ওপাশের ব্যক্তিটাকে জান বলে ডাকে । আবার ওর ফোনে জান বলে নাম্বার টা সেভ করা। তোমরা কি কেউ কিছু বুঝতে পারছো।"
আদিয়ান চৌধুরী বলল,,
"কারো সাথে সম্পর্ক থেকে থাকলেও আমাদের কিছু করার নেই। যা হবার তাই হবে পরে দেখা যাবে।"
____________________
আয়াত রাতে সকলের সাথে ডিনার করলো। বিকেলের ব্যাপারটা নিয়ে কেউ কিছু বলল না। সকলে ঘুমিয়ে গেলে আয়াত একটা সিক্রেট রুমে ঢুকল। রুমে ঢুকে সব ঠিকঠাক দেখে আবার বেরিয়ে এলো। ও এসে কাউকে কিছু একটা মেসেজ করে ঘুমিয়ে পরলো।
___________
নতুন দিনের সূচনা। আয়াত প্রতিদিনের ন্যয় ঘুম থেকে উঠে সালাত আদায় করে নিল। ভোরের আলো ফুটতেই তারপর এ বাড়িতে ওর একটা ফ্রেবারিট জায়গা আছে সেখানে গেল। জায়গা টা হচ্ছে ছাদ। ও ছাদে গিয়ে দেখলো ছাদের একপাশে বাগান করা অনেক রকমের ফুল। আশিয়ানের খুব ফুলের বাগানের শখ তাই তিনিই এইটা করেছে। আয়াত একটা গোলাপ গাছ থেকে একটা গোলাপ ছিড়লো। তারপর সেটা নিয়ে নিচে গেল এতক্ষণ সকলে হয়তো নিচে চলে গেছে। ও নিচে গিয়ে দেখলো আশিয়ান একটা সোফায় বসে আছে। ও সকলের উদ্দেশ্যে সালাম দিল।
"আসসালামু আলাইকুম!"
আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"ওয়ালাইকুমুস সালাম।"
তারপর আয়াত গিয়ে আশিয়ান এর কাছে গেল। এতক্ষন ওর একহাত পেছনে ছিল। ও আশিয়ানের কাছে গিয়ে বলল,,,
"ভাইয়া তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।"
তখন আশিয়ান বলল,,
"কি সারপ্রাইজ।"
"সারপ্রাইজ টা দেখলে তুমি একদম লাফিয়ে উঠবে।"
"তাহলে তাড়াতাড়ি দে"
"ওকে চোখ বন্ধ করো !"
"আচ্ছা ঠিক আছে "
বলে আশিয়ান চোখ বন্ধ করলো। আয়াত হাতে থাকা ফুলটা সামনে ধরে বলল,,,
"এবার চোখ খুলো।"
আশিয়ান চোখ খুললো তখন আয়াত বলল,,
"শুভ সকাল ভাইয়া।"
আশিয়ান সেটা দেখেই "আহি" বলে লাফিয়ে উঠলো। ওকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে ও খুব রেগে গেছে। ওকে উঠতে দেখে আয়াত ফুল ওখানে রেখে দৌড় দিল আশিয়ান ও দৌড় দিল। আর বলল,,,
"আহি তুই আবার আমার বাগানের ফুল ছিড়েছিস। তুই জানিস না আমি আমার গাছের ফুল ছেঁড়া একদম পছন্দ করি না। তুই দাড়া আজ তোর খবর আছে। "
আয়াত আগে আগে দৌড়াচ্ছে আশিয়ান পেছনে পেছনে। বাড়ির সকলে দেখে হাসছে। ছোটবেলায় আহি আশিয়ানের এরকমই করতো। আর আশিয়ান এমনই ওর পেছনে দৌড়াতে। এতবছর পর মনে হচ্ছে বাড়িটার প্রান ফিরে এসেছে। এভাবেই হাসি মজার মাধ্যমে সকলে ব্রেকফাস্ট সেরে যার যার কাজে গেল। আয়াত প্রতিদিনের মতো বোরকা হিজাব পরে ভার্সিটি গেল। আদিয়ান চৌধুরী বাড়ির গাড়ি নিয়ে যেতে বলল কিন্তু আয়াত বলল সে ঐ স্কুটি নিয়েই যাবে। অগত্যা আদিয়ান চৌধুরী রাজি হলো। অহনা আজ আয়াতের স্কুটির পেছনে বসে ভার্সিটি গেল। ভার্সিটির সকলে অবাক হয়ে ওদের দুজনকে দেখছে।
অতঃপর,,,,
~চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন