#এই_আশিকি
#পার্ট_০৩
#লেখিকা_আরিফা_তাসনিম_তামু
রাত বাজে ৯টা আরিয়ান মোবাইলে গেমস খেলছে।কোলের উপর অর্নি।মেয়েটা সারাক্ষণ আরিয়ানের গায়ের উপর লাফালাফি করবে। ধমকালেও শুনে না উল্টো জেদ দেখিয়ে বলবে
—আমার সুপারম্যানের গায়ে আমি একশবার লাফালাফি,নাচানাচি আমার যা ইচ্ছে তাই করবো তাতে তোমার কী আরিয়ান?
প্রথম যেদিন এই কথা আরিয়ান শুনে সেদিন সে অবাক না হলে পারল না।এই পুঁচকে মেয়ে তাকে রাগ দেখাচ্ছে? ফু দিলে উঠে যাবে আর এই মেয়ের জেদ দেখো।আরিয়ান সেদিন বিরবির করে একটা কথাই বলেছিলো।
—বড় হয়ে যা কপালে আছে তাকে একবারে নাচিয়ে ছাড়বে।
*****
—খুূদা লাগছে আমার।
অর্নির কথায় মোবাইল টা পাশে রেখে। খাট থেকে নেমে বলে।
—সারাক্ষণ আমার গায়ের উপর লাফালাফি, নাচানাচি সব করতে পারো কিন্তু নিজ হাতে খেতে বললে সেটা পারো না কেন?
—সেটা আমার ইচ্ছে। আমি নিজ হাতে কখনো খাবো না তুমি সারাজীবন আমাকে খাইয়ে দিবে।
মেয়েটা বড্ড জেদি।সে যা বলবে তাই হতে হবে।নিজ হাতে খেতেই চায় না।অবুঝ দেখে না বুঝে কত সহজে বলে ফেলেছে "তুমি সারাজীবন আমাকে খাইয়ে দিবে" কিন্তু এই মেয়েকে কে বুঝাবে তাকে খাইয়ে দাওয়ার জন্য আরিয়ান সারাজীবন থাকবে না। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আরিয়ান যেতে যেতে বলে।
—নিচে আসো খাইয়ে দিচ্ছি।
—কোলে না নিলে জাবো না।হেঁটে যেতে ইচ্ছে করছে না।
কোমড়ে হাত দিয়ে কথাটা বলে অর্নি।আরিয়ান হাঁটা থামিয়ে পিছনে ফিরে ভ্রু কুঁচকে চায়। আরিয়ান কে এভাবে তাকাতে দেখে অর্নি গাল ফুলিয়ে দু"হাত মেলে দেয় তাকে কোলে নাওয়া জন্য। তা দেখে আরিয়ান মনে মনে বলে।
—এখন না আবার বলে বসে আমাকে সারাজীবন কোলে নিয়ে বসে থাকবে।
—কী হলো দাঁড়িয়ে আছো কেনো কোলে নাও।তোমাকে সবকিছু বলে দিতে হয় কেন আরিয়ান?তাড়াতাড়ি কোলে নাও আর যেন বলতে না হয়। সারাজীবন আমাকে কোলে করে নিয়ে ঘুরবে।
আরিয়ানের ভাবনার মাঝেই কথা বলে অর্নি।আরিয়ান হতাশ এটুকুনে মেয়ে এতো পাকা পাকা কথা কেমনে বলে আরিয়ান ভেবে পায় না।আরিয়ান চুপচাপ গম্ভীর মুখে এগিয়ে গিয়ে কোলে তুলে নেয়।অর্নি কোলে উঠে মহা খুশি আরিয়ানের গাল টা টেনে দিয়ে বলে
—মুখটা এমন করে রেখেছো কেন?একটু হাসতে পারো না?
—না পারি নাহ।
আরিয়ানের সোজাসাপ্টা গম্ভীর কন্ঠের উওর।তা শুনে অর্নি বলে
—কেনো দাঁত ব্রাশ করো নি নাকি?তাই লজ্জা পাচ্ছো দাঁত বের করে হাঁসতে?আরে আমি কিছু মনে করবো না তুমি হাসো আমিও আগে ব্রাশ করতে চাইতাম না।কত কত দিন যে ব্রাশ করে নি।
আরিয়ান হতাশ বড্ড হতাশ সে ভেবে পায় না তার এতো ধৈর্য আসলো কোথায় থেকে?যেখানে সে কথা কম বলে মানুষের থেকে দূরে থাকে সব সময় একা থাকতে পছন্দ করে। তার সাথে এমন বাঁচাল মেয়ের কীভাবে দেখা হলো?
—শালার কর্নেল বেঁচে থাকলে নিশ্চিত জিজ্ঞেস করতাম কী খেয়ে এটা ডাউনলোড দিয়েছে।আমাকে তো নাচিয়ে নাকি চুবুনি খাওয়াচ্ছে। বড় হয়ে যার কপালে যাবে তাকে মনে হয় এক দন্ডও শান্তি দিবে না।রাত দিন সারাক্ষণ নাচিয়ে ছাড়বে।
—তুমি রাত দিন সারাক্ষণ নাচতে চাইলে আমার দেখতে সমস্যা নেই নাচো।আমার নাচ দেখতে ভালোই লাগে।
কথা গুলা আরিয়ান বিরবির করে বললও শেষের লাইনটা অর্নি শুনে যায়।আরিয়ান কিছু না বলে হাঁটা দেয়।এই মেয়ের সাথে সে পারবে না। সে হার মেনে নিয়েছে।
__________
আরিয়ান ভাত মাখিয়ে অর্নির মুখে দিচ্ছে। আর অর্নি চেয়ারে বসে পা দুলাচ্ছে আর খাচ্ছে।
—তুমি খাচ্ছো না কেন?
—পরে খাবো আগে তুমি খাও।
—না আমার সাথে খাবে এক্ষুনি খাও।
আরিয়ান আর কথা না বাড়িয়ে ভাত মুখে দেয়।
—আরিয়ান তুমি বিয়ে করবে কবে?
এমন কথায় আরিয়ানের কাশি উঠে যায়।তড়িঘড়ি করে মুখের খাবার গিলে পানি খেয়ে অর্নি দিকে তাকায়।এই কথাই বোধহয় শুনার বাকি ছিলো।এই পুঁচকে মেয়ে বিয়ে সম্পর্কেও জানে?আর আরিয়ানের কী এখনো বিয়ে বয়স হয়েছে?
— হঠাৎ আমার বিয়ের কথা মনে হল কেন?
—তুমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছো তো।
আরিয়ানের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। সে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে? সিরিয়াসলি? সে যদি মাএ ১৮ বছর বয়সে বুড়ো হয়ে যায় তাহলে যারা ৩৪_৩৫ বছর হওয়ার পরও বিয়ে করে না তাঁরা কী?
—তোমার কেন মনে হল আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি?
—এই যে তোমার একটু একটু দাঁড়ি উঠছে। দাঁড়ি তো বুড়োদের থাকে।
কী বলবে আরিয়ান?তার কাছে কী এই মেয়ের অদ্ভুত অদ্ভুত কথার উওর আছে?
—তাড়াতাড়ি করে খাবার শেষ করো। খাওয়ার সব বেশি কথা বলতে নেই।
অর্নি আর কিছু বলে না ভদ্র বাচ্চার মতো খেয়ে নেয়।
_____
ঘুমাতে গেলে আরিয়ানের আরেক জ্বালা।অর্নি একা ঘুমাবে না সে আরিয়ানে সাথেই ঘুমাবে।আরিয়ান কী আর করবে ওকে উপরে শুইয়ে নিজে নিচে শুতে গেলে।অর্নি এক লাফে ওর বুকের উপর শুয়ে পড়ে।আজকেও তাই হলো।অর্নিকে উপরে শুইয়ে দিয়ে আরিয়ান নিচে শুতে না শুতে আরিয়ানের বুকের উপর উঠে শুয়ে পড়ে।
—কী হচ্ছে কী কিউটিপাই?
—আমি এখানে তোমার বুকে ঘুমাবো।
—এখানে ঘুমানো ভালো না বলছি না যাও উপরে যাও।
—না তোমার বুকে ঘুমাবো।এখানে ঘুমাতে ভালো লাগে।আমি সবসময় তোমার বুকে ঘুমাতে চাই।
—এটা ভালো না খারাপ কিউটিপাই চলো উপরে আমি ঘুম পাড়িয়ে দিবো।
অর্নি জেদ ধরে সে জাবে না।শক্ত করে আরিয়ানকে চেপে ধরে। আরিয়ান তপ্ত শ্বাস ফেলে অর্নির চুলে বেলি কেটে দেয়।কিছুক্ষণের মধ্যে অর্নি ঘুমিয়ে যায়।আরিয়ান ওকে খাটে শুইয়ে কম্বল গায়ে দিয়ে দেয়।
______
—তোমার কথা আজকে বড্ড বেশি মনে পড়ছে আম্মু। দেখো তোমার ছেলের খুব কষ্ট হচ্ছে। তুমি মাথা হাত বুলিয়ে দিবে না?বলবে না কষ্ট পাস না মা আছি তো সবসময় তোর সাথে?
জানো আম্মু আমি একটা বাঁচাল পুঁচকে মেয়ে পেয়েছি।সারাক্ষণ বকবক করে।আমার তার বকবক শুনতে ভালোই লাগে।মাঝে মধ্যে বিরক্ত হলেও কেন জানি ধমক দিতে পারি না।মেয়েটার চোখের পানি সহ্য হয় না।মেয়েটারও আমার মতো কেউ নেই।আমি এতো বড় হয়েও আমার অনেক কষ্ট হয় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।আর ও তো ছোট বাচ্চা ওর তো আমার থেকেও বেশি কষ্ট হবে। তাই চাইলেও বকতে পারি না।মেয়েটা বাঁচাল হয়েও মনটা ফুলের মতো।তুমি ওর জন্য দোয়া করিও আম্মু ও যেন সুন্দর একটা জীবন পায়।
অন্ধকার আকাশের প্রানে চেয়ে কথা গুলো বলে থাকে আরিয়ান।হাতে থাকা গিটার টা পাশে দেখে ছাদের রেলিংয়ের সাথে হেলান দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে ধরা আসা গালায় গেয়ে উঠলো আরিয়ান—
*ঐ চাঁদের টিপে 🌙*
*মন ভোলেনা মা*
*দোলনা দোলে*
*মন দোলেনা মা 💔*
*রাতের চোখে*
*ঘুম যে নামে*
*চাঁদের পাশে*
*মেঘ যে থামে*
*রাতের চোখে*
*ঘুম যে নামে*
*চাঁদের পাশে*
*মেঘ যে থামে*
*আমার পাশে*
*নেইতো তুমি মা...😔*
*তোমায় ছাড়া*
*ঘুম আসেনা মা*
*মাগো তোমায় ছাড়া*
*ঘুম আসেনা মা 💔*
এইটুকু গেয়ে থামে আরিয়ান।চোখ বেয়ে দু পোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।আরিয়ার তড়িঘড়ি করে তা মুছে ফেলে।
চলবে,,,,,
[পার্টটা ছোট হয়ে গেছে।নেক্সট পার্ট বড় করে দিবো ইনশাআল্লাহ।গল্পটা কেমন লাগছে তোমাদের কাছে অবশ্যই ভালো মন্দ জানাবে]
# এই _আশিকি
# আরিফা__তাসনিম__তামু