ফন্ট সাইজ:
থিম:
আলগোছে ভালোবাসি সিজন 1

১৯তম পর্ব

লেখক: আজরিনা জ্যামি

আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1 

#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
অজ্ঞাত ব্যাক্তি আয়াতের ছবির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলছে,,,
"না না এটা হতে পারে না। তুমি এবারো আগের বারের মতো বেঁচে গেলে। তুমি মেরে ফেললে সব টান্টায় ক্ষতম হয়ে যেত। আহনাফ চৌধুরীর উইল এর ব্যাপারে শুধু আহনাফ চৌধুরী ,আদিয়ান চৌধুরী, আর তুমি জানতে।আর যারা যারা জানতো সবাই কে আমি শেষ করে দিয়েছি। তোমাকে মেরে ফেলা হয়ে গেলে আমি আদিকেও ও মেরে ফেলতাম । তাহলে আর কেউ জানতো না সেই উইলের কথা। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও তুমি আদিয়ানের মতো বেঁচে গেলে। আদিয়ানকে কতো চেষ্টা করলাম মারার জন্য কিন্তু মরলোই না। অজানা কিছু একটা সবসময় ওকে আর পরিবারকে বাঁচিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এবার তো আমি ফুল প্ল্যান করেই এসেছিলাম কিন্তু মাঝখানে আয়েশা এসে সব গন্ডগোল পাকিয়ে দিল। তোমাকে মরতে হবে । সেটা আমার হাতেই। আজ না হোক কাল। অবশ্য তোমাকে এখন আমি মারতে চাইছিলাম না।আমি তো তোমার জন্মদিনে তোমাকে মারতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোমাকে দেখে আমার সহ্য হচ্ছে না। তোমাকে কিছুতেই সহ্য করতে পারছি না। তবে এবার যেহেতু বেঁচে গেছোই তাহলে তোমার জন্মদিন পর্যন্ত না হয় অপেক্ষা করি। কি বলো!
বলেই লোকটি আয়াতের ছবিটিতে আগুন ধরিয়ে দিল। আর বিশ্রিভাবে হাসতে লাগলো। 
এদিকে,,,,
আশিয়ান আর আয়াত চিৎকার করে ডাক্তারকে ডাকছে। তারা আগে থেকেই রেডি ছিল বলে বেশি সময় লাগে নি। তাড়াতাড়ি তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া। অপারেশন শুরুর আগে ডাক্তার ওদের কে জিজ্ঞেস করে,,,
"দেখুন পেশেন্টের হার্টের দুই ইঞ্চি উপরে গুলি লেগেছে। উনার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। উনার মেডিকেল হিস্ট্রি টা আমাদের জানতে হবে। উনার ব্লাড গ্ৰুপ কি? এর আগে উনার কোন সমস্যা হয়েছিল কিনা হার্টের বা অন্য কোন রোগ। উনার বয়স ও অনেক তাই এগুলো সবকিছু জানা জরুরি। "
আশিয়ানদের পেছন পেছন সবাই রওনা দিয়েছিল। তাই ওরাও হসপিটালে পৌঁছে গেল। আশিয়ান ওর বাবাকে গিয়ে বলল,,,
"বাবা তুমি কি জানো মায়ের মেডিকেল হিস্ট্রি?"
আদিয়ান চৌধুরী স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। মনে হচ্ছে কোন যন্ত্রমানব কোন অনুভূতি নেই তার মাঝে। উনি মনে আয়েশা চৌধুরী কে অনেক ভালোবাসেন। উনার এ অবস্থা আদিয়ান চৌধুরী মানতে পারছেন না। উনি কিছুই বলছে না দেখে। ডাক্তার আবার বলল,,,
"কি হলো তাড়াতাড়ি বলুন নাহলে আমরা অপারেশন টা শুরু করতে পারবো না।"
আয়াত সকলের দিকে তাকালো। কেউ কোন কথা বলছে না দেখে আয়াত বলল,,,
"আমি বলছি ডক্টর। উনার নাম আয়েশা চৌধুরী। বয়স ছেচল্লিশ। উনার ব্লাড গ্ৰুপ (ও- নেগেটিভ) উনার তেমন কোন সিরিয়াস রোগ নেই যেটার জন্য উনার অপারেশন করতে পারবেন না।তবে উনার একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল সেটা আজ থেকে পাঁচবছর আগে। আর উনার তিন বছর আগে একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিল তাতে উনি পেট এ প্রচন্ড আঘাত পেয়েছিলেন তারপর থেকে তিনি নিয়মিত সেটার জন্য ওষুধ খান।"
"ধন্যবাদ মিস তাহলে এখন আমরা অপারেশন শুরু করতে পারবো। আর আমাদের রক্ত লাগতে পারে আবার নাও লাগতে পারে তাই রক্তের ব্যবস্থা করে রাখুন।
"নো প্রব্লেম ডক্টর আমার ব্লাড গ্ৰুপ (ও-নেগেটিভ) রক্ত লাগলে আমি দেব।"
"ওকে!"
ডক্টর এটুকু বলে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পরলো। এদিকে আয়াতের কথা শুনে সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আজ থেকে তিন বছর আগে এক্সিডেন্ট হয়েছিল সেটা সবাই জানে কিন্তু আজ থেকে পাঁচ বছর আগে উনার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল সেটা কেউ জানেনা। একমাত্র আদিয়ান চৌধুরী ছাড়া। আদিয়ান চৌধুরী একটা ঘোরের মধ্যে থাকলেও মেয়ের কথায় ঘোর থেকে বেড়িয়ে এসেছেন। উনি একদৃষ্টিতে উনার মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। আশিয়ান ওর বোনের কাছে গিয়ে বলল,,,
"মায়ের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল পাঁচবছর আগে তুই কিভাবে জানলি। আমরা তো বাড়ির কেউ ই কিছু জানি না। সত্যি মায়ের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল কি?"
তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"হ্যা হয়েছিল।"
"তাহলে বাবা আমাদের কাউকে কিছু জানাও নি কেন?"
"ওটা মাইনর অ্যাটাক ছিল।তাই কাউকে কিছু জানায় নি।"
"তাহলে আহি কিভাবে জানলো।"
"আমি জানি না।"
তখন আয়াত বলল,,,
"ভেতরে মায়ের অপারেশন চলছে। আর তোমরা পরে আছো আমি কিভাবে জানলাম। আমি কোথাও না কোথাও থেকে জেনেছি। এতো চাপ নেওয়ার কি আছে। "
আয়াতের কথা শুনে সবাই চুপ মেরে গেল। এদিকে আয়াজ শুধু ভেবেই যাচ্ছে। আয়াত এতো কিছু জানতে পারছে কিভাবে। ও কিভাবে জানালো অনিক ই হার্টলেস। প্রায় সবকিছুই আয়াত জানতে পারে কিন্তু কিভাবে ও তো এখানে ছিলই না। তাহলে কিভাবে ওরা যা ভাবছে আয়াতের সম্পর্কে আসলে সেসব সত্যি নাকি সব মিথ্যে। ওর ভাবনার মাঝেই নার্সদের দৌড়া দৌড়ি শুরু হয়ে গেল। ওদের দৌড়াদৌড়ি দেখে আয়াতরা সকলে ভয় পেল। আয়াত একজন নার্স কে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে,,,
তখন নার্সটি বলল,,
"আপনার মায়ের যে ডক্টরটা অপারেশন করছিল উনি অপারেশন চলাকালীন অজ্ঞান হয়ে গেছে।"
"কি বলছেন কি?"
"হ্যা উনাকে আমরা সে্ন্সে ফেরানোর চেষ্টা করছি। উনি প্রায় গুলি টার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে এরকম হলো। উনি ছাড়া এখন হসপিটালে কোন ডাক্তার ও নেই যে আপনার মায়ের অপারেশন টা করবে। এখন কি হবে শুধু আল্লাহ ~ই ভালো বলতে পারবে।"
এ কথা শুনে সবাই কি বলবে ভুলে গেল। তখন আয়াত বলল,,
"ইরফান ভাইয়া কোথায়?"
তখন আয়াজ বলল,,,
"ভাইয়া কয়েকদিন এর জন্য মেডিকেল ক্যাম্পিং এর জন্য গেছে বান্দরবন।"
"ওহ শিট এখনি যেতে হলো বান্দরবন।"
ডক্টর নেই এখন কি করবে আয়াত ! আয়াত চিন্তা করছে অন্য কথা।তখন আদিয়ান চৌধুরী কেঁদে উঠলো আর বলল,,,
"ইয়া আল্লাহ তুমি আমার আয়েশা কে বাচিয়ে নাও। তুমি কি আমার আয়েশা কে আমার থেকে কেড়ে নেবে। ডক্টর অজ্ঞান হয়ে গেছে। অন্য ডাক্তার ও নেই এখন কি হবে। আমার আয়েশা কে বাঁচাবে।"
আয়াতের আর চুপ করে বসে থাকলে হবে না। নিজে ডক্টর হয়ে কিভাবে ওর মায়ের এই অবস্থা দেখে চুপ করে থাকতে পারে। ওর জামায় এখনো ওর মায়ের রক্ত লেগে আছে। ও ওর মায়ের রক্ত ছুঁয়ে মনে মনে বলল,,
"আমি থাকতে তোমার কিছু হবে না মা। আমি কিছু হতেই দেব না। তোমার মেয়ে যেভাবে তোমাকে প্রটেক্ট করেছে আজ ও করবে। তুমি চিন্তা করো না।তোমার মেয়ে ঠিক তোমাকে এবারো বাচিয়ে নেবে।" আয়াত ওর বাবার কাছে গিয়ে ওর বাবার হাত ধরে বলল,,
"বাবা আমি কথা দিচ্ছি মায়ের কিছু হবে না। আমি দেখছি অন্য কোন ডাক্তার কে পাই কিনা।"
বলেই আয়াত ওখানে থেকে চলে যেতে নিল। তখন আশিয়ান আর আয়াজ বলল,,
"আমরা তোমার সাথে যাই।"
"না তার দরকার নেই আমার দুজন ডক্টরের সাথে পরিচয় আছে। দেখি উনারা কি বলে। তোমরা বরং বাবাকে সামলাও।"
বলেই আয়াত ওখানে থেকে চলে গেল।
_______________
কেউ একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে ফোন দিয়ে বলল,,,
"স্যার কাজ হয়ে গেছে। আপনার কথা মতো তার কফিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলাম। সেটা খাওয়ার আধা ঘন্টা পরেই লোকটি নিদ্রায় মিশে গেছে।ডক্টরটা সব অপারেশনের পাচ মিনিট আগে কফি খায় এটা তার অভ্যাস। আর ঘুমের ওষুধ টা এতোই কড়া যে ওনাকে পানির ভেতর থেকে চুবিয়ে আনলেও উনার ঘুম ভাঙবে না। আর বাকি দুটো ডক্টর ছিল তাদের কে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। আর বলেছি কোন মতেই আজ যেনো হসপিটালে না আসে। আর আসলে প্রান নিয়ে ফিরতে পারবে না।"
"ওয়েলডান । তোমার কাজে আমি খুবই খুশি হয়েছি।সময়মতো তোমার একাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।"
"থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।' আর একটা কথা ছিল?
'বলো!"
"আপনি বুঝলেন কিভাবে যে উনারা এই হসপিটালেই আনবে।"
"আরে বোকা খান বাড়ির থেকে এটাই সবচেয়ে কাছের হসপিটাল। এই অবস্থায় কেউ কাছে হসপিটাল ছেড়ে দূরের হসপিটাল এ যাবে নাকি।"
"ওহ আচ্ছা স্যার উনারা যদি অন্য কোন ডাক্তার কে নিয়ে আসে।"
"অন্য ডাক্তারকে আনতে আনতে এদিকে আয়েশার প্রানপাখি উপরে যাবে। ওদের আত্মীয় একটা ডক্টর ছিল ইরফান ও মেডিকেল ক্যাম্পিং এর জন্য বান্দরবন গিয়েছে। এতো তাড়াতাড়ি কোন ডাক্তারকে ওরা পাবে না।" আচ্ছা রাখছি তোমার একাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।
বলেই অজ্ঞাত লোকটি ফোন কেটে দিল। ফোন কেটে বলল,,
"এবার দেখবো আহিয়ানা চৌধুরী নিজের মাকে কি করে বাঁচাও।"
__________________
এদিকে সবাই টেনশনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আয়াত দশ মিনিট হলো গিয়েছে কোন খোঁজ নেই। এদিকে এক মিনিট সময় ও ইম্পর্টেন্ট। কিছুক্ষণ পর একটা হুডিওয়ালা কেউ ঢুকলো। মুখে মাস্ক চোখে সানগ্লাস মাথায় হুডিটা টানা। ছেলে না মেয়ে বোঝা যাচ্ছে না। তবে পরনে এপ্রোন ও আছে। তা দেখে সবাই বুঝতে পারল এটা ডক্টর। আদিয়ান চৌধুরী আর আশিয়ান চৌধুরী তার দিকে এগিয়ে গেল। আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"ডক্টর প্লিজ আমার স্ত্রীকে বাঁচান।"
আশিয়ান বলল,,
"প্লিজ ডক্টর আমার মাকে বাচান আমার মায়ের কিছু হলে যে আমরা শেষ হয়ে যাবো।"
তখন ডক্টর টি বলল,,,
"আয়াত না মানে আহি আমাকে সব বলেছে। আপনারা চিন্তা করবেন না আমি দেখছি।"
কন্ঠস্বর শুনে সবাই বুঝতে পারল এটা একটা মেয়ে। তবে আয়াজ মনে হলো এই কন্ঠোস্বরটা সে আগে শুনেছে কিন্তু মনে করতে পারছে না। তখন বলল,,,
"ঠিক আছে কিন্তু আহি কোথায়।"
"সেটা আমি জানি না।প্লিজ আমাকে যেতে দিন। নাহলে অপারেশন এ দেরি হয়ে যাবে।"
মেয়েটার কথা শুনে সকলে মেয়েটাকে ছেড়ে দিল। ও তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পরলো। আগের ডক্টরকে আগেই ওখানে থেকে বের করে আনা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে ঢুকলে সকলে জানতে চাইলো উনি কে । তখন ডক্টর একটা কার্ড বের দেখায়। কার্ড দেখেই ওরা সবাই চুপ হয়ে যায়। আর মনে মনে খুশি ও হয় কারন অনেক দিন ধরে ডক্টর এ.এ.সির সাথে কাজ করার ইচ্ছা ছিল।হ্যা ডক্টরটা আর কেউ না সেটা হলো আয়াত মানে আহিয়ানা চৌধুরী। আফিয়ানা কোন কথা না বলে অপারেশন শুরু করলো। আয়াত অপারেশন শেষ করে বের হলো। তখন সকলে ওকে জিজ্ঞাসা করলো আয়েশা চৌধুরীর কথা। ও বলল,,
"চিন্তার কোন কারন নেই। অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। ইনশাআল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি রিকোভার করবে।"
এ কথা শুনে সকলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নিল। সবকিছুর মালিক তো তিনিই। তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ মা তুমি যদি ঠিক সময়মতো না আসতে তাহলে যে কি হতো।"
"মানুষের সেবা করাই আমাদের ধর্ম এটা আমাদের ডিউটি তাই ধন্যবাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সব কিছু তো আল্লাহর হাতে। আচ্ছা আমি এখন যাই বাকি টা আমি আয়াত না মানে আহিকে জানিয়ে দেব। আসলে আমার একটু তাড়া আছে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে। এগেইন ধন্যবাদ মা।"
আয়াত আর কিছু না বলে ওখান থেকে চলে গেল । ওকে আবার চেঞ্জ করতে হবে মতো দ্রুত সম্ভব আবার হসপিটালে আসতে হবে। ডক্টর যেতেই আশিয়ান বলল,,,
"ডক্টরের নামটাই তো জানা হলো না।"
তখন আয়াজ বলল,,
"নার্সরা নিশ্চয়ই জানবে ওদের থেকে নাম জেনে নেব। "
আফিয়া বা ওর পরিবারের কেউ আসেনি। এতো বাড়িভর্তি লোকজন ছেড়ে উনারা আসেনি। আয়াজ আসাদ খান আর আলেয়া খান এসেছে। ইশরাত ইরফানের বউ আর পাখিকে কে বাড়িতে রেখে এসেছে। রেজওয়ান আহমেদ রোজা আর তার স্ত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। শুধু তিনি চৌধুরী বাড়ির বাকি লোকদের নিয়ে এখানে এসেছেন। মোনা চৌধুরী আঁখি চৌধুরী তো কখন থেকে কেঁদেই যাচ্ছিলেন আলেয়া খান তাদের সামলাচ্ছিলেন।যখন শুনলেন অপারেশন সাকসেসফুল তখন তাদের কান্না বন্ধ হয়েছে। আদিয়ান চৌধুরী কে রেজওয়ান আহমেদ আর আসাদ খান মিলে সামলাচ্ছিলেন। আশিয়ান কে আয়াজ। নাফিজা আর অহনা নিশান কে নিয়ে নিরবে কাদছিল। জুনায়েদ চৌধুরী এক পাশে শুধু দাঁড়িয়ে ছিল। এতো কিছুর মধ্যেও আয়াত ছিল শান্ত ও নির্বাক। ও ওর মতো শক্ত হাতে সব করেছে। কারন এটাই ওর দাদুভাই ওকে শিখিয়েছে। ও তো আর বাকি পাঁচটা মেয়ের মতো কাদতে শেখেনি। ও শিখেছে কঠিন সময়ও নিজেকে কিভাবে শক্ত রাখতে হয়। 
কিছুক্ষণ পর আয়াত চেন্জ করে হসপিটালে ঢুকলো। ওর পরনে এখন সাদা সালোয়ার কামিজ। মাথা ভালো করে ঢাকা যাতে কেউ একটা চুল ও দেখতে না পারে। এই সাদা ড্রেস এ ওকে ভিশন স্নিগ্ধ লাগছে। ও আসতেই সকলে ওকে ঘিরে ধরল। আশিয়ান জিজ্ঞেস করল,,,
"এতক্ষন কোথায় ছিলি। ডক্টর খুঁজতে গেলি ডক্টরকে পাঠিয়েও দিলি কিন্তু নিজে হাওয়া।"
"মা এখন কেমন আছে?"
"মাকে একটু আগে কেবিনে দেওয়া হয়েছে। অনেকটাই বেটার। ডক্টরের তো তোকে সব জানানোর কথা। আমাদের তো তাই ই বলল। তুই কোথায় ছিলি সেটা আগে বল কতোবার তোকে ফোন দিলাম।"
"আমি যখন ডাক্তার পেয়ে গেলাম । তখন আমি ড্রেস চেঞ্জ করে মায়ের সুস্থতার জন্য নামাজ পারছিলাম। আল্লাহর সেবা করতে করতে কখন এতটা সময় পার হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। আমার ফোনটাও কাছে ছিল না তাই দেখিনি। আর ডক্টর এখনো আমাকে কিছু জানায় নি।"
আয়াত মিথ্যা কথা বললেও পুরোটা মিথ্যা কথা বলে নি। ও অপারেশন করে দু রাকাত নফল সালাত পরেই এখানে এসেছে। অপারেশন টা সাকসেসফুল হওয়ার আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছে। কিছু টা মিথ্যা বলার জন্য ও আল্লাহর কাছে তওবা করে নিল। তখন আয়াজ বলল,,,
"সেসব ঠিক আছে কিন্তু ডক্টর টা কে ছিল। উনার নাম টাও তো জানা হলো না। অনেক তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল।"
তখন একটা নার্স ওখান দিয়ে যাচ্ছিল আয়াজের কথা শুনে নার্সটি বলল,,,
"ওটা ডক্টর এ.এ.সি ছিল।"
এ কথা শুনে সকলে অবাক হলো। আয়াতের সাথে ডক্টর এ.এ.সির পরিচয় আছে। আয়াজ বলল,,
"কি!!!ডক্টর এ.এ.সি ছিল!"
"হ্যা ডক্টর এ.এ.সি ছিল। দেখলেন না উনার চোখ মুখ সব ঢাকা ছিল। আমরা ভেতরে ছিলাম তখন আমাদের আইডি কার্ড ও দেখিয়েছে। তাই তো আমরা বুঝতে পেরেছি যে ওটা ডক্টর এ.এ.সি। তবে যাই বলুন না উনি যেমন ডক্টর হিসেবে ভালো তেমন একটা মানুষ হিসেবে ও ভালো। উনি কখনো উনার গ্ৰুপ ছাড়া অপারেশন করেন না। কিন্তু আজ এই অবস্থায় উনি আমাদের সাথে অপারেশন টা করলেন। এমন আমাদের সাথে অনেক ভালোভাবে কথাও বলেছেন। এতো বড় একজন মানুষ অথচ আমাদের সামান্য নার্স বলে হেয়ো করেন নি। "
তখন আয়াত বলল,,
"একজন ডক্টরের ধর্মই হচ্ছে মানুষের সেবা করা। ডক্টর এ .এ.সির ধর্ম ই হচ্ছে মানুষের সেবা করা তাই উনি এটা থেকে পিছু পা হয় নি।"
তখন আশিয়ান বলল,,,
"আহি একদম ঠিক বলেছে। বাই দ্য ওয়ে তুই কিভাবে ডক্টর এ.এ.সিকে চিনিস।"
"যখন দেখলাম আমার ডক্টরের স্বপ্নটা পূরণ হচ্ছে না। তখন আমি একটা এনে জিওর সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। তারা সবসময় মানুষের সেবা করতো। মাঝে মাঝে মেডিকেল ক্যাম্পিং ‍এও যেতে হতো স্বেচ্ছাসেবী হয়ে‌। একবার একটা মেডিকেল ক্যাম্প থেকে উনার সাথে পরিচয় হয়েছিল। সৌভাগ্য বসত সেই ক্যাম্পে কাজের জন্য আমি উনার সাথে পরে গিয়েছিলাম। তখন থেকেই পরিচয় উনি উনার নম্বরটাও আমাকে দিয়েছিলেন। আজ যখন ডক্টর পাচ্ছিলাম না তখন আমি উনাকে ফোন করি। উনি বাংলাদেশেই ছিলেন আমার কথা শুনেই উনি এখানে আসেন। উনি বোধহয় আশে পাশেই ছিলেন তাই এতো তাড়াতাড়ি আসতে পেরেছে।"
আয়াতের এ কথা গুলো বলার একদম ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু ও নার্সদের বলতে ভুলে গেছিল ওর কথা না বলতে। আসলে সবকিছু মিলিয়ে ও টেনশনে ছিল তাই এটা একদম মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে। আর নার্সটাও এমন ভাবে বলল যে ও আর না বলে থাকতে পারলো না। তখন আয়াজ বলল,,
"ওহ আচ্ছা তুমি যদি আগে আমাদের ফোন করে এটা জানাতে তাহলে আমি উনার সাথে একটু কথা বলতাম। কিছু কথা বলার ছিল উনাকে।"
"কেন? তুমি কি আগে থেকে উনাকে চিনতে নাকি!"
"না বাবার হার্ট অপারেশন উনি করেছিলেন। আর আমি উনাকে না বুঝে কথা শুনিয়ে ছিলাম তাই?"
তখন আসাদ খান বললেন,,
"এই তোরা কি নিয়ে কথা বলছিস আবার আহি তুমি একবার ডক্টর এ.এ.সি কে ফোন করে বলো আমরা এখন আয়েশা ভাবির সাথে দেখা করতে পারবো কিনা।"
তখনি আয়াতের ফোনে একটা ফোন এলো।। ও সবাইকে বলল,,,
"এই ডক্টর ফোন করেছে। "
"আসসালামু আলাইকুম ডক্টর আপনার কথাই হচ্ছিল। এখন বলুন আমার মায়ের কি অবস্থা আর কি কি করতে হবে। আর মাকে কি এখন আমরা দেখতে পারবো।"
ওপাশের লোকটি মনে হয় একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। তবে আয়াত ই তাকে এ সময় ফোন করতে বলেছিল । পাশের লোকটি সালামের জবাব দিয়ে চুপ করে রইল কিছু বলল না। তিনি হয়তো আয়াতের কথার মানে বুঝতে পেরেছে। আয়াত একা একাই কিছুক্ষন হু হা করে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোনটাকে কেটে দিল। ও ফোনটা রাখতেই আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"কি বলল ডক্টর?"
"ডক্টর বলল মাকে একমাস বেড রেস্টে থাকতে হবে। নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। উনার কথা মতো চলতে হবে। বেশি উত্তেজিত হওয়া যাবেনা। কিছুক্ষণ পর আমার ফোনে বাকি সব ডিটেলস পাঠাচ্ছে । আমরা মাকে দেখতে যেতে পারবো তবে একজন একজন করে।"
"ওহ আচ্ছা"
"বাবা তুমি আগে যাও পরে আমরা সকলে দেখা করবো।"
"আচ্ছা ঠিক আছে।"
আদিয়ান চৌধুরী আয়েশা চৌধুরীর কেবিনে চলে গেল।তখন আয়াজ বলল,,,
"সবকিছুই ঠিক আছে কিন্তু গুলিটা করলো কে মামীকে?"
তখন আশিয়ান বলল,,
"আমার তো এতকিছুর মাঝে একথাটা আমার মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সত্যি তো মাকে গুলিটা কে করল? মাকে গুলি করা উদ্দেশ্যে ছিল নাকি অন্য কিছু।আমি তো ওখানেই ছিলাম কিন্তু তেমন কিছু তো দেখতে পেলাম না।আর আমার জানামতে আমাদের তো কোন শত্রু নেই তাহলে কে করবে এমন কাজ।
তখন রেজওয়ান আহমেদ বলল,,,
"তোমাদের শত্রু আছে কিনা সেটা তো তোমরা জানো না। হয়তো কেউ তোমাদের জানতেই দেয়নি যে তোমাদের শত্রু আছে। হয়তো কেউ তোমাদের প্রটেক্ট করছে নিজের ক্ষত করে।"
এটুকু বলেই রেজওয়ান আহমেদ আয়াতের দিকে তাকালো। আর কেউ না জানুক উনি তো জানে এই মেয়েটা তার পরিবার কে বাঁচানোর জন্য কি কি করে। সব ঝড় নিজের ওপর নিয়ে সবাইকে কিভাবে সুরক্ষা দেয়। তখন আশিয়ান বলল,,
"তুমি কি বলছো আঙ্কেল আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।"
"কিছু না আশিয়ান। অনেক রাত হয়েছে এখন হসপিটালে দুজনের বেশি লোক এলাও করবে না।আমরা বরং ভাবিকে দেখে বাড়ি যাই কাল সকালে আবার আসবো। ভাবি সুস্থ হোক তারপর জানা যাবে ভাবি কাউকে দেখেছে কিনা?"
তখন আসাদ খান বললেন,,
"আমি পুলিশে ইনফর্ম করে দিয়েছি।তারা বলেছে বিষয়টা তারা দেখবে। ইনশাআল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি কালপ্রিট কে ধরতে পারবে।"
একথা শুনে আয়াত মনে মনে বলল,,,
"ফুপা সেই কালপ্রিট কে ধরা যে এতো সহজ নয়। তারা যে আমাদের মাঝেই বসবাস করে। তারা এমন ভাবে চলে কেউ তাদের ধরতে পারে না। তবে আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো। আজ আমার মায়ের এই অবস্থার জন্য সে দায়ী যদিও আমি জানি গুলিটা আমাকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল। আমি তাকে ছাড়বো না। প্রত্যেক কৃতকর্মের শাস্তি দেব তাকে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।"
~চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন