ফন্ট সাইজ:
থিম:
যেই তোমার হাওয়া আমাকে ছুঁলো

১২তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

যেই তোমার হাওয়া আমাকে ছুঁলো

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

১২.

শা শা শব্দ তুলে গাড়ি এসে থামে পুরান ঢাকার বেশ বড় এক বাড়ির সামনে। গাড়ি থেকে নেমে আসে আফজাল সাহেব, সাদিকা বেগম, পার্থ ও শোভন। বাড়ির সামনে খেলতে থাকা দুটি ছোট বাচ্চা তাদের দেখেই দৌড়ে ভেতরে চলে যায়। আফজাল সাহেব সবার অগোচরে নিজের বুকে সামান্য ফু দেয়। এই বাড়িতে আসলেই উনার মনে হয় এই বুঝি হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে। সবার উপর কর্তৃত্ব চালানো আফজাল সাহেব নিজের শশুড় উজ্জ্বল মোল্লাকে বেশ ভয় পান। এই একজনের সামনেই উনি বাঘ থেকে বিড়াল হয়ে যায়।

আফজাল সাহেবরা দরজা পেরিয়ে ঘরের আঙিনায় প্রবেশ করতেই দুজন হাস্যজ্বল মহিলা উনাদের দিকে এগিয়ে আসে। সম্পর্কে তারা পার্থর দুই মামার স্ত্রী হন। সাদিকা বেগম নিজের ভাবিদের সাথে কুশল বিনিময় করে প্রশ্ন করে,

“ আব্বা কোথায়? ভাইজানদেরও দেখছি না যে। “

পার্থর বড় মামী বলে উঠে,

“ আব্বা তো ঘরের ভিতরে। আর তোমার দুই ভাইজান এবং ভাইপো কাজে গেসে। তোমরা দাঁড়ায় আছো কেন? ভিতরে আইসা বসো। “

আফজাল সাহেবরা বসার ঘরে বসতেই দুই মামী নাস্তা পানির ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সাদিকা বেগমের ভাজতি শর্মী এবং ভাইপোর স্ত্রী রাহেলা শরবত পরিবেশন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শর্মী পার্থকে শরবত এগিয়ে দেওয়ার সময় ইচ্ছে করেই পার্থর আঙুল ছুঁয়ে দেয়। পার্থ গরম চোখে তাকাতেই সে লজ্জায় দূরে সড়ে দাঁড়ায়।

এরই মাঝে পান চিবুতে চিবুতে বসার ঘরে প্রবেশ করেন উজ্জ্বল মোল্লা। উনাকে দেখতেই সবাই উঠে দাঁড়ায়। আফজাল সাহেব এগিয়ে গিয়ে সালাম জানায় উনাকে। উজ্জ্বল মোল্লা সেই সালামের জবাব নেয় না। বরং কিছুটা তিরষ্কার করে বলেন,

“ আহারে! আমার মাইয়াডা কি সুন্দর চাঁদের লাহান আসিলো। এখন তো শরীরে একটা মাংসও নাই। তুমি কি আমার মাইয়ার যত্ন নাও না গো পার্থর আব্বা? “

আফজাল সাহেব মাথা নত করে বিনয়ী ভঙ্গিতে বলে,

“ ছি, ছি কি বলেন আব্বা! “

উজ্জ্বল সাহেব চারিদিকে একবার নজর বুলিয়ে বলে,

“ আমার নাতনিডা কই? পৃথারে লগে কইরা আনো নাই ক্যালা? “

সাদিকা বেগম বলে উঠে,

“ পরের বার ওকে সাথে করে নিয়ে আসবো আব্বা। “

উজ্জ্বল সাহেব সতর্ক দৃষ্টি তাক করেন মেয়ে এবং মেয়ের জামাইর দিকে। তার বিচক্ষণ দৃষ্টি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে যায় এখানে কোনো ঘাপলা আছে। উনি প্রশ্ন করে,

“ কি হইসে? চেহারার এমন বারোডা বাইজ্জা আছে ক্যালা? “

সাদিকা বেগম বলে,

“ সবাই আসুক আব্বা। তারপর বলছি। “

পার্থর দুই মামা এবং মামাতো ভাই আধঘন্টার ভেতরেই এসে পৌঁছায়। সবার সাথে কুশল বিনিময় করে তারা বসতেই আফজাল সাহেব বলেন,

“ আসলে আব্বা একটা গুরুত্বপূর্ণ খুশির খবর জানাতে আজকে এসেছি। “

উজ্জ্বল মোল্লা প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাতেই উনি বলে উঠে,

“ সামনের সপ্তাহে পার্থর বিয়ের ডেট ঠিক করেছি আমরা। “

উপস্থিত সবাই বেশ অবাক হলো। তাদের মধ্যে শর্মী সবথেকে বেশি অবাক হলো মনে হচ্ছে। উজ্জ্বল সাহেব বলে,

“ কিছু জানলাম না, হুনলাম না ডাইরেক্ট বিয়ার দাওয়াত দিতে আইয়্যা পড়সো। “

“ আসলে আব্বা মেয়ে পার্থর পছন্দ করা। গতকালই কথা পাকা করে এলাম। “

“ পোলা দেখি এক্কেরে বাপের মতন হইসে। নিজের পছন্দে বিয়া করবো। “

আফজাল সাহেব মনে মনে বিরক্ত হয়। তাকে খোঁটা না দিলে যেনো তার শশুড়ের ভাত হজম হয় না। এটাই শেষ বার। এর পরের জনমে জীবনেও আর কারো মেয়ে নিয়ে ভাগবেন না তিনি। এই জনমেই ঢের শিক্ষে হয়েছে। আফজাল সাহেব ভয়ে ভয়ে বলে,

“ আরেকটাও কথা বলার ছিলো আব্বা। “

“ কি কথা? “

“ পার্থ যেই মেয়েকে পছন্দ করেছে ওই মেয়ের একটা ছোট ভাই আছে। শিক্ষিত, ভালো চাকরি করে। ছেলেটাকে আমাদের বেশ পছন্দ হয়েছে। তাই কাল আমরা পৃথার আকদ পড়িয়ে দিয়েছি। এক দুই বছর পর অনুষ্ঠান করা হবে। “

উজ্জ্বল সাহেবের মাথায় হাত,

“ খাইসেরে! কি গো পার্থর বাপ? তুমি নিজেও লুকায়া বিয়া করসিলা এখন পোলাপাইনগোর বিয়াডাও দেখি লুকাইয়াই সাইরা ফালাইতাসো। “

সাদিকা বেগম কথার মাঝে ফোড়ন কেটে বলে,

“ যেই যুগ আসছে আব্বা! ভালো ছেলে মেয়ে পাওয়া মুশকিল। তাই এতো ভালো একটা ছেলে পেয়ে আমরা আর অপেক্ষা করি নি। “

উজ্জ্বল সাহেব সেই কথায় পাত্তা না দিয়ে বলে,

“ হেইসব বাদ দে তুই। আগে ক আমার নাতনিরে জোর কইরা বিয়া দেস নাই তো? ওয় রাজি আছিলো? “

“ হ্যাঁ আব্বা। পৃথার মতেই বিয়ে হয়েছে। “

উজ্জ্বল সাহেবের উপস্থিতিতে উনার ছেলেরা এবং ছেলের বউরা এই বিষয়ে আর কোনো কথা বলে না। কিন্তু তারা কেউই যে এই পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট না তা তাদের চোখে মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠছে। বিশেষ করে পার্থর ছোট মামী এই বিষয়ে বেশ অসন্তুষ্ট। উনি নিজের মেয়ে শর্মীর জন্য পার্থকে পাত্র হিসেবে চাইতেন সবসময়। নিজের ননদ সাদিকা বেগমকে আকারে ইঙ্গিতে বেশ কয়েকবার এটা বলেছেনও উনি। কিন্তু সাদিকা বেগম সবসময় বুঝেও না বুঝে থাকার ভান করতো। উনার চাঁদের মতন মেয়েকে রেখে এখন কোন মেয়েকে পার্থর বউ করে আনবে তা উনিও দেখতে চায়।

__________

ফোন আসায় উঠানের একপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো পার্থ। কথা বলা শেষ হতেই পাশ ফিরে তাকাতেই দেখে শর্মী তার দিকে টলমলে চোখে তাকিয়ে আছে। পার্থ বিরক্ত হয়। এই মেয়েকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সে এই বাসায় আসতেও চায় না। শর্মী কাদো কাদো স্বরে বলে,

“ আপনি বিয়ে করে ফেলবেন পার্থ ভাই? ওই মেয়ে কি আমার থেকেও বেশি সুন্দর? “

পার্থ কঠিন স্বরে জবাব দেয়,

“ অন্তত তোমার মতো বারবার প্রত্যাখ্যান পেয়েও নিজের আত্মসম্মান বিকিয়ে সে আমার পিছনে পড়েছিলো না কখনো। এরকম ব্যক্তিত্ববান মেয়েই একমাত্র আমার স্ত্রী হওয়ার যোগ্য। “

কথাটা বলেই পার্থ সেখান থেকে সড়ে যায়। এরকম একটা অপমানের পরও শর্মীর মাঝে ভাবান্তর দেখা গেলো না। সে এখনো জানতে আগ্রহী পার্থ কোন মেয়েটাকে বিয়ে করছে।

__________

সকালে নাস্তা সেরেই শপিংয়ে বেড়িয়েছিলো তূর্য এবং পৃথা। কিছুক্ষণ আগেই মাত্র বাসায় ফিরেছে। পৃথা নিজের জন্য বেশ কিছু রেডি মেড থ্রি পিসের পাশাপাশি কয়েকটা শাড়িও কিনে নিয়েছে। আম্মাকে সে সবসময় শাড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখে বড় হয়েছে। সেই থেকে তার মাথায় একটা জিনিস সেট হয়ে গিয়েছে। যে বিয়ের পর একটা মেয়ের শাড়িই পড়া উচিত। এতে তাকে বেশ সংসারী দেখায়। কিন্তু তূর্যর গতরাতে তাকে দেওয়া লজ্জার কথা মনে পড়তেই সে শাড়িগুলো তুলে ক্লসেটে রেখে দেয়। এই লোকের সামনে আর লজ্জায় পড়তে রাজি না সে।

বাসায় এই মুহুর্তে কেউ নেই। তরী এবং হুমায়ুন সাহেব দুজনেই সকাল সকাল হসপিটাল চলে গিয়েছেন। বাকি রইলো তূর্য। সে-ও বাসায় ফেরার পর থেকে লাপাত্তা। হয়তো বাহিরে গিয়েছে। পৃথা করার মতো কিছু না পেয়ে বিছানায় উবুড় হয়ে শুয়ে ফোনে গেমস খেলতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই পিছন থেকে তূর্য বলে উঠে,

“ এই বয়সে কেউ সাবওয়ে সারফারস খেলে নাকি? “

পৃথা সাথে সাথে সোজা হয়ে উঠে বসে। তার একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে। সে বেশিক্ষণ কোনো এক বিষয় মনে রেখে তা নিয়ে জীবন পাড় করতে পারে না। যেমন গতকাল সারাদিন তূর্যর প্রতি তার একধরনের অভিমান কাজ করছিলো। কিন্তু হুট করেই সব অভিমান গায়েব হয়ে গিয়েছে তার। পৃথা অত:পর সরু চোখে তূর্যর দিকে তাকিয়ে বলে,

“ বয়সের সাথে গেমসের কি সম্পর্ক? “

“ এডমিশনের পড়াশোনা বাদ দিয়ে বসে বসে গেমস খেললে ইউনিভার্সিটি তে চান্স পাবে না। “

পৃথা আনমনে বলে উঠে,

“ বিয়ে করেছি কি পড়াশোনা করার জন্য নাকি? “

তূর্য কেবিনেটের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হ্যান্ড ওয়াচ খুলছিলো। পৃথার কথা শুনে সে ভ্রু কুচকে পিছনে তাকায়। নিজের বলা কথায় পৃথা নিজেও হতভম্ব হয়ে পড়েছে। সে সাথে সাথে নিজের দৃষ্টি লুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তূর্য পৃথার সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠে,

“ এইযে মিস এ বি সি। মতলব কি বলো তো? “

পৃথা ঘাড় ঘুরিয়ে পিটপিটিয়ে তূর্যর দিকে তাকায়। অত:পর একটা বোকা হাসি দিয়ে বলে উঠে,

“ একচুয়্যালি আমার ছোট বেলা থেকেই এইম ইন লাইফ হচ্ছে বিয়ে করা আর পড়াশোনা থেকে মুক্তি লাভ করা। “

তূর্য মাথায় হাত দিয়ে বলে,

“ ওহ মাই গড! মারাত্মক অবস্থা! এই এইম নিয়ে তুমি এইচ এস সি তে এ প্লাস কিভাবে পেলে? “

পৃথা সরু চোখ করে বলে,

“ ইট ইজ এ সিক্রেট। একচুয়্যালি আমার আম্মা আব্বা এক্সেপশনাল পিস। মানুষরা তাদের মেয়ে এক্সামে খারাপ করলে বিয়ে দিয়ে দেয়। আর আমার কেসে আমার পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগে আম্মা আব্বার বিয়ে দেওয়ার প্ল্যান ছিলো না। তাই তাড়াতাড়ি পড়াশোনা শেষ করার জন্য আমি মন দিয়ে সারাদিন পড়তাম। কারণ পড়া শেষ হলেই বিয়ে করতে পারবো। কিন্তু আল্লাহর কি মেহেরবানি দেখেন! পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই আমার বিয়ে হয়ে গেলো। “

পৃথার এক নিঃশ্বাসে বলে যাওয়া কথা শুনে তূর্য হতাশ হয়ে বসে পড়ে। এই মেয়েকে সে বোকা ভাবছিলো? এখন তো তার নিজেকেই বলদ মনে হচ্ছে। তূর্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠে,

“ উহু! এভাবে চলবে না। তোমার যত বইখাতা আছে সব কালকের মধ্যে ওই বাসা থেকে আনার ব্যবস্থা করো। এরকম ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট নিয়ে পড়াশোনা বাদ দেওয়ার চিন্তা করলে তোমাকে কিন্তু আমি ছেড়ে দিবো না। “

পৃথা গাল ফুলিয়ে বলে,

“ অদ্ভুত তো! আপনি জামাই না ছাই? মাস্টার মশাই সাজার ভূত চড়েছে কেনো আপনার মাথায়? “

“ বউ এরকম পড়া চোর হলে জামাইদের আর কি-ই বা করার থাকে বলো? আর তাছাড়াও এটা করতে আমি বেশ মজা পাচ্ছি। আগে পাপা আর আপি সারাদিন পড়াশোনা নিয়ে আমার উপর চিল্লাতো। এখন আমি তোমার উপর চিল্লাবো। শোধবোধ। “

“ আপনার এতো চিল্লানোর শখ থাকলে নিজের বাচ্চাদের উপর চিল্লিয়েন। আমাকে মাফ করেন। “

কথাটা বলেই পৃথা নিজেই হতভম্ব হয়ে যায়। তার এই এক বাজে স্বভাব! একবার কারো সাথে ফ্রি হয়ে গেলে তার সামনে না বুঝে শুনেই পকপক করতে শুরু করে দেয়। তূর্য ভ্রু কুচকে পৃথার দিকে তাকিয়ে আছে। পৃথা সাথে সাথে সরি বলে সেখান থেকে ছুটে পালায়।

__________

হসপিটাল থেকে বের হতেই ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পার্থর মুখটা দেখতে পেয়েই তরী বিরক্ত হলো। অত:পর পার্থর দিকে এগিয়ে গিয়ে কাঠকাঠ গলায় বলে উঠে,

“ দেখতে তো সম্পূর্ণ সুস্থই লাগছে। তাহলে এখানে কি কাজ আপনার? আবার কাকে তুলে নিতে এসেছেন? “

“ আপনাকে। “

“ মানে? “

“ আম্মা বলেছে আপনাকে নিয়ে গিয়ে দুটো রিং পছন্দ করে নিতে। “

“ আমি এই মুহুর্তে খুব টায়ার্ড। বাসায় গিয়ে ঘুমোবো। “

পার্থ তরীর হাত ধরে বলে,

“ তা তো হচ্ছে না। আপনি এখন আগে আমার সাথে রিং কিনতে যাবেন। তারপর আমরা ডিনারে যাবো। “

তরী চোখ গরম করে বলে,

“ আপনি আমাকে জোর করতে পারেন না। “

“ অবশ্যই পারি। অধিকার আছে। “

“ আপনার সাথে ডিনার করার থেকে বিষ খেয়ে মরে যাওয়া ভালো। “

পার্থ হেসে বলে,

“ আপনাকে কে বললো আমি আপনাকে নিয়ে স্পেশাল ডিনারে যাচ্ছি? এই ডিনার তো শোভন প্ল্যান করেছে। ও এবং ওর ফিয়ন্সেও আমাদের সাথে যোগ দিবে। ওরা আপনার সাথে পরিচিত হতে আগ্রহী। “

তরী ফস করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়ে। তার ঝামেলা হচ্ছে কেবল পার্থর সাথে। কিন্তু যেহেতু দু'দিন পর আসলেই তাদের বিয়ে হবে তাই এধরণের সোশ্যালাইজিং সে চাইলেও এড়িয়ে যেতে পারবে না। তাই অগ্যতা সে যাওয়ার জন্য রাজি হয়।

__________

“ শোভন তো সবসময় বলতো আপনি অনেক স্ট্রিক্ট দাদা। কিন্তু আপনাকে দেখে তো একদমই মনে হচ্ছে না। “

মধুমিতার কথা শুনে পার্থ কেবল মৃদু হাসে। শোভন তাদের কথার মাঝে বাগড়া দিয়ে বলে,

“ ভাবি যদিও আমি সবসময় আইন মেনে চলি, কিন্তু ভাইয়ার আপনাকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার ব্যাপারে কিন্তু আমি আপনাকে কোনো হেল্প করতে পারবো না। কারণ দু'দিন আগে আমি নিজেও এরকম কিছুই প্ল্যান করছিলাম। “

তরী খেতে খেতে বলে উঠে,

“ এটা তো কোরাপশনের আওতায় পড়ে। আমি ভেবেছিলাম তুমি একজন দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার। “

“ ভালোবাসার কেসে টুকটাক কোরাপশন মেনে নেওয়া যায় ভাবি। আফটার অল এভ্রিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ। “

তরী আচমকা তাদের থেকে কয়েক হাত দূরে একটা টেবিলের দিকে তাকিয়ে তার দৃষ্টি স্থির হয়ে যায়। সাথে সাথেই সে পাথরের ন্যায় জমে যায়। চোখ মুখ শক্ত করে সে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অত:পর আবার তাকায় সেদিকে। সেই টেবিল হতে এক জোড়া চোখও তার দিকে তাকায়। তরী আচমকা হেসে পার্থর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“ আমাদের এখন যাওয়া উচিত। বেশ দেরি হয়ে গিয়েছে আজকে। “

আচমকা তরীর এরকম হাসিমুখ দেখে পার্থ সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকায়। তরী সেদিকে পাত্তা না দিয়ে শোভন এবং মধুমিতার দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“ তোমরা ইঞ্জয় করো। পার্থ আমাকে ড্রপ করে দিয়ে আসবে। “

শোভন আর মধুমিতা সামান্য অবাক হলেও তারা হাসিমুখে বিদায় জানায়। পার্থ টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই তরী তার দিকে এগিয়ে এসে তার একহাত ধরে দাঁড়ায়। পার্থ অবাক হয়। এই ডাক্তার সাহেবার হঠাৎ করে কি হলো? একটু আগেও তো পার্থর দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করছিলো। আর এখন একদম নাইন্টি ডিগ্রি এংগেলে ঘুরে গেলো! আসিফের কথামতো কি এই ধানী মরিচ তার চার্মনেসে ডুব দিলো নাকি? কথাটা ভাবতেই পার্থ আপনমনে হেসে দেয়।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন