#আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1
#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
"দু'চোখে কতোই,না রঙিন স্বপ্ন দিনশেষে বিশ্বাস করি স্বপ্নের ঘুড়ি হাতছানি দিবে আর ডানা ভাঙ্গা পাখির মত ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে হলেও ঠিকই পৌছে যাবো লক্ষ্যে কিন্তু পৌছতে আর পারলাম কই !!"
জুনায়েদ চৌধুরীর এ কথার মানে কেউ বুঝতে পারলো না। কিন্তু এটা বুঝতে পারল কতটা কষ্টে এ কথাগুলো বলা। জুনায়েদ চৌধুরীর চোখ দিয়ে একফোঁটা পানি গড়িয়ে পরল। আয়াত বলল,,
"তুমি পেরেছো কাকাই তুমি পেরেছো। "
"আমি পারিনি আহি! আমি পারিনি রেদওয়ান এর সন্তান কে বাঁচাতে।"
"তুমি তো জানতে না তাইনা সেদিন ওরকম হবে। জাওয়াদ তোমাকে সব বললেও সেদিন যে ছোট কাকাই এর সন্তান কে মেরে ফেলবে সেটা তো বলেনি। অবশ্য হয়তো তিনিও জানতো না। তিনি তো এসেছিলেন আমাকে মারতে। আর তোমার জন্যই তো আমি সেদিন বেঁচে ফিরেছি।"
বলেই আয়াত জুনায়েদ চৌধুরীকে ছেড়ে দিল। আর বলল,,
"এই যে তোমার সামনে আমি দাড়িয়ে আছি ।দেখছো না।"
"আমি তো এমন জীবন চাই নি। আমি বরাবরই চেয়েছিলাম সাধারন ভাবে একটু ভালোভাবে বাঁচতে।আমি তো অপরাধী হয়ে বাঁচতে চাই নি। আমার তো দুচোখ ভরে কতো রঙিন স্বপ্ন ছিল। কিন্তু দিনশেষে আমি কি পেলাম।আজও আমার চোখে ভাইয়ার কর্মকাণ্ড গুলো ভাসে কতটা নিষ্ঠুর সে।"
"কাকাই তুমি প্লিজ নিজেকে অপরাধী ভাবা বন্ধ করো। তুমি অপরাধী নও। তুমি তো শুধু জানতে সেগুলো থামানোর সব রকম চেষ্টা করেছো তুমি। সফল ও হয়েছো তাহলে? তুমি তো নিজের হাতে অপরাধ করো নি।"
তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,
"কি হচ্ছে এখানে কেউ কি বলবে? আমি তো তোদের কথা কিছু বুঝতে পারছি না।"
"বাবা পরে বলছি দাড়াও! তার আগে অফিসার আপনারা এখন আসতে পারেন এখানে কারো প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।"
পুলিশরা সবাই চলে গেল। তারপর বলল,,,
"আমার অনেক খুদা লাগছে। সাথে জান ভাইয়া অনেক দূর থেকে এসেছে । আগে আমরা সকলে কিছু খেয়ে নিই সবার ওপর দিয়েই অনেক কিছু গেছে আজ।"
তখন আশিয়ান বলল,,
"তোর কি মনে হয় আহি। এখন সবার, খাবার গলা দিয়ে নামবে।"
"তোমরা খেলে খাও না খেলে না খাও আমার তো খুদা পেয়েছে তোমরা বসে থাকো আমি, জান আর জান ভাইয়া খেয়ে নিই।"
তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,
"এসব কি হেয়ালিপনা।"
তখন আয়েশা চৌধুরী বললেন,,,
"আহি একদম ঠিক বলেছে । অনেক রাত হয়েছে সবাই খেয়ে নাও তারপর বাকি কথা শুনবো।"
"আয়েশা তুমি ও!"
"কি আমিও! আহি কিন্তু আমাকে এখনো বাবার কথা বলে নি। আমি তো সবুর করে আছি। এখন চলো সবাই খেয়ে নাও।"
তখন আয়াত বলল,,
"মা ছেড়ে দাও। জান ভাইয়া চলো ফ্রেশ হয়ে নেবে। তারপর এসে খাবে।"
আয়াত আরাভের হাত ধরে নিয়ে গেল ওপরে। আরাভ ফ্রেশ হয়ে আসলো। তারপর আয়াত ও গিয়ে একটা নরমাল ড্রেস পরে এলো। আনাফ কেও ফ্রেশ করিয়ে দিল। তখন আরাভ বলল,,
"আমার কথাটা কেন বললি না মা বাবাকে?'
"দাদুভাই বলেছে তোমার ব্যাপারে দাদুভাই এসে বলবে।তার জন্য আয়াজকেও সত্যি টা বলা হয় নি। আজ যদি সব মিটে যেতো তাহলে কাল দাদুভাই আর ফুপিমা চলে আসতো। যেহেতু কিছু এখনো মিটেনি সেহেতু আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমার মনে হয় খুব তাড়াতাড়িই আবার কিছু একটা হবে। এখন চলো নিচে যাই খেয়ে দেয়ে আবার পুরোনো ঝুলি নিয়ে বসতে হবে। নিশ্চয়ই তোমার অনেক খুদা লাগছে।"
"তাতো লেগেছেই!"
"চলো আজ তোমাকে মায়ের হাতের রান্না খাওয়াবো।"
আয়াত আরাভ আর আনাফকে নিয়ে নিচে এলো। দেখলো এখনো সবাই সেভাবেই বসে আছে যেভাবে রেখে গিয়েছিল। তখন আয়াত রেজওয়ান আহমেদ কে বলল,,
"ভালোবাবা তুমিও কি তাদের মতো হ্যাং হয়ে গেছো নাকি! খাবেনা তোমরা । তুমি ভাবিকে আর আন্টিকে নিয়ে বসে পরো।"
তখন রোজা বলল,,
"ভাবি কে?"
তখন আরাভ বলল,,
"কে আবার তুমি ! এখন বেশি কথা না বলে বসে পরো। তা আমার বোনের জামাই মিস্টার আয়াজ আপনি খাবেন না।"
তখন আয়াজ বলল,,
"আমার এখন খাওয়ার ইচ্ছে নেই তোমরা খাও।"
আয়াত বুঝলো এভাবে কাউকে খাওয়ানো যাবে না। তাই আয়েশা চৌধুরী আর আঁখি চৌধুরী কে আয়াত ডেকে বলল সবার খাবার প্লেটে বেড়ে দিতে। আয়াতের কথা মতো সবার খাবার আলাদা আলাদা প্লেটে বেড়ে দিল। আয়াত গিয়ে সবাইকে বসিয়ে এক এক করে সবার হাতে এক প্লেট করে খাবার ধরিয়ে দিল। আর ও মাঝখানে দাড়িয়ে বলল,,
"সবার হাতে খাবার পৌঁছে গেছে এখন সবাই খাওয়া শুরু করো।কারো কথা শুনছি না এখন । আরে ভাই আমার খুব খিদে পেয়েছে তোমরা এভাবে বসে থাকলে কি আমি খেতে পারবো। আর ভাইয়া তুই তো জাতীয় পেটুক তুই কিভাবে না খেয়ে থাকিস বলতো। আমার তো তোকে দেখে কষ্ট হচ্ছে। সবাইকে তো বললাম খাওয়ার পর সব বলব এবার সবাই খেয়ে আমাকে একটু উদ্ধার করুন। "
আয়াতের কথা শুনে সবাই একটু হলেও হাসলো। তখন আলেয়া খান বললেন,,
"সবার থেকে তুই বেশি কষ্ট নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছিস অথচ তুই ই সবথেকে বেশি হাসিখুশি দেখাচ্ছিস।"
তখন আয়াত বলল,,
'আমি যদি এত কষ্টে থেকেও হাসি খুশি থাকতে পারি তাহলে তোমরা কেন আমার জন্য একটু হাসতে পারো না।"
আয়াতের কথা শুনে সবাই ওর দিকে তাকালো ও মুচকি হেসে বলল,,
"তোমরা সবাই খেয়ে নাও এখন তাহলে আমি খুব খুশি হবো। রাত এগারোটা বেজে গেছে তোমাদের খেয়াল আছে।প্লিজ এখন আর না বলো না।"
তারপর আয়াত আয়াজ আর আশিয়ান কে ইশারা করলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।তখন আয়াজ বলল,,
"আমার বউ যেহেতু বলছে প্লিজ তোমরা খেয়ে নাও না।"
তখন আশিয়ান বলল,,
"বাব্বাহ আয়াজ তো দেখছি বিয়ের আগেই সব বউয়ের কথা শুনছে বিয়ের পর কি হবে আল্লাহ মালুম।"
"আমার বউ আমি কথা শুনবো তোমার তাতে কি আশিয়ান ভাইয়া।,,
এ কথা শুনে সবাই হেসে ফেললো পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হলো। সবাই আয়াতের কথা মতো খাওয়া শুরু করলো আজ আর কেউ টেবিলে বসে খাচ্ছে না।সবাই সোফায় বসেছে আর কিছু চেয়ার টেনে ড্রয়িং রুমে এনেছে সবাই একসাথে বসে খাচ্ছে আরাভ সবসময় আয়াত কে খায়িয়ে দেয়। আজও তার ব্যাতিক্রম হয়নি।আরাভ আয়াত কে খাওয়াচ্ছে আর নিজে খাচ্ছে আর আয়াত আনাফ কে খাওয়াচ্ছে। আরাভ আর আয়াত আর আনাফ কি যেন একটা বলে হাসছে আর খাচ্ছে। ওরা তিনজন একটু দুরে তিনটা চেয়ার পেতে বসেছে। দূর থেকে সবাই খাওয়ার ফাঁকে ওদের দেখছে। তবে সবাই ওদের তিনজনকে দেখে এটা বুঝতে পেরেছে ওরা তিনজন তিনজন কে অনেক ভালোবাসে । এতদিন আয়াত যে ভালোই ছিল সেটা বোঝা যাচ্ছে। আদিয়ান চৌধুরী ওদের দেখে বললেন,,
"এতদিন আমার মেয়েটা তাহলে ভালোই ছিল!"
রেজওয়ান আহমেদ আদিয়ান চৌধুরীর পাশে ছিল তাই তিনি বলল,,
"যে নদী যত গভীর বেশি,, সে নদীর শব্দ তত কম!
এই কথাটা শুনেছিস তো আদি আহিও ঠিক তেমনটাই। ও এতো দিন যে কষ্টগুলো করেছে সেটা ও কাউকে দেখাতে চায় না। সবসময় হাঁসি আড়ালে কষ্ট গুলো লুকিয়ে রাখে। তবে এটা ঠিক ও এতদিন ওদের সাথে ভালোই ছিল।"
"তুমি তো সব জেনেও আমাদের কিছু জানাও নি।"
"আহি বারন করেছিল।"
"বুঝতে পেরেছি।"
সবার খাওয়া শেষ হলে সবাই আয়াতের কথা শোনার জন্য বসে গেল । আয়াত বলতে শুরু করল,,
"কাকাই সবসময় ই খারাপ কাজকে ঘৃনা করতো। কাকাই সবসময় চাইতো সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করতে । কিন্তু জাওয়াদ খানের জন্য কাকাই না চাইতেও কথামতো সব করতে হতো নাহলে জাওয়াদ খান কাকাইকে ব্লাকমেইল করতো যে তাকে ছেড়ে দেবে। কাকাই সবাইকে হাড়িয়েছে সেই জন্য তার ভাইকে হাড়াতে চায় নি। তাই তার কথামতো চলতে থাকে। তখন কাকাই ভালো খারাপ কে বুঝতে শেখেনি। আর কাকাই দাদুভাই কে দেখে বড় হয়েছে ঠিক ভুল বুঝতে শিখেছে তখন কাকাই জাওয়াদ খানকে এসব করতে মানা করে। কিন্তু জাওয়াদ খান তাকে ব্লাকমেইল করে। তাই রাজি হয় জাওয়াদ খানের কাকাই কে বিশ্বাস হয় না তাই তাকে একটা ঘড়ি গিফট করে যেটার মাধ্যমে কাকাই এর আশপাশের সবকিছু জানতে পারে। এরপর থেকেই জাওয়াদ খান কোন কিছু করার আগে কাকাই কে জানায় । আর কাকাই কে সাথে নিয়ে করে।জাওয়াদ খানের বিশ্বাস ছিল কাকাই দিয়ে খারাপ কাজ করালে কাকাই পুরোটা তার মতো হয়ে যাবে। কাকাই এদিকে একটা কাজ করে জাওয়াদ খানের সামনে অভিনয় করে যে সত্যি তিনি খারাপ হয়ে গেছে। কাকাই আগে থেকেই সব খবর পেয়ে যেতো জাওয়াদ খান নিজেই বলতো। আর সবসময় কিছু না কিছু করে জাওয়াদ খানের প্ল্যান নষ্ট করে দিত। মূলত কাকাই আমাদের সেফ করে রাখতো। তবে কাকাই জানতো না সেদিন আমাদের গাড়ি এক্সিডেন্ট করবে। আর যে ট্রাকটা এক্সিডেন্ট করেছিল সেই ট্রাকে জাওয়াদ আর কাকাই দুজনেই ছিল। আর এর আগে দাদুভাই ওনাদের দুইজনকে অনেক বার একসাথে দেখেছে তাই ও কথা বলেছিল যে কাকাই দাদুভাই কে ভালোবাসে নি। সত্যি বলতে কাকাই কোন অপরাধী নয় কাকাই ছিল আমাদের সেভিয়ার।"
তখন আশিয়ান বলল,,
"তা না হয় বুঝলাম কিন্তু নয় বছর আগে কি হয়েছিল যার জন্য তুই বাড়ি থেকে চলে গেছিলি।"
"মা কাকাই আর কাকিমনি বাড়ি থেকে যাওয়ার পর আমি বাড়িতে একা ছিলাম। আর ছোট কাকিমনি ছিল সেটা অবশ্য আমার মনে ছিল না।কাকিমনির জন্য রাখা কাজের লোকগুলো কোন কারনে সন্ধ্যার পর বাড়ি চলে গেছিল সারা বাড়িতে শুধু আমি আর কাকিমনি ছিলাম।আমি ড্রয়িংরুমে একা বসে কাদছিলাম অহনার জন্য আর মায়ের ব্যবহারের জন্য তখন হঠাৎ কিছুর আওয়াজ পেয়ে আমি চোখ তুলে তাকাই।
ফ্ল্যাশব্যাক,,
"কে!কে ওখানে ?"
"আমি!"
জাওয়াদ খান একথাটা বলে আর সাথে আরো দুইজন লোক নিয়ে এগিয়ে আসে। তা দেখে আয়াত চোখ মুছে বলে ,,,
"আপনি এখানে কি করছেন?"
"কি আর করবো বলো তোমাকে শেষ করতে এসেছি।"
"মানে?"
"মানে হলো যেভাবে তোমার দাদুভাই আর ফুপি কে এ দুনিয়া ছাড়া করেছি সেভাবে আজকে তোমাকেও দুনিয়া ছাড়া করবো।"
তখনি আয়াতের মাথার বাম পাশে কেউ একজন হকিস্টিক দিয়ে বাড়ি মারে। আয়াত আহ... বলে চিৎকার দিয়ে নিচে পরে যায় আর মাথা দিয়ে ব্লিডিং হতে থাকে। জাওয়াদ আয়াতকে টেনে তুলে আর একটা থাপ্পর দিয়ে বলে,,
"তোকে যে আজ মরতেই হবে। তুই বেঁচে থাকলে যে আমি সম্পত্তির কিছুই পাবো না। আহনাফ চৌধুরী বুদ্ধি করে সব তোর নামে করে দিয়েছে তাই না এবার মর তুই। "
এই বলে আয়াতকে একটা ছুড়ি দিয়ে আয়াতের পেটে মারতে নেয়। কিন্তু আয়াত সরে যায় তাই চাকু ওর হাতে লেগে হাত কেটে যায়। ঠিক তখনি আঁখি চৌধুরী ভরা পেট নিয়ে ড্রয়িংরুমে আসে। তখন আঁখি চৌধুরীর রুম নিচে শিফট করা হয়েছিল।তাই তিনি রুম থেকে বেরিয়ে এসে আয়াত কে ওভাবে দেখে আহি চিৎকার দেয়।
"আহি!!!!!"
তখন আয়াত বলে ,,
"কাকিমনি তুমি এখানে? তুমি এখানে কি করছো তুমি এখনি এখান থেকে চলে যাও।আর রুমে গিয়ে দরজা ভালোভাবে বন্ধ করে দেবে।"
আঁখি চৌধুরীর বিয়ের পর কখনো জাওয়াদ খানকে দেখে নি তাই উনাকে চেনে না। তাই আঁখি চৌধুরী বলল,,
"আহি এগুলো কারা। আর তোমার এই অবস্থা কেন? মাথা দিয়ে তো রক্ত পরছে।"
"ওসব পরে হবে তুমি আগে এখান থেকে যাও। নাহলে এরা তোমার বাচ্চার আর তোমার ক্ষতি করে দেবে।"
এ কথা শুনে আঁখি চৌধুরী ভয় পেয়ে গেল। আর পেছনে ঘুরতেই নিল। তখন জাওয়াদ খান আঁখি চৌধুরীর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে কোমরে হাত দিয়ে বলল,,,
"আরে কুল এতো তাড়া কিসের!"
"কে তুমি আর আমাদের সাথে এমন করছো কেন?"
"সেটা তোমার না জানলেও চলবে কিন্তু এখানে এসে তুমি অনেক বড় অপরাধ করে ফেলেছো । এখন যে তোমাকে মরতে হবে।"
আয়াত তখন ফ্লোরে বসে ছিল ওর মাথা আর হাত দিয়ে ব্লিডিং হচ্ছিল চাকুর পরের আঘাত টাও খুব জোরে লেগেছে। আয়াত চিৎকার করে বলল,,
"প্লিজ আমাকে মারতে হলে মেরে ফেলো কিন্তু কাকিমনি কে ছেড়ে দাও প্লিজ!"
তখন জাওয়াদ খান বলল,,
"তোমার কাকিমনিকে এমনিতেও মরতে হবে ওমনিতেও মরতে হবে। কারন তার থেকে যে এবাড়ির বংশধর আসতে চলেছে।"
বলেই আঁখি চৌধুরী কে ধাক্কা মারে আয়াত দৌড়ে গিয়ে আঁখি চৌধুরী কে ধরে ফেলে।আর একটা চেয়ারে বসিয়ে দেয়। তা দেখে জাওয়াদ বলল,,
"ইশশ্ তুমি ও সহজভাবে কাউকে মরতে দাও না। এভাবে কেউ কাউকে বাঁচায়।"
"প্লিজ কাকিমনি কে তুমি কিছু করো না। "
"তুমি অনেক কষ্ট করেছো তাই একটু তোমার কথা রাখতে হয়। আচ্ছা যাও আমি তোমার কাকিমনিকে ছেড়ে দিচ্ছি ।আমি তোমার কাকিমনিকে কিছু করবো না। কিন্তু তোমাকে তো ছাড়বো না।
"আমাকে ছাড়তে হবে না। কিন্তু কাকিমনিকে ছেড়ে দাও।"
"আমি কি বলেছি আমি কিছু করবো না। কিন্তু আমার লোকগুলো তো করতে পারে তাই না।"
তখন জাওয়াদ খানের ফোনে একটা ফোন আসে সেই ফোনটা আর কারো না। সেটা ছিল জুনায়েদ চৌধুরীর ফোন। জাওয়াদ খান এখানে আসার আগে জুনায়েদ চৌধুরী কে সব জানিয়েছিল তাই তিনি কিছুক্ষন পর ফোন দিল। তিনি ফোন করে বলে আদিয়ান চৌধুরী আর রেদওয়ান চৌধুরী বিশমিনিটের মধ্যে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে সে যেনো তাড়াতাড়ি ওখানে থেকে চলে যায়। আসলে তিনি জাওয়াদকে মিথ্যে বলে। তিনি আসতে পারবে না বলে জুনায়েদ চৌধুরী মেসেজ করে রেজওয়ান খানকে সব জানায়। যাতে তিনি আহিকে বাঁচাতে পারে। জাওয়াদ খান ফোন রেখে বলে ,,
"তোমাদের নিজের সামনে মরতে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আমার হাতে এতসময় নেই তাই দেখতে পারবো না। এই তোরা দুটু আহিকে মেরে গুম করে দিস। আর আঁখি চৌধুরী কে বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু সিঁড়ি থেকে ফেলে দিলেই হবে। তোদের কাছে মাত্র বিশমিনিট সময় আছে"
এ কথা বলেই জাওয়াদ ওখান থেকে চলে যায়। আর বাকি দুজন আয়াতের দিকে এগোয়। আয়াত ক্যারাটে জানতো কিন্তু হুট করে মাথায় আঘাত লাগার জন্য ও বেলেন্স হাড়িয়ে ফেলেছিল।তাই কিছু করতে পারে নি। কিন্তু ও এখন কিছুতেই কাকিমনির কিছু হতে দেবে না। লোকদুটু ওদের কাছাকাছি আসলে আয়াত ওদের মারতে থাকে । আয়াত এর আঘাত এর জন্য ওর শরীর দূর্বল হয়ে পরেছিল। আয়াত কিছুক্ষণ পর একাই দূর্বলতার জন্য পরে যায়। তা দেখে আঁখি চৌধুরী আহি চিৎকার দিয়ে ওঠে। লোকদুটু তখন হেসে আঁখি চৌধুরী কে ধরে সিঁড়ির দিকে নিতে থাকে। আঁখি চৌধুরীর অবস্থা খারাপ এই অবস্থায় এগুলো নিতে পারছে না। তার চোখ দুটো বুজে আসছে।তখন আয়াত অসহায় কন্ঠে বলে ,,
"তোমরা ছেড়ে দাও কাকিমনি কে?"
তখনি রেজওয়ান আহমেদ কিছু লোক নিয়ে ওখানে পৌঁছায়। তখন আরাভ ও তার সাথে ছিল।তারা মিলে লোকদুটুকে খুব মারে। রেজওয়ান আহমেদ আর আরাভ মিলে আয়াত আর আঁখি চৌধুরী কে হসপিটালে নিয়ে যায়। আয়াতের তখনো জ্ঞান ছিল কিন্তু আঁখি চৌধুরী অজ্ঞান হয়ে গেছিল।ডাক্তার আয়াত কে রেস্ট নিতে বলে কিন্তু ও নেয় না। ও আঁখি চৌধুরীর ডেলিভারির অপেক্ষা করছিল। আঁখি চৌধুরীর ডেলিভারির কিছুক্ষন পর আঁখি চৌধুরীর জ্ঞান ফিরে তখন আঁখি চৌধুরী বলে,,,
"আহি আমার বাচ্চা?"
"তোমার বাচ্চা একদম ঠিক আছে। তোমার ছেলে হয়েছে।'
"আহি তুমি ওকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাও। যেখানে গেলে সে তোমাকে খুঁজে পাবে না। আমি জানি সে আমার বাচ্চাকে বাচতে দেবে না। সাথে তোমাকেও। তুমি প্লিজ আমার ছেলেকে বাঁচাও। সঠিক সময় এলে তোমরা ফিরে এসো।"
"তুমি ঠিক বলেছো কাকিমনি। কিন্তু তোমার কষ্ট হবে না।"
"সন্তানের ভালোর জন্য মায়েরা সব করতে পারে। তুমি তাড়াতাড়ি ওকে নিয়ে যাও যখন তখন যে কেউ এসে পরবে। আমার কথা চিন্তা করো না। সে আমার কিছু করতে পারবে না। আমি পাগলের মতো থাকবো আর ভয় পাওয়ার অভিনয় করবো যাতে সে সামনে এলেও কোন সমস্যা না হয়। আমি এমন ভাব করবো আমার বাচ্চা মরে গেছে। তুমি তাড়াতাড়ি যাও।"
"হ্যা যাচ্ছি।"
"তোমার জামাইয়ের খুব খেয়াল রাখবে তাকে অনেক ভালোবাসবে আর আমার মতো অভাগা মায়ের কথাও বলবে।"
"সব করবো শাশুড়ি আম্মু তুমি চিন্তা করো না।"
"আমার আহি ঠিক একদিন ফিরে আসবে সব কিছুর হিসাব নিতে।"
"হ্যা আমি ফিরবো সব কিছুর হিসাব নিতে। তুমি আমার অপেক্ষায় থেকো।"
"হ্যা থাকবো।"
তখন রেজওয়ান আহমেদ কেবিনে ঢুকে বলল,,
"আহি তোর পরিবার আসছে।"
আহি তাড়াতাড়ি করে আনাফকে নিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। কিন্তু হসপিটালের বাইরে জাওয়াদ খানকে দেখতে পেল।জাওয়াদ খান কোন কারনে জানতে পেরেছিল যে ওরা এই হসপিটালে আছে তাই তিনি এখানে এসেছিল। তাই আয়াত সোজা গাড়িতে না গিয়ে হসপিটালের পেছন দিকে দৌড়াতে লাগল। আর ওর মনে হচ্ছিল পেছেনে কেউ আসছে কিন্তু কেও ওকে দেখেই নি। আরাভ আর রেজওয়ান আহমেদ গাড়ি নিয়ে হসপিটালের পেছন এ দাড়িয়ে ছিল। ও যেতেই ওরা চলে গেল এয়ারপোর্টের দিকে। আর ওখান থেকেই ইতালি গেল। আয়াতের আগে থেকেই পাসপোর্ট ছিল সেটা রেজওয়ান আহমেদ নিয়ে এসেছিল।
বর্তমান,,,
আয়াত আনাফের আর আরাভের কথা ছাড়া বাকি টুকু বললো কিভাবে রেজওয়ান আহমেদ আর জুনায়েদ চৌধুরী মিলে আয়াতকে বাঁচিয়েছে। আনাফ যে আঁখি চৌধুরীর সন্তান সেটা বলল না। সব কথা শুনে আদিয়ান চৌধুরী জুনায়েদ চৌধুরী কে জরিয়ে ধরলো আর বলল,,
"ধন্যবাদ ভাই আমার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য।আর আমার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য।"
তখন জুনায়েদ চৌধুরী বললেন,,
"আমি আমার পরিবার কে বাঁচিয়েছি এখানে ধন্যবাদ দেয়ার কি আছে। তবে জাওয়াদ শেখ তোমাদের ছেড়ে দেবে না। কিছু না কিছু তো করবেই।"
~চলবে,,