নাম: অপূর্ণতার মাঝে পূর্ণতা
লেখিকা: Tahodiya Nousin
পর্ব:৬
দিয়া স্কুল থেকে বাসায় চলে আসলো গরমে সিদ্ধু হয়ে গেছে, বাসায় এসে বিশ্রাম নিয়ে মোবাইল অন করে টিকটকে গেলাম, তারপর দেখি রুমান ভাইয়া ভিডিও আপলোড করছে, দিয়া মনে মনে ভাবলো এতো সুন্দর কেন ভাইয়া, এভাবে মোবাইল দেখে কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়লো।
ঘুম থেকে উঠতে সন্ধা হয়ে গেলো তারপর দিয়াকে পড়াতে আসলো, পড়ানো শেষে চলে গেলো, দিয়া কোনো পড়া কমপ্লিট না করে মোবাইল দেখতে লাগলো তার আম্মুর।
বড় ফুপপি ফোন করার পর শুনলাম ভাইয়া নাকি ঢাকায় আসবে।
একসপ্তাহ পর রুমান ঢাকা আসলো তার চাচাতো বোনের ছেলের সুন্নতে খাৎনার দাওয়াতে, দিয়াদের পরিবারের সবাইকে দাওয়াত দিয়েছে তারাও যাবে।
আজকে অনুষ্ঠান তাই তারা সবাই রেডি হচ্ছে, দিয়া লেমন কালার গাউন সাথে গোল্ডন কালার হিজাব পরেছে, রুমান পরেছে আবারও নীল কালার একটা শার্ট।
সকলে অনুষ্ঠানে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করলো, তারপর দিয়া ছবি তুললো গেট রেডির ভিডিও করলো।
বাসায় এসে রেস্ট নিয়ে টিকটকে ভিডিও ইডিট করে আপলোড করলো,সেই ভিডিওতে রুমান লাইক দিলো কমেন্ট করলো।
দিয়া ধিরে ধিরে রুমানকে ভালোলাগা থেকে ভালোবেসে ফেলেছে তা সে এখনও বুঝতে পারতেছে না। সামনে কি হবে তার ভালোবাসার পূর্ণতা নাকি অপূর্ণতা।
রুমান গ্রামে চলে গেছে।
___________________
কালকে তার দাদা দাদি সুমাকে আনতে বাড়িতে যাবে সাথে সুমার বেস্ট ফ্রেন্ড সিনথিয়া ও তার হাসবেন্ড ও যাবে, দিয়া আর রিয়ানা যাওয়ার জন্য কান্না-কাটি করছে কিন্তু তাদের আম্মু যেতে দিবেনা তাদের।
আজকে সুমাকে আনতে ভোলা যাচ্ছে কিন্তু দিয়া ও রিয়ানাকে যেতে দিবেনা কিন্তু তারা ব্যাগ গুছিয়ে বসে আছে তারা যাবে দিয়ার আম্মু অফিস থেকে এখনো আসে নাই, তাই সকলে বুদ্ধি করলো এই ফাঁকে ওদের নিয়ে চলে যাবে পরে যা হওয়ার হবে।
তারা সিএনজিতে উঠার পর দিয়ার আম্মু ফোন দিলো তারপর চিল্লা চিল্লি করলো পরে দিয়া মন খারাপ করলেও সবাই মিলে সান্তনা দিলো।
ভোরে তারা বড় ফুপপির বাড়ি চলে আসলো এরপর সকলে দশটার দিকে ছোট ফুপপির বাসায় চলে গেলাম।
বিকালে সবাই মিলে মেহেদী কাকাকে বললাম ফুচকা ট্রিট দিতে মেহেদী কাকা বললো যে যতো পারো আনলিমিটেড খাবা দেখবো কে কতো খেতে পারো।
সন্ধার সময় মেহেদী কাকা ভাইয়ার ফোন হাইজেক করলো তারপর আমি আর সাদিয়া আপু বাদে সকলে ভাইয়ার গফ এর ছবি দেখছে,আমরা দেখার আগে ভাইয়া মোবাইল নিয়ে গেলো যাহ মিস হয়ে গেলো।
আমার মনে কেন যানি কষ্ট লাগলো, তারপর সবাই ফুচকা খেতে গেলাম, ফুচকায় এতো ঝাল দিয়েছে যে এক প্লেট এর বেশি আর কেউ খেতে পারলো না, মেহেদী কাকা (ছোট থেকে কাকা বলার অভ্যাস তাই কাকা বলি) বলে আরও খাও পরে বুঝলাম সে ইচ্ছে করে এমন করছে তারপর সবাইকে আইসক্রিম খাওয়ালো।
_____________________
সকালে ঘুম থেকে উঠে সাদিয়া আপুর মোবাইলে দেখি ভাইয়ার আইডিতে একটা মেয়ের ছবিতে ফেস হাইড করে স্টোরি দিয়েছে, দিয়া স্ক্রিনশট দিয়ে রাখলো।
সিনথিয়া ও তার হাসবেন্ডকে এক রুমে দেওয়া হয়েছিল তারা অনেক মোটা ছিল যার কারনে লাফালাফি করাতে খাট ভেঙে যায়, ঘরের সবার মাথায় হাত এখন কি করবে মানুষ কি ভাববে,লোক এনে খাট ঠিক করায়, এই কাহিনী নিয়ে সবাই হাসাহাসি করলো।
রাতে রুমান দিয়াকে বললো,
রুমান: একটা জিনিস দেখবি?
দিয়া:কি
তারপর রুমান তার মোবাইলে অনেক মেজেছ দেখাতে থাকে একজনের আইডিতে কিন্তু পড়তে দেয়নি শুধু স্কল করে দেখায়।
বুঝাতে চেয়েছে যে মেয়ের সাথে কথা বলে তার সাথে করা মেসেজ তারপর কিছু ছবি ফেস হাইড করা তার সাথে একটা মেয়ের।দিয়া ভাবলো হয়তোবা কোনো ফ্রেন্ড আর মেসেজ গুলো এমনেই কারো সাথে কিন্তু মনে কিরকম জানি করতে ছিল তা কেন সে হয়তো একটু হলেও উপলব্ধি করতে পেরেছে।
_________________
আজকে তারা সুমাকে নিয়ে ঢাকা চলে যাবে তাই রেডি হয়ে রওনা দিলো, রুমান তাদের লঞ্চে উঠিয়ে দিতে গেল তারপর কেবিনে দিয়ে সে চলে গেলো, দিয়া তারপর বারান্দায় দাড়ালো হঠাৎ দিয়া সামনে তাকালো দেখলো তার থেকে অনেকটা দূরে রুমান তার দিকে তাকিয়ে আছে তাকে তাকাতে দেখে রুমান চলে গেলো।
দিয়া ভাবলো তার দিকে তাকিয়ে ছিল কেন তাকে কি রুমার পছন্দ করে আর যদি পছন্দ করে তাহলে ছবি মেসেজ এগুলো কি,তার সাথে এসব কি হচ্ছে কয়েকটা মাস ধরে এসব ভেবে সে ক্লান্ত, দিয়া যানে না সামনে কি হবে।
চলবে,
( ভুল হলে দুঃখী এবং ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন)