ফন্ট সাইজ:
থিম:
এই আশিকি

৭ম পর্ব

লেখক: আরিফা তাসনিম তামু
#এই_আশিকি 
#পার্ট_০৭
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু 
এতো রাতে মেহেদী ডাক্তার নিয়ে আরিয়ানদের বাসায় এসেছে, সেই হাসপাতালে গিয়ে মনে হয় মেহেদী শুধু পা ধরে নি ডাক্তারের,,, ডাক্তার বলেছিলো রোগীকে যেনো হাসপাতালে নিয়ে আসে কিন্তু মেহেদী জোর করলো যাতে বাসায় গিয়ে অর্নিকে দেখে আসে 
তারপর আর কি করার ডাক্তার মেহেদীর এতো রিকোয়েস্ট দেখে না করতে পারলো না 
ডাক্তার নিয়ে আসতে আসতে প্রায় রাত ১:৪৫ এর মতো বেজে গেছে 
এসে দেখে আরিয়ান অর্নিকে জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছে 
আরিয়ান দরজা খুলেই রেখে এসো ছিলো তাই আর আলাদা করে দরজা নক করতে হয়নি 
মেহেদীর কাশিতে আরিয়ান ওদের দিকে তাকালো 
মেহেদী দেখলো আরিয়ানের চোখ লাল হয়ে আছে 
চুল গুলি এলোমেলো,পরনের শার্টটার অবস্থাও ভালো না।
তারপর হঠাৎ খেয়াল করলো আরিয়ানা ওর দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে 
মেহেদী একটু ঢক গিলে বললো 
-- আরিয়ান এই যে ডাক্তার। 
আরিয়ানকে কিছু না বলতে দেখে মেহেদী ডাক্তারকে বললো অর্নিকে দেখতে 
ডাক্তার বিছানার কাছে দাঁড়ালে মেহেদী একটা চেয়ার এনে তাকে বসার জন্য বলে,, ডাক্তার বসে অর্নিকে টুকটাক চেক করতে লাগলো আর আরিয়ান পাশে দাড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সব পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো 
কিছুক্ষণ চেক করার পরে ডাক্তার বললো 
-- এটা এমনি সিজনাল জ্বর 
চিন্তার কিছু নেই 
মেহেদী বললো 
-- তারপরও কি কোনো টেস্ট করতে হবে? 
-- না টেস্ট এর আপতত কোনো দরকার নেই 
আমি কিছু ঔষধ লিখে দিচ্ছি আপতত ওটা খাওয়ালেই হবে তবে ৩দিনের বেশি জ্বর থাকলে ল্যাবে গিয়ে টেস্ট করিয়ে নিবেন একটা 
-- আচ্ছা 
ডাক্তার জিজ্ঞেস করলো 
-- বাচ্চাকে মেরেছেন কেন 
গালে থাপ্পড়ের দাগ পড়ে আছে 
আরিয়ান এবং মেহেদী দুজনকে চুপ করে থাকতে দেখে ডাক্তার আবার জিজ্ঞেস করলো 
-- আপনারা এই বাচ্চার কি হোন? বাচ্চার বাবা মা কোথায়? 
আরিয়ানকে চুপ থাকতে দেখে মেহেদী বলে উঠলো 
-- কাজিন, কাজিন হই আমরা ওর 
-- তাহলে ওর বাবা মা 
-- নেই
এবার আরিয়ান উত্তর দিলো 
আরিয়ানের উত্তর শুনে ডাক্তার এবং মেহেদী দুজনেই ওর দিকে তাকালো 
তারপর ডাক্তার বললো 
-- ইসরে কি মিষ্টি বাচ্চা মেয়েটা এটুকু বয়সেই বাবা মাকে হারিয়ে ফেললো 
যাইহোক একদিকে আপনি জলপট্টি টা দিয়ে ভালো করেছেন এখন যেহেতু ও ঘুমিয়ে আছে একটু পরে ডেকে কিছু খাইয়ে ঔষধ কটা খাইয়ে দিবেন 
তাহলে আশা করি জ্বরটা কালকের মধ্যে কমে যাবে 
এই বলে ডাক্তার উঠে দাঁড়ালো মেহেদী এগিয়ে এসে আরিয়ানকে বললো 
-- তুই থাক আমি গিয়ে ঔষধ নিয়ে আসছি 
-- হুম টাকা নিয়ে যা 
-- লাগবে না আমার কাছে আছে 
-- জানি তোর কাছে আছে তারপরও নিয়ে যা 
এবার মেহেদী একটু রাগি হয়ে বললো 
-- আরিয়ান লাগবে না আছে তো আমার কাছে। 
এই বলে ডাক্তারকে নিয়ে বেড়িয়ে গেলো 
আরিয়ান এসে অর্নির মাথার কাছে বসলো আস্তে করে অর্নির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো 
আরিয়ান ভাবতে থাকলো কয়েক ঘন্টার মধ্যে কত কি হয়ে গেলো,,, আসলেই বিপদ আসার কোনো সময় নেই 
হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই আরিয়ানের হাত থেমে গেলো ও অর্নির মাথা থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে আস্তে করে দাঁড়ালো তারপর গিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ পানে চেয়ে রইলো 
আজকের চাঁদটা ভিষণ সুন্দর দেখাচ্ছে আজ মনে হয় পূর্ণিমা তাই এতো সুন্দর চাঁদ
আরিয়ানের ওর মায়ের কথা মনে পড়লো খুব করে 
চোখ দুটি বুজে আস্তে ডেকে উঠলো 
-- মা
আরিয়ানের গাল বেয়ে পানি পড়তে লাগলো 
এদিকে মেহেদী এসে রুমে আরিয়ানকে দেখতে না পেরে বারান্দায় উঁকি মারলো 
দেখতে পেলো আরিয়ান দাড়িয়ে আছে 
মেহেদী বারান্দার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আস্তে করে ডেকে উঠলো 
-- আরিয়ান 
আরিয়ান দ্রুত নিজের চোখের পানি মুছে নিলো তারপর বললো 
-- সব ঔষধ এনেছিস? 
-- তুই কাঁদছিলি?
-- নাহ্ 
-- মিথ্যা আমি দেখতে পেলাম তুই কাঁদছিলি 
আরিয়ান তুই কাদছিস কেন 
তুই তো সহজে কেঁদে দেয়ার মানুষ না।
আরিয়ান কিছু বললো না আস্তে করে মেহেদীকে পাশ কাটিয়ে ঘরে ঢুকে অর্নিকে আস্তে করে মাথায় হাত বুলিয়ে ডাকাতে লাগলো 
-- কিউটিপাই? 
অর্নির ঘুম আবার সহজে ভাঙে না 
তাই আরিয়ান আবার ডাক দিলো 
-- কিউটিপাই? এই কিউটিপাই 
অর্নি হালকা একটু নড়ে উঠলো 
-- কিউটিপাই আমার উঠে পড়ো কিছু খেতে হবে তোমায় তারপর আবার ঔষধ আছে 
অর্নি আস্তে করে পিটপিট করে তাকালো 
আরিয়ান ওর দিকে তাকিয়ে একটা  শুকনো হাসি দিলো 
তারপর কোলে করে উঠিয়ে বসালো অর্নিকে 
অর্নি চুপ করে বসে আছে শরীরে জোর পাচ্ছে না
আরিয়ান মেহেদীকে বলে গেলো অর্নিকে একটু দেখতে ও নিচে খাবার নিয়ে আসছে,,,মেহেদী এসে অর্নির পাশে বসলো। তাকায় মেয়েটার দিকে সর্বপ্রথম নজরে আসে পাঁচ আঙ্গুলের চাপ বসা গালটায়।মেহেদীর মায়া হয় ইস করতো কিউট একটা বাচ্চা কীভাবে পারলো রুশা এমন কাজ করতে।মেহেদী অর্নির মন ভালো করার চেষ্টা করে।
এদিকে রাতে রান্না করা হয়নি তাই আরিয়ান দ্রুত নুডুলস রান্না করে নিয়ে গেলো অর্নির জন্য 
খাবার নিয়ে এসে দেখলো 
অর্নি খাটে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে 
আরিয়ান এসে ওর মুখের কাছে খাবার আনলে অর্নি মুখে ফিরিয়ে বলে উঠলো 
-- খাবো না 
আরিয়ান বললো 
-- কিউটিপাই তুমি অসুস্থ একটু খাও তারপর ঔষধ খেতে হবে 
তারপরও অর্নি মুখ ফিরালো না 
আরিয়ান বললো 
-- কিউটিপাই তুমি না খেলে আমিও খাবো না কিন্তু 
অর্নি তাকালো আরিয়ানের দিকে তারপর একটু পর ছোট করে হা করলো 
আরিয়ান মুচকি হেসে বললো 
-- Good girl 
তারপর অর্নিকে খাইয়ে দিতে লাগলো কিন্তু অর্নি খুব একটা খেতে পারলো না 
তারপরও যেটুকু খেয়েছে তারপর ঔষধ খাইয়ে অর্নিকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে লাগলো আরিয়ান 
এতকিছুর মাঝেও অর্নি আর কোনো কথা বললো না 
যেটায় আরিয়ানের একটু খারাপ লাগলো কিন্তু সে ভাবলো যেহেতু অসুস্থ তাই হয়তো কথা বলছে না 
আরিয়ান সুন্দর করে অর্নিকে কবিতা বলে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে
মেহেদী এতক্ষণ নিরব দর্শক হয়ে দেখছো হঠাৎ বিরবির করে বললো 
-- আল্লাহ তুমি আরিয়ান আর তার কিউটিপাইকে সবমসময় ভালো রেখো।
চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন